ইউএস-ও-কানাডা
ইরানে যুদ্ধ সম্প্রসারণে ট্রাম্পকে সিনেটের সমর্থন
মার্কিন সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্দেশ্যে আনা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব’ রিপাবলিকানরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) আনা প্রস্তাবটি ৪৭-৫৩ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলাফল মূলত দলীয় মেরুকরণ অনুযায়ীই এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
এ আইনটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পরবর্তী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব বজায় রাখা জরুরি; বিশেষ করে যখন কোনো স্পষ্ট যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা তীব্রতর হচ্ছে।
এই ভোটাভুটির ফলে আইনপ্রণেতারা এমন একটি সংঘাতের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানালেন, যা মার্কিন সেনা সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং যার সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক পরিণতি রয়েছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব বৃহস্পতিবার সকালে ভোটের জন্য ওঠার কথা রয়েছে, তবে সেখানেও এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
সিনেটের এই সিদ্ধান্তটি যুদ্ধ বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজনকেই প্রতিফলিত করে। সমালোচকরা যেখানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করছেন, সেখানে সমর্থকরা প্রশাসনের পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে রক্ষা করছেন।
১ দিন আগে
প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিতকরণে ভোট দেবেন মার্কিন সিনেটররা
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রস্তাবিত বিষয়ে বিতর্ক স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় শুরু হবে এবং ভোট হবে বিকেল ৪টায়।
যথাযথ আইনি অনুমোদন ছাড়া মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। অনেক আইনপ্রণেতা ও মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এ হামলার সমালোচনা করছেন।
ডেমোক্রেট আইনপ্রনেতারা দাবি করেন, কংগ্রেসের সংবিধানিক ভূমিকা পুনঃস্থাপনের জন্য ভোট প্রয়োজন, যা সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদনের অধিকার নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা বাতিল করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এটি পাস করা দুরূহ হয়ে উঠবে। আইনপ্রণেতারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য ভোট গ্রহণের আয়োজন করছেন।
এদিকে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
কুপার বলেছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এ প্রজন্মে সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক অভিযান। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজারেরও অধিক সৈন্য, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুইটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং বোমারু বিমান।
হামলায় ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং ১৭টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলায় ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীকে লক্ষ্য করেছে। তবে কুপার দাবি করেছেন, তেহরানের হামলার ক্ষমতা কমতে শুরু করেছে।
মার্কিন সমারিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারও প্রভাবিত হচ্ছে।
২ দিন আগে
‘সংঘাত গভীরতর’, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর তিনি দেশটির অবশিষ্ট নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) তিনি এ কথা জানান। এমন সময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন যখন ইরানের শহরগুলোতে দ্বিতীয় দিনের ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলছে এবং তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভীতি তৈরি করেছে।
আজ (সোমবার) লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। আগের দিন খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হিজবুল্লাহ।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেন, বর্তমানে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না। আমরা নিজেদের রক্ষা করছি এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সংঘাত শুরু করেনি। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা চালানোর খবর অস্বীকার করেন।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি শনিবার নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জানান যে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা একাধিক শহরের বেসামরিক এলাকাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বোমাবর্ষণের দ্বিতীয় দিনের পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণের শহর মিনাবের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা হামলায় ১৬৫ জন নিহত হয়েছে।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতদের মধ্যে খামেনি ছিলেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে শাসন করছিলেন তিনি।
বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ গত কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করছিল।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, খামেনি যখন তেহরানে তার কার্যালয়ে শীর্ষ প্রতিরক্ষা সহযোগীদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন, তখন সিআইএ ইসরায়েলকে সে তথ্য দেয়, যা হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতৃত্বকে অপ্রস্তুত রাখতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি কৌশল অবলম্বন করেছিল। অভিযানের দিন সকালে সেনা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছিল, তারা যেন তাদের গাড়িগুলো নিয়মিত জায়গায় পার্ক না করেন, যাতে ইরানের গোয়েন্দারা কিছু বুঝতে না পারে। এমনকি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বাড়িতেই অবস্থান করছেন—এমন ভুল তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কর্মকর্তাদের বরাতে চ্যানেলটি জানিয়েছে, হামলার প্রথম ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ৩০ জন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যা করে।
৪ দিন আগে
‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে’ কিউবা দখলের ‘আবদার’ ট্রাম্পের
বিএনপি সরকার গঠনের পর আগের সরকারের সময়ে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া সচিবদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কয়েকজন সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক শীর্ষ পদে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া নয়, এমন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবদের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। এরা সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রায় সবার মেয়াদই চলতি বছরের শেষের দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওইদিন গত সরকারের সময়ে সচিব হওয়া তিনজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রশাসনে ১৩টি সচিবের পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের পদ খালি রয়েছে।
এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সচিব পদমর্যাদায় তিনজন সদস্যের পদ খালি রয়েছে। ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য পদেও কোনো কর্মকর্তা নেই।
আবার জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদও শূন্য রয়েছে। মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) জ্যেষ্ঠ সচিবদের পদটিও খালি রয়েছে।
এসব পদে নিয়োগ পেতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। সরকার আস্থাভাজন হিসেবে অবসরে যাওয়া কিছু কর্মকর্তাকে এসব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে ফেরাতে চাইছে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র।
তবে সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের উদ্যোগের কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে এক বছরের চুক্তিতে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার এক দিন আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিল করা হয়। তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
৬ দিন আগে
ট্রাম্প আরোপিত ‘বেআইনি’ শুল্কের ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ফেরতের দাবি
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আদায়কে বেআইনি বলে রায় দেওয়ার পর দেশটির তিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। অবৈধভাবে শুল্কারোপের মাধ্যমে ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সংগ্রহ করেছে দাবি করে এ বিষয়ে বিল উত্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ওরেগনের সিনেটর রন ওয়াইডেন, ম্যাসাচুসেটসের এড মার্কি এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের জিন শাহিন একটি বিল উত্থাপন করতে চলেছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত প্রতিরক্ষা বিভাগকে ১৮০ দিনের মধ্যে ওই অর্থ ফেরত এবং ওই অর্থের ওপর উপযুক্ত সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, ছোট ব্যবসাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং আমদানিকারক, পাইকার ও বড় কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকদের কাছে সেই অর্থ পৌঁছে দিতে হবে।
ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ার পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের হিসাব অনুযায়ী, মোট শুল্ক ফেরতের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা গড়ে প্রত্যেক মার্কিন পরিবারের জন্য প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলারের সমান।
তবে ফেরত দেওয়ার কাঠামো নির্ধারণ করা কঠিন হবে, কারণ শুল্কের ব্যয় সরাসরি গ্রাহকদের ওপর পড়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকারকেরা তা আংশিকভাবে নিজেরা বহন করেছেন বা পণ্যের দামের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।
ওরেগনের সিনেটর ওয়াইডেন বলেন, ট্রাম্পের অবৈধ কর পরিকল্পনা এরই মধ্যে মার্কিন পরিবার, ছোট ব্যবসা ও উৎপাদন খাতকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। একের পর এক নতুন শুল্কের চাপে পড়েছেন তারা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ সমস্যার সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হলো, দ্রুত ছোট ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীদের হাতে অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া।
যদিও বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তারপরও ডেমোক্র্যাটরা যে জনমতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছেন, এ বিষয়টি দলটির মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
অপরদিকে, সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার রায় দেওয়ার পরও ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক ফেরত দেওয়ার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।
এই রায়ের পর আগামী নভেম্বরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটরা জনগণকে জানাতে শুরু করেছেন যে, ট্রাম্প অবৈধভাবে কর বাড়িয়েছেন এবং এখন সেই অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেটর শাহিন বলেন, অতিরিক্ত শুল্কের কারণে বাজারে পণমূল্যের ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেআইনিভাবে আদায় করা শুল্ক জনগণকে ফেরত দেওয়া।
ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর মার্কি বলেন, ছোট ব্যবসায় মুলধন থাকে না বললেই চলে এবং তাদের জন্য অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের হাত বাঁধা, কারণ কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হলে তা আদালতের পরবর্তী মামলার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত।
রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ক ব্যবহার করে বাস্তব ফল এনে দিয়েছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা শুধু কথার খই ফোটাচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প ও জনগণের সাফল্য খর্ব করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও আশ্চর্য নয়।
ডেমোক্র্যাটদের এ বার্তা রিপাবলিকানদের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে, কারণ সরকার কেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অর্থ ফেরত দিচ্ছে না—এ প্রশ্নের জবাব দিতে তাদের বেগ পেতে হতে পারে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা গত বছর ট্রাম্পের সই করা আয়কর ছাড়ের আইনকে সামনে রেখে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। সে সময় তারা বলেছিলেন, এ বছরের কর ফেরত জনগণকে সহায়তা করবে।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনএনকে বলেছেন, অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলা ‘ভুল উপস্থাপন’, কারণ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। প্রশাসনের অবস্থান হলো, ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা বিচারব্যবস্থায় চলমান মামলাগুলোর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে; প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে নয়।
তিনি বলেন, এটি প্রশাসনের বিষয় নয়, বিষয়টি নিম্ন আদালতের। অর্থ ফেরত বিষয়ে আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করবেন বলেও জানান।
ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর বিস্তৃত শুল্ক আরোপের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমদানির ওপর করারোপের তার ক্ষমতা সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে, নতুন ফেডারেল রাজস্ব আনতে এবং বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে সহায়তা করেছে।
এর আগে, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই অর্থ ফেরত দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বাড়বে এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ফেরত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, সম্ভবত আগামী দুই বছর এ নিয়ে মামলা চলবে, পরে সময়সীমা সংশোধন করে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা পাঁচ বছর পর্যন্ত আদালতেই থাকব।
১০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ফের তুষারঝড়ের সতর্কতা, পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ ঝড়ের পূর্বাভাস
দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা একটি তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি, বোস্টন ও নিউওয়ার্ক সিটিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটির পূর্ব উপকূলবাসিরা ভারী তুষারপাত ও ভয়ঙ্কর ঝড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা দপ্তর জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে আসন্ন ঝড়টি তুলনামূলক হালকা বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে এটির তীব্রতার মূল্যায়ন বাড়ানো হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, অনেক এলাকায় ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। এ কারণে লং আইল্যান্ড, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, মেরিল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটসের উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তুষারঝড় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, নিউওয়ার্ক ও নিউ জার্সির কিছু অংশে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ কোডি স্নেল বলেন, ‘ভারী তুষারপাত ও বড় ধরনের প্রভাব নিয়ে আসা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ঝড় আমরা প্রায়ই দেখি। তবে এত বড় জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে এ মাত্রার ঝড় কয়েক বছর ধরে দেখা যায়নি।’
তিনি জানান, ঝড়টি স্থানীয় সময় রবিবার সকালে ওয়াশিংটন এলাকার আশপাশে আঘাত হানবে। এরপর ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্ক সিটির দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যায় বোস্টনে পৌঁছাবে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, কিছু এলাকায় শুরুতে বৃষ্টিপাত দিয়ে ঝড়টি শুরু হতে পারে, পরে তা আরও তীব্র হবে। রাতে সবচেয়ে বেশি তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে এবং কিছু এলাকায় কখনও কখনও ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ ইঞ্চি (৫ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত তুষার পড়তে পারে। তবে সোমবার বিকেলের মধ্যে তুষারপাত ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫৬ কিলোমিটার বেগে স্থায়ী বাতাসসহ এই ঝড়ের মধ্যে ভ্রমণ বিপজ্জনক, এমনকি অসম্ভবও হয়ে পড়তে পারে। তুষারপাতের তীব্রতা ও ঝড়ো বাতাসের কারণে বিচ্ছিন্নভাবে গাছের ডাল ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কাও রয়েছে।
এর আগে যখন এই ঝড়কে তুলনামূলক সীমিত প্রভাবের বলে মনে করা হচ্ছিল, সে সময় থেকেই এর জন্য প্রস্তুতি নিতে কর্মকর্তারা দ্রুত তৎপরতা শুরু করেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে বড় তুষারপাত মোকাবিলায় যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। তবে সোমবার স্কুল খোলা হবে কি না সে বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মেয়র আরও বলেন, ‘শুক্রবার আমরা ধারণা করছিলাম হয়ত ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি তুষারপাত হতে পারে; কিন্তু খুব দ্রুত সেই পূর্বাভাস বদলে গেছে। তাই আমরা হালনাগাদ ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে চাই।’
তিনি জানান, নিউইয়র্ক শহর বাইরে থেকে অতিরিক্ত তুষার পরিষ্কারের সরঞ্জাম এনেছে। যেসব বাসস্টপ ও ক্রসওয়াক পরিষ্কার করা দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করতে জিওকোডিং ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানোরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে ওই একই অঞ্চলে আঘাত হানা তুষারঝড়ের বরফ জমাট অবশিষ্টাংশ গলতে শুরু করার মধ্যেই নতুন এই ঝড়টি এগিয়ে আসছে।
নিউ জার্সির কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্যাসিনোয় যাওয়া দর্শনার্থীদের রাস্তায় না বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব নিচু এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বেশি, সেখানকার বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শহরের ফায়ার সার্ভিস প্রধান ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সমন্বয়ক স্কট ইভান বলেন, ‘এমন প্রায় দুই ডজন রাস্তার নাম বলতে পারি যেখানে আমরা পানি জমবে বলে জানি। তার ওপর তুষারও পড়বে। ফলে দেরি হয়ে যাওয়ার আগে আপনি তা দেখতে পারবেন না, তাই দয়া করে ঘরে থাকুন।’
বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক গির্জা রবিবারের প্রার্থনা ও অন্যান্য কার্যক্রম বাতিল করেছে। এর ক্ষতিপূরণ বা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নিউ জার্সির হাউয়েলে অবস্থিত ‘সেন্ট ভেরোনিকা প্যারিশ’ শনিবার সন্ধ্যায় একটি অতিরিক্ত বিশেষ প্রার্থনার (Mass) আয়োজন করেছে।
১২ দিন আগে
আদালতের রায়ের পরও শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের
গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বিস্তৃত আমদানি শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। তবে এর পরের দিনই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করতে চান।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আদালত তার ক্ষমতায় লাগাম টানলেও তিনি শুল্ক বাড়ানোর নীতি অব্যাহত রাখতে চান। বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি নতুনভাবে সাজানো এবং আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের প্রধান হাতিয়ার হিসেবেই তিনি শুল্ককে ব্যবহার করে আসছেন।
শুক্রবার আদালত জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রায় সব দেশের ওপর ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়। তবে বিপরীতে তিনি জানিয়েছেন, তুলনামূলক সীমিত হলেও ভিন্ন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন তিনি।
আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ভাষণ দেবেন। তিনি ইতোমধ্যে এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যার মাধ্যমে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ওইদিন থেকেই বিশ্বব্যাপী আমদানির ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা যাবে। তবে আইন অনুযায়ী, এই শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যদি না আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
তবে শুল্ক ১৫ শতাংশ নির্ধারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প হালনাগাদ আদেশে কবে সই করবেন—এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কিছু জানায়নি।
ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, আগের দিনের ‘অযৌক্তিক, দুর্বলভাবে রচিত এবং চরমভাবে আমেরিকাবিরোধী’ শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার ভিত্তিতেই তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে রায় দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের এককভাবে শুল্ক নির্ধারণ বা পরিবর্তন করা অসাংবিধানিক। কারণ কর আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বাণিজ্য বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন এমন ফেডারেল আইনের অন্যান্য ধারার মাধ্যমেও তিনি শুল্ক আরোপের পথ খুঁজছেন।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসে ‘আইনসম্মত নতুন শুল্ক’ নির্ধারণ ও জারি করবে আমাদের প্রশাসন যা আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার আমাদের অসাধারণ সফল প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্কিন প্রেডিডেন্ট তার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বিচারপতিদের ওপর অস্বাভাবিক ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছেন। এমনকি তার প্রথম মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি নিল গোরসাচ এবং অ্যামি কোনি ব্যারেটকেও তিনি ছাড়েননি।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এই পরিস্থিতি তাদের পরিবারের জন্যও একটি লজ্জাজনক বিষয়।
ওইদিন রাতে তিনি সামাজিকমাধ্যমে গরসাচ, ব্যারেট ও প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসকেও সমালোচনা করেন।
পরদিন (শনিবার) সকালে আরেক পোস্টে তিনি বিচারপতি ব্রেট কাভানফকে ‘নতুন নায়ক’ আখ্যা দেন, যিনি এই রায়ের বিপক্ষে ৬৩ পৃষ্ঠার একটি ভিন্নমত পোষণকারী নোট লিখেছেন। এ ছাড়াও তিনি বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস এবং স্যামুয়েল আলিতোরও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, কারও মনেই সন্দেহ নেই যে তারা আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলতে চান।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিতে শুল্ক ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, মার্কিন উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা এবং মাদক পাচার দমন বা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত বন্ধে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তবে তিনি বারবার বলেছেন, বিদেশি সরকারগুলোই এসব শুল্ক দেবে, মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়।
ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের আরোপিত আমদানি শুল্ক থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত কোষাগারে ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি জমা হয়েছে। এই অর্থ জাতীয় ঋণ পরিশোধ বা করদাতাদের লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা এই বিপুল অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে, ট্রাম্পের নতুন এই শুল্ক হুমকির পর ডেমোক্র্যাটরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হাউস ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেন, উচ্চ শুল্ক ঘোষণা করে ট্রাম্প ‘আমেরিকান জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছেন।’
তাদের ভাষ্য, শুল্ক অবৈধ ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি খরচ বাড়ানোর পথ খুঁজছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেন, তিনি আপনাদের কথা ভাবেন না।
১২ দিন আগে
হকি ম্যাচ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা, বন্দুকধারীসহ হতাহত ৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের রোড আইল্যান্ডের একটি যুব হকি ম্যাচ চলাকালে বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
পটাকেটের পুলিশের প্রধান টিনা গনসালভেস সাংবাদিকদের জানান, সোমবার বিকেলে হকি খেলার মাঠে মূলত বন্দুক হামলাটি হয়। এ সময় মাঠে উপস্থিত এক ব্যক্তি হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হামলাকারীদের ভেতর একজন মূলত তার আত্মীয়ের খেলা দেখতে ওই মাঠে এসেছিলেন। পরে তিনি নিজের গুলিতেই নিজে নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি উদ্দেশ্যমূলক হামলা। পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।’
হামলাকারীর নাম রবের্ত দোরগান, এই লোকটি রবের্তা এসজোসিত নামেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে বলে তিনি জন্মগ্রহণ করেন বলে জানান পুলিশপ্রধান টিনা গনসালভেস।
হামলাকারী বা নিহতদের বিষয়ে খুব বেশি তথ্য দেননি পটাকেট পুলিশ। নিহত দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক ধারণার কথা জানিয়েছে তারা।
টিনা আরও জানান, তদন্তদল ঘটনাস্থল ডেনিস এম লিঞ্চ আরেনায় পৌঁছে সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকি সেখানকার ভিডিও ফুটেজগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশিকিছু ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দ শোনার পর খেলোয়াড়রা মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। দর্শকরা হুড়োহুড়ি করে আসন ছেড়ে পালাতে ব্যস্ত।
স্টেডিয়ামের বাইরের ভিডিওতে দেখা যায়, বাসে চড়ে স্বজনদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আগে আতঙ্কিত পরিবারগুলো খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রায় দুই মাস আগে রোড আইল্যান্ডে আরেকটি বন্দুক হামলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বন্দুকধারী সে সময় দুই শিক্ষার্থীকে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হন।
সেদিনের ঘটনায় পরবর্তী সময়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক অধ্যাপককেও গুলি করে হত্যা করেন হামলাকারী। এরপর নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি গুদামের পাশে ৪৮ বছর বয়সী ক্লাউদিও নেভেস ভালেন্তেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। নিজের গুলিতেই তিনি আত্নঘাতী হয়েছিলেন বলে ধারণা ছিল পুলিশের।
পটাকেটের মেয়র ডন গ্রেবিয়েন বলেন, ‘যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও বিষয়টি মর্মান্তিক।’
পটাকেট শহরটি প্রভিডেন্সের ঠিক উত্তরে এবং ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য সীমান্তের একদম নিচে অবস্থিত। ৮০ হাজারেরও কম জনসংখ্যার এই শহরটি খেলনা, বোর্ড গেম ও মিডিয়া বিনোদন নিয়ে কাজ করা বহুজাতিক কোম্পানি হাসব্রোর সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত।
১৭ দিন আগে
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ১০
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ আটজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা একটি বাড়িতে আরও দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় প্রশাসন এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানিয়েছে, টাম্বলর রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে ওই হামলার ঘটনায় ২৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার টাম্বলর রিজ শহরটি ভ্যাঙ্কুভার থেকে এক হাজার কিলোমিটার উত্তরে, আলবার্টা সীমান্তের কাছে অবস্থিত। প্রাদেশিক সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, টাম্বলর রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
আরসিএমপির সুপারিনটেনডেন্ট কেন ফ্লয়েড সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তকারীরা হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করেছেন, তবে এখনই তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
হামলার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেন বা কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা এখনো বুঝতে পারছি না। (ওই বাড়িতে) নিহতরা কীভাবে হামলাকারীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’
আরসিএমপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গুলির ঘটনার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশ হামলার উৎস খুঁজে বের করতে স্কুলটিতে প্রবেশ করে। সেখানে তল্লাশির সময় কর্মকর্তারা একাধিক ভুক্তভোগীকে খুঁজে পান। হামলাকারী বলে ধারণা করা একজন ব্যক্তিকেও সেখানে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ব্যক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজনসহ সাতজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
পিস রিভার সাউথ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানায়, গুলির ঘটনায় সেকেন্ডারি স্কুল ও টাম্বলর রিজ এলিমেন্টারি স্কুল, দুটিতেই ‘লকডাউন ও সিকিউর অ্যান্ড হোল্ড’ জারি করা হয়েছে।
পিস রিভার সাউথ এলাকার সংসদ সদস্য ল্যারি নিউফেল্ড কানাডার পার্লামেন্ট থেকে সাংবাদিকদের বলেন, ওই এলাকায় পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ অতিরিক্ত বাহিনী ও সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তবে চলমান অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি।
ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রিমিয়ার (প্রাদেশিক সরকারপ্রধান) ডেভিড এবি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ রাতে টাম্বলর রিজের যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের জন্যে আমরা গভীল সমবেদনা জানাচ্ছি। এই অকল্পনীয় হৃদয়বিদারক ঘটনা পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সামনের দিনগুলোতে কমিউনিটির সদস্যদের জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা বাড়লেও কানাডায় এ ধরনের ঘটনা বিরল।
মঙ্গলবারের এই হামলা ২০২০ সালের পর কানাডায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংস ঘটনা। ওই বছর নোভা স্কোশিয়ায় এক বন্দুকধারী ১৩ জনকে গুলি করে হত্যা করেন এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও ৯ জন নিহত হন।
ওই ঘটনার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে কানাডা সরকার। সম্প্রতি তাদের দৃষ্টিতে আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত সব ধরনের বন্দুকের ওপর নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
২৩ দিন আগে
গর্ভবতী অবস্থায় নারী কাঁচা দুধ পান করায় নবজাতকের মৃত্যু!
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে এক নকজাতকের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গর্ভাবস্থায় ওই নারী অপরিশোধিত কাঁচা দুধ পান করেছিলেন। তা থেকে সংক্রমণেই নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে চলতি সপ্তাহজুড়ে মানুষকে পাস্তুরিত নয় এমন দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলতে সতর্ক করেছেন নিউ মেক্সিকোর কর্মকর্তারা।
সাম্প্রতি ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ নামে স্থানীয় পর্যায়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আন্দোলন শুরু করেছেন স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র। ওই আন্দোলনের প্রভাবে কাঁচা দুধের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচা দুধের বিক্রিও বেড়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে মৃত নবজাতক ও তার পরিবারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। অবশ্য এখন পর্যন্ত শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তবে অপাস্তুরিত দুধই শিশুটির রোগে সংক্রমিত হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য উৎস ছিল বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেছেন, তদন্তের সময় সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ ধারণা করা হচ্ছে। শিশুটির শরীরে সংক্রমণের সময় এবং গর্ভাবস্থায় তার মা কাঁচা দুধ পান করেছিলেন এমন তদন্তে উঠে এসেছে।
কাঁচা দুধে লিস্টেরিয়াসহ বেশ কয়েকটি রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে। এটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা মায়ের গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, অকাল প্রসব অথবা নবজাতকের মধ্যে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
২৯ দিন আগে