ধর্মেন্দ্র প্রধান
দাবি পূরণের আশ্বাসে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করল সিজেপি
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও সিজেপির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর ‘সদিচ্ছা’র ভিত্তিতে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করছেন।
তারা জানান, একটি দাবি ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
সৌরভ দাস বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। তাই আমরা আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনস্থল ত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দাবিগুলো মৌলিক ছিল, উগ্র কোনো দাবি ছিল না।’
পরে পুলিশ লাউডস্পিকারে যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়। নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই ছিল সিজেপির প্রধান দাবি।
২১ দিন আগে
বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে মাসব্যাপী উত্তাল ছিল দিল্লিসহ ভারতের প্রধান শহরগুলোর রাজপথ। এরই মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে তৃতীয় ধাপের বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলেও পোস্ট করেছেন তিনি।
এক্সে পোস্ট করা একটি চিঠিতে তিনি লেখেন, এটি (মন্ত্রিত্ব) তার জন্য কখনোই ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয়’ ছিল না।
দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের মূল দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
তার পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দুই দফা আলোচনার পরও মীমাংসা না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত ছিল। আজ শনিবার সকালে সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করলে আর কোনো আলোচনা হবে না।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো ছিল—ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
২১ দিন আগে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের দমন অভিযান উপেক্ষা করে আজ বৃহস্পতিবারও হাজারো তরুণ বিক্ষোভকারী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল জন্তর মন্তরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল (বুধবার) রাতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। চলতি সপ্তাহে পুলিশ দ্বিতীয়বারের মতো বিক্ষোভকারীদের দমনে এই অভিযান চালায়।
এর আগে, সোমবারও হাজারো বিক্ষোভকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে সেই বিক্ষোভ ছত্ভঙ্গ করে।
‘ককরোচ’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনটি গত এক মাসেরও আগে থেকে শুরু হয়। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলনের সূচনা হলেও পরে এটি শুধু ওই ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধীরে ধীরে এতে পেশাজীবী ও পরিবারের সদস্যরাও যোগ দেন। ফলে আন্দোলনটি সামগ্রিক জনঅসন্তোষে রূপ নেয়।
এদিকে, গতকালের পুলিশি অভিযানের পর আজ সকালে পুলিশের কড়াকড়ি অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা আবারও বিক্ষাভস্থলে জড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা সড়কে থাকা ব্যারিকেড উপেক্ষা করে বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসেন।
অপরদিকে, আন্দোলনে মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত করতে কর্তৃপক্ষ মধ্য দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে।
প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি ভারতের লাখো তরুণের ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
আজ ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই!’
২৩ দিন আগে