মাহ্দী আমিন
৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’: মাহ্দী আমিন
৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এতে অংশগ্রহণ করবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, সকল ছেলে শিক্ষার্থীর জন্য এটি বাধ্যতামূলক। আর মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ঐচ্ছিক। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে তাদের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো—এখানে ন্যায্যতা থাকবে, সমতা থাকবে এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমে আসবে। সেই লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগামীর নেতৃত্ব দেওয়ার যে গুণাবলি, মেধা এবং মননশীলতা রয়েছে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আজ (সোমবার) সর্বসম্মতিক্রমে এখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের সহযোগিতা প্রদান করবে। যেসব মাঠে খেলা অনুষ্ঠিত হবে, সেসব মাঠ সেভাবেই প্রস্তুত করা হবে।
তিনি বলেন, সচিবরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে সভা করবেন। স্থানীয় মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সকল শিক্ষা বোর্ডে পরিদর্শন করবেন। তিনি প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেখানে যার সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এখানে দুইজন সচিব রয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রয়েছেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব রয়েছেন। তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং যেখানে প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রাইমারি স্কুল গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে যে ফরম্যাট ছিল, এখানেও একই ফরম্যাট অনুসরণ করা হবে। আমরা যেহেতু বলছি, সারা বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই, তাই প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা পর্যায়, তারপর বিভাগীয় পর্যায় এবং সবশেষে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রথম যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে আমরা প্রত্যাশা করছি প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি, প্রাইমারি স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো ফাইনালেও ইনশাআল্লাহ আমরা তার উপস্থিতি আশা করছি। এই ফুটবল টুর্নামেন্টের বৈশিষ্ট্য হলো, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এর পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। সে কারণেই প্রাইমারি স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশাপাশি আমরা এটিকে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ বলছি। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এই আয়োজনকে অনুপ্রাণিত করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যেখানে যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, আমরা সমন্বিতভাবে তা নিশ্চিত করব।
সারা দেশ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় যারা ভালো করে, তাদের সঠিক মূল্যায়ন ও অনুপ্রেরণা জোগালে তা তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের পথকে আরও প্রশস্ত করবে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং জাতীয় পর্যায়ে তাদের সাফল্যের যাত্রাকে সুগম করতে গণমাধ্যমে তাদের অর্জনগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন মাহ্দী আমিন। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিভা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রচারণার আওতায় আনতে মিডিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি।
তিনি সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালার প্রণয়ন এবং সুষ্ঠু আয়োজনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাঙ্গনে সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও শিক্ষার একটি ত্রিপাক্ষিক বিপ্লব সৃষ্টি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রাথমিক পরিকল্পনা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সূচি প্রস্তুত করে তা গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে শেয়ার করা হবে। এছাড়া প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করার টার্গেট রয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, এটিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে একাধিক মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে। এই সমন্বিত আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি বিশাল আয়োজন, তাই প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, এই সুপরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সৃজনশীল ক্রীড়া ও মেধার সঠিক বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে আগামী বাংলাদেশের কাণ্ডারি হিসেবে আমাদের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধার সাক্ষর রাখতে ও উঠে আসতে সক্ষম হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রমুখ।
১ দিন আগে
আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, আমরা বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, আগামী মাসের (আগস্ট) শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।
কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই যে, আমাদের দুই দেশই অবিলম্বে এই শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একটি নতুন ও আধুনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে চাচ্ছি, যেন বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তির জন্য মালয়েশিয়ার দুয়ার খুলে যায়।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে সব খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথাও জানান তিনি।
বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, যেন আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ ইনশাআল্লাহ্ বাংলাদেশি শ্রমিকদের আগমন (মালয়েশিয়ায়) শুরু হতে পারে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার পদক্ষেপে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম, মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার সহযোগিতায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এই প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মী যাওয়া শুরু হলে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন ও কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের শ্রমবাজার খুলে যাচ্ছে এবং আমরা আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যে বেশকিছু ভাইবোন এখানে এসে কাজ শুরু করবেন, তাই আপনারা সবাই ধৈর্য ধারণ করবেন এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন।
দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যেন কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। একই সঙ্গে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
কারিগরি কার্যক্রম ও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, খুব শিগগিরই টেকনিক্যাল পর্যায়ে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ান হাইকমিশন যৌথভাবে এই কাজ এগিয়ে নেবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে প্রক্রিয়াগুলোকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মালয়েশিয়া সরকার খুব শিগগিরই তাদের কাজের পদ্ধতির বিষয়ে আপডেট জানাবে এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলো জানানো হবে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের হাইকমিশনকে আরও জনবান্ধব করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন যেন সাধারণ কর্মীদের আস্থার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ করেছি, প্রথম ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যেন বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনশক্তিকে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার প্রসঙ্গ টেনে মাহ্দী আমিন বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল বর্তমান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে মালয়েশিয়া নিজস্ব যাচাই-বাছাই ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এজেন্সির চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান, এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে এতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা মালয়েশিয়া সরকারকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিতে জড়িতদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বিগত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিবর্গের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং আমরা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছি যে, যারা ফ্যাসিবাদী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিংবা সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে দুর্নীতি করেছে, তাদের কেউই নতুন তালিকায় স্থান পাবেন না। মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি পুনরায় শুরু করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমল তা এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতিসহ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কীভাবে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।
দুই দেশের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে, তাদের কাজের পরিধি আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন খাতের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যাজিয়াটা এবং এমএমসি পোর্টস-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।
জ্বালানি খাতের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তা নিরসনে মালয়েশিয়ার সরকারি জ্বালানি জায়ান্ট পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া দক্ষ জনশক্তির বিশাল বাজার হিসেবে মালয়েশিয়ায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে।
এর আগে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মাহ্দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বিশেষ করে বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তার আলোকে পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে এই সমস্যা সমাধানের ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ও শ্রমবাজার বন্ধের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বহুমাত্রিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাইবোনেরা। তাদের শ্রম ও নিষ্ঠা যেমন মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে, তেমনি তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকেও গতিশীল রেখেছে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারটি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহ্দী আমিন জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলের বিভিন্ন অনৈতিক ও অনিয়মের কারণেই মূলত বাজারটি বন্ধ হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও নানামুখী জটিলতার কারণে তা এতদিন বন্ধই ছিল। তবে বর্তমান সরকারের নানামুখী ও কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অবশেষে তা আবার উন্মুক্ত হলো।
বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আগের সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এর আগেও এখানে এসেছিলাম। এখানকার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান এবং তার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সব অংশীদারের সঙ্গে আজ থেকে প্রায় তিন মাস আগে আমরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলাম। সেই ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই তারা আবারও মালয়েশিয়া সফরে এসেছেন বলে জানান তিনি।
গত দুই দিনের বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, সহকারী সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ‘দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই ছিল এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল নীতি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এই আলোচনার মূল ভিত্তিই ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, অর্থাৎ বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা করা।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আগামীকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।
৫ দিন আগে
এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে সরকারের ৫ উদ্যোগ তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সরকারের নেওয়া পাঁচটি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব উদ্যোগের কথা জানান।
মাহ্দী আমিন বলেন, আজ চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত সারা দেশে ২,৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও যথেষ্ট উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে জটিলতা নিরসনে নির্বাচিত সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
‘এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে শিক্ষার্থীবান্ধব ৫টি উদ্যোগ’ শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
প্রথম উদ্যোগ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ, এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে, বিপুলসংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে, সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সারা দেশে পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় উদ্যোগে বলা হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, সেই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
চতুর্থ উদ্যোগ হিসেবে তিনি জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
পঞ্চম উদ্যোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ কারণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় সচেষ্ট রয়েছে। সেই পথযাত্রায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার।’
২০ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত’ শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রত্যয় মাহ্দী আমিনের
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের ‘বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত’ শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, সাতটি জেলা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছে। ‘এই ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যে আবেগ, উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসা, এটিই প্রমাণ করে যে একজন জনগণের নেতা যখন রাষ্ট্র পরিচালনায় আসেন, কীভাবে তিনি দেশের মানুষের ভাগ্যকে বদলে দিতে পারেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সেই রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এবং তার হাতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশের বিপর্যস্ত, লুণ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তুলব। সবাই মিলে বিনির্মাণ করব এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষার্থীরা হবে আগামী বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর, মূল অগ্রদূত।’
তিনি বলেন, আমরা চাই এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানে প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা, বিরূপ প্রকৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে আমাদের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করবে, আগামীর বাংলাদেশের কান্ডারী তারাই। প্রধানমন্ত্রী যে সমৃদ্ধ এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকল্প চেয়েছেন, সেটি তাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আজ দেশের প্রতিটি জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে। ‘এখানে যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ দেখলাম, সেগুলোতে কিন্তু আমাদের সেই শিক্ষার্থীরাই অংশগ্রহণ করেছে যারা সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উঠে এসেছে। আজ দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে বন্যাকবলিত সাতটি জেলার শিক্ষার্থীরাও প্রবল বন্যা ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছোট্ট ছোট্ট শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জেলার স্বাতন্ত্র্য, সাফল্য ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে উপস্থিত হয়েছে। তাদের এই উপস্থিতি শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতির পাশাপাশি প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য মানসিকতারও এক অনন্য প্রতিফলন।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে একটি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, যার প্রতিফলন নির্বাচনি ইশতেহারেও রয়েছে। ‘তার একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আজকে প্রায় ৬৫ হাজার স্কুলে একসঙ্গে আমরা প্রায় দুই লাখ বৃক্ষরোপণ করেছি। এই বৃক্ষরোপণ সমাপ্ত হবে না। আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্কুলে এই বৃক্ষগুলোকে পরিচর্যা করবে।’
মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে মানবিক মূল্যবোধ থাকবে। যেখানে শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তারা বাংলাদেশের যে পতাকা সেটি আমাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ড ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে প্রসারিত করবে, আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের যে শিক্ষাব্যবস্থা সেখানে কিন্তু সবচাইতে বড় ভূমিকা ছিল শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের। আমাদের যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম রয়েছে গণশিক্ষা, সে গণশিক্ষা কিন্তু শহিদ জিয়ার হাত ধরে সারা বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে গিয়েছিল। আজকে যে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব আমরা করছি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সেটি কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে শুরু হয়েছিল। আর আমাদের আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সুদীর্ঘ রাজনীতিতে তিনি বারবার তৃণমূলে ছুটে গিয়েছেন, বারবার ছুটে গিয়েছেন প্রান্তিক এলাকায় এবং নিশ্চিত করতে চেয়েছেন সব জায়গাতেই অবশ্যই ভালো শিক্ষক থাকতে হবে। অবশ্যই ভালো শিক্ষার্থী থাকতে হবে, অবশ্যই ভালো কারিকুলাম থাকতে হবে।
বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব যারা করবে, আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব যারা দেবে, সেই শিক্ষার্থীদের যার যেই সাবজেক্ট পড়তে ভালো লাগে, যার যেই ফিল্ডে ভালো করতে ইচ্ছা হয়, রাষ্ট্রের দিক থেকে, সরকারের দিক থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।
তিনি বলেন, আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন রয়েছে, তার আলোকে সারা বছরজুড়ে সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সন্নিবেশের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশজুড়ে সে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেরা শিক্ষার্থীরা, মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভা এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন পাবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ভেতরে আমরা ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটা ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আগামীতে প্রাইম-মিনিস্টার্স ফুটবল গোল্ড কাপের জন্য তিনি আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবেন।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে বছরের পর বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে এবারের আয়োজনটি বিশেষভাবে ভিন্নমাত্রা বহন করছে। কারণ, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন, তার অন্যতম ভিত্তি হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন। দেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর লক্ষ্য, স্বপ্ন ও এগিয়ে যাওয়ার অভিযাত্রাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের মাধ্যমে আজকের এই অনুষ্ঠানে সেই দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন আমরা প্রত্যক্ষ করছি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে