বন্যা
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, ফের বন্যার আশঙ্কা
ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তাবিধৌত জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। হালকা বৃষ্টি আর উজানের এ ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হালকা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সোমবার সন্ধ্যায় আবারও তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল রাতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার ৫টি উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। এর ফলে পানির সময় এসব বাঁধের ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তার তীর-সংলগ্ন গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা সহিদার রহমান জানান, বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ক্রমেই বেড়ে চলেছে তিস্তা নদীর পানি। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশকিছু বাড়িতে পানি উঠেছে।
তিনি বলেন, পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে, বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বন্যার সময় আমাদের নদীপাড়ের মানুষদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।
আদিতমারী উপজেলার নদীপাড়ের গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের সাজু মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠে গেছে। তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, পানিবন্দি এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এ সবের মাঝেও থাকে সাপ-কোপের প্রাদুর্ভাব। বন্যা যতদিন, আমাদের কষ্ট তার চেয়েও বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে।
তবে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানের ঢলে আজ সোমবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করছে পানির চাপ।
৮ ঘণ্টা আগে
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের
আকস্মিক বন্যা, দেশব্যাপী অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সঙ্গে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানবিক বিবেচনা কামনা করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সারা দেশে চলমান অতিবর্ষণ, সাত জেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার কারণে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক ও মানবিক বিপর্যয় এবং চরম যাতায়াত প্রতিকূলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহ সাময়িকভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন।
এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও সহমর্মিতাপূর্ণ পদক্ষেপও প্রত্যাশা করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দেশের ৭ জেলায় বন্যায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।
এমতাবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের পর্যবেক্ষণ ও অনুরোধ হলো, বন্যা কবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে পরীক্ষা সাময়িক পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত হবে। এছাড়া, যে দুর্যোগে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বিপর্যস্ত, সেখানে অসংখ্য শিক্ষার্থীর বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পরীক্ষায় বসলে বন্যা উপদ্রুত এলাকার শিক্ষার্থীরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে দেশের একটি বিরাট অংশের পরীক্ষার্থীদের সংকটে রেখে পরীক্ষা চালু রাখলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি, পরীক্ষাকেন্দ্রসমূহ পরীক্ষার উপযোগী হওয়া, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখাই হবে যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত।
তারা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান জনবান্ধব সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা এবং সুন্দর ভবিষ্যতের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অধিকার ও কল্যাণের পক্ষে কাজ করে। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয় প্রশাসনের পাশে থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে
লুটপাটের উদ্দেশ্যে আ.লীগ আমলের অপরিকল্পিত উন্নয়নেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, লুটপাট ও অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেই দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা, খরা ও ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বন্যা পরিস্থিতিসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, যেকোনো উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তা না করে লুটপাট ও টাকা পাচারের উদ্দেশ্যে অপরিকল্পিত উন্নয়ন করেছে। এর ফলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা, খরা ও ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ, নদী-নালা ও খাল-বিলের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করে। কিন্তু গত সরকার এসব বিষয়কে উপেক্ষা করেছে।
প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা দিলে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার অভিযোগ, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘মানুষের শরীরে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে যেমন শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে পরিবেশও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।’
রিজভীর দাবি, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মানুষ পানিবন্দি এবং বন্যায় ইতোমধ্যে ৫২ থেকে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেন তিনি। তার মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে। হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণের পেছনেও দলীয় লোকদের ঠিকাদারি সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল।
এই রাজনীতিক বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সময় শুধু বিরোধী দল নয়, পরিবেশ বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছিলেন যে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর হবে। কিন্তু সরকার একটি বিশেষ দেশকে খুশি করার জন্য সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সরকারের সমালোচনা করলে গুম, কারাবরণ কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু এখন মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারের সমালোচনা করতে পারছে এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও স্বাধীনভাবে কথা বলছেন।
বর্তমানে টানা অতিবৃষ্টিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রিজভী। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের সব সচ্ছল মানুষের প্রতি বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
১০ ঘণ্টা আগে
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বন্যাকবলিত দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এসব জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে। কোথাও যেন কোনো রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সেজন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে যোগাযোগ, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হলেও সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, একটি হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়লে রাতেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১টি জেলাকে বন্যাকবলিত হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাপে কাটার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মানুষকে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বন্যার প্রথম রাতে পাঁচজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং সবাই সুস্থ আছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ আছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে অ্যান্টিভেনম সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন, ওষুধ ও বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের দ্রুত উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামে ৫ দিন পর রেল চলাচল স্বাভাবিক, এখনও ডুবে আছে অসংখ্য গ্রাম
বন্যার পানিতে গত পাঁচ দিন রেল লাইন ডুবে থাকার কারণে বন্ধ থাকা কক্সবাজার রুটে রেল চলাচল ফের শুরু হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের উদ্দেশে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেছে পর্যটক এক্সপ্রেস।
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ বিস্তীর্ণ জনপদ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন দুর্গত মানুষ।
তবে আগের দিনের তুলনায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত শিশুসহ নিহত হয়েছেন ১২ জন আর আহত হয়েছেন ৫০ জন।
সরকারের পক্ষ থেকে এমপি, মন্ত্রীরা জেলা ও মহানগরীতে ত্রাণ বিতরণ করছেন। নগরীতে ত্রাণ বিতরণকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি হারানো লোকজনকে বিকল্প জায়গায় বসবাসের ব্যবস্থা করবে সরকার।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। সকাল ১০ টার পর আগের চেয়ে বৃষ্টির দাপটও কমেছে।
প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জানায়, বৃষ্টি কমার কারণে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীও।
প্রশাসন সত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ উপজেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক রাস্তা–ঘাট এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানির তোড়ে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। পাহাড়ি ঢলের পানিতে শঙ্খনদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে উপজেলার বিভিন্ন অংশে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে থেকে পানি সরে যাওয়ায় দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম–বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া সত্যপীরের মাজার এলাকায় এখনো সড়কের ওপর পানি থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তবে পানি কমতে শুরু করলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বহু মানুষের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি। বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যাভাব ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন তারা।
এদিকে, আকবর শাহ থানার উত্তর পাহাড়তলী এলাকায় দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, সাঈদ আল নোমান এমপি।
এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সরকার সমিন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বন্যাদূর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য। আমরা দুর্গতদের পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করব।
১ দিন আগে
বন্যার আগেই বান্দরবানে আগাম নগদ সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু ডব্লিউএফপির
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলায় বন্যার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য আগাম সহায়তা এবং দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
রবিবার (১২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে ডব্লিউএফপি জানায়, আগাম সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং পূর্বনির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর কাছে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমও চালু করেছে সংস্থাটি। এর আওতায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে জরুরি নগদ সহায়তা (টপ-আপ) প্রদান করা হয়েছে।
ডব্লিউএফপির সহযোগী সংস্থা বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতির (বিএনকেএস) মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ যৌথ উদ্যোগে বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলায় ১৫ হাজার ৬০০টির বেশি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ নগদ সহায়তা পেয়েছেন।
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, ‘বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়ছে। তাই দুর্যোগের আগেই পদক্ষেপ নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বন্যার সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়ার আগেই সহযোগিতা পৌঁছে দিয়ে আমরা পরিবারগুলোকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, জীবিকা ও সম্পদ রক্ষা করতে সহায়তা করছি। একই সঙ্গে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে সংকটের সময় ব্যাপক পরিসরে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’
সংস্থাটি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের অন্যতম দেশ বাংলাদেশ। ঘন ঘন ও তীব্র বন্যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও মানুষের জীবন, জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
ডব্লিউএফপি জানায়, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে এবং বিভিন্ন অংশীদারের সহায়তায় দেশে আগাম সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে তারা। ডব্লিউএফপি ও এর অংশীদারদের গবেষণায় দেখা গেছে, আগাম সহায়তায় প্রতি এক ডলার বিনিয়োগে দুর্যোগ-পরবর্তী প্রচলিত জরুরি সহায়তার তুলনায় সর্বোচ্চ সাত ডলারের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং অতিরিক্ত সুফল অর্জন করা সম্ভব।
একই সঙ্গে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ডব্লিউএফপি।
সংস্থাটি জানায়, দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে দ্রুত সম্প্রসারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে সময়মতো সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, যাতে তারা আরও গভীর সংকটে পতিত না হয়।
১ দিন আগে
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিজিবি মোতায়েন
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের ১১টি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বিজিবি সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম রবিবার (১২ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা দুর্গত মানুষের মধ্যে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহায়তা প্রদান করছেন।
এছাড়া বন্যায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের বাহিনীটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।
বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সহায়তা দিতে বাহিনীটি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সদর দপ্তর।
১ দিন আগে
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হচ্ছে, সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
দেশের যেসব এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেসব এলাকার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা শেষে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন।
শনিবার (১১ জুলাই) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বৃক্ষমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়ম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের লুটপাটের অভ্যাস অনেকের হয়তো এখনও যায়নি। তবে সবাইকে জেনে রাখতে হবে, সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই এর অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করেন। তাই, এ কর্মসূচিতে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।’
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
বন্যা পরিস্থিতিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে যা জানাল প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং
টানা ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকার উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম একযোগে পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নির্দেশনায় কেন্দ্র থেকে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দেশের বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা। এসব জেলার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে উদ্ধার, ত্রাণ ও জননিরাপত্তা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। রবিবার প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানান তিনি।
মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইউএনও, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। উদ্ধার কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবিকে যুক্ত করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থাও মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থান করে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই আহ্বানে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয়ভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দুই কোটির বেশি টাকার আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করেছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণসামগ্রী ও চাল পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং বিশেষ করে সাপের কামড়ের চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পানি নেমে গেলে দ্রুত সড়ক ও রেলপথ মেরামতের জন্য এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও গবাদিপশু পালনকারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও চালু করা হবে।
মাহদী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও কয়েকটি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়ায় যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে, তবুও স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে কাজ করছেন।
তিনি জানান, সরকারের কার্যক্রম শুধু উদ্ধার বা ত্রাণে সীমাবদ্ধ নয়; একই সঙ্গে রেসকিউ, রিলিফ ও রিহ্যাবিলিটেশন, অর্থাৎ উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন—এই তিনটি ধাপকে সমন্বয় করেই কাজ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় আগামীকালের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং তার জানা তথ্য অনুযায়ী, ‘১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হতে পারে’।
তবে তিনি বলেন, তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও জেলাগুলোর জন্য ১৬ জুলাইয়ের পর নতুন সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে তিনি জেনেছেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগের সময়ে জাতীয় ঐক্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচিত সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা ও মানবিকতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে। ত্রাণ, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, পুনর্বাসন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা স্থগিতসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দুর্গত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
২ দিন আগে
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ দফা নির্দেশনা
দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দুর্গত এলাকার মানুষের জরুরি স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে একটি ভার্চুয়াল সভা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সভায় বন্যাকবলিত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ ৭ দফা বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ওই জরুরি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), পরিচালক (প্রশাসন), বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং দেশের সব সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তারা কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবেন এবং তাদের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করতে হবে।
বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আক্রান্ত সব উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বন্যা মোকাবিলায় গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং বা প্রেস নোটের মাধ্যমে অবহিত করতে বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী ১২ জুলাই বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম তুলে ধরে জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত সব উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আক্রান্ত সব উপজেলায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করার কথাও বলা হয়েছে।
বন্যাকবলিত উপজেলা ও জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় পরিচালককে (স্বাস্থ্য) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
২ দিন আগে