এমপি নজরুল
জামায়াতের চিঠির ভিত্তিতে এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই: ইসি রহমানেল
জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে দলটির চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তবে সংসদ জানতে চাইলে শুনানির পর বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরপর থেকে তার সংসদ সদস্য পদ থাকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি ইসিকে জানাবে বলে জানিয়েছে বিরোধী দল।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি মাছউদ বলেন, ‘কোনো সংসদ সদস্যকে কেবল তার নিজ দল বহিষ্কার করলেই আইন অনুযায়ী সরাসরি তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না। বিষয়টিতে আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যদি জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি পাঠান, তাহলে কমিশন উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করবে। এরপর সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।’
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে–এমন কোনো স্পষ্ট বিধান সেখানে নেই।
অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। আইন অনুযায়ী বিরোধ উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি ইসিতে পাঠানোর কথা। এরপর নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগ করে শুনানি গ্রহণ করবে এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানাবে। কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।
২২ দিন আগে
এমপি নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাংগঠনিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সংগঠনের আমীর ডা. শফিকুর রহমানেরর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলো সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করা হয়। তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই কিশোরীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে তার ওই বিয়ের দাবিও বিতর্কের জন্ম দেয়। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।
এদিকে, গাজী নজরুল ইসলামকে তার নির্বাচনি এলাকা সাতক্ষীরা-৪, অর্থাৎ শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
দুপুর ১২টার দিকে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, শ্যামনগর’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নৈতিক স্থলন হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতের দলীয় পদ ও এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। শ্যামনগরের মানুষকে কলঙ্কিত করেছেন তিনি। তাকে আমরা আর এমপি দেখতে চাই না। শ্যামনগরে তাকে আজ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। মুখে ইসলামের কথা বলে অন্তরের বাস্তব চিত্র ভিডিওর মাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে। আমরা কলঙ্কিত, লজ্জিত। আমরা আশা করব, জামায়াতে ইসলামী তার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের কলঙ্কমুক্ত করবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্নাসহ অন্যরা।
২৩ দিন আগে
শ্যামনগরে এমপি নজরুলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, শ্যামনগর’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্নাসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, নৈতিক স্থলন হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতের দলীয় পদ ও এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। শ্যামনগরের মানুষকে কলঙ্কিত করেছেন তিনি। তাকে আমরা আর এমপি দেখতে চাই না। শ্যামনগরে তাকে আজ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। মুখে ইসলামের কথা বলে অন্তরের বাস্তব চিত্র ভিডিওর মাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে। আমরা কলঙ্কিত, লজ্জিত। আমরা আশা করব, জামায়াতে ইসলামী তার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের কলঙ্কমুক্ত করবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই কিশোরীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে তার ওই বিয়ের দাবিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
২৩ দিন আগে