ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিন বাড়ছে: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ছে। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে দুপক্ষই সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র।
শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এসব কথা জানান। এক্স পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানান, যুদ্ধের বিষয়ে আরও অগ্রগতি আনতে ১৬ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হবে।
পিগট জানান, আগামী ২-৩ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পুনরায় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করবে ইসরায়েল ও লেবানন। এর আগে তাদের সামরিক প্রতিনিধিরা ২৯ মে পেন্টাগনে নিরাপত্তা আলোচনা শুরু করবেন।
দুই দেশ বৃহস্পতি (১৪ মে) ও শুক্রবার (১৫ মে) এখানে তৃতীয় দফা সরাসরি আলোচনা করেছে, যাকে পিগট ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থার খবরে জানা গেছে, শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে কমপক্ষে ৯ জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন, সৈন্য, সামরিক বুলডোজার এবং একটি মেরকাভা ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৯৫১ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৯৮৮ জন আহত হয়েছেন।
১ দিন আগে
লেবাননের মহাসড়কে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, নিহত ৮
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণের একটি মহাসড়কে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে এক নারী ও তার দুই সন্তানও রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ মে) তিনটি গাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননেরর কয়েকটি এলাকায় হিজবুল্লার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, মহামলার কয়েক ঘণ্টা আগে তারা দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ওয়াশিংটনে আরেকটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এই প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে দেশটিতে ইসরায়েলর তিনটি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে মহাসড়কে চালানো এ হামলায় কোন গাড়িতে কতজন নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি তিনটি ড্রোন হামলার মধ্যে দুটি হামলা বৈরুত থেকে দক্ষিণের একটি মহাসড়কে চালানো হয়। মহাসড়কটি বৈরুতের সঙ্গে বন্দরনগরী সিডনকে সংযুক্ত করেছে। অপরদিকে, তৃতীয় হামলাটি সাদিয়াত শহরের ব্যস্ত মহাসড়কে চালানো হয়।
এ ছাড়াও, সিডনের উত্তরে বুধবার দুপুরের দিকে আরেকটি হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সে সময় তারা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক আলোকচিত্রী লেবাননের উপকূলীয় শহর বারজা ও জিয়েহর কাছে এই দুটি হামলায় নিহত তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়েছেন।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারাও ইসরায়েলের দিকে হামলা চালাচ্ছে।
গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হিজবুল্লার মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ শুরু হয় ২ মার্চ। এর দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এরপর হিজবুল্লা উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন স্থানীয় সময় গতকাল (মঙ্গলবার) সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩৮০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১২২ জন আহত হয়েছেন।
এ নিয়ে যুদ্ধ শুরু সময় থেকে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮২ জনে। এর পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৭৮৬ জন।
৪ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৫
হরমুজ প্রণালিতে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যে নৌযানগুলোকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বলে দাবি করছে, সেগুলো আসলে যাত্রীবাহী নৌকা ছিল।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের করা এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি করেছে। ব্র্যাড কুপার বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার সময় তাদের মিশনে বাধা দেয় আইআরজিসির ৬টি নৌযান। সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী ওই নৌযানগুলোকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানে ৭টি নৌকায় তারা হামলা চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে পরিচালিত মার্কিন অভিযান নাজুক এই যুদ্ধবিরতিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। এ অভিযানের ফলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কমান্ডারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসির নৌযানে হামলা করেছে, এমন দাবি তোলার পর তেহরান তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে দেখা গেছে, মার্কিন হামলায় আইআরজিসির কোনো নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) দুটি যাত্রীবাহী ছোট নৌকা ওমান উপকূলের খাসাব থেকে ইরানের উপকূলে যাচ্ছিল। পথে মার্কিন বাহিনী নৌকা দুটিতে হামলা চালায়।
ওই সামরিক কমান্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নৌকাগুলো ঘটনাস্থলে ধ্বংস হয়ে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা ৫ জন বেসামরিক যাত্রী নিহত হন।
তিনি দাবি করেন, ‘এই অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
ইরানের এই অভিযোগের পর তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তেহরান এই জলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এদিকে, ইরান এখন কঠোরভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হরমুজ প্রণালির যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি পূরণ করতে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনী বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানায়, অনুমতি ছাড়া এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আরও জানানো হয়, মার্কিন বাহিনী যদি এই জলপথের কাছে আসে বা প্রবেশ করে, তাহলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল। ইরান জাহাজটির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়াও ইরানি সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত ভূখণ্ডে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের এসব হামলায় পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আমিরাত ফুজাইরাহর একটি বড় তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থান করা দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ এইচএমএম নামুও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, একটি বিস্ফোরণে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন লেগে গিয়েছিল।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেসট্রয়ারের সহায়তায় সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ‘ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় উপসাগর ছেড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, সোমবার হরমুজে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় হামলার ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, চলমান রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে অশুভ শক্তির প্ররোচনায় আবারও সংকটে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও ইরানের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম পরিচালনাকারী মার্কিন জাহাজে হামলা হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আগের চেয়ে এখন আমাদের কাছে অনেক বেশি উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাটি আছে। এসব ঘাটিতে বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা সেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করব।
১২ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে ৩ শতাংশে
ইরান যুদ্ধে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে গোটা ইউরোপ। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় ভোক্তা ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট জানায়, জ্বালানি তেলের দাম শতকরা ১০.৯ শতাংশ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ।
সংস্থাটির জরিপ মতে, ইউরো ব্যবহারকারী ২১টি দেশের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি মার্চে ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে চলতি মাসে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, ৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে যা ছিল ৭৩ ডলারে কাছাকাছি। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম থেকেই ইউরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল হতাশাজনক।
গোটা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহনকারী হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে আগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সারা বিশ্বে তেল সরবরাহ করা হতো। তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি দ্রুতই পেট্রোল পাম্প এবং বিমান জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির এই সমস্যা ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ সৃষ্টি করতে পারে বলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ হলো এমন একটি বিরল ও জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যেখানে একইসঙ্গে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি (দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি) ও ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়।
ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতির এই বৃদ্ধি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এটি এমন সময়ে ঘটছে যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ায়, কিন্তু এতে ঋণের খরচ বেড়ে গিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতে পারে। যদি মুদ্রাস্ফীতি সাময়িক বলে মনে হয়, তবে সাধারণত এটিকে উপেক্ষা করা হয়, কারণ সুদের হার পরিবর্তনের প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে কয়েক মাস সময় লাগে।
অন্যদিকে, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেরি করে এবং মুদ্রাস্ফীতি খাদ্য, শিল্পপণ্য ও মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থায়ীভাবে ঢুকে যায়, তাহলে পরে কঠোর সুদবৃদ্ধির মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সপ্তাহে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ উভয়ই তাদের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও আজ (বৃহস্পতিবার) একই সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন একপ্রকার স্থবির অবস্থায় রয়েছে। তারা মুদ্রাস্ফীতির এই ঢেউ অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলছে, তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
১৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল না আসলেও মধ্যস্থতা এগিয়ে যাচ্ছে: ইসলামাবাদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেছেন। তবে পাকিস্তানের নেতারা রবিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছেন তারা।
মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেছেন, পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উল্লেখযোগ্য ব্যবধান ঘোচাতে কাজ করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা শুরুর আগে নিজেদের বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিতে তেহরান এখনও অটল রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তার শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে এই সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘ওরা যদি কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!’
ইরানের আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয় এবং ইরান এই জরুরি জলপথে চলাচল সীমিত করে রেখেছে।
সোমবার ভোরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ চলাকালে তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজ ফিরিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বেড়েছে তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আবারও থমকে যাওয়ায় রবিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট রবিবার ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার পর থেকে ২ শতাংশ বেশি। এই দাম ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের দামের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি ছিল।
ব্রেন্ট ক্রুড (অপরিশোধিত তেল) রবিবার ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবারের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪৮ শতাংশ বেশি। যুদ্ধ শুরুর সময় তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার।
রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে একটি সংক্ষিপ্ত সফর করেছেন। এর মাত্র একদিন আগেই তিনি শহরটি ছেড়ে গিয়েছিলেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
ইসলামাবাদে সর্বশেষ এই তিন ঘণ্টার সফরের আগে তিনি হরমুজ প্রণালির অপর প্রান্তে অবস্থিত ওমানে গিয়েছিলেন। এরপর রবিবার গভীর রাতে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য পাকিস্তানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি, তবে পাকিস্তান মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পরোক্ষ আলোচনা এখনও চলছে।
আরাঘচির এবারের অনাড়ম্বর সফরটি তার আগের সফরের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন ছিল। আগের সফরে তিনি পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং ওই অঞ্চলে সংঘাত নিরসনে তেহরানের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা ফোনে কথা বলতে পারেন: ট্রাম্প
ফক্স নিউজ চ্যানেলে রবিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রতিনিধিদলকে ১৭ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইটে পাঠানোর চেয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তই (ফোনে কথা বলা) নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সব তুরুপের তাস আমাদের হাতে। তারা যদি কথা বলতে চায়, তবে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে অথবা আমাদের কল করতে পারে।’
শনিবার তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক পাকিস্তান ত্যাগ করার পর আলোচনা ভেস্তে গেছে বলে মনে হচ্ছিল। এর পরপরই ট্রাম্প জানান যে, তিনি প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফর না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ন্যাটো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন যে, তিনি এই সামরিক জোটের ওপর খুবই হতাশ। ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর সদস্য দেশগুলো তার সহায়তার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই জোট ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে তাদের সেবা দিয়ে আসছি, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করছি; অথচ যখন আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হলো তখন তাদের পাওয়া যায়নি। তাই আমাদের বিষয়টি মনে রাখতে হবে।’
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার ভোরে জানিয়েছে যে, ইরানের ওপর চলমান অবরোধের সময় তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে কামান ও বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াই তীব্র হওয়ায়, তারা তথাকথিত ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন’-এর উত্তরে হিজবুল্লাহ এবং রকেট লঞ্চার ও অস্ত্রাগারসহ বিভিন্ন অস্ত্রাগারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০৯
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রবিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানিয়েছে যে, গত ২ মার্চ শুরু হওয়া সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধে ৭ হাজার ৭৫৫ জন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে আক্রমণ করার দুই দিন পর হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ১৭ এপ্রিল কার্যকর হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
রবিবার ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যেকার যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
হিজবুল্লাহ বলেছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তাদের এই হামলা ‘একটি বৈধ জবাব।’
বাহিনীটি লেবাননের কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা করে বলেছে, ‘তারা নিজেদের এক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে যখন তারা এমন একটি জবরদখলকারী ও অবৈধ সত্তার প্রতিনিধিদের পাশে লজ্জাজনকভাবে ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে সত্তা লেবাননের ভূমি ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এবং তার জনগণকে হত্যা অব্যাহত রেখেছে।’
শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন ইরান ও কাতারের শীর্ষ কূটনীতিকরা
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার জন্য তার দেশের সর্বশেষ উদ্যোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে কাতারের শীর্ষ কূটনীতিককে অবহিত করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার কাতারের শীর্ষ কূটনীতিক শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য কূটনৈতিক সমন্বয়ের গুরুত্ব দুই মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে আরাঘচি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন।
কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা নিয়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক পৃথক আলোচনায় যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং এর মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক পথের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন আবদেলাত্তি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে, বলছেন বিশ্লেষকরা
পাকিস্তানের স্বাধীন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বলেছেন, এই সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় ট্রাম্পের দূত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদ আলোচনার দ্বিতীয় দফার বিলম্বকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়, তা সঠিক পথেই রয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা রাতারাতি প্রশমিত করা সম্ভব নয় এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার জন্য উভয় পক্ষের প্রজ্ঞা ও ধৈর্য প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এটি একটি সংবেদনশীল ও জটিল প্রক্রিয়া এবং এতে উত্থান-পতন থাকবে, যা এ ধরনের বিষয়ে স্বাভাবিক। তবে ভালো দিকটি হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষই এমনভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী, যাতে নিজ দেশে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে
রবিবার দুজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনও চলছে।
ওমানে একটি সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরপর দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো রবিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার আরাঘচি ইসলামাবাদে ছিলেন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসানের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ তুলে নিতে বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বরাতে দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে রাখলে তার দেশ কোনো আলোচনায় বসবে না।
আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী এই ফোনকলটিকে একটি আন্তরিক ও গঠনমূলক আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার পাকিস্তানি সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে তার একদিনের সফর শেষ করেছেন।
ট্রাম্প তার দূতদের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করার পর, আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় এই সফর কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
২০ দিন আগে
ইরান আলোচনায় বসলে মার্কিনিদের নেতৃত্ব দেবেন জেডি ভ্যান্স
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ঘনিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে তেহরান পুনরায় আলোচনায় বসতে রাজি হলে মঙ্গলবার একটি মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ দলের প্রধান হিসেবে থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জারেড কুশনারও পাকিস্তান যাবেন।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এখনও একটি গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। তেহরান মার্কিন কর্মকর্তাদের অগঠনমূলক এবং পরস্পরবিরোধী সংকেত নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা মনে করছে, এটি তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ইরানিরা শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে না।
তবে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তেহরান আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে। খবর পাওয়া গেছে যে, ভ্যান্স উপস্থিত থাকলে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আবারও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ থাকতে পারেন।
গালিবাফ পরে বলেন, হুমকির মুখে থাকা অবস্থায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা অংশ নেবে না। মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা রণক্ষেত্রে নতুন কার্ড (তুরুপের তাস) উন্মোচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ, ট্রাম্প তার নিজস্ব কল্পনায় এই আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চাইছেন অথবা নতুন করে যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছেন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, ট্রাম্প তার সেই পুরনো দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং এমনকি ইরানি নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এবং তার দল এখনই রওনা হচ্ছে এবং সেদিন সন্ধ্যায় তারা ইসলামাবাদ পৌঁছাবে—এমন কথা বলে পরিস্থিতি কিছুটা বিভ্রান্তিকর করে তুলেছিলেন। অবশ্য পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যদিও সোমবার ভ্যান্সের রওনা হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট আসলে মঙ্গলবার সকালে রওনা হবেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের এই দ্বিতীয় দফা আলোচনা আগামীকাল (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকিও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এখন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন সময় বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হবে। ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি করার সুযোগ দিতে তিনি বিরতির সময় আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়েছেন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এর পরেই পুনরায় বোমা হামলা শুরু হতে পারে। তবে তিনি এও বলেছেন, আমি তাড়াহুড়ো করে কোনো খারাপ চুক্তি করব না। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ব্যর্থ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। তবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে এবং তাদের ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করার দাবিতে রাজি হয়নি বলে আলোচনা ভেস্তে যায়।
ইরানিরা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাসের ঘাটতি রয়ে গেছে এবং তারা এই নিশ্চয়তা চেয়েছিল যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছালে তাদের ওপর আর হামলা করা হবে না। যদিও পাঁচ সপ্তাহের যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানে ইরানে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়েছে, তবে তেহরানের নেতৃত্ব বিশ্বাস করে না যে তারা পরাজিত হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তান রবিবার থেকেই সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে; দেশটির রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণপরিবহন চলাচল স্থগিত করেছে। ইসলামাবাদের বিদ্যুৎ বোর্ডও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আলোচনা চলাকালীন শহরে লোডশেডিং বন্ধ রাখা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক হরমুজ প্রণালি দ্বিমুখীভাবে বন্ধ রাখার ফলে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে পাকিস্তানের শহরগুলোতে দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর টোল আদায়ের ইরানের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিলেন। গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করে, যা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার পথে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তুসকা নামক জাহাজটির ক্রুরা ছয় ঘণ্টা ধরে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর সেটিকে জব্দ করা হয়। একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার থেকে গোলাবর্ষণ করে জাহাজের ইঞ্জিন বিকল করে দেওয়া হয় এবং এরপর হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে ইউএসএস ত্রিপোলির মেরিন সেনারা জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ইরান শুক্রবার সাময়িকভাবে তাদের অবরোধ তুলে নিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার না করায় শনিবার তারা পুনরায় তা কার্যকর করে। শনিবার ওই অঞ্চলে একটি ট্যাঙ্কারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হামলা চালায় এবং দ্বিতীয় একটি কন্টেইনার জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবারে ১৮টি জাহাজ চলাচল করলেও সোমবারে মাত্র তিনটি ট্যাঙ্কার প্রণালি পার হয়েছে। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ ডলার বেড়ে ৯৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ওই অঞ্চলে নতুন করে তৈরি হওয়া বিপদেরই প্রতিফলন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। গত সপ্তাহে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটিই দেশ দুটির মধ্যে প্রথম আলোচনা হবে।
এদিকে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের সীমান্ত-সংলগ্ন একটি অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে বলেছে এবং লিটানি নদী এলাকার কাছাকাছি না যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ওই এলাকায় নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে দেশটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর পোস্ট করা একটি মানচিত্রে সীমান্তের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকার ভেতরে থাকা ২১টি গ্রামের ওপর দিয়ে একটি লাল রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে।
২৬ দিন আগে
উপহাস করে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখান করল ইরান
সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন এক কর্মকর্তা। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এই কূটনৈতিক চালকে উপহাস করে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও হামলা চালিয়েছে।
প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছেন, টানা এক মাস ধরে বিধ্বংসী এই আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে একটি আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছে ইসলামাবাদ।
যুদ্ধচলাকালীন বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দখল করেছে। ফলস্বরূপ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজার অস্থির হয়ে পড়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা পাঠানো অব্যাহত
এসব পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ জন ব্যক্তি দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের অন্তত ১ হাজার সেনা সদস্যকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগন আরও দুটি মেরিন ইউনিট মোতায়েনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই দুটি মেরিট ইউনিট মোতায়ন করা হলে ওই অঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার মেরিন এবং হাজার হাজার নৌসেনা যুক্ত হবে। ওই ব্যক্তিরা আরও বলেন, এই পদক্ষেপগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন ট্রাম্প ভবিষ্যতে কী করবেন সে বিষয়ে নিজেকে ‘সর্বোচ্চ নমনীয়তা’ দেওয়ার জন্যই এই কৌশল নিচ্ছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। তবে ইরানের নিয়মিত আধাসামরিক রেভল্যুশনারি গার্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স ইঙ্গিত দিয়েছে যে এরকম কোনো আলোচনা চলছে না।
এ প্রসঙ্গে সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, ‘তোমাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন তোমরা নিজেদের সঙ্গেই নিজেরা আলোচনা করছ?’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় জোলফাঘারি বলেন, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমারা আমাদের সিদ্ধান্তে অটুট থাকব। আমরা কখনোই তোমাদের সঙ্গে সমঝোতা করব না; এখনও নয় এবং ভবিষতেও নয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে বিস্মিত ও যথেষ্ট অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলের নতুন বড় পরিসরে হামলা
সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে তর্ক-বির্তকের মাঝে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তারা ইরানের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে। ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কাজভিনের প্রত্যক্ষদর্শীরা ইতোমধ্যে একটি বিমান হামলার খবর জানিয়েছেন।
এদিকে ইরান হামলা চালানোয় ইসরায়েলে বুধবার ভোর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। গত মাসের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান তার উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও চাপ বজায় রেখেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে অন্তত আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতার সাইরেন শোনা গেছে।
কুয়েত জানিয়েছে, তারা একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে, তবে একটি ড্রোন কুয়েত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে আগুন লেগে যায় বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
আলোচনার পথে বড় চ্যালেঞ্জ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও জটিল।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কার হাতে আলোচনা করার ক্ষমতা রয়েছে বা কে আলোচনা করতে আগ্রহী হবেন—তাও স্পষ্ট নয়; বিশেষ করে ইসরায়েল যখন দেশটির নেতাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর সন্দেহ রয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র দুইবার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাটি চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, আমরা এখনই আলোচনা করছি। এতে উইটকফ, কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের অনেকেই এতে কাজ করছেন। অন্যপক্ষও চুক্তি করতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দপ্তর জানিয়েছে, তিনি এ সপ্তাহে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এক সামরিক মুখপাত্রও বলেছেন যে যুদ্ধ চলবে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি বলেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় অটল রয়েছে এবং পূর্ণ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।
মিসরের এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আস্থা তৈরির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আনার চেষ্টা চলছে। এতে ইসরায়েল জড়িত নয়।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা ঠেকানোই এখন অগ্রাধিকার। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর একটি প্রক্রিয়া নিয়েও কাজ চলছে।
আলোচনার সম্ভাবনার খবরে কিছু সময়ের জন্য তেলের দাম কমলেও পরে আবার বাড়তে থাকে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম মঙ্গলবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে ওঠে, যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
৫৩ দিন আগে
জ্বালানি সাশ্রয়ে শ্রীলঙ্কায় বুধবার ছুটি ঘোষণা, এশীয় দেশগুলোতে নানা পদক্ষেপ
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা প্রতি বুধবার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ঘোষণা করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে বলেন, আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে আমরা ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়ায় প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল আসত। যুদ্ধের কারণে সেই পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। সর্বশেষ দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শীলঙ্কাও জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশটিতে আরও একদিন সাপ্তাহিক ছুটি বাড়াল। গত বছর এ প্রণালিটি দিয়ে প্রবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোতে আসে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে এশিয়াজুড়ে নানা পদক্ষেপ
সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার অন্যান্য দেশও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
থাইল্যান্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ওপর নির্ভরতা কমাতে স্যুট ছেড়ে ছোট হাতার টি-শার্ট পরার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।
এছাড়া মিয়ানমারে লাইসেন্স প্লেট নম্বরের ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগত যানবাহনগুলোকে একদিন অন্তর চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রমজানের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে। দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং চালু করা হয়েছে।
ফিলিপাইনে সরকারি কর্মকর্তাদের সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সরকারি খরচে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছেন। ক্রমবর্ধমান তেলের দামের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মার্কোস রিকশাচালক, কৃষক এবং জেলেদের জন্য ৫০ থেকে ৮৪ ডলার নগদ সহায়তার ঘোষণাও করেছেন।
ভিয়েতনামে নাগরিকদের বেশি করে বাড়িতে অবস্থান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া সাইকেল চালানো, গণপরিবহন ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার আরও কিছু পদক্ষেপ
শ্রীলঙ্কার এ নতুন চার দিনের কর্মদিবস স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে স্বাস্থ্য ও ইমিগ্রেশনের মতো জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে। সরকারি অফিস যেন টানা তিন দিন বন্ধ না থাকে, সেজন্য শুক্রবারের পরিবর্তে বুধবারকে ছুটির দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গাড়িচালকদের এখন ন্যাশনাল ফুয়েল পাসের জন্য নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি কেনা সীমিত করা বা রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার জ্বালানি কেনা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ কোটা ব্যবস্থা অনেক লঙ্কান নাগরিকের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। ২০২২ সালে দেশটির চরম অর্থনৈতিক সংকটের সময় প্রথম এই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
গত মাসের শেষ দিকে ইরানের ওপর হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
৬১ দিন আগে
আহত হওয়ার গুঞ্জনের মধ্যে ‘নিরাপদে আছেন’ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
ইরানে চলমান যুদ্ধের মধ্যে আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি নিরাপদে এবং সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন ইরান সরকারের এক উপদেষ্টা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান তার ইনস্টাগ্রামে অনুসারীদের উদ্দেশে বলেন, তিনি মুজতবা খামেনির বিষয়ে জানতে বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে সেখান থেকে তিনি নিশ্চিত হন যে মুজতবা খামেনির কোনো শারিরীক ক্ষতি হয়নি।
এর আগে, দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনিকে রমজান যুদ্ধের একজন আহত প্রবীণ যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে সেখানে তার আঘাতের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য বলা হয়নি।
৬৭ দিন আগে
আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়, আলোচনায় ফেরার আহ্বান কাতারের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের শত্রু না। এভাবে হামলা চলতে থাকলে কাতার ও ওমান আর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে না।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ বিন আল-খুলাইফি বলেছেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর যে হামলা চালাচ্ছে, তা কারও জন্যই কোনো উপকার বয়ে আনবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো বোমা হামলার জবাবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিনির্ভর আঞ্চলিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এ পরিস্থিতি নিয়ে কাতার অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন আল-খুলাইফি। তিনি বলেন, বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে কাতারের মানুষ গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যে পরিস্থিতিতে দাড়িয়ে আছি, তা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা বিশ্বাস করি, একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের পথ হলো আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা।’
দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাতারের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন অযৌক্তিক ও উস্কানিমূলক হামলাকে দোহা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানায়। এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের সুরক্ষার জন্য সবধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেবে কাতার।
আল-খুলাইফি বলেন, এই সংঘাতের একটি বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন, যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। কারণ চলমান সংঘাতের কারণে সেখানে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরান কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যারা অতীতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া এই দেশগুলো পূর্বে ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করেছে। তবে হামলা চলতে থাকলে কোনো দেশই আর চুপ করে বসে থাকবে না বলেও জানান তিনি।
আল-খুলাইফি জানান, কয়েক দিন আগে ইরানের সঙ্গে ফোনালাপে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল তানি তেহরানকে এই বিষয়গুলোই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। সে সময় তিনি ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে আল-খুলাইফি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানে শত্রু নয়। কিন্তু ইরান এই বিষয়টি বুঝতে পারছে না।’
তিনি আরও জানান, কাতার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সহযোগী কূটনীতিকদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের পথ সব সময় খোলা রয়েছে। আমরা সবসময় শান্তির পথকে উৎসাহিত করি এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত সমাধানের পক্ষে থাকি।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে এই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত দেশগুলো একটি সমাধানের পথ খুঁজে পাবে, সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং তারা আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে।’
৬৭ দিন আগে