এশিয়া
তেহরানে ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হামলা চালায় তারা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলাকে ‘হুমকি অপসারণের’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানী তেহরানে তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।
খামেনি সেই সময় তার কার্যালয়ে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গত কয়েক দিন ধরে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
তবে হামলার ফলে কোনও হতাহতের তথ্য এখনও জানা যায়নি।
পরবর্তীতে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিস্ফোরণের খবর প্রচার করলেও এর কোনো কারণ উল্লেখ করেনি।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে দেশটিকে চাপে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের এক বিশাল বহর মোতায়েন করেছে।
একই সময়ে পুরো ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার সম্ভাবনার বিষয়ে জনগণকে প্রস্তুত রাখতে একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছে।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
৬ দিন আগে
সামরিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
সামরিকীকরণে অবদান রাখার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের কাছে রপ্তানি সীমিত করেছে চীন। সম্প্রতি টোকিও-বেইজিং সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিল চীন।
গত নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর থেকে টোকিওর ওপর ধারাবাহিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে বেইজিং। সে সময় তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, তবে জাপান সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এরপর মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে চীন বলেছে, দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০টি জাপানি কোম্পানিকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় এবং আরও ২০টিকে পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় রেখেছে।
রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউজ) পণ্য আমদানি করতে পারবে না। এর মধ্যে জাহাজ নির্মাণ, বিমানের ইঞ্জিন ও সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনে যুক্ত মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ফুজিৎসুর কিছু ইউনিট রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিরাও ওই ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চীনে উৎপাদিত ‘ডুয়াল ইউজ’ পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। এ সম্পর্কিত চলমান সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে, পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় থাকা ২০টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চীনা রপ্তানিকারকদের পৃথক রপ্তানি লাইসেন্স আবেদন, ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং লিখিত অঙ্গীকার জমা দিতে হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে এসব ডুয়াল ইউজ পণ্য জাপানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করবে না। তালিকায় রয়েছে সুবারু করপোরেশন, মিতসুবিশি ম্যাটেরিয়ালস করপোরেশন এবং ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জাপানের পুনরায় সামরিকীকরণ ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমিত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো ‘সম্পূর্ণ বৈধ, যুক্তিসঙ্গত ও আইনসম্মত।’
তারা আরও জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল অল্প কিছু জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য এবং শুধুমাত্র ডুয়াল ইউজ পণ্যকে লক্ষ্য করেছে। ফলে চীন ও জাপানের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতে প্রভাবিত হবে না এবং আইন মেনে চলা জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
জাপানের নিন্দা
টোকিও চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাপানে নিযুক্ত চীনের উপ-মিশন প্রধান শি ইয়ংয়ের কাছে এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়াবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসাআকি কানাই বলেন, কেবল জাপানকে লক্ষ্য করে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আন্তর্জাতিক প্রচলিত রীতির থেকে অনেকটাই ভিন্ন এবং ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
জাপানের উপ-ক্যাবিনেট প্রধান সচিব কেই সাতো মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজ ঘোষিত এই পদক্ষেপ কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। এটি সত্যিই নিন্দনীয়। আমরা চীনের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের (নিয়ন্ত্রণ) তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সাতো বলেন, চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, কিছু বিষয় এখনও অস্পষ্ট থেকে গেছে যেমন এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ বাণিজ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না।
৯ দিন আগে
ভারতের ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, নিহত ৭
পূর্ব ভারতের ঝাড়খণ্ডে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে উড়োজাহাজটিতে থাকা ৭ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। সি-৯০ নামে উড়োজাহাজটির মালিক রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড।
উড়োজাহাজটিতে করে গুরুতর দগ্ধ এক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নয়া দিল্লিতে নেওয়া হচ্ছিল। তার সঙ্গে ছিলেন একজন চিকিৎসক, একজন জরুরি স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের দুই সদস্য।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কীর্তিশ্রী জি জানান, ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে থাকা সবাই মারা গেছেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
রাজ্যের বিমানের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহের মধ্যে পড়ে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর একটি দল পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তারপর ঘন বনাঞ্চল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।
ভারতে ছোট শহরগুলো থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত হাসপাতালে নিতে প্রায়ই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়।
দুর্ঘটনাটি প্রতিকূল আবহাওয়ায়, বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কিছুদিন আগে, পশ্চিম ভারতে এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে বহনকারী একটি বেসরকারি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর পুনরায় এ দুর্ঘটনা ঘটল।
১০ দিন আগে
আফগান সীমান্তে হামলায় ৭০ জঙ্গিকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের
আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহতের দাবি করেছে ইসলামাবাদ। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ বিমান হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, দেশের ভেতরে সাম্প্রতিক হামলার জন্য দায়ী পাকিস্তানি জঙ্গিদের আস্তানাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তবে কাবুল এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালাল চৌধুরী অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানান। তবে সে সময় তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। এতে একটি মাদরাসা ও একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এ হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের ৭০ জন জঙ্গি নিহতের দাবি সঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নানগারহার প্রদেশে আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক মাওলভি ফজল রহমান ফাইয়াজ জানান, এ বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুনরায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
রবিবার রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানান, আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জনগণকে রক্ষার জন্য সাম্প্রতিক এ অভিযান চালানো হয়েছে। কাবুলকে বারবার সতর্ক করার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে জারদারি সতর্ক করে বলেছিলেন, তালেবান নেতৃত্বধীন সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার আগের সময়ের মতো বা তার চেয়েও খারাপ।
এক বিবৃতিতে জারদারি জানান, পাকিস্তান কেবল সীমান্তবর্তী আস্তানায় হামলা চালিয়ে সংযম দেখিয়েছে। তবে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার জন্য দায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তা হলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এতে কোনো আপস নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি ।
এ ঘটনার পর পাকিস্তানের হামলার প্রতিবাদে কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানায়, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করা ইসলামিক আমিরাতের শরিয়াভিত্তিক দায়িত্ব এবং এ ধরনের হামলার পরিণতির দায় পাকিস্তানকেই নিতে হবে।
রবিবার নানগারহারে বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখা যায় স্থানীয়দের। সে সময় নিহতদের দাফনের প্রস্তুতিও চলছিল।
স্থানীয় নেতা হাবিব উল্লাহ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, নিহতরা জঙ্গি ছিল না। তারা দরিদ্র সাধারণ মানুষ ছিল। যারা নিহত হয়েছে তারা তালেবান, সামরিক বাহিনীর সদস্য বা সাবেক সরকারের কেউ নয়। তারা গ্রামে সাধারণ জীবনযাপন করত।
এর আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ৭টি আস্তানায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাছাই করে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান সব সময় চেষ্টা করেছে, তবে পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
১১ দিন আগে
নেপালে পাহাড়ি সড়ক থেকে বাস খাদে, নিহত ১৮
নেপালে পাহাড়ি মহাসড়ক থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৬ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে বাগমতি প্রদেশের ধাদিং জেলার পৃথ্বী মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থল কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে।
কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, বাসটি পোখরা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথিমধ্যে ধাদিংয়ের বেনিঘাট রোরাং গ্রামীণ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরাউন্ডির কাছে চিনাধারা এলাকায় পৌঁছে মহাসড়ক থেকে খাদে পড়ে যায়। এরপর সেটি খাদের তলদেশে ত্রিশুলী নদীতে গিয়ে পড়ে।
পুলিশের বরাত দিয়ে হিমালয়ান টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৪৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। দুই বিদেশিও এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।
এছাড়া আরও অন্তত ২৬ জন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হলেও অধিকাংশকে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ধাদিং জেলা ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ের প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা শুরুতে ১৭ জন থাকলেও পরে তা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তবে গভীর রাতে দুর্ঘটনা ঘটায় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১১ দিন আগে
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টকে ‘আত্মাহীন পুতুল’ আখ্যা দিয়ে নতুন হামলার হুমকি আইএসের
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে তাকে পশ্চিমা দেশগুলোর নিয়ন্ত্রিত ‘আত্মাহীন পুতুল’ বলে অভিহিত করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠী। সেই সঙ্গে হুমকি দিয়ে তারা বলেছে, শেষ পর্যন্ত তার পরিণতি ক্ষমতাচ্যুত নেতা বাশার আসাদের মতোই হবে।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক অডিও বার্তায় সারা বিশ্বের আইএস অনুসারীদের অতীতের মতো ইহুদি ও পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর আহ্বান জানান আইএসের মুখপাত্র আবু হুজাইফা আল-আনসারি।
বার্তায় গোষ্ঠীটির প্রধান আইএস নেতা আবু হাফস আল-হাশেমি আল-কুরাইশির পক্ষ থেকে আইএস যোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানান আল-আনসারি। আল-কুরাইশি তিন বছর আগে গোষ্ঠীটির প্রধান হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়া, ইরাক, পাকিস্তান ও বিশ্বের অন্যান্য স্থানে বহুসংখ্যক মানুষ নিহত বা আহত হওয়ার ঘটনায় হামলার দায় আইএসের ওপর চাপানোর কয়েক মাসের মধ্যে এই অডিওটিই প্রথম প্রকাশ করা হলো।
গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে এক হামলায় তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। ওই হামলার দায় আইএসের ওপর চাপানো হয়। ওই ঘটনার পর সিরিয়ার যেসব জায়গা জঙ্গীদের আখড়া হিসেবে পরিচিত, সেসব স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরাক ও সিরিয়ায় একসময় খেলাফত ঘোষণা করেছিল আইএস। এরপর ২-১৭ সালে ইরাকে এবং তার দুই বছর পর সিরিয়ায় এ জঙ্গি গোষ্ঠীটি পরাজিত হয়। তবে তারপরও দেশদুটিতে হামলা থামায়নি আইএসের সুপ্ত চক্রগুলো।
চলতি মাসের শুরুতে আইএসের হুমকি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, গত বছর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে হত্যার পাঁচটি চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার নেতৃত্বে বিদ্রোহী দল হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) দামেস্কে প্রবেশ করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ওই ঘটনা যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটির ওপর ইরানের যে প্রভাব, তার ওপর বড় আঘাত হানে। সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে আসাদ সংখ্যালঘু আলাওয়ি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন।
ওই ঘটনার পরে সিরিয়ায় আল-কায়েদা শাখার সাবেক নেতা আল-শারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্কের উন্নয়ন করেছেন। ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতার পর গত বছর তিনিই প্রথম সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ওয়াশিংটন সফর করেন।
আল-আনসারির দাবি, সিরিয়ায় ইরান ও আসাদের স্থলে আমেরিকার প্রভাবাধীন একটি শাসনব্যবস্থা আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ সিরিয়া ক্রুসেডারদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে, তারা এমন এক নেতাকে বসিয়েছে যে আত্মাহীন পুতুল।’ এ সময় দেশটিতে নতুন হামলার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘সিরিয়া একটি নতুন প্রতিরক্ষার যুগে প্রবেশ করেছে এবং জিহাদের কাফেলা শেষ পর্যন্ত সিরিয়ায় অগ্রসর হবে।’
১২ দিন আগে
আফগান সীমান্তে জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান
সাম্প্রতিক সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ হামলার পর আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসলামাবাদ। অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলা চালিয়ে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও সহযোগী গোষ্ঠীর ৭টি আস্তানা ধ্বংসের দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, সে সম্পর্কে বিশদ তথ্য দেয়নি ইসলামাবাদ।
অন্যদিকে, কাবুলের তালেবান সরকার বলেছে, নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে চালানো এ হামলায় বেসামরিক নারী শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে হামলা চালিয়েছে। এক্স পোস্টে মুজাহিদ লিখেছেন, নানগরহার এবং পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলায় বেশকিছু মানুষ হতাহত হয়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করে মুজাহিদ বলেছেন, তারা দেশের ভেতরের নিরাপত্তার ঘাটতি মেটাতেই এ হামলা চালিয়েছে।
রবিবার ভোর হওয়ার আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স পোস্টে লিখেছেন যে সেনাবাহিনী পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপি এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ৭টি আস্তানার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তারার বলেছেন, ‘পাকিস্তান সর্বদা এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তা এখানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
১২ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডার নিহত
লেবাননে ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডারসহ আরও ৮ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েন বলে জানিয়েছে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) প্রাথমিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে জানায়, পূর্ব লেবাননের রিয়াক এলাকায় একটি ভবনে চালানো বিমান হামলায় ১০ জনের বেশি নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
পরে জানা যায়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৫ জন। এছাড়া নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।
নিহতদের মধ্যে হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডার ছিলেন। তারা হলেন— হুসেইন মোহাম্মদ ইয়াঘি, আলি জেইদ আল-মুসাওয়ি এবং মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল-মুসাওয়ি।
কমান্ডার হুসেইন মোহাম্মদ ইয়াঘির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তিনি লেবানন ও এর জনগণের প্রতিরক্ষায় শহিদ হয়েছেন।
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হিজবুল্লাহর অবস্থানসহ পূর্ব লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬ টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে, তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মাঝেমধ্যেই লেবাননে হামলা চালিয়ে আসছে।
১৩ দিন আগে
এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে তুরস্কে ডয়চে ভেলের সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানী সাংবাদিক আলিজান উলুদাগকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্ক সরকার। ওই অভিযোগ একটি মামলা দায়ের হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উলুদাগকে তার আঙ্কারার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলিজান উলুদাগগ ডয়চে ভেলের তুর্কি সার্ভিসে কাজ করেন। তার বিরুদ্ধে এক্সে করা পোস্টের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচারব্যবস্থা ও দুর্নীতির মামলার ওপর প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত এই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর ইস্তাম্বুলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগ আনেন। এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ ৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে উলুদাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার পোস্টগুলো ছিল একজন বিচারবিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে করা বৈধ সমালোচনা। আদালতের নথি উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে কুমহুরিয়েত পত্রিকা।
তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানায়। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছে তারা।
অন্যদিকে, ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মাসিং উলুদাগের মুক্তি দাবি করে এ গ্রেপ্তারকে ‘ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেমূলক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন।
ইস্তাম্বুলের চাগলায়ান আদালত ভবনের বাইরে সাংবাদিকরা উলুদাগের আটকাদেশের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান।
সংবাদমাধ্যম বিষয়ক অধিকার সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স তুরস্ককে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে দমনমূলক দেশগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির দাবি, দেশটির অধিকাংশ গণমাধ্যম সরকারি নিয়ন্ত্রণে এবং সাংবাদিকরা প্রায়ই আইনি চাপ বা ভয়ভীতির মুখে পড়েন।
তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী দেশটির কারাগারে আছেন।
১৩ দিন আগে
হংকংয়ের মিডিয়া মোগল জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড
হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে গণতন্ত্রপন্থী ব্যক্তিত্ব ও অ্যাপল ডেইলি সংবাদপত্রের মালিক জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তার পরিবার এই সাজাকে ‘হৃদয়বিদারক নিষ্ঠুরতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা মেয়ে বলেছেন, ‘জেলে তার মৃত্যু হলে তিনি “শহিদ” হবেন।’ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবাদিকতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সমালোচকদের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এই সাজা হলো বহু বছর ধরে চলে আসা লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি, যার মাধ্যমে হংকং একটি স্বাধীন শহর থেকে এমন একটি শহরে পরিণত হয়েছে, যেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি-নিয়ন্ত্রিত সরকার ভিন্নমত পোষণকারীদের কঠোরভাবে দমন করছে।
ডিসেম্বরে লাইয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব অভিযোগে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। লাইয়ের এই ২০ বছরের কারাদণ্ড হংকংয়ের ইতিহাসে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক অপরাধের সবচেয়ে বড় সাজা।
লাইয়ের সাজার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তাইওয়ান এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষের মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রিপোর্টার্স উইদআউট বর্ডারস নামের সাংবাদিকদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন বলেছে, ‘হংকংয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আজ পর্দা নেমে এসেছে। আদালতের এ সিদ্ধান্ত হংকংয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সম্পূর্ণ পতন এবং সাংবাদিকতার প্রতি চরম অবমাননার সামিল।’
লাইয়ের এই দীর্ঘ সাজাকে ‘সত্যিকার অর্থে মৃত্যুদণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, ‘এই মাত্রার সাজা নিষ্ঠুর ও অন্যায্য। লাইয়ের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা নির্যাতন চীন সরকারের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে চূর্ণ করার এবং কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনা করে এমন যে কাউকে চুপ করিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই মামলাটিকে ‘আইন দ্বারা শাসিত শহর’ থেকে ‘ভয় দ্বারা শাসিত শহরে’ রূপান্তরের আরেকটি ভয়াবহ মাইলফলক বলে অভিহিত করেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এবং ব্রিটিশ সরকার লাইয়ের মামলাকে রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত বলে বর্ণনা করে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
তবে লাইকে সরকারবিরোধী উসকানিদাতা এবং বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বর্ণনা করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তাদের মতে, লাই একজন ব্রিটিশ নাগরিক যিনি শিশু শরণার্থী হিসেবে চীন থেকে পালিয়ে আসার পর থেকে হংকংয়ে বসবাস করছেন।
লাই হংকংয়ের বিলুপ্ত সংবাদপত্র অ্যাপল ডেইলির প্রতিষ্ঠাতা। এটি একটি জনপ্রিয় হংকংভিত্তিক সংবাদপত্র ছিল। ২০১০-এর দশকে হংকংজুড়ে ছড়িয়ে পড়া গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকে সমর্থন করে জনপ্রিয়তা পায় সংবাদপত্রটি।
২০২০ সালের জুনে একটি কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই আন্দোলন দমন করেছিল সরকার। সে সময় বেশিরভাগ ভিন্নমত পোষণকারীদের এই আইনের আওতায় ‘অপরাধী’ ঘোষণা করা হয়। লাইকে সে বছরের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে অ্যাপল ডেইলি বন্ধ করে দেয় দেশটির চীন সরকার।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, জানুয়ারিতে বেইজিংয়ে চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করার সময় তিনি লাইয়ের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন যে তিনি লাইয়ের মুক্তি নিশ্চিত করবেন।
কারাগারে থাকা মিডিয়া উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার কারণে লাইয়ের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং তার দাঁতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি কারাবন্দি এবং অধিকাংশ সময় নির্জন সেলে কাটিয়েছেন।
তবে হংকং কর্তৃপক্ষ বলছে, লাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পেয়েছেন এবং অন্য বন্দিদের থেকে আলাদা থাকার আবেদন তিনিই করেছিলেন। সোমবার সাজা ঘোষণার পর জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ প্রধান স্টিভ লি বলেন, রায় যথাযথ হয়েছে। সেইসঙ্গে লাইয়ের শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে করা অভিযোগকে তিনি অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেন।
এই ঐতিহাসিক জাতীয় নিরাপত্তা মামলায় লাইয়ের সঙ্গে আরও আটজন অভিযুক্তকে সাজা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন অধিকার কর্মী এবং বাকি ছয়জন লাইয়ের মালিকানাধীন মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের সাবেক নির্বাহী। মামলায় সংশ্লিষ্ট সবাই দোষী সাব্যস্ত হন।
২৫ দিন আগে