প্রযুক্তির-খবর
অনলাইন: ১৬০০ কোটি ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য ফাঁস
অনলাইনে এক হাজার ৬০০ কোটি ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে জানিয়েছে সাইবারনিউজ নামের একটি গবেষণা সংস্থা।
সেগুলো বিভিন্ন ডেটাসেটে একত্রিত হয়েছে। এতে সাইবার অপরাধীরা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টে সহজেই প্রবেশ করতে পারছে।
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সাইবারনিউজ জানায়, গবেষকরা ৩০টি আলাদা ডেটাসেট শনাক্ত করেছেন, যাতে মোট এক হাজার ৬০০ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হওয়া তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুগল, ফেসবুক, অ্যাপলসহ জনপ্রিয় অনেক প্ল্যাটফর্মের পাসওয়ার্ড।
এক হাজার ৬০০ কোটি ব্যবহারকারী সংখ্যাটি পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। ফলে ধরে নেওয়া হচ্ছে যে, ব্যবহারকারীদের কয়েকটি অ্যাকাউন্টের তথ্য একাধিকবার ফাঁস হয়েছে।
সাইবারনিউজ বলছে, ‘এতে অনেক ডুপ্লিকেট ডেটা রয়েছে এবং তাই আসলে কতজন মানুষের তথ্য ফাঁস হয়েছে; তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়।’
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ফাঁস কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপর হওয়া সাইবার আক্রমণের ফল নয়; বরং অনেক সময় ধরে বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি করা তথ্য একসাথে করে কিছু সময়ের জন্য অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। তখনই সেগুলো খুঁজে পান সাইবারনিউজের গবেষকরা।
আরও পড়ুন: মাথা-ঘাড়ের ক্যানসারে দ্বিগুণ কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কার
সন্দেহের তীর ইনফোস্টিলার ম্যালওয়ারের দিকে
এই ধরনের ফাঁসের পেছনে সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে গবেষকরা ‘ইনফোস্টিলার’ নামক ম্যালওয়্যারকে দায়ী করেছেন। এটি এমন এক ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার, যা ব্যবহারকারীর ডিভাইসে ঢুকে সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে।
তবে এই ফাঁস হওয়া তথ্য কারা ব্যবহার করছে বা কোথায় ব্যবহার হচ্ছে তা এখনো জানা যায়নি।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বে সাইবার হামলা ক্রমেই বাড়ার কারণে ‘সাইবার হাইজিন’ বা সাইবার নিরাপত্তা চর্চা বজায় রাখাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।
করণীয় কী?
তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা থাকলে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে— পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন সাইটে ব্যবহার না করা; পাসওয়ার্ড ম্যানেজার বা পাসকি ব্যবহার করা, যাতে নিরাপদভাবে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা যায়; দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু করা। এটি মোবাইলফোন, ইমেইল বা ইউএসবি-কী এর মাধ্যমে আরও একটি নিরাপত্তার স্তর যোগ করে।
২৫৮ দিন আগে
বিভিন্ন উৎসবে ড্রোন শোয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে যে কারণে
২০২৪ সালের নববর্ষের রাতে নিউইয়র্কে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আন্ডারউড দম্পতি। তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার শেষে ছিল একটি চমক। এক-দেড় শ ড্রোন রাতের আকাশে উড়িয়ে বিভিন্ন রঙের আলোকচ্ছটায় বর-কনের ছবি ফুটে ওঠে।
মিস্টার আন্ডারউড বেসবলের ভক্ত হওয়ায় ড্রোন দিয়ে একজন বেসবল খেলোয়াড়ের বল মারার দৃশ্যও চিত্রণ করা হয়। তাছাড়া, একটি হীরার আংটি একটি আঙুলে পরানো হচ্ছে, এমন দৃশ্যও দেখানো হয় ড্রোনে।
বিবিসিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের বিয়ের রাতের ড্রোন প্রদর্শনীর দৃশ্য এভাবে বর্ণনা করছিলেন আন্ডারউড-পত্নী।
তবে এরকম প্রদর্শনী এখন আর নতুন নয়। বিয়েসহ বিভিন্ন উৎসবে হরহামেশাই দেখা যায় ড্রোনের কীর্তি।
প্রযুক্তির উন্নতির ধারায় সবশেষ সংযোজনগুলোর মধ্যে অন্যতম এই ড্রোন প্রদর্শনী। একসময় যা ছিল বিরল, এখন তা জন্মদিন, বিয়ে থেকে শুরু করে বড় বড় ক্রীড়া অনুষ্ঠানে পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। এমনকি কিছু থিম পার্কে নিয়মিতভাবে প্রতিদিন ড্রোন প্রদর্শনী হয়।
ইউরোপ-আমেরিকা জয় করে ভারতীয় উপমহাদেশেও তা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই তো সেদিন, পয়লা বৈশাখের সন্ধ্যায় ঢাকাতেও দেখা মিলল অভিনব এক ড্রোন প্রদর্শনীর। সেদিন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার আকাশে জুলাই অভ্যুত্থানের থিমে ফুটিয়ে তোলা হয় নানা দৃশ্য। সেই সঙ্গে ছিল আরও কত কী!
আরও পড়ুন: মাথা-ঘাড়ের ক্যানসারে দ্বিগুণ কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কার
২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাস্টনবারি মিউজিক ফেস্টিভ্যালে প্রথম ড্রোন প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত অক্টোবরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ড্রোন প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় চীনে। এতে অংশ নেয় মোট ১০ হাজার ২০০টি ড্রোন, যা আগের মাসেই গড়া একটি রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল।
‘দ্য ড্রোন গার্ল’ নামে পরিচিত ড্রোন পাইলট ও সাংবাদিক স্যালি ফ্রেঞ্চ বলেন, ‘ড্রোন প্রদর্শনী অসাধারণ শিল্পকর্ম। বর্তমানে বেসবল খেলা, করপোরেট সম্মেলন এমনকি সমুদ্রবন্দরে নতুন ক্রুজ লঞ্চ উদ্বোধনের মতো অনুষ্ঠানেও ড্রোন প্রদর্শনী হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে এটি আরও উন্নত হয়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘কিছু প্রদর্শনীতে হাজার হাজার ড্রোন থাকে যা দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে চিত্র বা অ্যানিমেশন তৈরি করা সম্ভব। আমি একবার একটি স্টার ওয়ার্স থিমের ড্রোন শো দেখেছিলাম, যেখানে পুরো একটি যুদ্ধ দেখানো হয়েছিল।’
স্যালির মতে, ড্রোন প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হতে পারে খরচ। যুক্তরাজ্যে প্রতিটি ড্রোনের জন্য প্রায় ৩০০ ডলার (প্রায় ২২০ পাউন্ড), বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩৬ হাজার টাকার বেশি খরচ হয় বলে জানান তিনি।
লাটভিয়াভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসপিএইচ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ৫০০টি ড্রোনের একটি প্রদর্শনীর খরচ দাঁড়ায় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় দুই কোটি টাকা।
২৬৯ দিন আগে
মাথা-ঘাড়ের ক্যানসারে দ্বিগুণ কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কার
মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতির দ্বিগুণ কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কারের দাবি করেছেন একদল গবেষক।
সম্প্রতি আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির বার্ষিক সম্মেলনে এই সংক্রান্ত গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়। এই আবিষ্কারকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে দুই দশকের সবচেয়ে যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে।
নতুন আবিষ্কৃত ইমিউনোথেরাপি ওষুধ পেমব্রোলিজুম্যাব শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে। এটি রোগীর দেহের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিনকে লক্ষ্য বানিয়ে কাজ করে, যা ক্যানসার কোষ ধ্বংসে সহায়তা করে।
একটি পরীক্ষামূলক গবেষণায় (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত ওষুধটি কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ৫ বছর পর্যন্ত ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অথচ, প্রচলিত চিকিৎসার সঙ্গে দেওয়া হলে সেটি ৩০ মাস পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
এই পরীক্ষায় ২৪টি দেশের ১৯২টি এলাকা থেকে ৭০০ জন রোগী অংশগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন বিভাগের গবেষকদল এই গবেষণা পরিচালনা করেন।
এতে সহ-গবেষক ও অনকোলজির অধ্যাপক ড. ডগলাস অ্যাডকিনস বলেন, ‘এই প্রথম এ রকম কোনো ওষুধে এমন প্রভাব দেখা গেছে। এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও চমকপ্রদ সাফল্য।
ক্যানসার বা ক্যানসারজনিত রোগের গবেষণা, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনকোলজি শাখা। এই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের অনকোলজিস্ট বলা হয়।বিশ্বব্যাপী গবেষকরা এরমধ্যেই ওষুধটি মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের আধুনিক প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছেন।
প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ এই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। ৭১৪ জন রোগীর ওপর চালানো এই ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় ৩৬৩ জনকে পেমব্রোলিজুম্যাব দেওয়ার পরে প্রচলিত চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বাকি ৩৫১ জনকে শুধু প্রচলিত চিকিৎসা— টিউমার অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচারের পর রেডিওথেরাপি, মাঝে মাঝে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের প্রচলিত চিকিৎসা গত ২০ বছরে বদলায়নি। এসব রোগীর অধিকাংশ পাঁচ বছরও বাঁচেন না।
এই ইমিউনোথেরাপি বিশেষ করে পিডি-এল১ নামের ইমিউন মার্কারের (মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী জৈবিক উপাদান বা প্রোটিন) উচ্চমাত্রায় থাকলে বেশি ভালো কাজ করেছে। তবে সব ধরনের গলা ও মুখের ক্যানসার আক্রান্তদের ক্ষেত্রেই এটি রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় বা ক্যানসার কোষ ছড়ানো বন্ধ করেছে।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের বায়োলজিকাল ক্যানসার থেরাপির অধ্যাপক কেভিন হ্যারিংটন যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেন। এই পরীক্ষায় অর্থায়ন করেছে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এমএসডি।
তিনি বলেন, ‘এই ইমিউনোথেরাপি যেসব রোগীর ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে বা ফিরে এসেছে, তাদের জন্য দারুণ কার্যকর। তবে এবারই প্রথমবারের মতো নতুন রোগীদের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।’
‘ক্যানসার কোষ ছড়ানো শুরু হলে এর চিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তবে, ইমিউনোথেরাপি ক্যানসার কোষ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। এই গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে— পেমব্রোলিজুম্যাব রোগীদের প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় অনেক বেশি সময় রোগমুক্ত অবস্থায় রাখে। যাদের শরীরে ইমিউন মার্কার বেশি, সেসব রোগীর ওপর এটি সবচেয়ে ভালো কাজ। তবে আশার কথা হলো, ইমিউন মার্কারের মাত্রা যা-ই হোক না কেন, এই ওষুধটি মাথা ও গলার ক্যানসারে আক্রান্ত সব রোগীর ক্ষেত্রেই চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করেছে।’
ডার্বিশায়ারের ৪৫ বছর বয়সী লরা মার্সটন ২০১৯ সালে স্টেজ-৪ জিভের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এই পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘ছয় বছর পর, আমি এখনো বেঁচে আছি! এটি ভাবতেই অবাক লাগছে। এই চিকিৎসা আমাকে জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।’
ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ-এর প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান হেলিন বলেন, ‘ইমিউনোথেরাপি বারবার নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। যেসব রোগী এই চিকিৎসা পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে গড় রোগমুক্ত থাকার সময় দ্বিগুণ হয়েছে। এমনকি অনেকের ক্যানসার আর ফেরেনি। এটি খুবই যুগান্তকারী।’
২৭৭ দিন আগে
স্টারলিংকের ইন্টারনেট নিয়ে আপনার যা জানা প্রয়োজন
দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। শুরুতে স্টারলিংক দুটি প্যাকেজ দিয়ে শুরু করছে—স্টারলিংক রেসিডেন্স ও রেসিডেন্স লাইট। মাসিক খরচ একটিতে ৬ হাজার টাকা, অপরটিতে চার হাজার ২০০ টাকা। সেট-আপ যন্ত্রপাতির জন্য এককালীন খরচ হবে ৪৭ হাজার টাকা।
তবে বাংলাদেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা দিতে স্টারলিংকের যাত্রা শুরু হওয়াতে এ সম্পর্কে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ সম্পর্কিত নানা জিজ্ঞাসা ও তার জবাব দিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। নিচে প্রশ্ন ও জবাবগুলো তুলে ধরা হলো।
* স্টারলিংকের কী ডেটা লিমিট রয়েছে?
স্টারলিংকের কোনো ডেটা লিমিট নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে বিবৃতিতে।
* স্টারলিংক সত্যিকার অর্থে সরকার কাদের জন্য করেছে? এর সেবাগ্রহীতা কারা?
প্রেস উইংয়ের পাঠানো তথ্যমতে, দেশের প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী অঞ্চল— যেমন পার্বত্য অঞ্চল, হাওরাঞ্চল কিংবা বনাঞ্চলের মতো জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে স্টারলিংক ব্যবহার করা হবে। সারা দেশের যেকোনো স্থান থেকেই এই সেবা ব্যবহার করা যাবে।
আরও পড়ুন: স্টারলিংক কী? কীভাবে কাজ করে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এখনো ফাইবার পৌঁছায়নি। সেসব জায়গায় মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে সেবাদান করা হয়, যেটির সক্ষমতা কম। এ সমস্যা সমাধানে স্টারলিংকের একটা সেট-আপ বক্স কিনে গ্রামের মানুষও লো লেটেন্সি এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।
এতে সংসদ ভবনে কিংবা উপদেষ্টার বাসভবন বা তার অফিসে যেই স্পিডে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয, ঠিক একই স্পিডে ওইসব অঞ্চলেও ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
* স্টারলিংক কি উদ্যোক্তা বান্ধব? উদ্যোক্তারা ইন্টারনেট সেবা প্রদানে কীভাবে স্টারলিংক ব্যবহার করতে পারবেন?
সরকারের ভাষ্যে, স্টারলিংক উদ্যোক্তা বান্ধব হবে। এটির দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় একজন না পারলে কয়েকজন মিলে একটি সেট-আপ বক্স কিনে একসঙ্গে কয়েকজন ব্যবহার করতে পারবে। এটির ওয়াইফাই রেঞ্জ আনুমানিক, আনুমানিক ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ মিটার। এই জোনের মধ্যে যেসব উদ্যোক্তা থাকবেন তারা সবাই মিলে তহবিল গঠন করে ৪৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি সেট-আপবক্স কিনে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।
এ নিয়ে আইনে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরী করা হয়নি বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া, শহরের বাসভবনে ওয়াইফাই শেয়ারিং করেও ইন্টারন্টে ব্যবহার সম্ভব হবে। স্টারলিংকে যেহেতু বিল্টইন রাউটার আছে, তাই রাউটার থেকে রাউটারে আইএসপি সেটাপেও ব্যবহার সম্ভব।
পাশাপাশি মাইক্রোক্রেডিট অথোরিটি (এমআর) কিংবা ফাইন্যান্সিয়াল অর্গানাইজেশন কিংবা ব্যাংক থেকে সেট-আপ বক্স কেনার জন্য উদ্যোক্তাদের অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাগরিক সেবার যারা উদ্যোক্তা হবেন, তাদের জন্য সহজে স্টারলিংক নেওয়ার জন্য ফাইন্যান্সিয়াল প্যাকেজ তৈরিরও পরিকল্পনা করছে সরকার।
তাছাড়া, স্টারলিংকের মূল্য কিছুটা বেশি বলে স্বীকার করে সরকার জানিয়েছে, দাম বেশি থাকার কারণে এটি শেয়ার করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ রাখা হয়নি।
এটি ব্যবহার করে ব্যবসা মডেল তৈরির পাশাপাশি কেউ যদি এই স্টারলিংক ব্যবহার করে তা ইন্টারনেট নিয়ে (মোবিলিটি এবং রোমিং সুবিধা ছাড়া) সেটাকে ফিড করে যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই।
এ ছাড়াও ড. ইউনূসের ফোন লেডি ধারণার কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, যেকোনো ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) বা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) বা অন্য কোম্পানিগুলো বা ফাইন্যান্সিয়াল অর্গানাইজেশনগুলো চাইলে ওয়াইফাই লেডি হিসেবে নতুন একটি উদ্যোক্তার ধারা সৃষ্টি করতে পারে। তারা চাইলে শুধুমাত্র গ্রামীণ মহিলাদেরকে একটা বিশেষ ঋণ দিতে পারে যার মাধ্যমে তারা স্টারলিংক নিয়ে ইন্টারনেট সেবা বিক্রয় করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভবন ছাড়াও ইনফরমাল কো-ওয়েবিং বিজনেসের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারবেন।
* স্টারলিংকের মাধ্যমে জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হবে কী?
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্টারলিংকের একটি লোকাল গেটওয়ে থাকবে। এর কমার্শিয়াল টেস্ট রান ও গ্রাউন্ড টেস্ট চলমান। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য স্টারলিংক কোম্পানিকে ৯০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে, ইতোমধ্যে ১০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। ৯০ দিনের সময়সীমা পার হলেই তাদের লোকাল গেইটওয়ে বাধ্যতামূলক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি ডিভাইসের ক্ষেত্রে রেট, ভ্যাট, ট্যাক্স থাকায় এনওসি (বিভাগীয় অনাপত্তি সনদ) নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: স্টারলিংক বাংলাদেশের ডিজিটাল জগতে বিপ্লব আনবে: প্রধান উপদেষ্টা
* চলমান চীন-মার্কিন বাণিজ্য দ্বন্দ্বের মধ্যে স্টারলিংকের ব্যবহারে অনুমতি প্রদানে কোনো প্রভাব পড়বে কী ?
চলমান পরিস্থিতিতে এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের ভাষ্যে, বাংলাদেশ যোগাযোগ প্রযুক্তির বিচারে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়।
বাংলাদেশে ৪জি বা ৫জি টেকনলোজিতে সর্বাধুনিক নেটওয়ার্ক ও ব্যাকবোন স্থাপনে চীনা প্রযুক্তিই ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বিটিসিএল, টেলিটক সংস্থার অধীন চীনা অর্থায়নে ও প্রকৌশলীদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে।
চীন কিংবা মার্কিন ব্যবসায়ীরা স্বাধীনভাবে যেন বাংলাদেশে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে উন্মুক্তভাবে ব্যবসা করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে চায় সরকার। সব দেশকেই একইরকম সুবিধা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।
* আবাসিক গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংক এর দাম কী সহনীয়?
একটি ভবনের কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাটের সদস্যরা মিলিতভাবে এই সেবাটি কিনে থাকে তাহলে উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের জন্য বিষয়টি সহজ হবে। এতে এককালীন দামটা বেশি হলেও বা সেট-আপব্যয়টা বেশি হলেও সবার মধ্যে সরবরাহ হয়ে যাওয়ার পর আর খরচ বেশি মনে হবেনা বলে মনে করে সরকার।
* রিজিওনাল প্রাইস বিবেচনায় স্টারলিংকের ব্যয় কী বাংলাদেশে বেশি?
রিজিওনাল প্রাইস বিশ্লেষন করে বাংলাদেশে স্টারলিংকের দাম সবচেয়ে কম বলে জানিয়েছে সরকার। এমনকি শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, থাইল্যান্ডের চেয়েও কম এই দাম।
* সরকারি কোম্পানির স্বার্থ কিভাবে রাখা হচ্ছে?
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই ভাবে সরকারি কোম্পানির স্বার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রথমত, সাবমেরিন কেবল কোম্পানির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়ত স্যাটেলাইট কোম্পানির মাধ্যমে।
২৯০ দিন আগে
দেশে স্টারলিংকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
স্টারলিংক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে। মঙ্গলবার (২০ মে) সকালে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘সোমবার (১৯ মে) বিকালে তারা ফোন কলে আমাকে বিষয়টা জানিয়েছেন এবং আজ সকালে তাদের এক্স হ্যান্ডেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।’
‘শুরুতে স্টারলিংক দুটি প্যাকেজ দিয়ে শুরু করছে- স্টার্লিংক রেসিডেন্স এবং রেসিডেন্স লাইট। মাসিক খরচ একটিতে ৬০০০ টাকা, অপরটিতে ৪২০০। সেটাপ যন্ত্রপাতির জন্য ৪৭ হাজার টাকা এককালীন খরচ হবে,’ যোগ করেন তিনি।
ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ বলেন, এখানে কোন স্পীড ও ডাটা লিমিট নেই। ব্যক্তি ৩০০ এম্বিপিএস পর্যন্ত গতির আনলিমিটেড ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন। বাংলাদেশের গ্রাহকরা আজ থেকেই অর্ডার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে যাত্রা শুরুতে স্যারের প্রত্যাশাটি বাস্তবায়িত হলো।’
আরও পড়ুন: স্টারলিংকের লাইসেন্সে বিটিআরসির সবুজসংকেত, মন্ত্রণালয়ে চিঠি
তিনি বলেন, ‘খরুচে হলেও এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য উচ্চমান এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তির টেকসই বিকল্প তৈরি হয়েছে।’
‘পাশাপাশি, যেসব এলাকায় এখনো ফাইবার কিংবা দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছেনি, সেখানে কোম্পানিগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণ এর সুযোগ পাবেন, এনজিও ফ্রিল্যান্সার এবং উদ্যোক্তারা বছরব্যাপী নিরবিচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেটের নিশ্চয়তা পাবেন,’ বলেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।
২৯০ দিন আগে
আপনার চাকরি খেয়ে ফেলবে এআই: ফাইভারপ্রধানের হুঁশিয়ারি
চাকরির বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমাগত পরিবর্তনশীল প্রভাব নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলি বহুজাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফাইভারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিকা কাউফম্যান। এআইনির্ভর ভবিষ্যতে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে দক্ষতা ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে জোর দেন তিনি।
ফাইভারের একটি অভ্যন্তরীণ মেমোর বিস্তারিত বিবরণে তিনি এমন হুঁশিয়ারি দেন। পরবর্তীতে সেটি সামাজিকমাধ্যমেও শেয়ার দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এমন খবর দিয়েছে।
যেভাবে দ্রুতগতিতে প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে, তাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মনির্ভর বাজারসহ শিল্পকারখানা নতুন করে ঢেলে সাজানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সেই দিকে আভাস দিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় উপযুক্ত করে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে ফ্রিল্যান্সার্স ও কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মিকা কাউফম্যান বলেন, ‘কঠিন সত্য হলো—আপনার কর্মসংস্থান দখল করতে আসছে এআই, আমার চাকরিটাও তারা নিয়ে নেবে। এটা আপনাদের জেগে ওঠার ডাক। তাতে হোক না আপনি প্রোগ্রামার, ডিজাইনার, পণ্য ব্যবস্থাপক, ডেটা বিজ্ঞানী, আইনজীবী, বিক্রেতা কিংবা কোনো ব্যবসায়ী। আপনাদের কর্মসংস্থান কেড়ে নিতে ধেয়ে আসছে এআই।’
“একসময় যেসব কাজকে সহজ বলে বিবেচনা করা হতো, এখন আর সেগুলোর অস্তিত্ব নেই। আবার যে কাজগুলো কঠিন বলে বিবেচনা করা হতো, সেগুলো সহজ হয়ে গেছে। আর যে কাজগুলো অসম্ভব বলে মনো হতো, সেটা এখন নতুন ‘কঠিন কাজ’।”
তিনি বলেন, ‘আপনি যা করছেন, সেখানে যদি একেবারে ব্যতিক্রমী মেধাবী না হন, কয়েক মাসের ব্যবধানে আপনাদের কর্মসংস্থান পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে,’ বলেন ফাইভারের এই প্রধান নির্বাহী।
আরো পড়ুন: ইসরাইলকে এআই সরবরাহের প্রতিবাদ: মাইক্রোসফটের ২ প্রকৌশলী বরখাস্ত
সর্বশেষ এআই উদ্ভাবন নিয়ে আরও লেখাপড়া ও দক্ষতা অর্জনে কর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মিকা কাউফম্যান বলেন, ‘এআই প্রোগ্রাম লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেলসের (এলএলএমএস) ওপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’
যারা এটার কদর বুঝবেন না, অর্থাৎ দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন না, তাদের ক্যারিয়ার ঝুঁকিতে পড়বে বলেও হুশিয়ার করেন ফাইভার প্রধান নির্বাহী। কাজেই কর্মীদের আরও দক্ষতা ও দ্রুততার সাথে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সার্চ জায়ান্ট গুগল ‘সেকেলে’ হয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মিকা কাউফম্যান।
৩০৪ দিন আগে
স্টারলিংকের লাইসেন্সে বিটিআরসির সবুজসংকেত, মন্ত্রণালয়ে চিঠি
বাংলাদেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা দিতে স্টারলিংকের লাইসেন্সের জন্য সবুজসংকেত দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে। টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী, কাউকে লাইসেন্স দেওয়ার আগে বিটিআরসিকে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হবে।
গত ৭ এপ্রিল স্টারলিংক ‘বাংলাদেশে নন-জিওস্টেশনারি অরবিট (এনজিএসও) স্যাটেলাইট সার্ভিসেস অপারেটরদের জন্য নির্দেশিকা’ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহের জন্য বিটিআরসির কাছে আবেদন করা হয়েছে।
পরে ২৫ মার্চ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ৯০ দিনের মধ্যে দেশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবার বাণিজ্যিক উদ্বোধন করা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড গেটওয়ে ব্যবহার করে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংকের পরিষেবা চালানো হয়েছে।
তবে, বাণিজ্যিকভাবে স্টারলিংকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোম্পানিটিকে নন-জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট অরবিট (এনজিএসও) নীতি মেনে চলতে হবে। এই নীতিমালায় স্থানীয় ব্রডব্যান্ড গেটওয়ে বা আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) ব্যবহার করতে হয়।
ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হলো স্টারলিংক। কোম্পানিটি বাংলাদেশে পরিষেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাইসেন্স পেতে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে।
স্টারলিংক ইন্টারনেট পরিষেবা বাংলাদেশে চালু করার লক্ষ্য হলো বারবার ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াকে রোধ করা।
আরও পড়ুন: স্টারলিংক বাংলাদেশের ডিজিটাল জগতে বিপ্লব আনবে: প্রধান উপদেষ্টা
দেশে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার জন্য বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও উদ্যোক্তাদের জন্য এটি উপকারী হবে।
বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো এরইমধ্যে স্টারলিংকের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনে সহযোগিতা করছে, যা স্যাটেলাইট সংযোগকে একীভূত করতে সহজতর করবে।
বিশ্বব্যাপী, ইলন মাস্কের স্পেসএক্স পরিচালিত স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট জগতে একটি বড় নাম, যা দিন দিন আরও বেশি সম্প্রসারিত হচ্ছে।
অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপার, ওয়ানওয়েব এবং টেলিস্যাটের মতো কোম্পানিগুলোও লো-আর্থ-অরবিট স্যাটেলাইটগুলোর কনস্টেলেশন স্থাপন করছে, যা বিশেষত দূর্গম এবং অল্প সেবা প্রাপ্ত এলাকাগুলোতে উচ্চ-গতির ব্রডব্যান্ড সেবা দেবে।
স্টারলিংক বর্তমানে ৬ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট চালাচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে তিন মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এমন এলাকায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে, যেখানে সাধারণ ফাইবার-অপটিক বা মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবা পাওয়া যায় না বা কাজ করে না।
আরও পড়ুন: স্টারলিংক কী? কীভাবে কাজ করে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা
৩১২ দিন আগে
দেশে ৩ স্তরে কমছে ইন্টারনেটের দাম
দেশে তিন স্তরে নতুন করে কমছে ইন্টারনেটের দাম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) ও ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) পর্যায়ে ১০ শতাংশ এবং ন্যাশনাল ট্রান্সমিশন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ দাম কমাবে ফাইবার অ্যাট হোম। পাশাপাশি মোবাইল সেবাদাতা ৩টি বেসরকারি কোম্পানিকেও ইন্টারনেটের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছে সরকার।সোমবার (২১ এপ্রিল) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফাইবার অ্যাট হোম ম্যানেজমেন্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ।
মোবাইল ইন্টারনেটের দাম কমানোর পদক্ষেপে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিও সামান্য কিছুটা কমে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ১০ শতাংশ দাম কমছে ইন্টারনেটের
ইতোমধ্যে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) লাইসেন্স প্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাঁচ এমবির পরিবর্তে ৫০০ টাকায় ১০ এমবি ইন্টারনেট প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তাইয়েব আহমেদ।
তিনি বলেন, এর আগে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি সকল আইআইজি এবং আইএসপি গ্রাহকদের জন্য ১০ শতাংশ, এবং পাইকারি গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ সহ মোট ২০ শতাংশ দাম কমিয়েছে।
এ নিয়ে তিন থেকে চারটি স্তরে ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, এখন শুধু মোবাইল সেবাদাতা ৩টি বেসরকারি কোম্পানির দাম কমানো বাকি। তাছাড়া মোবাইল কোম্পানিগুলোকে ইতোমধ্যে ডিডব্লিউডিএম সুবিধা ও ডার্ক ফাইবার সুবিধা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এ কারণে বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলোর ইন্টারনেটের দাম না কমানোর কোন ধরনের যৌক্তিক কারণ কিংবা অজুহাত অবশিষ্ট থাকে না বলে মত দেন তিনি। তাইয়েব আহমেদ বলেন, ‘সরকার মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরগুলোকে (এমএনও) পলিসি সাপোর্ট দিয়েছে এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় স্তর গুলোতে ওপাইকারি পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমিয়েছে। এখন তাদের জাতীয় উদ্যোগে শরিক হবার পালা।’
তাছাড়া মোবাইল ইন্টারনেটের দাম কমানোর পদক্ষেপে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিও সামান্য কিছুটা কমে আসবে বলেও মত দেন তিনি।
আরও পড়ুন: স্টারলিংক কী? কীভাবে কাজ করে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা
তিনি বলেন, সরকার আশা করে অতি দ্রুতই তিনটি বেসরকারি মোবাইল কোম্পানি অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্য পতনের ঘোষণা দিবে।
৩১৯ দিন আগে
বাদী পক্ষে লড়তে আদালতে এআই-উকিল!
আদালতে উপস্থিত হয়ে বিচারকরা এক ব্যক্তির আপিলের শুনানি শুরু করলেন। বাদী পক্ষের উকিল হাজির হলেন ভিডিওতে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, এই উকিলের কোনো পেশাগত ডিগ্রি নেই। এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো বাস্তবেই তার কোনো অস্তিত্ব নেই, তিনি কোনো মানুষই নয়!
তিনি মূলত কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি করা এক এভাটার (কোনো মানুষের প্রতিকৃতি)।
এমনই চমকপ্রদ একটি ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে। স্থানীয় সময় গেল ২৬ মার্চ জেরোমি ডিওয়াল্ড নামে এক ব্যক্তির চাকরি সংক্রান্ত একটি আপিল শুনানিকালে এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।
নিজের পক্ষে কোনো উকিল না থাকায় তিনি এআইয়ের সহায়তায় একটি এভাটার বানিয়ে তাকেই আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার চালাকি ধরে ফেলেন বিচারকরা।
আপিলের শুনানির সময় নিজের পক্ষে কথা বলার জন্য একটি ভিডিও উপস্থাপন করার অনুমতি চেয়েছিলেন ডিওয়াল্ড। শুনানির দিন বিচারক স্যালি মানজানেট ডানিয়েল বলেন, ‘আপিলকারী তার বক্তব্য উপস্থাপনের একটি ভিডিও দিয়েছেন, ভিডিও এখন চালু করা হবে।’
আরও পড়ুন: ডিপসিক: এআইয়ের দুনিয়ায় চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির লড়াকু প্রতিপক্ষ
ভিডিওটি চালু হলে স্ক্রিনে (পর্দায়) বেশ গোছালো ও পরিপাটি পোশাক পরিহিত এক সুদর্শন যুবককে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘আদালতের সদয় বিবেচনার জন্য জানাচ্ছি, আমি বিচারকদের সামনে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বাদীর পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছি।’
সঙ্গেই সঙ্গেই তাকে থামিয়ে দিয়ে বিচারক জানতে চান, ‘এই ব্যক্তি মামলার কোনো আইনজীবী কিনা? বাদী ডিওয়াল্ড জানান, ‘ভিডিওর ব্যক্তি আসলে মানুষ নন, এআইয়ের সহায়তায় একে তিনি তৈরি করেছেন আাদলতে তার পক্ষে কথা বলার জন্য।’
এ কথা শুনে রেগে আগুন হয়ে বিচারক বললেন, ‘আমি প্রতারিত হতে পছন্দ করি না।’ ডিওয়াল্ডকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি যখন আবেদন করেছেন, এই বিষয়ে তখনই আদালতকে অবগত করা প্রয়োজন ছিল।’
এরপরে বিচারকদের কাছে ক্ষমা চান মামলার বাদী ডিওয়াল্ড। তিনি জানান, ‘কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে তিনি এই কাজ করেননি। তার আইনি বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য কোনো আইনজীবী পাননি। এ কারণে তার আইনি বক্তব্য তুলে ধরতে এই এভাটার বানিয়েছেন তিনি।’
ডিওয়াল্ড সাধারণত কথা বলার সময় তোতলান, তার উচ্চারণে অস্পষ্টতা রয়েছে। তিনি আশা করেছিলেন এ ধরনের কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই আদালতে কথা বলতে পারবে ওই এভাটার। তবে তার আশার গুড়ে বালি পড়তে লেগেছে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। বিচারক ধরে ফেলেন ভিডিওর ব্যক্তি আসল নন।
বার্তা সংস্থা এসোসিয়েট প্রেসের (এপি) এক খবরে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর এক টেক কোম্পানি থেকে একটি এআই টুল কিনে ওই এভাটার তৈরি করেছিলেন ডিওয়াল্ড। তিনি তার চেহারার অনুরূপ করেই ওই এভাটার বানাতে চেয়েছিলেন। তবে শুনানির আগে তা সম্ভব হয়নি।
যেহেতু তিনি কোনো উকিল পাননি, তাই তার নিজেকেই এই বক্তব্য উপস্থাপন করতে হত। এ কারণেই ঠিকঠাকভাবে কথা বলার জন্য তিনি এআইয়ের দিয়ে ওই ভিডিও তৈরি করে আদালতে পাঠান। তবে যে উদ্দেশ্যে তিনি এই কাজ করেছিলেন সেক্ষেত্রে সফল তো হননি, বরং আদালতে রীতিমতো বিচারকের ঝাড়ি খেয়েছেন ওই ব্যক্তি।
আরও পড়ুন: ওপেনএআই কিনতে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার প্রস্তাব মাস্কের
তবে বিচারিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে কিন্তু প্রথম নয়, খোদ আইনজীবীরাই এর ব্যবহার করে সমস্যায় পড়েছেন।
এর আগে ২০২৩ সালের জুনে একটি মামলায় এআইয়ের ব্যবহার করে ৫ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছিল নিউ ইয়র্কের দুই আইনজীবীকে। তারা এআইয়েরর সহায়তা নিয়ে কয়েকটি মামলার উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছিলেন, তবে বাস্তবে ওই ধরনের কোনো মামলার অস্তিত্বই ছিল না।
জরিমানা দেওয়া ওই দুই আইনজীবী জানান, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যে কৃত্তিম মামলার বিবরণ তৈরি করবে এটি তারা বুঝতেই পারেননি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেনও একই ধরনের সমস্যায় পড়েছিলেন। ভুল মামলার তথ্য দিয়েছিল এআই।
তবে ডিওয়াল্ড ভুলে এই এভাটার ব্যবহার করলেও অ্যারিজনার সুপ্রিমকোর্ট কিন্তু বিভিন্ন আদালতের বিধিনিষেধগুলো সাধারণ জনগণকে জানানোর জন্য অনেকটা একই রকম এভাটার ব্যবহার করে থাকে। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যে কতদ্রুত এগিয়ে চলছে তারই জ্বলন্ত প্রমাণ এসব ঘটনা।
ডিওয়াল্ডের মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।
৩৩৩ দিন আগে
স্টারলিংক কী? কীভাবে কাজ করে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা
প্রথিতযশা মার্কিন উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মস্তিষ্ক প্রসূত প্রযুক্তি সেবা ‘স্টারলিংক’। ছোট্ট এই শব্দটি সমগ্র বিশ্ব জুড়ে তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক অদেখা ভূবনের বার্তা দিয়ে চলেছে। চলমান দশকে ইন্টারনেট ব্যবস্থার মধ্যমণি হওয়ায় প্রযুক্তিগত বিবর্তনটিকে ঘিরে চলছে সমূহ উদ্দীপনা। অধিকাংশ উন্নত দেশগুলোতে বিস্তার লাভের পর উন্নয়নশীল অঞ্চল পরিক্রমায় স্টারলিংকের এবারের গন্তব্য বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে চলুন জেনে নেওয়া যাক- কী এই স্টারলিংক, আর এর কার্যপদ্ধতিই-বা কী।
স্টারলিংক কী
পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ চালু করা প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক সার্ভিসেস, এলএলসি। পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের নামানুসারেই উপগ্রহ ক্লাস্টারের নাম হয়েছে স্টারলিংক। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি এই স্যাটেলাইটগুলোর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপি ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকে। গোটা বিশ্ব জুড়ে ইলন মাস্কের এই প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক রয়েছে ১০০টিরও বেশি দেশে।
স্টারলিংকের যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালের মে মাসে ৬০টি স্যাটেলাইটের চালুর মাধ্যমে। বর্তমানে এই সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭ হাজারেরও বেশি এবং এগুলো খুব কাছাকাছি কক্ষপথে থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এই অবস্থানটি প্রায় ৩৫ হাজার ৭৮৬ কিলোমিটার উপরে। এগুলো পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে (এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও) উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দিতে সক্ষম।
আরো পড়ুন: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এসি চালুর পূর্বে যে সতর্কতা জরুরি
২০২১ সালের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা কেন্দ্রিক এর প্রথম বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় প্রথম জনসাধারণের কাছ থেকে প্রি-অর্ডার নেওয়া হয়েছিলো।
স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা কীভাবে কাজ করে
.
ইন্টারনেট সংযোগের প্রক্রিয়া
শহরাঞ্চলের পাশাপাশি অনুন্নত এলাকাগুলোতেও সমানভাবে কার্যকর স্টারলিংক পরিষেবা। স্টারলিংক গ্রাহকের কম্পিউটার বা অন্য কোনও ডিভাইস থেকে ডাটা রিকোয়েস্ট প্রথমে নিকটতম স্যাটেলাইটে পৌঁছায়। সেই রিকোয়েস্ট পরবর্তীতে প্রেরিত হয় উদ্দিষ্ট গন্তব্যের কাছাকাছি আরেকটি স্যাটেলাইটে। তারপর রিকোয়েস্টটি সেই স্যাটেলাইটের অধীনে থাকা সুনির্দিষ্ট ডাটা সার্ভারে প্রবেশ করে। এরপর কাঙ্ক্ষিত তথ্যটি নিয়ে একই ভাবে গ্রাহকের কম্পিউটার বা অন্য কোনও মোবাইল ডিভাইসে ফিরে আসে। এভাবে পৃথিবীর দুই প্রান্তে থাকা ডিভাইসের মধ্যে ইন্টারনেট নির্ভর যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।
স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ রক্ষার্থে গেটওয়ে হিসেবে বসানো হয় গ্রাউন্ড স্টেশন। এগুলো উপগ্রহ থেকে ডেটা গ্রহণ করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ সুগম রাখে।
আরো পড়ুন: অনলাইন বই বাজার: ঘরে বসেই যে ১০ ওয়েবসাইট থেকে কিনতে পারেন পছন্দের বই
একটি গ্রাউন্ড স্টেশন সাধারণত ৪ হাজার ৩০৬ বর্গফুট জায়গা জুড়ে প্রশস্ত হয়। এখানে বন্ধনীতে ঘেরা থাকে ৯ দশমিক ৪ ফুট উচ্চতার ৯টি অ্যান্টেনা।
উন্নত প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য
স্টারলিংকের প্রদক্ষিণরত উপগ্রহগুলোর অবস্থান আদর্শ জিওস্টেশনারি কক্ষপথের উচ্চতার ১/১০৫ থেকে ১/৩০ অংশের মধ্যে। কক্ষপথটি নন-জিওস্টেশনারি হিসেবে অভিহিত এবং এখানে স্যাটেলাইটগুলো ২৪ গিগা হার্টজ-এর উপরে উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে কাজ করবে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে তুলনামূলক ভাবে কাছাকাছি হওয়ায় এই ব্যান্ডে বিস্তৃত কভারেজ পাওয়া যাবে। একই সাথে স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ট স্টেশনের মধ্যকার যোগাযোগটিও হবে অধিক কার্যকর।
পৃথিবী থেকে স্যাটেলাইট যোগাযোগের লেটেন্সি বা বিলম্ব থাকে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ মিলি সেকেন্ড। এই মাত্রা বর্তমান কেবল ও ফাইবার নেটওয়ার্কের তুলনায় অনেক কম। এই গতিতে ভিডিও কনফারেন্সিং ও অনলাইন গেমিং-এ অভূতপূর্ব রিয়েল-টাইম অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।
আরো পড়ুন: ছোটদের বাংলা ভাষা শেখার ১০টি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ
পিয়ার-টু-পিয়ার প্রোটোকল ব্যবহার করায় স্টারলিংক বর্তমান সময়ের আইপিভি৬ (ইন্টারনেট প্রোটোকল ভার্সন ৬) থেকে অধিক সহজ। এই প্রোটোকল মূলত ইন্টারনেটের আওতায় একত্রে কতগুলো ডিভাইস সংযুক্ত হতে পারবে এবং সেগুলোর মধ্যে তথ্যের লেনদেন কতটুকু নিরাপদ হবে তা নির্দেশ করে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো নেটিভ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন। এই প্রক্রিয়ায় প্রেরকের ডিভাইসে এনক্রিপ্ট করা ডাটা শুধুমাত্র প্রাপকের ডিভাইসে ডিক্রিপ্ট করা হয়। ফলে পরিষেবা প্রদানকারীসহ তৃতীয় কোনও পক্ষের কাছে সেই ডাটা উন্মুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
এই সর্বক্ষেত্রে পিয়ার-টু-পিয়ারের অবস্থান আইপিভি৬-এর ওপরে।
এছাড়া স্টারলিংকের আরও আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে দ্রুতগতির ডাউনলোড। সম্প্রতি ঢাকায় এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছে। এ সময় ডাউনলোড গতি ছিলো ২৩০ এমবিপিএস (মেগাবিট্স পার সেকেন্ড) এবং আপলোড ২০ এমবিপিএস।
আরো পড়ুন: কীভাবে জানবেন ঢাকার যানজটের সর্বশেষ অবস্থা?
সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী
স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য গ্রাহককে টেলিভিশনের ডিশ অ্যান্টেনার মতো একটি যন্ত্র বসাতে হবে। এটি সেই স্যাটেলাইটগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। যন্ত্রটি ক্রয়ের সময় এর সাথে পুরো একটি টুলকিট দেওয়া হয়। এতে স্টারলিংক অ্যান্টেনা ছাড়াও থাকে স্ট্যান্ড, স্টারলিংক কেবল, জেন থ্রি রাউটার, এসি কেবল এবং পাওয়ার অ্যাডাপ্টার। অ্যান্টেনা যে কোনও জায়গায় মাউন্টের জন্য উপযোগী। এমনকি ট্রেনের মতো দ্রুতগামী কোনও বস্তুর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। তবে শর্ত হচ্ছে- আকাশ ও অ্যান্টেনার মাঝে কোনও প্রতিবন্ধকতা থাকা যাবে না।
এই অ্যানটেনার সঙ্গে স্টারলিংকের রাউটারটি যুক্ত করে গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এই টুলকিট এবং গ্রাউন্ড স্টেশন সম্মিলিত ভাবে স্টারলিংককে সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। কেননা এতে করে দুর্গম পাহাড় বা জঙ্গলেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।
এই রাউটারে এক সাথে ২৫৪টি ডিভাইস যুক্ত হতে পারে। অবশ্য কোম্পানির পক্ষ থেকে ৫০টির কম ডিভাইস ব্যবহারের পরামর্শ রয়েছে।
আরো পড়ুন: ডিপসিক: এআইয়ের দুনিয়ায় চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির লড়াকু প্রতিপক্ষ
ইন্টারনেট পরিষেবার লাইসেন্স
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্টারলিংককে বিশ্বের যে কোনও অঞ্চলে সেবা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হয়। সেখানকার জাতীয় টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের অনুমতির পরেই সেবার বিপণন শুরু হয়।
এর জন্য স্টারলিংক নির্দিষ্ট দেশের সাথে দীর্ঘস্থায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যায়। এই চুক্তির মধ্যে অন্তর্ভূক্ত থাকে লাইসেন্সিং-এর সাধারণ সময়সীমা এবং করনীতি।
স্টারলিংক ব্যবহারের নানা ক্ষেত্র
আবাসিক চাহিদার পাশাপাশি করপোরেট ক্লায়েন্টও রয়েছে স্টারলিংকের। ইতোমধ্যে তারা বিস্তৃত পরিসরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সেবা রয়েছে এয়ারলাইনস, জাহাজ, বিনোদনমূলক যানবাহন, ও ট্রাকসহ নানা ধরণের পরিবহনে।
আরো পড়ুন: লেখকদের সৃজনশীলতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব: ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা
এছাড়া বিভিন্ন দেশের মিলিটারি বা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে তারা বিশেষ সেবা দিয়েছে।
৩৪৪ দিন আগে