আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
ভঙ্গুর থেকে স্থিতিস্থাপক অর্থনৈতিক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তৃতীয় বছর হবে উত্তরণের সময় এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে দেশের সমৃদ্ধির বছর।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ইউএপির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফিসকাল কম্পাস ২০২৬: বিয়ন্ড দ্য নাম্বার্স, শেপিং বাংলাদেশ’স ফিউচার—প্রপোজড ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২০২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাদের হাতে সময় ছিল মাত্র দেড় মাস, অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশ অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ অর্থবহ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে, তখন ভারসাম্য রক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে। তৃতীয় বছর হবে একটি ভালো সময়। আর চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির বছর।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণই এবারের বাজেটের অন্যতম কেন্দ্রীয় ধারণা। নাগরিকরা কেবল নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে থাকবে না; বরং অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও অবদান রাখার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, বৃহত্তর অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং সুযোগ সৃষ্টির ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এ দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সৃজনশীল অর্থনীতি, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিভাবান জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় আনা হবে।
স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইবে ও অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশের কারুশিল্পকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরা সম্ভব। একইভাবে সংগীত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক শিল্পেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেট কখনোই শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারও, যা সরকারের অগ্রাধিকার ও দিকনির্দেশনা প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, নতুন সরকার একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট উপস্থাপন করেছে, তবে এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএপির স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর ড. এম এ বাকী খলিলী। তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগনির্ভর পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান বলেন, যেকোনো বাজেটের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে মানুষ। বাজেটকে এক বছরের বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা হিসেবে না দেখে আগামী পাঁচ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ, র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসীসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
৪ দিন আগে
ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে জোর দিতে হবে: অর্থমন্ত্রী
সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংকঋণনির্ভর অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে এসে বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে একটি বাজারভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কেবল বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারি না। আমাদের নিজেদের সরকারি অর্থায়ন ব্যবস্থার পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী জানান, সরকার বিকল্প অর্থায়নের চ্যানেল তৈরির জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে একটি বাজারভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবস্থার পরিবর্তন, ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর কঠোর শর্তের কারণে প্রচলিত অর্থায়ন পদ্ধতি আগের মতো কার্যকর থাকছে না।’ এ পরিস্থিতিতে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন তিনি।
স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে বাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয় এবং সুদের হার বৃদ্ধি পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতে বেসরকারি খাত ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।’ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার প্রতিটি খাতে শত শত কোটি টাকার বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, যে বাজেট তৈরি করতে সাধারণত ছয় মাস সময় লাগে, সেটি প্রস্তুত করার জন্য বর্তমান সরকার মাত্র দেড় মাস সময় পেয়েছে।
তিনি বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে আমরা ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যার অনেকগুলোই ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার যে প্রকল্পগুলোর কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোর রিটার্ন অনিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও কাজ শেষ করা হচ্ছে।
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে একটি এডিপি ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের অবস্থা রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা যাবে।
বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ব্যবস্থা থেকে সরে এসে বৈশ্বিক নিয়মের সঙ্গে মিল রেখে আমদানি-রপ্তানির জন্য সরাসরি পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করবে, যা নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়ীদের এলসি খোলা ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করার সুযোগ দেবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতির বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতি বর্তমান সংকটময় অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতার পথে এগোবে। তৃতীয় বছর থেকে পুনরুদ্ধারের সুফল দৃশ্যমান হবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।’
৫ দিন আগে
শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী দিনে দেশের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সফরকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না। পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বাজেট কোনো গতানুগতিক বাজেট হবে না। অর্থনৈতিকভাবে দেশ উত্তোরনের পথে হাঁটবে। শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।’
তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কর্মসংস্থান। জনগণ যাতে অর্থনীতির সুফল পায়, সরকার সেই পথেই কাজ করবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং বন্দর কার্যক্রমকে আরও উন্নত করা হবে। ধীরে ধীরে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে অগ্রাধিকার থাকবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানো—এই দুই বিষয়কে সামনে রেখে আমরা এগোব।
আমির খসরু জানান, চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যক্রম শুরু হবে। বিশেষ করে বন্দর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বন্দরকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।
এদিকে, বিকেলে নগরীর মেহেদীবাগের বাসায় অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের এক সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যেন কোনো পণ্যের দাম না বাড়ে এবং রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় এমন কিছু না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি।
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বন্দরকে ঘিরে এমন কিছু রয়েছে যা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে, যা বহন করছে সাধারণ মানুষ। এ সময় তিনি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলেন। আন্তঃমন্ত্রণালায় বৈঠকের মাধ্যমে এসব সমস্যা শিগগিরই সমাধান হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বন্দরকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় বন্দরের ট্যারিফ যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারনের দাবি জানানো হয় অংশগ্রহনকারীদের পক্ষ থেকে।
বৈঠকে চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার, চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবহারকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
১২৬ দিন আগে
মুক্ত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে কমিশন গঠন করবে বিএনপি: আমীর খসরু
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিকদের মুক্ত ও স্বচ্ছভাবে পেশা চর্চায় উৎসাহিত করতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে একটি কমিশন গঠন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট আমলে সাংবাদিকতা এবং বর্তমান অবস্থা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সাংবাদিকতাকে রীতিমতো ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে সাংবাদিকতার কোনো পরিবেশ রাখেনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বাধীন সাংবাদিকতায় সোচ্চার। আগামীতে কমিশন গঠন করে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।’
গত ১৫ বছরের প্রসঙ্গ টেনে খসরু অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক বাংলাদেশে টিকতে না পেরে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। অনেকে আবার সাংবাদিকতা পেশাই ছেড়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশে এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে সাংবাদিকতা বলে কিছু নেই।’
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল অন্তর্বর্তী বাজেট দেওয়া: আমীর খসরু
‘আমি নিজেই দুই-চারজন সাংবাদিককে বিদেশে যেতে সাহায্য করেছি। দেশে থেকে তারা টিকতে পারছিল না।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও সংসদের মধ্যে যেমন আলাদা সীমারেখা থাকা উচিত, একইভাবে একটি মিডিয়া হাউসে ম্যানেজমেন্ট এবং সাংবাদিকতার মধ্যেও সীমারেখা থাকা প্রয়োজন।’
‘হাসিনা সরকারের আমলে যেমনি বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সংসদের মধ্যকার ড্র লাইন তুলে দিয়ে দেশকে অকার্যকর করা হয়েছে, একইভাবে ম্যানেজমেন্ট আর সাংবাদিকদের মধ্যকার ড্র লাইন তুলে দিয়ে সাংবাদিকতা ধ্বংস করা হয়েছে,’ মন্তব্য করেন তিনি।
খসরু বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র এবং মতপ্রকাশের গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত না হলে গণতান্ত্রিক পদযাত্রা ব্যাহত হয়। পাঁচ আগস্টের পর একজন কার্টুনিস্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি কার্টুন আঁকেন। অন্য কেউ হলে হয়তো প্রতিক্রিয়া দেখাতেন, সমালোচনা করতেন। কিন্তু তারেক রহমান নিজেই সেই কার্টুন শেয়ার দিয়ে কার্টুনিস্টের প্রশংসা করেছেন। এটাই মুক্ত গণমাধ্যম এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।’
সাংবাদিকদের যে আদর্শই থাকুক না কেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘অবজেকটিভ’ থাকার পরামর্শ দেন খসরু।
৩০৭ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল অন্তর্বর্তী বাজেট দেওয়া: আমীর খসরু
জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের বাজেট অব্যাহত রাখার প্রয়োজন ছিল না বলে মত দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট দেওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রবিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বাজেট চালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট দেওয়া উচিত ছিল।’
কথা বলার সুযোগ অব্যাহত থাকলে আপনা–আপনিই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলেও মনে করেন তিনি। আমীর খসরু বলেন, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের পতনের পর বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন বুঝতে না পারলে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি টিকতে পারবে না।
পাশাপাশি, সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকেও সবাইকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি। বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বক্তব্যের মাধ্যমে বিষোদগার বন্ধ করতে হবে। গণতন্ত্র মানে অন্যজনের কথা শুনে সহ্য করা, তার মতকে সম্মান দেওয়া।
‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে সংস্কার অসম্ভব। বিপ্লবোত্তর যে দেশ দ্রুত নির্বাচন করেছে, তারা ভালো করেছে; যারা দীর্ঘ সময় নিয়েছে, সেখানে অন্তঃকোন্দল বেড়েছে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছে। এটা একটি অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব যেখান থেকে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, সেখান থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। জনগণকে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে।
আমীর খসরু বলেন, ঐকমত্যের প্রচেষ্টা একটি ভালো উদ্যোগ। আলাদা দর্শন থাকবে, কিন্তু সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে—এটা বাকশালের আদর্শ। চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরিবর্তন টেকসই হবে না। অর্থনৈতিক উন্নতি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
এই সরকারের সময় বিনিয়োগ আসেনি মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এতে তাদের দোষ নেই। বিনিয়োগে বাংলাদেশ অনেক নিচে। সিরিয়াস ডিরেগুলেশন ও সিরিয়াল লিবারেলিজম ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া যাবে না।
‘সরকারের অনেক দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে হবে। ট্রেড বডিগুলোর হাতে অনেক কার্যক্রম তুলে দিয়ে সরকারকে নির্ভার হতে হবে। ফিজিক্যাল কন্ট্রাক্ট না কমালে দুর্নীতি কমানো যাবে না। দেশে যত নিয়ন্ত্রণ (রেগুলেশন) থাকবে, তত দুর্নীতি বাড়বে। অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে হবে, সবার অংশগ্রহণ লাগবে,’ যোগ করেন তিনি।
৩২০ দিন আগে
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেছেন ইইউ রাষ্ট্রদূত: খসরু
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে শিগগিরই গণতান্ত্রিক শাসন ফিরেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মিলার। এ সময় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আমির খসরু বলেন, ‘সবার আগে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারি হতে যাচ্ছে, এজন্য সবার একটা স্বস্তি ও সন্তুষ্টি আছে। আশা রয়েছে, দ্রুত নির্বাচনের দিকে গিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাবে দেশ।’
তিনি বলেন, ‘অনেক কিছু অপেক্ষা করছে একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর; তাদের কর্মকাণ্ড, আগামী দিনে কী হবে। স্বল্পমেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি অনেক সিদ্ধান্ত আছে। যেগুলো একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সবাই স্বস্তিবোধ করে। এসব বিষয় নিয়েই আমাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: জুলাই বিপ্লবের সুফল পেতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রমিকদের সমস্যা ও অধিকার নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রমিকদের যে সমস্যা আছে, আপনারা জানেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিন্তু সব সময় শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে। সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
এ সময় বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘বিচার বিভাগের সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একমত পোষণ করেছে এবং এর জন্য তারা ফান্ডিং করতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে অনুদান-ঋণের বাইরে গিয়ে উন্নয়নের অংশীদার হতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিএনপির কর্মসূচির সঙ্গে তাদের চিন্তা বহুলাংশে মিল আছে। এটিতে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
৩৬৫ দিন আগে
বিএনপি নেতা আমীর খসরু আটক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গুলশানের বাসা থেকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গুলশানের বাসা থেকে আমীর খসরুকে আটক করে ডিবি পুলিশের একটি দল।
ডিবির একজন কর্মকর্তা ইউএনবিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও আলাল গ্রেপ্তার
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমীর খসরু মাহমুদের আটকের বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর শাজাহানপুর এলাকা থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: বিএনপির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুলসহ ৪ জন গ্রেপ্তার: রিজভী
শনিবার বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নয়াপল্টন ও কাকরাইল এলাকায় ব্যাপক সহিংসতার পর রবিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুই নেতার বাড়িতে অভিযান চালালেও সেখানে তাদের পাওয়া যায়নি।
এদিকে ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ঢাকা মহানগর হাকিম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: গুলশানের একটি হোটেল থেকে বিএনপির ১০ নেতা-কর্মী আটক
৯৬৭ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী নয়, জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাবে কি না: বিএনপি
বিএনপির সিনিয়র নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নয়, দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাবে কি না।
তিনি বলেন, ‘তিনি কোনো বিশেষ দেশে যাবেন কি যাবেন না সেটা তার (প্রধানমন্ত্রী) ব্যক্তিগত ব্যাপার। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ সে দেশে যাবে কি যাবে না সেটাও তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।’
রবিবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খসরু এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে তারা তাদের ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক, পেশাগত, পারিবারিক ও শিক্ষাগত উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাবে কি না।
বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান খসরু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।’
এর আগে শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে কেউ যুক্তরাষ্ট্রে না গেলে তাতে কিছু যায় আসে না।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের অসম্মানজনক ভিসা নীতির জন্য সরকার দায়ী: ফখরুল
তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীতে আরও অনেক মহাসাগর এবং অনেক মহাদেশ আছে। সেই মহাদেশের সঙ্গে মহাসাগর হয়ে আমরা যাতায়াত করব আর বন্ধুত্ব করব। আমাদের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী এবং আরও উন্নত ও চাঙ্গা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ নিজের পায়ে চলবে, সরকার নিজের দেশকে গড়ে তুলবে। ‘আমরা কারও মুখাপেক্ষী হবো না, যারা আমাদের ভিসা দেবে না বা যারা আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।’
এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চিন্তিত নয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে চিন্তিত।
দলের প্রতিষ্ঠাতার ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের ঢাকা দক্ষিণ মহানগর শাখা আয়োজিত খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রে না গেলে তাতে কিছু আসে যায় না।
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে আপনার ছেলেকে দেশে রাখছেন না কেন? আপনার ছেলে মেয়েরা বিদেশে থাকে কেন? কেন আপনি আপনার অন্য কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের পরিবর্তে আপনার ছেলেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেখেছেন?
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশের জনগণকে শত্রু মনে করে সুষ্ঠু নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় কোনো পদক্ষেপ নেবেন না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের মানুষ স্বাধীন ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবে। তিনি জানেন মানুষ তার দলকে ভোট দেবে না। তাই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান না।’
আরও পড়ুন: মার্কিন ভিসা নীতি ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রতিফলিত করে: ফখরুল
মার্কিন ভিসা নীতি: বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা বিএনপির
১১১৮ দিন আগে
নিঃসন্দেহে জনগণের টাকা লুটপাটের জন্য এটি একটি স্মার্ট বাজেট: বিএনপি
২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে জনগণের টাকা লুটপাটে স্মার্ট হিসেবে বর্ণনা করেছে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘এটি অবশ্যই একটি স্মার্ট বাজেট। বর্তমান সরকারের চেয়ে কোনো সরকারই লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করতে পারে না। বাজেটের সুবিধা নিয়ে বর্তমানের চেয়ে স্মার্টভাবে ব্যাংক ও জনগণের টাকা কেউ লুট করতে পারবে না।’
বৃহস্পতিবার সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী খসরু তার বনানীর বাসায় প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে দলের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।
এই বিএনপি নেতা আরও বলেন, নতুন বাজেট সরকারকে জনগণের টাকা লুটপাটের বিভিন্ন সিন্ডিকেট চালাতেও সহায়তা করবে। ‘সুতরাং, নিঃসন্দেহে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি খুব স্মার্ট বাজেট।’
তিনি বলেন, দেশের মানুষও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের স্মার্ট বাজেটের জবাব দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতাদের দোষী সাব্যস্ত করতে সরকারের ‘ভয়ংকর মাস্টার প্ল্যান’: ফখরুল
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার পৃষ্ঠপোষক-ক্লায়েন্ট সম্পর্কের নীতি নিয়ে জনগণের অর্থ লুট করার জন্য একটি অর্থনৈতিক মডেল তৈরি করেছে। এই অর্থনৈতিক মডেলের ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মানে যারা ক্ষমতাসীন দলের সদস্য বা সরকারের পৃষ্ঠপোষক; তারা এই বাজেট থেকে উপকৃত হবেন, সাধারণ মানুষ নয়।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল কর চাওয়া, কমিশন ও চাঁদাবাজি নীতির ওপর ভিত্তি করে। ‘তারা (আ.লীগ নেতা) যে কোনো কাজে কর, চাঁদা ও কমিশন নেবে। এটি অর্থনীতি ও বাজেটের ভিত্তি এবং জনগণ এর প্রধান ভুক্তভোগী। সব প্রতিষ্ঠানই লুণ্ঠনের উপযোগী হয়ে উঠেছে। ‘পৃষ্ঠপোষক-ক্লায়েন্ট সম্পর্ক ব্যবস্থা, কর আদায় নীতি এবং শোষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের সমগ্র অর্থনীতিকে চালিত করছে।’
খসরু বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন হলে সরকার সমর্থিত মহল আরও ধনী হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও দরিদ্র হবে।
এই বিএনপি নেতা আরও বলেন, সরকার ক্ষমতাসীন দলের মদদপুষ্ট লুণ্ঠনকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিএনপির আমলে স্থিতিশীল অবস্থানে থাকা সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে। ‘তাই মানুষ দরিদ্র হচ্ছে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান হারাচ্ছে।’
তিনি বলেন, জনগণ যখন বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে, তখন সরকার করের জাল বাড়িয়ে তাদের ওপর নতুন করে বোঝা চাপিয়েছে। ‘যারা দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে ধনী হচ্ছেন তারা কর দেন না, কারণ তারা অবৈধভাবে তাদের অর্থ বিদেশে পাচার করে ও দেশে ডলার সংকট তৈরি করে। আর ডলারের ঘাটতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংক ও বাহ্যিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ায় গত সাত বছরে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৫২ শতাংশ। এই ঋণ শোধ করতে হবে নতুন প্রজন্মকে।
খসরু বলেন, বাংলাদেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতি উদ্ধারে রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। ‘রাজনৈতিক সমাধান মানে বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও সংসদ প্রতিষ্ঠা করা।’
তিনি বলেন, বাজেট জনগণের চিন্তার প্রতিফলন এবং রাজনৈতিক চিন্তার প্রতিফলন। ‘একটি অবৈধ দখলদার সরকার ক্ষমতায় থাকায় জনগণের রাজনৈতিক চিন্তা বাজেটে প্রতিফলিত হবে না।’
বিএনপির জে্যষ্ঠ এই নেতা বলেন, এই বাজেট মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমাতে সাহায্য করবে না, কারণ লুটপাট ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেই।
আরও পড়ুন: আ.লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না: ফখরুল
সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠিয়ে আন্দোলনকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করছে: ফখরুল
১১২১ দিন আগে
গণফোরাম ও পিপলস পার্টির সঙ্গে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছে বিএনপি
গণফোরাম ও পিপলস পার্টির একাংশের সঙ্গে চলমান যুগপৎ আন্দোলনের কৌশল ও পরবর্তী কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করেছে বিএনপি। শনিবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন বিএনপি ও গণফোরাম ও পিপলস পার্টির লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চলমান যুগপৎ আন্দোলন কীভাবে জোরদার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্ভাব্য কর্মসূচি এবং এটিকে সফল করার জন্য আন্দোলনের প্রকৃতি সম্পর্কেও কথা বলেছি।’
আরও পড়ুন: ৫ সিটি নির্বাচনে বিএনপি কোনোভাবেই অংশ নেবে না: ফখরুল
১১৫৪ দিন আগে