সংস্কৃতিমন্ত্রী
শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে জুলাই জাদুঘর: সংস্কৃতিমন্ত্রী
জুলাই জাদুঘর শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে কুমিল্লা জাদুঘর ও শালবন বিহার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই জাদুঘরের কমিটি কিছুটা এলোমেলো ছিল। বর্তমানে নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংসদে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার দেশের সাংস্কৃতিক নিদর্শন ধ্বংস করেছে। গত ১৮ থেকে ২০ বছরে শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, আইন ও বিচারব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের মতামতের কোনো মূল্যায়ন ছিল না, নির্বাচনের নামে প্রহসন চলেছে। পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করে ব্যাংক ও বীমা খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় মন্ত্রী কুমিল্লা ময়নামতি জাদুঘরের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও শালবন বিহার পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
১৪ দিন আগে
অসুস্থ শিল্পী শবনম মুশতারীর বাসায় সংস্কৃতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, দিলেন আর্থিক সহায়তা
বাংলাদেশের স্বনামধন্য ও একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুল সংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত ও জটিল ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রম) রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দেশবরেণ্য এই শিল্পীর অসুস্থতার সংবাদ জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
শনিবার (৪ জুলাই) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ শিল্পীর বাসভবনে তাকে দেখতে যান। এ সময় তারা দীর্ঘক্ষণ অসুস্থ শিল্পীর পাশে অবস্থান করেন, তার চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সান্ত্বনা দেন।
সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে গুণী এই শিল্পীর জরুরি চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ডিজিএম সায়েলা খানম এবং শিল্পীর পরিবারের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিল্পী শবনম মুশতারী ১৯৯৭ সালে সরকার কর্তৃক দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। এছাড়া ২০১৫ সালে তিনি জাতীয়ভাবে ‘নজরুল পুরস্কার’ লাভ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি তালিম হোসেন এবং প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক বেগম মাফরুহা চৌধুরীর বড় মেয়ে।
২১ দিন আগে
প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সঙ্গীত শিক্ষা চালু করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সঙ্গীত শিক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতিতে এই উদ্যোগ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন করা হবে। এ পদ্ধতিতে সঙ্গীত প্রশিক্ষকরা একটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে পাঠদান করবেন।
সরকার প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের মন্ত্রণালয় প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সকল প্রতিষ্ঠানে উপজেলাভিত্তিক ক্লাস্টার পদ্ধতিতে সঙ্গীত শিক্ষা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যেভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে একইভাবে সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তখন সব প্রতিষ্ঠানে সঙ্গীত শিক্ষক পাওয়া যেত না এবং তারা মূলত জেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোতে কেন্দ্রীভূত ছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের কাছে তাদের সরাসরি দায়বদ্ধতা ছিল না।
তিনি বলেন, ওই সময়ে কিছু ভালো সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যা আমাদের মতে এড়িয়ে যাওয়া যেত। তবে আমি বলব না যে সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।
এ বছরের পহেলা বৈশাখ উদযাপন ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাকি চিরাচরিত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে সমুন্নত রাখতে চায়।
তিনি আরও বলেন, জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, বর্ণ ও আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকবেই, কিন্তু মানুষ একই সমাজে সহাবস্থান করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
১১৬ দিন আগে