ইউরোপ
ইউক্রেনে ৫ শতাধিক ড্রোন ও মিসাইল ছুড়েছে রাশিয়া
ইউক্রেনে পাঁচ শতাধিক ড্রোন ও অন্তত দুই ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। কিয়েভের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষত জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে মস্কো এসব হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে জেলেনস্কি প্রশাসন। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদারের চলমান তৎপরতার মধ্যেই এ হামলা চালাল মস্কো।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতভর এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম ও মধ্য ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতারা।
গত কয়েক মাস ধরেই আকাশপথে হামলা ও সম্মুখসারির ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ভাঙার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে যুদ্ধ বন্ধের তৎপরতা চালালেও পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় জেলেনস্কি সম্মতি জানালেও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এদিকে বেইজিং সম্মেলনে গিয়ে পুতিন বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, টানেলের শেষে একটুখানি আলো আছে। দেখা যাক পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়।’
এ সংঘাত সমাধানে ‘কমন সেন্সের’ প্রাধান্য থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তা ছাড়া সমাধান খুঁজতে ট্রাম্পেরও আন্তরিক ইচ্ছা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুতিন জানান, তিনি জেলেনস্কিকে মস্কোয় আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে রাজি আছেন, তবে বৈঠকটি ‘ভালোভাবে প্রস্তুত’ হতে হবে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
যদিও ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছেন, যেকোনো শীর্ষ সম্মেলন কেবল তখনই সম্ভব, যখন নিম্নপর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত হবে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার এ হামলাকে পুতিনের ‘দায়মুক্তি দেখানো’ বলে অভিহিত করেছেন জেলেনস্কি। যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর বেশি চাপ না থাকার কারণেই পুতিন এ আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে।
বেইজিং বৈঠকে রাশিয়ার সমর্থকরা
সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলন ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজে অংশ নিতে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন পুতিন। সম্মেলনে তার সঙ্গে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ছাড়া কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।
এই তিন নেতাই ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন করছেন বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। তাদের দাবি, উত্তর কোরিয়া মস্কোকে সেনা ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে আর চীন-ভারত রুশ তেল কিনে রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাঙ্গা রেখেছে।
বুধবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলনে ইইউয়ের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেন, ইউক্রেনে হামলায় রাশিয়া একা নয়, চীনও আছে সঙ্গে। তারা মস্কোকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। ফলে ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেন ও মিত্রদের নতুন সামরিক সহায়তার আলোচনা
রাশিয়া হামলার মাত্রা বাড়ানোর পর থেকে নিজদেশের প্রতিরক্ষা জোরদারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
নতুন সামরিক সহায়তা ও কূটনৈতিক সমর্থন পেতে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ডেনমার্ক সফর করেছেন জেলেনস্কি। সেখানে গিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র আনার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। প্রতি মাসে এ তহবিলে আরও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার যোগ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শান্তিচুক্তির বিনিময়ে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে ইউক্রেন
এরপর যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে বুধবার ফ্রান্সে যান জেলেনস্কি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো তাকে প্যারিসে সমর্থন জানিয়েছেন।
শান্তি চুক্তি সই হওয়ার দিন থেকেই তারা ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলেও জানান মাঁখো। তবে রাশিয়া চুক্তির ব্যাপারে আন্তরিকতা ও প্রতিশ্রুতি অটুট রাখবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করতে কিয়েভ সফর করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি।
জেলেনস্কি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, রাশিয়ার কাছ থেকে এখনো আমরা যুদ্ধ শেষ করার কোনো ইঙ্গিত পাইনি। তা সত্ত্বেও ইউরোপ-আমেরিকার সঙ্গে কিয়েভের ঐক্য কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াবে বলে মনে করেন তিনি।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, প্যারিস বৈঠকের পর স্পষ্ট হবে কে কী ধরনের সহায়তা দিতে পারবে।
২৭৩ দিন আগে
কেন জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসতে নারাজ পুতিন?
সম্প্রতি আলাস্কা সম্মেলনের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হন।
তবে এ বিষয়ে ত্রেমলিনের জবাবের প্রতীক্ষায় ছিল সবাই। এরপর সোমবারের (১৮ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের বৈঠকের পর নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে মস্কো এবং তা ইউরোপ-আমেরিকার নেতাদের সঙ্গে মিলছে না।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি পর্যায় উন্নতকরণের সুযোগের ধারণাটি আলোচনায় এসেছে। তবে কোন নেতা বা প্রতিনিধিকে সেই পর্যায়ে উন্নীত করা হতে পারে— এমন কোনো নাম তিনি উল্লেখ করেননি এবং সুস্পষ্ট করেও কিছু বলেননি।
এরপর মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ আরেকটু সমঝোতার সুরে বলেন, দ্বিপক্ষীয় কিংবা ত্রিপক্ষীয় কোনো কাজই আমরা প্রত্যাখ্যান করছি না। তবে যেকোনো আলোচনায় শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।’
পুতিনের আপত্তির কারণ কী হতে পারে?
এসব বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে, জেলেনস্কি-পুতিন বৈঠকের বিষয়ে সম্মত হওয়ার মতো অবস্থানে পৌঁছায়নি ক্রেমলিন।
অবশ্য এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই। কারণ এই যুদ্ধ একতরফাভাবে পুতিনই শুরু করেছিলেন। পূর্ব ইউক্রেনের স্বঘোষিত ‘পিপলস রিপাবলিক’ দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেশটিতে হামলা শুরু করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: শান্তিচুক্তির বিনিময়ে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে ইউক্রেন
পুতিন এ-ও মনে করেন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মিক জায়গা থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ইউক্রেনকে আলাদা করা ছিল ‘ঐতিহাসিক ভুল’।
চ্যাথাম হাউসের রাশিয়া ও ইউরেশিয়া কর্মসূচির পরিচালক ওরিসিয়া লুতসেভিচ বলেন, যদি এই বৈঠক হয়, তাহলে পুতিনকে এই ব্যর্থতা মেনে নিতে হবে যে তিনি এমন এক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন, যাকে তিনি হাসির পাত্র বলে পরিহাস করেন এবং যে দেশের অস্তিত্বই তিনি স্বীকার করেন না।
তাছাড়া রাশিয়ার মানুষদেরও বোঝানো কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি। ওরিসিয়া বলেন, দিনের পর দিন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গণমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে রুশ নাগরিকদের মগজ ধোলাই করা হয়েছে। তাদের বোঝানো হয়েছে যে, জেলেনস্কি একজন নাৎসি, ইউক্রেন হলো পশ্চিমাদের হাতের পুতুল রাষ্ট্র… জেলেনস্কির সরকার অবৈধ। তাহলে হঠাৎ তিনি কেন তার সঙ্গে কথা বলতে যাবেন? ক্রেমলিন এই প্রশ্নের কী উত্তর দেবে— বৈঠক হলে সেটিই হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মস্কো যে শুধু জেলেনস্কি সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে চলেছে, তা-ই নয়। তারা দেশটির নির্বাচনের স্থগিতাবস্থা নিয়েও বারবার প্রশ্ন তুলেছে। যদিও সামরিক আইনের আওতায়ই ইউক্রেনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
সর্বশেষ শান্তি আলোচনার প্রস্তাবে যেকোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির আগে ইউক্রেনে নির্বাচনের দাবি করেছে মস্কো। এমনকি তারা জেলেনস্কির নামও মুখে নেন না, বলে কিয়েভ প্রশাসন।
একটু পেছনে ঘুরে তাকালে দেখা যাবে, এ বছরের মে মাসের মাঝামাঝি তুরস্কে ইউক্রেনের সঙ্গে প্রথম সরাসরি আলোচনায় জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করতে এক ইতিহাসের বই লেখকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলেন পুতিন।
কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের সিনিয়র ফেলো এবং রাশিয়া বিষয়ক খবর ও বিশ্লেষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আর পলিটিকের প্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা স্তানোভায়ার ভাষ্যে, আসলে ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না পুতিন। তার কাছে এই যুদ্ধ মূলত ইউক্রেনের সঙ্গে নয়, বরং পশ্চিমাদের মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে। তবে পুতিন যদি মনে করেন যে বৈঠক সফল হতে পারে, তাহলে আবার এতে রাজি হতেও পারেন।
তাতিয়ানা আরও মনে করেন, বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে সেখানে অবশ্যই মূল বিষয়গুলো আলোচনার জন্য থাকতে হবে। এর মধ্যে, ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছাড়ার মতো বিষয় রয়েছে। কিন্তু জেলেনস্কি শুরু থেকেই মস্কোর এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। আর এক্ষেত্রে ট্রাম্প পরিবর্তন আনতে পারেন বলে ধারণা পুতিনের।
আরও পড়ুন: ‘দনবাস’ কেন রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার কেন্দ্রে
তিনি বলেন, রাশিয়া যা চাইছে তা অর্জনে ট্রাম্প সহায়ক হতে পারে বলে মনে করে মস্কো। এ কারণে রুশ দাবিগুলো নিয়ে কিয়েভকে আরও নমনীয় ও খোলামেলা হতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তাতিয়ানা।
তার ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে রাখতে এবার হয়তো উশাকভের প্রস্তাব অনুযায়ী ইস্তানবুলে বৈঠকে বসতে রাজি হতে পারেন পুতিন। সেখানে প্রতিনিধি দলে উশাকভ ও ল্যাভরভকেও পাঠাতে পারেন প্রেসিডেন্ট। তবে জেলেনস্কির সঙ্গে এমন কোনো বৈঠকে বসবে না ত্রেমলিন, যেখানে তাদের সব দাবি প্রত্যাখ্যান করা হবে।
এদিকে, সোমবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে এক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
ওই পোস্ট দিয়ে তিনি ঘুমাতে গেলেন, আর উঠে বুঝতে পারলেন যে বিষয়টি এখনো চূড়ান্তই হয়নি। পরে সুর বদলে ফক্স নিউজে বলেন, আমি একভাবে পুতিন আর জেলেনস্কির মধ্যে সেট-আপটা করেছিলাম। তবে জানেনই তো, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তো তাদের! আমরা তো ৭ হাজার মাইল দূরে।’
কিন্তু কোনো ছাড় না দিয়েই পুতিন যখন আলাস্কায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্মানিত হয়েছেন, তখন বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই বৈঠকে রাজি হওয়ার কোনো কারণ নেই। এমনকি আগস্টের শুরুর দিকে ইউক্রেনে ড্রোন হামলার মাত্রা সামান্য কমালেও সোমবার রাত থেকে আবার তা বাড়িয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনে সোমবার রাতভর মোট ২৭০টি ড্রোন ও ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মস্কো।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জেলেনস্কির ওপর ট্রাম্পের চাপে যদি কাঙ্ক্ষিত ফল না পায় রাশিয়া, তাহলে তাদের সামরিক শক্তি তো আছেই।
তবে যে প্রশ্নের উত্তর আসলে কেউই জানে না, সেটি হলো— এই আলোচনা ব্যর্থ হলে এর দায় কার ঘাড়ে চাপাবেন ট্রাম্প?
২৮৮ দিন আগে
‘দনবাস’ কেন রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার কেন্দ্রে
গত শুক্রবারের আলাস্কা সম্মেলনে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের প্রধান শর্ত হিসেবে পুরো দনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ চেয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক নিয়ে দনবাস অঞ্চল গঠিত। এটি পূব ইউক্রেনে অবস্থিত। এর মধ্যে লুহানস্ক প্রায় পুরোপুরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্ক শহরসহ দোনেৎস্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এখনো ধরে রেখেছে ইউক্রেন। তাই ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত দোনেৎস্ক অঞ্চল পুরোপুরি দাবি করেছেন পুতিন।
তবে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব বরাবরই প্রত্যাখান করে আসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, ইউক্রেনের কোনো ভূখণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের বিরোধিতা করছেন দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ নাগরিক। ফলে দনবাস অঞ্চলটি ঘিরেই শান্তি আলোচনায় একপ্রকার অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা করছেন বিষেশজ্ঞরা।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, দোনেৎস্ক অনেক আগে থেকে মস্কোর প্রধান লক্ষ্যবস্তু। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো এ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে রুশ বাহিনী। পরে ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু পর অঞ্চলটির বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় রাশিয়া।
বর্তমানে দনবাসের ৪৬ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার বা ৮৮ শতাংশই রাশিয়ার দখলে। এর মধ্যে লুহানস্কের পুরোটাই এবং দোনেৎস্কের এক তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে মস্কো। তবে দোনেৎস্কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর বেশিরভাগই এখনও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেন। এর জন্য অবশ্য চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে কিয়েভের। এই অঞ্চলের দখল ধরে রাখতে হাজার হাজার মানুষের জীবন গিয়েছে।
দনবাসের অবস্থান এবং কেন এটি চান পুতিন?
দনবাস আসলে দোনেৎস বেসিনের সংক্ষিপ্ত রূপ। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত দনবাস মূলত কয়লা ও ভারী শিল্পে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের অনেক মানুষই রুশ ভাষায় কথা বলেন। সোভিয়েত ইউনিয়েনের সময়ে সেখানকার কয়লা খনি ও ইস্পাত কারখানাগুলো সোভিয়েতে শিল্পায়নের মূল চালিকাশক্তি ছিল।
সোভিয়েত ভেঙে যাওয়ার পরও রাশিয়ার প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক আনুগত্য বজায় ছিল। তবে ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত ক্রেমলিনপন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর দনবাসে সংঘাত শুরু হয়।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন দোনেৎস্ক ছেড়ে দিলে শান্তিচুক্তি সম্ভব: ট্রাম্প
এর পরপরই ক্রিমিয়া দখল করে মস্কো এবং পূর্ব ইউক্রেনজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। রুশ অস্ত্র ও যোদ্ধাদের সহায়তায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে স্বঘোষিত ‘পিপলস রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।
এই বিচ্ছন্নতাবাদীদের তৎপরতা দোনেৎস্কতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়িয়ে তোলে। এরপর ২০১৯ সালে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সংঘাতের অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার নিয়ে প্রচার চালান বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি নিজেও রুশভাষী। এই নির্বাচনে দোনেৎস্কের মানুষই জেলেনস্কিকে নির্বাচিত করেন।
এরপর ২০২২ সালে দনবাসের অধিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার অজুহাতেই ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেন পুতিন। এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি দাবি করেছিলেন, দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের স্বঘোষিত ‘পিপলস রিপাবলিক’ তার কাছে সাহায্য চেয়েছে, কারণ কিয়েভ সেখানকার রুশভাষী অধিবাসীদের ওপর ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে।
তবে এটি নিছক একটি অজুহাত বলেই মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কারণ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এই অঞ্চল ছাড়িয়ে কিয়েভ অভিমুখে অগ্রসর হতে শুরু করে রুশ সেনাবাহিনী। জেলেনস্কি সরকারকে উৎখাত করে পুরো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই মস্কোর উদ্দেশ্য ছিল।
২৮৯ দিন আগে
সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করলেন রুশনারা আলী
সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের গৃহহীনতা-বিষয়ক মন্ত্রী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক রুশনারা আলী। পুরোনো ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে ব্যক্তিগত একটি সম্পত্তির ভাড়া রাতারাতি ৭০০ পাউন্ড বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় আবাসন-বিষয়ক দাতব্য সংস্থা ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার কয়েক ঘণ্টা পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন রুশনারা। বাড়িটি বিক্রি না হওয়ার পর বেশি দামে পুনরায় ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ভাড়াটেদের উচ্ছেদের ঘোষিত কারণের মধ্যে বিরোধিতা নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তিনি চাপে ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী। গত বছর লেবার পার্টি সরকার গঠনের পর গৃহায়ন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি হন তিনি।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ‘দ্য আই পেপার’ এর এক প্রতিবেদনে এই বিতর্ক শুরু হয়। তাতে বলা হয়, গত নভেম্বর মাসে রুশনারা আলীর পূর্ব লন্ডনের বাড়িটির ভাড়াটেদের জানানো হয়েছিল, তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি নবায়ন করা হবে না, কারণ বাড়িটি বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে। এরপরই ওই সম্পত্তিটি ভাড়া দিতে পুনরায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তবে আগের ভাড়ার চেয়ে মাসিক ৭০০ পাউন্ড বেশি চাওয়া হয়।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভাড়াটেদের অধিকার-সংক্রান্ত এমন একটি আইন আগামী বছর কার্যকর হওয়ার কথা যেখানে সম্পত্তি বিক্রির জন্য ভাড়াটেদের উচ্ছেদ করে পরে বেশি ভাড়ায় পুনরায় ভাড়া দেওয়া যাবে না। তাছাড়া নির্দিষ্ট মেয়াদে ভাড়ার চুক্তিও করা যাবে না।
আরও পড়ুন: অবশেষে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক
রুশনারা আলীকে নিয়ে এই বিতর্কের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক বলেন, তিনি ‘ভণ্ডামি ও স্বার্থসেবামূলক’ একটি সরকার পরিচালনা করছেন। রুশনারার পদত্যাগকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে রুশনারার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভাড়াটেরা তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি অনুযায়ী ছিলেন। সম্পত্তি বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে থাকতে পারেন বলেও জানানো হয়েছিল, কিন্তু ভাড়াটেরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি এবং সম্পত্তি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন
কিয়ের স্টারমারকে লেখা পদত্যাগপত্রে রুশনারা আলী লিখেছেন, তিনি সব আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলেছেন এবং গুরুত্ব সহকারে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি পদে থাকলে বিষয়টি সরকারের উচ্চাভিলাষী কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেবে। তাই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগের পর রুশনারার শ্রম ও নিবেদনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। তার অনুপস্থিতি হাউজিং, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আশাপ্রকাশ করেন, রুশনারা আলী পেছন থেকে সরকারে সমর্থন অব্যাহত রাখবেন এবং বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনি আসনের জনগণের সেবা করে যাবেন।
এর আগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরেক এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এই ঘটনা সরকারি পদে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার তালিকায় আরেকটি সংযোজন।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে টিউলিপের চিঠি
২০১০ সালে লেবার পার্টির মনোনয়নে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন রুশনারা। গতবছরের নির্বাচনে তিনি টানা পঞ্চমবারের মত পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।
রুশনারার জন্ম ১৯৭৫ সালে সিলেটে। মাত্র সাত বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে চলে যান লন্ডনে।
বাংলাদেশে রুশনারার পৈতৃক নিবাস সিলেটের বিশ্বনাথের বুরকি গ্রামে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও দর্শন পড়েছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। তিনি পরামর্শক সংস্থা ইয়ং ফাউন্ডেশনের সহযোগী পরিচালক।
৩০০ দিন আগে
রাশিয়ায় ৫০ বছর পুরোনো বিমান বিধ্বস্তে সব আরোহী নিহত
রাশিয়ায় ক্রু ও যাত্রীসহ ৪৮ আরোহীকে নিয়ে এএন-২৪ নামের ৫০ বছর পুরোনো বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সব আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দেশটির আমুর অঞ্চলের গভর্নর ভাসিলি অরলভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিমানে থাকা ৪৮ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে আমুর অঞ্চলে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন।
দেশটির স্থানীয় জরুরি পরিষেবা মন্ত্রণালয় তথ্যনুযায়ী, গতকাল (বৃহস্পতিবার) দেশটির দূর প্রাচ্যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানে ৬ শিশুসহ ৪২ যাত্রী ও ৬ জন বিমান ক্র ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর গভর্নরের দপ্তর থেকে ৪৯ জন আরোহীর থাকার কথা বলা হলেও পরে সেটি সংশোধন করে ৪৮ করা হয়। তবে সংখ্যাগত ভিন্নতার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয় জানায়, দূর প্রাচ্যের তিন্দা শহরের উদ্দেশে রওনা হওয়া বিমানটি রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এর ধ্বংসাবশেষ একটি পাহাড়ি জায়গায় খুঁজে পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে রাশিয়ার ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিধ্বস্তের সময় ওই এলাকায় খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করছিল।
প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো সোভিয়েত আমলের বিমানটি খাবারোভস্ক থেকে যাত্রা শুরু করে ব্লাগোভেশচেনস্কে পৌঁছে পরে তিন্দার দিকে যাচ্ছিল। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, বিমানের ধ্বংসাবশেষ ঘন জঙ্গলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আছে এবং সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছিল।
দূরপ্রাচ্যের পরিবহন প্রসিকিউটরের অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলটি তিন্দা থেকে ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত। একটি অনলাইন বিবৃতিতে অফিসটি জানিয়েছে, বিমানটি অবতরণের জন্য দুইবার চেষ্টা করে। দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টার পর এটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।
পড়ুন: ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স: মাখোঁ
স্থানীয় জরুরি সেবা বিষয়কমন্ত্রী বলেন, সাইবেরিয়াভিত্তিক আনগারা নামের একটি এয়ারলাইন্স বিমানটি পরিচালনা করতো। বিমানটির নাম এএন-২৪।
‘উড়ন্ত ট্রাক্টর’ নামে পরিচিত এএন-২৪ বিমানগুলোকে রাশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পুরোনো বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
নতুন লাদোগা বিমানের ব্যাপক উৎপাদন ২০২৭ সালের আগে শুরু হবে না বলে জানা গেছে। এই অবস্থায় রাশিয়ার গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে পরিবহনের জন্য এখনও পুরোনো ‘উড়ন্ত ট্রাক্টর’-এর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিমানের বয়স ৫০!
রাশিয়ানপ্লেইনস নামের একটি সংস্থা জানিয়েছে, আনগারা এয়ারলাইন্স মূলত রাশিয়ার পূর্বাঞ্চল ও সাইবেরিয়ার দুর্গম এলাকায় ফ্লাইট পরিচালনা করে। তারা বর্তমানে ১০টি এএন-২৪ বিমান পরিচালনা করে, যেগুলো ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে তৈরি।
সোভিয়েত আমলে মোট ১ হাজার ৩৪০টি এএন-২৪ তৈরি হয়। রাশিয়ানপ্লেইনসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর মধ্যে ৮৮টি দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়েছে, ৬৫টি গুরুতর ঘটনার শিকার হয়েছে যাত্রী হতাহতের ঘটনা ছাড়াই এবং বর্তমানে মাত্র ৭৫টি বিমান চালু রয়েছে। বিমানগুলোর বয়স বহুদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয়। ২০১১ সালে সাইবেরিয়ায় এক এএন-২৪ বিমান দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই বিমানগুলো গ্রাউন্ড (পরিচালনা বন্ধ) করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।বর্তমান পরিস্থিতি এই বিমানের পরিচালনা ও ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
৩১৪ দিন আগে
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ব্রিটেনের প্রতি লন্ডনের মেয়রের আহ্বান
ফিলিস্তিনকে অবিলম্বে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ব্রিটেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। যা ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক খান গাজা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গাজায় বর্তমানে ক্ষুধার্ত শিশুরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খাবার খুঁজছে। এদিকে, খাবারের সন্ধানে বের হওয়া মানুষদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করছে ইসরায়েলি সেনারা।’
পোস্টে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়—যার মধ্যে আমাদের সরকারও রয়েছে—ইসরায়েলি সরকারকে এই নৃশংস ও অযৌক্তিক হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে এবং জরুরি মানবিক সহায়তা ঢুকতে দেওয়ার বিষয়ে আরও কঠোর চাপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমন ন্যাক্কারজনক হত্যাযজ্ঞ কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত করার সুযোগ নেই।’
লন্ডনের মেয়র বলেন, ‘যুক্তরাজ্যকে অবিলম্বে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে হবে। যদি ফিলিস্তিন নামে কোনও রাষ্ট্রই না থাকে, তাহলে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের কোনো ভিত্তি নেই।’
পড়ুন: ‘গাজায় বোমার চেয়ে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে ক্ষুধা’
সাদিক খানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নেতৃত্বে নিজ দল লেবার পার্টির ভেতর থেকেই চাপ বাড়ছে। দলটির একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে এবং বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও একই সুরে বলেন, ‘আমাদের ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। ইসরায়েল যে আত্মরক্ষার কথা বলে, সে বৈধ আত্মরক্ষার সীমা বহু আগেই ছাড়িয়ে গেছে।’
এদিকে, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, সেভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফামসহ ১১১টি মানবিক সংস্থা এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুধাস্ত্র’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।’
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, ‘ক্ষুধার্ত বেসামরিক মানুষদের গুলি করে হত্যা করার দৃশ্য দেখে আমি হতভম্ব, বেদনায় ভারাক্রান্ত।’ সম্প্রতি তিনি জানান, যুক্তরাজ্য দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিশ্চিত করতে ভূমিকা পালন করবে।
৩১৫ দিন আগে
ক্রুসহ ৪৯ যাত্রী নিয়ে রুশ বিমান নিখোঁজ
রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের আমুর এলাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী বিমান নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটিতে ছয়জন ক্রুসহ ৪৯ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। আঞ্চলিক গভর্নরের বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে।
স্থানীয় জরুরি সেবা বিষয়কমন্ত্রী বলেন, সাইবেরিয়াভিত্তিক আনগারা নামের একটি এয়ারলাইন বিমানটি পরিচালন করতো। এটির নাম এএন-২৪। কিন্তু আমুরের তিয়ান্দা শহরের আসার সময় এটি রাডারের পর্দা থেকে হারিয়ে যায়।
চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল আমুরের গভর্নর ভাসিলি অর্লভ বলেন, বিমানটিতে ৪৩ যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে পাঁচটি শিশুও রয়েছে। এছাড়াও ছয় ক্রু সদস্য ছিলেন আকাশযানটিতে।
পড়ুন: ‘গাজায় বোমার চেয়ে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে ক্ষুধা’
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিমানটির খোঁজে প্রয়োজনীয় সব বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। যন্ত্রপাতিও প্রস্তুত রয়েছে।
জরুরি সেবা বিভাগের বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, খাবারোভস্ক-ব্লাগোভেশচেনস্ক-তিয়ান্দা রুটে একটি এএন-২৪ যাত্রীবাহিনী বিমান উড়ছিল।
কিন্তু চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নিরাপত্তা তল্লাশি অতিক্রম করতে এটি ব্যর্থ হয়েছে। বিমানটির সঙ্গে এখন কোনো যোগাযোগ নেই।
৩১৫ দিন আগে
রোমে গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আহত অন্তত ২৯
ইতালির রাজধানী রোমের একটি গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে, অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার (৪ জুলাই) শহরের পূর্বাঞ্চলের ওই গ্যাস স্টেশনে রাখা জ্বালানির ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়।
এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিস্ফোরণে ১০ পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মীসহ কমপক্ষে ২৭ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, পুরো রোম শহর জুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
রোম পুলিশ জানায়, রোমের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই স্টেশনে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি করা হতো।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি রাশিয়ার
বিস্ফোরণের পরের মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় দেয়ালের প্লাস্টার ছিটকে শত শত গজ দূর পর্যন্ত গিয়ে পড়েছে। আরেকটি ভিডিওতে পাশের একটি ভবনের বাসিন্দা জানালার কাচ ভেঙে পড়ার দৃশ্য এবং একটি দরজার ফ্রেম আলগা হয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন।
ইতালির ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র লুকা কারি বলেন, বিস্ফোরণের আগে সেখানে আরেকটি ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওই ঘটনার পরই ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ঠিক তখনই বিস্ফোরণটি ঘটে।
তিনি আরও জানান, ‘ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে—তা এখনও জানা যায়নি। তবে বিস্ফোরণের পর স্টেশনের পেছনের একটি পার্কিং লটে আগুন ধরে যায়। সেখানে জব্দ করা গাড়ি রাখা ছিল।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিরি জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী মেলোনি আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দুর্গত এলাকা নিরাপদ করতে কাজ করা উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
৩৩৫ দিন আগে
স্ত্রীর ‘চড় থাপ্পড়’ খেলেন, না মজা করলেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ!
বিদেশের মাটিতে ফরাসি ফার্স্ট লেডি ব্রিজিটের আক্রমণের শিকার হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে সোমবার অবশ্য ঘটনাটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। বলেছেন, তারা মজা করছিলেন।
চলতি সপ্তাহে তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সফর শুরু করে ভিয়েতনামে বিমান থেকে নামার সময় ঘটনাটি ঘটে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্ত্রী ব্রিজিট দুই হাত দিয়ে ম্যাক্রোঁর মুখ ধরে ধাক্কা দিচ্ছেন, ম্যাক্রোঁ মুখ সরিয়ে নিচ্ছেন। আর মুহূর্তেই ফ্রান্সের খবরের শিরোনাম হয়ে যায় এটি। বিমানের খোলা দরজায় ধারণা করা ওই ভিডিওতে গণমাধ্যম প্রযু্ক্তি ব্যবহার করে বোঝার চেষ্টা করছিল যে, তারা আসলে কথোপকথন করছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে দৈনিক লে প্যারিসিয়েন সংবাদপত্রের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল ‘থাপ্পড় না ঝগড়া’? ভিয়েতনামে ম্যাক্রোঁ ও তার স্ত্রী ব্রিজিটের বিমান থেকে নামার ওই ঘটনার ছবিটি ব্যাপক মন্তব্য কুড়ায়।
ম্যাক্রোঁ পরে সাংবাদিকদের বলেন, তারা ২০০৭ সালে বিয়ে করেছেন। যে স্কুলে তারা পরিচিত হয়েছিলেন তারা সেখানে শিক্ষিকা ও ছাত্র ছিলেন। তারা কেবল মজার ছলে ঠাট্টা-মশকরা করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ঝগড়া করিনি, মজা করেছি।’ ঘটনাটিকে এক ধরনের অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় মেয়াদে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ম্যাক্রোঁ
৩৭৪ দিন আগে
ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত
গাজায় চলমান সহিংসতা বন্ধে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনে ইসরায়েলি সেটেলারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যে গাজায় চলমান ইসরায়েলের নতুন সামরিক অভিযান বন্ধ করা না হলে আরও ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার (২০ মে) যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমনসে এই ঘোষণা দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি।
তিনি বলেন, ‘গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল যেসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, সেগুলো গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য। এ পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।’
এর আগে, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে প্রায় তিন মাস ধরে চলা অবরোধের কারণে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা তৈরি হলে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য। সোমবার (১৯ মে) সীমিত পরিসরে শিশুখাদ্যসহ জরুরি পণ্য গাজায় প্রবেশ করতে দেয় ইসরায়েল। এক যৌথ বিবৃতিতে ওই সহায়তাকে ‘একদম অপ্রতুল’ বলে সমালোচনা করে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা।
সম্প্রতি জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি দিলে মিত্রদেশগুলো থেকে ইসরায়েলের ওপর চাপ আসতে শুরু করে। এমনকি তাদের পরম মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও গাজায় খাদ্যসংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: টানা তিনমাস পর গাজায় প্রবেশ করল মানবিক সহায়তা
ইসরায়েলের এ ধরনের কার্যকলাপের সমালোচনা করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে ত্রাণ আটকে রাখা, যুদ্ধ ছড়িয়ে দেওয়া, বন্ধু ও অংশীদারদের উদ্বেগ অগ্রাহ্য করা অমার্জনীয়। এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ হতেই হবে।’ ইতিহাস ইসরায়েলের বিচার করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাশাপাশি ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত সিপি হোতোভেলিকেও তলব করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে সময় গাজায় ১১ সপ্তাহ ধরে চলা ত্রাণ অবরোধকে ‘নিষ্ঠুর ও ক্ষমার অযোগ্য’ বলে নিন্দা জানান যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী হ্যামিশ ফ্যালকোনার।
অন্যদিকে, গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাইয়া কাল্লাস।
তিনি বলেন, ‘ইইউয়ের বেশিরভাগ দেশই গাজার জনগণের এই কষ্ট আর দেখতে চায় না।’ অবশ্য এ বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।
এদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যামি জানান, তিন ব্যক্তি, দুটি অবৈধ বসতি ও দুটি সহিংসতা-সমর্থনকারী সংগঠনের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাজ্য। এ ছাড়া, এই অবৈধ বসতিগুলো ইসরায়েল সরকারের সরাসরি সমর্থনেই পশ্চিম তীরে ছড়িয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ হতেই গাজা, ইয়েমেনে ইসরায়েলের হামলা জোরাদার
তবে এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘অযৌক্তিক ও দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমোরস্টাইন। তার দাবি, ‘যুক্তরাজ্য এসব বাহানা দিচ্ছে, আসলে তারা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নিতে চাচ্ছিল না।’
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রতিক্রিয়া ও স্টারমারের অবস্থান
হাউস অব কমনসে ডেভিড ল্যামির বক্তব্যকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের ওপর আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে রয়েছে— ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের মতো বিষয়।
তাছাড়া, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য। তবে ল্যামি একে ‘চরমপন্থা’ ও ‘দানবীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অবশ্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নেওয়া যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপকে হামাসের প্রতি পক্ষপাত বলেও সমালোচনা করেছেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। তার জবাবে ল্যামি বলেন, যারা যুদ্ধ হাজার হাজার শিশুকে হত্যা করেছে, তাদের বিরোধিতা করা মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা নয়।’
এদিকে, গাজায় শিশুদের দুর্ভোগকে ‘সম্পূর্ণরূপে অসহনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
স্টারমার বলেন, ‘আমি প্রকাশ্যে বলতে চাই, আমরা ইসরায়েলের এই সহিংসতা বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত।’
সোমবার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনা ও পশ্চিম তীরের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি দেন কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপের জন্য নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় নির্মম হামলা বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: গাজায় রাতভর ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিকসহ নিহত ৮২
এ বিবৃতির নিন্দা জানিয়ে একে ‘৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর গণহত্যামূলক হামলার জন্য এক বিশাল পুরস্কার’ বলে তিরস্কার করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তবে স্টারমার বলেন, হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্ত করার একমাত্র উপায় হলো যুদ্ধবিরতি।
তার ভাষ্যে, ‘গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবাহ বাড়াতে হবে, কারণ ইসরায়েল যে পরিমাণ ত্রাণ ঢুকতে দিচ্ছে তা একেবারেই অপর্যাপ্ত। এই যুদ্ধ অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। আমরা গাজার মানুষদের না খেয়ে মারা যেতে দিতে পারি না।’
ইসরায়েল যে সীমিত ত্রাণ গাজায় প্রবেশ করতে দিয়েছে, তাকে ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত প্রায় ২০ লাখ গাজাবাসীর জন্য ‘জলাশয়ে একটি বিন্দুর মতো’ বলে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার।
ফ্রান্স-ইসরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েন
এদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের আগ্রাসনকে ঘিরে ফ্রান্স-ইসরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে এক রেডিও সাক্ষাৎকারে গাজায় ব্যবহারের জন্য অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। তাছাড়া, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করে ফ্রান্স। এ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ আহ্বানের কড়া সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু।
সম্প্রতি, গাজায় খাদ্যসংকটকে কেন্দ্র করে আবারও ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফ্রান্স।
৩৭৯ দিন আগে