হরমুজ প্রণালি
৬ বাংলাদেশি জাহাজকে হরমুজ পারাপারে অনুমতি দিয়েছে তেহরান
হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজকে পার হয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা পরিষদ।
বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জাহাজগুলোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও ইরান যৌথভাবে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলে পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের কবলে ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের পেতে রাখা ‘ফাঁদে’ পা দেয়নি। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্ররোচনায় সেই ফাঁদে পা দিয়েছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই অঞ্চলের মুসলিমরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
জলিল রহিমি আরও উল্লেখ করেন, ইরান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গত মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান একটি চিঠি লিখেছেন। দুই দেশের সম্পর্ককে ভ্রাতৃপ্রতিম উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান বাংলাদেশকে বন্ধু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং কঠিন সময়ে পারস্পরিক সমর্থন প্রত্যাশা করে।
জাতিসংঘের সনদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এক রাষ্ট্রের ওপর অন্য রাষ্ট্রের আগ্রাসন অবৈধ এবং ইরান এ ধরনের আগ্রাসনের শিকার। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং জাতিসংঘ ও ওআইসির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এই আগ্রাসন এবং নারী ও শিশু হত্যার তীব্র নিন্দা জানাবে বলে প্রত্যাশা করে তেহরান।
২ দিন আগে
জোর করে কেন হরমুজ প্রণালি খুলতে পারছেন না ট্রাম্প?
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থলসেনা উপস্থিতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হরমুজ প্রণালি জোরপূর্বক খুলে দেওয়ার একটি ‘বিপজ্জনক’ সুযোগ করে দিয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ তেহরানের কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও তৈরি করেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের এ প্রণালিটি বন্ধের কৌশলগত অবস্থান তেলের দামকে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে নিয়ে গেছে। ফলে এটি ট্রাম্পের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট একদিকে কূটনৈতিক সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে ইরানে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ মার্চ) ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন যে, তিনি ইরানের তেল দখল করতে চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলতে ট্রাম্পের সামনে দুটি সামরিক পথ খোলা আছে—ইরানের ভূখণ্ড দখল করা অথবা জলপথে নৌবাহিনী মোতায়েন করা। তবে সীমিত স্থল অভিযানও এমন প্রাণহানির কারণ হতে পারে যা একজন প্রেসিডেন্টের গদিও নড়িয়ে দিতে পারে। ইরানের জন্য তাদের মাটিতে বিদেশি সেনার উপস্থিতি একটি ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা।
ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক এমা সালিসবারি মনে করেন, ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের কোনো একটি ইরানি দ্বীপ দখলের মাধ্যমে সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি (ট্রাম্প) আগ্রাসী পথ বেছে নিয়েছেন। সৈন্য হাতে থাকলে তিনি অবশ্যই তা ব্যবহার করবেন, তবে তা ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী হতে পারে।’
অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান একটি কঠোর বার্তা পাঠিয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা ঢুকলে তারা নিজেদের এলাকাতেই ব্যাপক বোমা হামলা করতে পারে, এমনকি অবকাঠামো ধ্বংস করতেও প্রস্তুত রয়েছে।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে তেহরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, তারা একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে ঘালিবাফ বলেন, মার্কিন সেনারা এলে তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বীর সেনারা মার্কিন সেনাদের জন্য অপেক্ষা করছেন, যাতে তাদের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া যায় এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের চিরতরে শিক্ষা দেওয়া যায়।
সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত শনিবার প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনার অর্ধেক অংশ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এরা জল-স্থল উভয় পথেই অভিযানে দক্ষ। আরও প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপার (প্যারাসুট ব্যবহার করে বিমান থেকে নামা বিশেষ প্রশিক্ষিত সৈনিক) পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল ‘খার্গ দ্বীপ’ মার্কিন হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সীমিত সংখ্যক সৈন্য দিয়ে দ্বীপ দখল করা সহজ হলেও তা ধরে রাখা কঠিন হবে। কারণ ইরান তখন রকেট, মিসাইল এবং ড্রোন হামলা শুরু করবে।
আবার বড় ধরনের স্থল অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই সেনা সংখ্যা যথেষ্ট নয়। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন প্রায় দেড় লাখ সেনা মোতায়েন করেছিল। আর ইরানের আয়তন তার তিন গুণেরও বেশি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী এবং আরও ১০ হাজার সৈন্য পাঠানোর কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প আরও একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের কথা বিবেচনা করছেন। তা হলো, ইরানের মূল ভূখণ্ডে ঢুকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দখল করা। তবে এটি করতে বিশেষ বাহিনীর প্রয়োজন হবে।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, আমরা খার্গ দ্বীপ দখল করতেও পারি, আবার নাও পারি। আমাদের অনেক পথ খোলা আছে।
কিন্তু খার্গ দ্বীপটি উপসাগরের অনেক গভীরে হওয়ায় সেখানে লজিস্টিক সহায়তা পাঠানো এবং সৈন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে থাকা কিশ ও আবু মুসার মতো দ্বীপগুলো এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যা দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো রুবেন স্টুয়ার্ট মনে করেন, এই সেনা মোতায়েন মূলত আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার একটি কৌশল বা ‘প্রদর্শনী’ হতে পারে। কারণ সামরিকভাবে কোনো দ্বীপ দীর্ঘসময় দখল করে রাখা মার্কিনিদের জন্য বর্তমান বাস্তবতায় কার্যকর কিছু হবে না।
এছাড়া স্থল অভিযান হলেও ইরানের হুমকি পুরোপুরি দূর হবে না। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক জাহাজে নৌবাহিনীর নিরাপত্তা, মাইন অপসারণ ও আকাশ সহায়তার প্রয়োজন হবে। এ জন্য বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ দরকার, যা যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় মিত্রদের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত মাইন অপসারণকারী জাহাজও নেই।
তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, কারণ ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ইতোমধ্যে সংঘাতে যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তারা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথেও হামলা শুরু করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিরাপদ রাখতে হতে পারে।
৪ দিন আগে
ইরান চুক্তিতে আগ্রহী বলে দাবি ট্রাম্পের, কূটনৈতিক আলোচনার সময়সীমা বৃদ্ধি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে একটি চুক্তির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ইরান। এছাড়া, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানকে দেওয়া সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তির ব্যাপারে ইরানের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালি না খুললে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করা যুদ্ধ নিরসনের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন। তেলের দাম কমাতে এবং শেয়ার বাজারে চাঞ্চল্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে এটি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকির পর ট্রাম্পের এ বার্তা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
ওই হুমকির ফলে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পানীয় জল সরবরাহকারী লোনা পানি শোধনাগারগুলো অকেজো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। তিনি দাবি করেন, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার রবিবার ইরানের একজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি সেই নেতার নাম প্রকাশ না করলেও জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
তবে ইরান আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ভুয়া খবর ব্যবহার করা হচ্ছে।
চুক্তি হলে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছাড়বে ইরান!
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কোনো চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে, যা দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেহরান অতীতে এ ধরনের দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার বলে দাবি করে আসছে।
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও ফিউশন এনার্জি গবেষক অধ্যাপক রবার্ট গোল্ডস্টন জানান, ইরান ইতোমধ্যে ৯টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক মানের ইউরেনিয়াম উৎপাদনের ৯৯ শতাংশ সেন্ট্রিফিউজের কাজ সম্পন্ন করেছে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল।
এদিকে, তুরস্ক ও মিসর জানিয়েছে যে তারা যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলেছে। এটি এই অঞ্চলের শক্তিশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকে সমন্বিত মধ্যস্থতার প্রথম পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে, তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ না সরায়, তবে তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেলের পাঁচভাগের একভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ওয়াশিংটন সময় সোমবার রাতে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা।
ট্রাম্প বলেন, পাঁচ দিনের এই সময়সীমা বৃদ্ধি চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল।
পরবর্তীতে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, তার প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করছে।
ট্রাম্প বলেন, তারা শান্তি চায়। তারা একমত হয়েছে যে, ‘তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি... তবে দেখা যাক কী হয়।’ তিনি আরও জানান, এই সপ্তাহেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর কৃতিত্ব তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ওপর দিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে অবগত আছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিস্তারিত না জানিয়ে সোমবার তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য জানত যে এমন কিছু ঘটছে।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার সম্ভাবনা
এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অতীতেও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে।
সোমবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অবশ্য রবিবার তুর্কি কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফিদান কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিসর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জানিয়েছেন, তার দেশ উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ইরানকে সুস্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সব পক্ষের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মিসরীয় কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এড়ানোর লক্ষ্যে মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বার্তা আদান-প্রদান করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কূটনীতিকও নিশ্চিত করেছেন যে, মিসর ও তুরস্ক উত্তেজনা প্রশমনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, আপাতত মনে হচ্ছে, তারা জ্বালানি বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্প পিছু হটেছেন বলে দাবি ইরানের
ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের পর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ও তাসনিম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে পিছু হটেছেন বলে উল্লেখ করেছে।
তাসনিম নিউজ জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরানে বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ইরানের স্পষ্ট জবাব হলো, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাবে। এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে হরমুজ প্রণালিকে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফেরানো যাবে না বা জ্বালানি বাজারেও শান্তি আসবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড হুমকি দিয়েছে যে, ট্রাম্প হামলা চালালে তারা মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্র এবং আমেরিকানদের অংশীদারত্ব থাকা অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাবে।
এর আগে, কালিবাফ বলেছিলেন, ইরান এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন অবকাঠামোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে, যার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর পানীয় জলের জন্য জরুরি লোনা পানি শোধনাগারও রয়েছে।
রেভল্যুশনারি গার্ডের ঘনিষ্ঠ ফারস নিউজ এজেন্সি এ ধরনের স্থাপনার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে। ইরান ইসরায়েলের ডিমোনা শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত। তবে স্থাপনাটির কোনো ক্ষতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধজাহাজ এবং নৌসেনা মোতায়েন করার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল যেকোনো স্থল অভিযানের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছে, এর ফলে সমস্ত প্রবেশপথে মাইন বিছিয়ে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই, তবে তিনি সম্ভাবনাটি পুরোপুরি উড়িয়েও দেননি। অপরদিকে, ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের স্থল সেনা এ যুদ্ধে অংশ নিতে পারে।
তেহরান ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা
ইসরায়েল সোমবার তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে, অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালাচ্ছে তারা।
শহরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ঠিক কোথায় আঘাত হানা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গেও লড়াই করছে। হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে শত শত রকেট ছুড়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েল বৈরুতের আবাসিক ভবন এবং দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর ওপরের সেতুগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের সেনাপ্রধান জোসেফ আউন সেতুগুলোতে হামলাকে স্থল আক্রমণের পূর্বাভাস বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির কথা বিবেচনা করলেও ইসরায়েল ইরান ও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সামনে আরও হামলা আসছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে ইরানি হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ১০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
১০ দিন আগে
বন্ধ হরমুজ দিয়েই ৯০ জাহাজ পারাপার, লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে ইরান
সামুদ্রিক ও বাণিজ্য তথ্য প্ল্যাটফর্মগুলোর মতে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারসহ প্রায় ৯০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। বিশ্বখ্যাত এ জলপথটি কার্যত বন্ধ থাকলেও ইরান এখনও এর মধ্য দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে যাচ্ছে।
মেরিন ডেটা ফার্ম লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, প্রণালি অতিক্রম করা জাহাজগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই ছিল তথাকথিত ডার্ক ট্রানজিট বা ছায়া জাহাজ, যারা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারি এড়িয়ে চলাচল করে। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার ফলে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোও সফলভাবে এ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম কমানোর আশায় মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে এই প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী প্রণালিটি দিয়ে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল মার্চ মাসের শুরুতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বন্ধ রয়েছে। এ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
তবে বাণিজ্য বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরান ১৬ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির কারণে চীন এখন ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রেডডালের ক্লায়েন্ট ডিরেক্টর কুন কাও বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান যেমন তেলের বাজার থেকে মুনাফা লুটছে, তেমনি নিজের রপ্তানি পথটিও সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে, ১ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে কমপক্ষে ৮৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে ১৬টি ছিল তেলের ট্যাঙ্কার। যুদ্ধের আগে এই পথে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত। এই ৮৯টি জাহাজের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশই ইরান-ঘনিষ্ঠ বলে ধারণা করা হচ্ছে; বাকি জাহাজের মধ্যে চীন ও গ্রিসের জাহাজও রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দেশের জাহাজও এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছে।
পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন করাচি নামক একটি তেলের ট্যাঙ্কার গত রবিবার (১৫ মার্চ) এই প্রণালি অতিক্রম করে। অন্যদিকে, ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার শিভালিক এবং নন্দা দেবী নামক দুটি এলপিজিবাহী জাহাজও ১৩ বা ১৪ মার্চের দিকে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর জাহাজ দুটি পার হতে পেরেছে। ইরাকও তাদের তেলের ট্যাঙ্কারগুলো চলাচলের অনুমতি পেতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে।
লয়েডস লিস্টের এডিটর-ইন-চিফ রিচার্ড মিড বলেন, জাহাজগুলো কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যাতায়াত করছে। এর ফলে ইরান কার্যকরভাবে একটি নিরাপদ করিডোর তৈরি করেছে যেখানে কিছু জাহাজ ইরানি উপকূলের খুব কাছ দিয়ে যাতায়াত করছে।
তবে বিশ্লেষণে এ-ও দেখা গেছে, কিছু জাহাজ হামলার ঝুঁকি কমাতে নিজেদের চীন-সংশ্লিষ্ট বা সম্পূর্ণ চীনা ক্রুচালিত হিসেবে ঘোষণা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিচ্ছে এই জাহাজগুলো।
যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে এখন ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে অবস্থান করছে। ইরান হুমকি দিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের এক লিটার তেলও এই পথ দিয়ে যেতে দেবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে তারা ইরানি তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে প্রণালি পার হতে দিচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানি জাহাজগুলো আগে থেকেই বের হচ্ছিল। বিশ্বের বাকি অংশে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে আমরা তা হতে দিচ্ছি।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল নেটওয়ার্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালালেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি আপাতত দেশটির তেলের অবকাঠামোতে আঘাত হানছেন না।
কুন কাওয়ের মতে, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি বলছে এটি পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং এটি কিছু নির্দিষ্ট দেশের জন্য বেছে বেছে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরানের রপ্তানি এবং তাদের পছন্দের কিছু দেশের চলাচলের জন্য এটি এখনও সচল রয়েছে।
ডাচ ব্যাংক আইএনজির কৌশলবিদ ওয়ারেন প্যাটারসন ও ইভা ম্যান্থি একটি গবেষণা নোটে লিখেছেন, যদি জ্বালানির দাম বাড়িয়ে যন্ত্রণা দেওয়াই ইরানের পরিকল্পনা হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তারা যে সংখ্যক ট্যাঙ্কারকে যেতে দেবে, তা খুবই সীমিত হবে।
১৬ দিন আগে
হরমুজে ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণার পর হামলা বাড়ানোর হুমকি তেহরানের
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণার পর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো মার্কিন স্থাপনাতে হামলার মাধ্যমে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবে। যুদ্ধের শুরু থেকেই তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি প্রায় সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচলের জন্য বন্ধ করে রেখেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) তেহরান এ হামলার হুঁশিয়ারি দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও অন্যান্য অবকাঠামোতেও হামলা চালাচ্ছে ইরান। শনিবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।
শিল্প ও বাণিজ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি জাহাজ সরবরাহ কেন্দ্র আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ আমিরাতে বেশ কিছু তেল বোঝাই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। টেলিভিশনের ফুটেজে সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে।
ইরানের একজন সামরিক মুখপাত্র আরব আমিরাতের জনগণকে বন্দর, ডক এবং মার্কিন ঘাঁটি থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ওই এলাকাগুলো থেকেই ইরানের দ্বীপগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ শনিবার রাতে বলেন, সন্ত্রাসী আগ্রাসনের মুখে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার দেশটির রয়েছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, আরব আমিরাত এই চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার রাখে, তবে আমরা এখনও যুক্তি ও বুদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি এবং সংযম বজায় রেখে ইরান ও এই অঞ্চলের জন্য একটি সমাধানের পথ খুঁজছি।
গত শুক্রবার ইরানের প্রধান তেল রপ্তানিকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারও ইরানে দফায় দফায় হামলা অব্যাহত রেখেছে মার্কিন বাহিনী।
শনিবার রাতে এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন হামলায় ওই দ্বীপের বেশিরভাগ অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে আমরা ‘মজা করার জন্য’ আরও কয়েকবার সেখানে হামলা চালাতে পারি। তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ভালো নয়।
এদিকে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও তেরানকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু হামলা চালিয়েছে। আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানের একটি রেফ্রিজারেটর ও হিটার কারখানায় বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সক্ষমতা এবং শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, অনেক দেশ বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে প্রণালিটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা যায়।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার চেষ্টায় ট্রাম্প আরও বলেন, আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং অন্যরা যারা এই কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা ওই এলাকায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনো সুসংগত কৌশল উপস্থাপন করতে পারেনি। সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, খার্গ দ্বীপে অভিযান চালিয়ে মার্কিন বাহিনী সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোকে নিশ্চিহ্ন করেছে। তিনি বলেন, ভদ্রতার খাতিরে আমি দ্বীপের তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে, ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার জন্য কিছু করে, তাহলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে আমি দেরি করব না।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের ‘উন্মাদ পাপিষ্ঠ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের নেতারা মরিয়া হয়ে আত্মগোপন করেছেন। তারা গর্তে ঢুকেছেন।
হেগসেথ আরও দাবি করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত এবং সম্ভবত ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। ইরান স্বীকার করেছে যে, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি হামলায় ৫৬ বছর বয়সী খামেনি আঘাত পেয়েছেন। তবে তারা বলছেন, তার আঘাত তত গুরুতর নয়।
ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ হওয়া এখন এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। খার্গ দ্বীপ ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত এবং এটিই দেশটির তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই অঞ্চলে আমেরিকার শেয়ার রয়েছে এমন তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার প্রতিবেশী দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্ট ডিরেক্টর আলি ভায়েজ বলেন, ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করছে। তিনি বলেন, কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকে হারিয়েও, এই সরকার বেশ অক্ষত বলে মনে হচ্ছে।
অপরদিকে, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরাক ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। রাতে দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়।
ইরানে বোমা হামলায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ইসরায়েলে ১৩ জন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননেও মানবিক সংকট গভীর হচ্ছে। সেখানে ইসরায়েলি হামলায় ৮০০-র বেশি মানুষ নিহত এবং ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বৈরুত থেকে ওয়াশিংটন সব পক্ষই এখন এক চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়া রোধ করতে শিগগরিই এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে চাইবেন ট্রাম্প।
বিশেষজ্ঞরা এই সপ্তাহের শুরুতে দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, খার্গের দিকে পরিচালিত সামরিক পদক্ষেপ তেলের দাম আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করবে, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে।
চ্যাথাম হাউস থিঙ্কট্যাঙ্কের নীল কুইলিয়াম বলেন, খার্গে হামলার ফলে গত সোমবার আমরা যে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার দেখেছিলাম, তা ১৫০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের জন্য এটি অশনি সংকেত।
১৯ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি ট্রাম্পের আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি বন্দর এলাকা থেকে মানুষকে সরে যেতে বলেছে।
আরব আমিরাতের দুটি বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তেহরান প্রকাশ্যে প্রতিবেশী দেশের যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয় এমন সম্পদের বিরুদ্ধে হুমকি দিল।
তেহরান অভিযোগ করেছে, ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর, ডক ও গোপন আস্তানা ব্যবহার করছে। খার্গ দ্বীপে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান টার্মিনাল রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তেহরান। আরব আমিরাতের যেসব এলাকায় মার্কিন বাহিনী আশ্রয় নিয়েছে, সেসব জায়গা থেকে মানুষকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে, লেবাননে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আমিরাতের ভূমি ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, খার্গ দ্বীপ এবং আবু মুসা দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি স্থান ব্যবহার করেছে। স্থান দুটির একটি হচ্ছে রাস আল-খাইমাহ এবং আরেকটি দুবাইয়ের খুব কাছাকাছি একটি এলাকা।
এই হামলাকে বিপজ্জনক বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, ইরান কোনো জনবহুল এলাকায় আক্রমণ না করার চেষ্টা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের এই দাবির বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই।
অপরদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনো এসব হামলার প্রতিবাদে যুক্তি ও সংযমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারা এখনও চলমান সংঘাতে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ধৈর্য ধরছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের মধ্যে ইরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তবে তারা বলেছে, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা। যদিও কিছু ক্ষেত্রে বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন: বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রে আঘাত হানার ঘটনা দেখা গেছে।
এদিকে আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি কেবল তেহরান ও তাদের মিত্রদের জন্যই বন্ধ থাকবে যারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় তিনি আশা করছেন যে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ হরমুজ প্রণালিকে খোলা ও নিরাপদ রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। এর জবাবে ব্রিটেন জানিয়েছে, নৌযান চলাচল নিরাপদ রাখতে তারা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিদেশি আগ্রাসনকারীদের তাদের দেশ থেকে বের করে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের ওই আহ্বানকে ‘ভিক্ষা চাওয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।
শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা হয়, তবে তারা ওইসব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা চালাতে দুবার ভাববে না।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপে হওয়া হামলায় তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে তাদের দাবি, এই হামলাগুলো একটি বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা, একটি নৌঘাঁটি, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার এবং একটি অফশোর তেল কোম্পানির হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গারকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে সহায়তা করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে বিমানে থাকা ৬ জন সেনা নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহতরা হলেন— মেজর জন এ ক্লিনার (৩৩), ক্যাপ্টেন আরিয়ানা জি সাভিনো (৩১), টেক সার্জেন্ট অ্যাশলি বি প্রুইট (৩৪), ক্যাপ্টেন সেথ আর কোভাল (৩৮), ক্যাপ্টেন কার্টিস জে অ্যাংস্ট (৩০) এবং টেক সার্জেন্ট টাইলার এইচ সিমন্স (২৮)।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম ইরাকে দুই বিমানের এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর এই বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে। অবশ্য ‘মিত্রশক্তির নিয়ন্ত্রিত’ আকাশসীমায় ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্য বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে আরেকটি হামলা
এদিকে, শনিবার বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সের ভেতরে হেলিপ্যাডে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।
ওই দূতাবাস কমপ্লেক্সটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই এই স্থাপনাটি ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ছোড়া রকেট ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।
এ ঘটনার পরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবারও ইরাকে থাকা মার্কিন নাগরিকদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশটি ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট না থাকায় তাদের স্থলপথে ইরাক ছাড়তে বলা হয়েছে।
তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান এবং ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, স্বার্থ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখবে।
১৯ দিন আগে
জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে: ইরান
চলমান উত্তেজনার মাঝেও পরমাণু আলোচনায় নির্দেশিকা নীতিমালা সম্পর্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ কূটনীতিকরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন সতর্ক করেছে যে কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপই বিকল্প।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উভয় পক্ষের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মাঝে ওমানের মধ্যস্থতায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দ্বিতীয় ধাপের এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে আরাগচি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা কিছু নির্দেশনামূলক নীতির ওপর বিস্তৃত সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছি, যার ভিত্তিতে আমরা এগোব এবং সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ শুরু করব।’
তিনি বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুতে ওমানে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের আলোচনার তুলনায় এবার ভালো অগ্রগতি হয়েছে। এখন আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট পথ রয়েছে যা আমি ইতিবাচক বলে মনে করি।’
তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সম্পর্কের ব্যবধান কমাতে যে সময় লাগবে, তা তিনি স্বীকার করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা। আরাগচির বরাত তিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, উভয় পক্ষ যখন চুক্তির খসড়া তৈরি করবে, তখন খসড়া বিনিময় করা হবে এবং তৃতীয় দফা আলোচনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার দেশ কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এ বিষয়ে একটি মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি।
দ্য স্টোরি উইথ মার্থা ম্যাককালাম অনুষ্ঠানে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘কিছু দিক থেকে আলোচনা ভালো হয়েছে। তারা (তেহরান) পরবর্তীতে আবারও বসতে (আলোচনায়) রাজি হয়েছে। কিন্তু অন্য দিক থেকে খুব পরিষ্কার ছিল যে প্রেসিডেন্ট কিছু সীমা নির্ধারণ করেছেন, যেগুলো ইরান এখনো স্বীকার করতে বা তা নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত নয়।’
ভ্যান্স উল্লেখ করেন, ‘আমরা কাজ চালিয়ে যাব। তবে কখন কূটনীতি স্বাভাবিক সীমায় পৌঁছেছে, প্রেসিডেন্টই তা ঠিক করার ক্ষমতা রাখেন।’
চ্যালেঞ্জের সামনে ইরান
বছরের পর বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি চেয়ে আসছে ইরান, যার মধ্যে রয়েছে অন্যান্য দেশ থেকে তেল কেনার ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা।
তেহরান বলেছে, চলমান আলোচনা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ওপর কেন্দ্রীভূত হওয়া উচিত এবং যেকোনো চুক্তিতে ইরানের জন্য বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা থাকতে হবে, পাশাপাশি তাদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বজায় থাকতে হবে।
ওয়াশিংটন চায়, ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। এ ছাড়াও ওয়াশিংটন তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের মতো অপারমাণবিক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনার পরিধি প্রসারিত করার চেষ্টা করেছে।
জবাবে ইরান বলেছে, তারা শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রস্তাব মেনে নেবে না। সেই সঙ্গে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও এই আলোচনার বিষয় নয়।
৪৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা আগে সামরিক মহড়ার জন্য সাময়িকভাবে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ ঘোষণা দেয় তেহরান।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষীয় আলোচনার প্রথম পর্বে ইরানের জলসীমায় বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছিল মার্কিন প্রশাসন। ওই ঘটনার জের ধরেই এবার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অবশ্য প্রণালিটি আসলেও বন্ধ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। কিন্তু ইরানের এমন পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরুর পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং ‘নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক উদ্বেগের’ কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য এটি বন্ধ রাখা হবে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনও কখনও এমন এক ধাক্কা খেতে পারে, যেখান থেকে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’
আলোচনায় ‘নতুন সম্ভাবনার সুযোগ’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেছেন। সেই সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ‘একটি নতুন জানালা খুলে গেছে।’
জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার পর জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আলোচনা একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাবে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এবং বৃহত্তর পরিসরে এই অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’ তবে ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে তার পরিণতি শুধু দেশটির সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও এ সময় হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তবে সামরিক মহড়া বা হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছুই বলেননি আরাগচি।
প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর ইরানের সঙ্গে করা আগের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তিনি বারবার হুমকি দিয়েছিলেন যে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে বাধ্য করার জন্য তিনি শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন। তবে ইরান জানিয়েছে, তেমন কিছু হলে তারাও পাল্টা হামলা চালাবে। ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড ঘিরেও তেহরানকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
‘কিছু দিক দিয়ে’ আলোচনা ভালো হয়েছে
সর্বশেষ পরোক্ষ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। বৈঠকটি জেনেভায় ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী ওমান গত ৬ ফেব্রুয়ারি আলোচনার প্রথম দফার বৈঠকও আয়োজন করেছিল।
জনসমক্ষে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও বহু বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানি প্রতিনিধিদল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও বিস্তারিত প্রস্তাব উপস্থাপন করবে যাতে সমঝোতার পর্যায়ে আসা যায়।
ফক্স নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কথা বলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘কিছু দিক থেকে আলোচনা ভালোই হয়েছে। তবে অন্য দিক থেকে এটা স্পষ্ট যে প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) কিছু বিষয়ে কঠোর সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন, যা ইরান এখনও স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ও বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের দূতদের মধ্যেও আলোচনার আয়োজন করে। প্রতিবেশী ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানি পক্ষের নেতৃত্বদানকারী আরাগচি জানান, তিনি সোমবার জেনেভায় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইরানের মন্ত্রী বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।
৪৪ দিন আগে