বন্যা
মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে এক মাসে ১০৯ প্রাণহানি
পাকিস্তানে গত এক মাসে মৌসুমি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ চলতি সপ্তাহের শেষদিকে বিভিন্ন এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, গত ২৬ জুন থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ঘরবাড়ি ও ছাদ ধসে প্রাণ হারিয়েছেন। মোট নিহতের প্রায় অর্ধেকই আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাসিন্দা।
এদিকে, এনডিএমএ সারা দেশে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছে। সংস্থাটির বৈঠকে নদীতরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্যোগের সময় তারা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারেন অথবা বন্যার পানি সেসব এলাকায় পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজন হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
৬ দিন আগে
শেরপুরে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করায় শেরপুরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। জেলার ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ এবং ৯৩ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে জেলায় ১২ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ৩২ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ৪২ হেক্টর শাকসবজি, ১০ হেক্টর কলা এবং ৩৪ হেক্টর আউশ ধানের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অনেক এলাকায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা বালির স্তর জমে কৃষিজমি সাময়িকভাবে অনাবাদি হয়ে পড়েছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সূদীপ্ত চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৃগী নদীর প্রায় দেড় কিলোমিটার, ভোগাই নদীর এক কিলোমিটার, চেল্লাখালী নদীর ৫০০ মিটার এবং মহারশি নদীর ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে দুই তীরের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে জরুরি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকায় ১১ হাজার বালিভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শেরপুর সদর, নকলা, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় নদীভাঙনে ৭৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের শুকনো খাবার ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আপাতত পারাপারের সুবিধার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া চেল্লাখালী নদীর ভাঙনে শেরপুর-নালিতাবাড়ী (গাজীরখামার হয়ে) সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ওই সড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান জানান, অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রস্তুত হয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলার প্রতিটি উপজেলার জন্য ১০ টন করে জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
১০ দিন আগে
বন্যায় স্থগিত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই
বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২৭ জুলাই থেকে শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন ৫ জেলায় গত ৮ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পরে ১৬ জুলাই পর্যন্ত সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম বোর্ডের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তবে, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে গত ১৩ জুলাই দেশের বাকি আটটি শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়।
মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাগুলো আগের রুটিন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, স্থগিত পরীক্ষাগুলোর জন্য নতুন সময়সূচি প্রণয়ন করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নতুন সূচি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যারা বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা যারা দিতে পারেননি, তারা নিবন্ধন করে পরীক্ষা দিতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। স্থগিত পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি যারা বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুপস্থিত ছিল, তাদের জন্যও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
১১ দিন আগে
সাত জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৫৭
টানা অতিবৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খোলা ১১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৪ হাজার ৭৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্যাকবলিত জেলা সাতটি। এগুলো হলো: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৩৩৪টি এবং পৌরসভা ৯টি।
জেলাভিত্তিক হিসাবে রাঙামাটিতে ৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, কক্সবাজারে ৩২ জন (স্থানীয় ১৯ ও রোহিঙ্গা ১৩), চট্টগ্রামে ১৫ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন।
আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ ও রোহিঙ্গা ৫) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন।
দুর্যোগবকলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। কক্সবাজারে নগদ অর্থ, চাল ও ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা, এক হাজার ২০০ টন চাল এবং ৪৯ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানায়, ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় বন্যা ও অতিবৃষ্টিপ্রবণ জেলাগুলোর জন্য নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ হিসাবে সাত জেলার জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ৬৪ জেলার সাধারণ ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
১৮ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ, নদীভাঙনের আশঙ্কা
উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা। তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক শূন্য ৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। গতকাল রাত ১০টায় এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
রাতভর ধীরে ধীরে পানি কমলেও বন্যার ক্ষত তেমন কোথাও দেখা যায়নি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদীর পানি নেমেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় পাটগ্রাম উপজেলা এবং কালীগঞ্জে উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরে বাদামখেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
তিস্তায় পানি বাড়ায় নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে অন্তত হাজারখানেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অনেক বাড়িঘরে এখনও পানি রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নার সমস্যা এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন দুর্গতরা।
এদিকে, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার তীব্র স্রোতে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি দ্রুত নেমে গেলে ভাঙনের তীব্রতায় বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় তিস্তার পানি কমছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পানি বাড়তে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি। শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। যদি আবারও পরিস্থিতি খারাপ হয়, তখন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আদীতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, তিস্তা তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পানি বৃদ্ধি বা নদীভাঙনের মতো ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, ফের বন্যার আশঙ্কা
ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তাবিধৌত জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। হালকা বৃষ্টি আর উজানের এ ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হালকা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সোমবার সন্ধ্যায় আবারও তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল রাতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার ৫টি উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। এর ফলে পানির সময় এসব বাঁধের ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তার তীর-সংলগ্ন গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা সহিদার রহমান জানান, বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ক্রমেই বেড়ে চলেছে তিস্তা নদীর পানি। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশকিছু বাড়িতে পানি উঠেছে।
তিনি বলেন, পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে, বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বন্যার সময় আমাদের নদীপাড়ের মানুষদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।
আদিতমারী উপজেলার নদীপাড়ের গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের সাজু মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠে গেছে। তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, পানিবন্দি এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এ সবের মাঝেও থাকে সাপ-কোপের প্রাদুর্ভাব। বন্যা যতদিন, আমাদের কষ্ট তার চেয়েও বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে।
তবে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানের ঢলে আজ সোমবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করছে পানির চাপ।
২০ দিন আগে
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের
আকস্মিক বন্যা, দেশব্যাপী অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সঙ্গে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানবিক বিবেচনা কামনা করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সারা দেশে চলমান অতিবর্ষণ, সাত জেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার কারণে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক ও মানবিক বিপর্যয় এবং চরম যাতায়াত প্রতিকূলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহ সাময়িকভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন।
এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও সহমর্মিতাপূর্ণ পদক্ষেপও প্রত্যাশা করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দেশের ৭ জেলায় বন্যায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।
এমতাবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের পর্যবেক্ষণ ও অনুরোধ হলো, বন্যা কবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে পরীক্ষা সাময়িক পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত হবে। এছাড়া, যে দুর্যোগে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বিপর্যস্ত, সেখানে অসংখ্য শিক্ষার্থীর বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পরীক্ষায় বসলে বন্যা উপদ্রুত এলাকার শিক্ষার্থীরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে দেশের একটি বিরাট অংশের পরীক্ষার্থীদের সংকটে রেখে পরীক্ষা চালু রাখলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি, পরীক্ষাকেন্দ্রসমূহ পরীক্ষার উপযোগী হওয়া, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখাই হবে যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত।
তারা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান জনবান্ধব সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা এবং সুন্দর ভবিষ্যতের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অধিকার ও কল্যাণের পক্ষে কাজ করে। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয় প্রশাসনের পাশে থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২০ দিন আগে
লুটপাটের উদ্দেশ্যে আ.লীগ আমলের অপরিকল্পিত উন্নয়নেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, লুটপাট ও অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেই দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা, খরা ও ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বন্যা পরিস্থিতিসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, যেকোনো উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তা না করে লুটপাট ও টাকা পাচারের উদ্দেশ্যে অপরিকল্পিত উন্নয়ন করেছে। এর ফলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা, খরা ও ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ, নদী-নালা ও খাল-বিলের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করে। কিন্তু গত সরকার এসব বিষয়কে উপেক্ষা করেছে।
প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা দিলে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার অভিযোগ, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘মানুষের শরীরে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে যেমন শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে পরিবেশও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।’
রিজভীর দাবি, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মানুষ পানিবন্দি এবং বন্যায় ইতোমধ্যে ৫২ থেকে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেন তিনি। তার মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে। হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণের পেছনেও দলীয় লোকদের ঠিকাদারি সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল।
এই রাজনীতিক বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সময় শুধু বিরোধী দল নয়, পরিবেশ বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছিলেন যে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর হবে। কিন্তু সরকার একটি বিশেষ দেশকে খুশি করার জন্য সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সরকারের সমালোচনা করলে গুম, কারাবরণ কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু এখন মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারের সমালোচনা করতে পারছে এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও স্বাধীনভাবে কথা বলছেন।
বর্তমানে টানা অতিবৃষ্টিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রিজভী। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের সব সচ্ছল মানুষের প্রতি বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
২০ দিন আগে
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বন্যাকবলিত দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এসব জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে। কোথাও যেন কোনো রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সেজন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে যোগাযোগ, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হলেও সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, একটি হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়লে রাতেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১টি জেলাকে বন্যাকবলিত হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাপে কাটার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মানুষকে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বন্যার প্রথম রাতে পাঁচজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং সবাই সুস্থ আছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ আছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে অ্যান্টিভেনম সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন, ওষুধ ও বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের দ্রুত উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
২১ দিন আগে
চট্টগ্রামে ৫ দিন পর রেল চলাচল স্বাভাবিক, এখনও ডুবে আছে অসংখ্য গ্রাম
বন্যার পানিতে গত পাঁচ দিন রেল লাইন ডুবে থাকার কারণে বন্ধ থাকা কক্সবাজার রুটে রেল চলাচল ফের শুরু হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের উদ্দেশে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেছে পর্যটক এক্সপ্রেস।
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ বিস্তীর্ণ জনপদ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন দুর্গত মানুষ।
তবে আগের দিনের তুলনায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত শিশুসহ নিহত হয়েছেন ১২ জন আর আহত হয়েছেন ৫০ জন।
সরকারের পক্ষ থেকে এমপি, মন্ত্রীরা জেলা ও মহানগরীতে ত্রাণ বিতরণ করছেন। নগরীতে ত্রাণ বিতরণকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি হারানো লোকজনকে বিকল্প জায়গায় বসবাসের ব্যবস্থা করবে সরকার।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। সকাল ১০ টার পর আগের চেয়ে বৃষ্টির দাপটও কমেছে।
প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জানায়, বৃষ্টি কমার কারণে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীও।
প্রশাসন সত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ উপজেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক রাস্তা–ঘাট এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানির তোড়ে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। পাহাড়ি ঢলের পানিতে শঙ্খনদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে উপজেলার বিভিন্ন অংশে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে থেকে পানি সরে যাওয়ায় দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম–বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া সত্যপীরের মাজার এলাকায় এখনো সড়কের ওপর পানি থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তবে পানি কমতে শুরু করলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বহু মানুষের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি। বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যাভাব ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন তারা।
এদিকে, আকবর শাহ থানার উত্তর পাহাড়তলী এলাকায় দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, সাঈদ আল নোমান এমপি।
এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সরকার সমিন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বন্যাদূর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য। আমরা দুর্গতদের পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করব।
২১ দিন আগে