রবিবার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়ে তা জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড। এদিকে, উভয় দেশের এমন আচরণ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো জাহাজ আটকের ঘটনা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ড এই সশস্ত্র অভিযানকে জলদস্যুতা এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
প্রণালিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, আগামী বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের ঘোষণার বর্তমান অবস্থা কী, তা এখন স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, মার্কিন আলোচকরা সোমবার পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হবেন।
এই অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে গেছে। এর ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ তুসকাকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু তারা না থামলে জাহাজের ইঞ্জিনরুমে বোমাবর্ষণ করে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়। মার্কিন নৌসেনারা বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ওই জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং এর ভেতরে কী আছে, তা দেখছে!
এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি, তবে তারা জানিয়েছে যে, ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার জাহাজটিকে সতর্কবার্তা দিয়েছিল তারা।