দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। বছরে একবার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক স্কুলে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দিতে সক্ষম হব।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার: কৌশলগত পথনির্দেশনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে এই নীতি সংলাপের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের মধ্যে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষাখাতের উন্নয়নে থ্রি সি: কারিকুলাম, ক্লাসরুম, কনসিসটেন্সি ঠিক করতে হবে। ক্লাসরুমের অবকাঠামো ও পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের প্রাইমারি শিক্ষার কারিকুলামে অনেক ঘাটতি রয়েছে। আমি ইতোমধ্যে স্কুলে স্কুলে সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেছি। কয়েকটি স্কুলে গিয়ে, বিশেষ করে, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই থেকে পড়তে বলার পর দেখেছি, পড়াটা তাদের জন্য বেশ মুশকিল হয়। আসলে আমাদের দেখতে হবে, তারা আসলে কী পড়ছে? পড়াগুলো, ভাষাগুলো তাদের জন্য উপযোগী কিনা। সাবলীলভাবে তারা পড়তে পারবে কিনা। আমার কাছে মনে হয়েছে, তাদের জন্য পড়াগুলো বেশ কঠিন। কারিকুলাম পর্যালোচনা করে আপডেট করতে হবে।’
যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকে খেলাধুলাভিত্তিক ও গল্পভিত্তিক শিক্ষা চাই। শিক্ষার্থীরা যেন পড়ার আগ্রহ পায়, এমন কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। তবে খেলাধুলাভিত্তিক ও গল্পভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম আমরা আজকে তৈরি করে কালকেই চাপিয়ে দেব না। আমরা কারিকুলাম আপডেটের ঘোষণা দেব, পাইলটিং করব, প্রশিক্ষণ দেব; তারপর কারিকুলাম আপডেট করব।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসে (সহশিক্ষা কার্যক্রম) আমরা গুরুত্বারোপ করছি। প্রতিটি স্কুলে ৬-৭টি খেলা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। এছাড়া নাচ, গান ও অভিনয় শেখার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আমরা কাজ করছি।
এ সময় তিনি শিক্ষকদের কার্যকরী প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, পিটিআই থেকে প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১০ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই ট্রেনিংয়ের কন্টেন্টগুলো বেশ ভালো, আমি দেখেছি ও পড়েছি। কিন্তু স্কুলে গিয়ে আমি এই ট্রেনিংয়ের কোনো প্রয়োগ দেখতে পাই না। টিচারদের প্রশিক্ষণগুলো আরও কার্যকরী করা হবে।
সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী। অন্যান্যের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্।