মীর শাহে আলম
স্থানীয় নির্বাচনে কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার: শাহে আলম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার বিন্দুমাত্র কোনো কলঙ্ক নিতে চায় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার ও প্রশাসন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার এবং প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন যাদের দায়িত্ব দেবে, মাঠপর্যায়ের বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বলা হবে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ দেশে দীর্ঘদিন ধরে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়নি। আমরা চেষ্টা করব, মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন পায়।
নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কমিশনের। সরকার ও প্রশাসন যাতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করে, সেটিই সরকারের অবস্থান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি বরাদ্দ দেওয়া অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে আনেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যে নির্বাচন শেষ করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে। কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে বরাদ্দের অর্থ পরবর্তী অর্থবছরে চলে যেতে পারে।
মীর শাহে আলম বলেন, আমরা প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। এখন তারা নির্বাচন শেষ করতে না পারলে বাজেট আমাদের রয়ে যাবে, পরের অর্থবছরে চলে যাবে। এই সিদ্ধান্তটা তাদের নিতে হবে।
আগামী জুনের মধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান মীর শাহে আলম।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মে মাস পর্যন্ত চললে বাকি নির্বাচনগুলো জুনের মধ্যে আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই জবাব দিতে পারবে। নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব কমিশনের। সরকার শুধু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার অনুরোধ জানাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই বৈঠকে প্রাথমিকভাবে কিছু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বাকি নির্বাচনগুলোর তারিখ ও আয়োজনের পদ্ধতিও সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবে কমিশন।
৫ দিন আগে
কুড়িগ্রাম সীমান্তে ২৭৮ কিলোমিটার পাকা রাস্তা হবে: শাহে আলম
কুড়িগ্রামে ২৭৮ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং চরাঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা ভারতের তিনটি অঙ্গরাজ্য—পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা। এই জেলার ২৭৮ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মোট ৩৫টি বিওপি (সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চৌকি) রয়েছে।
এ সময় তিনি সীমান্তে নিরাপত্তা ও টহল ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে এবং পুরো এলাকাজুড়ে যোগাযোগের সুবিধার্থে পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
এছাড়া জেলা থেকে দারিদ্র্য বিমোচন এবং যুবসমাজকে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়াতে তাদের বিদেশি ভাষা শেখার ওপর জোর দিতে হবে।
মীর শাহে আলম জানান, কুড়িগ্রামের নদীবেষ্টিত প্রায় সাড়ে ৪০০ চরের অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ, বিশেষ করে চরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে।
এর পাশাপাশি জেলাজুড়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট দূরীকরণে ১০০ কোটি টাকার বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ৫০ কোটি টাকা এবং নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখে মোট ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
১৮ দিন আগে
আবু সাঈদের বাড়ি-কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে: শাহে আলম
শহিদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তার মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কত সুন্দর সুন্দর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেগুলোকে সমর্থন না দিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোনো অপতৎপরতাই কাজে আসবে না, সরকার তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
এ সময় তিনি শহিদ আবু সাঈদের বাড়ি ও কবর সৌন্দর্য বর্ধন করার জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা দূর করতে সরকার কাজ করছে। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এটি তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতার জন্য অনুপ্রেরণা। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নামিয়েছিল, তা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আবু সাঈদ গণ-অভ্যুত্থানের বীর। আমরা আবু সাঈদকে ছড়িয়ে দিতে চাই। তার বাড়ির উন্নয়ন ও কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে ঘোষিত এক কোটি টাকার কাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এছাড়া রংপুর স্টেডিয়ামকে শহিদ আবু সাঈদের নামে করার আগ্রহের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ইতোমধ্যে ‘শহিদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়েছে, কিন্তু মসজিদ, মাদরাসা, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় শিক্ষকদের নিয়ে চিন্তা করেনি। তাদের নিয়ে চিন্তা করেছেন তারেক রহমান। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, স্বাস্থ্য কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান, খেলাধুলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কৃষকদের ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিবেচনা করে কার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য তাদের তদবিরের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর চিন্তা করছে সরকার। এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে তেল-গ্যাসের বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য সরকার দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সাময়িক অসুবিধার কথা জানিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিরোধীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, লংমার্চ করে কখনও সমস্যার সমাধান হবে না। আপনাদের কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলুন। একই সঙ্গে সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবীর ডনসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে: প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির দপ্তরসমূহ, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য এবং সারা বাংলাদেশের যত হাট-বাজার বা গ্রোথ সেন্টার আছে, সেটির সংখ্যা ছয় হাজার ৫৪৪টি। এই ছয় হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের রূপটপে বা ছাদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছি।’
তিনি জানান, এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ বরাদ্দ থেকে টাকা দেওয়া হয়েছে এবং আলাদা আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচিতে মোট ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপকারী বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে একটি মানদণ্ড (স্ট্যান্ডার্ড) হিসাব করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে, সাড়ে পাঁচ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ছাদে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে খরচ হবে প্রায় তিন লাখ ২৬ হাজার টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের যেসব ইউনিয়ন পরিষদের ভবন আছে, সেসব ইউনিয়ন পরিষদে টাকা ছাড় করা হয়েছে। সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার।
মীর শাহে আলম জানান, সারা দেশে হাট-বাজারের সংখ্যা ছয় হাজার ৫৪৪টি। হাট-বাজারের উন্নয়নের জন্য উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে বরাদ্দ করা অর্থের ১৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হাটের উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট হাটে ব্যয়ের জন্য নীতিমালায় নির্ধারিত রয়েছে। এই অর্থ থেকেও ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের টোটাল বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট। আমরা চিঠিতে নির্দেশনা দিয়েছি, প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্থানীয়ভাবে নিজস্ব আয় আছে, সেখান থেকে আমরা অর্থ ছাড় করেছি।’
তিনি জানান, বরাদ্দের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব রাজস্ব থেকে অর্থ যোগ করে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে মোট প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উৎপাদিত ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা ব্যবহার করবে। বাকি ১৫০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্যাকেজ অনুযায়ী নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করা হবে।
এছাড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে পাওয়া অর্থে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ব্যয়কৃত অর্থ উঠে আসবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এরপর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত আয় হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল, গ্রামীণ শক্তিসহ বিদ্যুৎ বিভাগের তালিকাভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘তাদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালা অনুযায়ী ২০ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করবে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে। সেই চুক্তি অনুযায়ী ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ২০ বছর ফ্রি সার্ভিসিং বা ওয়ারেন্টি দিবে আমাদের এই ব্যয়কৃত ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, একদম সাধারণ মানুষের জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো দিনের আলো ব্যবহার করে তারা অন্ততপক্ষে অফিস টাইমিংগুলোতে যে লোডশেডিং হয় বা বিদ্যুতের যদি কোনো সমস্যা হয়, সেখানে বিদ্যুৎ যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সরকারের দেওয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্যাকেজ অনুযায়ী ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিক্রির সুবিধা নিতে চায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো।
এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বায়ত্তশাসিত, সরকারের টাকার পাশাপাশি তাদের সবারই নিজস্ব ইনকামের একটি ব্যবস্থা আছে। খেয়াঘাট বলেন, হাট-বাজার বলেন, তারপরে পৌরসভার মধ্যে পরিবহন যাতায়াত করলে সেখান থেকে তারা একটি ট্যাক্স নেয়, এরকম বিভিন্ন খাত থেকে, ট্রেড লাইসেন্স থেকে, হোল্ডিং থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ট্যাক্স আদায় করে, তাদের একটি রাজস্ব আহরণের ব্যাপারে নীতিমালা আছে বা সক্ষমতা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই রাজস্ব আহরণের সাথে আমরা নতুন করে একটি প্লাস করে তাদেরকে দিতে চাই, উৎসাহ করতে চাই যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য যে তারা এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেরাও ব্যবহার করল এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎটা তারা সরকারের কাছে, বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে বিক্রি করে তাদেরও একটি নিজস্ব রাজস্ব আয় হলো।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রায় তিন হাজার ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। সাড়ে পাঁচ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় তিন লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হলেও ভ্যাট ও আয়কর কাটার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সিটি করপোরেশনগুলোকে ৭৫ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদগুলোকে ৯৯ কোটি টাকা, পৌরসভাগুলোকে ৬৪ কোটি টাকা এবং জেলা পরিষদকে ১২ কোটি টাকার কিছু বেশি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘মানে সব মিলায়ে আমরা সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং জেলা পরিষদে, আমরা এই টোটাল ৫টি প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের জন্য টাকা ছাড় করেছি ৩৭০ কোটি টাকা।’
২৬ দিন আগে
ইউপি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সরকার কিছু জানে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
গতকাল (সোমবার) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের কমিশনের প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমরা ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে পারব।
এ ধাপে তিনি প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক সময়সূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন হবে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ১২ এপ্রিল ও সপ্তম ধাপ ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে আজ (মঙ্গলবার) মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনাদের মতো আমরাও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পত্রিকায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং টেলিভিশনগুলোতে দেখেছি যে, নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কয়েক ধাপে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে শুধু এইটুকুই জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে নির্বাচন করার। কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর প্রস্তুতি সভা বা আইনশৃঙ্খলা কমিটি, এ ধরনের সভা করার পরেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আবারও রিপিট করছি, নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’
৩৪ দিন আগে
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা নির্বাচন কমিশন সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, ‘নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতাটা তৈরি করে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশন আমাদের আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যে নীতিমালা সবকিছু নিয়ে ঠিক করবে যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি পারবেন না।’
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের আইনে আছে, তিনি প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে যদি অধিষ্ঠিত থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এটা হচ্ছে নির্বাচনি আইন।’
তিনি বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ব্যাপারে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—স্কুল ও কলেজ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি ১১.১৭-এর ‘ক’ ও বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে বলা হয়েছে যে এই পদটি লাভজনক। মানে শিক্ষকদের পদটি লাভজনক। তাহলে আইনের সঙ্গে এখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালাটা কাছাকাছি মিলে যাচ্ছে।’
মীর শাহে আলম জানান, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একই সঙ্গে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এমপিও নীতিমালার বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে আর্থিক লাভজনক পদের সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
১১.১৭-এর ‘খ’-তে বলা হয়েছে, আর্থিক লাভজনক পদ বলতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো ধরনের বেতন, ভাতা, সম্মানী এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আইন পেশাসহ কর্মের বিনিময়ে প্রদত্ত বেতন, ভাতা, সম্মানীকে বোঝাবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের আইনগত কোনো মতামত, বিস্তারিত তথ্য বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে তারা বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে। সেক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে আইন করছে বলে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার আইনে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই বিধান রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালাতেও শিক্ষকদের আর্থিক লাভজনক পদের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তো ক্লিয়ার (পরিষ্কার) করলাম আইনে কী আছে। এখন জামায়াত যদি সরকারের ওপর কোনো দায় চাপায়, এটা দায় চাপালে তো হবে না। কারণ এই বিলগুলো পার্লামেন্টে পাস করার সময় তারা তো সংসদে উপস্থিত ছিল। আমরা সবাই মিলেই তো বিলগুলো পাস করেছি।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, কোনো প্রয়োজন নাই।’
তিনি বলেন, ‘এমপিদেরই তো নাই! আমি যে এমপি হয়েছি, আমারই তো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয়নি ফর্মে!’
প্রতিমন্ত্রী জানান, সংসদ সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। একই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি আইনেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘কারণ আইনে নাই তো, সংবিধানে নাই তো! এবং যেহেতু সংসদ সদস্যদের যোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না, লোকাল গভর্নমেন্টের যে পাঁচটা আইন করেছি, ওখানে আইনেও আমরা রাখিনি কারণ এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে। কারণ একজন সমাজসেবক তো লেখাপড়া নাও করতে পারে, স্বশিক্ষিত হতে পারে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা বয়সের বাধ্যবাধকতাও নেই। ভোটার হলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
৩৬ দিন আগে
আইন অনুযায়ী যোগ্য যে কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন: প্রতিমন্ত্রী
দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা যেকোনো বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপির অবস্থান কী হবে, এমন প্রশ্নে মীর শাহে আলম বলেন, ‘এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই। কারণ দলীয় মনোনয়নও থাকছে না, দলীয় প্রতীকও থাকছে না।’
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে দল-সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকেও স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভূমিকা থাকবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা।
তিনি বলেন, ‘দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না। বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করবে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তারা যাতে সঠিকভাবে প্রচার প্রচারণা চালাতে পারে, সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে।’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের বার্তা কী, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের মেসেজ ক্লিয়ার। যেহেতু এটা দলীয় নির্বাচন না, এই নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে যাদের যোগ্যতা আছে আইন অনুযায়ী সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে।’
৩৯ দিন আগে
সেপ্টেম্বরের শেষে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রপ্তানি হবে, সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি সমাপ্ত হবে বলে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে সর্বমোট ২ লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে। এর বাইরে মালয়েশিয়া আরও ১০ হাজার শ্রমিক বিনা খরচে নেবে বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আর এর বাইরে ১০ হাজার শ্রমিক তারা একদম ফ্রি নেবে, যেটাতে কোনো খরচ নেই। জিরো কস্ট। ওটাও সেপ্টেম্বরের শেষের দিক থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে।’
এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়াকে এলএনজি আনার জন্য দেওয়া চিঠির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী আলোচনা হয়নি বলে জানান।
৫০ দিন আগে
চলতি অর্থবছরেই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে: শাহে আলম
চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হবে জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পাঁচটি নির্বাচন করার জন্য টাকা রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য এই অর্থ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে হিসাব করেছি, এই পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে আমাদের প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার কম-বেশি প্রয়োজন হবে।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণে আর্থিক বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আর্থিক বিষয়টিও জড়িত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং অর্থ বিভাগসহ আমরা বসে সময়টি নির্ধারণ করব।’
এরপর তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি আবারও আপনাদের কাছে স্পষ্ট করছি যে, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন এই সরকার সমাপ্ত করবে এবং এর কোনো ব্যত্যয় হবে না, ইনশাল্লাহ।’
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা বলেছিলেন তথ্য উপদেষ্টা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই উত্তরটা তথ্য উপদেষ্টা দিতে পারবেন। কারণ আমি তো এটার উত্তর দেব না। কারণ উনি আগস্টে বলেছেন, এটা উনাকেই বলতে হবে যে আপনি কেন আগস্টে বলেছেন।’
তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার কাছে থাকা তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার কাছে যেটুকু তথ্য আছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি এই তথ্যটি দিলাম।
চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে পুনরায় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আপনাদের কাছ থেকে আমরা আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত সময় নিয়েছি। যত তাড়াতাড়ি নির্বাচনটা দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব দিতে পারি তত তাড়াতাড়ি আমাদের জন্য ভালো।
নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও অর্থের সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিসহ এখানে অর্থের সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে। সব মিলিয়ে যত দ্রুত নির্বাচনগুলো শুরু করা যায় সেটার চেষ্টা করব আমরা।
৬৩ দিন আগে
ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতেই নতুন উপজেলা করা: মীর শাহে আলম
মোকামতলা উপজেলা গঠনের প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আমার ইচ্ছা ছিল যে, এটা আমার সময় যদি হয়, তাহলে ইতিহাসের পাতায় আমার নামটি লেখা থাকবে যে আমার সময় শিবগঞ্জ ভেঙে নতুন একটি উপজেলা হয়েছে। এই ইতিহাসের সাক্ষী হবার কারণেই নতুন উপজেলা করা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় নিজের সম্পদ, পারিবারিক প্রতিষ্ঠান, ছেলের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে পদত্যাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও তিনি কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিবগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে, মোকামতলায় একটি আলাদা উপজেলা করার। আমি এমপি এবং মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ডিও দিয়ে দুই মাসের মাথায় বাংলাদেশের প্রথম যে পাঁচটি উপজেলা হয়—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাননীয় মহাসচিবের ওখানে দুটি, কক্সবাজারে একটি, লক্ষ্মীপুরে একটি এবং আমার নির্বাচনে একটি নতুন উপজেলা হয়—মোকামতলা উপজেলা। এই উপজেলাতে আজ হোক, কাল হোক, কেউ না কেউ করতই। আমার ইচ্ছা ছিল যে, এটা আমার সময় যদি হয়, তাহলে ইতিহাসের পাতায় আমার নামটি লেখা থাকবে যে আমার সময় শিবগঞ্জ ভেঙে নতুন একটি উপজেলা হয়েছে। এই ইতিহাসের সাক্ষী হবার কারণেই নতুন উপজেলা করা।’
তিনি বলেন, ‘আমার উপজেলায় নতুন কিছু ইউনিয়ন ছিল, যেগুলো অনেক বড় বড় ইউনিয়ন। যে ইউনিয়নগুলোকে বিভক্ত করার প্রয়োজন ছিল, সেই ইউনিয়নগুলোকে আমরা বিভক্ত করেছি। আমি নতুন চারটি ইউনিয়ন তৈরি করেছি। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে হয়তো অনেক প্রশ্ন ছিল, অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে, তার অনুশাসন অনুযায়ী তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে নতুন করে আবার ওই এলাকার জনগণ যেভাবে চাইছে, সেভাবে নামকরণের ব্যবস্থা হয়েছে।’
বগুড়া দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত ছিল দাবি করে তিনি বলেন, জেলার উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে তিনি মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেছেন।
ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট না করার আহ্বান
শুরুতেই ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করা হলে রাষ্ট্রীয় কাজে নিজের মেধার বিকাশ ঘটানো সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
নিজেকে লক্ষ্যবস্তু করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। কিন্তু আমরা কাজ তো শুরু করেছি। আমাদের কাজ করবার যোগ্যতা আছে কি না, এটা তো কিছুদিন আপনাদের দেখতে হবে। শুরুতেই যদি আমাকে ধাক্কা মারা হয়, শুরুতেই যদি আমাকে টার্গেট করা হয়, তাহলে তো যেটুকু মেধা মহান আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, আপনাদের চেয়ে কম অথবা বেশি বা সমান, এইটুকু মেধার বিকাশ তো আমি রাষ্ট্রীয় কাজে বা আমার মন্ত্রণালয়ে দেখাতে পারব না। এইটুকু সুযোগ তো আমাকে করে দিতে হবে কাজ করার।
নিজের অর্থে প্রতিষ্ঠানের দাবি
এলাকায় নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, উন্নয়নের ব্যাপারে আমার একটা পাগলামো রয়েছে। আমি এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করি, কাজ করি দীর্ঘদিন যাবত। আপনারা জানেন যে, এবার অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আমি প্রথম চেয়ারম্যান হওয়ার পরে আমার গ্রামে কিন্তু প্রাইমারি স্কুল করি আমার নামে, ১৯৯৭ সাল, যেটি এখন সরকারি।
তিনি বলেন, ২০০৩ সালে কারিগরি শিক্ষাকে মাথায় রেখে আমি ‘মীর শাহ আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করি। এরপরে আমার নামে ওখানে কৃষি এবং মৎস্য কলেজ রয়েছে, আমার নামে মাদরাসা রয়েছে, ভেটেরিনারি স্কুল রয়েছে। এরপরে মোকামতলা নতুন উপজেলায় আমার নামে নতুন একটি কলেজ রয়েছে, শিবগঞ্জে আরেকটি কলেজ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমি ১৯৯৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিজের সম্পত্তি, পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে, কোথাও সম্পত্তি কিনে, নিজের অর্থ দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করে দিয়ে আস্তে আস্তে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমি দাঁড় করিয়েছি। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই আমি বিএনপি করার কারণে এমপিওভুক্ত হয়নি। নতুন করে সরকার আসার পরে আবেদন করেছি, চেষ্টা করছি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এমপিওভুক্ত হয়। কারণ, দীর্ঘদিন এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন পাননি; কারণ হচ্ছে আমি।
‘জাতীয় রাজনীতিতে আমার ভূমিকা ছিল’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক যে জাতীয় রাজনীতিতে আমার কোনো পদ-পদবি ছিল না। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে আমি অনেক কাজ করেছি। আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে আমি কাজ করেছি, রিজভী আহমেদের সঙ্গে আমি বহুবার কাজ করেছি এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রকাশ্যে হোক, অপ্রকাশ্যে হোক, আমার বহু ভূমিকা ছিল। যেহেতু আমি ঢাকা শহরেই বসবাস করতাম, ঢাকা শহরই পরিবারসহ আমার বসবাস।’
‘সমালোচনা পরিবার নিতে পারে না’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে একটা পত্রিকায় দেখলাম, আমি ওই প্রসঙ্গে যেতে চাই না, একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে হাইড করে কিছু নিউজ করা হয়। এগুলো আসলে হয় কি, আমরা হেয় প্রতিপন্ন মাঝে মাঝে হলে খুব একটা খারাপ লাগে না। কারণ রাজনীতি করি তো; সবাই আমাদের খুশি করবে তা না, কখনও গালি দেবে, কখনও ভালো বলবে। কিন্তু আমাদের সম্বন্ধে নেগেটিভ কিছু গেলে এটা পরিবার নিতে পারে না, আত্মীয়-স্বজনের কাছে এটা খারাপ লাগে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সন্তানরা কিছু করলে এটা বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়। যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, সালাউদ্দিন সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, বা মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের ভাই কেন ক্রিকেট বোর্ডে। আমার নিজেরও সন্তান ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিল। যখন সমালোচনা শুরু হয়েছে, আমার সন্তান আমার ওপর খুবই মন খারাপ করেছে। আমি তাকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছি, বাবা, এটা নিয়ে নানা কথা হবে, তোমার ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেক দেখতে হবে, তুমি দয়া করে পদত্যাগ কর।’
তিনি বলেন, ‘যেদিন বোর্ড নির্বাচিত হয়েছে, ফার্স্ট বোর্ড মিটিং করেছে, পরের দিনই আমার কথামতো গিয়ে আমার ছেলে ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছে। এই নিউজটা আপনারা কেউ হাইলাইট করেন না যে একজন মন্ত্রী তার সন্তানকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে নিয়ে আসছেন।’
তার ভাষায়, ‘আমাদের সন্তানরা বিরোধী দলের থাকার সময় সরকারের রোষানলে পড়বে, আবার ক্ষমতায় আসার পরে সমালোচকদের রোষানলে পড়বে; তাহলে এরা উচ্চ শিক্ষিত হয়ে, উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে, রাজনৈতিকভাবে, ব্যবসায়িকভাবে মেধার বিকাশটা তাহলে ঘটাবে কোথায়? এরা সমাজে অবদানটা রাখবে কীভাবে? এই বিষয়গুলো মনে হয় আপনাদের নোটিশে আনা দরকার।’
সম্পদ নিয়ে ব্যাখ্যা, তদন্তের আহ্বান
সম্পদের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনি হলফনামায় তার সব সম্পদের তথ্য রয়েছে। ‘তাহলে সমস্ত হলফনামাকে আপনি হাইড করে একটা চিহ্নকে গোল চিহ্ন দিয়ে যদি বলেন যে, আমি প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আমার সম্পত্তির পরিমাণ আট গুণ বেড়েছে, তখন কিন্তু কষ্ট লাগে।’
তিনি বলেন, ‘আপনি ওখানে সম্পত্তিতে দেখালেন ৩১ শতক, কিন্তু আমার হলফনামাতে তো সম্পত্তি দেওয়া আছে এক হাজার ৮৩৫ শতক। তাহলে কোথায় এক হাজার ৮৩৫ শতক আর আপনি হাইলাইট করলেন ৩১ শতক। হ্যাঁ, আমার উপজেলায় আমি মন্ত্রী হওয়ার পরে সম্পত্তি কেনা হয়েছে, এ তো আমি অস্বীকার করছি না। আমার কোম্পানির নামে সম্পত্তি আমার সন্তান কিনেছে। নতুন ইন্ডাস্ট্রি করার জন্য সম্পত্তি কেনার প্রয়োজন হলে সম্পত্তি কিনবে না? অবশ্যই কিনবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু সেটার আয়ের উৎসটা কী, সেটা আপনারা দেখেন, সেটা তদন্ত করুন। ট্যাক্স অফিস আছে, তারা দেখবে যে সেটা বৈধ না অবৈধ। ব্যক্তিগত নামে তো কোনো সম্পত্তি কেনা হয়নি; রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলের নামে, ফাউন্ডেশনের নামে সম্পত্তি কেনা হচ্ছে, কারণ সেখানে আমরা নতুন ইন্ডাস্ট্রি করব, নতুন ব্যবসা করব।’
টাকার উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি যে ৪২ কোটি টাকা দিয়ে একটা অটো রাইস মিল বিক্রি করলাম, নগদ টাকার উৎস তো এখানেই বের হয়ে আসে। আমি অন্য জায়গায় না-ই গেলাম, আমার অন্যান্য ব্যবসাগুলো নাহয় আমি বাদই দিলাম।’
‘মন্ত্রী আমাকে ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন না’
মন্ত্রণালয়ের কাজের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার মন্ত্রণালয়ে কাজ করছি, খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কারণ আমার সৌভাগ্য যে আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দলের মহাসচিব। উনি দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি, আমার পরম শ্রদ্ধেয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং শ্রদ্ধেয় স্যার কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত... আমি ওনার বয়সে অনেক ছোট, নবীন হিসাবে উনি আমাকে ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। যেকোনো বিষয়ে উনি আমাকে ডাকেন অথবা খবর দেন, আমি গিয়ে উনার কাছে বসলে উনি বলেন যে আমরা এটা এভাবে করতে চাচ্ছি, আমরা এক সমন্বিতভাবেই পরিচালনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘আর আমার নিরাপত্তার জায়গা, ফাইল স্বাক্ষরের শেষ জায়গা হচ্ছে মাননীয় মন্ত্রী। আর উনি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাহলে আমার নিরাপত্তা, আমার প্রোটেকশনের দেওয়ালটা তো এখানে আছে, আমি তো ফাইনাল অথরিটি না আমার মন্ত্রণালয়ের। আমার পরেও ফাইলটা তার কাছে যায়। যদি ওখানে কোনো অন্যায় থাকে, নেগেটিভ কিছু থাকে আমার স্বাক্ষরের পরে, তাহলে তো মাননীয় মন্ত্রী সেটা ফেরত দিতে পারবেন বা ওটা এলাউ করবেন না।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি
স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচনের জন্য চলতি বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন—এই নির্বাচনগুলো করার জন্য তারাও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। সব মিলিয়ে এই বছরটি সরকারের এই বড় একটি বাজেট বাস্তবায়নে যেমন একটা চ্যালেঞ্জ হবে, আমাদের সামনে নির্বাচনগুলো আসবে। এখানেও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করবার জন্য সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়েছে।’
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
১০২ দিন আগে