এশিয়া
চীনে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ৭ হাজার, কঠোর অবস্থানে সরকার
চীনজুড়ে ফের ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস। এবার মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দেশটির ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ব্যাপক সংক্রমণ এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে দেশটির সরকার।
মশার উৎপত্তিস্থল অনুসন্ধানে ড্রোন ব্যবহার, মশারি, জীবাণুনাশক স্প্রে থেকে শুরু করে জড়িতদের জরিমানা করার মতো বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে চীন।
বুধবার (৬ আগস্ট) পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এর অধিকাংশই হংকংয়ের নিকটবর্তী ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ফোশান শহরে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে।
চিকুনগুনিয়া মূলত মশাবাহিত একটি রোগ। এই ভাইরাসের কারণে ডেঙ্গুর মতো জ্বর ও জয়েন্টে ব্যথা হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শহরের সড়ক, আবাসিক এলাকা, নির্মাণস্থলসহ অন্যান্য স্থানে জীবাণুনাশক স্প্রে করার খবর দেখানো হয়েছে। এমনকি কর্মীরা অফিস ভবনে প্রবেশের আগে কিছু জায়গায় স্প্রে করা হচ্ছে।
পড়ুন: প্লাস্টিক দূষণে বছরে দেড় লাখ কোটি ডলারের স্বাস্থ্যঝুঁকি
দেশটিতে মশারোধে খালি বোতল, ফুলদানি বা অন্যান্য স্থানে জমাট পানি ফেলে না দিলে ১০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ১,৪০০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্র চীনের গুয়াংডং প্রদেশে, যেখানে ডংগুয়ানসহ অন্যান্য শিল্পকেন্দ্র অবস্থিত, ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে বোলিভিয়া ও ভারত মহাসাগরের কিছু দ্বীপরাজ্যও বিপৎসীমার মধ্যে রয়েছে। ব্রাজিলও ভাইরাসের প্রভাব ব্যাপক দেখেছে।
চীনে ভারী বৃষ্টি ও উচ্চ তাপমাত্রা পরিস্থিতি আরও অবনতি করেছে। ২০০৩ সালের মারাত্মক সার্স মহামারির পর থেকে চীন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এবার ফোশানে রোগীদের ন্যূনতম এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।
মশার লার্ভা খাওয়া মাছ ব্যবহার ও বড় মশাদের মাধ্যমে ভাইরাসবাহী মশাদের শিকার করার চেষ্টা নিয়েও খবর এসেছে। জাতীয় পর্যায়ে সভা হয়েছে এবং প্রোটোকল গৃহীত হয়েছে, যা চীনের ভাইরাস সংক্রমণ থামানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২১২ দিন আগে
ভারতে আকস্মিক বন্যায় নিহত চার, নিখোঁজ শতাধিক
ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যে আকস্মিক বন্যায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। বানের তোড়ে অসংখ্য বাড়িঘর ভেসে গেছে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) হিমালয় পাদদেশে অবস্থিত উত্তরাখন্ডের উত্তরকাশী জেলার ধরালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলর বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বলেছে, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে প্রবল বন্যার পানি নেমে এসে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে, অনেকে ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকা পড়েছেন।
ঘটনার সময় ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, আকস্মিক বন্যায় সড়কের ওপর থাকা মানুষজনসহ সবকিছু ভেসে যাচ্ছে। ভয় ও আতঙ্কে মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াচ্ছে।
গ্রামের বহু মানুষ একটি উৎসব উপলক্ষে মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন। ওই সময়েই প্রবল বেগে ধেয়ে আসা বানের পানি সেখানে আঘাত হানে।
আরও পড়ুন: টেক্সাসে বন্যায় নিহত বেড়ে ৮২, দশ কিশোরীসহ নিখোঁজ বহু
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো ৪ নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামি বলেন, যু্দ্ধকালীন প্রস্তুতি নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আকস্মিক ও তীব্র মেঘ বিষ্ফোরণের (ক্লাউডবার্স্ট) কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাখন্ডের কিছু এলাকায় প্রায় ২১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ‘অতি ভারী’ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রাতভর বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছে। তাছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ধসে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
বুধবার (৬ আগস্ট) উত্তরাখন্ডের নদীগুলোতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। ফলে এসব এলাকায় নতুন করে ভূমিধস ও দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন জানিয়েছে, পাঁচটি স্থানে চারটি নদী ‘চরম বন্যা পরিস্থিতিতে’ রয়েছে।
আরও পড়ুন: মুষলধারে বৃষ্টিতে টেক্সাসে বন্যা, অন্তত ২৪ জনের প্রাণহানি
ভারতের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সুনীল বার্তওয়াল জানান, উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। যারা এখনও আটকে রয়েছেন, তাদের খুঁজে বের করে সরিয়ে নিতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষা মৌসুমে ভারতে প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধস সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু সংকট ও নগরায়নের কারণে এসব দুর্যোগের ঘনত্ব ও তীব্রতা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
২১২ দিন আগে
হিরোশিমায় হামলার ৮০ বছর, বিশ্বনেতাদের ভূমিকায় উদ্বিগ্ন হিবাকুশারা
আজ ৬ আগস্ট, এই দিনটি বিশ্ববাসীকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াহতা মনে স্মরণ করিয়ে দেয়। জাপানের হিরোশিমাতে পারমাণবিক বোমা ফেলার ৮০তম বার্ষিকী আজ।
ভয়াবহ ওই হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে হিবাকুশা নামে পরিচিত। ভয়াবহ স্মৃতিবিজড়িত এই বিশেষ দিনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে বিশ্বনেতাদের সমর্থনে হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
হিরোশিমা হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। বেশিরভাগ হিবাকুশাই অশীতিপর হয়ে পড়েছেন।
৯৪ বছর বয়সী মিনোরু সুজুতো নামে এক হিবাকুশা বলেন, ‘আর ১০ বা ২০ বছর পর এই দুঃখ ও যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা জানানোর মতো কেউ বেঁচে থাকবে না। তাই যতটা পারি, আমি আমার গল্পটা সবাইকে বলতে চাই।’
১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলা শহরটিকে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়। তিন দিন পর নাগাসাকিতে দ্বিতীয় বোমা হামলায় আরও ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়।
এ দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এ বছর ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিসহ অন্তত ৫৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৫ সালের মার্কিন বি-২৯ বোমারু বিমান থেকে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ‘লিটল বয়’ নামক বোমাটি ফেলা হয়েছিল। সেকারণে এই দিনের ওই সময়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শান্তির ঘণ্টা বাজানো হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা, হিরোশিমা শহরের মেয়র ও অন্যান্য কর্মকর্তারা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মেয়রের ভাষণের পর শান্তির প্রতীক হিসেবে ডজনখানেক সাদা কবুতর অবমুক্ত করা হয়।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে জাপানের উদ্বেগ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রতি বিশ্বজুড়ে যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুই।
তিনি বলেন, ইতিহাসের এসব মর্মান্তিক ঘটনা থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শিক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও, তাদের এই প্রবণতা সেই শিক্ষাকে ঘৃণাভরে উপেক্ষা করছে। পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বহু মানুষের কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তোলা শান্তি প্রতিষ্ঠার কাঠামোগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মার্কিন হামলার শিকার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন
পারমাণবিক বোমা হামলা–বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে জাপানের তৃণমূল সংগঠন নিহান হিদানকিয়ো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক হুমকির মুখোমুখি হওয়ার বেশি দূরে নেই আমরা।
এক বিৃবতিতে সংগঠনটি আরও বলেছে, বর্তামানে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোর মনোভাব সামান্য হলেও পরিবর্তন করা।
২১২ দিন আগে
পাকিস্তানে ডাকাত দলের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য নিহত
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশে পুলিশের একটি তল্লাশিচৌকিতে সশস্ত্র ডাকাতদের হামলায় অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে পাঞ্জাবের রহিম ইয়ার খান জেলায় ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বেশ কয়েকজনের একটি ডাকাত দল পুলিশের এলিট ফোর্সের একটি তল্লাশিচৌকিতে হামলা চালায়।জেলা পুলিশ কর্মকর্তা ও পুলিশের মুখপাত্র ইরফান আলী সামো বলেন, ‘ডাকাতরা রাতের আঁধারে আধুনিক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের সাহসী সদস্যদের হত্যা করেছে।’
ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ও সাঁজোয়া যান পাঠানো হয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করা হয়।
সামো বলেন, ‘ডাকাতদের গোপন আস্তানাগুলোর দিকে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এখনও ব্যাপক অভিযান চলছে।’
আসামিদের ধরতে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী ভারী অস্ত্র ও সাঁজোয়া যানের সহায়তা নিয়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
২১৭ দিন আগে
নির্বাচনের আগে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর
আগামী ডিসেম্বরে পরিকল্পিত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বেসামরিক অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেই।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীকে যে ফরমানের (ডিক্রির) মাধ্যমে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। সেইসঙ্গে একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য একটি বিশেষ কমিশনও গঠন করা হয়েছে।
অবশ্য এ পদক্ষেপে মিয়ানমারের বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সিএনএন। কারণ হিসেবে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং এখনো কার্যত রাষ্ট্রপতি ও সামরিক প্রধান হিসেবে সব ক্ষমতার দখলেই রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্প নতুন বিপর্যয় নিয়ে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ মিয়ানমারে
সরকারের মুখপাত্র জাও মিন তুন জানান, অভ্যুত্থানের পর দেশে যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল, গতকাল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির পর তা সাত দফা নবায়ন করার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার তা বাতিল করা হয়।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে এই মুখপাত্র বলেন, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান বলেছেন, আগামী ছয় মাস নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির সময়।
২০২১ সালে নির্বাচিত নেতা অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাতের পর থেকেই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ওই সময় থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে চলছে গৃহযুদ্ধ। এই বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে সেনাবাহিনী ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনী ৬ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষকে যথেচ্ছভাবে আটক করেছে। এ ছাড়া, দেশজুড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে, যদিও জান্তা সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই নির্বাচনকে পশ্চিমা দেশগুলো একপ্রকার প্রহসন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জেনারেলরা কেবল নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছেন।
নির্বাচনে সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট দলগুলোই প্রভাব বিস্তার করবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, বিরোধী দলগুলোকে হয় নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নয়তো তারা নিজেরাই অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মিয়ানমার-বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন বলেন, ক্ষমতায় যে রদবদল করা হয়েছে, তা লোক দেখানো। যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা আগের মতোই অত্যাচারী ও দমনমূলক আচরণ চালিয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা কেবল পুরনো মোড়কে নতুন নাম দিচ্ছেন। এটি এমন এক নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ, যেটি সম্পর্কে আমরা খুব একটা জানি না।’
এদিকে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআর টিভিতে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মিন অং হ্লাইং।
অন্যদিকে, মিয়ানমারের জান্তা সরকাররে সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে চীন।
২১৭ দিন আগে
অবশেষে নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া
সীমান্ত নিয়ে বিরোধের জেরে চলমান সংঘর্ষের পর নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। বিষয়টি জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়োর ইব্রাহিম। সংঘর্ষের পাঁচদিন পর অবশেষে সমাধানে এসেছে প্রতিবেশী দেশদুটি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে প্রতিবেশী দেশদুটির ছয়টি সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি ও রকেট হামলার মধ্য দিয়ে এই সহিংসতা শুরু হয়। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৩৫ জন নিহত এবং ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংঘর্ষের পাঁচ দিন পর যুক্তরাষ্টের চলমান চাপের কারণে সোমবার পুত্রজায়ায় ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে যুদ্ধ থামাতে সম্মত হন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ও থাইল্যান্ডের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমথম ওয়েচায়াচাই।
এর আগে, শনিবার (২৬ জুলাই) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সরকারপ্রধানকে তিনি বলেছেন যে সংঘাত না থামালে তাদের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনায় এগোবে না ওয়াশিংটন। এরপর দুই দেশই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষের নেপথ্যে কী?
সোমবারের বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উভয় পক্ষই খোলামেলা আলোচনার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একটি অভিন্ন বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে।’ উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা পুনর্প্রতিষ্ঠার পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা যায়।
এ সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন। তিনি বলেন, ‘থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা পুনর্গঠনের এখনই সময়।’
এ ছাড়া এই সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য থাইল্যান্ডের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন ফুমথম।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি চাপের কারণেই এই যুদ্ধবিরতি হওয়ায় সোমবার এক্সে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি ও শান্তি স্বাপনে সম্মত হয়েছে। আমি শান্তির প্রেসিডেন্ট হয়ে গর্বিত।’
যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বৈঠক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও। তিনি বলেন, তৎক্ষণাৎ সংঘর্ষ বন্ধে তিনি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড সরকার এই সংঘাত অবসানের জন্য তাদের অঙ্গীকার পূর্ণভাবে রক্ষা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এরপর হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট যুদ্ধবিরতির খবর এক্সে পোস্ট করে লেখেন, ‘এই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিন!’
আরও পড়ুন: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করতে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন মোদি
থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বহু দশক ধরেই বিরোধপূর্ণ। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ছোট একটি সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
সে সময় এক কম্বোডিয়ান সেনা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। শুরুতে দুপক্ষই দাবি করে যে তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছে। এ নিয়ে তখন উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে কয়েকজন থাই সেনা আহত হওয়ার পর এই সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
পরে দুই দেশ উত্তেজনা হ্রাসে একমত হয়। তবে সীমান্তে কড়াকড়ি, নিষেধাজ্ঞা ও বাকযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
২২০ দিন আগে
বনে আগুন লাগানোর অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ায় গ্রেপ্তার ৪৪
ইন্দোনেশিয়ায় বনে আগুন লাগানোর অভিযোগে ৪৪ জনকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা থেকে দেশের নাগরিকদের বিরত রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন ও জলাভূমিতে আগুনের ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ার ছাড়াও সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া ও দক্ষিণ থাইল্যান্ডের কিছু অংশে আচ্ছন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে বুধবার (২৪ জুলাই) ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো এক বিবৃতিতে জানান, ‘শুধু খরা নয়, বনে আগুন লাগার জন্য মানুষও দায়ী। আশা করছি, এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ভবিষ্যতে আগুন লাগানো থেকে মানুষকে বিরত রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করতে অনেক ক্ষেত্রেই কৃষক বা জমির মালিকরা অবৈধভাবে বনে আগুন লাগিয়ে দেন।’
মানবসৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড বন্ধে সরকারি অভিযানে অংশগ্রহণ এবং জমি পরিষ্কারের সময় কেউ আগুন লাগালে কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পড়ুন: ‘ফিলিস্তিনপন্থি’ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
এর আগে, মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ইন্দোনেশিয়ার রিও প্রদেশের রাজধানী পিকানবারোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের হাতকড়া পরানো অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন।
গ্রেপ্তাররা ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ সুরক্ষা আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
সম্প্রতি, রিও প্রদেশের রোকান হিলির ও রোকান হুলু জেলা প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ায় দৃষ্টিসীমা এক কিলোমিটারেরও নিচে নেমে যায়। এই দুই জেলার অনেক এলাকা এখনও ঘন ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা রয়েছে।
সরকার এর মধ্যে সেখানে কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টির জন্য ক্লাউড সিডিং শুরু করেছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২০১৯ সালেও বনে অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ।
প্রতি বছরই শুকনো মৌসুমে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে এমন অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে থাকে। এর ফলে, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কিছু অংশেও ঘন ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। ধোঁয়ার জন্য প্রায়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইতে হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে।
২২৫ দিন আগে
টানা বর্ষণে পাকিস্তানজুড়ে বন্যা, নিহত বেড়ে ১৮০
পাকিস্তানে তীব্র মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০-তে পৌঁছেছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় পাকিস্তানে এবার মৌসুমি বৃষ্টিপাত ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এ বছর জুলাইয়ের শুরুতেই টানা বর্ষণ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় দেশজুড়ে প্রাণহানি ও দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতেও আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
শনিবার (১৯ জুলাই) পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিন্ধ প্রদেশের করাচি, হায়দরাবাদ, সুক্কুর, থাটা, বাদিন, লারকানা, জ্যাকবাবাদ, নবাবশাহ, মিরপুরখাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে, দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র (এনইওসি) জানিয়েছে, সিন্ধ প্রদেশের নিম্নাঞ্চলগুলোতে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টির সময় ওইসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা রোধে ড্রেন পরিষ্কার রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পাঞ্জাব প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, আজ (রবিবার) থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত প্রদেশের বেশিরভাগ জেলায় চতুর্থ দফার বর্ষণ শুরু হবে।
এর মধ্যে রাওয়ালপিন্ডি, মুর্রি, গালিয়াত, আটক, চকওয়াল, মান্ডি বাহাউদ্দিন, হাফিজাবাদ, গুজরাট, ঝেলম ও গুজরানওয়ালায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সঙ্গে লাহোর, ফয়সালাবাদ, শিয়ালকোট, নারোয়াল, টোবা টেক সিং, ঝাং, সারগোধা, মিয়ানওয়ালি, মুলতান, ডেরা গাজি খান, বাহাওয়ালপুর ও বাহাওয়ালনগরেও ১৮ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া ২২ জুলাই থেকে পাঞ্জাবের সব বড় নদী ও নদী-সংলগ্ন খালগুলোতে বন্যার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পিডিএমএ। এ ছাড়াও চেনাব, ঝেলম, রাভি, সুফ্লজ ও সিন্ধু নদীসহ উপনদীগুলোতে পানিপ্রবাহ বাড়বে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ।
আরও পড়ুন: টেক্সাসে বন্যায় নিহত বেড়ে ৮২, দশ কিশোরীসহ নিখোঁজ বহু
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বর্ষণ ও হিমবাহ গলার কারণে কাবুল, সোয়াত, পাঞ্জকোরা, বারা ও কালপানি নালায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ইসলামাবাদ ও মধ্য পাঞ্জাবেও ২৪ জুলাই পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে, যা নগর বন্যার ঝুঁকি বাড়াবে।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে রাওয়াল বাঁধে পানির উচ্চতা বেড়ে গিয়ে শনিবার সকালে এটি ১ হাজার ৭৪৮ ফুটে পৌঁছায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় সেচ কপাট খুলে দিয়ে পানির স্তর ১ হাজার ৭৪৬ ফুটে নামিয়ে আনা হয়। এ সময় আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়।
বর্ষণ বেড়েছে ৬০ শতাংশ, দায় জলবায়ু পরিবর্তনের
এনডিএমএ চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইনাম হায়দার মালিক জানিয়েছেন, এ বছর যে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যে এক মাস আগেই বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে, সেই পূর্বাভাস তারা চার মাস আগেই দিয়েছিলেন। এবারের মৌসুমি বৃষ্টির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি।
আরও পড়ুন: ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৪ স্থানে ভাঙন, ৩০ গ্রাম প্লাবিত
পিটিভি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সামগ্রিক দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে সেনাবাহিনী, প্রাদেশিক সংস্থা, এনজিও ও শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ যৌথভাবে কাজ করছে।’
জলবায়ু পরিবর্তন ও হিমবাহ দ্রুত গলার কারণেই এ বছর বৃষ্টি ও দুর্যোগের মাত্রা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২২৯ দিন আগে
ভিয়েতনামে পর্যটকবাহী নৌকাডুবে নিহত ৩৭, নিখোঁজ ৫
ভিয়েতনামে আকস্মিক বজ্রঝড়ের কবলে পরে একটি পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। ওই নৌকার আরও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৯ জুলাই) বিকালে উত্তর ভিয়েতনামের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হা লং বে এলাকায় ভ্রমণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, ‘ওয়ান্ডার সি’ নামের ওই নৌকাটিতে ৪৮ জন যাত্রী ও ৫ জন নাবিক ছিলেন। তাঁরা সবাই ভিয়েতনামের নাগরিক।
এদিকে, স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ভিএনএক্সপ্রেস জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। বাকি ৩৭ জনের লাশ ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবল ঝড়ো হাওয়ার কারণে নৌকাটি উল্টে যায়। নৌকার উল্টে যাওয়া অংশের ভেতর আটকে পড়া ১৪ বছরের এক কিশোরকে চার ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার হয়। উল্টে গেলে নৌকার মধ্যে যেটুকু বাতাস আটকে গিয়েছিল, তা গ্রহণ করেই জীবিত ছিল সে।
অধিকাংশ যাত্রীই রাজধানী হ্যানয়ের বাসিন্দা এবং যাত্রীদের অন্তত ২০ জন শিশু ছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টার দিকে আকাশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর পায়ের আঙুলের সমান আকারের শিলাবৃষ্টি শুরু হয়, সঙ্গে প্রবল বর্ষণ, বজ্রঝড় আর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল।
ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।
সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালানো হবে এবং যেকোনো গাফিলতির ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুয়াং নিং প্রদেশের হা লং বে এলাকায় শত শত ছোট ছোট দ্বীপ-উপদ্বীপ ছড়িয়ে আছে। ২০১৯ সালে এখানকার দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ। এটি একটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
এদিকে, ওই অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসছে একটি ক্রমবর্ধমান ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ‘উইফা’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি আগামী সপ্তাহে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে হা লং বে উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
২২৯ দিন আগে
এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনা: যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা
ভারতের আহমেদাবাদে গত ১২ জুন লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ ফ্লাইটটি (বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার) আকাশে ওড়ার অল্প সময়ের মধ্যেই একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এটি ছিল গত এক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা।
ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনই নিহত হন। তাছাড়া, যে এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, সেখানকারও ১৯ জন নিহত হন।
এই দুর্ঘটনায় ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফ্লাইটটি উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ড পরই জ্বালানি শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে এই তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিললেও নতুন করে আরও অনেক প্রশ্নও উঠেছে।
প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে ১৮০ নট ইন্ডিকেটেড এয়ারস্পিড (আইএস) গতি অর্জন করে। ঠিক তার পরপরই ইঞ্জিন ১ এবং ইঞ্জিন ২–এর জ্বালানি সরবরাহ সুইচগুলো ‘রান’ থেকে ‘কাট-অফ’ অবস্থায় চলে যায়। এটি মাত্র এক সেকেন্ডের ব্যবধানে এই অবস্থায় চলে যায়। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে ইঞ্জিন দুটির এন১ ও এন২ মান কমতে শুরু করে।
প্রতিবেদন আরও জানানো হয়েছে, রানওয়ের সীমানা প্রাচীর অতিক্রম করার আগেই বিমানটির উচ্চতা কমতে শুরু করে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার থেকে জানা গেছে, এক পাইলট অপর পাইলটকে ওই সময় জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কেন জ্বালানি বন্ধ করলে?’ জবাবে অপর পাইলট বলেন যে, তিনি জ্বালানি বন্ধ করেননি।
তবে ওই দুই পাইলটের মধ্যে মূল পাইলট এবং কে সহকারী পাইলট ছিলেন—প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
প্রতিবেদনের একটি অংশে বলা হয়, ইঞ্জিন-১ কাট-অফ হওয়া সত্ত্বেও কিছুটা পুনরুদ্ধার শুরু করেছিল, তবে ততক্ষণে বিমানের গতি কমে যাওয়ায় তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইঞ্জিন ১–এর ‘কোর ডেসিলারেশন’ বন্ধ হয়ে উল্টো ঘুরে গিয়ে কিছুটা পুনরুদ্ধার শুরু করে, তবে ইঞ্জিন ২ ‘রিলাইট’ (পুনরায় চালু) হলেও গতি কমা ঠেকাতে পারেনি।
এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ইঞ্জিনে ‘জ্বালানি শেষ’ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এলেও, কীভাবে তা হলো—সেই প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে।
রান থেকে কাটঅফ, কিন্তু কীভাবে?
প্রতিবেদনে জ্বালানির সুইচ বন্ধের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কীভাবে তা বন্ধ হয়ে গেল, তা এখনও অস্পষ্ট।
এটি ইচ্ছাকৃত ছিল, না দুর্ঘটনাবশত, নাকি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেনি তদন্ত সংস্থা।
বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানে এই সুইচটি থাকে দুই পাইলটেরর সিটের মাঝখানে, থ্রটল লিভারের ঠিক পেছনে (থ্রটল লিভার মানে হলো ইঞ্জিনের গতি ও শক্তি বাড়ানো বা কমানোর হাতল)।
সুইচের পাশে ধাতব সুরক্ষা-কাঠামো থাকে, যাতে তা ভুলবশত চাপা না পড়ে। এই সুইচগুলো চালু বা বন্ধ করতে হলে দুটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়—সুইচটিকে প্রথমে উপরের দিকে টেনে আনতে হয়, তারপর নিচের দিকে চাপতে হয়।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও বহু বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে যুক্ত জিওফ্রি ডেল বলেন, ‘এটি ভুল করে করা প্রায় অসম্ভব। প্রতিটি সুইচ চালু বা বন্ধ করতে কমপক্ষে দুটি শারীরিক পদক্ষেপ লাগে। যদি একসঙ্গে দুটি সুইচ বন্ধ করা হয়, সেটি সাধারণত ল্যান্ডিংয়ের পর করা হয়, যখন বিমান পার্ক করা হয়।’
তার ভাষ্য, টেক-অফের সঙ্গে সঙ্গে কেউ ইঞ্জিনে জ্বালানি কেটে দেবেন, এমন উদ্ভট বিষয় আসলে কল্পনাও করা যায় না। তিনি বলেন, ‘বিশ্বে কোথাও এমন ঘটনা দেখা যায়নি।’
তদন্ত প্রতিবেদন একটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে। ২০১৮ সালে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিল, বোয়িং ৭৮৭ বিমানের জ্বালানি সুইচে থাকা লকিং ফিচার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এফএএ এটিকে ‘বিপজ্জনক ত্রুটি’ হিসেবে চিহ্নিত না করায় এয়ার ইন্ডিয়া সেই সময় কোনো বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামায়নি।
ডেল বলেন, ব্ল্যাক বক্সে থাকা বিস্তারিত ডেটা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যেতে পারে, কীভাবে সুইচগুলো বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু ভারতের তদন্ত সংস্থা এখনও পাইলটদের কথোপকথনের সম্পূর্ণ ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশ করেনি। যেটি তদন্তের জন্য জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
দায় কী তবে পাইলটদের?
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এখনই পাইলটদের ওপর দোষ চাপানো উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পাইলট এহসান খালিদ।
তিনি বলেন, ‘এএআইবির প্রতিবেদন শুধু এটুকুই নিশ্চিত করে যে ইঞ্জিনে জ্বালানি বন্ধ হওয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ‘পাইলটরা বুঝতে পেরেছিলেন ইঞ্জিনে শক্তি নেই এবং তারা এটাও নিশ্চিত ছিলেন যে, তারা এই পরিস্থিতি তৈরি করেননি।’
তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেতে আরও কয়েক মাস লাগবে বলে জানা গেছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।’
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করে যাবে এবং প্রাপ্ত প্রতিবেদনের আলোকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন: উড্ডয়নের পরপরই জ্বালানি ‘শেষ হয়ে গিয়েছিল’ এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের
২৩৫ দিন আগে