জুলাই স্মৃতি জাদুঘর
আইপিইউ মহাসচিবের জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সেখানে পৌঁছালে জাদুঘরের মহাপরিচালক আইপিইউ মহাসচিব ও তার সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান। পরে তারা জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, দলিল-দস্তাবেজ, স্মৃতিচিহ্ন, তথ্যচিত্র ও অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
তারা ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন, বিরোধী মত দমন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর পটভূমি ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ সম্পর্কেও তাদের অবহিত করা হয়।
পরিদর্শনকালে জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আইপিইউ মহাসচিব ও প্রতিনিধি দলের সদস্যদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
পরিদর্শন শেষে আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় জাতীয় সংসদের সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, মানসুরা আক্তার ও ডা. সানসিলা জেবরিন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, আইপিইউ মহাসচিব বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংসদ ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখেন এবং বৈঠকে অংশ নেন।
২ দিন আগে
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সুনির্দিষ্ট হলে তদন্ত হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, অস্পষ্ট বা সাধারণভাবে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, অভিযোগের ধরন এবং কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দুর্নীতি হয়েছে’ ধরনের অভিযোগ আইনের ভাষায় ‘ভেগ অ্যান্ড ইনডেফিনিট’। আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ অবশ্যই সুনির্দিষ্ট হতে হবে এবং একজন অভিযোগকারী থাকতে হবে। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে জাদুঘরের উদ্বোধনের পর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আসলে দুর্নীতির কোনো কিছু আছে কি না তা তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আইনগত তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রয়োজন। অভিযোগে দুর্নীতির বিষয় থাকলে তা দুদকে পাঠানো হবে। আর ফৌজদারি অপরাধের বিষয় হলে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বা জনসভায় দেওয়া বক্তব্য আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নয়। আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণের জন্য আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রয়োজন মনে করলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা যেতে পারে। এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাদুঘরের জনবল নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়োগ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী করা হবে। জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং উদ্বোধনের পর থেকেই জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আগামী ৫ আগস্ট থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকবে বলেও জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী।
২৯ দিন আগে
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্র থাকবে : প্রধান উপদেষ্টা
পিলখানা হত্যাকান্ড, গুম-খুন-আয়নাঘর, শাপলা ম্যাসাকার এবং ভোট ডাকাতিসহ শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের সব গল্পই ঐতিহাসিক তথ্য আকারে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে উপস্থাপন করা হবে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বৈঠকে জাদুঘর নির্মাণ কর্তৃপক্ষ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে এসব মন্তব্য করেন। এদিন সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা যায়।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, ৩১ অক্টোবর ২০২৫ এর মধ্যে এ জাদুঘরের নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধন সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা হাসিনার দুঃশাসনের চিত্রগুলো এই জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য কিউরেট করছি যাতে ষোলো বছরের ফ্যাসিজমের ইতিহাস জীবন্ত থাকে। জীবন্ত থাকে সরাসরি গণভবন থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত সব অত্যাচারের এবং নৃশংসতার ইতিহাস।’
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘর নির্মাণ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ জাদুঘরে যারা আসবেন তারা ৫ আগস্ট গণভবনে জনতার ঢলকে অনুভব করবেন।
‘মানুষের মধ্যে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলার এই অনুভব নিয়ে আসাটাই এই জাদুঘরের একটা বড় কাজ,’ বলেন তিনি।
জাদুঘর নির্মাণে আইসিটি প্রসিকিউশন টিম ও গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে বলে জানান জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব।
মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে 'জুলাই বীরত্ব' ও 'জুলাই আত্মত্যাগ' গ্রাফিতির উদ্বোধন
৩৪৭ দিন আগে