সম্মানী
সরকার প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের নাগরিকদের দুর্বল করে রাখা হলে রাষ্ট্র কখনও শক্তিশালী হতে পারে না। তাই সরকার প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি নাগরিককে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই যার যার অবস্থানে থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলে রাষ্ট্র সব দিক থেকে এগিয়ে যাবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এবং মন্দিরের পুরোহিতসহ বিভিন্ন স্কলার ও ধর্মগুরুরা অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে এমন সব মানুষ একত্রিত হয়েছেন, যাদের মানুষ কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সম্মান করে। জীবনের কঠিন মুহূর্তে যাদের কাছ থেকে মানুষ পরামর্শ প্রত্যাশা করে।
তিনি বলেন, এখানে যেমন ইসলাম ধর্মের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনরা রয়েছেন, তেমনি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের পুরোহিত, সেবায়েত এবং বিহার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষরাও উপস্থিত আছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তা কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য দূর করে আমরা সবাই মিলে ভালো থাকব—জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। বিএনপি সরকার গঠনের পর ভোটের কালি নখ থেকে মোচনের আগেই আমাদের প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।
তিনি বলেন, নারীদের জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। আগামী ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’-এর পাইলট প্রকল্প চালু হবে এবং ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে।
সরকারপ্রধান বলেন, আজ (শনিবার) থেকে চালু হলো খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। যাদের প্রয়োজন, পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে এই সহায়তার আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে করে আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা তাদের তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে; কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।
তারেক রহমান বলেন, নাগরিকদের দুর্বল করে রেখে রাষ্ট্র কখনও শক্তিশালী হতে পারে না। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্য দিয়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তবে নাগরিকদেরও রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে