মার্কিন শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক পরিস্থিতি এখনও বিকাশমান, পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো এখনও বিকাশমান বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর জবাবে তিনি নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। এই শুল্ক এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে, তা নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়টি আসলে এখনও বিকাশমান, যেটাকে আমরা ইংলিশে বলি “ইভলভিং সিনারিও”। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সবোর্চ্চ আদালত আগের ধার্য্যকৃত শুল্ক আরোপযোগ্য নয় বলে ঘোষণা করেছে। এরপর তারা সব দেশের জন্য প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ ঘোষণা করেছে।
‘কিন্তু আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুধু ঘোষণা শুনছি, কিন্তু সরকারি পর্যায়ে লিখিত কিছু পাইনি। আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের আইন অনুযায়ী ১২২ আইনি ব্যাখায় যা আছে, সেটা ১৫০ দিনের মধ্যে তাদের ইউএস কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।
‘আর বাদ বাকি যা, টিভিতে আমরা দেখছি। সরকারি কোনো কাগজপত্র আসেনি। ফলে সিনারিওটা আবারও আমি বলব ইভলভিং।’
তিনি বলেন, এছাড়া বিগত সরকার কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সেটির ব্যাপারেও এখনও বলার মতো কোনো অবস্থা তৈরি হয়নি। আমরা দেখছি, এর পক্ষে-বিপক্ষে কী আছে। একটি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দিকই থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি। এরপর করণীয় ঠিক করব।
বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো গোপন করা ও সেটা তড়িঘড়ি করে করেছে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে মন্ত্রী বলেন, কিছু নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি) ছিল চুক্তি আলোচনার সময়। তবে এ চুক্তিটা একটি সেনসিটিভ ইস্যু (সংবেদনশীল বিষয়) ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সেনসেটিভ। বিভিন্ন কারণেই এই বিকাশমান পরিস্থিতিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
এদিকে শুল্ক ও চুক্তি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি, চুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরের কী সমস্যা। সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে, সেসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বাজারে। তবে কিছু পণ্য একসঙ্গে অনেকে কেনার কারণে দাম বেড়ে গেছে; সেগুলো সবজি জাতীয়।
তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে এক মাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতির ও শূন্যতার সুযোগ নেন। ৪০-৫০ টাকার লেবু ১২০ হয়ে গেছে ওই পরিস্থিতিতে। এরপর কিন্তু ঠিকই আবারও আগের দামে ফিরে এসেছে।
চাঁদাবাজি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধে এতদিন বিভিন্ন সরকার আশ্বাস দিলেও কাজ হয়নি। অপেক্ষা করেন, আমরা কাজ করে দেখাব।
৩ ঘণ্টা আগে
আদালতের রায়ের পরও শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের
গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বিস্তৃত আমদানি শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। তবে এর পরের দিনই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করতে চান।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আদালত তার ক্ষমতায় লাগাম টানলেও তিনি শুল্ক বাড়ানোর নীতি অব্যাহত রাখতে চান। বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি নতুনভাবে সাজানো এবং আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের প্রধান হাতিয়ার হিসেবেই তিনি শুল্ককে ব্যবহার করে আসছেন।
শুক্রবার আদালত জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রায় সব দেশের ওপর ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়। তবে বিপরীতে তিনি জানিয়েছেন, তুলনামূলক সীমিত হলেও ভিন্ন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন তিনি।
আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ভাষণ দেবেন। তিনি ইতোমধ্যে এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যার মাধ্যমে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ওইদিন থেকেই বিশ্বব্যাপী আমদানির ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা যাবে। তবে আইন অনুযায়ী, এই শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যদি না আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
তবে শুল্ক ১৫ শতাংশ নির্ধারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প হালনাগাদ আদেশে কবে সই করবেন—এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কিছু জানায়নি।
ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, আগের দিনের ‘অযৌক্তিক, দুর্বলভাবে রচিত এবং চরমভাবে আমেরিকাবিরোধী’ শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার ভিত্তিতেই তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে রায় দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের এককভাবে শুল্ক নির্ধারণ বা পরিবর্তন করা অসাংবিধানিক। কারণ কর আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বাণিজ্য বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন এমন ফেডারেল আইনের অন্যান্য ধারার মাধ্যমেও তিনি শুল্ক আরোপের পথ খুঁজছেন।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসে ‘আইনসম্মত নতুন শুল্ক’ নির্ধারণ ও জারি করবে আমাদের প্রশাসন যা আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার আমাদের অসাধারণ সফল প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্কিন প্রেডিডেন্ট তার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বিচারপতিদের ওপর অস্বাভাবিক ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছেন। এমনকি তার প্রথম মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি নিল গোরসাচ এবং অ্যামি কোনি ব্যারেটকেও তিনি ছাড়েননি।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এই পরিস্থিতি তাদের পরিবারের জন্যও একটি লজ্জাজনক বিষয়।
ওইদিন রাতে তিনি সামাজিকমাধ্যমে গরসাচ, ব্যারেট ও প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসকেও সমালোচনা করেন।
পরদিন (শনিবার) সকালে আরেক পোস্টে তিনি বিচারপতি ব্রেট কাভানফকে ‘নতুন নায়ক’ আখ্যা দেন, যিনি এই রায়ের বিপক্ষে ৬৩ পৃষ্ঠার একটি ভিন্নমত পোষণকারী নোট লিখেছেন। এ ছাড়াও তিনি বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস এবং স্যামুয়েল আলিতোরও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, কারও মনেই সন্দেহ নেই যে তারা আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলতে চান।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিতে শুল্ক ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, মার্কিন উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা এবং মাদক পাচার দমন বা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত বন্ধে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তবে তিনি বারবার বলেছেন, বিদেশি সরকারগুলোই এসব শুল্ক দেবে, মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়।
ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের আরোপিত আমদানি শুল্ক থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত কোষাগারে ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি জমা হয়েছে। এই অর্থ জাতীয় ঋণ পরিশোধ বা করদাতাদের লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা এই বিপুল অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে, ট্রাম্পের নতুন এই শুল্ক হুমকির পর ডেমোক্র্যাটরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হাউস ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেন, উচ্চ শুল্ক ঘোষণা করে ট্রাম্প ‘আমেরিকান জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছেন।’
তাদের ভাষ্য, শুল্ক অবৈধ ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি খরচ বাড়ানোর পথ খুঁজছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেন, তিনি আপনাদের কথা ভাবেন না।
৩ দিন আগে
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পারলে মার্কিন শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে: উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপ করা বাড়তি ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরও কিছুটা কমাতে চায় বাংলাদেশ।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডেন লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এ কথা বলেন।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, পাল্টা শুল্ক বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে তিন দিনের সফরে আজ ঢাকায় এসেছে প্রতিনিধি দলটি। তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি নিম্নমুখী করার যে উদ্দেশ্য আমাদের, সেই উদ্দেশ্যসাধন করতে পারলে আমরা আশা করতে পারি যে, আমাদের শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিগগিরই রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ইতোমধ্যে দেশটি থেকে যেসব পণ্য কেনার পরিমাণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মূলত কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের পাশাপাশি বিমান কেনার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। কেনাকাটার বিষয়েও ভালো অগ্রগতি হয়েছে।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
গত ৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করেছে। তবে দেশটির সঙ্গে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। পাল্টা শুল্ক অন্তত ১৫ শতাংশে নামিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করতে চায় ঢাকা। এ কারণে আলোচনার জন্য ইউএসটিআরের কাছে সময় চেয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে সাড়া দিয়ে ঢাকা সফরে এসেছে সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডেন লিঞ্চের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল। তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বাণিজ্যনীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
১৬৪ দিন আগে
ভারতে বানান, ভারত থেকেই কিনুন: মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে মোদির আহ্বান
আজ থেকে ভারতের ওপর কার্যকর হচ্ছে নতুন মার্কিন শুল্ক। ভারত থেকে যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ করবে, সেসব পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে। এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিষেধ সত্ত্বেও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় গত ৬ আগস্ট ভারতের ওপর নেমে আসে যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কশাস্তি। দিল্লির ওপর প্রথমে ২৫ শতাংশ, পরে আরও ২৫ শতাংশসহ মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের এই চোখ রাঙানির বিপরীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘ভারতে বানান, ভারত থেকেই কিনুন’। অর্থাৎ মার্কিন শুল্ক মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরেই পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রি করে রপ্তানি নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে নিজ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘বিশাল কর ছাড়ের’ ঘোষণা দেন মোদি।
দেশটির স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় দিল্লির লাল কেল্লা থেকে সাধারণ মানুষ এবং সমর্থকদের সামনে তিনি এ ঘোষণা দেন। সে সময় ছোট দোকান মালিক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের দোকানের বাইরে ‘স্বদেশি’ বা ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ বোর্ড লাগানোরও আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
মোদি বলেছিলেন, ‘হতাশা থেকে নয়, বরং গর্ব থেকে আমাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক স্বার্থপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আমাদের অসুবিধাগুলো নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, অবশ্যই সামনে এগোতে হবে। কেউ যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।’
আরও পড়ুন: ভারতকে ট্রাম্পের শাস্তি, শুল্ক বেড়ে দাঁড়াল ৫০ শতাংশ
এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন মোদি।
মোদির এই অবস্থানকে অনেকেই ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবেই দেখছেন। মার্কিন শুল্কের কারণে ভারতের রপ্তানিনির্ভর শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ মানুষের জীবিকা ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ আমেরিকান গ্রাহকদের পোশাক থেকে শুরু করে হীরা ও চিংড়ি পর্যন্ত সবকিছু সরবরাহ করে ভারত।
তবে মোদির বার্তাও স্পষ্ট, দেশে পণ্য বানিয়ে দেশেই বিক্রি করতে হবে।
ভারতে বানিয়ে ভারতেই বিক্রি কতটুকু সম্ভব
মোদি নির্দেশ দিলেও এই বিষয়ের বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। যদি উৎপাদনের কথা আলোচনা করা হয়, সেক্ষেত্রে ভারতের ব্যর্থতার ছাপ ইতোমধ্যে স্পষ্ট। কারণ ভারতে বছরের পর বছর সরকারি ভর্তুকি এবং উৎপাদন প্রণোদনা চালু করার পরও দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১৫ শতাংশের আশপাশেই স্থবির হয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরকার যদি দীর্ঘমেয়াদী কর সংস্কারকে উৎসাহিত করে এবং অবিলম্বে জনগণের হাতে আরও বেশি অর্থ পৌঁছানো সম্ভব হয়, তাহলে এই ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে জন্য কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
এ কারণে চলতি বছরের শুরুতে বাজেটে ১২ বিলিয়ন ডলারের আয়কর ছাড়ের ঘোষণার পর এখন পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) হ্রাস এবং সরলীকরণের মাধ্যমে ভারতের পরোক্ষ কর ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে কাজ করছে মোদি সরকার।
মূলত কর ছাড়ের ফলে ভোক্তানির্ভর খাতগুলোর সবচেয়ে বেশি উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুটার, ছোট গাড়ি, পোশাক এবং সিমেন্টের মতো পণ্য।
সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও বেশিরভাগ বিশ্লেষকের ধারণা, কম জিএসটির কারণে যে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে, তা বাড়তি শুল্ক আদায় এবং ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজেটের তুলনায় বেশি লভ্যাংশের মাধ্যমে পূরণ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ ব্যাংক মর্গান স্ট্যানলির মতে, মোদির এই রাজস্ব প্রণোদনা বা কর ছাড় ভোগব্যয়ের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এতে দেশটির জিডিপি বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফীতি কমবে।
সুইস বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস বিবিসিকে বলেছে, জিএসটি কমানোর এই সিদ্ধান্ত মোদির আগের নেওয়া করপোরেট ও আয়কর কমানোর তুলনায় বড় প্রভাব ফেলবে, কারণ এগুলো ক্রয়ের সময় সরাসরি ভোগব্যয়কে প্রভাবিত করবে।
আরও পড়ুন: ভারতকে কি চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন ট্রাম্প?
মোদির এই করছাড়ের ঘোষণা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার আরও কমানোর সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক মাসে এই হার এক শতাংশ হারে কমানো হয়েছে। তাছাড়া ঋণ দেওয়াকেও উৎসাহিত করা হতে পারে বলে মনে করেন তারা।
এর ফলে আগামী বছরের শুরুতে প্রায় পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারতের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সহায়ক বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের শেয়ার বাজারগুলো এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। তাছাড়া, বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে সৃষ্ট আতঙ্ক থাকা সত্ত্বেও, এই মাসের শুরুতে আঠারো বছর পর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল থেকে একটি বিরল সার্বভৌম রেটিং আপগ্রেড পেয়েছে ভারত।
কোনো সরকারকে ঋণ দেওয়া বা কোন দেশে বিনিয়োগ করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ— তা পরিমাপ করে এই সার্বভৌম রেটিং। এতে সরকারের ঋণ গ্রহণের খরচ কমতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগের পরিস্থিতি উন্নত করতে পারে।
অবশ্য অনেকদিন ধরে আটকে থাকা সংস্কারগুলো নিয়ে তাড়াহুড়া করলেও ভারতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কয়েক বছর আগে দেখা ৮ শতাংশ স্তর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এমনকি এ সংশ্লিষ্ট বহিরাগত সংকট কমার কোনো লক্ষণও নেই।
এদিকে, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে দিল্লি-ওয়াশিংটন বাকযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর জেরে এই সপ্তাহের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য বাণিজ্য আলোচনাও বাতিল করা হয়েছে। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেও এমন একটি পরিস্থিতি কল্পনাও করা যেত না বলে মন্তব্য করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
১৮২ দিন আগে