অনুসন্ধান ফলাফল - অপহরণ
মোট - 207
লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ ও ছিনতাই মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ, ছুরিকাঘাত ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এ রায় দেন।
রায়ে দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) তিন আসামির প্রত্যেককে পৃথকভাবে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত উল্লেখ করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পাটগ্রাম উপজেলার ইসফারমারা (সোনারভিটা) এলাকার সবুজ মিয়া, একই উপজেলার হাদীসপাড়া এলাকার রমজান আলী এবং ভাটিয়াটারী এলাকার আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট দুপুরে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাথর নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালক লক্ষ্মীনন্দর সিংয়ের (৩৬) ট্রাকটি বুড়িমারী সড়কে আটকে যায়। ওইদিন দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামিরা পে-লোডার বা ক্রেন দিয়ে ট্রাক উদ্ধারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।
পরে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। এরপর তার কাছে থাকা ৮ হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় আসামিরা।
পরবর্তী সময়ে টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ট্রাকচালককে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন।
বিচার শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৬৫ (অপহরণ) ও ৩৯৪ (আঘাত করে ছিনতাই) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজ মিয়া শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ তিন আসামির বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। ভারতীয় নাগরিককে অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা নিন্দনীয়। এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
৭ দিন আগে
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
সিলেটে এক তরুণীকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি জয় দাসকে (২৩) নেত্রকোনা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি)। এ সময় যৌথ অভিযান চালিয়ে অপহৃত তরুণীকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) র্যাব-৯ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার জয় দাস নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী থানার শিবপুর গ্রামের হরিধন দাসের ছেলে।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীকে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানাধীন করেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় করেরপাড়া সিটি মডেল স্কুল থেকে সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে জয় প্রায়ই তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি ভুক্তভোগী তরুণী তার পরিবারকে জানালে, তার বাবা অভিযুক্তের বোন জামাই রিংকু দাসের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেন। তখন রিংকু দাস ওই তরুণীকে আর বিরক্ত করা হবে না বলে আশ্বাস দেন।
গত ১৬ জুলাই দুপুর ৩টার দিকে ভুক্তভোগী হাওলাদারপাড়ায় তার খালার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি সেখানে না পৌঁছালে তার পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, করেরপাড়া পয়েন্ট এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় জয় ও অজ্ঞাতনামা ২ থেকে ৩ জন মিলে জোরপূর্বক ওই তরুণীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন।
র্যাব জানায়, এই ঘটনায় তরুণীর বাবা বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৯।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার র্যাব-৯ (সদর কোম্পানি) ও এসএমপি পুলিশের একটি যৌথ দল নেত্রকোনার খালিয়াজুরী থানার মুরাদপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জয়কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উদ্ধার হওয়া তরুণী ও গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
১২ দিন আগে
টাঙ্গাইলে শিশু অপহরণ ও হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
টাঙ্গাইলে ৯ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে সাব্বির মিয়া (২১) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত সাব্বির মিয়া সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, সখিপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের রনজু মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামি সাব্বির তাকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। এ সময় সামিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে সাব্বির শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহটি পাশের একটি ধানখেতের নালায় কাঁদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখেন তিনি।
এরপর তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমো আইডি থেকে ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এ ঘটনার পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার একদিন পর ৮ সেপ্টম্বর সেই ধানখেতের নালা থেকে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টম্বর সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।
অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, বিচার শেষে সামিয়াকে হত্যার দায়ে আসামি সাব্বিরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। এছাড়া অপহরণের দায়ে আসামিকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে আটক রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টাসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে ফেলায় আসামিকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।
পিপি আরও জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (স্টেট ডিফেন্স)। আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
১৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে এ ঘটনায় বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
মামলার এজাহারে জানা যায়, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়িটারী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান (৪০) গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় প্রতিবেশী ওই স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশের একটি লিচুবাগানে নিয়ে যান। সেখানে ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে তাকে বাগানে ফেলে রেখে যান মোখলেছার। বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে ভুক্তভোগী ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখে।
ওই ঘটনার পর গত ১ জুলাই নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী সুমি বেগম ও নছিমন বেগমের সহায়তায় ওই স্কুলছাত্রীকে ডেকে নেন মোখলেছার। পরে স্কুলছাত্রীকে প্রথমে রংপুর নিয়ে গিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ঢাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে এক বন্ধুর বাসায় রেখে আবারও ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন মোখলেছার। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করে ছুটে গিয়ে বাইরের লোকজনের সহায়তা চার। সেখানের স্থানীয় লোকজন মোখলেছারকে মারধর করে ছেড়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা বুক্তভোগীর কাছ থেকে বাড়ির ফোন নম্বর নিয়ে গাজীপুর থেকে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
এ ঘটনার অসুস্থ মেয়েটিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। চিকিৎসা শেষে তিনি কিছুটা সুস্থ হলে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে মোখলেছার ও তার সহযোগী দুই নারীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন তার বাবা। ধর্ষক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলকার কয়েকজন নারী বলেন, মোখলেছার রহমান খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার ভাই মহুবর রহমান এই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। তার ক্ষমতার প্রভাবে তিনি অপকর্ম করে বেড়ান। এ মামলাটিও নষ্ট করতে জোর চেষ্টা করেছিল গ্রাম পুলিশ মহুবর। তার সঙ্গে থানা পুলিশের সম্পর্ক ভালো। এ কারণে বারবার অপরাধ করেও বেঁচে যান মোখলেছার। মোখলেছারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীর বাবার দাবি, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে তাকে হত্যা করতে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল মোখলেছার। তার বিশ্বাস ছিল, আমার মেয়ে কোনো একদিন ঘটনাটি আমার কাছে প্রকাশ করবে। সেই ভয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলতে আসামিরা তাকে অপহরণ করে।
তিনি বলেন, আমি অশিক্ষিত গরীব মানুষ, টাকা পয়সা নেই। ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যেতে হবে, সেটাও জানি না। থানায় মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের ওপর অন্যায়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মামলা করার পর থেকে তাদের লোকজনের হুমকিতে আমাদের জীবন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পাওয়ামাত্র আমরা ঘটনা তদন্ত করে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করেছি। আজ (বুধবার) ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতেলে পাঠিয়েছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২৬ দিন আগে
দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা: সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ৩
দিনাজপুরের হাকিমপুরে একজন যুবককে অপহরণ এবং ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় নাগরিক টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি তাহাকিক হাসানসহ আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলা এলাকা থেকে ওই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, গত ২ জুলাই ইউসুফ ও মোজাম্মেল হোসেন মুকুল নামে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার তাহাকিক হাসান হাকিমপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)অভা জাকির জানান, জীবনানন্দ সরকার নামের একজন ‘টি বয়’-কে গত ৩০ মে অপহরণ করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শাটারে তালা মেরে ভেতরে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন অপহরণকারীরা। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন জীবনানন্দের বাবা মনিন্দ্রনাথ সরকার। এরপর প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর অভিযান চালিয়ে ওই দোকানের ভেতরে আটকাবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এ সময় জিম্মিকে পাহারা দেওয়া ইউসুফ এবং মোজাম্মেল হোসেন মুকুল নামে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। এরপর মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্যরা আত্মগোপন হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার সাংবাদিক তাহাকিক হাসানের ভাই মেহেদি হাসান ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে স্বর্ণ চোরাচালানেরর মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, অপহরণের শিকার জীবনানন্দ সরকার ‘টি বয়’ হিসেবে কাজ করতেন। তার পরিবারের পক্ষে ১৮ লাখ দূরের কথা ১৮ হাজার টাকা দেওয়ার সক্ষমতা নেই। তাছাড়া জীবনানন্দ সরকারের কাছে ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নিয়েছেন অপহরণকারীরা। সব বিষয় মাথায় রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবির পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ওসি জানান, গ্রেপ্তার ৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
৩০ দিন আগে
অপহরণ ও অর্থ লুটের মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মোমছেদুল খান বুলবুলকে (৩৫) ডাকাতি, অপহরণ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লুটের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশিরাম মনিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (শনিবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১৩ রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার মোমছেদুল খান বুলবুল উপজেলার উত্তর মুশরাত মদাতী এলাকার বাসিন্দা। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চাপারহাট থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন স্থানীয় রবিউল ইসলাম ওরফে মিস্টার আলী (৩০)। চাপারহাট-ভূল্যারহাট সড়কের গুরুদয়াল চৌপথি মোড়ে পৌঁছালে বুলবুল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে তাকে অপহরণ করেন। পরে তাদের বুলবুলের মালিকানাধীন একটি মুরগির খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোররাত পর্যন্ত আটকে রেখে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা রবিউলের কাছে থাকা নগদ ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এছাড়া প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (বিকাশ ও নগদ) থেকে ধাপে ধাপে মোট ৮ লাখ ২৪ হাজার ১০৭ টাকা স্থানান্তর করে নেন তারা। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর শর্তে ও জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ৩ এপ্রিল বুলবুলকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলার পর থেকেই বুলবুল পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বুলবুলকে আগেই ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
পুলিশের অপরাধ তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিডিএমএস) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুলবুলের বিরুদ্ধে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও সদর থানায় ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, গুরুতর আঘাত এবং মারামারিসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, মোমছেদুল খান বুলবুলকে র্যাব-১৩ গ্রেপ্তার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়েছি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।
৪৪ দিন আগে
ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে অপহরণের নাটক সাজান ছাত্রশিবির নেতা জিসান: পুলিশ
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং একটি ধর্ষণ মামলার পরিণতি এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন জিসানের চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হন। জিডির ভিত্তিতে জেলা পুলিশের একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান শুরু করে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের দাবি, গত ২০ মে দাউদকান্দিতে জিসানের ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন জিসান। একাধিকবার মিলনের ফলে একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই নারী। পরে গর্ভপাতের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয় এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন তাকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। এরপর ১১ জুন রাতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে, নিজের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অপহরণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করানো হয়েছিল।
এদিকে, গতকাল (শুক্রবার) রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন রোড এলাকা থেকে স্থানীয়রা জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে লাকসাম থানা পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিসানকে উদ্ধারের পর ওই নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, ভ্রূণ নষ্ট এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার ঘটনায় তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
৫১ দিন আগে
মগবাজার মোড় থেকে সাংবাদিককে ‘অপহরণচেষ্টা’
রাজধানীর মগবাজার মোড় এলাকা থেকে আতাউর রহমান নামে এক সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অপহরণে ব্যর্থ হয়ে মব সৃষ্টি করে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয় তাকে। তাতেও ব্যর্থ হয়ে দ্রুত গাড়ি নিয়ে সটকে পড়ে অভিযুক্তরা।
ঘটনাটি সোমবারের (৪ মে)। ওই দিন রাত সোয়া ১০টার দিকে মগবাজার ট্রাফিক সিগন্যালের মতো ব্যস্ততম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে শুরুতে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
আতাউর রহমান অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা স্ট্রিমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। তিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবির সাবেক কর্মী।
ঘটনার বিবরণে আতাউর জানান, রাজধানীর পান্থপথে অফিস শেষ করে সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বনশ্রীর বাসায় ফিরছিলেন তিনি। সে সময় সঙ্গে ছিলেন তার সাবেক সহকর্মী সাংবাদিক মহির মারুফ। মগবাজার সিগন্যালে রিকশা থেকে নেমে আতাউর যখন ভাড়া মেটাচ্ছিলেন, মারুফ তখন সিগন্যাল অতিক্রম করে আরেকটি রিকশা ভাড়া করতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে ঘটে ঘটনাটি।
সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় এক ব্যক্তি হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার থেকে নেমে এসে আতাউরের দিকে তেড়ে যান। লাঠি হাতে নেমে আসা ওই ব্যক্তি তাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। সে সময় এই সংবাদকর্মী তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে গাড়িটি থেকে আরও তিনজন নেমে আসেন। তবে হট্টগোল দেখে সেখানে লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্তরা আতাউরের বিরুদ্ধে গালি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
অভিযুক্তরা মব সৃষ্টির মাধ্যমে উপস্থিত জনতাকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন আতাউর। তিনি বলেন, ‘তবে কাছাকাছি থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি টের পেয়ে তাদের কথা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে করে ওরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে, তবে উপস্থিত জনতা তাদের বাধা দিলে অপহরণকারীরা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক মারুফ বলেন, ‘আমি সিগন্যাল ক্রস (অতিক্রম) করে পেছনে তাকিয়ে দেখি, একটি কালো প্রাইভেট কার সিগন্যালে থেমে আছে। সেটির সামনের সিট থেকে একজন বের হয়ে আতাউর ভাইকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি দৌড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে ডেকে নিয়ে সেখানে পৌঁছে দেখি, ইতোমধ্যে চারজন মিলে আতাউর ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় পথচারীসহ আমরা সবাই মিলে তাদের বাধা দিলে উল্টো তারা দোষ দেয় যে তাদের নাকি গালি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তারা আতাউর ভাইকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ এগিয়ে গেলে তারা গাড়িতে উঠে দ্রুত চলে যায়।’
এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। গাড়িটির নম্বর শনাক্ত করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে (এসআই) ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারা কেন একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটালো, তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।
৮৯ দিন আগে
জামালপুরে গৃহবধূকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে গৃহবধূ অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর পৌর এলাকার খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুল আহমেদ (৪৭), পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের কালাম ওরফে মাক্কু (৫২) এবং একই গ্রামের রুকু (৫৭)।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, শহরের পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের মো. ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে বাসার পাশে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে একটি চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। সে সময় বুলবুল আহমেদ, কালাম ওরফে মাক্কু ও রুকু প্রায়ই তাদের দোকানের সামনে এসে ওই গৃহবধূর দিকে খারাপ নজর ও কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে বাধা দিলে তারা ওই নারীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এর জের ধরে ২০২৩ সালের ১৪ মে রাত ১০টার দিকে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে থেকে ভুক্তভোগীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অপহরণ করেন আসামিরা। তারা প্রথমে তাকে খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুলের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রুকুর সঙ্গে তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধর করেন। এরপর তিন আসামি মিলে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে তারা অটোরিকশায় করে নাওভাঙ্গা চর গ্রামের রুকুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ১৫ মে ওই গৃহবধূ পালিয়ে এসে তার স্বামীকে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর স্বামী ফরহাদ বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা করেন। পরে মামলাটি জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তর করা হয়।
মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আজ এ রায় ঘোষণা করলেন।
এ ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক ও এস এম কামরুল হাসান উল্লাস।
১০২ দিন আগে
‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ স্কুলছাত্রী অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তৌকির রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)-১৩। অভিযানে অপহৃত শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার তৌকির নগরীর পূর্ব বোতলা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত তৌকির রহমান। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার পরিবারকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে তৌকিরকে অনুরোধের পর সতর্কও করা হয়। কিন্তু তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করার হুমকি দেন তৌকির।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী ইউনিফর্ম পরে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। সে সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৌকির রহমান ও তার ৩-৪ জন সহযোগী মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার একাধিকবার মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তারা রংপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন।
এদিকে, মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১ যৌথভাবে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার পূর্ব অশোকতলা গ্রামের অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গ্রামের জনৈক ক্বারী আজিজের বাড়ি থেকে তৌকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার তৌকির রহমানকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১০৩ দিন আগে