সুলাওয়েসি
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসিতে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি প্রদেশে আজ মঙ্গলবার ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ভূমিকম্পে বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পালু শহর থেকে ৪৩ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
রাজধানী পালু ও আশপাশের এলাকায় মূল ভূমিকম্পের পর আরও কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পরাঘাতটির মাত্রা ছিল ৫.২।
ভূমিকম্পের পর সুনামি সৃষ্টি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় দেশটির উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যান।
তবে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। যদিও সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আরও কিছু সময় পরাঘাত অনুভূত হতে পারে।
আট বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার পালু শহর বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এবারের ভূমিকম্পের প্রবল কম্পনে সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পালু শহর ও আশপাশের এলাকার মানুষ দ্রুত খোলা স্থানে আশ্রয় নেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি হাসপাতাল রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেয়। রোগীদের মধ্যে অনেকের শরীরে তখনও স্যালাইনের নল লাগানো ছিল।
ভূমিকম্প-কবলিত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ছবিতে দেখা যায়, এ ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি স্থাপ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও আংশিকভাবে ছাদ ধসে পড়েছে, কোথাও দেওয়াল ভেঙে গেছে। এছাড়া রাস্তাজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কেউ হতাহত হয়েছেন কি না এবং কত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, এসব তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পালুর একটি চার তারকা হোটেলের মহাব্যবস্থাপক এফেন্দি নাতালি বলেন, ‘আমরা হোটেলের সব অতিথিকে সরিয়ে নিয়েছি। এমনকি যারা নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন তাদেরও বের করে আনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। ভয় পাওয়াটা এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক। বর্তমানে সবাই নিরাপদ আছেন।’
তিনি আরও জানান, ভূমিকম্পে হোটেলটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পালুর বাসিন্দা মুখতার আহমাদ জানান, ‘এবারের ভূমিকম্পের কম্পন ছিল খুবই শক্তিশালী। আগের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনও আমাদের মনে রয়েছে। তাই পরাঘাতের আশঙ্কায় আমরা বাইরে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটির ভূখণ্ডের নিচ দিয়ে বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্টলাইন চলে গেছে। ফলে সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
সুলাওয়েসির অনেক বাসিন্দা এখনও ২০১৮ সালের সেই ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। ওই ভূমিকম্পে পালু শহর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পের পরপরই ৩ মিটার উঁচু সুনামি আঘাত হেনেছিল। এছাড়া সে বছর ‘লিকুইফ্যাকশন’ নামে একটি বিরল ভূতাত্ত্বিক ঘটনা ঘটেছিল। এর ফলে সুলাওয়েসি অঞ্চলে মাটি নরম হয়ে ধসে পড়েছিল, যা পুরো এলাকাকে গ্রাস করে।
সেই দুর্যোগে সুলাওয়েসিতে ৪ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। মাটিধসের ঘটনায় পুরো এলাকা মাটির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সময় অনেক মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়েছিলেন।
এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সুলাওয়েসি দ্বীপের মামুজু শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে অন্তত ১০০ জন নিহত হন। পরাঘাতের আতঙ্কে তখন হাজার হাজার মানুষ কয়েক দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছিলেন।
৩ দিন আগে