বন্যা
দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্যায় ১০ জনের মৃত্যু, জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা
দক্ষিণ আফ্রিকার ছয়টি প্রদেশে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন লোকালয় প্লাবিত হয়ে বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্যায় অপ্রাতিষ্ঠানিক বসতিগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১১ মে) শুরু হওয়া এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কমপক্ষে ২৬টি অপ্রাতিষ্ঠানিক বসতি আক্রান্ত হয়েছে এবং ১০ হাজারেরও বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বন্যায় দেশটির অন্যতম শহর কেপ টাউন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পশ্চিম কেপ প্রাদেশিক সরকার স্থানীয় স্কুলগুলো এবং শহরের বিখ্যাত টেবিল মাউন্টেন পর্যটনকেন্দ্রের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এরই মধ্যে ৪ মে থেকে পশ্চিম কেপ, উত্তর-পশ্চিম ফ্রি স্টেট, পূর্ব কেপ, উত্তর কেপ এবং মপুমালাঙ্গা প্রদেশের কিছু অংশে আঘাত হানা বন্যা, বজ্রঝড়, তীব্র বাতাস এবং তুষারপাতের কারণে ওই সব অঞ্চলে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘোষণার ফলে সরকার জরুরি তহবিল ও অন্যান্য সম্পদ ব্যবহার করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবে।
সোমবার (১১ মে) এই বৈরী আবহাওয়ায় ঘটা প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ঘটনা আগে থেকে অনুমান করতে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজ্ঞানকে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চরম আবহাওয়াগত ধরনের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে এই তীব্র বন্যা ক্রমশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মোজাম্বিক, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়েতে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং কয়েক বছরের মধ্যে এটি এ অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা।
গত জানুয়ারিতেও ভারী বৃষ্টি ও বন্যাজনিত কারণে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছিল দেশটির সরকার। ওই দুর্যোগে উত্তরাঞ্চলে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন এবং হাজার হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাস্তা ও সেতু প্লাবিত হয়েছিল।
১৫ ঘণ্টা আগে
ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসে শিশুসহ নিহত ৪
ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্নামবুকো অঙ্গরাজ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
পার্নামবুকোর প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্গত আরও অন্তত দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যের রাজধানী রেসিফেতে চিকিৎসা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, দইস উনিদোস এলাকায় পাহাড়ধসে এক নারী ও তার ছয় বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছেন।
এছাড়া পার্নামবুকোর কাছের শহর ওলিনদায় আরও ২ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে আলতো দা বন্দাদে এলাকায় ভূমিধসে ২০ বছর বয়সী এক নারী ও তার ছয় মাস বয়সী ছেলে মাটিচাপা পড়ে মারা যান। ওই স্থান থেকে আরও ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ।
ভারী বৃষ্টির কারণে রেসিফে মহানগর এলাকা ও বিভিন্ন পৌর এলাকায়ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে পার্নামবুকোতে জন্ম নেওয়া ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মাঠপর্যায়ে স্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ফেডারেল সরকার আর্থিক সহায়তা পাঠাবে।
এদিকে, ঝড়বৃষ্টির কারণে রেসিফের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল।
পার্নামবুকোর পানি ও জলবায়ু সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পার্নামবুকোর অভ্যন্তরীণ শহর গোইয়ানা। সেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সরকারি স্কুলগুলোতে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
১০ দিন আগে
সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার আশঙ্কা, দ্রুত ধান কাটার আহ্বান পাউবোর
উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা, বাউলাই নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আগাম বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এমন পরিস্থিতিতে জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে দ্রুত তা কাটার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত সুরমা, কুশিয়ারা ও বাউলাইসহ অন্যান্য নদীর উজান অববাহিকায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী কয়েকদিন নদ-নদীর পানি সমতলে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এমনকি যেকোনো সময় আগাম বন্যা পরিস্থিতি উদ্ভব হতে পারে। এছাড়া হাওরের অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাতের ফলে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কৃষকগণকে যেসব জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেসব জমির ধান দ্রুত কাটার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী।
২১ দিন আগে
আফগানিস্তানে বন্যা-ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১০
আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল ঝড় এবং ভারী বর্ষণে বন্যা, ভূমিধস ও বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১১০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় নতুন করে আরও সাতজন নিখোঁজ হয়েছেন। দেশটিতে সামনে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ এপ্রিল) আফগানিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রায় ১২ দিন আগে আফগানিস্তানজুড়ে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, যা দেশটির ৩৪টি প্রদেশকে প্রভাবিত করেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু গত ২৪ ঘণ্টায়ই দেশজুড়ে ১১ জন মারা গেছেন এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নতুন করে সাতজন নিখোঁজ হয়েছেন যাদের সবাই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত ১২ দিনে বন্যা, ভূমিধস এবং বজ্রপাতে মোট ১১০ জন নিহত এবং ১৬০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৯৫৮টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৪ হাজার ১৫৫টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের হেরাত প্রদেশে বন্যার পানিতে আটকে পড়া দুইজনকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশটির ৩২৫ কিলোমিটারেরও বেশি সড়কপথ ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, সেচ খাল ও পানির উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৬ হাজার ১২২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব তথ্য প্রাথমিক বলে উল্লেখ করেছে তারা।
এদিকে, মঙ্গলবারের জন্য প্রায় পুরো দেশজুড়ে আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে জনগণকে নদীর কাছাকাছি এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানজুড়ে ভারী তুষারপাত ও আকস্মিক বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
এছাড়া ভূমিধস ও বন্যার কারণে দেশটিতে দুটি প্রধান মহাসড়ক কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের বিকল্প দীর্ঘ পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পাকিস্তান সীমান্ত ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোকে সংযুক্তকারী কাবুল-জালালাবাদ মহাসড়ক গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, জালালাবাদ থেকে কুনার ও নুরিস্তানগামী সড়কটি রবিবার থেকে পাথর পড়ার কারণে বন্ধ হয়ে আছে।
আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্রায়ই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে বসন্তে এমনই এক আকস্মিক বন্যায় তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল।
৩৬ দিন আগে
বন্যা ও ভূমিধসে আফগানিস্তানে ১০ দিনে ঝরেছে ৭৭ প্রাণ
আফগানিস্তানে প্রবল ঝড় এবং ভারী বর্ষণে বন্যা, ভূমিধস ও বজ্রপাতে ১০ দিনে অন্ততপক্ষে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩৭ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৪ এপ্রিল) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এরকম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পুরো আফগানিস্তানজুড়ে আরও কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এমতাবস্থায় জনসাধারণকে নদী-তীরবর্তী অঞ্চলসহ বন্যাপ্রবণ অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আফগানিস্তান মূলত একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশটিতে আকস্মিক বন্যা, ব্যাপক তুষারপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানান, সম্প্রতি এই বন্যা ও ভূমিধসে ৪৮ ঘণ্টায় নিহত হয়েছে মোট ২৬ জন। এ ছাড়াও ২ হাজার ৬৭৩টি ঘর আংশিক এবং ৭৯৩টি ঘর পুরোপুরি ধসে গেছে। প্রায় ৩৩৭ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ দুর্যোগে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, পানির কূপ এবং সেচ খালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে ৫ হাজার ৮০০-র বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আফগানিস্তানের গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ হকশিনাস বলেন, বন্যা ও ভূমিধসে রাজধানী কাবুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে ভ্রমণকারীদের কাবুলে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প পথ হিসেবে অন্য রাস্তা দিয়ে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে কাবুল থেকে জালালাবাদ মহাসড়ক। এই মহাসড়ক রাজধানী কাবুলকে পাকিস্তান সীমান্ত এবং পূর্বাঞ্চলীয় আফগান প্রদেশগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান পথ। ভূমিধস, পাথর ধস এবং বন্যার কারণে গত বৃহস্পতিবার সকালে মহাসড়কটি বন্ধ হয়ে যায়। এই মহাসড়ক রাজধানী কাবুলকে পাকিস্তান সীমান্ত এবং পূর্বাঞ্চলীয় আফগান প্রদেশগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান পথ। সড়কটি পুনরায় খোলার জন্য কর্মীরা কাজ করছেন।
এ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাস্তা ব্যবহার করার সময় ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকতে বলেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দুর্যোগের কারণে হিন্দুকুশ পর্বতমালায় অবস্থিত উঁচু গিরিপথ সালাং পাসও বন্ধ হয়ে গেছে। এই গিরিপথ মূলত কাবুলকে দেশের উত্তরাঞ্চলের কুন্দুজ ও মাজার-ই-শরিফের মতো প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করে।
আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্রায় প্রায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যাতে শত শত মানুষ মারা যায়। এর আগে ২০২৪ সালে বসন্তকালীন আকস্মিক বন্যায় দেশটিতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।
৩৮ দিন আগে
উপকূলে অশনিসংকেত: কয়রায় অসময়েও ভাঙছে বাঁধ
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে নদী ভাঙনে প্রতি বছর প্লাবিত হওয়া খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার সবচেয়ে বড় সমস্যা। প্রতি বছর গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে কয়রার মানুষ চরম আতঙ্কে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তন, জোয়ার-ভাটার তীব্রতা এবং নদীর গতিপ্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা উপকূলীয় এই অঞ্চলের প্লাবন-ঝুঁকিও বাড়ছে।
এদিকে উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত টেকসই বাঁধ নির্মাণে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন আশার আলো জাগালেও কাজের ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। মেগা প্রকল্পে যথেষ্ট বরাদ্দ থাকার পরও অবৈধভাবে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তা বাঁধ নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ছাড়া গাছ কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে নদী চরের সবুজ বনায়ন। যার ফলে বাঁধের স্থায়িত্ব কমছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
জানা যায়, গেল শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের দোশহালিয়া থেকে হোগলার মধ্যকার একটি অংশের বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। স্থানীয়রা সেখানে মাটি দিয়ে মেরামত করেন। এ ছাড়া নদীতে পানির চাপ ও কোনো প্রকার ঝড়ো বাতাস ছাড়াই গত ৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে হঠাৎ করে কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকার বেড়িবাঁধের প্রায় ২০০ মিটার ধসে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বাঁধটির বিশাল অংশ নদীতে ভেঙে পড়ে প্লাবিত হয় সংলগ্ন এলাকা। পরের দিন ভাটার সময় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে সক্ষম হলেও তাদের আতঙ্ক এখনো কাটেনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ১১টার পর থেকেই নদীর পাড়ের মাটি সরে যাওয়ার অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যাচ্ছিল। পরে সেখানে গিয়ে দেখেন, বাঁধের বড় বড় খণ্ড নদীতে ধসে পড়ে ২০০ মিটারের মতো বাঁধ ভেঙে এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করেছে।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের স্থায়ী সংস্কার এবং নদী খননে অবহেলার কারণে এই অঞ্চলে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ধানচর, শামুকপোতা, কুতুবেরচর, গাবতলা ও খোলপেটুয়া পাড়ের বেশ কয়েকটি এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
মাটিয়াভাঙ্গার বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ সেদিন রাতের ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘চোখের সামনে দিয়ে বাঁধটা নদীতে চইলে গেল। মনে হচ্ছিল, আজই বুঝি সব শেষ; বাড়িঘর সবকিছুই বুঝি তলাই যাবেনে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, ‘প্রতিদিনই নদী এগিয়ে আসছে। কয়েক দিনের মধ্যে তিনটি বাড়ি নদীতে চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে জরার্জীণ থাকলেও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
মাটিয়াভাঙ্গা বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশটি মেগা প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুই বছর যাবৎ বিভিন্ন প্যাকেজের কাজ চলমান থাকলেও তাতে রয়েছে চরম ধীরগতি। মাটিয়াডাঙ্গার ওই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থায় থাকলেও সংস্কারে গুরুত্ব দেননি ঠিকাদার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় কয়রা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের দুটি পোল্ডারে (১৪/১ ও ১৩–১৪/২) প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের উচ্চতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধি, ঢাল সংরক্ষণ, নদীশাসন ও চরবনায়নের কাজ করা হচ্ছে। মাটিয়াভাঙ্গার ভাঙনকবলিত এলাকাটিও এই প্রকল্পের অংশ।
দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দিদারুল আলম বলেন, ‘সুন্দরবনঘেঁষা আড়পাঙ্গাসিয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের মোহনার পাশে থাকা এ বাঁধটিতে এক মাস আগেই ফাটল দেখা গিয়েছিল। বিষয়টি আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ তার ভাষ্যে, ‘অল্প কিছু বস্তা ডাম্পিং করে দায়সারা কাজ করা হয়েছিল তখন। তাই গতরাতে আগের ফাটলটা হঠাৎ বড় রূপ নিয়ে ধসে গেছে।’
রাতে গ্রামবাসী ও পাউবো মিলে বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে এলাকা প্লাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। কিন্তু নদীর ভাঙন ঠেকাতে রিং বাঁধ কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রিং বাঁধের স্থায়িত্ব খুব স্বল্প। যেকোনো মূহুর্তে সেটি ভেঙে যেতে পারে। দ্রুত যদি মূল বাঁধ সংস্কার করা না হয়, তাহলে ধ্বসের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের আহ্বায়ক এম আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেখানে বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে, তার আশপাশ থেকেই বালু উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া নদীর চর থেকে মাটি কেটে বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। এতে করে নদীর চরের গাছ কেটে বনায়ন নষ্ট করা হচ্ছে।’ এসব বিষয় উল্লেখ করে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাগরিক সমাজের এই নেতা।
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সালের ঘুর্ণিঝড় আয়লার পর থেকে প্রত্যেক বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে কোনো না কোনো এলাকা ভেঙে যেতে দেখা যাচ্ছে। এ বছর বর্ষা ও গ্রীষ্ম মৌসুমে এলাকা প্লাবিত হাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেলেও শীত মৌসুমে প্লাবিত হলো। শীতকালে এমন ভাঙন এর আগে কখনো দেখিনি।
‘আমাদের প্রাণের দাবি ছিল টেকসই বেড়িবাঁধ। আমাদের দাবির কথা বিবেচনা করে সরকার বরাদ্দ দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ, কিন্তু বরাদ্দের সদ্ব্যবহার হচ্ছে না। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাজ হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
বিষয়টি কি শুধুই প্রকৃতির তাণ্ডব, নাকি বাঁধের কাঠামোগত দুর্বলতাও—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।
কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর মাটিয়াডাঙ্গা এলাকার মেগা প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছে পাউবোর সাতক্ষীরা–২ বিভাগ। ওই বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলমগীর কবির বলেন, ‘কাজ চলমান অবস্থায়ই বাঁধটি ভেঙে গেছে। এতে কংক্রিট ব্লক নির্মাণের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতেই বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে পারায় এলাকা প্লাবিত হয়নি। সকাল থেকে জোরেসোরে আমাদের বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।’
১৫৪ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৩২, এখনও নিখোঁজ ১৭৬
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’র কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত ১৭৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।
দক্ষিণ এশীয় এই দ্বীপদেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকেন্দ্র স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে জানায়, দুর্যোগকবলিত হয়ে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, রাতের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
গত সপ্তাহ থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয় এবং চা বাগান-প্রধান মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলাগুলোতে ভূমিধস শুরু হয়। দুর্যোগের কারণে সরকার স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করে; স্থগিত করা হয় বিভিন্ন পরীক্ষা।
১৬৪ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১২৩, নিখোঁজ আরও ১৩০
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’র কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত ১৩০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।
দক্ষিণ এশীয় এই দ্বীপদেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকেন্দ্র শনিবার (২৯ নভেম্বর) জানায়, দুর্যোগকবলিত হয়ে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, রাতের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
গত সপ্তাহ থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয় এবং চা বাগান-প্রধান মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলাগুলোতে ভূমিধস শুরু হয়। দুর্যোগের কারণে সরকার স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করে; স্থগিত করা হয় বিভিন্ন পরীক্ষা।
১৬৫ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৩১
শ্রীলঙ্কায় গত সপ্তাহ থেকে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় নিহত বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পূর্বে কেন্দ্রীয় প্রদেশের চা বাগান এলাকা বাদুল্লা ও নুয়ারা ইলিয়ায় ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন। ভূমিধসের কারণে এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে আরও অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সপ্তাহের শেষ দিকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়কে বন্যার পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক জলাশয় ও নদী প্লাবিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। প্লাবনের ফলে কিছু প্রাদেশিক সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের কারণে পাথর, কাদামাটি ও গাছপালা রেললাইনের ওপর পড়ায় সেখানে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় টেলিভিশনে দেখা গেছে, শ্রমিকরা লাইনের ওপর জমে থাকা মাটি-পাথরের স্তুপ সরানোর চেষ্টা করছেন। কিছু এলাকায় বন্যার পানিতে রেললাইন তলিয়ে গেছে।
আরও দেখা যায়, নৌবাহিনীর যানবাহনে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কলম্বো থেকে প্রায় ৪১২ কিলোমিটার পূর্বে আম্পারা শহরের কাছে বন্যার স্রোতে একটি গাড়ি ভেসে যাচ্ছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানায়, গভীর নিম্নচাপজনিত এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৪ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৬৭ দিন আগে
ফুঁসছে তিস্তা, উত্তরাঞ্চলের কৃষকের মনে ফের বন্যা আতঙ্ক
উত্তরাঞ্চলে আবারও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে আজ রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ডালিয়া পয়েন্টে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা বেড়েছে ১৩ সেন্টিমিটার। পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ কারণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলেছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বাড়বে। এতে লালমনিরহাটসহ রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
২৪১ দিন আগে