রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের সামনে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চলছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অন্যান্য দিনের মতো সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাদের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চালান তারা। এ সময় দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটের পন্টুনটি সরিয়ে ফেলা হয়। সেসব স্থানেও শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে অনুসন্ধান চালানো হয়। সন্ধ্যার পর সাময়িক সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে পৌছে। ঘাটে থাকা অপর একটি বড় ফেরি যানবাহন বোঝাই করে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় অপর ফেরির অপেক্ষা করতে থাকে বাসটি। কয়েক মিনিট পর ঘাটে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি হাসনাহেনা ভেড়ে। ফেরি থেকে দুই-তিনটি যানবাহন আনলোড চলাকালীন অপেক্ষায় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পন্টুনের দিকে এসে পদ্মায় পড়ে যায়। সেদিন মধ্যরাতে প্রায় ৭ ঘণ্টার চেষ্টার পর নদী থেকে বাসটি টেনে তোলা হয়।
এ সময় বাস থেকে ১৮টি মরদেহ এবং পরদিন আরও ৬ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল। তার আগে, দুর্ঘটনার পরপর চার যাত্রীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬ জনের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা জানান, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীরা সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযান কখন বা কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিশ্চিতভাবে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিখোঁজের সন্ধান পাননি। তারপরও কারো মনে যাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন দেখা না দেয়, তার আলোকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অভিযান চলবে। অভিযান কার্যক্রম শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।