সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সঙ্গীত শিক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতিতে এই উদ্যোগ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন করা হবে। এ পদ্ধতিতে সঙ্গীত প্রশিক্ষকরা একটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে পাঠদান করবেন।
সরকার প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের মন্ত্রণালয় প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সকল প্রতিষ্ঠানে উপজেলাভিত্তিক ক্লাস্টার পদ্ধতিতে সঙ্গীত শিক্ষা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যেভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে একইভাবে সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তখন সব প্রতিষ্ঠানে সঙ্গীত শিক্ষক পাওয়া যেত না এবং তারা মূলত জেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোতে কেন্দ্রীভূত ছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের কাছে তাদের সরাসরি দায়বদ্ধতা ছিল না।
তিনি বলেন, ওই সময়ে কিছু ভালো সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যা আমাদের মতে এড়িয়ে যাওয়া যেত। তবে আমি বলব না যে সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।
এ বছরের পহেলা বৈশাখ উদযাপন ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাকি চিরাচরিত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে সমুন্নত রাখতে চায়।
তিনি আরও বলেন, জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, বর্ণ ও আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকবেই, কিন্তু মানুষ একই সমাজে সহাবস্থান করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।