ল্যাটিন-আমেরিকা
ইকুয়েডরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু
লাতিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ইকুয়েডরের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাদের এ অভিযানের লক্ষ্য চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইকুয়েডরীয় এবং মার্কিন বাহিনী ৩ মার্চ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান এ পদক্ষেপকে মাদক-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আঞ্চলিক অঙ্গীকারের একটি নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে হেলিকপ্টার উড্ডয়ন এবং আকাশপথ থেকে নজরদারির দৃশ্য দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ অভিযান বর্তমানে ইকুয়েডরের সেনাদের জন্য কেবল লজিস্টিক এবং গোয়েন্দা সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, এ অঞ্চলজুড়ে সহিংসতার জন্য দায়ী অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে দুই দেশ নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মাক্রিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধান মাদক কার্টেলগুলোকে ক্রমবর্ধমানভাবে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করছেন এবং একটি সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সন্দেহভাজন চোরাচালানকারী জলযানগুলোতে বিমান হামলার মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত।
তবে সমালোচকদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ আইন প্রয়োগ এবং যুদ্ধাবস্থার মধ্যকার পার্থক্যকে অস্পষ্ট করে দিচ্ছে, যা বেসামরিক হতাহত এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া যুক্তরাষ্ট্রের এ সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি একে মাদক পাচার এবং অবৈধ খনির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
১ দিন আগে
ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পের কি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াশিংটনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে—এ হামলার আগে হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন ছিল কিনা!
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ‘এপিক ফিউরি’ নামে ব্যাপক আকারের বিমান হামলা শুরু করে। অপরদিকে, ইসরায়েল তাদের অভিযানকে ‘লায়নস র্যোর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর এ হামলা হয় এবং এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলা দেখা যায়।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে এই ক্ষেত্রে কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। একইসঙ্গে সংবিধানের কিছু বিধান প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিস্তৃত ক্ষমতা দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের একটি ধূসর ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
ক্যাপিটল হিলে প্রতিক্রিয়া মূলত দলীয় বিভাজন অনুযায়ী এসেছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানরা বেশিরভাগই হামলাকে সমর্থন দিয়েছেন।
স্পিকার মাইক জনসন জানান, অভিযানের আগে প্রশাসন ‘গ্যাং অব এইট’ নামে পরিচিত উভয় দলের জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতাদের একটি গোষ্ঠীকে ব্রিফ করেছিল।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই তিনি যুদ্ধ শুরু করেছেন। তারা অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করতে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ আনার আহ্বান জানান। অবশ্য রিপাবলিকানদের সীমিত সমর্থনের কারণে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের অনেকেই শিশু।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর বেইত শেমেশে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে এবং তেল আবিবেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। আবুধাবি ও দুবাই বিমানবন্দরেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে হামলা পরিচালনা করছে। তিনি ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন মেরিন ব্যারাকে বোমা হামলার ঘটনাকেও সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন—যা পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করে এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
ট্রাম্প আরও বলেন, অভিযানে ইরানের ১০-১২ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নির্মূল করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর বদলে অভিযানটি দীর্ঘমেয়াদি বিমান ও নৌ-অভিযানের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দশ হাজারের মতো সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এখনও তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, জরুরি হুমকি দূর করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতার সীমা ও সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
৪ দিন আগে
মেক্সিকোর মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’কে হত্যা, দেশজুড়ে সহিংসতা
মেক্সিকোয় এক মাদকবিরোধী সেনা অভিযানে হালিস্কো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি) নামের দেশটির শীর্ষ মাদক চক্রের নেতা নেমেসিও রুবেন ওসেগেরা সের্ভান্তেসকে ওরফে এল মেনচো নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চক্রটির শীর্ষ নেতৃত্ব ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির সেনাবাহিনী এই অভিযান চালায়। শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা চালিয়েছে।
এল মেনচোর মতো মাদক সম্রাটকে হত্যা মেক্সিকো সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য। এই চক্রটি দমন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, মাদক চক্রটির সদস্যরা মেক্সিকোর ২০টি অঙ্গরাজ্যের ২৫০টির বেশি স্থানে গাড়ি পুড়িয়ে সড়ক অবরোধ করে। গাড়ি পোড়া কালো ধোঁয়ায় মেক্সিকোর আকাশ কালো হয়ে যায়।
অভিযানের আগে রবিবার রাতে হালিস্কোর রাজধানী গুয়াদালাহারা জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। বাসিন্দারা যে যার ঘরে অবস্থান নেন। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আজ (সোমবার) স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে হালিস্কো, মিচোয়াকান ও গুয়ানাহুয়াতোতে অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ন্যাশনাল গার্ডে ৭ সদস্যও রয়েছেন।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রবিবার হালিস্কোর তাপালপা এলাকায় এল মেনচোকে ধরার অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। এই সময় গুলিবিদ্ধ হলে তাকে আটক করে সেনাসদস্যরা। এরপর দ্রুত মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। মেক্সিকোর এই অঙ্গরাজ্যটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিলসহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর মাদক পাচারকারীদের ঘাঁটি।
সবচেয়ে বড় ফেন্টানিল পাচারকারী চক্র
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযান চলাকালে গোলাগুলির মধ্যে সেনাসদস্যদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। ওই সময় আহত আরও তিনজন পরে মারা যান, দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সাঁজোয়া যান, রকেট লঞ্চারসহ বিভিন্ন অস্ত্র জব্দ করা হয়। অন্যদিকে, সন্ত্রাসীদের গুলিতে সশস্ত্র বাহিনীর তিন সদস্য আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
১১ দিন আগে
ভেনিজুয়েলার ‘অবৈধ’ তেল রুখতে ভারত মহাসাগরে আরও একটি ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনীর অভিযান
ভারত মহাসাগরে আরও একটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অভিযান চালিয়ে সেটির দখল নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পেন্টাগন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা থেকে অবৈধ তেল সরবরাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ক্যারিবীয় সাগর থেকে জাহাজটিকে অনুসরণ করে মার্কিন বাহিনী। এরপর ভারত মহাসাগরে এসে সেটিতে চড়ে তারা।
ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) অপরিশোধিত তেল পাচারের জন্য দেশটি নকল পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারের একটি ‘ছায়া নৌবহর’-এর ওপর নির্ভর করে আসছিল।
গত ডিসেম্বরে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর অবরোধ জারি করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে জানুয়ারিতে এক মার্কিন সামরিক অভিযানে মাদুরোকে আটক করা হয়।
অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার উপকূল ছেড়ে কয়েকটি ট্যাঙ্কার পালিয়ে যায়, যার মধ্যে ভারত মহাসাগরে রাতভর যে জাহাজটিতে অভিযান চালানো হয় সেটিও ছিল। যুক্তদরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানায়, মার্কিন বাহিনী ভেরোনিকা-৩ (Veronica III) নামের জাহাজটিতে আরোহন করে ‘রাইট-অব-ভিজিট, সামুদ্রিক বাধা প্রদান ও তল্লাশি অভিযান’ পরিচালনা করেছে।
পেন্টাগন জানায়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জারি করা অবরোধ অমান্য জাহাজটি পালানোর চেষ্টা করছিল। আমরা এটিকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত অনুসরণ করেছি, দূরত্ব কমিয়ে এনে শেষ পর্যন্ত এটিকে থামাতেও পেরেছি।’
পেন্টাগনের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন সেনারা ট্যাঙ্কারটিতে আরোহন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের (ওএফএসি) ওয়েবসাইটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভেরোনিকা-৩ একটি পানামা নিবন্ধিত জাহাজ যা ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
তবে পানামা মেরিটাইম অথরিটি রবিবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, জাহাজটি আর তাদের নিবন্ধনে নেই। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই এর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
ট্রাঙ্কারট্র্যাকার ডটকম রবিবার এক্সে জানায়, গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে আটক করার দিন ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করে ভেরোনিকা-৩। জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি তেল ছিল।
২০২৩ সাল থেকে জাহাজটি রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত বলে জানায় সংস্থাটি।
ট্রাঙ্কারট্র্যাকার ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানুয়ারিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেছিলেন, তাদের সংস্থা স্যাটেলাইট চিত্র ও ভূপৃষ্ঠের ছবি ব্যবহার করে নথিভুক্ত করেছে যে, অবরোধ অমান্য করে অন্তত ১৬টি ট্যাঙ্কার ভেনেজুয়েলা উপকূল ছেড়ে গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ট্যাঙ্কার জব্দ করে আসছে। পেন্টাগন তাদের পোস্টে উল্লেখ করেনি যে ভেরোনিকা-৩ আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে কি না। পরে এক ইমেইলে এপিকে জানায়, পোস্টে যা বলা হয়েছে তার বাইরে তাদের কাছে দেওয়ার মতো অতিরিক্ত কোনো তথ্য নেই।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভারত মহাসাগরে আরেকটি ট্যাঙ্কারে, আকিলা-২ (Aquila II) অভিযান চালায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, জাহাজটির চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে তা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে আটকে রাখা হবে।
১৮ দিন আগে
কলোম্বিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, কংগ্রেস সদস্যসহ নিহত ১৫
কলোম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দেশটির কংগ্রেসের এক সদস্যসহ ১৫ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
নর্তে দে সান্তানদের প্রদেশের একটি গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থা সাতেনা জানায়, প্রদেশের কুরাসিকা এলাকার স্থানীয় কর্মকর্তারা বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হওয়ার খবর কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর যাত্রীদের অবস্থার মূল্যায়ন করতে একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়।
পরে কলোম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাস্থলে বিমানটি শনাক্ত করার পর অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, বিমানটির কোনো আরোহী বেঁচে নেই।’
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কর্মকর্তারা কিছু জানাননি, তবে এ বিষয়ে তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সাতেনার বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানটি বুধবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী কুকুতা বিমানবন্দর থেকে পাহাড়ঘেরা পৌর এলাকা ওকানিয়ার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। তবে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই আকাশযান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে বিমানটির শেষ যোগাযোগ হয়।
সাতেনা জানায়, বিমানটিতে দুজন ক্রু সদস্য ও ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন কাতাতুম্বো এলাকার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য দিয়োগেনেস কুইন্তেরো (৩৬)। নিহতদের তালিকায় কংগ্রেসে প্রার্থী সামাজিক নেতা কার্লোস সালসেদোও রয়েছেন।
কুইন্তেরো ছিলেন কলম্বিয়ার ভেনেজুয়েলা সীমান্তঘেঁষা উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দা। যেখানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তিনি সেখানকারই বাসিন্দা এবং একজন প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ছিলেন।
পেশায় আইনজীবী কুইন্তেরো ২০২২ সালে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের ১৬ জন সদস্যের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন, যারা কলোম্বিয়ার কয়েক দশক ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ লাখের বেশি ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এই আসনগুলো ২০১৬ সালে কলোম্বিয়া সরকার ও দেশের সবচেয়ে বড় গেরিলা গোষ্ঠী ফার্কের (FARC) মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে সৃষ্টি করা হয়।
কুইন্তেরোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার দল ইউ পার্টি জানিয়েছে, তিনি ছিলেন নিজ অঞ্চলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেবার প্রতি দৃঢ় দায়িত্ববোধসম্পন্ন এক নেতা।
কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘এই মৃত্যুগুলো আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তাদের পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। তাদের আত্মা শান্তি পাক।’
৩৬ দিন আগে
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ট্রাম্প-সমর্থিত নাসরি আসফুরা
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ট্রাম্প-সমর্থিত ব্যবসায়ী নাসরি আসফুরা। শপথ নেওয়ার পর তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অপরাধ দমন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবার মান উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যান্য দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকলেও কূটনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শপথ গ্রহণের পর ৬৭ বছর বয়সী নতুন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের প্রিয় হন্ডুরাসের প্রতিটি প্রান্তে বাস্তব সমাধান পৌঁছে দিতে যে পূর্ণ অঙ্গীকার প্রয়োজন, তা নিয়েই আমি দেশ পরিচালনা করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে হন্ডুরাসের এই রক্ষণশীল প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর আসফুরার ক্ষমতায় উত্থান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ভোট গ্রহণের পর গণনা শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। এরপর ফল ঘোষণায় দেখা যায়, খুব অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে জয় পান আসফুরা। নির্বাচনে কারসাজির অভিযোগ তোলেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
হন্ডুরাস কর্তৃপক্ষ জানায়, আসফুরা ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল প্রার্থী সালভাদোর নাসরাল্লা পান ৩৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট। নাসরাল্লা দাবি করে আসছেন, প্রকৃত প্রেসিডেন্ট তিনিই।
মঙ্গলবার আসফুরা বলেন, দক্ষতা বাড়াতে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের আকার ছোট করবেন এবং দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেবেন।
৩৭ দিন আগে
দুই দিনে শতাধিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ভেনেজুয়েলা
নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি হয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির কারাগারগুলো থেকে গত সপ্তাহের শেষ দুই দিনে বেশ কয়েকজন কয়েদিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মাদুরো বন্দি হওয়ার পর ওইসব ভিন্নমতাবলম্বীকে মুক্তি দিতে দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ফোরো পেনাল এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির সভাপতি আলফ্রেদো রোমেরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিকে পথে ফেরানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত ৮ জানুয়ারি থেকে মোট ২৬৬ জন রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। আর গত দুই দিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে অন্তত ১০০ জনকে।
গত ৩ জানুয়ারি একটি বিশেষ অভিযানে মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে তার স্থলাভিষিক্ত হন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। তিনিই বর্তমানে দেশটির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
এদিকে, নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ভেনেজুয়েলা তার রাজনৈতিক বন্দিদের দ্রুত মুক্তি দিচ্ছে, যা আগামী অল্প সময়ের মধ্যে আরও বাড়বে। এই শক্তিশালী মানবিক পদক্ষেপে সম্মত হওয়ায় আমি ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানাতে চাই!’
৩৮ দিন আগে
মেক্সিকোয় ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১১
মেক্সিকোর একটি ফুটবল মাঠে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দেশটির রাজধানী মধ্য মেক্সিকোর একটি ফুটবল মাঠে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সালামাঙ্কার মেয়র সেজার প্রিয়েতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ফুটবল ম্যাচের শেষে বন্দুকধারীরা সেখানে হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে একজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই হামলাকে শহরে চলমান ‘অপরাধের ঢেউয়ের’ অংশ আখ্যা দিয়েছেন মেয়র। সেই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিনি প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
গুয়ানহুয়াতো প্রদেশের প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, তারা এ ঘটনা তারা তদন্ত করছে এবং ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিচ্ছে।
গত বছর মেক্সিকোর গুয়ানহুয়াতোতে সর্বাধিক হত্যকাণ্ড ঘটেছে। সান্তা রোজা দে লিমা নামের স্থানীয় একটি অপরাধী দল সেখানকার শক্তিশালী জালিস্কোর নিউ জেনেরেশন কার্টেলের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে।
মেয়র বলেন, ‘দু্র্ভাগ্যজনকভাবে কিছু অপরাধী গোষ্ঠী কর্তৃপক্ষকে বশে আনতে চাচ্ছে। তবে তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।’
মেক্সিকো সরকারের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ১৭.৫ জনকে হত্যা করা হয়। এটি ২০১৬ সালের পর থেকে দেশটিতে সবচেয়ে কম হত্যাকাণ্ডের হার। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই তথ্য দেশটির সার্বিক অপরাধের চিত্র তুলে ধরতে পারেনি।
৩৯ দিন আগে
ভেনিজুয়েলার নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজের ওপর ট্রাম্পের ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ ঘোষণা
ভেনিজুয়েলায় প্রবেশকারী এবং সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সকল তেলের ট্যাঙ্কারের ওপর সর্বাত্মক অবরোধের নির্দেশ জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপ প্রয়োগ তৎপরতার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে অবরোধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতার অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনিজুয়েলার উপকূলবর্তী প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরে বিভিন্ন জাহাজের ওপর ইতোমধ্যে বেশ কিছু সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলা বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে ক্যারিবিয়ান সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ভেনিজুয়েলা উপকূল থেকে একটি তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, ট্যাঙ্কারটিতে ভেনিজুয়েলার প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডকে ‘প্রকাশ্যে চুরি’ এবং ‘আন্তর্জাতিক দস্যুবৃত্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অবরোধের ঘোষণা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ভেনিজুয়েলা মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধে অর্থায়নের জন্য এই তেল ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে (ভেনিজুয়েলা উপকূলে) সামরিক শক্তি আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় নৌবহর দিয়ে ভেনিজুয়েলাকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে। এই বহর আরও বড় হবে এবং তারা (ভেনিজুয়েলা) এমন এক ধাক্কা খাবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি... আজ আমি ভেনিজুয়েলায় আসা-যাওয়া নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সকল তেলের ট্যাঙ্কারের ওপর “সর্বাত্মক ও সম্পূর্ণ অবরোধ”-এর নির্দেশ দিচ্ছি।’
তবে কীভাবে এই অবরোধ কার্যকর করা হবে এবং গত সপ্তাহের মতো জাহাজ আটকানোর কাজে কোস্ট গার্ডকে ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ওই অঞ্চলে হাজার হাজার সৈন্য এবং একটি বিমানবাহী রণতরীসহ প্রায় বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
৭৯ দিন আগে
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কিউবার সাবেক অর্থমন্ত্রীর যাবজ্জীবন
কিউবার সাবেক অর্থমন্ত্রী আলেহান্দ্রো হিল ফের্নান্দেসকে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে কোনো শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ ঘটনা এটি।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কিউবার সুপ্রিম কোর্টের পপুলার ট্রাইব্যুনাল এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আলাদা মামলায় ঘুষ, নথি জালিয়াতি ও কর ফাঁকিসহ অন্যান্য অপরাধে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় হিলকে আরও ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হিল। প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রীও করা হয়।
তবে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাকে পদচ্যুত করা হয়। ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, হিল ‘গুরুতর ভুল’ করেছেন এবং কোনোভাবেই দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
কিউবার সর্বোচ্চ আদালতও সাবেক এই মন্ত্রী ঠিক কী করেছেন বা কার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন—তা জানায়নি।
২০০৯ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্লোস লাগে ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলিপে পেরেস রোকেকে বহিষ্কারের পর কিউবায় এটি সবচেয়ে আলোচিত মামলা। তাদের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ থাকলেও তাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি।
২০২১ সালে কিউবার মুদ্রা ও আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রমের মুখপাত্র ছিলেন হিল। তৎকালীন সরকারের পক্ষে সে সময় দেশটির মুদ্রাব্যবস্থা একীভূত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে আগে থেকেই চলতে থাকা অর্থনৈতিক সংকট ও নিত্যপণ্যের ঘাটতিতে ভুগতে থাকা কিউবায় তখন মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করে।
সৃপ্রিম কোর্ট জানায়, হিল নিজ স্বার্থে প্রদত্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি অর্থ গ্রহণ করেছেন এবং অন্য কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছেন।
৮৭ দিন আগে