ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করবে: ফরাসি রাষ্ট্রদূত
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অনুপ্রেরণাদায়ক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের উৎসাহিত করবে এবং দেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। তিনি বলেন, ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অসাধারণ ভালোবাসা ও উদ্দীপনার কারণে দেশটি ধীরে ধীরে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেবে এবং একটি উচ্চমানের দল গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে ইউএনবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফ্রান্সেও মিশেল প্লাতিনি কিংবা জিনেদিন জিদানের মতো খেলোয়াড়রা পুরো একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। যেমন এমবাপ্পের বয়স ছিল মাত্র সাত বছর, যখন ২০০৬ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল। নিঃসন্দেহে সেটি তাকে স্বপ্ন দেখাতে এবং লেগে থাকতে অনুপ্রাণিত করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ফ্রান্স এ ধরনের অনুপ্রেরণাই দিতে পারে। আর আমি মনে করি, এই দেশে ফুটবলের প্রতি যে অসাধারণ ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস রয়েছে, তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে এবং একটি উচ্চমানের দল গড়ে তুলবে।’
ফুটবল কীভাবে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারে—এমন প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বকাপে ফরাসি জাতীয় দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ফ্রান্সকে বিশ্বের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, এটি একটি ঐক্যবদ্ধ, গতিশীল, কল্পনাশক্তিসম্পন্ন ও দক্ষ ফরাসি দলের প্রতিচ্ছবি, যেখানে অসাধারণ মানের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি শক্তিশালী দলীয় চেতনা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি ফ্রান্সের মূল্যবোধেরই প্রতিফলন। আমাদের জাতীয় মূলমন্ত্রে রয়েছে—স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব। আমরা সাধারণত শেষ শব্দটি নিয়ে কম কথা বলি, কিন্তু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দলের মধ্যে সত্যিকারের ভ্রাতৃত্ববোধ রয়েছে। কঠিন সময়ে তারা একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।’
তিনি বলেন, অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে নিজেকে দলের স্বার্থে নিবেদিত রেখেছেন। ‘আমি মনে করি, এটি সত্যিই একটি সুন্দর বার্তা এবং এটি আমাদের বাংলাদেশি বন্ধুদের ফ্রান্স সফরে আরও উৎসাহিত করবে।’
বাংলাদেশে ফ্রান্স জাতীয় দলের অসংখ্য সমর্থকের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের সমর্থন ও আস্থার জন্য তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স সবসময় সুন্দর ফুটবল, প্রতিভা, দলীয় চেতনা এবং পারস্পরিক সংহতি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, ‘ফলাফলের বাইরেও ম্যাচটি যেন উপভোগ্য হয়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়া, ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করা এবং যাকে আমরা “ফরাসি শৈলী” বলি, তা এই দলের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের অংশ। তাই আপনাদের এই উচ্ছ্বাসের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমি নিশ্চিত, ফরাসি দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং দারুণ একটি ম্যাচ উপহার দেবে। আর অবশ্যই আমি আশা করি, “লে ব্লু” জয়ী হবে।’
বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশ ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেও মন্তব্য করেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তাদের মধ্যে খুব শক্তিশালী প্রতিযোগিতা রয়েছে, তবে সেটি কেবল খেলাধুলায়। ফ্রান্স ও স্পেন দুটি বন্ধুত্বপূর্ণ এবং প্রতিবেশী দেশ। আমরা একে অপরকে খুব ভালোভাবে চিনি এবং জীবন ও ফুটবল—উভয় ক্ষেত্রেই পরস্পরকে সম্মান করি।’
স্পেন দলকে অত্যন্ত শক্তিশালী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। তাই এমন একটি দলের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে পারছি বলে আমরা খুবই রোমাঞ্চিত।’
স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘খুবই সহজ। আমি আমার ফোনটি হাতে নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েলকে (গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু) ফোন করেছি। আমরা একসঙ্গে ম্যাচটি দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘ফ্রান্স স্পেনের বিপক্ষে খেলছে বলে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। এই দুই দলের ম্যাচ সবসময়ই অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন হয়। আমার মনে আছে, ১৯৮৪ সালের ইউরোর ফাইনালে মিশেল প্লাতিনির নেতৃত্বে ফ্রান্স খুব অল্প ব্যবধানে লুইস আরকোনাদার নেতৃত্বাধীন স্পেনকে হারিয়েছিল। সেটিই ছিল আমার দেখা প্রথম ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ।’
টানা তৃতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ফ্রান্স। তবে তার আগে ১৪ জুলাই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দুই দলের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে স্পেনকে হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
ফ্রান্স ফাইনালে উঠলে ঢাকায় অবস্থানরত পুরো ফরাসি সম্প্রদায়কে নিয়ে একসঙ্গে খেলা দেখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ম্যাচটি দেখব না? আমি জানি, সেখানে ম্যাচ চলাকালে অসাধারণ পরিবেশ থাকে এবং দর্শকেরা দুই দলের প্রতিই দারুণ সম্মান প্রদর্শন করেন।’
১৭ দিন আগে
‘নীল হাঙ্গর’দের রক্ষণে কাটা পড়ল স্পেন
কাবো ভের্দে বা কেপ ভার্দ যে নামেই ডাকুন, ফুটবলের দুনিয়ায় দেশটির একটি ডাকনাম রয়েছে ‘তুবারোঁইস আসুইস’, বাংলায় যার অর্থ ‘নীল হাঙর’। তবে আক্রমণে নয়, রক্ষণাত্মক ফুটবল দিয়ে তারা শক্তিশালী স্পেনকে যে কামড় দিল, ফুটবলপ্রেমীরা তা মনে রাখবে বহু দিন।
পুরো ম্যাচের ৭৪ শতাংশ বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে মোট ২৭টি আক্রমণ শানাল বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় সেরা দল স্পেন। কিন্তু আকাঙ্ক্ষিত একটি গোলের দেখা পেল না কোনোভাবেই। ফলে অপ্রত্যাশিত গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ‘শিরোপার অন্যতম দাবিদার’ তকমা নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা লা রোহাদের।
প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে এই ফলাফল তাই কেপ ভার্দের জন্য জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর এই ঐতিহাসিক ফলাফলের কেন্দ্রে ছিলেন একজন মানুষ—৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক হোসিমার দিয়াস ভোসিনিয়া।
৫ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশটির ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে এসেছেন পেদ্রো লেইতিয়াও ব্রিতো ‘বুবিস্তা’। ৭০ বছর বয়সী বুবিস্তা কেন ২০২৫ সালে আফ্রিকার বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তার প্রমাণ তিনি দিলেন সবচেয়ে বড় মঞ্চেই। স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে এমন শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণাত্মক কৌশল সাজিয়ে তিনি কার্যত দাবার ছকে আটকে ফেলেন দে লা ফুয়েন্তেকে।
৪৪ দিন আগে
দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ডাচদের রুখে দিল জাপান
বিশ্বকাপের মঞ্চে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করে পরের ধাপে পৌঁছানো যে কতটা কঠিন তা বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই প্রস্তুত ছিল জাপান। নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাদের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট—ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর সুযোগের অপেক্ষা। পুরো ম্যাচজুড়ে সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করল এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধিরা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও তাই ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরে ডাচদের হতাশ করা ড্রয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জাপান।
বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে এফ গ্রুপের প্রথম ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
ম্যাচের সবগুলো গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫১তম মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইকের হেডারে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে যাওয়ার ৬ মিনিট পর জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা। তবে ৬৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচে ফের এগিয়ে গিয়েছিল শক্তিমত্তা ও মাঠের পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা ডাচরা। এর ৮৯ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে জাপানের সমর্থকদের আনন্দে ভাসান দাইচি কামাদা।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে থাকে নেদারল্যান্ডস, অন্যদিকে মাথা ঠান্ডা রেখে ডাচ আক্রমণ রুখে দেওয়ায় মনোযোগী হয় জাপান। তবে তৃতীয় মিনিটে ডনিয়েল মালেনের শট থেকে ভালো একটি সুযোগ এসেছিল ডাচদের, অবশ্য গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির নৈপুণ্যে শুরুতেই পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায় জাপান।
শুরুর দিকে নিজেদের অর্ধেই ব্যস্ত থাকতে হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে জাপান। ১৫তম মিনিটে দাইজেন মায়েদার নিচু ক্রস থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল তারা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডাচ রক্ষণ তা নস্যাৎ করে দেয়।
৪৫ দিন আগে
ঋণের টাকায় আর্জেন্টিনার রঙে গ্রাম রাঙালেন ঈশ্বরগঞ্জের ‘সুমন মেসি’
ফুটবলপ্রেমীরা প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে নানাভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের ভ্যানচালক সুমন গৌড় ওরফে ‘সুমন মেসি’ সেই ভালোবাসাকে নিয়ে গেছেন ভিন্ন মাত্রায়। স্ত্রীর নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে রাঙিয়েছেন নিজের গ্রাম, ঘরবাড়ি ও ভ্যানগাড়ি।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের দত্তপাড়া গ্রামের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করেন সুমন গৌড়। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানো এই আর্জেন্টিনা সমর্থক আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সেই অর্থে তিনি প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রচারে নেমেছেন।
নিজের ঘর ও একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ভ্যানগাড়িকে আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে সাজানোর পাশাপাশি এলাকায় টানিয়েছেন বড় আকারের ১৬টি আর্জেন্টিনার পতাকা। কিনেছেন আর্জেন্টিনার রঙের জার্সি, এমনকি লুঙ্গিও।
৪৬ দিন আগে