ক্রিকেট
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নতুন দলে নাম লেখালেন সাকিব
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশে ফিরতে চেয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন সাকিব আল হাসান। এ কারণে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে চেয়েও পারেননি। এসব জটিলতার মাঝেই আসন্ন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নতুন দলে নাম লিখিয়েছেন তিনি।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক। অবশ্য দেশে ফিরে ক্লাবটির হয়ে তিনি খেলতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সাকিবকে দলে ভেড়ানোর খবর নিশ্চিত করে রূপগঞ্জের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘ক্রিকেটীয় কারণে আমরা সাকিবকে দলে নিয়েছি। সে দেশে আসতে পারলে আমাদের হয়ে খেলবে, না আসতে পারলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার।’
গত আসরে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের হয়ে খেলেন সাকিব। তবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক সরে যাওয়ায় ক্লাবটির সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখাও সম্ভব হয়নি তার। পরে রূপগঞ্জের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: আবারও পরীক্ষায় ফেল, সাকিবের বোলিং নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ নির্বাচিত হন সাকিব। গত জুলাই মাসে দেশের বাইরে যান তিনি। এরপর আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি হন তিনি।
এরপর দেশের জার্সিতে খেললেও তা ছিল দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে (পাকিস্তান ও ভারতে)। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা হলেও দুবাই এসে ফিরে যেতে হয় তাকে।
ওই সময় থেকেই ক্রিকেটে ভালো সময় যাচ্ছে না এক সময়ের বিশ্বেসেরা এই অলরাউন্ডারের। সম্প্রতি তার বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলে গণ্য হয়। এর ফলে খেলার মাঠেও তার কার্যকারিতা কমে যায় অর্ধেক। এ কারণেই কেবল ব্যাটার হিসেবে তাকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে না নেওয়ার কথা জানান নির্বাচকরা।
আরও পড়ুন: সাকিব-লিটনকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল ঘোষণা
বোলিং অ্যাকশন অবৈধ হলেও বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বল করতে বাধা নেই সাকিবের। সে কারণেই তাকে দলে নিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। তবে দেশে ফিরে খেলতে মাঠে নামতে পারবেন কিনা, তা একদমই অনিশ্চিত।
মার্চের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে চলেছে এ বছরের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। তা আগে আগামীকাল (রবিবার) পর্যন্ত চলবে দলবদল। ক্রিকেটারদের অনলাইন ও অফলাইন দুভাবেই নিবন্ধন করানো যাচ্ছে।
৩৭৭ দিন আগে
দুই সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের সামনে নিউজিল্যান্ডের রানপাহাড়
অষ্টম ও নবম ওভারে দুই রানের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের দুই উইকেট তুলে নিয়ে ভালো বোলিংয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। তবে সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ইঙ্গিত আর জোরালো হয়ে বাস্তবে ধরা দেয়নি, বরং কিউই ব্যাটারদের কাছে নাকানিচুবানি খেয়ে খরুচে এক ইনিংস শেষ করেছে স্বাগতিকরা।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করে পাঁচ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানকে ৩২১ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
এই ম্যাচে রাচিন রবীন্দ্রর চোটে একাদশে ডাক পেয়েই ওপেনিংয়ে নেমে সেঞ্চুরি করেছেন উইল ইয়াং। ১১৩ বলে একটি ছক্কা ও ১২ চারে ১০৭ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর উইকেটরক্ষক-ব্যাটার টম ল্যাথামের ব্যাট থেকে আসে ইনিংস-সর্বোচ্চ অপরাজিত ১১৮ রান। ১০৪ বলে তিনটি ছক্কা ও ১০ চারে এই রান করেছেন তিনি। এছাড়া,৩৯ বলে চারটি ছক্কা ও তিনটি চারে ৬১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন গ্লেন ফিলিপস।
এদিন টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও প্রথম উইকেটের জন্য অষ্টম ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় পাকিস্তানকে। ওভারের তৃতীয় বলে আবরার আহমেদের ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ১০ রান করে ফেরেন ডেভন কনওয়ে। পরের ওভারেই আরেকটি সাফল্য পায় পাকিস্তান। এবার নাসিম শাহের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ২ বলে ১ রান করে ফেরেন কেইন উইলিয়ামসন।
এরপর ডেরিল মিচেলকে সঙ্গে নিয়ে উইকেটের পতন ঠেকানোর চেষ্টা করেন ইয়াং। তাতে খানিকটা সফলও হন তিনি। তবে সপ্তদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে ২৪ বলে ১০ রান করে মিচেলও ফিরে গেলে ল্যাথামের সঙ্গে বড় সংগ্রহের পথে এগোন ওপেনার ইয়াং।
নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ১১৮ রানের জুটি গড়ে ইয়াং যথন ফিরে যান, তখন তিন উইকেটে ৭৩ রান থেকে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ চার উইকেটে ১৯১।
২০৭ রান নিয়ে শেষ দশ ওভারে প্রবেশ করে কিউইরা। এরপর রানের চাকার গতি বাড়িয়ে ৯৫ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন ল্যাথাম। তারপর ৩৪ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে আরও বড় সংগ্রহের দিকে ছোটেন ফিলিপসও। তবে যখন মনে হচ্ছিল, এই দুই ব্যাটারের ব্যাটে ভর করেই ইনিংস উৎরে যাবে নিউজিল্যান্ড, ঠিক তখনই স্কুপ করতে গিয়ে শর্ট থার্ডম্যান অঞ্চলে ধরা পড়েন ফিলিপস।
ইনিংসের তখন আর দুই বল বাকি। এ সময় ব্যাটিংয়ে নেমে একটি লেগ বাই রান নিয়ে ল্যাথামকে স্ট্রাইক দেন মিচেল ব্রেসওয়েল, আর শেষ বলে তিন রান নিয়ে ৩২০ রানে ইনিংস শেষ করেন কিউই উইকেটরক্ষক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ৩২০/৫ (ল্যাথাম ১১৮*, ইয়াং ১০৭, ফিলিপস ৬১; নাসিম শাহ ২/৬৩, হারিস রউফ ২/৮৩, আবরার আহমেদ ১/৪৭)।
৩৮০ দিন আগে
ফিক্সিংকাণ্ডে ৫ বছর নিষিদ্ধ বাংলাদেশের সোহেলী
আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোডের পাঁচটি ধারা ভঙ্গের দায়ে সব ধরনের ক্রিকেট ও ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটার সোহেলী আক্তার।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোহেলীকে সাজা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বশেষ ২০২২ সালে খেলেছেন এই ক্রিকেটার। তবে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালে বাংলাদেশের এক ক্রিকেটারকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেন তিনি।
আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) কাছে দায় স্বীকার করে নিয়েছেন সোহেলী। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তার নিষেধাজ্ঞা থেকে কার্যকর হয়েছে।
২০২৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার লতাকে মোবাইল ফোনে ফিক্সিংয়ের বার্তা পাঠান। সে সময় বড় অঙ্কের টাকার লোভ দেখান তিনি। ওই ক্রিকেটার অবশ্য অসাধু পথে পা না দিয়ে আইসিসির দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানান।
ওই সময় সোহেলী সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন, তিনি সতীর্থ লতাকে মজা করে মিথ্যা মিথ্যা প্রস্তাব দিয়েছিলেন মাত্র। তবে সেই কারণে এবার নিজে ফেঁসে যাচ্ছেন তিনি।
সোহেলীর আইসিসির দুর্নীতি বিষয়ক ২.১.১ ধারা ভেঙেছেন। সেখানে তিনি ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিং করতে প্ররোচিত করেছেন। ২.১.৩ ধারাও ভেঙেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, তিনি ম্যাচ পাতানোর জন্য অন্যকে উৎসাহিত করার দরুণ অর্থ বা পুরস্কার নিয়েছেন কিংবা চেয়েছেন।
আরও পড়ুন: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
আইসিসির প্রতিবেদনে ২.১.৪ ধারা ভঙ্গের কথা বলা হয়েছে, যেখানে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাউকে ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করেছেন বা প্ররোচিত করেছেন। ২.৪.৪ ধারায় বলা হয়েছে, আইসিসিকে তিনি তদন্তের স্বার্থে তথ্যাদি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ২.৪.৭ ধারায় বলা হয়েছে, এই নারী ক্রিকেটার তদন্তে বাধা দিয়েছেন, তথ্যা দিতে বিলম্ব করেছেন বা তথ্যাদি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।
সোহেলী বাংলাদেশ নারী দলের হয়ে দুটি ওয়ানডে খেলেছেন। ২০১৩ সালে তার অভিষেক হয় ও ২০১৪ সালে শেষ ওয়ানডে খেলেন। দেশের জার্সিতে তিনি ১৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। যার প্রথমটি ২০১৩ এবং শেষটি খেলেছেন ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর।
৩৮৮ দিন আগে
এবারের বিপিএলে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যত কার্যক্রম
সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল-২০১৫) পরিবেশবান্ধব করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একাধিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। এর মধ্যে রয়েছে— মাঠের ভেতরে ও বাইরে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া পরিবেশবান্ধব প্ল্যাকার্ড ও প্রপ ব্যবহারের পাশাপাশি চার-ছক্কা উদযাপনের উপকরণেও পরিবেশবান্ধব বার্তা সংযোজন করা হয়।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ও ফাইনাল ম্যাচে প্রতিটি দলের অধিনায়কের মধ্যে গাছ বিনিময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়, যা পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। ম্যাচ চলাকালে এল আকৃতির বিজ্ঞাপন ও থিমেটিক টিভিসি সম্প্রচার, যেখানে জিরো ওয়েস্ট ক্যাম্পেইন, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বর্জন, বায়ু ও শব্দদূষণ রোধের বার্তা বোঝায়।
ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের তিনটি ভেন্যুতে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ কর্নার স্থাপন করা হয়। এসব কর্নারে পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শকদেরও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়।
পরিবেশদূষণ রোধে ইন্টারঅ্যাক্টিভ বিন স্থাপন করা হয়, যেখানে রঙ চিহ্নিত বিনের মাধ্যমে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়।
আরও পড়ুন: বিপিএল ২০২৫ টি২০ ক্রিকেটের প্রথম সারির প্রতিদ্বন্দ্বীরা
ম্যাচ চলাকালে রেডিওতে পরিবেশ সচেতনতামূলক বার্তা সম্প্রচারের জন্য জনপ্রিয় আরজেদের এনডোর্সমেন্ট যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি বিপিএল সংশ্লিষ্ট ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক প্ল্যাটফর্মে পরিবেশ সচেতনতা-বিষয়ক বার্তা প্রচার ও বুস্টিং করা হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিপিএল-২০২৫ কেবল একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়, বরং একটি পরিবেশ সচেতনতামূলক উৎসবে রূপ নেয়, যা তরুণদের পরিবেশ রক্ষায় উৎসাহিত করে। ক্রিকেট, ফুটবলসহ খেলাধুলা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ সকল প্রকার অনুষ্ঠানের পরিবেশবান্ধব আয়োজন করতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৩৯১ দিন আগে
শেষের নাটকীয়তায় পরও রেকর্ড গড়ে ফের বিপিএল চ্যাম্পিয়ন বরিশাল
বিপিএলের ফাইনালে শুরুতে ব্যাটিং করে রেকর্ড রান সংগ্রহ করে প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল চিটাগাং কিংস। তবে তামিম ইকবাল ও কাইল মেয়ার্সের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তাদের সে স্বপ্ন গ্লানিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) টস হেরে শুরুতে ব্যাটিং করে ১৯৫ রানের লক্ষ্য দেয় কিংস। এটি ছিল বিপিএলের ফাইনালে প্রথম ইনিংসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ। ফলে শিরোপা ধরে রাখতে রেকর্ড করতে হতো বরিশালকে।
আর লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দুই ব্যাটারের ব্যাটিং ঝড় এবং শেষের নাটকীয়তার পর তিন বল বাকি থাকতেই শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতে তামিম ইকবালের দল।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে সর্বোচ্চ ২৯ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভীত গড়ে দেন অধিনায়ক তামিম। এরপর কাইল মেয়ার্সের ২৮ বলে ৪৬ রানের ঝড়ো ইনিংসটি সে কাজ আরও সহজ করে দেয়। যদিও শেষদিকে মেয়ার্স ও মাহমুদুল্লাহকে ফিরিয়ে দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল চিটাগাং, তবে রিশাদ হোসেনের ৬ বলে ১৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে সেই আশার গুড়েও বালি পড়ে।
চিটাগাংয়ের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। চার ওভারে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এছাড়া নাঈম ইসলাম দুটি ও বিনুরা ফের্নান্দো নিয়েছেন একটি উইকেট।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম ওভার থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন তামিম, আর তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে চলেন তৌহিদ হৃদয়। প্রথম ওভারে বিনুরাকে তামিম তিনটি চার মারলে ওই ওভারে ১৪ রান সংগ্রহ করে বরিশাল। এরপর আরাফাত সানিকে দেখেশুনে খেলে তৃতীয় ওভারে ফের বিনুরার বলে তিনটি চার মেরে ১২ রান সংগ্রহ করেন তামিম।
চতুর্থ ওভারে খালেদ আহমেদ দেন ১১ রান। পরের দুই ওভারে উইকেট ধরে রাখায় মনোযোগী হলে রানের চাকা কিছুটা গতি হারায়। ফলে পাওয়ার প্লেতে চিটাগাংয়ের মতোই বিনা উইকেটে ৫৭ রান সংগ্রহ করে বরিশাল।
সপ্তম ওভারে একটি করে ডবল, চার ও ছক্কায় ১৩ রান সংগ্রহ করে বরিশাল, সেই সঙ্গে ২৪ বলে একটি ছক্কা ও ৯টি চারের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম।
অষ্টম ওভারটি দেখেশুনে খেলার পর নবম ওভারে বরিশাল শিবিরে জোড়া আঘাত হানে চিটাগাং। শরিফুল ইসলামের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে ফিরতে হয় তামিমকে, আর চতুর্থ বলে শরিফুলের লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন নতুন ব্যাটার ডাওইড মালান। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও শরিফুল রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি। ফলে দলীয় ৭৬ ও ৭৮ রানে প্রথম ও দ্বিতীয় উইকেট হারায় বরিশাল।
তামিম ফিরে গেলে খোলস ছেড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তৌহিদ, তাতে কিছুটা সফলও হন তিনি; দশম ওভারে তৌহিদের দুটি চারসহ ১৫ রান তোলে বরিশাল। তবে পরের ওভারের দ্বিতীয় বলেই ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন এই ওপেনার। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ২৮ বলে তিনটি চারে ইনিংসের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩২ রান করে যান তিনি। এতে দলীয় সংগ্রহ একশ পূর্ণ করার আগেই বরিশালের তিন ব্যাটার বিদায় নেন।
চতুর্থ উইকেটে কাইল মেয়ার্স ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে বড় জুটি গড়ার আভাস মেলে। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুশফিক। দ্বাদশ ওভারে মেয়ার্স দুটি ছক্কা হাঁকালে পরের ওভারের প্রথম তিন বলে তিনটি চার আসে, এর দুটি মুশফিকের ব্যাট থেকে ও পরেরটি অতিরিক্ত হিসেবে। চতুর্থ বলে ফের উড়িয়ে ব্যাট চালিয়ে ডিপ লেগে নাফের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৯ বলে তিনটি চারে ১৬ রান করে অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ফিরে গেলে ভাঙ্গে ১৪ বলে ৩৪ রানের জুটি। পরে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জয়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন মেয়ার্স। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫তম ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে শেষ ৫ ওভারে জয়ের লক্ষ্য ৪৪ রানে নামিয়ে আনেন এই ক্যারিবীয়।
শেষের দিকে খালেদের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন মেয়ার্স, তবে তা লুফে নিতে পারেননি শরিফুল। এরপর শেষ তিন ওভারে ২৫ রান নিতে হতো বরিশালকে। তবে অষ্টাদশ ওভারে আবারও দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন শরিফুল।
ওভারের তৃতীয় বলে শরিফুলের বলে ফের ক্যাচ দিলে মেয়ার্সের সেই ক্যাচ ধরতে ভুল হয়নি বদলি ফিল্ডার মার্শাল আইয়ুবের। তিনটি করে চার ও ছক্কায় ২৮ বলে ৪৬ রান করে ফেরেন মেয়ার্স। এরপর পঞ্চম বলে মাহমুদুল্লাহকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ নিয়ে ফেরান মুশফিক। ফলে ৬ উইকেট হারানো বরিশাল শেষ দুই ওভারে পায় ২০ রানের লক্ষ্য।
১৯তম ওভারের প্রথম পাঁচ বলে রিশাদের একটি ছক্কাসহ মোট ১২ রান নিলে ম্যাচের পাল্লা বরিশালের দিকে ভারী হয়ে ওঠে। তবে পরের বলেই ফের নাটক। বিনুরার ওভারের শেষ বলে জোরে ব্যাট চালিয়ে শর্ট মিড-অনে ধরা পড়েন মোহাম্মদ নবি। ফলে শেষ ওভারে ৮ রান করতে হতো বরিশালকে।
এরপর শেষ ওভারের প্রথম বলেই লং অনে বিশাল ছক্কা হাঁকান রিশাদ। পরে দুই ব্যাটার একবার জায়গা পরিবর্তনের পর তৃতীয় বলে রান আউট হয়ে যান রিশাদ, কিন্তু আম্পায়ার দুহাত প্রসারিত করে ওয়াইড দিলে জয়োল্লাসে মেতে ওঠে বরিশালের সমর্থকরা।
আরও পড়ুন: ইমন, খাওয়াজার ব্যাটে ফাইনালে পাহাড়সম লক্ষ্য পেল বরিশাল
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চিটাগাং কিংস: ১৯৪/৩ (ইমন ৭৮*, নাফে ৬৬, ক্লার্ক ৪৪; মোহাম্মদ আলি ১/২১, ইবাদত ১/৩৫)।
ফরচুন বরিশাল: ১৯৫/৭ (তামিম ৫৪, মেয়ার্স ৪৬, তৌহিদ ৩২; শরিফুল ৪/৩৪, নাঈম ২/১৮)।
ফলাফল: ফরচুন বরিশাল তিন উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তামিম ইকবাল।ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট: মেহেদী হাসান মিরাজ।
৩৯২ দিন আগে
ইমন, খাওয়াজার ব্যাটে ফাইনালে পাহাড়সম লক্ষ্য পেল বরিশাল
ফাইনাল ম্যাচে মাঠে নেমেই সেই যে মারমুখী ব্যাটিং শুরু করল চিটাগাংয়ের ব্যাটাররা, শেষ পর্যন্ত ধরে রাখল তার ধারা। আর এতেই টপ-অর্ডার ব্যাটারদের কল্যাণে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বরিশালকে বড় লক্ষ্য দিয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনের দল।
প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে বিপিএলের ফাইনালে শুরুতে ব্যাটিং করে তিন উইকেটে ১৯৪ রান সংগ্রহ করেছে চিটাগাং কিংস। বিপিএলের ফাইনালে এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ রান। ফলে শিরোপা ধরে রাখতে ফরচুন বরিশালকে রেকর্ড গড়তে হবে।
দলের হয়ে ৪৯ বলে চারটি ছক্কা ও ৬টি চারে সর্বোচ্চ ৭৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। এছাড়া অপর ওপেনার খাওয়াজা নাফের ব্যাট থেকে আসে ৬৬ রান (৪৪ বলে) এবং তিনে নেমে ২৩ বলে তিনটি ছক্কা ও দুটি চারে ৪৪ রান করেন গ্রাহাম ক্লার্ক।
অপরদিকে, বরিশালের বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আলি ছাড়া আর সবাই ছিলেন খরুচে। আলি ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন।
টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভার একটু দেখেশুনে খেললেও তৃতীয় ওভার থেকে বোলারদের ওপর চড়াও হন চিটাগাংয়ের দুই ওপেনার। এর ধারাবাহিকতায় প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৫৭ রান সংগ্রহ করে কিংস।
একপর্যায়ে ৩০ বলে ইমন ও ৩১ বলে নিজের অর্ধশত পূরণ করেন নাফে। এরপর ১২.৪তম ওভারে ইবাদত হোসেনের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ঠিকমতো ব্যাটের সংযোগ ঘটাতে না পেরে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় নাফেকে। এতে করে ভাঙে ১২১ রানের উদ্বোধনী জুটি।
তারপর ক্রিজে এসে ইমনের সঙ্গে ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করেন ক্লার্কও। ইনিংসের ৪ বল বাকি থাকতে ৪০ বলে ৬৯ রানের জুটি গড়ে রান আউট হয়ে এই ইংলিশ ব্যাটার যখন ফিরে যাচ্ছেন, চিটাগাংয়ের স্কোর তখন ১৯১। এর পরের চার ওভারে শামীম হোসেন আউট এবং তিনটি রান হয়। ফলে বরিশালের জন্য ১৯৫ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে মাঠ ছাড়েন ইমন ও তালাত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চিটাগাং কিংস: ১৯৪/৩ (ইমন ৭৮*, নাফে ৬৬, ক্লার্ক ৪৪; মোহাম্মদ আলি ১/২১, ইবাদত ১/৩৫)।
৩৯২ দিন আগে
বিপিএল ২০২৫ টি২০ ক্রিকেটের প্রথম সারির প্রতিদ্বন্দ্বীরা
তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলছে বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) ২০২৫ আসর। ঘরোয়া টি২০ ক্রিকেট উৎসবের মারদাঙ্গা উদ্দীপনায় ভাসছে সারা দেশ। ৭ দলের মোট ৪৬টি খেলার মধ্যে ফেজ-১, ফেজ-২, ও ফেজ-৩ সহ ৩২টি ম্যাচ শেষ। ফেজ-৪-এর ১০টি ম্যাচে কারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তা-ও নির্ধারণ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ২০ ওভারের ব্যাটে-বলের যুদ্ধে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কারা, চলুন তা দেখে নেওয়া যাক।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫ আসরে শীর্ষ ৫ ব্যাট্সম্যান
.
টেবিল: বিপিএল-এর ১১-তম আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের বিচারে সেরা ৫ ব্যাট্সম্যান
ক্রমিক
ব্যাট্সম্যান
দল
মোট রান
ম্যাচ
এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান
সেঞ্চুরি
হাফ সেঞ্চুরি
১
তানজিদ হাসান তামিম
ঢাকা ক্যাপিটাল্স
৪২০
১০
১০৮
১
৩
২
মোহাম্মদ এনামুল হক বিজয়
দুর্বার রাজশাহী
৩৭৯
১০
১০০
১
২
৩
লিটন দাস
ঢাকা ক্যাপিটাল্স
৩৪৮
৯
১২৫
১
২
৪
জাকির হাসান
সিলেট স্ট্রাইকার্স
৩৪২
৯
৭৫
-
৩
৫
গ্রাহাম ক্লার্ক
চিটাগাং কিংস
৩৩৫
৮
১০১
১
১
সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করে প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। ঢাকা ক্যাপিটাল্সের এই দুর্দান্ত খেলোয়াড়ের ১০ ম্যাচে সংগ্রহ মোট ৪২০ রান। এর মধ্যে রয়েছে ১টি সেঞ্চুরি ও ৩টি হাফ সেঞ্চুরি। তারা খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে সর্বসেরা হচ্ছে ১০৮ রানের ইনিংসটি।
১০ ম্যাচে সর্বমোট ৩৭৯ রান নিয়ে তালিকার ২ নাম্বারে আছেন দুর্বার রাজশাহীর মোহাম্মদ এনামুল হক বিজয়। তার ব্যাট থেকে এসেছে ২টি হাফ সেঞ্চুরি ও ১ টি সেঞ্চুরি, যেখানে সেঞ্চুরির ইনিংসটি ছিলো তার সেরা পারফরমেন্স।
আরো পড়ুন: ‘বাদ পড়ার পর’ জ্বলে উঠলেন লিটন, রেকর্ড বই এলোমেলো
বিপিএল ২০২৫-এ এ পর্যন্ত এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের (১২৫) স্কোরের অধিকারী ঢাকা ক্যাপিটাল্সের লিটন দাস। কিন্তু ৯ ম্যাচে সংগৃহীত রানের হিসেবে তার অবস্থান নেমে এসেছে ৩ নাম্বারে। সেঞ্চুরির ইনিংস ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে তার ২টি হাফ সেঞ্চুরি আছে।
চতুর্থ ব্যাট্সম্যানের নাম জাকির হাসান, এ পর্যন্ত যার সংগ্রহ ৯টি ম্যাচে মোট ৩৪২ রান। তার দখলে কোনও সেঞ্চুরি নেই, তবে ৩টি হাফ সেঞ্চুরি ও ৭৫ রানের স্কোর।
তালিকার সবশেষে রয়েছেন ইংলিশ ব্যাট্সম্যান গ্রাহাম ক্লার্ক। ৮ ম্যাচে ১টি হাফ সেঞ্চুরি ও ১ টি সেঞ্চুরি সহ তিনি মোট ৩৩৫ রান নিয়েছেন। সেঞ্চুরির (১০১ রান) ইনিংসটিই এখন পর্যন্ত তার সেরা পারফরমেন্স।
১১-তম বিপিএল আসরে আসরে শীর্ষ ৫ বোলার
.
টেবিল: বিপিএল-২০২৫-এ ফেজ-৪ শুরুর পূর্বে সর্বোচ্চ উইকেট বিবেচনায় শীর্ষস্থানীয় ৫ বোলার
ক্রমিক
বোলার
দল
উইকেট
ম্যাচ
ইনিংস/ওভার
এক ইনিংসে সেরা বোলিং
১
তাসকিন আহমেদ
দুর্বার রাজশাহী
২২
১০
৩২.২
৭/১৯
২
আকিফ জাভেদ
রংপুর রাইডার্স
১৫
৭
২৬.৫
৪/৩২
৩
আবু হায়দার রনি
খুলনা টাইগার্স
১৫
৮
৩০.৫
৪/৪৪
৪
খুশদিল শাহ
রংপুর রাইডার্স
১৪
৯
২৪
৩/১৮
৫
আলিস আল ইসলাম
চিটাগাং কিংস
১২
৮
৩১
৩/১৭
১০টি ম্যাচে ৩৮ ওভার ২ বল করে ২২টি উইকেট নিয়ে এখন অব্দি টুর্নামেন্টের সেরা বোলারের আসনে রয়েছে তাসকিন আহমেদ। দুর্বার রাজশাহীর এই পেসারের সেরা স্কোর ১৯ রানে ৭ উইকেট।
আরো পড়ুন: আবারও পরীক্ষায় ফেল, সাকিবের বোলিং নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে
রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলা পাকিস্তানি ক্রিকেটার আকিফ জাভেদ আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। মাত্র ৭ ম্যাচে ২৬ ওভার ৫ বল করে তিনি উইকেট নিয়েছেন মোট ১৫টি। তার উল্লেখযোগ্য পারফরমেন্স হচ্ছে ৩২ রানের বিপরীতে ৪টি উইকেট।
আকিফ জাভেদের সমসংখ্যক উইকেট নিলেও তার তুলনায় একটি বেশি ম্যাচ খেলার কারণে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আবু হায়দার রনি। ৮ ম্যাচে তিনি বল করেছেন ৩০ ওভার ৫টি, যেখানে তার সেরা বোলিং ছিলো ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট সংগ্রহ।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা বোলার পাকিস্তানের খুশদিল শাহ, যিনি খেলছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে। ৯ ম্যাচে ২৪ ওভার বলের বিনিময়ে তার অর্জন সব মিলিয়ে ১৪ উইকেট। তন্মধ্যে এক ইনিংসে তার সর্বোচ্চ স্কোর ৩ উইকেটের বিপরীতে ১৮ রান প্রদান।
তালিকার ৫-এ আছেন চিটাগাং কিংসের আলিস আল ইসলাম। ৮টি ম্যাচে ৩১ ওভারের মধ্যে তার উল্লেখযোগ্য বোলিং স্কোর ১৭ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট। আর সব ম্যাচ মিলিয়ে সংগ্রহ করেছেন ১২টি উইকেট।
২০২৫ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শ্রেষ্ঠ ৪ দল
.
টেবিল: ১১-তম বিপিএল আসরে ফেজ-৪ শুরুর পূর্বে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকা ৪টি দল
ক্রমিক
দল
ম্যাচ
জয়
পরাজয়
পয়েন্ট
নেট রান রেট
১
রংপুর রাইডার্স
৯
৮
১
১৬
১.২২৩
২
ফরচুন বরিশাল
৮
৬
২
১২
০.৯৯৩
৩
চিটাগাং কিংস
৯
৫
৪
১০
১.০৪৫
৪
খুলনা টাইগার্স
৯
৪
৫
৮
-০.১৪৮
বিপিএল-২০২৫ টুর্নামেন্টে সবথেকে এগিয়ে থাকা দলটি হচ্ছে রংপুর রাইডার্স। ৯টি ম্যাচের শুধু ১টি ছাড়া বাকি সবগুলোতে জয় নিয়ে দলটির সংগ্রহ ১৬ পয়েন্ট। সাথে আসরের সর্বোচ্চ নেট রান রেট ১.২২৩।
আরো পড়ুন: সাকিব-লিটনকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল ঘোষণা
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দল ফরচুন বরিশাল ৮ ম্যাচের মাত্র ২টিতে হেরে সবগুলোতে জয় পেয়েছে। দলটির সংগৃহীত পয়েন্ট ১২ এবং নেট রানের অনুপাত ০.৯৯৩।
৯টি ম্যাচের ৪টিতে পরাজয় ও ৫টিতে জয় পেয়ে তালিকার ৩ নাম্বারে রয়েছে চিটাগাং কিংস। ১০ পয়েন্ট অধিকারী এই দলটির নেট রান রেট ১.০৪৫।
সবশেষে রয়েছে খুলনা টাইগার্স, যারা ৯ ম্যাচের ৪টিতে জয় পেয়ে সংগ্রহ করেছে ৮ পয়েন্ট। ৫ ম্যাচ পরাজয়ের কারণে দলের নেট রানের অনুপাত দাড়িয়েছে -০.১৪৮।
পরিশিষ্ট
বিপিএল ২০২৫-এ এখন পর্যন্ত শীর্ষ অবস্থানে থাকা ব্যাট্সম্যানরা হচ্ছেন তানজিদ হাসান তামিম, মোহাম্মদ এনামুল হক বিজয়, লিটন দাস, জাকির হাসান, এবং গ্রাহাম ক্লার্ক। আসরের সর্বোচ্চ উইকেটধারী বোলারদের মধ্যে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ, আকিফ জাভেদ, আবু হায়দার রনি, খুশদিল শাহ, এবং আলিস আল ইসলাম। ব্যাট ও বলের পারফরমেন্স নির্বিশেষে সামগ্রিক ভাবে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা দলগুলো হলো- রংপুর রাইডার্স, ফরচুন বরিশাল, চিটাগাং কিংস, এবং খুলনা টাইগার্স।
আরো পড়ুন: পিএসএলের ড্রাফটে বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার
৪০৬ দিন আগে
পিএসএলের ড্রাফটে বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দশম আসরের প্লেয়ার্স ড্রাফটে বাংলাদেশি ৩ ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের আসরটি আগামী ৮ এপ্রিল শুরু হয়ে চলবে ১৯ মে পর্যন্ত।
পেসার নাহিদ রানা, ব্যাটসম্যান লিটন দাস ও লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন পিএসএলের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তি করেছেন।
প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে গোল্ড ক্যাটাগরিতে নাহিদ রানাকে দলে ভিড়িয়েছে পেশোয়ার জালমি।
আরও পড়ুন: সাকিব-লিটনকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল ঘোষণা
দুইবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির কোচিংয়ে বাবর আজম, সাইম আইয়ুবের মতো তারকাদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করবেন ডানহাতি পেসার নাহিদ।
করাচি কিংস গোল্ড ক্যাটাগরিতে লিটন দাসকে বেছে নিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রেকর্ড সেঞ্চুরি করা এই অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার এর আগে আইপিএল, এলপিএল ও সিপিএলে খেলেছেন।
সিলভার ক্যাটাগরিতে লাহোর কালান্দার্সে যোগ দিয়েছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। রিশাদ গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্সের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। এখন এনওসি পেলে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো খেলবেন।
সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে থাকলেও পিএসএলের ড্রাফটে কাউকেই নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: ‘বাদ পড়ার পর’ জ্বলে উঠলেন লিটন, রেকর্ড বই এলোমেলো
৪১৬ দিন আগে
‘বাদ পড়ার পর’ জ্বলে উঠলেন লিটন, রেকর্ড বই এলোমেলো
বাংলাদেশের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকে বাদ পড়ার পরদিনই চোখ ধাঁধানো ব্যাটিং উপহার দিলেন লিটন কুমার দাস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। আর তাতেই এলোমেলো হয়ে গেছে বিপিএলের রেকর্ড বই।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে ২৫৪ রানের পাহাড়সম স্কোর গড়েছে ঢাকা।
এদিন টস হেরে শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ২৪১ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন তানজিদ তামিম ও লিটন দাস। ৬৪ বলে আটটি ছক্কা ও ছয়টি চারের সাহায্যে ১০৮ রান করে তানজিদ ফিরে যাওয়ার পর দুই বলে একটি ছক্কায় ৭ রান করেন সাব্বির হোসেন। অপর প্রান্তে মাত্র ৫৫ বল মোকাবিলা করে ৯টি ছক্কা ও ১০টি চারের সাহায্যে ১২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন লিটন।
এটি টি-টোয়েন্টিতে লিটনের প্রথম সেঞ্চুরি। আর তানজিদের তার সঙ্গে ২৪১ রানের এই জুটি বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর ফলে ২০১৭ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ক্রিস গেইলের অবিচ্ছিন্ন ২০১ রানের জুটি ভেঙেছেন ঢাকার দুই ওপেনার।
এছাড়া ৪৪ বলে শতরান স্পর্শ করে বিপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে গড়েছেন লিটন। এর আগের রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবালের দখলে। ৫০ বলে সেঞ্চুরি করে এতদিন তিনিই ছিলেন বিপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশি ব্যাটার। তবে সব মিলিয়ে বিপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড রয়েছে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদের দখলে। ৪০ বলে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব রয়েছে তার।
শুধু তা-ই নয়, বিপিএলের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বেশি রানের পুঁজি। এই রেকর্ড গড়ার পথে ঢাকা ২০১৯ সালে রংপুর রাইডার্সের করা ২৩৯ রানের পুঁজিকে পেছনে ফেলেছে। ফলে জিততে হলে ইতিহাস সৃষ্টি করেই ম্যাচটি জিততে হবে রাজশাহীকে।
৪১৮ দিন আগে
সাকিব-লিটনকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল ঘোষণা
আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
তবে এই সিরিজে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের অভাব অনুভব করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এর আগে এই দুই ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তারা বাংলাদেশ দলে থাকতে পারছেন না।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তামিম জানান, বাংলাদেশের হয়ে আর মাঠে নামছেন না তিনি।
এদিকে অবৈধ বোলিংয়ের অভিযোগে সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসিবি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে বোলিং পরীক্ষাতেও সাকিবের বোলিং বৈধ হয়নি। যার ফলে তিনি বোলার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারবেন না।
এমন পরিস্থিতিতে বিসিবিও নিশ্চিত করেছিল যে, সাকিব কেবল ব্যাটার হিসাবে খেলতে পারবেন, তবে নির্বাচকরা তাকে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নেন।
উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান লিটন দাসকেও বাদ দিয়েছে বাংলাদেশ। কম পারদর্শী ব্যাটার বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের ফর্মের উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আর ২৭ ফেব্রুয়ারি একই ভ্যেনুতে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: আবারও পরীক্ষায় ফেল, সাকিবের বোলিং নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-২০২৫ বাংলাদেশ স্কোয়াড:
নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, মুশফিকুর রহিম, তৌহিদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন ইমন, জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব ও নাহিদ রানা।
আরও পড়ুন: বিপিএল: জাকিরের ভূমিকায় ৩ উইকেটে ঢাকাকে হারাল সিলেট
৪১৮ দিন আগে