কারাদণ্ড
আর্থিক জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা ধনকুবেরের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতির দায়ে স্বেচ্ছানির্বাসিত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক গুও ওয়েংগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের তথ্যমতে, তিনি গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের সমর্থকদের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩০ জুন) ম্যানহাটনের একটি আদালতকক্ষে বিচারক আনালিসা টরেস এ রায় ঘোষণা করেন।
আনালিসা টরেস বলেন, চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে যেসব মানুষ গুওকে সমর্থন করে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি তাদেরই শিকার বানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন।
এদিকে, রায় ঘোষণার আগে গুও কারাগারে নিজের সঙ্গে হওয়া আচরণের প্রতিবাদ করেছেন। সে সময় তিনি জানান, সোমবার ভোরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এ সময় প্রসিকিউশনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আদালতে তাকে অসুস্থতার ভান করা ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাকে আদালতে নিয়ে আসার সময় তিনি বারবার বমি করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আদালতে গুওর বিরুদ্ধে হওয়া ফৌজদারি মামলার বিষয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। এ সময় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে (সিসিপি) ধ্বংস করার জন্য।’
গুওর সাজা ঘোষণার সময় বিচারক টরেস ভুক্তভোগীদের পাঠানো কয়েকটি চিঠির অংশ পড়ে শোনান। চিঠিতে ভুক্তভোগীরা লিখেছেন, গুওর প্রতারণায় তারা আজীবনের সঞ্চয় হারিয়েছেন। এতে তারা চরম মানসিক চাপ ও লজ্জার মধ্যে পড়েছেন। ভুল বিনিয়োগের কারণে তাদের সঙ্গে পরিবারেও অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
বিচারক টরেস বলেন, গুও নিজের কর্মকাণ্ডের কোনো দায় স্বীকার করেননি। বরং তিনি দাবি করছেন, তার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, এর আগে যারা গুওর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন, গুও তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছেন।
এছাড়া রায়ে আদালত গুওর ৮৮৯ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তা ভুক্তভোগীদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, তিন বছর আগে গুও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। ২০২০ সালে তারা যৌথভাবে চীনা সরকারকে উৎখাতের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় গুও নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক-সংলগ্ন একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো গলফ ক্লাবেরও সদস্য ছিলেন।
প্রসিকিউটররা আদালতে গুওর জন্য অন্তত ৩০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন। তাদের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গুওর অভূতপূর্ব প্রতারণা শত শত মানুষের জীবন ধ্বংস করেন দিয়েছে। এতে অসংখ্য ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার আর্থিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে গুও বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। তার সম্পদের মধ্যে ছিল প্রাসাদসম বাড়ি, ইয়ট, রেসিং কার, দামি পোশাক এবং বিলাসবহুল আসবাবপত্র।
সাত সপ্তাহ ধরে চলা এ বিচার কার্যক্রম শেষে ১২টি ফৌজদারি অভিযোগের মধ্যে ৯টিতে গুও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের মতে, বিচারে প্রমাণিত হয়েছে যে গুও হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ লগ্নি করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আর সেই অর্থ দিয়েই তিনি নিজের বিলাসবহুল জীবন চালিয়ে গেছেন।
আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে গুওর আইনজীবীরা দাবি করেন, গুও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। এমনকি তারা গুওর প্রাণনাশের হুমকির মতো তৎপরতা চালিয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
সাজা ঘোষণার আগে দাখিল করা নথিতে তার আইনজীবীরা আরও বলেন, গুওর দীর্ঘ কারাদণ্ড হলে তা চীনের অপপ্রচারকে শক্তিশালী করবে। এ রায় চীনা ভিন্নমতাবলম্বীদের স্বাভাবিক জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেবে। এছাড়া একই ধরনের মামলায় অন্য আসামিরা যেখানে দুই থেকে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন, সেখানে গুওর ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ সাজা অযৌক্তিক বলেও তারা উল্লেখ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আরও জানান, আদালতের প্রবেশন কর্মকর্তা বিচারককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, চীনে নির্যাতনের কারণে গুওর শরীরে ক্ষতচিহ্ন ও বিকৃতি রয়েছে। ১৯৯৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব আঘাতের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের জন্য তার একাধিক অস্ত্রোপচারও হয়েছে।
আইনজীবীদের দাবি, গুওর পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চীনের বৃহত্তম সিকিউরিটিজ কোম্পানির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার ছিল। সেখান থেকেই তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করার পর থেকে তিনি সরকারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। পরে তিনি বাধ্য হয়ে হংকং ও লন্ডন হয়ে ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে চলে যান।
এছাড়া চীনা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ, ঘুষসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ এনেছিল। তবে আদালতে গুও দাবি করেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গুও তার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য শত শত মানুষকে রাজি করিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে তিনি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল তার গণমাধ্যম কোম্পানি জিটিভি মিডিয়া গ্রুপ ইনকরপোরেশন, হিমালয়া ফার্ম অ্যালায়েন্স এবং হিমালয়া এক্সচেঞ্জ।
সাজা ঘোষণার আগে আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক শিথিল আশ্রয় আইনের সুযোগ নিয়ে গুও দেশটিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, নিজের এসব অপরাধের জন্য গুও একেবারেই অনুতপ্ত নন।
৬ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ ও ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে, গত ১৪ মে এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি যেকোনো দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা।
অন্যদিকে, ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। মোট ৯ দিন নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। শুনানিতে আসামির পক্ষে বিভিন্ন আইনি দিক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইনু সংসদ সদস্য ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।
আইনজীবী মুনসুরুল হক বলেন, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলার সাক্ষীরাও স্বীকার করেছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুষ্টিয়ায় উপস্থিত ছিলেন না।
হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৩০ নভেম্বর শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। মোট ১০ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দেন। আসামির পক্ষে সাক্ষী দেন ২ জন।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।
৬ দিন আগে
মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যাওয়ায় দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৭ বছরের জেল
মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যাওয়া এবং নিজের গ্রেপ্তার আটকানোর অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ এপ্রিল) সিউলের একটি আপিল আদালত এই রায় দেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারি করেন ইয়ল। তার ওই কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটে ফেলেছিল।
এর আগেই অবশ্য তিনি বিদ্রোহ-সংক্রান্ত মামলায় আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি ভোগ করছেন। ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা ও অন্যান্য অভিযোগে পাওয়া এই দণ্ড তার সঙ্গে যুক্ত হলো।
এদিন সিউল হাইকোর্টের বিচারক ইউন সুং-সিক বলেন, সাবেক এই রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট সামরিক আইন জারির আগে আইন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যান, সেই ত্রুটি গোপন করতে নথিপত্র জাল করেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘ব্যক্তিগত বাহিনী’র মতো ব্যবহার করেন।
রায় ঘোষণার সময় ইউন নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশটির নিম্ন আদালত ইয়লকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে সামরিক আইন জারির আগে মন্ত্রিসভার বৈঠক-সংক্রান্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থেকে সে সময় তাকে আংশিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালতের রায়ে তখন বলা হয়, বৈঠকে আমন্ত্রিত দুই সদস্যের অনুপস্থিতির জন্য তিনি দায়ী নন। কিন্তু সিউল হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।
আদালত রায়ে উল্লেখ করে, তিনি শুধু ওই দুই সদস্যের অধিকারই লঙ্ঘন করেননি, বরং মন্ত্রিসভার আরও সাতজন সদস্যকে না জানিয়ে সীমিত কয়েকজনকে নিয়ে একটি বৈঠকের অভিনয় করে আইনি প্রক্রিয়া ভঙ্গ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইয়ল ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর যে সামরিক আইন জারি করেছিলেন, তা দেশটিকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দেয়। এটি রাজনীতি ও উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকে অচল করে দেয় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির করে তোলে। এরপর গত বছরের জুন মাসে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উদারপন্থি লি জে মিয়ং জয়ী হওয়ার পর এই অস্থিরতা প্রশমিত হয়।
২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর উদারপন্থি রাজনীতিকদের নেতৃত্বাধীন আইনসভা তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে ক্ষমতা থেকে বরখাস্ত করেন। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সাংবিধানিক আদালত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করেন।
ক্ষমতা থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর ইউন সিউলের একটি আদালতের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করার পরোয়ানা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় দেশটিতে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারির শুরুতে কয়েকজন তদন্তকারী প্রেসিডেন্টের বাসভবনে পৌঁছালেও প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনী ও যানবাহনের ব্যারিকেডের কারণে তারা বাধাপ্রাপ্ত হন। ওই মাসের শেষের দিকে তাকে আটক করা হয়, তবে মার্চে আরেকটি আদালত তাকে মুক্তি দেয়। পরে জুলাই মাসে আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর থেকে তিনি হেফাজতেই রয়েছেন। আর তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
৬৮ দিন আগে
অস্ত্র মামলায় ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন এ দণ্ডাদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই রায় দিয়েছেন। আসামি বতমানে ভারতে পলাতক থাকায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেবে। দ্রুত এই রায় ঘোষণা হওয়ায় শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বিচারও দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলায় অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল করিমকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-২। ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চার রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করে র্যাব। পরদিন আদাবর থানায় ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এ মামলাটি করেন র্যাবের হাবিলদার মশিউর রহমান।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ফয়সাল করিম এলাকার ‘চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক কেনাবেচার হোতা’। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের’ নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ‘অপরাধ সংঘটনের জন্য’ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন।
গত বছরের ২৮ মার্চ ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান। মামলার বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফয়সাল করিম এ মামলায় জামিনে ছিলেন।
তবে, ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধি হলে আলোচনায় আসে ফয়সালের নাম।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর মারা যান হাদি। এরপর চলতি বছরের মার্চে ফয়সালকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় ভারতের পুলিশ।
৮৮ দিন আগে
ফরিদপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাশেদ মোল্লাকে (৩০) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক ধারায় ওই ব্যক্তিকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, আসামি উভয় ধারার সাজা এক সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদহ বাজার এলাকার বাসিন্দা। নিহত জোসনা বেগম (২১) একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের মেয়ে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পারিবারিকভাবে রাশেদ ও জোসনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রাশেদ যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার দাবির মুখে তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জোসনার স্বর্ণের হার ও কানের দুল বিক্রি করে আরও টাকা দেওয়া হয় যা রাশেদ মাদক সেবনে ব্যয় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে তারপরও থেমে থাকেনি নির্যাতন। ২০২০ সালের ১৬ জুলাই পুনরায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন রাশেদ। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ঘরের ভেতর জোসনা বেগমের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১৭ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় রাশেদ মোল্লার পাশাপাশি তার বড় ভাই হাসিব মোল্লাকেও আসামি করা হয়। পরে মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী রতন জানান, মামলার শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রধান আসামি রাশেদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার ভাই হাসিব মোল্লাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট এবং এটি সমাজে যৌতুকের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেবে।
৯৮ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ভিজিএফের চাল ও জাল কার্ডসহ আটক ২, কারাদণ্ড
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জন্য খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির (ভিজিএফ) বরাদ্দকৃত ত্রাণের চাল অবৈধভাবে ক্রয়, মজুদ ও সংরক্ষণের অভিযোগে দুই দালালকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। তাদের হেফাজত থেকে দুই বস্তা ত্রাণের চাল এবং স্বাক্ষরবিহীন ৬৯টি ভিজিএফ কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অভিযানের নেতৃত্ব দেন কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাহ উদ্দিন।
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আলীম, রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভিন, তদারকি কর্মকর্তা ইউএনওর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফরোজ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— কালুখালী উপজেলার তোফাদিয়া গ্রামের মো. সাজ্জাদ হোসেন (৪২) এবং উপজেলার গঙ্গানন্দপুর গ্রামের চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস (৬৭)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। চালে ওজনে কম দেওয়া এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে উপকারভোগীদের কাছ থেকে কিছু দালাল স্বল্পমূল্যে চাল ক্রয় ও সংক্ষরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে দুপুর ১২টার দিকে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাহ উদ্দিন অভিযান চালান।
এ সময় সাজ্জাদ হোসেন ও চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস নামক দুই দালালকে আটক করে উপজেলা প্রশাসন। তাদের হেফাজতে থাকা পরিষদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ৫৬টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে প্রায় ৫৬০ কেজি চাল জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে স্বাক্ষরিত ৭টি এবং স্বাক্ষরবিহীন আরও ৬৯টি জাল ভিজিএফ কার্ড এবং চাল ভর্তি ৫০ কেজির দুটি বস্তা জব্দ করে প্রশাসন।
পরবর্তীতে আটকরা অপরাধ স্বীকার করায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫৬-এর (৬) ধারায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ত্রাণের চাল অবৈধভাবে ক্রয়, সংরক্ষণ, মজুদ ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করার অপরাধে (৩) ধারা অনুযায়ী তারা দোষী সাব্যস্ত হয়। এতে সাজ্জাদ হোসেনকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে চিত্ত রঞ্জন বিশ্বাসকে একই আইনে একই ধারায় ১৫ দিন কারাদণ্ড প্রদান ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এদিকে, অভিযানকালে সাজাপ্রাপ্ত সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রবিউল ইসলামের কাছ থেকে তিনি গতকাল (সোমবার) রাতে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে জব্দকৃত ভিজিএফ কার্ডগুলো ক্রয় করেন।
অভিযান শেষে বিকেল ৪টার দিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। কারণ স্বাক্ষরবিহীন কোনো কার্ড কারও কাছে দেওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া টাকা গ্রহণের কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এ নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়া ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন তিনি।
১১১ দিন আগে
চাঁদপুরে ১২৭ মণ জাটকা জব্দ, ১০ জেলের কারাদণ্ড
চাঁদপুর জেলার হাইমচরের মেঘনায় অভিযান চালিয়ে ১২৭.৫ মণ (৫১০০ কেজি) জাটকাসহ ১০ জেলেকে আটক করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। আটক জেলেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
বুধবার (১১ মার্চ) কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয় ।
কোষ্টগার্ড সুত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিবাগত রাতে চাঁদপুর কোস্ট গার্ড স্টেশন হাইমচরের চরভৈরবী ও এর আশপাশের এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি বড় কাঠের জেলে নৌকায় তল্লাশি করে ৫ হাজার ১০০ কেজি জাটকা জব্দ করে। সে সময় ১০ জেলেকে আটক করা হয়।
জব্দ করা জাটকার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরবর্তীতে চাঁদপুর কোস্টগার্ড স্টেশনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ হক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক জেলেদের প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে জেলেদের নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, জব্দ করা জাটকাগুলো আজ (বুধবার) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুকের উপস্থিতিতে স্থানীয় এতিমখানা, গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণের জন্য মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহন নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
১১৭ দিন আগে
মোহাম্মদপুরে সেই বিড়াল হত্যার মামলায় আসামির ৬ মাসের কারাদণ্ড
ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক ব্যক্তির পোষা বিড়াল হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী আকবর হোসেন শিবলুকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামি শিবলুকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এজন্য আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মনসুর ও শিবলু মোহাম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পিপলস ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ারের পক্ষ থেকে নাফিসা নওরীন চৌধুরী আদালতে বিড়াল হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মোহাম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দেন। পরে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর গত ১৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় গত ২ ডিসেম্বর। চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন। প্রথমে ১৭ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা পিছিয়ে বুধবার রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের নবম তলার বাসিন্দা মনসুরের পোষা বিড়ালটি হারিয়ে যায়। পরে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত আকবর হোসেন শিবলু বিড়ালটিকে লাথি মারছেন। লাথির আঘাতে বিড়ালটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকলেও অভিযুক্ত পাড়া দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে মামলাটি করা হয়েছিল।
১১৭ দিন আগে
আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে পৃথক দুই ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফকির মো. জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদন্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে।
তার অর্জিত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুই ধারার সাজা একটির পর একটি চলবে। এক্ষেত্রে তার ২০ বছরের কারাভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করেছেন বিচারক।
সম্রাট পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এর আগে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ৯ ফেব্রুয়ারি এ মামলা রায়ের পর্যায়ে আসে। সেদিন দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর নুরে আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি হয়নি।
গত বছরের ১৭ জুলাই এ মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
উল্লেখ্য, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর সম্রাটকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ওই বছরের ১২ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তাতে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর এ মামলায় আদালতে অভিযোগ পত্র জমা দেয় দুদক। সেখানে সম্রাটের বিরুদ্ধে মোট ২২২ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
১৩১ দিন আগে
চাঁদপুরে জালভোট দেওয়ায় ৫ জনের কারাদণ্ড
চাঁদপুরের কচুয়া, শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলায় জাল ভোট দেওয়ার কারণে ৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং একজনের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। কারাদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে পিতা-পুত্রও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় ভোট চলাকালীন পৃথক পৃথক স্থানে এসব ব্যাক্তিদের কারাদণ্ড প্রদান করেন দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর-(১) কচুয়া আসনের তেগুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যালট পেপার চাওয়ায় মো. ছফিউল্লাহর ছেলে মো. হেলালকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মান্নান কারাদণ্ড।
একই ঘটনায় ওই কেন্দ্রের একজন আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে কচুয়া থানায় সোপর্দ করে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেন বিচারক।
অন্যদিকে, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের শাহরাস্তিতে জাল ভোট প্রদান-চেষ্টার অভিযোগে পিতা-পুত্রসহ ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দুপুরে উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের বড়তুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের খেড়িহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৃথক ঘটনায় এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বড়তুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় বড়তুলা গ্রামের ইয়াকুব আলীর পুত্র মো. সাইফুল ইসলাম (৫৯) ও তার পুত্র মো. সাফায়েত হোসেনকে (২৭) আটক করেন ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. নাসরিন বানু সাফায়েত হোসেনকে ১ মাস ও তার বাবা সাইফুল ইসলামকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন।
এছাড়া খেড়িহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টাকালে ওই গ্রামের আবু সৈয়দের পুত্র মো. সজিবকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা।
অপরদিকে, দুপুরে একই আসনের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে এসে মো. নাহিদ (২৫) নামে এক যুবককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ হিমাদ্রী খীসা।
১৪৩ দিন আগে