ব্যবসা-বাণিজ্য
জুয়েলারি দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বদলালো বাজুস
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সহ-সভাপতি রিপনুল হাসানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য জুয়েলারি দোকান বন্ধের ঘোষণা দিলেও একদিনের মাথায় সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, মো. রিপনুল হাসানকে ভুয়া ও বানোয়াট রাজনৈতিক পদ দেখিয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় ২৮ মে রাজধানীর তাঁতীবাজারে নিজ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা গ্রেফতার করেন।
পুলিশ ওই মামলায় যে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করেছেন, রিপনুল হাসান কখনোই সেই পদে ছিলেন না। এমনকি কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সে জড়িত নয় এবং কোন রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ কোনদিনও রিপনুল হাসান গ্রহণ করেন নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
বাজুস জানিয়েছে, রিপনকে গ্রেফতারের কারণে সারা দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত। তার ন্যায়বিচার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ সারাদেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে দিনভর সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা।
ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা, বাণিজ্য উপদেষ্টা, শিল্প উপদেষ্টা, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে বাজুস।
পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল আজহা ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায় অনির্দিষ্টকালের জন্য জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধের কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানায় বাজুস।
শুক্রবার (৩০ মে) থেকে সকল জুয়েলারী প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাজুস। তবে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে রিপনের নাম প্রত্যাহার ও ন্যায়বিচার না পেলে পরবর্তীতে কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
৩৭১ দিন আগে
আইসিএক্স বাদ দিলে সরকারকে ৩০০ কোটি টাকা হারাতে হবে
দেশীয় স্বার্থ বাদ দিয়ে নতুন টেলকো টপোলজি রাজস্ব আয়ে ধস নামাবে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্কস বাংলাদেশের (টিআরএনবি) আয়োজিত খসড়া টেলিযোগাযোগ সংস্কার নীতিমালা-২০২৫: ইন্টারকানেক্সন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় এ দাবি জানানো হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বিদেশিদের হাতে এই খাত গেলে দেশে বেকারত্ব সৃষ্টি হবে ও জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি হবে। এই খাত থেকে আইসিএক্স বাতিল হলে সরকার বছরে এক ধাক্কায় ৩০০ কোটি টাকা ও ৭০০ প্রকৌশলী কর্মসংস্থান হারাবে। বিপরীতে আয় হবে ১৬ কোটি টাকা।
টিআরএনবি সভাপতি সমীর কুমার দে এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।
টিআইওবি সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান (অব) বলেন, আইসিএক্স- টেলিকম খাতের তৃতীয় চোখ ও ওয়াচ ডগ। আমাদের বিশ্বমানের প্রকৌশলী আছে। এরাই টেলিকম থাতের উন্নয়ন করেছে। অথচ আজ এই খাত বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে।
আইওবি কোষাধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশীদ আলম (অব) জানান, স্থানীয় ব্যবাসা ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেয়া, মানিলন্ডারিং বন্ধ এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় টবডিএম নীতিমালা করা হয়েছিলো।
তিনি বলেন, চার মাস আগে টিডএম থেকে আইপিতে যেতে সরকারি নির্দশনায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে আমরা সর্বশেষ টেলিকম প্রযুক্তি স্থাপন করেছি। কিন্তু এখন নতুন টপোলজি পুরো খাতকে হুমকির মুখে ফেলেছে। সরকার লেয়ার কমানোর কথা বলে মোবাইল অপারেটরদের লাইসেন্স ছাড়াই গেটওয়ে লেবেলে সবক্ষেত্রেই সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
অগ্নি সিস্টেমসের হেড অব অপারেশন আহমেদুর রহমান রুমেল জানান, জুলাইয়ের পর প্রতিদিন দেশে শত কোটি এসএমএস আটইসিএক্স এর মাধ্যমে বিনিময় হচ্ছে। এতে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। কেনো টাকাই পাচ্ছে না সরকার। আইসিএক্স এর মাধ্যমে এসএমএস বিনিময় হলে সরকারের আয় হবে ৭৪ কোটি টাকা।
বক্তারা জানান, দেশে ৫০টিরও বেশি ভয়েস সেবাদাতা অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক সার্ভিস (মোবাইল, পিএসপিএন ও আইপিটিএসপি) অপারেটর কাজ করছে। এগুলো পৃথকভাবে দ্বিপক্ষীয় সংযোগ স্থাপন করতে গেলে আইসিএক্স ব্যবস্থার চেয়ে খরচ বেশি হবে। এছাড়া, আইসিএক্স বাতিলে অবৈধ ভিওআইপি ও রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ বেড়ে যাবে।
কর্মশালায় আইসিএক্স এর কার্যক্রম তুলে ধরে জানানো হয়, আইসিএক্সের মূল কাজ হলো ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়েগুলোর (আইজিডব্লিউ) মাধ্যমে বিদেশ থেকে যেসব কল আসে, তা মোবাইল ও অন্যান্য টেলিফোন (এএনএস বা অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক সার্ভিস) অপারেটরের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আইসিএক্সের মাধ্যমে কল সরকারের নজরদারিতে থাকে।
এর ফলে গ্রে ট্রাফিক বা অবৈধ কলের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ সম্ভব হয়। তারচেয়েও বড় বিষয় হলো—আইসিএক্সের ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা হয়।
কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি ‘টেলিকম খাতে নেটওয়ার্ক ও ব্যবসা পরিচালনার লাইসেন্স পুনর্বিন্যাসের’ জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধনের যে খসড়া তৈরি করা হয়েছে, তাতে আইসিএক্স বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর ফলে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। ভয়েসটেল চিফ অপারেটিং অফিসার মুস্তাফা মাহমুদ হোসেন, বাংলা আইসিএক্স পবিচালক হাসিবুর রহমান, বাংলাটেলিকম সিইও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আব্দুল হান্না (অব), ইমাম নেটওয়ার্ক লিমিটেড সিইও এম নুরুল আলম প্রমুখ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
৩৭১ দিন আগে
অবশেষে উত্থানের মুখ দেখলেও লেনদেন কমেছে পুঁজিবাজারে
টানা পাঁচ দিন পতনের পর সপ্তাহের শেষ দিনে এসে সূচকের উত্থান হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে, দাম বেড়েছে ঢাকার বেশিরভাগ কোম্পানির, তবে লেনদেন কমেছে দুই বাজারেই।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকালে পতন দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২২ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচক শরীয়া ভিত্তিক ডিএসইএস বেড়েছে ৩ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ বেড়েছে ২১ পয়েন্ট।
এ সময় লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৮ কোম্পানির মধ্যে ২২২টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৯৯ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৭৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
‘এ’, ‘বি’ ও ‘জেড’— তিন ক্যাটাগরিতেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিশেষত লভ্যাংশ দেওয়া ভালো কোম্পানির এ ক্যাটাগরিতে ২১৮টি কোম্পানির মধ্যে ১৩০টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৫৩টি কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৩৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসই ব্লক মার্কেটে ২২টি কোম্পানির ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। ইস্টার্ন ব্যাংক সর্বোচ্চ ৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
ডিএসইতে আজ (বুহস্পতিবার) সারাদিনে ২৪৭ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ২৬৪ কোটি টাকা।
তাছাড়া, ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে দেশ গার্মেন্টস এবং ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ দাম কমে তলানিতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
চট্টগ্রামেও উত্থান
ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের উত্থান হয়েছে। সার্বিক সূচক বেড়েছে ২৬ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ১৮০টি কোম্পানির মধ্যে ৭৬টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৭৭টি কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ২৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে মোট ৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ১৮ কোটি টাকা। ১০ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতে শীর্ষে অবস্থান করছে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স। একই সঙ্গে ১০ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে তলানিতে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস।
৩৭১ দিন আগে
সূচকের পতনে শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শুরু
সূচকের পতন দিয়ে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের দুই শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে। প্রথম ঘণ্টায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সবকটি সূচকই কমেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) প্রথম ঘণ্টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৯ পয়েন্ট কমে গেছে। পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কমেছে ৮ পয়েন্ট এবং ব্লু-চিপ কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ কমেছে ১ পয়েন্ট।
আরও পড়ুন: পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কমিশন
সূচক কমলেও বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কিছুটা উর্ধ্বমুখী। লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে ১৫৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১০০টির কমেছে এবং ৮৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ডিএসইতে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন ছাড়িয়েছে ৫০ কোটি টাকা।
এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে ৩৫ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ৬৫ কোম্পানির মধ্যে ২২টির দাম বেড়েছে, ৩১টির কমেছে এবং ১২টি অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রথম ঘণ্টায় সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪০ লাখ টাকার বেশি।
৩৭১ দিন আগে
পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কমিশন
তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ ঘোষণা করেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করেনি– সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসি পরিচালক আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়ার পরেও তা বিতরণ করেনি- এমন ২২ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
আলোচনায় কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে কেন লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়ার পরেও বিতরণ করা হয়নি তার কারণ জানতে চেয়েছে কমিশন। চলমান যেসব সমস্যার কারণে কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ দিতে পারছে না, তা সমাধানের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
বিএসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এরমধ্যে যেসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আটকে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে পুঁজিবাজারে টানা পাঁচ দিনের পতনে পর্যদুস্ত বিনিয়োগকারীরা। যেসব বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নিয়ে বাজারে বিনিয়োগ করেছেন তাদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ।
এ নিয়ে মতিঝিলে ব্রোকারেজ হাউজের সামনে বিনিয়োগকারীরা টানা কয়েকদিন মানববন্ধন, আন্দোলন এবং কফিন মিছিল করলেও কোনো সুরাহা হয়নি।বিনিয়োগকারীদের বেশ কয়েকটি সংগঠন থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৯ মে) কমিশন তাদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কমিশন।
৩৭২ দিন আগে
পাঁচদিনের পতনে পর্যুদস্ত পুঁজিবাজার, কমেছে ঢাকা-চট্টগ্রামের সব সূচক
গত কয়দিনের মতো সপ্তাহের পঞ্চম কার্যদিবসেও সূচকের পতন হয়েছে পুঁজিবাজারে; কমেছে ঢাকা-চট্টগ্রামের সব সূচক, বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম নিম্নমুখী রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৬২ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচক শরীয়া ভিত্তিক ডিএসইএস কমেছে ১৬ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ১৫ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৮ কোম্পানির মধ্যে ৬৩ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ২৯৫ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৪০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এ, বি ও জেড- তিন ক্যাটাগরিতেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। বিশেষ করে লভ্যাংশ দেয়া ভালো কোম্পানির এ ক্যাটাগরিতে ২১৯ কোম্পানির মধ্যে ২৯ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১৬৮ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ২২ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসই ব্লক মার্কেটে ২৪ কোম্পানির ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। ফাইন ফুড সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। ডিএসইতে সারাদিনে ২৬৪ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ২৭২ কোটি টাকা।
৮.৭৩ শতাংশ দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে হাইডেলবার্গ মেটারিয়ালস বাংলাদেশ এবং ৯.৮০ শতাংশ দাম কমে তলানিতে এনআরবি ব্যাংক।
চট্টগ্রামেও পতন
ঢাকার মতো পতনের ধারা বজায় আছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই), সার্বিক সূচক কমেছে ১৩৮ পয়েন্ট।
লেনদেন হওয়া ১৯৪ কোম্পানির মধ্যে ৩৮ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১৩৮ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ১৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে মোট ১৮ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ১০ কোটি টাকা। ১০ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতে শীর্ষ কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ৯.৮৪ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে তলানিতে আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেড।
৩৭২ দিন আগে
টানা চার দিন ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে পতন
বিগত কয়দিনের মতো সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসেও সূচকের পতন হয়েছে পুঁজিবাজারে; কমেছে ঢাকা-চট্টগ্রামের সবকটি সূচক, বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম এবং লেনদেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪১ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচক শরীয়া ভিত্তিক ডিএসইএস কমেছে ৮ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক কমেছে ১৭ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯২ কোম্পানির মধ্যে ৮৩ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ২৩৭ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৭২ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এ, বি এবং জেড- তিন ক্যাটাগরিতেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। বিশেষ করে লভ্যাংশ দেয়া ভালো কোম্পানির এ ক্যাটাগরিতে ২১৩ কোম্পানির মধ্যে ৪৯ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১২৫ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৩৯ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসই ব্লক মার্কেটে ৩৩ কোম্পানির ১৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। ফাইন ফুড সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
আরও পড়ুন: পুঁজিবাজার: সপ্তাহজুড়ে চলল সূচক, লেনদেন ও শেয়ারের মূল্যপতন
ডিএসইতে সারাদিনে ২৭২ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ২৮২ কোটি টাকা।
৯.৮৩ শতাংশ দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এবং ৯.৬৫ শতাংশ দাম কমে তলানিতে এনসিসি ব্যাংক।
চট্টগ্রামেও পতন
ঢাকার মতো পতনের ধারা বজায় আছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই), সার্বিক সূচক কমেছে ৪৯ পয়েন্ট।
লেনদেন হওয়া ২০৭ কোম্পানির মধ্যে ৬১ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১১৫ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৩১ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে মোট ১০ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ১১ কোটি টাকা।
১০ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতে শীর্ষ শেয়ার গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ১৭ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে তলানিতে ব্যাংক এশিয়া।
৩৭৩ দিন আগে
বড় পতন দিয়ে সপ্তাহ শুরু পুঁজিবাজারে
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে সূচকের বড় পতন হয়েছে, কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম। ঢাকার লেনদেন কিছুটা বাড়লেও কমেছে চট্টগ্রামে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩৮ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচক শরীয়া ভিত্তিক ডিএসইএস ৯ পয়েন্ট এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ২৩ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৭ কোম্পানির দাম কমেছে বেশিরভাগের। ৭৪ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ২৭১ এবং অপরিবর্তিত আছে ৫২ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ক্যাটাগরির হিসাবে এ, বি এবং জেড তিন ক্যাটাগরিতেই তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। লভ্যাংশ দেয়া ভালো কোম্পানির শেয়ার এ ক্যাটাগরির ২১৮ কোম্পানির মধ্যে ৩৬ কোম্পানির দরবৃদ্ধি হলেও দর কমেছে ১৬০ এবং অপরিবর্তিত আছে ২২ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
দাম কমেছে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৬ মিউচুয়াল ফান্ডের বেশিরভাগের। মাত্র একটি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দাম কমেছে ২৯ এবং অপরিবর্তিত আছে ৬ কোম্পানির ইউনিটের দাম।
৩১ কোম্পানির ৩৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে ডিএসই ব্লক মার্কেটে। মিডল্যান্ড ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
আরও পড়ুন: সাপ্তাহিক পুঁজিবাজার: সূচক বাড়লেও লেনদেন তলানিতে
ঢাকার বাজারে সারাদিনে মোট ২৭৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গত কার্যদিবসে ছিল ২৫৩ কোটি টাকা।
৯.৯১ শতাংশ দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষ শেয়ার মিডল্যান্ড ব্যাংক। অন্যদিকে ৭.৩৭ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে তলানিতে রিলায়েন্স মিউচুয়াল ফান্ড।
চট্টগ্রামেও পতন
ঢাকায় মতো সূচক কমেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। সারাদিনের লেনদেনে সিএসইতে সার্বিক সূচক কমেছে ৯১ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেয়া ১৮১ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৫৬, কমেছে ৯৫ এবং অপরিবর্তিত আছে ৩০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে মোট ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গত কার্যদিবসে ছিল ৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
১০ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতেও শীর্ষ শেয়ার ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ১৬ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে তলানিতে সিটি ব্যাংক।
৩৭৬ দিন আগে
পুঁজিবাজার: লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় ঢাকায় সূচকের উত্থান, চট্টগ্রামে পতন
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থান হলেও কমেছে চট্টগ্রামের বাজারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতেই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১২ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচকের মধ্যে শরীয়াভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৪ এবং বাছাইকৃত শেয়ার ব্লু-চিপের সূচকও বেড়েছে ৪ পয়েন্ট।
এই সময়ের ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৬৫টি কোম্পানির মধ্যে ১৮০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৯৫টির কমেছে এবং ৯০টির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
আরও পড়ুন: সূচকের উত্থান-পতনের দোলাচলে লেনদেন চলছে পুঁজিবাজারে
প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ৭০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে ৯ পয়েন্ট।
অন্যদিকে, সিএসইতে প্রধান সূচক ৯ পয়েন্ট কমে গেছে। সেখানে লেনদেন হওয়া ৬২ কোম্পানির মধ্যে ৩১টির দাম বেড়েছে, ২৪টির কমেছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
৩৭৯ দিন আগে
ব্যবসায়ীরা ব্যবসা-বিনিয়োগে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে- ঢাকা চেম্বার সভাপতি
চাঁদাবাজি, প্রতারণামূলক অনলাইন কার্যক্রমসহ অনিরাপদ পরিবেশের কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা ও বিনিয়োগে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে উদ্যোক্তাদের অনিরাপদ পরিবেশ, চাঁদাবাজি, প্রতারণামূলক অনলাইন কার্যক্রম, পণ্য পরিবহন ঝুঁকি, জালিয়াতি প্রভৃতি প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়।’
বুধবার (২১ মে) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার অত্যাবশকীয়তা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘নির্বিঘ্নে, স্বচ্ছভাবে ও নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার একটি সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। দাবি আদায় গণতান্ত্রিক কার্যক্রমের অংশ হলেও, অর্থনীতির এ কঠিন সন্ধিক্ষণে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি জনগনের দৈনন্দিন কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি।
এছাড়াও রাজধানী ঢাকার উপর চাপ কমাতে প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি, যার মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের উন্নয়ন আরও সুসংহত হবে বলে জানান তিনি।
ডিসিসিআই’র সাবেক ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সালাম বলেছেন, ‘ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে আমরা চিন্তিত। ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স দিলেও বর্তমানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা মোটেও কাম্য নয়।’
ডিসিসিআই’র প্রাক্তন সহসভাপতি এম আবু হোরায়রাহ ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় পার্কিং সুবিধা বাড়নোর পাশাপাশি দক্ষিণের ট্রাফিক বিভাগের অফিস শান্তিনগর থেকে গুলিস্তানে স্থানান্তরের সুপারিশ করেন। তিনি বৈদ্যুতিক ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে ঢাকা শহরের বাইরে স্থানান্তর করারও সুপারিশ করেন। পাশাপাশি অতিদ্রুত ঢাকা শহরের পরিবহনের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।
বাংলাদেশ ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মওলা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থতির পট পরিবর্তনের পর আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি।
তিনি বলেন, ‘স্থলবন্দরের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে ট্রাক ভাড়া করতে গিয়ে ব্যবসায় ব্যয় বাড়ছে। মৌলভীবাজার এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত ট্রাকস্ট্যান্ড থাকায় বাবুবাজার ব্রিজে প্রচন্ড যানজট হচ্ছে, ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।’এ ছাড়াও, লালবাগ, কোতোয়ালি, চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের নগদ টাকা পরিবহনে নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকায় সান্ধ্যকালীন পুলিশি টহল বাড়ানো দাবি জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।
বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী আবুল হাসেম বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হলেও চিনির উপর সরকারের অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপের ফলে চিনির মূল্য যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ব্যবসায়ীদের ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট। এ সময়, সরকারের কাছে ট্যাক্স কমানোর দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের ১৪টি চিনিকল থাকলেও উৎপাদিত চিনি দিয়ে মোট চাহিদার মাত্র ২ শতাংশ মেটানো যায়। এছাড়া, বেসরকারি খাতে চিনিকল আছে মাত্র ৩টি। এ খাতের পাইলট প্রকল্পের আওতায় সরকারের অন্তত ২টি চিনিকল সারা বছর চালানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া চিনি আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে সুষম প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সাপ্লাইচেইন বৃদ্ধি করা গেলে চিনির দাম কমবে বলে জানান চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি।
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী সৈয়দ মোহাম্মদ বশির উদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ বাহিনী এখনও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে না। চিনি ও ভোজ্যতেল আমদানি সবার জন্য উন্মুক্ত করলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে, অবৈধ মজুদদারী বন্ধ হবে ও পণ্যের দাম কমবে।
বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি নেসার উদ্দিন খান বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের নৈরাজ্যে এখন জনজীবনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, যা প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দরকার।
বাংলাদেশ মনিহারী বণিক সমিতির সহসভাপতি হাজী ফয়েজউদ্দিন বলেন, পুরান ঢাকায় প্রবেশপথগুলো বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচির কারণে বন্ধ থাকায় চকবাজারসহ অন্যান্য জায়গায় পণ্যবাহী ট্রাক যেতে পারছে না। ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল হলেও চকবাজার, মৌলভীবাজার এলাকায় কোন ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় প্রতিনিয়ত যানজট অসহনীয় হয়ে পড়ছে, যা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
এছাড়া পণ্য আমদানিতে শুল্কের হার বৃদ্ধি, ব্যাংকের ঋণের শর্ত পূরণ করতে না পারায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ঋণ সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।
মোহাম্মদপুর টাউনহল কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লুৎফুর রহমান বাবু বলেন, মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
এছাড়াও মোহাম্মদপুর এলাকায় ফুটপাতে অবৈধ দখল উচ্ছেদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ধামরাই ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ঢাকা শহরের আশপাশে ৩৭০টি ইটভাটা থাকলেও, সরকার ইট ভাটার লাইসেন্স নবায়নের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এ খাতের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই বিষয়টির দ্রুত সুরাহার দাবি জানান তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মোহাইমেনুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এটি আরও উন্নতি করতে হবে। তবে এখনও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য উপযুক্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি।’
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে দাবি তার। এছাড়া, কিশোর ও যুবক গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ বরাবরের মতো কঠোর এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
মত বিনিময় সভায় ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান ও পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যসহ বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৭৯ দিন আগে