মায়ের ডাক
ইসির বিতর্কিত ভূমিকা সত্ত্বেও বিএনপি ধৈর্য দেখাচ্ছে: তারেক রহমান
গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথরুদ্ধ করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা অবস্থান দেখেছি। তারপরেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। কিন্তু, ইসি কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে ধৈর্য্যের পরিচয় দিতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন, অপহরণ, মিথ্যা মামলার হয়রানি, নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতা-কর্মীও রাজপথ ছাড়েনি।
‘কোনো পরিবারের এক ভাই নির্যাতিত হলে আরেকজন রাজপথে নেমে এসেছে। কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত রূপ ধারণ করেনি বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাই ভবিষ্যতে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না।’
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকামী প্রজন্মের উচিত শহিদ এবং যারা গুম হয়েছেন ও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের জন্য তাদের পরিবার এখনো অপেক্ষা করছে—তাদের ত্যাগ থেকে প্রেরণা গ্রহণ করা।
শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর উদ্দেশ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান দলের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানান, জনগণের সমর্থনে বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রাষ্ট্রীয় প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম শহিদদের নামে রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের গর্বের সঙ্গে স্মরণ করতে পারে। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।
তারেক রহমান আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর যথাযথ রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রকে সাধ্যমতো এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সামনে এখন একটি মানবিক ও জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়।
‘আমি অনুরোধ করব, বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন; সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যহত করার চেষ্টা করছেন- তারা যাতে সফল না হয়।’
অতীতের সব অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে আগামীতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া, করি তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আমাদের যে শহিদ—সেই শহিদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে।’
অশ্রুসিক্ত হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারগুলোর স্বজনরা জানান, বিগত দিনে বাসা-অফিস বা রাস্তা থেকে তাদের স্বজনদের তুলে নেওয়া হয়েছে। তাদের শেষ পরিণতি কী হয়েছে, তা তারা জানে না। অনেক সন্তান তার বাবার ছবি নিয়ে এসেছেন। তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। তাকে জড়িয়ে ধরেন। তারেক রহমানও এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর স্বজনরা বাদেও অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ ও আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা রশিদুজ্জামান মিল্লাত, নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন ও মায়ের ডাক’র সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।
২০ ঘণ্টা আগে