তাজওয়ার এম আউয়াল
প্রাণ ফিরে পেল দাগনভূঞার দাদনার খাল
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পানি প্রবাহহীন হয়ে পড়া দাগনভূঞার দাদনার খাল অবশেষে দখল ও দূষণমুক্ত হয়ে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সম্প্রতি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে খালটিতে আবারও স্বচ্ছ পানির প্রবাহ দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ময়লার স্তুপ জমে থাকায় খালটির পানি চলাচল বন্ধ ছিল। সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল খালের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে নেয়। চলতি বছরে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন খালটি দখলমুক্ত করলেও ময়লার স্তূপের কারণে সেটি কার্যত ‘মৃত’ অবস্থায় পড়ে ছিল।
নির্বাচনের আগে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাজওয়ার এম আউয়াল খালটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন এবং ‘ফুটস্টেপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করেন কাজটি করার জন্য। প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করলেও নির্বাচনি আচরণবিধির কারণে উপজেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে কাজ স্থগিত করে। সে সময় তাজওয়ার আউয়াল নির্বাচনের পর খালটি পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ফুটস্টেপ টিম টানা পাঁচ দিনের পরিশ্রমে ময়লা অপসারণ করে খালটিকে পরিষ্কার করে। ফলে দখল ও দূষণে ভরাট হয়ে থাকা দাদনার খালে আবারও স্বচ্ছ পানির প্রবাহ শুরু হয়েছে।
দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী ও পৌর এলাকার বাসিন্দা আজমুল হক সুমন এ খাল পরিষ্কার করায় তাজওয়ার আউয়ালকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ খাল ভরাট থাকার কারণে বর্ষাকালে দাগনভূঞা পৌর এলাকায় পানি জমাট বেঁধে থাকত। বাজারের পানি নিষ্কাশনেও দীর্ঘ সময় লাগত। যার কারণে পৌর এলাকার বাসিন্দা ও বিশেষ করে ফাজিলেরঘাট রোডের ব্যবসায়ীরা পানিবন্দি থাকতে হতো দীর্ঘ সময় ধরে। এ খাল পরিষ্কারের ফলে আমরা এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাব। আশা করি, এ খাল যেভাবে তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে, তা আর কখনও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হবেনা এবং দখল হবেনা—সেদিকে মন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টি থাকবে।
দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটন বলেন, বাজার ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবী ছিল দাদনার খাল দখল ও দূষণমুক্ত করা। উপজেলা প্রশাসন দখলমুক্ত করলেও খালটি মৃত অবস্থায় ছিল। আর এ মৃত খালকে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ায় তাজওয়ার এম আউয়ালকে দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। একইসঙ্গে আমাদের দাবী থাকবে, ভবিষ্যতে কোনো প্রভাবশালী মহল যেন এ খাল দখল করতে না পারে, খাল পরিষ্কারের কাজ যেন চলমান থাকে। এছাড়া আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আরও একটা দাবী জানাচ্ছি যে, এ খালকে যেন পুরোপুরি সংস্কার করে একটি সুন্দর লেক ও খালেরপাড়ে ওয়াকওয়ে করে দেন।
খাল পরিষ্কার প্রসঙ্গে তাজওয়ার এম আউয়াল বলেন, আমি যখন দাগনভূঞা বাজার যাই তখন ময়লাভর্তি খালটি আমার নজরে আসে। তখন সঙ্গে সঙ্গে আমি রাজধানীর ফুটস্টেপ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ফোনে অনুরোধ করি খালটি পরিষ্কারের জন্য। তারা আমার অনুরোধে খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে হওয়ায় সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আচরণবিধি সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে কাজ স্থগিত রাখতে বলেন। কাজ বন্ধ হওয়ায় সবাই হতাশ হয়ে পড়ে। তখন আমি বলেছিলাম, নির্বাচনের পরেই আমরা খালটি পরিষ্কার করে দেব। সে অনুযায়ী খাল পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করি। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কাজ অব্যাহত থাকবে।
৬ ঘণ্টা আগে