বন্যা
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ৩০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ বন্যায় স্থানীয় সময় শনিবারও ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
বৃষ্টির মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
খবরে বলা হয়, অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য উচ্ছেদের সতর্কতা মেনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের উপপ্রধান জেরি মার্টিন বলেন, ‘ছয় ইঞ্চি পানি যেকোনো গাড়িকে অচল করে দিতে পারে। আট ইঞ্চি পানি গাড়িগুলো সড়ক থেকে ভাসিয়ে নিতে পারে। এমনকি তিন ইঞ্চি পানিও একজন মানুষকে ফেলে দিতে পারে। বন্যার পানি অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
নগরীর গণপূর্ত বিভাগের পরিচালক টড উইলসন বলেন, ‘পানির উচ্চতা এখনও বাড়ছে। সারা দিনই এটি বাড়তে থাকবে।’
অঙ্গরাজ্যের আরও পূর্বে ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে গেল শুক্রবার শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর বুধবার থেকে নিখোঁজ থাকা এক কিশোরের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে জেনিংস কাউন্টিতে একটি গাছের নিচে চাপা পড়ে চার বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়।
এদিকে, মধ্য ইন্ডিয়ানার উত্তর-পূর্ব হেনড্রিকস কাউন্টি ও উত্তর মারিয়ন কাউন্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ বন্যা আর দেখা যায়নি। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কিছু এলাকায় দুই দিনে ২৮ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিল এলাকায় হোয়াইট নদীর পানি ৭ দশমিক ৩২ মিটার ছাড়িয়ে গেছে, যা ১৯১৩ সালে রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
অভূতপূর্ব এ বন্যায় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিকভাবে বন্যার ঝুঁকি ছিল না এমন এলাকাতেও এবার পানি ঢুকেছে।
ইন্ডিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ব্রাউন শনিবার নিশ্চিত করেছেন, বন্যা মোকাবিলা ও পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তার করা ফেডারেল সম্পদের অনুরোধ অনুমোদনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উত্তর ইন্ডিয়ানাপোলিসের কিছু এলাকা থেকে অন্তত ৪০০ মানুষ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে ৩৫০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টিপটন কাউন্টির একটি প্রবীণদের ভ্রাম্যমাণ আবাসনও খালি করা হচ্ছে। ফায়েত কাউন্টিতে উদ্ধার ও বাসিন্দাদের খোঁজ নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের মুখপাত্র রিটা রেইথ জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৯৫ জন মানুষ ও ৪৫টি পোষা প্রাণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। দিনভর জরুরি সেবার জন্য শত শত ফোনকল পেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত উত্তর ইন্ডিয়ানা পাবলিক সার্ভিস কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যে দেড় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন।
৭ দিন আগে
জাপানে ছয় দশকের রেকর্ড বৃষ্টি ও বন্যায় নিহত ৯
জাপানের পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নজিরবিহীন বৃষ্টিতে সহস্রাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, গেল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
চিবা প্রদেশে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ মাত্রার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়। সেখানকার একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটার (প্রায় ১২ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ওই এলাকায় ছয় দশকের মধ্যে আগস্ট মাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
জাপানের ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল নাগাদ চিবা শহরে আগস্ট মাসে সাধারণত যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তার তিন গুণেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
এনএইচকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
চিবা প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের শনিবার সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ছিল আটজন। তাদের কয়েকজন পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে এবং অন্যদের প্লাবিত সড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চিবা অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে ৭০টির বেশি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজারের বেশি পরিবার জানিয়েছে, তাদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০টি বাড়িতে মেঝের ওপর দিয়ে পানি উঠে গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ২০০টি গাড়ি এখনও বিভিন্ন সড়কে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে টেনে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্যাক ব্যবহার করে সরানোর কাজ করছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিস্থিতি ‘নজিরবিহীন মাত্রার ভারী বৃষ্টিতে রূপ নিচ্ছে’।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে।
৭ দিন আগে
বাঁশখালীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে টিনের ছাউনি দেওয়া নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে বন্যাকবলিত বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ইউএনবিকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাহারছড়া গ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।’
তারেক রহমান এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবার ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তিনি সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন বলেও জানান রনি।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে যান।
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গত ৭ জুলাই থেকে বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের কয়েকটি প্রত্যন্ত ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়।
বন্যায় ঘরবাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে শত শত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
ফটিকছড়িতে তিনি আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসা পরিদর্শন এবং হেফাজতে ইসলাম আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিউর রহমান রুমন।
১৪ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৫
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কার পাহাড়ি অঞ্চলে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এই দুর্যোগে আরও অন্তত ৩ জন আহত এবং ২ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চা-বাগানসমৃদ্ধ পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
গত দুদিনের ভারী বর্ষণে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বাড়িঘর, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই বৈরী আবহাওয়ায় দেশটির মধ্যাঞ্চলের চা-বাগানসমৃদ্ধ পাহাড়ি এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, মধ্যাঞ্চলে দুটি বাড়ির ওপর ভূমিধসে মাটিচাপা পড়ে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি জানান, বৃষ্টি ও বন্যায় ১২৯টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নৌ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল হিরু টিভির সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, বন্যায় বাড়িতে আটকে পড়া ও কাদার স্রোতে চাপা পড়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে সেনাসদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন প্রধান সড়কে বড় বড় পাথর, ভূমিধসের মাটি ও উপড়ে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে থাকায় অনেক স্থানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে, গত নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিতওয়া’র তাণ্ডবে দেশটিতে প্রায় ৬৪০ জন নিহত হন। ওই দুর্যোগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং আনুমানিক ৪১০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সর্বশেষ এই দুর্যোগের সময়ও এখনও শ্রীলঙ্কা সরকার ডিতওয়ার ফলে সৃষ্ট সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
ডিতওয়া ঘূর্ণিঝড়েও শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই অঞ্চলের সড়ক, রেলপথ ও বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে এখনও কাজ করে যাচ্ছে দেশটির সরকার।
শ্রীলঙ্কায় প্রতি বছর বন্যা ও ভূমিধস ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। বর্ষা মৌসুমের ভারী বৃষ্টিতে মূলত সেখানে মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হয়। একই সঙ্গে দেশটিতে নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা হয়। ফলে প্রতিবছর হাজারো মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
১৯ দিন আগে
মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে এক মাসে ১০৯ প্রাণহানি
পাকিস্তানে গত এক মাসে মৌসুমি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ চলতি সপ্তাহের শেষদিকে বিভিন্ন এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, গত ২৬ জুন থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ঘরবাড়ি ও ছাদ ধসে প্রাণ হারিয়েছেন। মোট নিহতের প্রায় অর্ধেকই আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাসিন্দা।
এদিকে, এনডিএমএ সারা দেশে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছে। সংস্থাটির বৈঠকে নদীতরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্যোগের সময় তারা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারেন অথবা বন্যার পানি সেসব এলাকায় পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজন হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
২৬ দিন আগে
শেরপুরে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করায় শেরপুরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। জেলার ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ এবং ৯৩ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে জেলায় ১২ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ৩২ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ৪২ হেক্টর শাকসবজি, ১০ হেক্টর কলা এবং ৩৪ হেক্টর আউশ ধানের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অনেক এলাকায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা বালির স্তর জমে কৃষিজমি সাময়িকভাবে অনাবাদি হয়ে পড়েছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সূদীপ্ত চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৃগী নদীর প্রায় দেড় কিলোমিটার, ভোগাই নদীর এক কিলোমিটার, চেল্লাখালী নদীর ৫০০ মিটার এবং মহারশি নদীর ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে দুই তীরের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে জরুরি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকায় ১১ হাজার বালিভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শেরপুর সদর, নকলা, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় নদীভাঙনে ৭৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের শুকনো খাবার ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আপাতত পারাপারের সুবিধার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া চেল্লাখালী নদীর ভাঙনে শেরপুর-নালিতাবাড়ী (গাজীরখামার হয়ে) সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ওই সড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান জানান, অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রস্তুত হয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলার প্রতিটি উপজেলার জন্য ১০ টন করে জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
৩১ দিন আগে
বন্যায় স্থগিত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই
বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২৭ জুলাই থেকে শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন ৫ জেলায় গত ৮ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পরে ১৬ জুলাই পর্যন্ত সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম বোর্ডের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তবে, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে গত ১৩ জুলাই দেশের বাকি আটটি শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়।
মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাগুলো আগের রুটিন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, স্থগিত পরীক্ষাগুলোর জন্য নতুন সময়সূচি প্রণয়ন করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নতুন সূচি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যারা বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা যারা দিতে পারেননি, তারা নিবন্ধন করে পরীক্ষা দিতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। স্থগিত পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি যারা বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুপস্থিত ছিল, তাদের জন্যও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
৩১ দিন আগে
সাত জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৫৭
টানা অতিবৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খোলা ১১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৪ হাজার ৭৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্যাকবলিত জেলা সাতটি। এগুলো হলো: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৩৩৪টি এবং পৌরসভা ৯টি।
জেলাভিত্তিক হিসাবে রাঙামাটিতে ৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, কক্সবাজারে ৩২ জন (স্থানীয় ১৯ ও রোহিঙ্গা ১৩), চট্টগ্রামে ১৫ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন।
আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ ও রোহিঙ্গা ৫) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন।
দুর্যোগবকলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। কক্সবাজারে নগদ অর্থ, চাল ও ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা, এক হাজার ২০০ টন চাল এবং ৪৯ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানায়, ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় বন্যা ও অতিবৃষ্টিপ্রবণ জেলাগুলোর জন্য নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ হিসাবে সাত জেলার জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ৬৪ জেলার সাধারণ ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
৩৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ, নদীভাঙনের আশঙ্কা
উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা। তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক শূন্য ৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। গতকাল রাত ১০টায় এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
রাতভর ধীরে ধীরে পানি কমলেও বন্যার ক্ষত তেমন কোথাও দেখা যায়নি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদীর পানি নেমেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় পাটগ্রাম উপজেলা এবং কালীগঞ্জে উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরে বাদামখেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
তিস্তায় পানি বাড়ায় নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে অন্তত হাজারখানেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অনেক বাড়িঘরে এখনও পানি রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নার সমস্যা এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন দুর্গতরা।
এদিকে, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার তীব্র স্রোতে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি দ্রুত নেমে গেলে ভাঙনের তীব্রতায় বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় তিস্তার পানি কমছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পানি বাড়তে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি। শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। যদি আবারও পরিস্থিতি খারাপ হয়, তখন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আদীতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, তিস্তা তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পানি বৃদ্ধি বা নদীভাঙনের মতো ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪০ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, ফের বন্যার আশঙ্কা
ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তাবিধৌত জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। হালকা বৃষ্টি আর উজানের এ ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হালকা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সোমবার সন্ধ্যায় আবারও তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল রাতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার ৫টি উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। এর ফলে পানির সময় এসব বাঁধের ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তার তীর-সংলগ্ন গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা সহিদার রহমান জানান, বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ক্রমেই বেড়ে চলেছে তিস্তা নদীর পানি। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশকিছু বাড়িতে পানি উঠেছে।
তিনি বলেন, পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে, বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বন্যার সময় আমাদের নদীপাড়ের মানুষদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।
আদিতমারী উপজেলার নদীপাড়ের গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের সাজু মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠে গেছে। তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, পানিবন্দি এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এ সবের মাঝেও থাকে সাপ-কোপের প্রাদুর্ভাব। বন্যা যতদিন, আমাদের কষ্ট তার চেয়েও বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে।
তবে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানের ঢলে আজ সোমবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করছে পানির চাপ।
৪১ দিন আগে