মেঘনা নদী
পন্টুন সংকটে চাঁদপুরের পুরানবাজার, ঝুঁকিতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শ্রমিক জীবন
চাঁদপুরের বাণিজ্যিক হাব পুরানবাজারে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে পর্যাপ্ত পন্টুন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও দিনমজুররা। এতে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
পুরানবাজারের নদীপাড়ের বিভিন্ন ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে পন্টুনের অভাব রয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে মালামাল লোড-আনলোড করতে হচ্ছে শ্রমিকদের। ইতোমধ্যে এ কাজে গিয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে পুরানবাজার চাঁদপুরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীসংলগ্ন ভূঁইয়ার ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য লোড-আনলোড করা হয়। তবে বর্তমানে সেখানে মাত্র একটি পন্টুন রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে পন্টুনটি প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। নদীর পাড় প্রশস্ত হয়ে যাওয়ায় ট্রলার বা জাহাজ থেকে গুদামে মালামাল পরিবহনে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ বিষয়ে প্রবীণ চাল ব্যবসায়ী নকীব চৌধুরী, মাইনুল ইসলাম কিশোর, নাজমুল আলম পাটোয়ারী এবং লবণ ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় জানান, পুরানবাজারের ব্যবসা সম্প্রসারণে ২০১৭ সালের মে মাসে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালকের কাছে দেওয়ানঘাট, ১ নম্বর ঘাট এবং জনতা লবণ মিল-সংলগ্ন এলাকায় তিনটি পন্টুন স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সে সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পন্টুনের অভাবে শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনস্বার্থে দ্রুত নতুন পন্টুন স্থাপন জরুরি।
চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নাজমুল আলম পাটোয়ারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জনতা লবণ মিলসের মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভূঁইয়ার ঘাটের পন্টুনটি পুরানবাজারের ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এখান দিয়েই অধিকাংশ পণ্য লোড-আনলোড হয়। তাই দ্রুত নতুন পন্টুন স্থাপন প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বন্দর কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি তিনি নতুনভাবে জেনেছেন। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং সেখানে জেটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পুরানবাজারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে আসবে।
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকার চাল, ডাল, লবণ, তেল, চা পাতা, ভুষিসহ বিভিন্ন পণ্যের লেনদেন হয়। ব্রিটিশ আমল থেকেই নৌপথ, রেলপথ ও সড়কপথে এই বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
৫ ঘণ্টা আগে