বাসডুবি
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে করবী ফেরির র্যাম ভেঙে এসবি পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ওই বাসের চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় বাসের চালক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আজমল হোসেন (৩৮) এবং সহকারী আলামপুর এলাকার বাসিন্দা শাকিব হোসেনের (২২) নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া এস বি সুপার ডিলাক্স (নন-এসি) পরিবহনের বাস পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) সকালে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এস বি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছায়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চালককে নির্দেশ দেন নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
নির্দেশনা অনুসারে, বাসের প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ জন যাত্রী নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে যেতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর বাসের চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে বেপরোয়া ও অবহেলামূলকভাবে চালাতে শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় পারাপারের জন্য নির্ধারিত ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’-এ না তুলে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে সেখানে অবস্থানরত ‘করবী অক্সফ্যাম’ নামের অপর একটি ফেরির ওপর উঠে যায়। পরে ফেরিটির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র্যাম্পের শিকল ও সিটকিনি ছিঁড়ে যায় এবং বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
নৌ-পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার আগে সুপারভাইজার ও সহকারী কৌশলে লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে যান। আর চালক সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
দুর্ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে তুলে আনা সম্ভব হয়। পরে বাসটি জব্দ করে নৌ-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অধিকাংশ কাঁচের জানালাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এজাহারে দাবি করা হয়, দুর্ঘটনায় করবী অক্সফ্যাম ফেরির র্যাম্প, ক্যাবল ও শিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামালের একটি অংশ পানিতে ভিজে, ডুবে বা হারিয়ে যায়। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তারর দেখিয়ে আজ (শনিবার) রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নৌ-পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া মালামাল যাচাই-বাছাই করে যাত্রীদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৯ দিন আগে
রাজবাড়ীর পদ্মায় বাসডুবির পঞ্চম দিনেও চলছে উদ্ধার অভিযান
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের সামনে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চলছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অন্যান্য দিনের মতো সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাদের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চালান তারা। এ সময় দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটের পন্টুনটি সরিয়ে ফেলা হয়। সেসব স্থানেও শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে অনুসন্ধান চালানো হয়। সন্ধ্যার পর সাময়িক সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে পৌছে। ঘাটে থাকা অপর একটি বড় ফেরি যানবাহন বোঝাই করে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় অপর ফেরির অপেক্ষা করতে থাকে বাসটি। কয়েক মিনিট পর ঘাটে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি হাসনাহেনা ভেড়ে। ফেরি থেকে দুই-তিনটি যানবাহন আনলোড চলাকালীন অপেক্ষায় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পন্টুনের দিকে এসে পদ্মায় পড়ে যায়। সেদিন মধ্যরাতে প্রায় ৭ ঘণ্টার চেষ্টার পর নদী থেকে বাসটি টেনে তোলা হয়।
এ সময় বাস থেকে ১৮টি মরদেহ এবং পরদিন আরও ৬ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল। তার আগে, দুর্ঘটনার পরপর চার যাত্রীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬ জনের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা জানান, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীরা সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযান কখন বা কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিশ্চিতভাবে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিখোঁজের সন্ধান পাননি। তারপরও কারো মনে যাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন দেখা না দেয়, তার আলোকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অভিযান চলবে। অভিযান কার্যক্রম শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
৭৮ দিন আগে
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান।
বাসডুবির ঘটনায় ডুবুরি দল ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। তার আগে, দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
এখন পর্যন্ত যে ২৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে, তারা হলেন— রাজবাড়ী পৌরসভার লালমিয়া সড়ক ভবানীপুর এলাকার মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১) ও ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মজমপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭) এবং একই মহল্লার কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২) ও তার মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সন্তান ফাইজ শাহানূর (১১) এবং একই উপজেলার মহেন্দপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা মহল্লার কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে বাসচালক আরমান খান (৩১), সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মন্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), একই ইউনিয়নের চর বেনিনগর গ্রামের মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোস্না (৩৫) এবং সদর উপজেলার দাদশি ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের শিশু সন্তান সাবিত হাসান (৮); গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের নোয়াধা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩) এবং ঝিনাইদহর শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের শিশুসন্তান আরমান (৭ মাস)।
এদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসচালক আরমান খান এবং দিনাজপুরের নাছিমা (৪০) নামের নারীর মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান।
৮১ দিন আগে