আফ্রিকা
উগান্ডায় ইবোলা টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু
উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাস শনাক্তের পরে রোগীদের পরীক্ষামূলক টিকা দিতে শুরু করেছে দেশটি। উগান্ডায় ভাইরাসটির সুদান প্রজাতির বিস্তারে ১ জনের মৃত্যু ও দুইজন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে এক প্রতিবেদনে বলেছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
প্রথম পর্যায়ে দেশটির স্বাস্থ্যকর্মী ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী কাম্পালাতে একজন নার্সের মৃত্যু ও পরিবারের আরও দুজন সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় দেশটিতে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করা হয়।
ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের উৎস জানতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, ইবোলা সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের যেকোনো তরল কিংবা মলমূত্রের সংস্পর্শে অন্যরা সংক্রমিত হতে পারেন। ভাইরাসটির উপসর্গ হিসেবে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে দেখা দিতে পারে জ্বর। হতে পারে বমি, ডায়রিয়া, শরীর ব্যথা। এছাড়াও কিছুক্ষেত্রে শরীরের অভ্যন্তরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
কাম্পালার বিশাল ও ভ্রাম্যমাণ ৪০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে সংক্রমণ মোকাবিলা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় জানিয়েছে, ভাইরাসে প্রাণ হারানো সেই নার্স একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি আক্রান্ত হওয়ার আগে দেশের পূর্বঞ্চলের এমবেলাতে গিয়েছিলেন। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আগে তিনি কবিরাজের চিকিৎসাও নিয়েছিলেন।
তিনি আনুমানিক ২৩৫ জন মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন বলে ধারণা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উগান্ডা একটি ঘনবসতিপূর্ন দেশ হওয়ায় ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তজার্তিক এইডস ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভের দেওয়া ২০০০ টিকা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক মাতশিদিসো মোয়েতি ইবোলা ভাইরাসের প্রতিরোধমূলক টিকা পরীক্ষাকে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার গুরুত্বকেও তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন:দেশে প্রথমবারের মতো ৫ জনের শরীরে রিওভাইরাস শনাক্ত
জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে ট্রাম্প প্রশাসন সরে আসার পর এবং বিদেশি সহায়তা বন্ধের পর ইবোলায় এটিই প্রথম আক্রান্তের ঘটনা। উগান্ডায় ইতোপূর্বে ইবোলার বেশ কয়েকটি ধরণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ সালে দেশটিতে ইবোলায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাসটি একটি ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বর হিসেবে মানব শরীরে দেখা দেয়।
২০১৮ থেকে ২০২০ সালে পূর্ব কঙ্গোর জায়ার প্রজাতির ভাইরাসটি প্রতিরোধে কার্যকর হয়েছিল আরভিএসএফ-জেইবিওভি ভ্যাকসিন। এর মাধ্যমে দেশটির প্রায় ৩ হাজার ব্যক্তির প্রাণ রক্ষা পেয়েছিল। উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে পূর্ব আফ্রিকায় ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বরের প্রাদুর্ভাবের ধারাবাহিকতা বৃদ্ধি করেছে। গত মাসে তানজানিয়ায় মারবার্গ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করে। এর আগে দেশে মারবার্গ প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয় রুয়ান্ডা।
ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসটি ঠিক কিভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তা নিশ্চিত করতে না পারলেও বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন সংক্রমিত কোনো পশুর কাঁচা মাংস খাওয়ার কারণে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন প্রথম সংক্রমিত ব্যক্তি।
ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। দক্ষিণ সুদান ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ইবোলা নদীর তীরে ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল ভাইরাসটি। ইবোলা নদীর নামানুসারে ভাইরাসটির নামকরণ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:কোভিড ল্যাবসৃষ্ট ভাইরাস: আস্থা কম সিআইএ’র সিদ্ধান্তে
৩৯৫ দিন আগে
ভূমধ্যসাগরে নৌদুর্ঘটনা: ২৩ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর লাশ দাফন
লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌদুর্ঘটনার শিকার ২৩ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ দাফন করা হয়েছে। তাদের অবয়ব দেখে বাংলাদেশি বলে ধারণা করা হয়েছে। রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় এমন তথ্য দিয়েছেন লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ খায়রুল বাসার।
তিনি বলেন, ২৫ জানুয়ারি রাতে লিবিয়া উপকূল থেকে একটি নৌকা ৫৬ জন যাত্রী নিয়ে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেয়। খুব সম্ভবত এদিন রাতেই নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে ২৮, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি উপকূলে মরদেহ ভেসে আসতে থাকে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ২৮ জানুয়ারি সাতজন, ২৯ জানুয়ারি ১১ জন, ৩০ জানুয়ারি ৩ জন ও ৩১ জানুয়ারি ২ জন—মোট ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো আজদাদিয়া এলাকায় সমাহিত করা হয়েছে।
‘লাশগুলো পচে গিয়েছিল। এগুলো রাখার কোনো উপায় ছিল না। লাশ উদ্ধার ও দাফনের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারা রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লোকজন। তারা জানিয়েছেন, অববয়ব দেখে তাদের মনে হয়েছে, লাশগুলো বাংলাদেশি নাগরিকদের। লাশগুলোর সঙ্গে কোনো ডকুমেন্ট ছিল না,’ বলেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এছাড়াও মুমুর্ষু অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে সম্ভবত সেনাবাহিনী বা পুলিশের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাইনি। বাকি যারা এখনো নিখোঁজ, তাদেরও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
৩৯৬ দিন আগে
সুদানে হাসপাতালে হামলায় নিহত ৭০
সুদানের দারফুর অঞ্চলের অবরুদ্ধ শহর এল ফাশেরে চালু থাকা একমাত্র হাসপাতালে নৃশংস হামলায় প্রায় ৭০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস রবিবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সৌদি টিচিং ম্যাটারনাল হাসপাতালে হামলার ঘটনাকে ‘আতঙ্কজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
পোস্টে টেড্রোস বলেন, হাসপাতালটি রোগীতে পূর্ণ থাকা অবস্থায় হামলাটি চালানো হয়েছে। এতে ১৯ জন আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আল মালহার নামে আরও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার কথাও জানিয়েছেন টেড্রোস।
আরও পড়ুন: সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় ৩ দিনে নিহত ৪২
স্থানীয় কর্মকর্তারা এই বর্বরোচিত হামলার জন্য সুদানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত থাকা আধাসামরিক গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করেছেন।
২০২৪ সালের মে মাস থেকে এল ফাশের অবরোধসহ সংঘাতের সময় অসংখ্য নৃশংস ঘটনার জন্য আরএসএফকে দায়ী করা হয়।
চলমান সংঘাতের কারণে শহরটির প্রায় ১০ লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিকরা বাস্তুচ্যুত। তারা মাসের পর মাস সহিংসতা ও বঞ্চনা সহ্য করে চলেছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ফলে ২৮ হাজারেরও বেশি লোক মারা গেছে। লাখ লাখ লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া জাতিগত আফ্রিকান গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও লড়াই অব্যাহত রয়েছে। ডাব্লুএইচও এবং অন্যান্য বিশ্বব্যাপী সংস্থাগুলো স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন: সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় আরও ৪৫ জন নিহত
৪০৪ দিন আগে
এমপক্স শনাক্ত: সিয়েরা লিওনে জরুরি অবস্থা জারি
মাত্র চার দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তির শরীরে এমপক্স শনাক্ত হওয়ার পর জরুরি অবস্থা জারি করেছে আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দেশটি এই জরুরি অবস্থা জারি করে বলে এক প্রতিবেদনে বলেছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস(এপি)।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্তদের কারোরই সম্প্রতি সংক্রমিত প্রাণী বা ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার রেকর্ড নেই। প্রথম যে ব্যক্তির শরীরে এমপক্স শনাক্ত হয়, তিনি গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৬ জানুয়ারির মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় পোর্ট লোকো জেলার একটি বিমানবন্দর শহর লুঙ্গিতে সম্প্রতি ভ্রমণ করেছিলেন।
এখন পর্যন্ত আক্রান্ত দুই রোগীকেই রাজধানীর ফ্রিটাউনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: এমপক্স ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
এমপক্স ভাইরাসটিকে মাঙ্কিপক্সও বলা হয়। ১৯৫৮ সালে বানরের মধ্যে ‘পক্সের মতো’ রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল। ঐতিহাসিকভাবে, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকায় বেশিরভাগ মানব শরীরে এসব সংক্রমণ হয়েছে। সাধারণত সংক্রামিত প্রাণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ লোকদের মধ্যে এটির সংক্রমণ ঘটে থাকে।
তবে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো যৌন সংক্রমণের মাধ্যমে এমপক্স ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এর ফলে ৭০ টিরও বেশি দেশে প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। এর আগে আগে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের হার কঙ্গোতে। এই বছর আফ্রিকায় আনুমানিক ৪৩ হাজার মানুষের শরীরে সন্দেহভাজন ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার মৃত্যুর বেশিরভাগই ঘটেছে আফ্রিকাতে।
সিরেয়ার লিওনে ২০১৪ সালে ইবোলা প্রাদুর্ভাব হয়েছিল সবচেয়ে বেশি। এটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভাইরাস। মূলত পশ্চিম আফ্রিকাকে প্রভাবিত করা এই প্রাদুর্ভাবটি। সারা বিশ্বের মোট ১১ হাজার মৃত্যুর মধ্যে সিয়েরা লিওনেই ৪ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল ভাইরাসটি। ওই মহামারিতে দেশটি তার ৭ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী হারিয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে তৃতীয় ব্যক্তির শরীরে এমপক্স শনাক্ত
৪১৬ দিন আগে
ইথিওপিয়ায় বরযাত্রীর ট্রাক নদীতে পড়ে নিহত ৬৬
ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বরযাত্রীদের বহনকারী একটি ট্রাক নদীতে পড়ে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দেশটির একটি হাসপাতালের পরিচালক এই তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার(২৯ ডিসেম্বর) বিয়ের অতিথিদের ভাড়া করা পুরোনো একটি ট্রাক অতিরিক্ত যাত্রীদের নিয়ে গেলান সেতু থেকে পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গ্রামবাসীরা বলছেন,এর আগেও এখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় সিদামা অঞ্চলের বোনা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক লেমা লাগিদে সোমবার বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ঘটনাস্থলেই ৬৪ জন এবং হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, যেসব রোগী আরও জরুরি অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রয়োজন তাদের হাওয়াসার একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যন্ত গ্রামটিতে উদ্ধার অভিযান দেরিতে হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন,উত্তাল নদীতে পরে যাওয়া মানুষদের বাঁচাতে উদ্ধার কাজে তারা কেবল লাঠি দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন।
সেরাক বোকো নামের এক গ্রামবাসী এপিকে বলেন, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ট্রাকে গান বাজছিল এবং স্যুট পরা লোকজন নাচছিল ও হাত নাড়ছিল।
ইথিওপিয়ার গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবহনের জন্য বাসের পরিবর্তে ট্রাক ভাড়া করা সাধারণ ব্যাপার। কারণ, এতে তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে এবং অনেক লোক বহন করতে পারে। ট্রাকের বেশিরভাগই পুরুষ ছিল। কারণ তাদের সাংস্কৃতিকভাবে কনেকে তার বাড়ি থেকে বরের বাড়িতে নিয়ে যেতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফাসিল আতারা বলেন, 'সড়কটি ভালোভাবে নির্মাণ না করা এবং সতর্ক চিহ্ন না থাকায় নদীর আশপাশে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে। ‘
দুর্বল অবকাঠামো এবং গণপরিবহনে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বহনের কারণে ইথিওপিয়ায় অতীতেও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত আগস্টে আমহারা অঞ্চলে একটি বাস উল্টে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়।
৪৩১ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় উৎসবে পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে ৩৫
নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো রাজ্যের রাজধানী ইবাদানে আয়োজিত শিশুদের উৎসবে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র আদেওয়ালে ওসিফেসো সাংবাদিকদের বলেন, এ পর্যন্ত ৩৫ শিশু-কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত আরও ছয়জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উৎসবের আয়োজক হিসেবে চিহ্নিত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মামলাটি ইয়াগানকুতে (ইবাদান) রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগের হোমিসাইড বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার।
বুধবার সকালে বেসরকারি আয়োজকরা ৫ হাজার শিশুকে নগদ অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর উৎসব শুরু হলেও পরে তা শোকে পরিণত হয়।
৪৪১ দিন আগে
লিবিয়া উপকূলে ৪৯৯ অভিবাসী উদ্ধার: আইওএম
লিবিয়া উপকূল থেকে ৩৪ জন নারী ও ছয় শিশুসহ ৪৯৯ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) এসব অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
২৯ জন অভিবাসী নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে আইওএম আরও জানিয়েছে, গত ৮ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪৯৯ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৩৪৩ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই সংখ্যাটি গত বছরের তুলনায় চার হাজারেরও বেশি।
আইওএমর তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ৬৩৫ জন নিহত এবং ৯৮২ জন অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ ও নিহতদের মধ্যে লিবিয়া এবং অন্যান্য দেশ থেকে পালিয়ে আসা নাগরিকরা রয়েছেন।
২০১১ সাল থেকে অনেক অভিবাসন প্রত্যাশী ইউরোপের উপকূলে যাওয়ার জন্য লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে।
৪৪৪ দিন আগে
সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় ৩ দিনে নিহত ৪২
সরকারি বাহিনী (এসএএফ) ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘর্ষে সুদানে বেসামরিক নাগরিক মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত তিন দিনে মধ্য সুদানের সিন্নার রাজ্যে একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণ এবং গেজিরা রাজ্যে আরএসএফের দুটি পৃথক হামলায় কমপক্ষে ৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠী এ খবর জানিয়েছে।
সিন্নার রাজ্যের আল-সুকি শহরের স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠী আল-সুকি ইমার্জেন্সি রুম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেবেল মোয়া এলাকায় একটি পিকআপ ট্রাকে একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে আল-সুকি এলাকার ১৩ জন নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, হতাহতরা আল-সুকি থেকে জেবেল মোয়া পর্যন্ত চুরি হওয়া গাড়ি ও সরঞ্জামের সন্ধানে বেরিয়েছিলেন।
এছাড়া, গেজিরা রাজ্যের কয়েকটি গ্রামে আরএসএফের হামলায় বুধ ও বৃহস্পতিবারের হামলায় ২৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীগুলো।
আরও পড়ুন: সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় আরও ৪৫ জন নিহত
মধ্য সুদানে মানবাধিকার লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণকারী স্থানীয় বেসরকারি গোষ্ঠী গেজিরা কনফারেন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, আরএসএফ মিলিশিয়ারা বৃহস্পতিবার গেজিরা রাজ্যের দক্ষিণে আল-হাউস এলাকার ওয়াদ হুসেইন আল-হালাউইন গ্রামে হামলা চালায়। মিলিশিয়াদের বোমা হামলায় পাঁচ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে।
গেজিরা সম্মেলন ও আরেকটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নিদা আল-ওয়াসাত প্ল্যাটফর্ম উভয়ই জানিয়েছে, সশস্ত্র আরএসএফ বাহিনী মোটরসাইকেল ও যুদ্ধযানে চড়ে বুধবার গেজিরার আল-মানাগিল এলাকার আল-হুদা প্রশাসনের বেশ কয়েকটি গ্রামে হামলা চালায়। এতে ২৪ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়।
২০২৩ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে পশ্চিম সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল ফাশেরে এসএএফ ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। গত ১০ মে থেকে এই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, সুদানের ভেতরে বা বাইরে প্রাণঘাতী এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৭ শ’র বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
৪৪৭ দিন আগে
সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় আরও ৪৫ জন নিহত
সুদানের পশ্চিমাঞ্চলের আবাসিক এলাকা ও শরণার্থী শিবিরে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) গোলাবর্ষণে অন্তত ৪৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর (এসএএফ) ষষ্ঠ পদাতিক ডিভিশনের কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্রোহী মিলিশিয়াদের ইচ্ছাকৃত গোলাবর্ষণের ফলে গতকাল (বৃহস্পতিবার) এল ফাশের শহরের আশপাশের এলাকা ও শরণার্থী শিবিরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গণহত্যা প্রত্যক্ষ করা হয়েছে। এতে শিশু ও নারীসহ ৪৫ জন নিহত এবং আরও ২৮ জনকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এল ফাশেরের দক্ষিণাঞ্চলের আবাসিক এলাকা, শহরের দক্ষিণে অবস্থিত জমজম শরণার্থী শিবির ও উত্তরের আবু শৌক শিবির লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়।
হামলার বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি।
২০২৩ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে পশ্চিম সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল ফাশেরে এসএএফ ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। গত ১০ মে থেকে এই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, সুদানের ভেতরে বা বাইরে প্রাণঘাতী এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ২৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
৪৪৮ দিন আগে
সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর গোলাবর্ষণে নিহত ১৫
সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল ফাশেরের দক্ষিণে একটি শরণার্থী শিবির ও বাজারে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) গোলা নিক্ষেপে অন্তত ১৫ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছেন।
রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ইব্রাহিম খাতির বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১৫ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছে। জমজম শিবির ও গবাদি পশুর বাজারে আরএসএফ মিলিশিয়াদের গোলাবর্ষণ এখনও অব্যাহত রয়েছে।’
হতাহতদের অধিকাংশই শিশু ও নারী বলে জানান তিনি।
এক যৌথ বিবৃতিতে স্থানীয় বেসরকারি গোষ্ঠী এল ফাশেরের প্রতিরোধ কমিটিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বুধবারের গোলাবর্ষণের বর্ণনায় এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গত ১০ মে আরএসএফ এল ফাশেরে অবরোধ শুরু করার পর থেকে সবচেয়ে সহিংস হামলা ছিল এটি।
তিনি বলেন, ‘শরণার্থীতে ঠাসা জমজম শিবিরের মাঝখানে অন্তত ছয়টি গোলা পড়ে। এছাড়া আরও চারটি গোলা পড়ে এল ফাশেরের দক্ষিণে পশুর বাজারে।’
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত অব্যহত রয়েছে। এতে এ পর্যন্ত ২৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
৪৪৯ দিন আগে