বন্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন নদীর পানি বৃদ্ধি, পানিবন্দি ৪ হাজার ৩৫০ পরিবার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে উজানের ঢলে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৪ হাজার ৩৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে তিন নদীর পানিই এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার করে বেড়েছে।
পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি বিপৎসীমার যথাক্রমে ১ দশমিক ০৫ মিটার ও ২ দশমিক ০২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
দুর্যোগে নিহত ১,৩০০ ছাড়িয়েছে, জাতীয় শোক পালন করছে নেপাল
২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় নিহতদের স্মরণে আজ সোমবার নেপালে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। এদিন সরকারি দপ্তরগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
বন্যার ত্রয়োদশ দিনে এসে নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া বিদেশিসহ প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
হিন্দুপ্রধান দেশটিতে সাধারণত মৃত্যুর পর ১৩ দিন শোক পালন করা হয়। এ সময়ে নিকটাত্মীয়রা বাড়িতে অবস্থান করেন এবং স্বজন ও পরিচিতরা তাদের সমবেদনা জানাতে যান। ত্রয়োদশ দিনে মৃতের আত্মার শান্তি কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
যেসব পরিবারের সদস্য এখনও নিখোঁজ, তাদের অনেকেই প্রতীকী শেষকৃত্য ও শোকানুষ্ঠান পালন করেছেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ গুরুত্বপূর্ণ শেষকৃত্য। প্রিয়জনের মরদেহ না পেলেও প্রতীকীভাবে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে কিছু পরিবার। তাদের কাছে এটি মানসিক ও আধ্যাত্মিক স্বস্তির মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
এর আগে, সোমবারকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে নেপাল সরকার এবং সব সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেয়।
৫ দিন আগে
নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ১০০০ ছাড়িয়েছে; জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও আটকে বহু শ্রমিক
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় কাদায় চাপা পড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে আজ মঙ্গলবারও জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। তবে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৯৮৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন, যাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ রবিবারের হিসাবে, তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি।
দুই দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪০০-এর বেশি।
নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জনপদগুলোতে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উড়োজাহাজের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে, নেপালের বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী বেসরকারি খাতের একটি সংগঠন জানিয়েছে, দেশটির রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৯০০ শ্রমিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
এসব শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক বিশেষজ্ঞের মতে, তাদের কেউ কেউ সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেন পাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকতে পারেন। তবে অন্যরা বলছেন, জীবিত অবস্থায় তাদের উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে। এর মধ্যেই নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কাদায় ভরা তিনটি সুড়ঙ্গ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গেল বুধবার দুর্যোগ শুরু হওয়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হওয়া কয়েকজন শ্রমিক জানান, তাদের অনেক সহকর্মী তখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে ছিলেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, নেপাল (আইপিপিএএন)-এর সভাপতি মোহন কুমার দাঙ্গি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে শুরুতে সাহায্য চাওয়ার পর থেকে আটকা পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে উদ্ধারকারীদের আর কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দুর্যোগের ছয় দিন পর কিছু শ্রমিকের দমবন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দাঙ্গি।
পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে তৈরি বিশাল সুড়ঙ্গ
পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত বিশাল সুড়ঙ্গগুলোতেই আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রিয়ার গ্রাৎস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানী জ্যাকব স্টেইনার বলেন, এসব সুড়ঙ্গ এতটাই বড় যে এর ভেতর দিয়ে ট্রাক চলাচল করতে পারে। তার ভাষ্য, ভেতরে আটকা পড়া কয়েকজন শ্রমিকের কাছে অক্সিজেন পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন এবং তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, কারণ শ্রমিকদের খাবার ও পানির প্রয়োজন।
১১ দিন আগে
বন্যায় নেপাল-চীনে নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ ৪,৭০০
নেপাল ও চীনে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মোট নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এখনও ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। এরই মধ্যে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে আজ সোমবারও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৪ হাজার ২৪৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
রবিবার পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ ১৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি, যার মধ্যে শতাধিক নেপালি রয়েছেন।
নেপালের রাসুওয়া ও নুয়াকোট জেলার বন্যাকবলিত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্তত ৯০০ শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর একটি বেসরকারি সংগঠন।
নেপালের ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন বা আইপিপিএএনের সভাপতি মোহন কুমার দাঙ্গি বলেন, নিখোঁজ ৯০০ শ্রমিকের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকটি বিদেশি দল নেপালি উদ্ধারকারীদের সহায়তা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দাঙ্গি বলেন, গত বুধবার ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার সময় কিছু শ্রমিক যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন এবং সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলেন। আবার যারা বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের কেউ কেউ কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের জানিয়েছেন যে তাদের অনেক সহকর্মী এখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা রয়েছেন।
১২ দিন আগে
নেপালে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, নিহত ৮০০ ছাড়িয়েছে
নেপাল ও তিব্বতে বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। এই দুর্যোগে তিন হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই নেপালের ভোতেকোশি নদীতে পানির স্তর আবার বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় দুর্গত জেলাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে বন্যার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, উজানে পানির প্রবাহ বেড়েছে বলে চীনা কর্তৃপক্ষ নেপালকে অবহিত করেছে। এরপর সর্বশেষ নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়।
তবে বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকে বারবার পাওয়া সতর্কবার্তায় তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা গোবিন্দ শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘কখনো বলা হচ্ছে বন্যা আসছে, তখন আবার রাতেও উঁচু জায়গায় দৌড়ে যেতে হচ্ছে। আমার ৭২ বছর বয়সী বাবা ও ৭০ বছর বয়সী মা আছেন। আমাকে তাদের বহন করতে হয়। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’
ভয়াবহ ওই আকস্মিক বন্যার পঞ্চম দিনেও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন।
১৩ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৭৬, নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ।
গেল বুধবারের ভয়াবহ বন্যার চার দিন পর আজ শনিবারও নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় চাপা পড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলে সাতজন নিহত এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দুই অঞ্চলে মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৬ এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর অন্যতম নুয়াকোটে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। তবে দুপুরের আগে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসার পর আবারও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, কিছু হেলিকপ্টারে পোশাক, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, বিস্কুট ও চালসহ ত্রাণসামগ্রী দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়। অন্য হেলিকপ্টারগুলো বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মানুষদের নিয়ে ফিরে আসে।
১৪ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৩৩, নিখোঁজ ২৯৮০
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যাও বেড়ে ২ হাজার ৪২৬ জন হয়েছে।
এছাড়া চীনের অংশে হতাহত ও জীবিতদের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া গেলেও শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অংশে ৫৫৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবারের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে উদ্ধারকর্মী ও সামরিক সদস্যরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শনিবার আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।
নেপালের রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা এবং চীনের তিব্বত অংশে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং সীমান্ত ক্রসিংসহ কয়েকটি স্থানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
বাসনেত বলেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে ঘন কাদায় ভরা একটি সুড়ঙ্গে ১০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকর্মীরা ঝুড়ি ও দড়ির সাহায্যে কয়েকজনের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর কাদা এবং হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য সীমিত জায়গা থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য নতুন বন্যার সতর্কতার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোকে কিছু সময়ের জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নিতে হয়েছে।
বুধবারের প্রাথমিক বন্যার পর হিমালয়ের উঁচু এলাকায় হিমবাহ ধসের ফলে একটি নতুন হ্রদ সৃষ্টি হয়। হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
তবে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ তথ্যের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত হ্রদটির আয়তন কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার বা ৩২ ফুট নেমেছে।
এদিকে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে।
নেপালের বন্যাকবলিত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটে শনিবার নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন বহু মানুষ। একটি ত্রাণকেন্দ্রে সামরিক সদস্যরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামসংবলিত কাগজ দেওয়ালে টাঙিয়ে দেন। স্বজনরা সেগুলো ঘিরে প্রিয়জনদের নাম খুঁজতে থাকেন। অনেকে তালিকার ছবি তোলেন এবং নাম খুঁজতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চীনের সঙ্গে নেপালের সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরেও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা হেঁটে ও ভেলায় করে সেখানে পৌঁছাচ্ছেন। ড্রোনের সাহায্যেও কিছু উদ্ধারকর্মীকে এলাকায় নামানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তারা জীবিতদের সন্ধানে ডাকাডাকি করছেন।
বন্যার সময় ওই সীমান্ত চেকপোস্টের ভবনটিতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তারা সেখানে কাজ, ট্রেকিং অথবা একটি পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন।
১৪ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: নিহত বেড়ে ৫৪৩, নতুন হ্রদ থেকে ফের বন্যার আশঙ্কা
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে চীন। দুই দেশের এ দুর্যোগে দেড় হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্যে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায় যে বন্যায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৫৩৮। তবে দেশটির পুলিশ জানায়, এর সংখ্যা ৫৪৭ জন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৯০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
এর মধ্যেই বন্যার উজানে নতুন তৈরি হওয়া ও উপচে পড়া একটি হ্রদ থেকে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ।
বুধবারের ওই ভয়াবহ দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে আজ শুক্রবারও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
নতুন হ্রদ থেকে ফের বন্যার শঙ্কা
বুধবারের দুর্যোগের পর উজানে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নেপাল ও চীনের কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে। হ্রদটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে বলে জানিয়ে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানায়, হ্রদটিতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়েছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি এতে জমা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি শুক্রবার সকালে জানিয়েছে, নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ গিরং বন্দরের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ অবস্থিত। কাদা ও বন্যার পানিতে গিরং বন্দরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিসিটিভির তথ্যমতে, হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৯৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, যা গিরং বন্দরের চেয়ে প্রায় ১ হাজার মিটার উঁচুতে।
সম্ভাব্য নতুন বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় নেপাল সেনাবাহিনী ভোতেকোশি নদীর পরিস্থিতি পরিদর্শনে সীমান্ত এলাকায় একটি দল পাঠিয়েছে।
১৫ দিন আগে
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৩৫৩
হিমবাহ ধসে কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোতে নেপাল-চীন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নিহত বেড়ে ৩৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট প্রবল পানি ও কাদার স্রোত কয়েকটি জনপদে আঘাত হানে। এতে নেপালের পাশাপাশি তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্যায় ৩৫৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সেই সঙ্গে তিব্বতে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন এবং সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৫৮ জন।
ড্রোনের মাধ্যমে ধারণ করা ভিডিওতে নেপালের ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা উঠে আসে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সময় বন্যার পানির স্রোতে মানুষ ভেসে যাচ্ছে এবং ভবন ও সেতু ধসে পড়ছে।
নুয়াকোট জেলার সোলি গ্রামের প্রায় ২৫টি বাড়ি নিয়ে গঠিত জনপদটি প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডুভিত্তিক সাংবাদিক নিরাজন পৌডিয়াল। তার বাবা-মা ও স্বজনরা ওই গ্রামে থাকেন। পরিবারের খোঁজ নিতে আজ বৃহস্পতিবার তিনি সেখানে গেছেন।
পৌডিয়াল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খবর নেই। আশঙ্কা করছি, আর কোনো খবর পাওয়া যাবে না।’
বৈশ্বিক উষ্ণায়নে হুমকিতে হিমালয় অঞ্চলের জনপদ
ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশজুড়ে বিস্তৃত হিমালয় পর্বতমালায় বিশ্বের অনেক উঁচু শৃঙ্গ ও হিমবাহ রয়েছে। পর্বতমালার খাড়া ঢাল ও নিচের সবুজ উপত্যকাগুলো বন্যা, ভূমিধস ও চরম আবহাওয়ার জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ায় হিমবাহ গলে যাওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। কাঠমান্ডুর গবেষকেরা চলতি বছরের শুরুতে দেখতে পান, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলো দ্রুত গলছে এবং ২০০০ সালের পর থেকে বরফ গলার হার দ্বিগুণ হয়েছে।
১৬ দিন আগে
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেপাল সরকার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ধরন মূল্যায়ন করছে এবং আজ সন্ধ্যা বা শুক্রবারের মধ্যে বাংলাদেশকে তা জানাবে।
তিনি বলেন, ‘আজ সকালবেলা আমার সঙ্গে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তাকে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে, বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে নেপালে যে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছে, সে বিষয়ে সমবেদনা ও শোক জ্ঞাপন করেছি। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অফার করেছি।’
ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা মূল্যায়ন করছেন। ‘এবং আজকে সন্ধ্যা কিংবা কালকের ভেতরে তিনি নিশ্চিতভাবে আমাদের জানাবেন। আমরা তৈরি আছি।’
নেপালে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, এখন পর্যন্ত তা জানা যায়নি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার কথায়, ‘আমি তাকে বলেছি যে, আমরা তো এখনও পর্যন্ত জানতে পারিনি যে কোনো বাংলাদেশি এতে অ্যাফেক্টেড হয়েছেন কিনা। যদি হয়, তাহলে পরে আমাদের যেন জানান এবং আমরা তাদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করব।’
বাংলাদেশি কোনো নাগরিকের খোঁজ পাওয়া গেলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
নেপালে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ কোনো ফ্লাইট প্রস্তুত করেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপাল সরকারের চাহিদা জানার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘উনারা যখন বলবেন তখন, আগের থেকে তো করা যাবে না। কিন্তু আমরা প্রস্তুত আছি।’
তিনি বলেন, নেপালে বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটক মানসলু পর্বতের দিকে যাচ্ছিলেন, সে সময় দুর্যোগটি ঘটে। এ দুর্ঘটনায় জীবিত বা মৃত অবস্থায় বাংলাদেশি কারও খোঁজ পাওয়া গেলে আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন বলে জানান ড. খলিলুর রহমান।
১৬ দিন আগে