আফ্রিকা
কেনিয়ায় পাচার থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পিঁপড়াও, উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদীরা
পৃথিবীজুড়ে অসাধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন অপরাধচক্র মানুষ থেকে শুরু করে নানা পণ্য ও প্রাণী পাচার করে থাকে। এসব দুষ্ট লোকের হাত থেকে শেষমেষ রক্ষা পায়নি পিঁপড়াও! ক্ষুদ্র এই জীবগুলোকেও টিউববন্দি করে অর্থ উপাজর্নের আশায় পাচার করা শুরু করেছে মানুষ। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।
এই পিঁপড়া পাচারের ঘটনাটি ঘটেছে আফ্রিকান দেশ কেনিয়াতে। দেশটির বনাঞ্চলগুলো বিভিন্ন বণ্যপ্রাণীর পাচারের জন্য আগে থেকেই কুখ্যাত। চলতি মাসের শুরুর দিকে নিজেদের প্রতিদিনের দায়িত্ব পালন করছিলেন কেনিয়ার বণ্যপ্রাণী সেবার (কেডব্লিউএস) কর্মকর্তারা। এ সময়ে ৫ হাজার পিঁপড়া পাচার করার সময় দুই বেলজিয়ান তরুণকে আটক করেছেন তারা।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এ অভিযানটি ছিল সবথেকে ছোট প্রাণীর পাচার রোধ করার সবথেকে বড় অভিযান। কারণ উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো ছিল ১৮ থেকে ২৫ মিলিমিটার দীর্ঘ পিঁপড়া।
এই পিঁপড়াগুলোকে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে পাচার করার জন্য ওই দুই তরুণ একটি কাভার্ড ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান কেডব্লিউএসের কর্মকর্তারা। সিরিঞ্জ ও টিউবের মধ্যে তুলা ভরে তার মধ্যে পিঁপড়াগুলোকে রাখা হয়েছিল। এই পরিবেশে পিঁপড়া বেশ কয়েকদিন বেঁচে থাকতে বলে জানান কর্মকর্তারা।
পাচারকারী তরুণ লর্নি ডেভিড বলেন, ‘আমরা কোনো আইন ভাঙতে এ কাজ করিনি। দুর্ঘটনাবশত বোকামির কারণে এটি করে ফেলেছি।’
ডেভিড ও তার সহযোগী সেপে লোডেউইজিক্স দুজনেই ১৯ বছর বয়সী। পিঁপড়া পাচারের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। এর আগে একই অভিযোগে ৪০০ পিঁপড়াসহ আরও দুই ব্যক্তিতে আটক করেন কেনিয়ার বন কর্মকর্তারা। গত ২৩ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পর্যালোচনা করে আদালত তাদের হেফাজতে রাখারই নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কেমন হওয়া উচিত সকালের শুরুটা?
কেডব্লিউএসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পিঁপড়া পাচারের এই ঘটনাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণী পাচারের ক্ষেত্রে এক ধরনের পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে। বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে এখন কম দৃশ্যমান ছোট সাইজের প্রাণীর পাচার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
৪০৬ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় সন্দেহভাজন রাখালদের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের রাজ্য বেনুয়েতে সন্দেহভাজন সশস্ত্র রাখালদের সাম্প্রতিক হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার(২১ এপ্রিল) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার রাতের মধ্যে রাজ্যের উকুম এলাকার সম্প্রদায়গুলোতে এই ভয়াবহ হামলাগুলো চালানো হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শনিবার জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ৫৬ জন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ৬ আইনজীবী কারাগারে, ডিম নিক্ষেপ
সরকারের মুখপাত্র আইজ্যাক উজান গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবকরা হামলার ঘটনার কাছাকাছি ঝোপঝাড়ে চিরুনি অভিযান চালানোর সময় সোমবার আরও হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে।
এর আগে রাজ্যের স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোকে অব্যাহত ভয়াবহ আক্রমণ বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেনুয়ের গভর্নর হায়াসিন্থ আলিয়া।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক আক্রমণের সাক্ষী হয়েছে নাইজেরিয়া। এছাড়া দেশটিতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনাও বারবার ঘটেছে।
৪০৯ দিন আগে
কঙ্গোতের নৌদুর্ঘনায় নিহত বেড়ে ১৪৮, নিখোঁজ শতাধিক
কঙ্গো নদীতে একটি ভয়াবহ নৌকা দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক মানুষ।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব হতাহত ও নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন মঙ্গলবারের ওই দুর্ঘটনার সময় নৌকাটিতে প্রায় ৫০০ জন যাত্রী ছিলেন।
তারা জানিয়েছেন, এদিন উত্তর-পশ্চিম কঙ্গোর এমবানডাকার কাছে এইচবি কঙ্গোলো নামের মোটরচালিত কাঠের নৌকাটিতে আগুন ধরে ও ডুবে যায়।
নদী কমিশনার কম্পেটেন্ট লয়োকোর জানায়, একজন নারী নৌকাটিতে রান্না করার সময় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। এরপর আতঙ্কের কারণে নারী ও শিশুসহ অনেক যাত্রী নদীতে ঝাঁপ দেন—যাদের অনেকেই সাঁতার জানতেন না।
নৌকাটিতে থেকে বেশ কিছু যাত্রীকে উদ্ধার করা হলেও বেঁচে যাওয়া অনেকে গুরুতর দদ্ধ হয়েছেন। রেড ক্রস এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দুর্ঘটনায় এখনো নিখোঁজ থাকাদের উদ্ধারে প্রচেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: পদ্মায় ঘুরতে গিয়ে নৌকাডুবি, নিখোঁজ স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার
ইকুয়েটুর প্রদেশের সিনেটর জিন-পল বোকেৎসু বোফিলি এই দুর্ঘটনার ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেন, ‘৫০০ যাত্রীর মধ্যে প্রাণহানির সংখ্যাটা বেশ বড়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৫০ জনেরও বেশি দগ্ধ হওয়ায় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
নৌকা দুর্ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে দুঃখজনকভাবে প্রায়ই ঘটে থাকে। আর এসব দুর্ঘটনার জন্য অতিরিক্ত যাত্রী বহন, রাতে অনিরাপদ ভ্রমণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নীতি শিথিলতা দায়ী। দুর্বল অবকাঠামো এবং সীমিত সড়ক যোগাযোগের কারণে অনেকে কঙ্গোর নদীপথে ভ্রমণের উপর নির্ভরশীল, যা ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তোলে।
বোফিলি বলেন, ‘আমাদের সুন্দর কঙ্গো নদী এবং আমাদের দেশের হ্রদগুলো দুঃখজনকভাবে জনগণের জন্য গণমৃত্যুর কারণে পরিণত হয়েছে। এটি চলতে পারে না।’
৪১১ দিন আগে
১২ ফরাসি কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে আলজেরিয়া
ফ্রান্সের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে দেশটির ১২ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে আলজেরিয়া। সোমবার (১৪ এপ্রিল) তাদের বহিষ্কার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
তাদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ হিসেবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশত্যাগের নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সে একজন আলজেরিয়ান কনস্যুলার কর্মকর্তাকে আটক করার পরই কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে দেশটি। ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপটিকে কূটনৈতিক দায়মুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে আলজেরিয়া।
স্বরাষ্ট্র মন্তণালয়ের কর্মকর্তাসহ আলজেরিয়ায় ফরাসি দূতাবাসের ১২ জন কূটনীতিককে বহিষ্কারের আদেশটি পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।
আরও পড়ুন: ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনকে ‘অপরাধ’ স্বীকৃতি দিচ্ছে আলজেরিয়া
কূটনীতিকদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন নোয়েল ব্যারোট।তিনি বলেছেন, তারা চাইলে ফ্রান্স তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
আলজেরিয়ার কনস্যুলার কর্মকর্তাকে আটকের পর শনিবার ফরাসি রাষ্ট্রদূত স্টিফেন রোমাটেটকে তলব করে বহিষ্কারের বিষয়টি জানায়।
একটি অপহরণের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আলজেরিয়ান কনস্যুলেট কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। ২০২৪ সালে প্যারিসে অবস্থানকারী আলজেরিয়ান অ্যাক্টিভিস্ট আমির বোখরাস অপহরণের শিকার হন, যিনি ‘আমিরডিজেড’ নামে পরিচিত।
কনস্যুলেট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে আলজেরিয়া। একই সঙ্গে উল্লেখ করেছে যে, আটকের স্বপক্ষে ফরাসি কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃত একমাত্র প্রমাণ হলো বোখোরসের বাসভবনের কাছে তার ফোন পাওয়া।
আরও পড়ুন: বেনজেমার চোখে মৌসুম-সেরা ফরাসি ফুটবলার নন এমবাপ্পে!
কনস্যুলেট কর্মকর্তার আটকের বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে এবং দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে তার দ্রুত মুক্তির দাবিও জানিয়েছে আলজেরিয়া।
আলজিয়ার্স সতর্ক করে বলেছে, এর সার্বভৌমত্বের ওপর আর কোনো প্রকার লঙ্ঘন হলে পারস্পরিক অধিকারের ভিত্তিতে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।
দেশ দুটির মধ্যে এই কূটনৈতিক দ্বন্দ্বটি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সংকট।
৪১৫ দিন আগে
পশ্চিম সুদানে আরএসএফ’র হামলায় নিহত ১১৪: স্থানীয় কর্মকর্তা
আফ্রিকার দেশ পশ্চিম সুদানে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) হামলায় ১১৪ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
দেশটির উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল ফাশারে গত দুই দিনে দুটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো হামলায় এই সকল প্রাণহানি হয়।
শনিবার (১২ এপ্রিল) দেশটির স্থানীয় এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
উত্তর দারফুর রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ইব্রাহিম খাতির বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে জানিয়েছেন, শুক্রবার (১১ এপ্রিল) জমজম বাস্তুচ্যুত শিবিরে আরএসএফ মিলিশিয়াদের নৃশংস হামলায় ১০০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। এতে আহতে হয়েছেন আরও অনেকে।’
তিনি আরও বলেন, শনিবার আবু শৌক বাস্তুচ্যুত শিবিরে মিলিশিয়াদের আরেকটি হামলায় আরও ১৪ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। এতেও বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছেন।
মিলিশিয়াদের হামলায় জমজম শিবিরে নিহতদের মধ্যে বেসরকারি সংস্থা রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের ৯ জন কর্মী ছিলেন। তারা ক্যাম্পে একটি ফিল্ড হাসপাতাল পরিচালনা করে আসছিলেন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও ৬০ ফিলিস্তিনি নিহত
স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠী ইমার্জেন্সি রুম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আবু শৌক ক্যাম্পে আরএসএফের ভারী গোলাবর্ষণের ফলে শনিবার ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।
তবে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি আরএসএফ।
২০২৪ সালের ১০ মে থেকে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) এবং আরএসএফের মধ্যে এল ফাশারে ভয়াবহ লড়াই চলছে।
জাতিসংঘের সংকট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট’র তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে সুদানের এসএএফ এবং আরএসএফ এক ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের সংঘাতের ফলে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
৪১৮ দিন আগে
ডিআর কঙ্গোতে ভারী বৃষ্টিপাতে প্রাণহানি বেড়ে ৩৩
আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ডিআর কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (৭ এপ্রিল) ভোরে দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তামন্ত্রী জ্যাকুয়েমেন শাবানি বলেছেন, শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রাতভর প্রবল বর্ষণে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর।
দুর্গতদের উদ্ধার ও সহায়তার জন্য সরকার সশস্ত্র বাহিনী, বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এবং কিনশাসা প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিট গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে লোকজনকে সরিয়ে নিতে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বন্যায় শহরের বেশিরভাগ অবকাঠামো অচল হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে প্রধান সড়কগুলো। শহরজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: বলিভিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাতে মৃত্যু বেড়ে ২৮
বন্যার কারণে নাজিলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়ার রুটে মারাত্মক ব্যাঘাতের কথা জানিয়েছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়। আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তার জন্য জরুরি ফেরি পরিষেবা মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলেও পূর্বাভাসে বলেছেন আবহাওয়াবিদরা। এতে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষের শহরটিতে আরও ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে।
ডিআরসিতে বর্ষাকাল সাধারণত নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
৪২৪ দিন আগে
ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনকে ‘অপরাধ’ স্বীকৃতি দিচ্ছে আলজেরিয়া
ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আইন প্রণয়ন করতে চলেছে ফ্রান্সের এক সময়ের উপনিবেশ আলজেরিয়া।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৩ মার্চ) একটি খসড়া আইন প্রণয়নের লক্ষে দেশটির পার্লামেন্টে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খসড়াটি চূড়ান্ত হলে সেটি সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
এই পদক্ষেপ ফ্রান্স ও আলজেরিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে, ঐতিহাসিক অপরাধের জন্য ফ্রান্সকে ক্ষমা চাইতে আলজিয়ার্স অনেকবার চাপ দিলেও তা গ্রাহ্য করেনি প্যারিস। ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এবার ফরাসি শাসকদের নানা অপকর্মকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চলেছে আলজিয়ার্স।
১৮৩০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ১৩২ বছর ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল আলজেরিয়া। সে সময় ফরাসিরা আলজেরিয়ার মানুষের ওপর নানা অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছে বলে অভিযোগ ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত এই দেশটির।
এ বিষয়ে গত সপ্তাহে আলজেরিয়ার পার্লামেন্টের এক বৈঠকে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় ‘ফরাসিদের অত্যাচার আলজেরিয়ানদের স্মৃতিতে এখন অম্লান’ বলে অভিহিত করেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ব্রাহিম বুঘালি।
১৩২ বছরের ফরাসি শাসনামলে আলজিরিয়ানরা যা কিছু সহ্য করেছে, সেই সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের স্মৃতির বিষয়। কেউ কেউ হয়তো এটিকে চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখাতে চেষ্টা করতে পাারেন, কিন্তু বিষয়টি তা নয়।’
আরও পড়ুন: তুরস্কে ধরপাকড় উপেক্ষা করে এরদোগানবিরোধী বিক্ষোভ চলছে
এই আইন প্রণয়নকে দেশটির নাগরিকদের অসামান্য ত্যাগের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
আলজেরিয়ায় ফ্রান্সের (ঔপনিবেশিক) শাসকরা যেসব অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছিলেন, সেসব সত্য প্রকাশ্যে নিয়ে আসাটা দেশটির ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন ব্রাহিম।
আলজেরিয়ার আইনপ্রণেতাসহ ইহিতাস ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই (আইন প্রণয়নের) উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছেন। এর আগে, ফ্রান্সকে ঔপনিবেশিক অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি তুলেছিলেন তারা।
ঔপনিবেশিক শাসনামলে ফরাসিরা যেসব অপরাধ সংগঠিত করেছিল, সেসব নিয়ে একটি তালিকাও প্রণয়ন করেছেন তারা। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ১৮৪৫ সালে সংঘঠিত দাহারা গণহত্যা ও সাহারা মরুভূমিতে পরিচালিত পরমাণু পরীক্ষা।
আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৮৪৫ সালে একটি গুহার মধ্যে অবস্থানরত কয়েক শ’ মানুষকে ধোঁয়া দিয়ে বের করে এনে হত্যা করেছিল ফরাসি সেনারা, যার মধ্যে অনেক নারী ও শিশু ছিল।
ফরাসিদের আরেক ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে, আলজেরিয়ার সাহারা মরুভূমিতে অবস্থিত অংশে ১৯৬০ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে ১৭টি পারমাণবিক পরীক্ষা। এতে স্থানীয় জলবায়ুতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে এখনও অঞ্চলটির বাসিন্দারা ক্যান্সারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এমন আরও অনেক অপরাধের বর্ণনা রয়েছে তালিকায়।
সম্প্রতি যে আইনটি প্রণয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এমন একটি আইনের দাবি ১৯৮৪ সালের দিকেও করা হয়,কিন্তু বারবার পদক্ষেপ পেছানোর ফলে সেটি আর বাস্তব রূপ পায়নি।
এরপর ২০০১ সালেও এই রকম আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছিল, তবে তাও বাস্তবায়িত হয়নি। ২০০৫ সালে ফরাসিদের প্রণীত একটি আইনকে কেন্দ্র করে নতুন করে এই দাবি জোরালো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ, শিক্ষার্থীকে আত্মসমর্পণে মার্কিন পুলিশের চিঠি
ওই বছর নিজেদের শিক্ষাক্ষেত্রে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনামলকে ইতিবাচক হিসেবে পড়ানোর জন্য একটি আইন প্রণয়ন করে ফ্রান্স। এতে ক্ষুব্ধ হয় আলজেরিয়ার মানুষ। পাল্টা হিসেবে তারা আইনের মাধ্যমে ফরাসি শাসনকে অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার দাবি তোলেন।
এরপর ২০২১ সালে আলজেরিয়ার শতাধিক আইনপ্রণেতা দাবি তোলেন, ঔপনিবেশিক শাসনামলে সংগঠিত অপরাধের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত প্যারিসের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যেতে পারবে না আলজিয়ার্স। এ লক্ষ্যে একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করতে সরকাররের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এদিকে, বিগত কয়েকমাস ধরে ঐতিহাসিক অভিযোগ, অভিবাসন নীতিতে মতবিরোধ, পশ্চিম সাহারা নিয়ে মরক্কোর সঙ্গে আলজেরিয়ার বিরোধে রাবাতকে ফ্রান্সের সমর্থন দেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে আলজিয়ার্স-প্যারিস কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে শনিবার (২২ মার্চ) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আব্দেলমাজিদ তেববুনে বলেন, দ্বিপাক্ষিক বিষয় সমাধানে ‘একমাত্র রেফারেন্স পয়েন্ট’ হিসেবে থাকবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বা তার মনোনীত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এছাড়া ফরাসি সরকারকে ঔপনিবেশিক অপরাধ স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার জন্য অব্যাহতভাবে চাপ দিয়ে আসছে আলজেরিয়া। অতীতের তিক্ততা মিটিয়ে স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য এ উদ্যোগ উভয় দেশের জন্যই অপরিহার্য বলে মনে করে দেশটির সরকার।
৪৩৫ দিন আগে
ট্রাম্পের কাছে ‘অবাঞ্ছিত’ হলেও আফসোস নেই ইব্রাহিম রসুলের
ট্রাম্প প্রশাসন অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেও এই নিয়ে কোনো ‘আফসোস’ নেই বলে জানিয়েছেন সম্প্রতি বহিষ্কৃত যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম রসুল। নিজ দেশে পৌঁছে এসব কথা বলেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৩ মার্চ) কাতার হয়ে প্রায় ৩২ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে স্ত্রী রাশিদাকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন রসুল। বিমান বন্দরে প্রায় তিন শতাধিক সমর্থক তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেও এতে তার কোনো আফসোস নেই, কারণ নিজ দেশের জনগণের ভালোবাসায় তিনি সিক্ত। এর আগে গত ১৫ মার্চ ‘জাতি বিদ্বেষী’আখ্যা দিয়ে ইব্রাহিম রসুলকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমেরিকা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘৃণা করেন ইব্রাহিম রসুল। তার সঙ্গে আমাদের আলোচনার কিছু নেই, এখন থেকে তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।” বিদেশি কোনো নাগরিককে স্বাগতিক দেশ অবাঞ্জিত ঘোষণা করলে কূটনৈতিক পরিভাষায় তাকে পারসোনা নন গ্রাটা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও প্রিটোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এরই মধ্যে রসুলকে বহিষ্কারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হবে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বহিষ্কারের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে দেশটির থিংক ট্যাংক মাপুঙ্গুবওয়ে ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক রিফ্লেকশন আয়োজিত এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে ট্রাম্পের সমলোচনা করে রসুল বলেন, ‘ক্ষমতার বিরুদ্ধে, দক্ষিণ আফ্রিকায় যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।’
এ কারণেই ওয়াশিংটন তাকে বহিষ্কার করেছে বলে অভিমত দিয়েছেন অনেকে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে কোনো আফসোস নেই উল্লেখ করে বিমানবন্দরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অপমান করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন তাকে পারসোনা নন গ্রাটা ঘোষণা করলেও নিজ দেশের মানুষের ভালোবাসায় সেটি সম্মানে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মানুষের এমন ভিড় ও তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলে উবুন্টু (আফ্রিকান শব্দ উবুন্তু মানে হলো মানবতা বা অন্যের প্রতি মানবিকতা) অনুভব হয়।’ মানুষের প্রতি ভালোবাসা বোঝাতে এবং একে অপরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তাই উবুন্টুর মানে দাঁড়ায় ‘আমি আছি কারণ আমরা আছি।’
সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে রসুল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পারসোনা নন গ্রাটার অপমান আমি সম্মান হিসেবে গ্রহণ করছি। এই বহিষ্কারাদেশ প্রমাণ করে আমরা ঠিক কাজটিই করেছি।’
এ সময় আফ্রিকার কূটনীতি এ বিষয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রচলিত নীতির পাশাপাশি উবুন্টুর মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উবুন্টু কূটনীতি স্বাগতিক দেশকে তোষামোদ করায় বিশ্বাস করে না, বরং যেকোনো বিষয়ে ওই দেশকে সঠিক পথ দেখাতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকার কূটনীতি ব্যর্থ হয়েছে কিনা; সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ইব্রাহিম রসুল বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে বহিষ্কার করেছে, এর মানে আমার বক্তব্য তাদের সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে।’
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তার বক্তব্যে অসন্তুষ্ট হলেও তিনি তার সমাজের মূল্যবোধ রক্ষা করেছেন বলে অভিমত দেন তিনি। এতে উবুন্টু কূটনীতি কাজ করেছে বলেও তার ধারণা প্রকাশ করেন রসুল।
শিগগিরই তার জায়গায় যোগ্য কাউকে নিয়োগ দেবেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আফ্রিকার মূল্যবোধ বিসর্জন না দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে কাজ করবেন, এমন কাউকে প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব দেবেন বলে অভিমত দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রসুল তাদের প্রেসিডেন্টকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪৩৭ দিন আগে
মিসরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭
মিসরে দুটি পিকআপ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন। শুক্রবার (২১ মার্চ) দেশটির আচওয়ান প্রদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সংবাদ মাধ্যম।
রাষ্ট্রীয় পত্রিকা আহরাম জানিয়েছে, দেশটির আচওয়ান প্রদেশের ওয়াদি আল আলাকি সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আচওয়ান প্রদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর একজন পরিচালক বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে জানিয়েছে, অতিরিক্ত গতির কারণে গাড়ি দুটির সংঘর্ষ হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত
সূত্রটি বলছে, দুটি গাড়িতে মিসরীয় ও সুদানের নাগরিকদের বহন করছিল। কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত করছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর হাজার হাজার হতাহতের ঘটনা ঘটে মিসরে। এর বেশিরভাগই ঘটে অতিরিক্ত গতির কারণে। এছাড়া রয়েছে ট্রাফিক আইন না মানা ও সড়কের দুর্বল অবকাঠামো।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মিসর বিগত কয়েক বছরে নতুন নতুন সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ, পুরোনো সেতু মেরামত করেছে।
৪৪০ দিন আগে
এসিড বর্জ্যে জাম্বিয়ার বৃহত্তম নদীটি এখন প্রাণহীন
চীনা-মালিকানাধীন খনি থেকে এসিড ছড়িয়ে পড়ে দূষিত হয়েছে জাম্বিয়ার সবচেয়ে বড় নদীটি। এতে লাখ লাখ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশবিদরা।
নদীর ভাটিতে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূষণ শনাক্ত করা হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির উত্তরাঞ্চলের তামার খনি থেকে এসিডিক বর্জ্যের একটি টেইলিং ড্যাম (বাঁধ) ভেঙে গেলে এই দূষণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। খনিজ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বর্জ্য রাখার জন্য এই টেইলিং ড্যাম ব্যবহার করা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটির ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ঘনীভূত এসিড, দ্রবীভূত কঠিন বস্তু ও ভারী ধাতবের অন্তত পাঁচ কোটি লিটার বর্জ্য কাফু নদীর স্রোতে মিশে গেছে। জাম্বিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এই নদীটি।
দেশটির কপারবেল্ট প্রদেশের পরিবেশকর্মী চিলিকওয়া মুম্বা বলেন, ‘এটি একটি পরিবেশগত দুর্যোগ যা ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসবে।’
দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে তামার খনি উত্তোলনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে চীন। বিশ্বের শীর্ষ ১০ তামা উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে জাম্বিয়া একটি। স্মার্টফোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে তামা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
বিশেষজ্ঞদের সহায়তার আহ্বান জানিয়ে জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দি হিচিলেমা বলেন, ‘এটি এমন একটি সংকট, যা কাফু নদীর আশপাশের লাখ লাখ মানুষ ও বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকি তৈরি করছে।’
দেশটির ভেতর দিয়ে দেড় হাজার কিলোমিটারজুড়ে প্রবাহিত এই নদী। বর্তমানে পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির পরিধি নির্ণয়ে তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
৪৪৬ দিন আগে