আলি লারিজানি
ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা লারিজানি নিহতের দাবি
ইসরায়েলের রাতভর হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তবে এ দাবি সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি ইরান।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে লারিজানির পাশাপাশি বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিও নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ইরানের “সন্ত্রাস ও নিপীড়ক” শাসনের নেতৃত্বকে খুঁজে বের করে অভিযান অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী (নেতানিয়াহু) ও আমি আইডিএফকে (ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী) নির্দেশ দিয়েছি।’
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বে ‘দ্রুত পরিবর্তন’ ঘটছে এবং সাম্প্রতিক হামলায় শীর্ষ দুই নেতাকে হত্যার মাধ্যমে সেই প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর পাইলট ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এ সময় প্রশংসা করেন তিনি।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, একটি গোপন আস্তানায় লারিজানি ও তার ছেলের উপস্থিতির খবর পেয়ে হামলা চালানো হয়। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
লারিজানির নিহত হওয়া দাবিসহ বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আলি লারিজানি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) প্রভাবশালী সচিব ছিলেন। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাকে এ পদে নিয়োগ দেন। তিনি দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
লারিজানি ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ১২ বছর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন। এর আগে ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির প্রধান পারমাণবিক আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একসময় পার্লামেন্টে প্রিন্সিপালিস্ট শিবিরের নেতৃত্ব দিলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে ‘মধ্যপন্থী রক্ষণশীল’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো।
তার ভাই সাদেক লারিজানিও ইরানের প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, যা ইরানের পার্লামেন্ট ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সংস্থা।
গত শুক্রবার তেহরানে কুদস দিবসের সমাবেশে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল লারিজানিকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছিলেন, ‘যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু কয়েকটি টুইটে (এক্স পোস্ট) তা জেতা যায় না।’
লারিজানির নিহতের খবরের মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার নামে একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশ করেছে, যেখানে নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করা হয়েছে। যদিও বার্তাটির সময় ও তারিখ উল্লেখ নেই।
অন্যদিকে, তেহরানের হামলার পর ইরানের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আইডিএফ। তারা জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিহত নৌসেনাদের স্মরণে আজ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, তবে লারিজানি ও সোলেইমানির মৃত্যুর বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি ইরান।
৫ ঘণ্টা আগে