মাহ্দী আমিন
ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর: মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে ‘আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়, মানুষের জন্য কাজ’ এবং ‘ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যেতে এক দিন, ফিরতে এক দিন। মাঝের মাত্র চার দিন। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে, এই চার দিনেই একের পর এক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থে কূটনৈতিক ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে মাত্র ছয় দিনের সফর।
তিনি বলেন, সফরের আনুষ্ঠানিক সফরসঙ্গী ৩৫ জন। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ১৫ জন। রয়েছেন নিরাপত্তা, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিরা।
‘আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়; মানুষের জন্য কাজ। ক্ষমতা প্রদর্শন নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা’ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, এই সফর একই সঙ্গে পৃথিবীর ইতিহাসেও একটি বিশেষ মুহূর্ত।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের সন্তান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাঁড়াবেন জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে। একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলবেন বাংলাদেশের মানুষের কথা, দেশের স্বার্থ, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আরও একটি অনন্য দিক রয়েছে উল্লেখ করে তার কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, ঠিক সেই জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন তারই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণঅভ্যূথান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে।
‘এটি শুধু একটি বিদেশ সফর নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়; এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ। এটি আবেগ, অনুভূতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।
৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পাঁচ দিনের সফরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বৈষম্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক কূটনীতি নিয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
তুরস্ক এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার পর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন।
ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। সফরকালে তিনি হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন।
সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। তার বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
১৫ দিন আগে
মুডি’স রেটিংয়ের ফলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে: মাহ্দী আমিন
আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি’সের রেটিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল হওয়ায় বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে গত এক মাসে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন বহুমুখী ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আজকের সংবাদ সম্মেলনে আমি আবারও আপনাদেরকে একটা সুখবর দিতে চাচ্ছি যে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি’স (Moody's)-এর রেটিংয়ে বাংলাদেশকে গতকাল নেতিবাচক থেকে একটা লম্বা সময় পর স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরত আনা হয়েছে।
‘অর্থাৎ বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারা বিশ্বে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগই বাড়বে না, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাও বাড়বে না; বরং আমাদের ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট—অর্থাৎ নারী, যুবকদের ক্ষমতায়নের জন্য যে কর্মসংস্থান প্রয়োজন, সেটিও একটি ইতিবাচক ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।’
মুডি’স গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমানের দীর্ঘমেয়াদি রেটিং বি২ অপরিবর্তিত রেখে এর আউটলুক ‘নেগেটিভ’ থেকে ‘স্টেবল’ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, রাজনৈতিক ও বৈদেশিক খাতের তীব্র চাপ কমে আসায় ঝুঁকিগুলো এখন তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, আমরা দেখেছি অত্যন্ত স্বল্প সময়ে তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গ্যাসের প্রবাহ অনেকটাই বেড়েছে এবং আমরা গ্যাসের যে দৃশ্যমান উন্নয়ন আজ দেখতে পাচ্ছি, সামনের দিনগুলোতে ইনশাল্লাহ সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।
মূল্যস্ফীতি কমার দাবি
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, গত বছরের একই সময় কিংবা গত মাসের তুলনায় দেশের মূল্যস্ফীতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে এবং খাদ্যপণ্য ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হারও কমেছে।
তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহও তুলনামূলকভাবে ভালো।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশ এবং বিশেষ করে আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেল তেলের দাম অপেক্ষাকৃত কম। জনগণের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি খাতে সরকার সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাত খাতে সরকারের পদক্ষেপ
মাহ্দী আমিন বলেন, গত এক মাসে নির্বাচিত সরকার যেসব জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো মোটামুটিভাবে সাতটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। এগুলো হলো—
১. তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন;
২. গণমানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন;
৩. নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা;
৪. পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন;
৫. আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য;
৬. যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; এবং
৭. প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক।
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ কোটি টাকার ঋণ তহবিল
মাহ্দী আমিন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় গত এক মাসে ৫০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিলের মাধ্যমে দেশব্যাপী উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর অধীনে প্রতিবছর ৫ হাজার সম্ভাবনাময় তরুণকে প্রারম্ভিক মূলধন সহায়তা দেওয়া হবে।
কোনো জামানত ছাড়াই প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল চ্যানেলে সুদমুক্ত ই-লোন সুবিধা চালু করা হচ্ছে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত তরুণদের জন্য দেশব্যাপী অনলাইন স্টার্টআপ তহবিলের সুযোগ উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
তরুণ উদ্ভাবকদের বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে জাতীয় ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার’ আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়ে দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
সাইবার সুরক্ষায় দেশে সাইবার ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম এবং জাতীয় আইসিটি ও সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয় কারখানায় সাশ্রয়ী আধুনিক স্মার্টফোন উৎপাদনে বিশেষ নীতিগত প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫ কোটি মানুষকে সুবিধার আওতায় আনতে কৃষি শ্রমিক, কৃষক ও রিকশাচালকসহ প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোনের কার্যকর মূল্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার প্রাথমিক লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ৪৫ লাখ মানুষকে বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা দিতে দেশব্যাপী আধুনিক ‘আলফা’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন ও তিনটি প্ল্যাটফর্ম চালুর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
কক্সবাজারে সমুদ্রসম্পদ ও ব্লু ইকোনমি গবেষণায় বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উচ্চশিক্ষায় প্রতিবছর ৫ শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীকে শতভাগ সৌদি সরকারি শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কওমি ও আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে বিনামূল্যে সুষম দুপুরের খাবারের রূপরেখা প্রণয়ন চলছে। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতে ঘোষিত ১৫ অনুশাসন বাস্তবায়ন এবং বছরব্যাপী খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অচল ৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রযুক্তি পার্ক কীভাবে কার্যকর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, সে জন্য শিল্প ও বাণিজ্যের সমন্বয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
নারী, শ্রমিক ও জনকল্যাণ
নারীদের সাইবার হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।
তিনি জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ নারী শিক্ষার্থীর সর্বজনীন উপবৃত্তি এবং স্কুলে পুষ্টিকর খাবারের স্থায়ী ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চা শিল্পে কর্মরত নারীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ২০ হাজার চা শ্রমিকের মধ্যে আধুনিক রেইনকোট বিতরণ করা হয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষায় ১৩টি দেশের ২২টি আন্তর্জাতিক আইন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সই করা হয়েছে।
জ্বালানি ও শিল্পে বড় কর্মসূচি
গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে মধ্যমেয়াদে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন কূপ খননের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, এলএনজি সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুটি এফএসআরইউ পর্যায়ক্রমে পাঁচটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকট নিরসনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শিল্প ও কৃষির বিকাশে ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি বড় সার কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে নতুন ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব ডিজেলচালিত সেচ পাম্প সৌরশক্তিতে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাঙামাটির বিদ্যুৎবিহীন ৩০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাসাবাড়ির ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের আধুনিক যন্ত্রাংশ আমদানিতে টানা ১৮০ দিন সব ধরনের শুল্ক ও কর মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে। কৃষিজমি রক্ষায় নদীর ড্রেজিংয়ের পলিমাটি দিয়ে পরিবেশবান্ধব আধুনিক ইট তৈরির প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
মাহ্দী আমিন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনায় ইলেকট্রনিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ চার লেনের নিরবচ্ছিন্ন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
মহাসড়কে যানজটমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে আগামী চার মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস স্বয়ংক্রিয় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ টোল ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের পাইকারি কাঁচাবাজার গাবতলীতে এবং ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল আধুনিক কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলছে।
তিনি বলেন, গত এক মাসে সরকারের বহুমুখী কল্যাণমূলক কর্মযজ্ঞ কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার সাফল্য নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথাগত শাসন পদ্ধতির বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দৌড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়বদ্ধতা ও পরিকল্পনার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, তা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে।’
তরুণ সমাজের ক্ষমতায়ন, কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, যুগোপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পথযাত্রা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০ দিন আগে
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনায় সরকার
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শিল্প অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং মান্দারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে চীনের গুয়াংডংয়ে ‘কারিগরি শিক্ষা সেতুবন্ধন ও চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক-বাণিজ্য মেধা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।
কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প ও শিক্ষার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের মূল অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখতে মান্দারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষক সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বসহ দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা বিনিময় জোরদার করা উভয় দেশের সংযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তার মতে, এ ধরনের সহযোগিতা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আরও টেকসই ও পারস্পরিক সুবিধাজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বকে টেকসই করতে দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলা অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সীমান্তপারের ই-কমার্স, সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি ও আধুনিক লজিস্টিকসে পারদর্শী মানবসম্পদ তৈরি করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
চীনের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এমন যুগোপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা হবে, যারা সরাসরি বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে জানান তিনি।
এ লক্ষ্যে উভয় দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, নিয়মিত ফ্যাকাল্টি সহযোগিতা ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে চীনের আধুনিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে বৃত্তি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়ানোও সরকারের অন্যতম পরিকল্পনা বলে জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, চীনের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আধুনিক শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদার আলোকে কারিগরি পাঠ্যক্রম পুনর্বিন্যাস, আন্তর্জাতিক মানের কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন এবং যৌথ সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
পাশাপাশি চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারদের সঙ্গে বাংলাদেশের পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
চীনা শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে দুই দেশের মধ্যে আধুনিক কর্মসংস্থান বিনিময় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পরপরই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চীনা শিল্পাঞ্চলগুলোতে ইন্টার্নশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
৪০ দিন আগে
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলোর সঙ্গে যৌথ অ্যাকাডেমিক অংশীদারত্ব গড়তে চীনের প্রতি আহ্বান মাহ্দী আমিনের
বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি বা দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিক্ষাকে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলোর সঙ্গে যৌথ অ্যাকাডেমিক ডিগ্রি ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, চীনের বহু বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্ব র্যাংকিং ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এসব বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চা ও উন্নত গবেষণার সংস্কৃতি বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার।
বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংঝুতে চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক এক সভায় মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন—এই চারটি বিষয়ে আলোচনা হয়।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমাদের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা অপরিসীম; প্রয়োজন কেবল যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম ও আধুনিক প্রশিক্ষণ, যেখানে চীনের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বৃত্তি বহুগুণে বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের চেয়েও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ল্যাবরেটরি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে যৌথ গবেষণা প্রকল্প হাতে নিতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের সূচনা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, পরবর্তীকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারও চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয়, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার পরেই চীনে এসেছিলেন।’
৪০ দিন আগে
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জাপানে চাকরির সুযোগ নিয়ে যা বললেন মাহ্দী আমিন
দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য বিনা খরচে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, সরকার জাপানিজ শিক্ষকদের বাংলাদেশে এসে ভাষা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। এছাড়া, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে তাদের কীভাবে ভিসা প্রক্রিয়ার আবেদন এবং আবাসন ব্যবস্থা সহজিকরণ করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়েছিল। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাপানের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার জাপানের সঙ্গে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাপানি ভাষা শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, টাউন লাইফ কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে জাপানে বাংলাদেশি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই পর্যালোচনা সভা হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সরকার নতুন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তৃতীয় ভাষার শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ চলমান।
তিনি বলেন, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল এবং আর্কিটেকচার বিষয়ে ডিপ্লোমা সনদধারীদের কর্মসংস্থান ভিসার মাধ্যমে জাপানে পাঠানো হবে। প্রার্থীদের ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে জাপানে প্রবেশ পর্যন্ত যাবতীয় ব্যয় বহন করবে জাপানিজ এই প্রতিষ্ঠান। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ল্যাব উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম দিয়েও প্রত্যক্ষ সহায়তা দেবে। নির্বাচিত প্রকৌশলীরা জাপানে যোগদানের পর প্রতি মাসে উচ্চ বেতন পাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার ভাতা ও বোনাস সুবিধাও পাবেন।
ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জাপানিজ ভাষা শিক্ষাক্রম প্রায় শেষ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এখন দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষাক্রম চলমান রয়েছে। সাফল্যের সঙ্গে যারা জাপানি ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন, তারা সবাই পর্যায়ক্রমে জাপানে কাজের সুযোগ পাবেন; তাদের মধ্যে প্রথম ব্যাচের চাকরি নিশ্চিত। তারা চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে জাপানে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান শুরু করবেন। বাকি নির্বাচিতরা আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে জাপানে প্রবেশ করবেন বলে সভায় নিশ্চিত করা হয়।
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় টাউন লাইফ জাপান লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোমিজাওয়া কাজুনোরি, শাখা ব্যবস্থাপক ওকাদা ইয়োহেইসহ মন্ত্রণালয় ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪১ দিন আগে
গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন স্থাপনে সরকার সর্বোচ্চ মানদণ্ড দেখিয়েছে: মাহ্দী আমিন
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ মানদণ্ড দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, এই সময়ে কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি এবং সরকারের ধৈর্য ও সহনশীলতার কারণে দেশে মতপ্রকাশের সুযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন দেখেছি; যেখানে একটি বারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। আমরা দেখছি সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা, অনেক সময় অনেকে সেই সীমা লঙ্ঘন করেছে। আমরা দেখেছি কীভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, অশোভন আচরণ করা হয়েছে, কিন্তু তারপরও সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিকে ধারণ করেই এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।’
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর জনগণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী ও দলকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়া সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতাকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের ডামি ভোটের নির্বাচন পেরিয়ে এই প্রথমবারের মতোই জনগণ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে, নিজেদের পছন্দের দলকে ভোট দিতে পেরেছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, খালেদা জিয়ার জানাজা ও নির্বাচনি প্রচারণায় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিফলন এসব ঘটনাতেও দেখা গেছে। গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতেও একই ধরনের জনসম্পৃক্ততা দেখা গেছে বলে তিনি জানান।
৪৯ দিন আগে
বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৫০ জন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিসর সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত নীতিমালা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দী আমিন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপ যৌথ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে অতুল কেশাপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সরকারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো শীর্ষে রয়েছে। এসব কোম্পানি বাংলাদেশে উচ্চমানের ব্যবস্থাপনা, নৈতিক মানদণ্ড ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে যে পরিকল্পনা, বিশেষ করে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য, তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মহলের আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
৫৩ দিন আগে
জেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’, পিছিয়ে পড়াদের অগ্রাধিকার: মাহ্দী আমিন
জেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’, যেখানে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়েই আমরা ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে এ নিয়ে বেশ কয়েকটি আলোচনা ও পরামর্শ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্’ চালু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা সরাসরি জেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাব এবং সেখানকার স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থী, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন এবং যারা কাজ খুঁজছেন উভয় পক্ষকে একটি মেলবন্ধনে আবদ্ধ করব। অফলাইন ও অনলাইন উভয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমরা তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেব।
এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, এই সময়োপযোগী উদ্যোগটি প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু হয়ে পরবর্তীতে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় প্রসারিত হবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমাদের একটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থাকলেও, সেখানে প্রকৃতপক্ষে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সমন্বয় নিয়ে সরাসরি কাজ করার কাঠামো এতদিন ছিল না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই অ্যামপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপন করা।
পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুফল পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রবাহ থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সেটিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সুবিধা বঞ্চিতদের জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় পূর্ণাঙ্গভাবে একীভূত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
দ্বিতীয় অধিবেশনের বিষয় ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) এবং এসডিজি।
দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক ভাগ্য পরিবর্তন ও টেকসই নাগরিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। দীর্ঘ সময় পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা আরও জোরালো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অভিমত ও ভোটাধিকারের ভিত্তি করে এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। নির্বাচনি এই নিরঙ্কুশ বিজয়ে সর্বস্তরের জনগণের অসামান্য অবদান রয়েছে। ফলে প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
উপদেষ্টা বলেন, শুধু সাময়িক উন্নয়ন নয়, বরং এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ভাগ্যোন্নয়ন ঘটে। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই সরকার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে।
প্রথম বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটাসহ সাতটিরও বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার কঠোর ব্যবস্থাপনায় দেশের বাজারে তেলের দাম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যেন নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারেন।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমা প্রমুখ।
৫৪ দিন আগে
৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’: মাহ্দী আমিন
৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এতে অংশগ্রহণ করবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, সকল ছেলে শিক্ষার্থীর জন্য এটি বাধ্যতামূলক। আর মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ঐচ্ছিক। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে তাদের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো—এখানে ন্যায্যতা থাকবে, সমতা থাকবে এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমে আসবে। সেই লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগামীর নেতৃত্ব দেওয়ার যে গুণাবলি, মেধা এবং মননশীলতা রয়েছে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আজ (সোমবার) সর্বসম্মতিক্রমে এখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের সহযোগিতা প্রদান করবে। যেসব মাঠে খেলা অনুষ্ঠিত হবে, সেসব মাঠ সেভাবেই প্রস্তুত করা হবে।
তিনি বলেন, সচিবরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে সভা করবেন। স্থানীয় মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সকল শিক্ষা বোর্ডে পরিদর্শন করবেন। তিনি প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেখানে যার সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এখানে দুইজন সচিব রয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রয়েছেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব রয়েছেন। তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং যেখানে প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রাইমারি স্কুল গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে যে ফরম্যাট ছিল, এখানেও একই ফরম্যাট অনুসরণ করা হবে। আমরা যেহেতু বলছি, সারা বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই, তাই প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা পর্যায়, তারপর বিভাগীয় পর্যায় এবং সবশেষে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রথম যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে আমরা প্রত্যাশা করছি প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি, প্রাইমারি স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো ফাইনালেও ইনশাআল্লাহ আমরা তার উপস্থিতি আশা করছি। এই ফুটবল টুর্নামেন্টের বৈশিষ্ট্য হলো, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এর পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। সে কারণেই প্রাইমারি স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশাপাশি আমরা এটিকে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ বলছি। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এই আয়োজনকে অনুপ্রাণিত করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যেখানে যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, আমরা সমন্বিতভাবে তা নিশ্চিত করব।
সারা দেশ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় যারা ভালো করে, তাদের সঠিক মূল্যায়ন ও অনুপ্রেরণা জোগালে তা তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের পথকে আরও প্রশস্ত করবে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং জাতীয় পর্যায়ে তাদের সাফল্যের যাত্রাকে সুগম করতে গণমাধ্যমে তাদের অর্জনগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন মাহ্দী আমিন। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিভা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রচারণার আওতায় আনতে মিডিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি।
তিনি সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালার প্রণয়ন এবং সুষ্ঠু আয়োজনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাঙ্গনে সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও শিক্ষার একটি ত্রিপাক্ষিক বিপ্লব সৃষ্টি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রাথমিক পরিকল্পনা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সূচি প্রস্তুত করে তা গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে শেয়ার করা হবে। এছাড়া প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করার টার্গেট রয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, এটিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে একাধিক মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে। এই সমন্বিত আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি বিশাল আয়োজন, তাই প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, এই সুপরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সৃজনশীল ক্রীড়া ও মেধার সঠিক বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে আগামী বাংলাদেশের কাণ্ডারি হিসেবে আমাদের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধার সাক্ষর রাখতে ও উঠে আসতে সক্ষম হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রমুখ।
৬৩ দিন আগে
আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, আমরা বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, আগামী মাসের (আগস্ট) শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।
কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই যে, আমাদের দুই দেশই অবিলম্বে এই শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একটি নতুন ও আধুনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে চাচ্ছি, যেন বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তির জন্য মালয়েশিয়ার দুয়ার খুলে যায়।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে সব খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথাও জানান তিনি।
বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, যেন আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ ইনশাআল্লাহ্ বাংলাদেশি শ্রমিকদের আগমন (মালয়েশিয়ায়) শুরু হতে পারে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার পদক্ষেপে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম, মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার সহযোগিতায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এই প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মী যাওয়া শুরু হলে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন ও কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের শ্রমবাজার খুলে যাচ্ছে এবং আমরা আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যে বেশকিছু ভাইবোন এখানে এসে কাজ শুরু করবেন, তাই আপনারা সবাই ধৈর্য ধারণ করবেন এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন।
দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যেন কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। একই সঙ্গে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
কারিগরি কার্যক্রম ও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, খুব শিগগিরই টেকনিক্যাল পর্যায়ে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ান হাইকমিশন যৌথভাবে এই কাজ এগিয়ে নেবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে প্রক্রিয়াগুলোকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মালয়েশিয়া সরকার খুব শিগগিরই তাদের কাজের পদ্ধতির বিষয়ে আপডেট জানাবে এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলো জানানো হবে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের হাইকমিশনকে আরও জনবান্ধব করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন যেন সাধারণ কর্মীদের আস্থার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ করেছি, প্রথম ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যেন বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনশক্তিকে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার প্রসঙ্গ টেনে মাহ্দী আমিন বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল বর্তমান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে মালয়েশিয়া নিজস্ব যাচাই-বাছাই ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এজেন্সির চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান, এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে এতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা মালয়েশিয়া সরকারকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিতে জড়িতদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বিগত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিবর্গের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং আমরা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছি যে, যারা ফ্যাসিবাদী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিংবা সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে দুর্নীতি করেছে, তাদের কেউই নতুন তালিকায় স্থান পাবেন না। মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি পুনরায় শুরু করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমল তা এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতিসহ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কীভাবে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।
দুই দেশের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে, তাদের কাজের পরিধি আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন খাতের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যাজিয়াটা এবং এমএমসি পোর্টস-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।
জ্বালানি খাতের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তা নিরসনে মালয়েশিয়ার সরকারি জ্বালানি জায়ান্ট পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া দক্ষ জনশক্তির বিশাল বাজার হিসেবে মালয়েশিয়ায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে।
এর আগে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মাহ্দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বিশেষ করে বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তার আলোকে পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে এই সমস্যা সমাধানের ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ও শ্রমবাজার বন্ধের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বহুমাত্রিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাইবোনেরা। তাদের শ্রম ও নিষ্ঠা যেমন মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে, তেমনি তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকেও গতিশীল রেখেছে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারটি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহ্দী আমিন জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলের বিভিন্ন অনৈতিক ও অনিয়মের কারণেই মূলত বাজারটি বন্ধ হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও নানামুখী জটিলতার কারণে তা এতদিন বন্ধই ছিল। তবে বর্তমান সরকারের নানামুখী ও কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অবশেষে তা আবার উন্মুক্ত হলো।
বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আগের সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এর আগেও এখানে এসেছিলাম। এখানকার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান এবং তার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সব অংশীদারের সঙ্গে আজ থেকে প্রায় তিন মাস আগে আমরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলাম। সেই ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই তারা আবারও মালয়েশিয়া সফরে এসেছেন বলে জানান তিনি।
গত দুই দিনের বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, সহকারী সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ‘দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই ছিল এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল নীতি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এই আলোচনার মূল ভিত্তিই ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, অর্থাৎ বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা করা।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আগামীকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।
৬৭ দিন আগে