ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিকের আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ করে স্বাভাবিক গতিতেই চলমান রয়েছে। তিনি আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলন স্থগিত করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে নিয়োগপত্রের দাবিতে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী আন্দোলনরত শিক্ষকদের ৭ জনের একটি প্রতিনিধিদল প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাত সদস্যের এই প্রতিনিধ দল তাদের নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন এবং বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে স্বাভাবিক গতিতেই চলমান রয়েছে। প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
তিনি আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে চলমান প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রেখে অযথা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে আন্দোলন স্থগিত করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
১০ দিন আগে
প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার পরিকল্পনায় সরকার: প্রতিমন্ত্রী
৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হবে জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আমরা ধাপে ধাপে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করব।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, ব্যয় কাঠামো ও নীতিগত অগ্রাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ‘শিক্ষা বাজেট: বাজেটের শিক্ষা’ শীর্ষক এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষা খাতের বিদ্যমান প্রবণতা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ধাপে ধাপে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করব। ৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা হবে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক। মিড-ডে মিল আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীর জন্য চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নতুন কারিকুলামের বিষয়ে তিনি বলেন, আর্থিক প্রণোদনা বৃদ্ধি করা ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা সম্ভব নয়। শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং নতুন কারিকুলাম নিয়ে সরকার কাজ করছে। আমরা নতুন কারিকুলাম তাড়াহুড়ো করে করব না। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা খেলতে খেলতে শিখবে, গল্পের মাধ্যমে শিখবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গল্পের মাধ্যমে আনন্দদায়ক শিক্ষাপদ্ধতি চালুর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কোচিং, নোটবুক, গাইড—এসব আমরা বন্ধ করব। তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। শিক্ষাটা হবে ক্যারিয়ার-কেন্দ্রিক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষকদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ সরকারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক তপন কুমার দাস। শিক্ষা বাজেটের প্রবণতা, বরাদ্দের কার্যকারিতা এবং বাস্তবায়ন ঘাটতির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বেসরকারি শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে গণসাক্ষরতা অভিযানের ২১ দফা দাবি-সম্বলিত একটি স্মারকলিপি উপস্থাপন করেন।
এই ২১ টি দাবির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে শিক্ষাখাতে জিডিপির অন্তত ২ দশমিক ৫ শতাংশ অথবা জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষার জন্য বিনিয়োগ করা। সরকারের প্রথম তিন অর্থবছরে জিডিপির ৫ শতাংশ এবং পর্যায়ক্রমে ৫ বছরের মধ্যে ৬ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা প্রণয়ন করা।
এ ছাড়াও প্রাথমিকে শিক্ষার্থীপ্রতি মাসে ন্যূনতম ৫০০ টাকা, নিম্ন মাধ্যমিকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৭০০ টাকা এবং মাধ্যমিক ও তার ওপরের শ্রেণিতে ১ হাজার টাকা করা, সমন্বিত শিক্ষা আইন করা, শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, স্থায়ী শিক্ষা কমিশন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে স্বল্পমেয়াদী কোর্সের ওপর জোর দেওয়া, নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান, দুর্যোগপ্রবণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে শিক্ষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত প্রণোদনা প্রদান, প্রতিবন্ধী বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, অটিজম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলগুলোকে সমাজকল্যাণের আওতায় আনা, জাতীয়ভাবে গবেষণার তথ্যসম্বলিত ডেটা ব্যাংক করা, শিক্ষায় বাণিজ্যিকীকরণ, নোটবই, গাইডবই ও কোচিং বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া, উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল সর্বজনীন করার জোর দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর)-এর ৩০ শতাংশ ব্যবহার ও ‘এডুকেশন সেইজ’ চালু করা যেতে পারে। প্রতিবেশি দেশ ভারতে এডুকেশন সেইজ (সারচার্জ) প্রবর্তন করে লক্ষাধিক কোটি টাকার ‘শিক্ষা সহায়তা তহবিল’ গঠন করা হয়েছে। আমরা যমুনা সারচার্জ দিয়ে যমুনা সেতু করেছিলাম, সেরকমই এটা।
অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ, ইএলসিজি বাংলাদেশ এর কো-চেয়ার এবং ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার এডুকেশন অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলর্মী।
উন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত শিক্ষা খাতের বিভিন্ন অংশীজন শিক্ষা গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সহযোগী, প্রতিবন্ধী শিক্ষক সংগঠনের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা বাজেট নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
১৪ দিন আগে
স্কুলে সংস্কৃতিচর্চা নিশ্চিত হলে দেশে উগ্রবাদের স্থান হবে না: প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এমপি বলেছেন স্কুল পর্যায়ে সংস্কৃতিচর্চা নিশ্চিত হলে দেশে উগ্রবাদের স্থান হবে না।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এ আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা কারিকুলামে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনা বিকাশে সহায়ক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে পাঠ্যক্রমে আরও বিস্তৃত ও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংগীত, নাটক, বিতর্ক, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ হয় এবং তাদের ভেতর দলগত চেতনা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। এতে তাদের মধ্যে উগ্র চিন্তার প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। ফলে সাংস্কৃতিক চর্চা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক প্রজন্ম গঠনের কার্যকর উপায় হিসেবে কাজ করে।
১৭ দিন আগে
আগামী বছরে সঠিক সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে: ববি হাজ্জাজ
আগামী বছরে সঠিক সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পাড়াডগার মান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ কথা জানান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের বৃত্তি পরীক্ষাটি গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কারণে পরীক্ষাটি তারা নিতে পারেনি। বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাঠ্যক্রমে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এই প্রক্রিয়াটা আমরা বাদ দিতে চাই না। তাই আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরই বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেই এবং বাস্তবায়ন করি। আগামী বছরগুলোতে সঠিক সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা, কতজন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং বৃত্তির পরিমাণ কত হবে তা পুনর্বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃত্তিকে কেন্দ্র করে কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকার শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শুধু বৃত্তি নয়, সার্বিকভাবে কোচিং আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে৷ এটি একটি বড় সমস্যা। কোচিং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশকিছু ইনোভেশন (উদ্ভাবন) বা পলিসি (নীতি) চিহ্নিত করা হয়েছে যার মাধ্যমে খুব শিগগিরই পাইলটিং শুরু হবে। তবে প্রাথমিক বৃত্তি-সংক্রান্ত কোচিং নিয়ে এখনও বড় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুলের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকার দৃষ্টিনন্দন প্রজেক্ট এবং পিডিপি ফাইভের মতো অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে যার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি, ওয়াশরুম নির্মাণ, নকশা পরিবর্তন এবং আসবাবপত্র পরিবর্তনের মতো বড় কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমি, সচিব এবং মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সময় সঠিক সুযোগসুবিধা পাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তোষজনক চিত্র পাওয়া গেছে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
১৮ দিন আগে
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। বছরে একবার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক স্কুলে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দিতে সক্ষম হব।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার: কৌশলগত পথনির্দেশনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে এই নীতি সংলাপের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের মধ্যে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষাখাতের উন্নয়নে থ্রি সি: কারিকুলাম, ক্লাসরুম, কনসিসটেন্সি ঠিক করতে হবে। ক্লাসরুমের অবকাঠামো ও পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের প্রাইমারি শিক্ষার কারিকুলামে অনেক ঘাটতি রয়েছে। আমি ইতোমধ্যে স্কুলে স্কুলে সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেছি। কয়েকটি স্কুলে গিয়ে, বিশেষ করে, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই থেকে পড়তে বলার পর দেখেছি, পড়াটা তাদের জন্য বেশ মুশকিল হয়। আসলে আমাদের দেখতে হবে, তারা আসলে কী পড়ছে? পড়াগুলো, ভাষাগুলো তাদের জন্য উপযোগী কিনা। সাবলীলভাবে তারা পড়তে পারবে কিনা। আমার কাছে মনে হয়েছে, তাদের জন্য পড়াগুলো বেশ কঠিন। কারিকুলাম পর্যালোচনা করে আপডেট করতে হবে।’
যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকে খেলাধুলাভিত্তিক ও গল্পভিত্তিক শিক্ষা চাই। শিক্ষার্থীরা যেন পড়ার আগ্রহ পায়, এমন কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। তবে খেলাধুলাভিত্তিক ও গল্পভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম আমরা আজকে তৈরি করে কালকেই চাপিয়ে দেব না। আমরা কারিকুলাম আপডেটের ঘোষণা দেব, পাইলটিং করব, প্রশিক্ষণ দেব; তারপর কারিকুলাম আপডেট করব।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসে (সহশিক্ষা কার্যক্রম) আমরা গুরুত্বারোপ করছি। প্রতিটি স্কুলে ৬-৭টি খেলা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। এছাড়া নাচ, গান ও অভিনয় শেখার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আমরা কাজ করছি।
এ সময় তিনি শিক্ষকদের কার্যকরী প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, পিটিআই থেকে প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১০ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই ট্রেনিংয়ের কন্টেন্টগুলো বেশ ভালো, আমি দেখেছি ও পড়েছি। কিন্তু স্কুলে গিয়ে আমি এই ট্রেনিংয়ের কোনো প্রয়োগ দেখতে পাই না। টিচারদের প্রশিক্ষণগুলো আরও কার্যকরী করা হবে।
সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী। অন্যান্যের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্।
২৩ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পে পুরস্কারের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের
‘স্কিল ইজ দ্য ফিউচার: ইয়ুথ এমপ্লয়্যাবিলিটি সামিট ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্ভাবনী প্রকল্পে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে ধানমন্ডি ড্যাফোডিল প্লাজায় গ্লোবাল অন্ট্রোপ্রেনিউরশিপ নেটওয়ার্ক (জিইএন) বাংলাদেশ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এই সামিটের আয়োজন করা হয়।
সামিটে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরির আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরি করতে হবে, যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় ‘ক্রাইম প্যাটার্ন রিকগনিশন’ ও ‘ক্রাইম ডিটেকশন’ সফটওয়্যার তৈরির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন, এ ধরনের কার্যকর ও বাস্তবমুখী সফটওয়্যার তৈরি করতে পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে। এছাড়া এসব উদ্ভাবনী প্রকল্প বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার শুরু থেকেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দক্ষতাভিত্তিক সংস্কৃতি ও সমাজ গঠন করার বিষয়ে। আমাদের শিক্ষা হবে ক্যারিয়ারভিত্তিক। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য দীর্ঘ কয়েক বছর সময় ও সম্পদ ব্যয় করে। এই ব্যয়ের বিনিময়ে তো প্রাপ্তি থাকতে হবে, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তি হবে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার। সুন্দর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দক্ষতা।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব রয়েছে। এজন্য বিদেশিরা আমাদের দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বেতন নিয়ে যাচ্ছে। প্রাইমারি স্কুল থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দক্ষতার বিষয়ে মানসিকতা তৈরি করতে চাই। আমাদের সরকার জবাবদিহির সরকার। নির্বাচনের সময় আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা গাড়বই ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।
২৪ দিন আগে