হরমুজ প্রণালি
যুদ্ধ অবসানের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, তবে রয়ে গেছে বড় চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধ অবসান এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং চুক্তি বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তাসহ বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।
সোমবার (১৫ জুন) ঘোষিত এই সমঝোতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার জেনেভায় আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকবে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরানি হামলার কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং এর প্রভাব খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়ে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রণালি খুললেও সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
লেবানন ইস্যুই সবচেয়ে বড় বাধা
চুক্তির সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা লেবাননের পরিস্থিতি। যুদ্ধের পক্ষভুক্ত হলেও ইসরায়েল এই সমঝোতার অংশ নয়।
সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবাননে দখল করা এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের জবাবে ইরান হামলা চালালে ‘প্রচণ্ড শক্তি’ দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডেভিড মেনসারও জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির মোকাবিলা অব্যাহত রাখবে ইসরায়েল।
এ অবস্থান সমঝোতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কারণ, ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে যে যুদ্ধ অবসানের যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননের সংঘাতও বন্ধ হতে হবে।
এদিকে, চুক্তি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সময় মাত্র ৬০ দিন
চুক্তির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও পারমাণবিক কর্মসূচি।
সমঝোতা অনুযায়ী, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র ৬০ দিনের সময় পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আশঙ্কা, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুর সমাধান সহজ হবে না। কারণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে বিশ্বশক্তিগুলোর কয়েক বছর সময় লেগেছিল।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন, যা পরবর্তী উত্তেজনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত সমঝোতা কার্যকর নয়
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি সইয়ের আগে এসব কার্যকর হবে না।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদিও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্বাক্ষরের আগে ইরানও চুক্তির কোনো অংশ বাস্তবায়ন করবে না।
চুক্তি সইয়ের আগে এ সপ্তাহে কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বনেতাদের সতর্ক আশাবাদ
মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিকারী এই যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপ, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।
তবে অনেকেই এখনও সতর্ক। লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভিয়ার বেটেল বলেন, ‘শুক্রবার পর্যন্ত এখনও অনেক সময় বাকি।’
ফলে যুদ্ধ অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত চুক্তি সই এবং তা বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনও পুরোপুরি মসৃণ নয়।
১০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েতে ‘পাল্টা হামলা’ চালিয়েছে ইরান
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কুয়েত জানায়, দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে কোথায় হামলা হয়েছে বা কী লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি দেশটির সামরিক বাহিনী।
পরে ইরান জানায়, সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাবে তারা পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি তেহরান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, বুধবার গভীর রাতে ইরান কুয়েতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে পারস্য উপসাগরে তাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত গুরুতর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কুয়েতে হামলার দায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে ইরানে চলমান সংঘাতের সময় এর আগেও কুয়েতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য কুয়েত অতীতে ইরান ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি শিয়া মিলিশিয়াদের দায়ী করেছিল।
এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এখনো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি।
পারস্য উপসাগরের এই সরু জলপথ দিয়ে একসময় বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হতো। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
এর মধ্যে ইরানকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তেহরান তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে, যাতে দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, মাইন স্থাপনকারী নৌকা এবং আক্রমণকারী ড্রোন লক্ষ্য করে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি একমুখী ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী। একইসঙ্গে ইরানের বন্দর আব্বাসে একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে, যেখান থেকে পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএর মাধ্যমে বন্দর আব্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় হামলার কথা স্বীকার করেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত হয়।
ইরান দাবি করেছে, যে বিমানঘাঁটি থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল, সেটিকে লক্ষ্য করেই তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কুয়েতে হওয়া হামলার সঙ্গে এই অভিযানের সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।
২৮ দিন আগে
ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই নতুন করে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ মে) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী। এছাড়া পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন অভিযোগে ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালায় তারা।
সোমবার দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পেতে রাখা নৌযানে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর পর এবার নতুন করে এই সামরিক পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগন জানিয়েছে, চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সংযতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর আগে, স্থানীয় সময় বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান প্রায় তিন মাসের সংঘাত নিরসনে তার প্রশাসন অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে আলোচনা এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ট্রাম্প মূলত এমন একটি সমঝোতা চান যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং তিনি দাবি করতে পারবেন যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা গেছে। রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই সংঘাতের ইতি টানতেও তিনি আগ্রহী।
তবে, সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এমনকি তার নিজ দলের কয়েকজন সমর্থকও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব দুর্বল হলেও আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে।
অবশ্য নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান নীতিতে এর কোনো প্রভাব নেই বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা ভেবেছিল, আমাকে অপেক্ষায় রেখে দেবে। বলছিল, তার তো মধ্যবর্তী নির্বাচন আছে, কিন্তু আমি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবি না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা চায় একটি চুক্তি হোক, তা খুব করে চায়। তবে এখনও সেখানে (চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায়) পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টিতে আমরা সন্তুষ্ট নই, তবে হব; নতুবা আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’
সম্ভাব্য সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার, লিন্ডসে গ্রাহাম ও টেড ক্রুজসহ ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, আলোচনায় উঠে আসা শর্তগুলো তেহরানের জন্য অতিরিক্ত সুবিধাজনক হতে পারে।
তাদের অভিযোগ, সম্ভাব্য এই চুক্তির কিছু অংশ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করেছিলেন।
সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, তেহরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে এবং এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এক কর্মকর্তা জানান, ৬০ দিনের আলোচনায় ঠিক হবে কীভাবে ইরান ইউরেনিয়াম ছাড়বে। ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ পাতলা করা হতে পারে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে।
তবে ট্রাম্প বুধবার বলেন, রাশিয়া বা চীনের কাছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়ে তিনি ‘স্বস্তিবোধ করবেন না’।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছাতে খুব অল্প প্রযুক্তিগত ধাপ দূরে। তবে ইরান এখনও প্রকাশ্যে এই ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
২৮ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৫
হরমুজ প্রণালিতে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যে নৌযানগুলোকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বলে দাবি করছে, সেগুলো আসলে যাত্রীবাহী নৌকা ছিল।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের করা এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি করেছে। ব্র্যাড কুপার বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার সময় তাদের মিশনে বাধা দেয় আইআরজিসির ৬টি নৌযান। সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী ওই নৌযানগুলোকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানে ৭টি নৌকায় তারা হামলা চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে পরিচালিত মার্কিন অভিযান নাজুক এই যুদ্ধবিরতিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। এ অভিযানের ফলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কমান্ডারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসির নৌযানে হামলা করেছে, এমন দাবি তোলার পর তেহরান তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে দেখা গেছে, মার্কিন হামলায় আইআরজিসির কোনো নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) দুটি যাত্রীবাহী ছোট নৌকা ওমান উপকূলের খাসাব থেকে ইরানের উপকূলে যাচ্ছিল। পথে মার্কিন বাহিনী নৌকা দুটিতে হামলা চালায়।
ওই সামরিক কমান্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নৌকাগুলো ঘটনাস্থলে ধ্বংস হয়ে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা ৫ জন বেসামরিক যাত্রী নিহত হন।
তিনি দাবি করেন, ‘এই অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
ইরানের এই অভিযোগের পর তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তেহরান এই জলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এদিকে, ইরান এখন কঠোরভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হরমুজ প্রণালির যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি পূরণ করতে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনী বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানায়, অনুমতি ছাড়া এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আরও জানানো হয়, মার্কিন বাহিনী যদি এই জলপথের কাছে আসে বা প্রবেশ করে, তাহলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল। ইরান জাহাজটির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়াও ইরানি সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত ভূখণ্ডে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের এসব হামলায় পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আমিরাত ফুজাইরাহর একটি বড় তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থান করা দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ এইচএমএম নামুও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, একটি বিস্ফোরণে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন লেগে গিয়েছিল।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেসট্রয়ারের সহায়তায় সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ‘ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় উপসাগর ছেড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, সোমবার হরমুজে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় হামলার ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, চলমান রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে অশুভ শক্তির প্ররোচনায় আবারও সংকটে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও ইরানের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম পরিচালনাকারী মার্কিন জাহাজে হামলা হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আগের চেয়ে এখন আমাদের কাছে অনেক বেশি উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাটি আছে। এসব ঘাটিতে বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা সেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করব।
৫১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার ও যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ খুলে দেবে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেয় এবং চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটায়, তবে হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করবে ইরান। একইসঙ্গে দেশটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) যুদ্ধে মধ্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত দুইজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইসলামাবাদ-ভিত্তিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন বলে মনে হচ্ছে না। পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকানদের কাছে পৌঁছানো এই প্রস্তাবে সেই মতবিরোধগুলো অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে, যার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়েছিল। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এমন কোনো চুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত নেই।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘আমরা তাদের পার পেয়ে যেতে দিতে পারি না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতা যেন এমন হয় যা তাদের যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দৌড় থেকে নিশ্চিতভাবে বিরত রাখে।’
একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থায় আটকে আছে। যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। মার্কিন অবরোধের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে তাদের তেল বিক্রি করা থেকে বিরত রাখা, যাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যেখানে তেল সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় তেহরানকে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে।
অন্যদিকে, প্রণালিটি বন্ধ থাকায় ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এটি তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে, যারা তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এই জলপথ ব্যবহার করে।
অবরোধ অবসানের নতুন দাবি
মধ্যপ্রাচ্যের এ সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে সার, খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে অনেক দেশের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা বাড়ছে। সোমবার নতুন করে অবরোধ অবসানের দাবি করেছে বিভিন্ন দেশ।
ইরানের প্রস্তাবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, তার যুদ্ধে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা।
প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, চলতি সপ্তাহে ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়েছে। ইরানের এই প্রস্তাবের কথা প্রথম প্রকাশ করে সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওস।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়া সফরে রয়েছেন। মস্কো দীর্ঘকাল ধরে তেহরানের প্রধান সমর্থক। রাশিয়া ইরানকে এখন কোনো সাহায্য করবে কি না বা করলে কী ধরনের সাহায্য করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। অপরিশোধিত তেলবোঝাই ট্যাঙ্কারগুলো উপসাগরে আটকা পড়ে আছে, কারণ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ কেন্দ্রে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই।
সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ (অপরিশোধিত তেল) তেলের বাজারদর ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারের উপরে গিয়ে ঠেকেছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময়কার দামের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবিতে অনেক দেশের
বাহরাইনের নেতৃত্বে একটি যৌথ বিবৃতিতে বেশ কিছু দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এই চাপের প্রভাব এখন খালি তেলের ট্যাঙ্কে, খালি তাকে (দোকানের শেলফ) এবং শূন্য থালায় গিয়ে পড়ছে।’
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস কোনো কৌশল ছাড়াই যুদ্ধে নামার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সংঘাতের সমস্যা সবসময় একই রকম; এটি কেবল যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে নয়, আপনাকে এ থেকে বেরোনোর পথও জানতে হবে।’
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল বারোট সব পক্ষেরই সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই এবং আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানে হামলা করার পর এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্রণালি হলো বিশ্বের ধমনী। এগুলো কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
রাশিয়ায় পুতিনের সঙ্গে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকের বৈঠক
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ৭ এপ্রিল করা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন, যার ফলে লড়াই অনেকটা থেমেছে। কিন্তু একটি স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। পুতিন ইরানি জনগণের প্রশংসা করে বলেছেন যে তারা সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য লড়ছেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে।
আরাঘচি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভির একজন সাংবাদিককে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নেতারা এই যুদ্ধে তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি। এ কারণেই তারা আলোচনার জন্য বলছে। আমরা এখন এটি বিবেচনা করছি।’
পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে, তখনই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এ সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদে এই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করেন এবং ফোনে আলোচনার পরামর্শ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তার মতে, ইরান ওমানের সঙ্গে প্রণালিটি ভাগ করে নেয়। তারা এখন ওমানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে যাতে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘টোল’ বা মাশুল আদায়ের একটি ব্যবস্থা চালু করা যায়। তবে ওমানের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মধ্যস্থতার সঙ্গে জড়িত ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান নতুন আলোচনার আগে মার্কিন অবরোধ অবসানের দাবিতে অনড়। পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের মধ্যকার এই বিশাল দূরত্ব ঘুচানোর চেষ্টা করছেন।
তেহরান অনেক ভালো প্রস্তাব দিয়েছে: ট্রাম্প
শনিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি পাকিস্তানে প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করার পর তেহরান একটি অনেক ভালো প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে তার অন্যতম শর্ত হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। অপরদিকে, ইরান দাবি করে আসছে যে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে ফেলতে চায়, যা বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন এবং লেবাননে ২ হাজার ৫২১ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছিল ইরান যুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর থেকে। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ১২ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে ১৫ জন ইসরায়েলি সৈন্য, ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ৬ জন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এই সাময়িক বিরতি সত্ত্বেও উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হিজবুল্লাহ এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় চলা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।
৫৮ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ইরান
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি আজারবাইজান হয়ে মাধ্যমে ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতেও সহায়তা করেছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ড বা বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনা বজায় রাখতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ বিশেষভাবে প্রচার করার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দূতাবাস। এই সাক্ষাৎকারগুলো নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে।
দূতাবাস বলেছে, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তারা আরও উল্লেখ করেছে, এ ধরনের ভুল ও খণ্ডিত বক্তব্য উপস্থাপন দুঃখজনক এবং দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের নীতির পরিপন্থী।
দূতাবাস বলেছে, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করছে। সেই সঙ্গে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খতিবজাদেহর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে দূতাবাস।
তারা জানিয়েছে, দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যকার গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ উদ্যোগগুলো তারা আন্তরিকভাবে এগিয়ে নেবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করবে।
সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেছে ইরান। এ অঞ্চল এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য এই পথটি অপরিহার্য বলে মনে করে দেশটি।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে ‘ইসলামি বিপ্লবের নেতা’ ও ‘মুসলিম উম্মাহর নেতা’ উল্লেখ করে তিনি নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দূতাবাস। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টিকে একটি উল্লেখযোগ্য ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকার ইরান দূতাবাসে রক্ষিত শোকবইয়ে স্বাক্ষর করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতির জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছে ইরান।
বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সমর্থনের প্রশংসা করে ইরান বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী শাসকের অবৈধ আগ্রাসনের’ ফলে সৃষ্ট যুদ্ধে যে সব বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের জন্য তারা গভীর শোক প্রকাশ করছে। সেই সঙ্গে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে দেশটি।
৬৪ দিন আগে
‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ হরমুজ পারাপারে তেহরানকে অনুরোধ ঢাকার
বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন নিরাপদে পার হতে পারে, সেজন্য ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ আহ্বান জানান।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন এবং রবিবার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জানান, পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ (সোমবার) জানিয়েছে, এই বিষয়ে দুই নেতা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবেন। ড. খলিলুর বর্তমানে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস সফর করছেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই উপসাগরীয় অঞ্চলের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান ঘটনাবলি নিয়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সব পক্ষকে সংযম, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে তেহরান সফর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রাকে নিরাপদে যাতায়াতের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কাজে লাগানোর জন্য ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ইরান যখন জাহাজ হরমুজ পাড়ি দেওয়ার অনুমতি পাওয়া ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তখন আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ছিলাম।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অনুসরণ করেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলার জয়যাত্রার পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল বহনকারী বাংলাদেশগামী আরেকটি জাহাজের নিরাপদ যাত্রার সুবিধার্থে অনুরোধ করেন। প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত জানান, এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যথাযথ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বর্তমান সংকটে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পরে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলামকে ইরান দূতাবাসে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার জন্য পাঠানোর জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
ইরানি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর ব্যবস্থা করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি প্রশংসা জ্ঞাপন করেন।
ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর উল্লেখ করেন, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে ইরান থেকে আজারবাইজানে নিরাপদে সরিয়ে নিতে ইরান সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
৬৬ দিন আগে
ইরানি জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র; তীব্র জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের
রবিবার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়ে তা জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড। এদিকে, উভয় দেশের এমন আচরণ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো জাহাজ আটকের ঘটনা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ড এই সশস্ত্র অভিযানকে জলদস্যুতা এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
প্রণালিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, আগামী বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের ঘোষণার বর্তমান অবস্থা কী, তা এখন স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, মার্কিন আলোচকরা সোমবার পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হবেন।
এই অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে গেছে। এর ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ তুসকাকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু তারা না থামলে জাহাজের ইঞ্জিনরুমে বোমাবর্ষণ করে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়। মার্কিন নৌসেনারা বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ওই জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং এর ভেতরে কী আছে, তা দেখছে!
এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি, তবে তারা জানিয়েছে যে, ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার জাহাজটিকে সতর্কবার্তা দিয়েছিল তারা।
৬৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধের ঘোষণা ইরানের
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তারা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আবারও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেওয়ার পর তেহরান এই পদক্ষেপ নিল।
যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর জাহাজ থেকে গুলি চালানো হয়েছে। একটি ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজও এই জলপথে আক্রান্ত হয়েছে।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া যৌথ সামরিক কমান্ডের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার তেহরান প্রণালিটিকে তার পূর্ববর্তী অবস্থায় (বন্ধ) ফিরিয়ে নিয়েছে এবং এটি এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরান থেকে যাওয়া এবং ইরানের দিকে আসা জাহাজগুলো চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে, তবে এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহ এবং আইআরজিসির নৌ কমান্ড এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
শনিবার ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে পারমাণবিক ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গত সপ্তাহের আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু আমাদের মধ্যে এখনও বড় দূরত্ব রয়ে গেছে। কিছু বিষয়ে আমরা অনড়... তাদেরও কিছু রেড লাইন (চরম সীমা) আছে। তবে এই অমীমাংসিত ইস্যুগুলো মাত্র একটি বা দুটি হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের খুব ভালো আলোচনা চলছে। তবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল বা জিম্মি করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধের মিত্র ইসরায়েলের প্রশংসা করে বলেন, অন্য মিত্ররা সংঘাত ও চাপের মুহূর্তে তাদের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। তবে শনিবারের আলোচনার অবস্থা নিয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
আট সপ্তাহে পা দেওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাতটি লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তুরস্কের আন্তালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী খতিবজাদেহ বলেন, ইরান সদিচ্ছা নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সহজ করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অবরোধ চাপিয়ে দিতে পারে না।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইআরজিসির নৌ কমান্ড লিখেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান থেকে আসা-যাওয়া জাহাজের চলাচল হুমকির মুখে থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালির অবস্থা আগের মতোই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে শুক্রবার প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান। এর আগে, ৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, ওমানের উত্তর-পূর্বে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ট্যাঙ্কারকে আইআরজিসির দুটি গানবোট ধাওয়া করে গুলি চালায়। জাহাজের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, এর আগে রেডিওতে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তবে ট্যাঙ্কার ও ক্রুরা নিরাপদ আছেন এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
ইরানের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যার আগের দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ পুরোদমে বহাল থাকবে। ট্রাম্প তখন জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি—যা বুধবার শেষ হওয়ার কথা, তা আর নাও বাড়ানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এর সময় এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। শনিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উভয় পক্ষের মাঝে একটি চুক্তি হতে পারে।
শনিবার সকালে প্রণালিটি সামান্য সময়ের জন্য খোলা থাকার সময় অন্তত আটটি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার এই পথ অতিক্রম করেছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রবিবার জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে লড়াই চলাকালীন তাদের একজন সেনা নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন।
৬৭ দিন আগে
হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ ঘোষণা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আবারও নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
এর এক দিন আগেই (শুক্রবার) বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি খুলে দিয়েছিল ইরান। তবে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর পাল্টে যায় তাদের অবস্থান।
ট্রাম্প বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, বিশেষ করে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত অবরোধ ‘পূর্ণমাত্রায় বহাল থাকবে’।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে... এবং এটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তারা আরও জানায়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত প্রণালিতে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এতে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ বৈশ্বিক সরবরাহে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে যখন ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান।
অন্যদিকে, উত্তেজনা বাড়লেও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২২ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময়সীমার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনও একটি চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
চলমান সংঘাতে ইরানে অন্তত ৩ হাজার জন, লেবাননে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন, ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ডজনখানেকের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্যও নিহত হয়েছেন।
৬৮ দিন আগে