প্রযুক্তির-খবর
১০ শতাংশ দাম কমছে ইন্টারনেটের
বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির সব ধরনের ইন্টারনেটের দাম ১০ শতাংশ কমছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
শনিবার (২২ মার্চ) কোম্পানির বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এর ফলে মোবাইল ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড সার্ভিস দুই ক্ষেত্রেই কোম্পানিগুলোর খরচ কমে আসবে বলে জানান তিনি।
ফয়েজ আহমদ জানান, ইন্টারনেটের দাম কমানোর জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মানুষ যেন সাশ্রয়ে ইন্টারনেট পায় সেজন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আর কোনো পরিস্থিতিতে যাতে ইন্টারনেট বন্ধ না হয়, সেই নীতিমালা হচ্ছে: ফয়েজ আহমদ
পাইকারি পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমানো এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তের ফলে ইন্টারনেটের আন্তর্জাতিক গেটওয়ে লেভেলে সব ব্যান্ডউইথের দাম ১০ শতাংশ কমে আসবে। এছাড়া ব্যাকবোন পর্যায়ে মোবাইল কোম্পানিগুলোকে ডিডাব্লিউডিএম সুবিধা দেওয়ার কথা হচ্ছে।’
এতে ট্রান্সমিশন বাবদ টেলিকম কোম্পানিগুলোর খরচ ৩৯ শতাংশ কমে যাবে বলে মত দেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।
তিনি বলেন, 'ইতোমধ্যে টেলিকম অপারেটরদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অপারেটররা ভোক্তা পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।'
তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ আরও জানান, আগামী বছরের মাঝামাঝিতে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সিমিউই-৬ এর সঙ্গে যুক্ত হবে বাংলাদেশ।
৩৪৮ দিন আগে
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এসি চালুর পূর্বে যে সতর্কতা জরুরি
বছর জুড়ে গরমের তুলনায় শীতের আধিক্য যারপরনাই কম। এরপরেও ঠান্ডা মৌসুমে একটানা বেশ কিছু দিন যাবত এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বন্ধ থাকে। এই স্বল্প বিরতির পর গ্রীষ্মের শুরুতে এসি চালু করার আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। অন্যান্য বৈদ্যুতিক ও গৃহস্থালির যান্ত্রিক আসবাবপত্রের মতো এসিরও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। সেখানে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে খুটিনাটি ত্রুটির অবকাশ থাকে। বন্ধ থাকা এসির ভেতরে জমে যাওয়া ধুলোবালির স্তর ও ছত্রাকের কারণে হতে পারে শাসকষ্ট। এমনকি রয়েছে এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণের ঝুঁকি। চলুন, উষ্ণ মৌসুমের শুরুতে স্বাস্থহানী ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়িয়ে এসি ব্যবহার নিশ্চিত করতে জরুরি বিষয়গুলো বিস্তারিত জেনে নেই।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এয়ার কন্ডিশনার নিরাপদে চালানোর জন্য ১০টি করণীয়
.
ইভাপোরেটর কয়েল ও ব্লোয়ার মোটর নিরীক্ষণ
এই সরঞ্জাম দুটি থাকে এসি সিস্টেমের অভ্যন্তরীণ ইউনিটে। অনেক দিন বন্ধ থাকার ফলে ইভাপোরেটর কয়েলে ময়লা জমে থাকলে তাপ স্থানান্তর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
ব্লোয়ার মোটরে ময়লা জমলে এটি সঠিকভাবে ঘুরতে পারে না। ফলে সিস্টেমের উপর এটি অতিরিক্ত চাপ ফেলে।
সামগ্রিক ভাবে এমন পরিস্থিতি এসির কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় পরবর্তীতে বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই এসি ছাড়ার পূর্বে এই সরঞ্জামগুলো যথাযথ ভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া আবশ্যক।
আরো পড়ুন: মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ: কারণ ও বাঁচার উপায়
ডাক্ট, ভেন্ট এবং এয়ার ফিল্টার পরীক্ষা
শীতল বায়ু ডাক্ট ও ভেন্টের মাধ্যমে ঘরের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছায়। দিনের পর দিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকলে এগুলোতে ধুলো, ময়লা বা ছাঁচ জমে যায়। এগুলো এসির বাতাসকে বিষাক্ত করে, যা অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা সৃষ্টির কারণ হতে পারে।
এয়ার ফিল্টার এসির বায়ু থেকে ধুলো, ময়লা এবং অন্যান্য কণাকে ফিল্টার করে। আর এই ফিল্টারেই ময়লা জমে যাওয়া মানে বাতাসের গুণমান কমে যাওয়া। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ময়লার আস্তর জমে ফিল্টার বন্ধ হয়ে বায়ুপ্রবাহেও বাধা সৃষ্টি হয়। এছাড়া ময়লা ফিল্টার ব্যাকটেরিয়া ও ছাঁচের বৃদ্ধি বাড়ায়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই এগুলো অপরিষ্কার রেখে এসি ব্যবহার করা একদমি উচিত নয়।
কন্ডেন্সার কয়েল পরিষ্কার করা
এসির বাইরের ইউনিটে থাকা এই সরঞ্চামটি তাপ স্থানান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসির দীর্ঘ সময়ের নিষ্ক্রিয়তায় এই কয়েলেও ধুলো, ময়লা বা আবর্জনা জমা হতে পারে। এর ফলে গোটা কন্ডেন্সারসহ কম্প্রেসরের উপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ক্রমান্বয়ে এটি সিস্টেমের আয়ু কমিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে ব্যয়বহুল মেরামতের প্রয়োজন পড়ে।
কন্ডেন্সার কয়েল পরিষ্কার করার জন্য নরম ব্রাশ বা কম প্রেশারের পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরো পড়ুন: টপ লোড বনাম ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন: জেনে নিন সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ
রেফ্রিজারেন্টের মাত্রা নিরীক্ষণ
এসির শীতলকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত যে তরল বা গ্যাসীয় পদার্থটি এসির মধ্যে তাপ স্থানান্তরিত করে তার নাম রেফ্রিজারেন্ট। সঠিক সময়ে পরিষ্কারের দীর্ঘসূত্রিতায় রেফ্রিজারেন্টের মাত্রা কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় এসি ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে চললেও ঠান্ডা বাতাস তৈরি করতে পারে না।
এমন পরিস্থিতিতে কন্ডেন্সার ও কম্প্রেসর উভয়েই অতিরিক্ত চাপের সম্মুখীন হয়। এমনকি এতে অন্যান্য যন্ত্রাংশও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
রেফ্রিজারেন্ট লিকের ফলে অনেক সময় এসির অদ্ভূত শব্দ করে। তাই এসি চালানোর সময় যে কোনও অস্বাভাবিক শব্দকে গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত।
এর বাইরে রেফ্রিজারেন্ট লেভেল যাচাইয়ের কাজটি নিজে করা কঠিন। তাই এক্ষেত্রে সরাসরি পেশাদার ইলেক্ট্রিশিয়ানের সরণাপন্ন হওয়া উচিত। উপরন্তু, মাত্রা কম থাকলে তা বাড়ানোর জন্যও তাদেরকেই ডাকতে হবে।
আরো পড়ুন: এয়ার পিউরিফায়ার: প্রয়োজনীয়তা, দাম, জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও নতুন মডেল
কম্প্রেসর পরীক্ষা করা
এসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানটির কাজ হচ্ছে রেফ্রিজারেন্টকে সংকুচিত করে শীতলকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা। তাই এই কার্যটি সঠিক ভাবে সম্পাদিত হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা নিতান্তই জরুরি।
কম্প্রেসর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে বা এর মধ্যে অস্বাভাবিক শব্দ হলে বুঝতে হবে এতে সমস্যা আছে। এই সমস্যা এড়াতে কম্প্রেসরের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি, আর এর জন্য একজন পেশাদারের প্রয়োজন পড়বে।
থার্মোস্ট্যাট সেটিংস যাচাই করা
এসির শীতলকরণ প্রক্রিয়ার আরও একটি প্রয়োজনীয় যন্ত্র থার্মোস্ট্যাট, যেটি মূলত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। সঠিক পদ্ধতিতে কাজ করার জন্য এসির একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়। এর কমবেশি হলে নিয়মিত ঠান্ডা বাতাস পাওয়া যায় না। তাই থার্মোস্ট্যাট সেটিংস যথাযথ হওয়া জরুরি।
ভুল সেটিংস দীর্ঘ মেয়াদে এসির কার্যকারিতায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এর দরূণ ভবিষ্যতে ঘন ঘন মেরামতেরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। আর বারবার মেরামত মানেই অতিরিক্ত খরচের ধকল।
আরো পড়ুন: কীভাবে জানবেন ঢাকার যানজটের সর্বশেষ অবস্থা?
বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পরীক্ষা
এসি সিস্টেমের সাথে সংশ্লিষ্ট পাওয়ার লাইন ও সার্কিট ব্রেকার ঠিক মত কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করা জরুরি। ভোল্টেজে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তারতম্য ঘটা সিস্টেমে সঠিক বিদ্যুৎ প্রবাহে বাধা আরোপ করতে পারে। সার্কিট ব্রেকার পাওয়ার লাইনকে ব্যাকআপ দিতে না পারলে পুরো যন্ত্রের ভয়াবহ ক্ষতি সাধনের আশঙ্কা থাকে।
প্রায় সময় ঘরের ভেতরে যন্ত্রকে পরিপাটি করে রাখা হলেও বাইরে অংশে একদমি ভ্রূক্ষেপ করা হয় না। চোখের আড়ালে থাকায় এই যন্ত্রাংশটির কথা অনেকেই এড়িয়ে যান। অথচ এর আশেপাশে অনুপযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনার দিকে ধাবিত করতে পারে।
তাই বছরের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে রুটিন মেনে এই আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় যন্ত্র সংলগ্ন জায়গাগুলো পরিষ্কার করা উচিত।
প্রথমবার ফ্যান মুডে চালানো
অনেক দিন বন্ধ থাকা এসি প্রথম চালোনার সময় সরাসরি কুলিং মুডে দেওয়া উচিত নয়। কেননা এতে সিস্টেমের ভেতর অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটির কারণে যান্ত্রিক গোলযোগের দেখা দিতে পারে।
আরো পড়ুন: শিশুদের টিকটক আসক্তি: ঝুঁকি থেকে যেভাবে বাঁচবেন
আগে ফ্যান মুডে চালিয়ে সিস্টেমের ভেতরে জমে থাকা আর্দ্রতা শুকিয়ে নিতে হবে। ফ্যান মুডে এসি শুধু সিস্টেমের আভ্যন্তরীণ ফ্যানটি চালায়। এতে ময়লা বা ছাঁচের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং বাতাসের গুণমান উন্নত করে। কয়েক ঘন্টা ফ্যান মুডে রাখার পর কুলিং মুডে সুইচ করা যেতে পারে।
টেস্ট রান
গরমের শুরুতে প্রথম এসি চালুর উদ্দেশ্য হতে হবে টেস্ট রান। শীতল হওয়ার উদ্দেশ্যে এসি ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজ করা যাবে না। বরং এই টেস্ট রানের পুরোটা সময় মনোন্নিবেশ এসির দিকে রাখতে হবে।
সূক্ষভাবে খেয়াল করতে হবে কোনও অস্বাভাবিক শব্দ আসছে কিনা, বায়ুপ্রবাহ কিভাবে হচ্ছে, এবং সারা ঘর ঠান্ডা হতে কেমন সময় লাগছে। কোনও অসংলগ্নতা দেখা দিলে উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে। কোনও কিছু নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরাসরি বিশেষজ্ঞ ইলেক্ট্রিশিয়ানের সরণাপন্ন হতে হবে।
পেশাদার টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া
উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো ব্যাপারে যথাযথ নিশ্চিত হয়ে তবেই নিজে নিজে এসি যাচাইয়ের দিকে যাওয়া উচিত। কারিগরি বিষয়গুলোর বোঝাপড়া নিয়ে কোনও সমস্যা থাকলে সর্বোত্তম পন্থা হলো পেশাদারদের দ্বারস্থ হওয়া। নতুবা না বোঝার কারণে অসাবধানে যে কোনও ভুলে হিতে বিপরীত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আরো পড়ুন: নতুন স্মার্টফোন কিনছেন, জেনে নিন সেটি আসলেই নতুন কিনা!
রক্ষণাবেক্ষণের পুরো সময়টাতে টেকনিশিয়ানের সাথে থেকে সব বুঝে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কি সমস্যা হয়েছিলো, কেন হয়েছিলো, এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের সমস্যা এড়াতে করণীয়সমূহ তাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হবে।
এক্ষেত্রে প্রথমে যে কোম্পানির নিকট থেকে এসিটি কেনা হয়েছিলো তাদেরকে কল করা উত্তম। তারা তাদের নিজস্ব পণ্যের ব্যাপারে জানে এবং একই ধরণের ত্রুটির সমাধান অন্যান্য গ্রাহকদেরও দিয়ে থাকে। তাই তাদের কাছ থেকে এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ পরিষেবাটি পাওয়া যাবে। গ্যারান্টি ও পার্ট্স ওয়ারেন্টি থাকলে বিনামূল্যে সেবার ও পার্ট্স বদলে দেওয়া হবে। আর গ্যারান্টি-ওয়ারেন্টি না থাকলে সেবার জন্য নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে।
তাছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রদত্ত টেকনিশিয়ানরা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। যন্ত্রের যে কোনও সমস্যার ব্যাপারে তারা স্বপ্রণোদিত হয়েই গ্রাহকদের যাবতীয় জিজ্ঞাসার জবাব দিয়ে থাকে।
শেষাংশ
গরমের শুরুতে এয়ার কন্ডিশনার চালনার আগে এই সতর্কতাগুলো অনুসরণ করা মানে নানা বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাওয়া। এসির বাইরের ও ভেতরের প্রতিটি সরঞ্জাম সূক্ষ্মভাবে পরিদর্শন করা অপরিহার্য। ডাক্ট ও ভেন্ট থেকে শুরু করে কম্প্রেসার পর্যন্ত যে কোনওটিতে কিঞ্চিত ত্রুটি পরবর্তীতে সমূহ ঝামেলার সৃষ্টি করতে পারে। সরঞ্জামগুলো পরিষ্কারের পর উৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে ফ্যান মুডে চালিয়ে একবার টেস্ট রান করে দেখা। উপরুন্তু, যান্ত্রিক বিষয়াদি নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকলে পেশাদার টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া উত্তম।
আরো পড়ুন: রাতে বাসে বা গণপরিবহনে নিরাপদে ভ্রমণে কিছু সতর্কতা
৩৫৮ দিন আগে
পবিত্র রমজানে কোরআন তেলাওয়াত শোনার ১০ মোবাইল অ্যাপ
সিয়াম সাধনার মাসে প্রতিদিন কোরআন তেলাওয়াত শোনার মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্তে ইবাদতে মশগুল থাকা সম্ভব। রমজানের মাহাত্ম্য অর্জনের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করা যেতে পারে স্মার্টফোনে কুরআন তেলাওয়াত শোনার মাধ্যমে। অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপল উভয় প্ল্যাটফর্মের জন্যই রয়েছে দারুণ কিছু অ্যাপ— যেগুলো এই ইবাদতের জন্য সহায়ক হতে পারে। চলুন, স্মার্টফোনে কোরআন তেলাওয়াত শোনার শীর্ষ-রেটিংপ্রাপ্ত অ্যাপগুলো দেখে নেওয়া যাক।
রমজানে যে ১০টি মোবাইল অ্যাপ হতে পারে কোরআন তেলাওয়াত শোনার উৎকৃষ্ট উপায়
.
কোরআন মাজিদ (Quran Majeed - القران الكريم / Quran Majeed - Ramadan 2025)
গুগল প্লে স্টোরে ৪.৬-স্টার এবং অ্যাপেল অ্যাপ স্টোরে ৪.৮-স্টার রেটিংপ্রাপ্ত এই অ্যাপটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাকডাটা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করা গেলেও প্রিমিয়াম ফিচারগুলোর জন্য ন্যূনতম ৮০ টাকা খরচ করতে হবে। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য অ্যাপটির সাইজ ৮৩ এমবি (মেগাবাইট) এবং অ্যাপেল ডিভাইস বা আইওএস-এর জন্য ১১০.৭ এমবি।
‘Quran Majeed - Ramadan 2025’-এ আছে আব্দুর রাহমান আল-সুদাইসের মতো বিখ্যাত সব ক্বারিদের তেলাওয়াত। দেশ-বিদেশের নানান ধরণের ভাষার পাশাপাশি পুরো ইন্টারফেসটি বাংলাতে এবং অফলাইনে চালানো যাবে।
অ্যান্ড্রয়েড: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.pakdata.QuranMajeed
অ্যাপল: https://apps.apple.com/us/app/quran-majeed-ramadan-2025/id365557665
আরো পড়ুন: নারীর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষায় মোবাইল অ্যাপ
আল কোরআন (তাফসির অ্যান্ড বাই ওয়ার্ড) | Al Quran (Tafsir and By Word)
গ্রীন্টেক অ্যাপ্স ফাউন্ডেশনের সরবরাহ করা এই সেবাটি কেবল শোনার জন্য নয়, কোরআন অধ্যয়নের জন্যও উপযোগী। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য জায়গা নিবে মাত্র ৪১ এমবি এবং আইওএস ডিভাইসের জন্য ২৬.২ এমবি।
সম্পূর্ণ ফ্রি অ্যাপটিতে আছে তাফসির ইবনে কাসির, তাজবীদ এবং বিভিন্ন ক্বারিদের তেলাওয়াতের অডিও— যেগুলো একাধিক ভাষায় অনুবাদকৃত। এর মধ্যে বাংলাও আছে।
‘Al Quran (Tafsir and By Word)’-এর গুগল প্লে স্টোরে সংগৃহীত রেটিং ৪.৮-স্টার এবং অ্যাপেল অ্যাপ স্টোরে ৪.৯-স্টার।
অ্যান্ড্রয়েড: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.greentech.quran&hl=en
অ্যাপল: https://apps.apple.com/us/app/al-quran-tafsir-by-word/id1437038111
আরো পড়ুন: ছোটদের বাংলা ভাষা শেখার ১০টি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ
তার্তিল - মেমোরাইজ কোরআন (Tarteel ترتيل - Memorize Quran)
পবিত্র কোরআনভিত্তিক অ্যাপ তার্তিলের বিশেষ দিক হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সুরা সঠিক পদ্ধতি অনুসারে মুখস্ত করার জন্য এটি ব্যবহারকারীর উচ্চারণ শুনে তা যাচাই করতে পারে। এই কারণে অ্যাপটি তার্তিল এআই নামেও পরিচিত।
অ্যাপটি ডাউনলোড করার জন্য অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে জায়গা থাকতে হবে ন্যূনতম ১৬৩ এমবি। আর আইফোন ব্যবহারকারিদের প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ২৩৩.২ এমবি স্টোরেজ। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তার্তিল ইনকরপোরেশন উদ্ভাবনী অ্যাপটিকে ফ্রিতে ডাউনলোডের সুযোগ দিচ্ছে।
এখন পর্যন্ত গুগল প্লে স্টোরে ‘Tarteel ترتيل - Memorize Quran’-এর রেটিং ৪.৭-স্টার, আর অ্যাপেলের অ্যাপ স্টোরে ৪.৮-স্টার।
অ্যান্ড্রয়েড: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.mmmoussa.iqra&hl=en
অ্যাপল: https://apps.apple.com/us/app/tarteel-%D8%AA%D8%B1%D8%AA%D9%8A%D9%84-ai-quran/id1391009396
আরো পড়ুন: কীভাবে জানবেন ঢাকার যানজটের সর্বশেষ অবস্থা?
মুসলিম প্রো: কোরআন আযান নামাজ / Muslim Pro: Prayer Times Qibla
অডিও তেলাওয়াত, নামাজের ওয়াক্তের নোটিফিকেশন, এবং কিবলার দিকনির্দেশ ফিচারের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি অ্যাপ ‘Muslim Pro: Prayer Times Qibla’। বিটসমিডিয়া পিটিই লিমিটেডের তৈরি অ্যাপটিতে আরও রয়েছে বঙ্গানুবাদের সুবিধা।
এখন পর্যন্ত আইফোন ব্যবহারকারীদের নিকট থেকে অ্যাপের প্রাপ্ত রেটিং ৪.৭-স্টার এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা দিয়েছে ৪.২ স্টার।
বিনামূল্যে ডাউনলোডের জন্য সরবরাহকৃত অ্যাপটির সাইজ আইফোনের জন্য ৩৯৭.৮ এমবি এবং অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ৬৫ এমবি।
অ্যান্ড্রয়েড: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.bitsmedia.android.muslimpro&hl=en
অ্যাপল: https://apps.apple.com/us/app/muslim-pro-prayer-times-qibla/id388389451?platform=iphone
আরো পড়ুন: নতুন স্মার্টফোন কিনছেন, জেনে নিন সেটি আসলেই নতুন কিনা!
আয়াত - কোরআন অ্যাপ (Ayah - Quran App)
আইওএস সমর্থিত ডিভাইসে ১৮৮.৯ এমবি এবং অ্যান্ড্রয়েডে ১৪৫ এমবি সাইজের এই অ্যাপটি ডেভেলপ করেছে আয়াত অ্যাপ। এতে আছে একাধিক ক্বারির কণ্ঠে সবগুলো সুরার অডিও প্লেব্যাক, বঙ্গানুবাদ এবং তাফসির। আয়াত শোনার সময় বুকমার্ক করার ফিচারটির মাধ্যমে পরবর্তীতে কতটুকু শোনা হয়েছে তা বোঝা যায়।
অ্যাপল অ্যাপ এবং গুগল প্লে উভয় স্টোরে ‘Ayah - Quran App’-এর রেটিং ৪.৮-স্টার। সহজাত ইন্টারফেসের এই ডিজিটাল পণ্যটি স্টোরগুলো থেকে বিনামূল্যেই ডাউনলোড করা যাবে।
অ্যান্ড্রয়েড: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.ayah
অ্যাপল: https://apps.apple.com/us/app/ayah-quran-app/id706037876?platform=iphone
আরো পড়ুন: শিশুদের টিকটক আসক্তি: ঝুঁকি থেকে যেভাবে বাঁচবেন
ইসলাম৩৬০: কোরআন, হাদিস, ক্বিবলা (Islam360: Quran, Hadith, Qibla)
জাহিদ হোসেন চিহ্পা এবং ইসলাম৩৬০ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট নির্মিত এই অ্যাপটি সব ধরণের ডিভাইস ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি। ডাউনলোড সাইজ অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে ১৮০ এমবি এবং আইফোনের জন্য ৬১১.৬ এমবি।
অ্যাপেল অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Islam360: Quran, Hadith, Qibla’-এর অর্জিত রেটিং ৪.৯-স্টার আর অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কাছে ৪.৮-স্টার। এতে একাধিক ভাষায় অনুবাদ, বিভিন্ন ক্বারিদের তেলাওয়াত, নামাজের ওয়াক্ত ও কিবলা দিকনির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাদিস সংকলন। এর কার্যকারিতার আরও একটি দিক হলো এর বুকমার্কিং এবং সার্চ ফিচার।
অ্যান্ড্রয়েড: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islam360
অ্যাপল: https://apps.apple.com/us/app/islam360-quran-hadith-qibla/id1006098149
আরো পড়ুন: লেখকদের সৃজনশীলতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব: ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা
এমপিথ্রি কোরআন (MP3 Quran القرآن الكريم)
অফলাইনে ইন্টারনেটের সাহায্য ছাড়াই ব্যবহারযোগ্য অ্যাপগুলোর মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয়। সহজ ইন্টার্ফেসের আওতায় এখানে উন্মুক্ত রয়েছে কোরআনের সবকটি সুরার অডিও লাইব্রেরি। এই সংগ্রহশালাকে সমৃদ্ধ করেছে বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান সব ক্বারিদের কণ্ঠ। এছাড়াও রয়েছে সার্চ, বুকমার্ক, ও স্লিপ টাইমারের ফিচার।
সম্পূর্ণ ফ্রি অ্যাপ ‘MP3 Quran القرآن الكريم’ সংরক্ষণের জন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোতে জায়গা থাকতে হবে ৪৬ এমবি এবং আইফোনে ১৫৪.৭ এমবি। ডিভাইস নির্বিশেষে সব ব্যবহারকারীরা অ্যাপটিকে ৪.৮-স্টার রেটিং দিয়েছে।
অ্যান্ড্রয়েড: https://play.google.com/store/apps/details?id=my.smartech.mp3quran
অ্যাপল: https://apps.apple.com/us/app/mp3quran/id533029431
আরো পড়ুন: ডিপসিক: এআইয়ের দুনিয়ায় চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির লড়াকু প্রতিপক্ষ
আব্দুর রাহমান আল-সুদাইস - ফুল (Abdul Rahman Al-Sudais - Full)
বিশ্ববরেণ্য ক্বারি মক্কার পবিত্র মাসজিদুল হারামের ইমাম শেখ আবদুর রাহমান আল-সুদাইস। তার তেলাওয়াতকৃত সম্পূর্ণ কোরআনকে একীভূত করা হয়েছে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।
শুধু অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য অ্যাপটি ডেভেলপ করেছে লাফ্জ অ্যাপ্স। ১২০ এমবির এই অ্যাপটি ইন্টারনেটের সংযোগ ছাড়াই চালানো যায়। এর ব্যাকগ্রাউন্ড প্লে ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ফোনের অন্যান্য অ্যাপ চালানোর সময়েও তেলাওয়াত শুনতে পারেন।
রিভিউদাতাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ‘Abdul Rahman Al-Sudais - Full’ অ্যাপ ৪.৮-স্টার রেটিং অর্জন করেছে।
অ্যান্ড্রয়েড: https://play.google.com/store/apps/details?id=rooh.apps.naaz.com.quran.al.sudais.offline
আরও পড়ুন: অনলাইন বই বাজার: ঘরে বসেই যে ১০ ওয়েবসাইট থেকে কিনতে পারেন পছন্দের বই
ফুল কোরআন শরীফ অফলাইন অ্যাপ (Full Quran Sharif Offline App)
অফলাইনে কোরআন পড়া ও শোনার জন্য আরও একটি কার্যকরি অ্যাপ ‘Full Quran Sharif Offline App’। কেবল অ্যান্ড্রয়েডের জন্য প্রযোজ্য ৪৯ এমবি সাইজের অ্যাপটি বানিয়েছে ডিকশনারী ওয়ার্ল্ড১১। ইতোমধ্যে ব্যবহারকারীদের নিকট থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোডযোগ্য এই অ্যাপের সংগ্রহ ৪.৫-স্টার রেটিং।
অনলাইনে পরিচালিত অন্যান্য অ্যাপগুলোর মতো এতেও আছে বিখ্যাত সব ক্বারিদের তেলাওয়াত, একাধিক ভাষায় অনুবাদ, সার্চিং ও বুকমার্কিং ফিচার।
অ্যান্ড্রয়েড:
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.fullquransharif.quranpak.translation.qibladirection&hl=en&gl=US
আরো পড়ুন: এয়ার পিউরিফায়ার: প্রয়োজনীয়তা, দাম, জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও নতুন মডেল
ইজি কোরআন এমপিথ্রি অডিও অফলাইন (Easy Quran Mp3 Audio Offline)
অফলাইন কোরআন শোনার এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি সংক্ষেপে ইজি কোরআন নামেও পরিচিত। মুসলিম ওয়ার্ল্ডঅ্যাপ নির্মিত অ্যাপটি এর সহজ ইন্টারফেসের জন্য ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। ব্যবহারকারীদের পর্যালোচনায় মাত্র ৪২ এমবির অ্যাপটি ৪.৫-স্টার রেটিং পেয়েছে।
‘Easy Quran Mp3 Audio Offline’ অ্যাপ শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের জন্য এবং তা বিনামূল্যেই ডাউনলোড করা যায়। এটি একদম পৃথক আয়াত পর্যন্ত সার্চ করার সুবিধা দেয়। একই সঙ্গে বারবার শোনার জন্য অন্যান্য অ্যাপের তুলনায় বেশ সহজভাবে একই আয়াতের পুনরাবৃত্তি করা যায়।
অ্যান্ড্রয়েড:
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.muslimappassistant.Islampro.qiblafinder.quranprayerdua
আরো পড়ুন: ভিডিও গেম খেলে অর্থ উপার্জনের উপায়
পরিশিষ্ট
কোরআন তেলাওয়াত শোনার এই ১০টি মোবাইল অ্যাপ হচ্ছে সর্বাধিক ব্যবহৃত এবং স্টোরগুলোতে সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত। তন্মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে ‘ইসলাম৩৬০’ এবং ‘আল কোরআন (তাফসির অ্যান্ড বাই ওয়ার্ড)’, ডিভাইস ভেদে যেগুলোর রেটিং ৪.৮ থেকে ৪.৯। ‘আয়াত’, ‘এমপিথ্রি কোরআন’, এবং ‘আব্দুর রাহমান আল-সুদাইস - ফুল’ অ্যাপগুলোর প্রত্যেকটির অর্জন ৪.৮। ৪.৭ থেকে ৪.৮-এ রয়েছে ‘তার্তিল’, ৪.৬ থেকে ৪.৮-এ ‘কোরআন মাজিদ’, এবং ৪.২ থেকে ৪.৭-এ ‘মুসলিম প্রো’। সর্বনিম্ন ৪.৫ রেটিং সংগ্রহে থাকা অ্যাপ দুটি হচ্ছে ‘ফুল কুরআন শরীফ অফলাইন’ এবং ‘ইজি কুরআন এমপিথ্রি অডিও অফলাইন’।
এই ডিজিটাল সেবাগুলোর যেকোনোটি হতে পারে পুরো রমজান মাসে রোযাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলার উৎকৃষ্ট উপায়।
আরও পড়ুন: ২০২৫ সালে যে প্রযুক্তিগত দক্ষতাগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকবে
৩৭০ দিন আগে
বাংলাদেশসহ ১৪১টি দেশে যুক্তরাজ্যের ভিসার জন্য এআই চ্যাটবট চালু
যুক্তরাজ্যে ভ্রমণকারীদের জন্য গ্রাহক সেবা উন্নত করতে সম্প্রতি একটি নতুন জেনারেটিভ এআই-চালিত চ্যাটবট চালু করেছে ভিএফএস গ্লোবাল। ১৪১টি দেশের গ্রাহকদের উন্নত সেবা দিতে এই সেবা চালু করেছে সংস্থাটি।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ভিএফএস গ্লোবাল।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এআই চ্যাটবট প্রযুক্তি জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভারতে অবস্থিত ভিএফএস গ্লোবালের এআই সেন্টারে তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ ১৪১টি দেশে যুক্তরাজ্যের ভিসা গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। জেনারেটিভ এআই-চালিত চ্যাটবটটি কথোপকথনে পারদর্শী, যা মানবসদৃশ কথোপকথন সেবা দিয়ে থাকে।
এটি ভয়েস এবং টেক্সট ইনপুটের মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম, যা নানা ধরনের সেবা গ্রহীতাকে কার্যকরভাবে সেবা দেয়। এটি টেক্সট ও ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমেও কাজ করে।
আরও পড়ুন: অনলাইন বই বাজার: ঘরে বসেই যে ১০ ওয়েবসাইট থেকে কিনতে পারেন পছন্দের বই
যুক্তরাজ্যে ভ্রমণকারী গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক, নির্ভুল ও সহজলভ্য তথ্য সরবরাহ করে থাকে এই চ্যাটবট।
কাস্টমার সার্ভিসেস গ্রুপ, ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা জেন ভিডলার বলেছেন, ভিএফএস গ্লোবালের এআই-চালিত চ্যাটবটটি আমাদের ভিসা পরিষেবাগুলোকে আরও সহজ, কার্যকর ও সব ধরনের গ্রাহকের চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি হিসেবে চালু করা হয়েছে।
৩৭৩ দিন আগে
অনলাইন বই বাজার: ঘরে বসেই যে ১০ ওয়েবসাইট থেকে কিনতে পারেন পছন্দের বই
যানজট ঠেলে সময় ও শ্রম নষ্ট করে দোকানে যেয়ে বই কেনার দিন শেষ। নানান উপলক্ষ এমনকি বইপ্রেমিদের বৃহৎ উৎসব বইমেলার জন্যও আকর্ষণীয় পসরা সাজিয়ে বসে বই কেন্দ্রিক ই-কর্মাস সাইটগুলো। অন্যান্য পণ্যের মতো এখন অর্ডার করা কাগুজে বইও এসে হাজির হয় বাড়ির দোরগোড়ায়। চলুন, ঘরে বসে প্রিয় বইটি কেনার জন্য বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ কয়েকটি ওয়েবসাইটের ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
অনলাইনে বই কেনার জন্য সেরা ১০টি ওয়েবসাইট
.
রকমারি
সাইট লিঙ্ক: https://rokomari.com/
বর্তমান সময়ে বইয়ের অনলাইন স্টোরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম রকমারি। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিস্তৃত পরিসরে সমৃদ্ধ এই ডিজিটাল সংগ্রহশালায় সার্বক্ষণিক আনাগোনা থাকে দেশীয় পাঠকদের।
আরো পড়ুন: ছোটদের বাংলা ভাষা শেখার ১০টি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ
এখানে বই অর্ডারের প্রক্রিয়া শুরু হয় অ্যাকাউন্ট তৈরির মধ্য দিয়ে। এক বা একাধিক পছন্দসই বই নিয়ে কার্ট তৈরি করে চেকআউট দিলেই সম্পন্ন হয় কাঙ্ক্ষিত অর্ডারটি। ব্যাংকিং সিস্টেম, মোবাইল গেটওয়ে, এবং ক্যাশ অন ডেলিভারিসহ দেশের প্রায় সব প্রচলিত পরিষেবা রয়েছে মূল্য পরিশোধের জন্য।
রকমারি বই ডেলিভারি সেবা ছড়িয়ে রয়েছে সারা দেশব্যাপী। ঢাকার মধ্যে হলে ডেলিভারিতে সময় লাগবে ২ থেকে ৩ দিন, আর বাইরে হলে ৩ থেকে ৫ দিন সময় নেয়। পণ্যের ধরন, পরিমাণ, ওজন এবং ডেলিভারি অবস্থানের উপর ভিত্তি করে শিপিং চার্জ ন্যূনতম ৪৮ টাকা থেকে শুরু হয়।
অফিসের ঠিকানা: ২/১/ই, ইডেন সেন্টার, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.rokomari
অ্যাপেল অ্যাপ: https://apps.apple.com/us/app/rokomari-trusted-online-store/id1493045502
আরো পড়ুন: অভ্র কি-বোর্ড: বাংলা ভাষার ডিজিটাল রূপান্তরে মেহেদী হাসান ও নেপথ্য কুশলীরা
পিবিএস
সাইট লিঙ্ক: https://pbs.com.bd
পাঞ্জেরি বুক শপ সংক্ষেপে পিবিএস অনেক আগে থেকে দেশের সর্বস্তরের পাঠকদের নিকট একটি স্বনামধন্য প্রকাশনা। প্রথমদিকে ছোট্ট বইয়ের দোকান থেকে শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে অনলাইনে রয়েছে সরব উপস্থিতি। ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের মাধ্যমে খুব সহজেই গ্রাহকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত বইটির জন্য কার্ট তৈরি করতে পারেন। চেকআউট শেষে মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে ঘরে বসেই বইয়ের দাম পরিশোধ করা যায়। অগ্রিম পেমেন্টের পাশাপাশি আছে ক্যাশ অন ডেলিভারি ব্যবস্থা।
পিবিএস’র বই ডেলিভারি পরিষেবা সারা বাংলাদেশ জুড়ে বিস্তৃত। ডেলিভারি চার্জ, সময়সীমা পণ্যের পরিমাণ ও লোকেশন ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।
অফিসের ঠিকানা: ৪৩ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সড়ক (পুরাতন ১৬ শান্তিনগর), ঢাকা-১২১৭
আরো পড়ুন: নতুন স্মার্টফোন কিনছেন, জেনে নিন সেটি আসলেই নতুন কিনা!
পাঠক সমাবেশ
সাইট লিঙ্ক: https://pathakshamabesh.com/
৩৮ বছরের পুরোনো সংগঠন পাঠক সমাবেশ এখন দেশি-বিদেশি বইয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর মেম্বারশিপ থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে গ্রাহকরা চাইলে সশরীরেও যেতে পারেন এর সুদৃশ্য লাইব্রেরিতে।
বর্তমানে কম্পিউটার এবং মোবাইল উভয় মাধ্যমেই পাঠক সমাবেশের জন্য নিবন্ধন পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে বই ক্রয়, প্রি অর্ডার, পেমেন্ট, এবং মেম্বারশিপ সব কার্যকলাপ সম্পন্ন করা যায় এই অ্যাকাউন্টের অধীনে। এর বিষয়ভিত্তিক হেডার মেনু, ক্যাটাগরি, লেখক, এবং শিরোনামকেন্দ্রিক সার্চ অপশন গোটা ইন্টারফেসকে দিয়েছে সহজবোধ্যতা। এতে গ্রাহকরা সহজেই এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে চেকআউটের সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন।
আরো পড়ুন: শিশুদের টিকটক আসক্তি: ঝুঁকি থেকে যেভাবে বাঁচবেন
পাঠক সমাবেশের সেবার পরিধি বিস্তৃত রয়েছে গোটা দেশে। অর্থপ্রদানের একাধিক বিকল্প রয়েছে, তবে ক্যাশ অন ডেলিভারি শুধুমাত্র ঢাকার জন্য প্রযোজ্য।
অফিসের ঠিকানা: পাঠক সমাবেশ প্রাইভেট লিমিটেড, বিল্ডিং নং ৪, ১ম তলা, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর (আজিজ মার্কেটের বিপরীতে) শাহবাগ, ঢাকা-১০০০
অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.pathak.shamabesh
অ্যাপেল অ্যাপ: https://apps.apple.com/us/app/pathak-shamabesh/id1571038621
আরো পড়ুন: লেখকদের সৃজনশীলতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব: ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা
বই বাজার
সাইট লিঙ্ক: https://www.boibazar.com/
বৈচিত্র্যপূর্ণ সংগ্রহের দিক থেকে বই কেন্দ্রিক একটি প্রসিদ্ধ ই-কমার্স সাইট বই বাজার। যেকোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মতো এখানে গ্রাহকরা নিজেদের ই-মেইল বা মোবাইল নাম্বার দিয়ে সহজেই নিবন্ধন করতে পারেন।
কার্টে বই সংযুক্ত করা থেকে শুরু করে চেকআউট পর্যন্ত সার্বিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত সাবলীল। অর্থপ্রদানের মাধ্যমগুলোর মধ্যে থেকে ক্রেতারা নিজের পছন্দ মতো পরিষেবাটি বেছে নিতে পারেন। এছাড়া বই বুঝে নিয়েও মূল্য পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
বই বাজার সমগ্র বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি করে থাকে। বইয়ের ধরণ, পরিমাণ ও লোকেশনের উপর নির্ভর করে ডেলিভারি চার্জ এবং সময়সীমা কমবেশি হয়ে থাকে।
অফিসের ঠিকানা: লেভেল: ১৪, সাত্তারা সেন্টার ৩০/এ ভিআইপি রোড, নয়া পল্টন, ঢাকা-১০০০
আরো পড়ুন: ডিপসিক: এআইয়ের দুনিয়ায় চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির লড়াকু প্রতিপক্ষ
বুকস ডট কম ডট বিডি
সাইট লিঙ্ক: https://books.com.bd
শুরুতে বই-মেলা ডট কম (boi-mela.com) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এই সাইটটির ডোমেইন নাম বুকস ডট কম ডট বিডি। পাঠক, লেখক, ও প্রকাশকদের ভিন্ন ভিন্ন সাইটসহ এই অনলাইন লাইব্রেরিটি একটি সমন্বিত মঞ্চ। প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্ট সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
গ্রাহকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত বইটি সার্চ করে খুঁজে বের করে শপিং কার্টে যুক্ত করতে পারেন। কার্ট চূড়ান্ত হলে চেকআউটের পর ডেলিভারি এবং অর্থপ্রদানের জন্য বিশদ তথ্য প্রদান করতে হয়। অগ্রিম ও ক্যাশ অন ডেলিভারি উভয় পদ্ধতিতেই মূল্য পরিশোধের সুযোগ আছে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই ঘরে বসেই পরিশোধ করা যায়।
নির্দিষ্ট চার্জের বিনিময়ে বুকস ডট কম ডট বিডি সারা দেশে হোম ডেলিভারি সেবা প্রদান করে। ঢাকার ভেতরে ও বাইরের অঞ্চলভেদে ডেলিভারি চার্জ এবং সময়সীমার মধ্যে তারতম্য হয়ে থাকে।
অফিসের ঠিকানা: নোয়াখালী টাওয়ার, ৯/সি (৮ম তলা), ৫৫/বি পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
আরো পড়ুন: কীভাবে জানবেন ঢাকার যানজটের সর্বশেষ অবস্থা?
বাতিঘর
সাইট লিঙ্ক: https://baatighar.com
বাংলাদেশের বইপ্রেমিদের নিকট প্রিয় একটি গন্তব্য এই বাতিঘর। অফলাইনের মতো অনলাইনেও রয়েছে এর ব্যাপক পরিচিতি।
ইন্টারফেস যথেষ্ট সুবিধাজনক হওয়ায় গ্রাহকরা লেখক ও জনরা ভেদে বই অনুসন্ধানের সুযোগ পান। নিজস্ব অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ব্যবস্থা থাকায় কার্ট থেকে চেকআউট পর্যন্ত পুরো অর্ডার পদ্ধতিতে কোনো জটিলতার অবকাশ থাকে না।
ডেলিভারি পেয়ে ক্যাশ দেওয়াসহ অর্থ পরিশোধের জন্য বিভিন্ন ধরণের মোবাইল ও ব্যাংকিং সেবা সংযুক্ত আছে। ফলে মূল্য পরিশোধ নিয়ে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত হোম ডেলিভারি চালু রাখায় বাতিঘর এখন সর্বস্তরের পাঠককের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, ও রাজশাহীতে এর শাখা রয়েছে।
হেড অফিসের ঠিকানাঃ সপ্তম তলা, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবন, ১৭ ময়মনসিংহ রোড/বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গোলি, ঢাকা-১২০৫
আরো পড়ুন: ভিডিও গেম খেলে অর্থ উপার্জনের উপায়
ওয়াফিলাইফ
সাইট লিঙ্ক: https://www.wafilife.com
ইসলামী বইয়ের এক অনন্য ডিজিটাল সংগ্রহশালা ওয়াফিলাইফ। দেশের প্রথম সারির বই ভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর মতো এতেও রয়েছে অত্যাধুনিক ফিচার। এর মধ্যে জনরা ভিত্তিক মেনু ও সার্চ সিস্টেম, পছন্দনীয় লিস্ট, অ্যাকাউন্ট, শপিং কার্ট এবং একাধিক পেমেন্ট সিস্টেম অন্যতম।
মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে অগ্রিম এবং ক্যাশ অন ডেলিভারি উভয় সুবিধাই দেওয়া হয়। অ্যাকাউন্ট, বই সার্চ, এবং অর্ডারের প্রক্রিয়া মোবাইল থেকেও সম্পন্ন করা যায়।
ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সর্বত্র ওয়াফিলাইফের হোম ডেলিভারি সেবা রয়েছে।
অফিসের ঠিকানা: বাড়ি ৩১০, রোড ২১, মহাখালী ডিওএইচএস, ঢাকা-১২০৬
অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.wafilife.app&utm_source=website
আরো পড়ুন: এয়ার পিউরিফায়ার: প্রয়োজনীয়তা, দাম, জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও নতুন মডেল
ই-বইঘর
সাইট লিঙ্ক: https://eboighar.com
শিক্ষাগত ও কর্মজীবনের সকল গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের জন্য ওয়ান-স্টপ-পয়েন্ট বলা যেতে পারে ই-বইঘরকে। সাধারণ সার্চ ফিচার ছাড়াও এতে রয়েছে লেখক ও পাবলিশার সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরি ভিত্তিক মেনু। পৃথক অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা ইতিপূর্বে অর্ডারকৃত বইগুলো পুনরায় কেনার জন্য নতুন করে খুঁজে বের করতে হয় না।
তাছাড়া সহজাত ইন্টারফেস নিয়মিত কার্ট পরিচালনা, চেকআউট, এবং অর্থ পরিশোধের পদক্ষেপগুলোকে ঝামেলাহীন করে তুলেছে।
ই-বইঘরের সেবার পরিধি সারা দেশে বিস্তৃত এবং সব অঞ্চলের গ্রাহকরাই ডেলিভারি পরবর্তী অথবা অগ্রিম পেমেন্টের সুবিধা পান।
অফিসের ঠিকানা: ২১৫/এ আউটার সার্কুলার রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
আরো পড়ুন: ২০২৫ সালে যে প্রযুক্তিগত দক্ষতাগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকবে
দারাজ বুকস অ্যান্ড ম্যাগাজিন্স
সাইট লিঙ্ক: https://www.daraz.com.bd/books-magazines
দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজও দীর্ঘ দিন ধরে বইপ্রেমিদের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। কম্পিউটারের জন্য এর ওয়েব ভার্সন এবং মোবাইল অ্যাপ দুটোতেই সমানভাবে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে গ্রাহকরা। তাই অ্যাকাউন্ট তৈরি, কার্ট সম্পাদনা, এবং অর্থ পরিশোধ; কোনো ক্ষেত্রেই তেমন ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয় না। এরপরেও কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে ‘দাজ’ (Daz) নামক চ্যাটবটের সাহায্য নেওয়া যায়।
বিশেষ করে কেনার আগে নির্দিষ্ট বইটির জন্য প্রয়োজনীয় রিভিউ দেখার ক্ষেত্রে এই সাইটের জুড়ি মেলা ভার। ডেলিভারি হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধসহ বিভিন্ন ধরণের অর্থ পরিশোধের পদ্ধতির সঙ্গে রয়েছে বৈচিত্র্যপূর্ণ ডেলিভারি সেটিং। দারাজের সেবার ব্যাপ্তি ছড়িয়ে রয়েছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে।
অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.daraz.android
অ্যাপেল অ্যাপ: https://apps.apple.com/gb/app/daraz-online-shopping-app/id978058048
আরো পড়ুন: আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বুক হাউস
সাইট লিঙ্ক: https://bookhousebd.com
বয়স ও পেশা নির্বিশেষে সব ধরণের পাঠকদের কাছে প্রিয় ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম এই বুক হাউস। বই কেনাবেচার ক্ষেত্রে দেশের প্রসিদ্ধ অনলাইন সাইটগুলোর মতো এর ইন্টারফেসও যথেষ্ট সহজবোধ্য। অর্ডারের সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাকাউন্ট, শপিং কার্ট, চেকআউট, ডেলিভারি ও পেমেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য প্রদান প্রতিটি বিষয় বেশ নিরবচ্ছিন্ন।
বুক হাউসের সেবার পরিব্যাপ্তি দেশ জুড়ে বিস্তৃত। শিপমেন্ট ব্যবস্থায় একাধিক অপশন না থাকলেও বিভিন্ন ধরণের পেমেন্ট ক্যাটাগরির সুবিধা প্রত্যেক অঞ্চলের গ্রাহকরাই পেয়ে থাকেন।
অফিসের ঠিকানা: প্রীতম ভবন, ২১৫, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, নিচতলা, রুম নং: ৩২-৩৬, (পুরানা পল্টন), ঢাকা-১০০০
আরো পড়ুন: টপ লোড বনাম ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন: জেনে নিন সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ
পরিশিষ্ট
অনলাইনে বই কেনার জন্য এই ১০টি ওয়েবসাইট পাঠকদের বই বিপণীর বিড়ম্বনাকে কমিয়েছে। এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ইতোপূর্বে স্বনামধন্য এবং সাহিত্যানুরাগীদের প্রিয় গন্তব্য ‘পিবিএস’ পাঠক সমাবেশ, এবং ‘বাতিঘর’। অনলাইন বই বিপণীর এই বিপ্লবে ‘রকমারি’র সহযোদ্ধারা হলো ‘বুক্স ডট কম ডট বিডি’, ‘বই বাজার’, এবং ‘ই-বইঘর’। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ডিজিটাল স্টোরগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ওয়াফিলাইফ’ এবং ‘বুক হাউস’। এমনকি দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স সাইট ‘দারাজ’ও সমান আস্থা নিয়ে বইপ্রেমিদের চাহিদা পূরণ করে আসছে। সামগ্রিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মগুলো বাংলাদেশিদের বইপ্রীতি বাড়াতে ব্যাপক অবদান রাখছে।
আরো পড়ুন: রয়্যাল এনফিল্ড ৩৫০ সিসির নতুন চারটি মোটরবাইক মডেলের আকর্ষণীয় সব ফিচার
৩৭৪ দিন আগে
গুগলের নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে শঙ্কা
ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি, (ইউএনবি)— এ বছরের জানুয়ারিতে গুগলের ঘোষিত নিরাপত্তা নীতি পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে আজ (রবিবার)। তবে ‘ফিঙ্গারপ্রিন্টিং’ নামের ওই নিরাপত্তা নীতিতে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও গুগল বলছে, বিজ্ঞাপনদাতাদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারকারীর রুচি অনুযায়ী বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সুবিধার্থেই এই নীতি কার্যকর করা হচ্ছে, তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহলের দাবি, এর ফলে ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাবে এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের মাধ্যমে এসব তথ্য অপব্যবহার করার ঝুঁকি বাড়বে।
গুগলের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, গুগলের সেবা ব্যবহারকারীদের ডিভাইসের আইপি অ্যাড্রেসসহ ডিভাইস-সংক্রান্ত আরও তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন অনলাইন বিজ্ঞাপনদাতারা।
অবশ্য এ বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিভিন্ন কোম্পানি আগে থেকেই ব্যাপকভাবে এসব তথ্য ব্যবহার করে আসছে। এখন তারা তথ্য ব্যবহারে ওইসব কোম্পানিকে দায়িত্বশীলতার মধ্যে আনতে চায়।
আরও পড়ুন: অ্যাপল ও গুগল মানচিত্র: মেক্সিকো বাদ দিয়ে আমেরিকা উপসাগর নামকরণ
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ২০১৯ সালে প্রথম যখন বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ ধরনের নীতি প্রণয়নের আলোচনা হয়, তখন খোদ গুগলই এই নীতি বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেছিল। ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের এই প্রক্রিয়াকে তখন তারা অসাধু কাজ বলে আখ্যায়িত করে। তবে তার ৬ বছর পরই সেই পথেই হাঁটতে শুরু করল প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে বিবিসিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, নিরাপত্তা নীতিমালা-সংক্রান্ত নতুন এই নীতি বাস্তবায়নের ফলে অংশীদারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে কোনো আপোষ করা হবে না বলেও নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গুগল নিশ্চয়তা দিলেও তাতে আশ্বস্ত হতে পারছে না ইন্টারনেটে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল। প্রতিষ্ঠানটির এহেন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা হচ্ছে বিভিন্নভাবে। এই নীতিমালাকে ‘ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অনেকে।
গুগল ক্রোমের প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাউজার মজিলার প্রকৌশলী মার্টিন থমসন বলেছেন, ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও আইপি অ্যাড্রেস সংগ্রহ করা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হলে একটি পর্যায়ে গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন: নতুন স্মার্টফোন কিনছেন, জেনে নিন সেটি আসলেই নতুন কিনা!
তিনি বলেন, ‘ফিঙ্গারপ্রিন্টিং চালু করে গুগল নিজেদের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানিগুলোর হাতে এমন এক ট্র্যাকিং পদ্ধতি তুলে দিয়েছে যা ব্যবহারকারীর পক্ষে আটকানো প্রায় অসম্ভব।’
যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশন অফিস (আইসিও) বলছে, ‘ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের একটি অসাধু পন্থা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের পছন্দের তালিকা সংকুচিত হয়ে যাবে। এমনকি তথ্য সংগ্রহে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও সীমিত হয়ে পড়বে।’
৩৮৩ দিন আগে
অ্যাপল ও গুগল মানচিত্র: মেক্সিকো বাদ দিয়ে আমেরিকা উপসাগর নামকরণ
নিজেদের মানচিত্রে মেক্সিকো উপসাগরকে আমেরিকা উপসাগর হিসেবে নামকরণ করেছে অ্যাপল। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এরআগে সার্চ জায়ান্ট গুগলও একই কাজ করেছে। তবে তারা একটু ব্যতিক্রমীভাবে এই নাম পরিবর্তন করেছে। মার্কিন ব্যবহারকারীরা গুগল ম্যাপে আমেরিকা উপসাগর দেখতে পাবেন, আর মেক্সিকানরা দেখবেন মেক্সিকো উপসাগর।
এক ব্লগ পোস্টে তারা বলেছে, সরকারি নামকরণ তালিকা হালনাগাদ করা হলে আমাদের মানচিত্রে পরিবর্তন আনা হবে। মার্কিন নাগরিকরা দেখবেন আমেরিকা উপসাগর, আর মেক্সিকানরা দেখবেন মেক্সিকো উপসাগর। এর বাইরে যারা থাকবেন, তারা দুটো নামই দেখতে পাবেন।
আরও পড়ুন: ২০২৫ সালে যে প্রযুক্তিগত দক্ষতাগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকবে
এরআগে মেক্সিকো উপসাগরণের নাম পরিবর্তনে মার্কিন জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেমের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প। তবে এই নামবদলের সমালোচনা করে মেক্সিকো জানিয়েছে, উপসাগরটির নাম পরিবর্তনের কোনো অধিকার নেই যুক্তরাষ্ট্রের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মেক্সিকো ও কিউবার সাথে এই জলসীমার নতুন নামকরণের আদেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। গেল রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ হালনাগাদ করেছে মার্কিন জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম। এছাড়া বিংগস ম্যাপেও নাম পরিবর্তন এনেছে মাইক্রোসফট।
পাঁচ হাজার ৩০০ ফুট গভীরতার মেক্সিকো উপসাগরের সাথে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কেউবার সীমান্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তিকে কাজে লাগান, কার্যকর পদক্ষেপ নিন: ডি-৮ সদস্যদের অধ্যাপক ইউনূস
তবে মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) আমেরিকান উপসাগর নামটির স্বীকৃতি দিলেও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে মূল নাম মেক্সিকো উপসাগরই উল্লেখ করবে। গেল ৪০০ বছর ধরে উপসাগরটি এই নাম বহন করে আসছে।
৩৮৭ দিন আগে
নতুন স্মার্টফোন কিনছেন, জেনে নিন সেটি আসলেই নতুন কিনা!
সুক্ষ্ম কিছু বিষয়ে উদাসীনতার জন্য অনেকেই সদ্য ক্রয় করা স্মার্টফোনটি আসলেই নতুন কিনা, তা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন। প্রায় দেখা যায়, পূর্বে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো ভালোভাবে মেরামত করে বিক্রির জন্য তুলে রাখা হয়। তখন আপাতদৃষ্টিতে এগুলোকে দেখে একদম নতুন মনে হয়। সঙ্গত কারণে, নতুন ফোন কেনার অনেক পরে ক্রেতা আবিষ্কার করেন যে, তার ফোনটি আসলেই নতুন নয়। এজন্য ফোন কেনার সময় কিছু কৌশল অনুসরণ করা জরুরি। চলুন, স্মার্টফোনের নতুনত্বের সত্যতা নিরূপণ করার কিছু ব্যবহারিক পদ্ধতি বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
নতুন কেনা মোবাইল ফোনটি সত্যিই নতুন কিনা তা যাচাইয়ের ১০টি উপায়
.
ফোনের প্যাকেজিং এবং সীল পরীক্ষা
যেকোনো নতুন পণ্যের মতো নতুন ফোনের ক্ষেত্রেও সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো অক্ষত এবং ভাল-সিল করা প্যাকেজিং। মডেল, রঙ ও আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) সহ ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদির লেবেলসহ প্যাকেজিংটি বেশ মজবুত থাকে। প্রস্তুতের পর একদম সদ্য মার্কেটে আসা পণ্যগুলোতে প্রায়ই সুরক্ষা সিল থাকে। একবার খুলে ফেললে পুনরায় সিল করার পরেও আগের ভাঙা সিলের চিহ্ন থেকে যায়। তাই ফোনের বাক্সটি সিল বিহীন কিংবা একদম খোলা কিনা তা খুটিয়ে দেখা জরুরি।
যেমন আইফোনের বাক্সগুলো সাধারণত সিম্লেস প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো থাকে। ভিভোর ডিভাইসগুলোতে ব্র্যান্ডের স্টিকার ব্যবহার করা হয়, যা একবার খুলে ফেলার পর নষ্ট সিল বেশ ভালোভাবে দৃষ্টিগোচর হয়।
আরো পড়ুন: শিশুদের টিকটক আসক্তি: ঝুঁকি থেকে যেভাবে বাঁচবেন
ফোনের বাহ্যিক অংশ পর্যবেক্ষণ
কেনার সময় ফোনের নতুনত্ব যাচাইয়ের সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো ফোনের বডি চেকআপ। ডিভাইসটির বডি বিশেষত স্ক্রিনে কোনো স্ক্র্যাচ, ডেন্ট বা দাগ আছে কিনা তা সাবধানে পরীক্ষা করতে হবে। চার্জিং পোর্ট ও স্পিকার ছিদ্রের মতো জায়গাগুলোতে নজর রাখতে হবে। আগে ব্যবহৃত হলে এই অংশগুলোতে সুক্ষ্ম অসঙ্গতি চোখে পড়বে। ক্যামেরার লেন্সে আঙ্গুলের ছাপ বা হালকা ধুলো জমা থাকা মানেই ফোনটি ইতোমধ্যে একবার খোলা হয়েছে।
ওয়ানপ্লাস এবং অপ্পোর মডেলগুলোর ধাতব ফ্রেম এতটাই মসৃণ থাকে যে পূর্ববর্তী ব্যবহারে সৃষ্ট ছোট ছোট বিচ্যুতিগুলো নিমেষেই ধরা পড়ে।
সিরিয়াল নম্বর এবং আইএমইআই যাচাই
প্রত্যেকটি ফোনের জন্য থাকে একটি একক ও অনন্য সিরিয়াল নম্বর এবং আইএমইআই। ফোনের বক্সে দুটো কোডই পাওয়া যায়। তাছাড়া ফোনের সেটিংসে বা (অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ক্ষেত্রে) *#০৬# ডায়াল করেও এই কোডগুলো পাওয়া যায়। এই নম্বরগুলো ফোন বক্সের প্রদত্ত নম্বরগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
যেমন অ্যাপলের ওয়েবসাইটে একটি ভেরিফিকেশন টুল থাকে যার মাধ্যমে আইফোনের সিরিয়াল নম্বর দিয়ে তার অ্যাক্টিভেশন স্ট্যাটাস যাচাই করা যায়। একইভাবে, ভিভো এবং রিয়েলমিরও ওয়ারেন্টি ও অ্যাক্টিভেশনের তারিখ যাচাইয়ের জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট রয়েছে। তথ্যগুলো যথাযথভাবে মিলে না গেলে বুঝতে হবে যে ফোনটি ন্যূনতম একবার হলেও হাত-বদল হয়েছে।
আরো পড়ুন: লেখকদের সৃজনশীলতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব: ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা
১০০ ভাগ চার্জযুক্ত ব্যাটারি
নতুন ক্রয় করা ফোনের ব্যাটারি স্বাভাবিকভাবেই শতভাগ চার্জ থাকা উচিত। ম্যানুয়ালি চার্জ দেওয়া ছাড়াও ফোনের সেটিংস থেকে ব্যাটারির অবস্থা চেক করা যেতে পারে। ফোন চালু করে দেখার সময় ব্রাইটনেস কম থাকলে তা চার্জ ২০ শতাংশের নিচে থাকার ইঙ্গিত দেয়। তবে এর ওপরে থাকলে ফোনের অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) গড়পড়তায় মোটামুটি কার্যক্ষমতা নিয়ে চলতে পারে। বিষয়টি আপাতদৃষ্টে বোঝাটা কঠিন। তাই পুরোপুরি ১০০ শতাংশ আছে কিনা তা ভালোভাবে জেনে সন্দেহ দূর করে নেওয়া উত্তম।
অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়ক ডায়াগনস্টিক অ্যাপ বা বিল্ট-ইন ব্যাটারি টুল থাকে।
আভ্যন্তরীণ সফ্টওয়্যার পরীক্ষা
সদ্য বাজারে প্রকাশিত ফোনে ফ্যাক্টরি ইন্সটল করা অ্যাপ এবং ওএস-এর সর্বশেষ সংস্করণ থাকে। থার্ড-পার্টি অ্যাপ, অসংলগ্ন সেটিংস বা পুরানো সফ্টওয়্যার মানেই ফোনটি এর আগে একবার ব্যবহার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কি কি অ্যাপ থাকে তা দেখার সবচেয়ে কার্যকরী কৌশল হলো ফ্যাক্টরি রিসেট করা।
কোনো কোনো ফোন রিসেট করার পর শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সিস্টেম অ্যাপ দেখা যাবে। তাই এ ক্ষেত্রে আগে থেকে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ্স থাকাটা ইতোপূর্বে ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়াও অব্যবহৃত ফোনে কখনোই পুরানো সংস্করণের কোনো সফ্টওয়্যার থাকবে না। পুরনো অ্যাপের অর্থ হলো ফোনটি আগে সক্রিয় ছিল এবং মাঝের সময়টিতে অ্যাপটির আপডেট করা হয়নি।
আরো পড়ুন: ডিপসিক: এআইয়ের দুনিয়ায় চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির লড়াকু প্রতিপক্ষ
ওয়ারেন্টি এবং অ্যাক্টিভেশনের তারিখ নিরীক্ষা
অ্যাক্টিভেশনের তারিখ ও ওয়ারেন্টি অনুসরণ করে একটি ফোন কবে প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল তা বের করা যায়। এই তথ্যাবলি যাচাইয়ের জন্য অধিকাংশ ফোন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব অনলাইন পরিষেবা রয়েছে। ফোনের সিরিয়াল নাম্বার দিয়ে সেই সাইটগুলোতে সংশ্লিষ্ট ফোনের অ্যাক্টিভেশনের তারিখ এবং ওয়ারেন্টি কভারেজ জানা যায়। সাধারণত নতুন বাজারে আসা ফোনের ওয়ারেন্টি কেনার তারিখ থেকে শুরু করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত থাকবে। শেষ সীমাটি যদি খুব কাছাকাছি হয় তাহলে বুঝতে হবে ডিভাইসটি অনেক আগে থেকেই চালু ছিলো।
মেরামতের কোনো চিহ্ন আছে কিনা তা দেখা
কেসিংসহ পুরো বডির যেকোনো অংশে কোন ধরণের মেরামত করা হলে তা ফোনে ছাপ রেখে যায়। স্ক্রুগুলোতে খেয়াল করলে দেখা যাবে যে সেগুলোর আশেপাশে ক্ষুদ্র দাগ রয়েছে। কখনও কখনও মেরামতের পর স্ক্রুগুলো ভালোভাবে লাগানো হয় না। অন্যদিকে, নতুন ডিভাইসে কোনরকম স্ক্র্যাচ ছাড়াই যুতসইভাবে স্ক্রু লাগানো থাকে। কোনো কোনো ফোনে স্ক্রুর উপর ক্ষুদ্রাক্ষুদ্র বুশ ব্যবহার করা হয় যা ছিদ্রের সঙ্গে মাপ মতো যুক্ত হয়ে থাকে। কিন্তু পুরাতন ফোনে দেখা যাবে এগুলোর একটি নেই অথবা থাকলেও তার মাপ সমান নয়।
এছাড়া প্রায় সময় ফোনের আভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশগুলো আনঅফিসিয়াল বা মানহীন যন্ত্রাংশ দিয়ে বদলে দেওয়া হয়। এর ফলে ফোনের দীর্ঘায়ুর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আরো পড়ুন: কীভাবে জানবেন ঢাকার যানজটের সর্বশেষ অবস্থা?
ফোনের সাথে সরবরাহকৃত সামগ্রী যাচাই
বক্সের ভেতর ফোনের সঙ্গে দেওয়া থাকা অন্যান্য সামগ্রী সুক্ষ্মভাবে যাচাই করা অত্যাবশ্যক। আইফোন, ওয়ানপ্লাস এবং রিয়েলমি-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো ফোন মডেলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আনুষঙ্গিক সামগ্রী সরবরাহ করে। চার্জার, কেবল, অ্যাডাপ্টার, কিংবা ইয়ারফোনের গায়ে ব্র্যান্ডের লোগো দেখা যেতে পারে।
ভিভো এবং অনার ডিভাইসগুলোতে থাকা সুনির্দিষ্ট চার্জিং অ্যাডাপ্টারগুলোর প্রতিলিপি করা বেশ কঠিন। তাই নকল দেওয়া হলে তা অচিরেই ধরা পড়ে।
ডায়াগনস্টিক টেস্ট
ফোনের হার্ডওয়্যার এবং সফ্টওয়্যার সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডায়াগনস্টিক টেস্টের গুরুত্ব অপরিসীম। আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড উভয় ধরনের ফোনে স্ক্রিন, সেন্সর এবং ব্যাটারি পরীক্ষা করার জন্য নিজস্ব ডায়াগনস্টিক মেনু এবং টুল রয়েছে। ডিসপ্লে, স্পিকার এবং ক্যামেরা পরীক্ষার দিকেও সতর্ক নজর রাখা প্রয়োজন।
আইফোনের ক্ষেত্রে প্রথমে পাওয়ার-অফ করতে হবে। তারপর এ অবস্থায় ভলিউম আপ ও ডাউন বোতাম দুটি একসঙ্গে চেপে রেখে ফোনকে চার্জে লাগাতে হবে। কিছুক্ষণ পর অ্যাপল লোগো প্রদর্শিত হলে বোতামগুলো ছেড়ে দিতে হবে। তারপর প্রদর্শিত বার্তার নিচে ‘স্টার্ট সেশন’-এ ট্যাপ করলেই ডায়াগনস্টিক মুড সক্রিয় হয়ে যাবে।
আরো পড়ুন: ভিডিও গেম খেলে অর্থ উপার্জনের উপায়
অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ‘*#*#৪৬৩৬#*#*’-এ ডায়াল করে ব্যাটারিসহ সমগ্র ফোনের পারফর্মেন্সের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে। এছাড়া ‘টেস্টএম’ বা ‘ফোন ডক্টর প্লাস’-এর মতো বেশ কিছু অ্যাপ রয়েছে যেগুলো অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে ডায়াগনস্টিক মুড সক্রিয় করে।
ক্রয়ের রশিদসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যবেক্ষণ
একটি পণ্যের পাশাপাশি তার খুচরা বিক্রেতার বৈধতা নিরুপণের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো পণ্য ক্রয়ের রশিদসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় নথিপত্র। প্রসিদ্ধ ব্র্যান্ডগুলোতে বিস্তারিত ইনভয়েসের সঙ্গে ক্যাটালগ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিপণনের কাগজপত্র দেওয়া হয়। এগুলোর মাধ্যমে ডিভাইস অ্যাক্টিভেশন স্ট্যাটাস এবং পণ্য সংক্রান্ত অন্যান্য ইতিহাস জানা যায়। অনুমোদনবিহীন বিক্রেতারা আনঅফিসিয়াল ফোন বিক্রি করে থাকেন। ফলে এগুলোর সঙ্গে সহায়ক কোনো নথি দেখা যায় না।
এখানে উল্লেখ্য যে, এককভাবে শুধু নথিপত্রের উপর নির্ভর করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ফোনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলোর সঙ্গে নথিপত্রের তথ্য মিলিয়ে দেখা বাঞ্ছনীয়।
পরিশিষ্ট
সব মিলিয়ে আপনার সদ্য কেনা নতুন ফোন সত্যিই নতুন বা অব্যবহৃত কিনা তা বোঝার জন্য ফোনের সার্বিক দিকগুলোতে সতর্ক মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্যাকেজিং, সিরিয়াল নম্বর ও আইএমইআই, ফোনের বডি এবং ওয়ারেন্টি ও অ্যাক্টিভেশনের তারিখ পর্যালোচনার মাধ্যমে ফোনের ব্যাপারে সঠিক তথ্য বের করা সম্ভব। ফোনের সঙ্গে প্রদত্ত সামগ্রী এবং ডায়াগনস্টিক চেক-আপের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায় যে, ফোনটি ইতিপূর্বে ব্যবহার হয়েছে কিনা। উপরন্তু, ক্রয়ের রশিদসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ডিভাইসের ব্র্যান্ডসংক্রান্ত গুণমান নিশ্চিত করে।
আরো পড়ুন: এয়ার পিউরিফায়ার: প্রয়োজনীয়তা, দাম, জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও নতুন মডেল
৩৮৯ দিন আগে
চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে ভারতীয় বড় সংবাদমাধ্যমগুলো
মার্কিন স্টার্টআপ ওপেন এআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে ভারতের সবচেয়ে বড় সংবাদমাধ্যমগুলো। তাদের লেখা ও কন্টেন্ট (আধেয়) বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে চ্যাটজিপিটির এই মূল উদ্যোক্তা কোম্পানির বিরুদ্ধে।-খবর বিবিসির
গেল নভেম্বরে ভারতের সবচেয়ে বড় সংবাদ সংস্থা এসিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) প্রথম ওপেন এআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে। ভারতে এরকম প্রথম ঘটনা ছিল এটি। এখন অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলোও এএনআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
এএনআইয়ের অভিযোগ, ‘ওপেন এআই তাদের কপিরাইটযুক্ত লেখা অবৈধভাবে ব্যবহার করছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানটির কাছে দুই কোটি রুপি দাবি করা হয়েছে।’
আরো পড়ুন:ডিপসিক: এআইয়ের দুনিয়ায় চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির লড়াকু প্রতিপক্ষ
বিবিসির খবর বলছে, চ্যাটজিপিটি যখন ভারতে নিজেদের ব্যবসা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, তখনই তাদের বিরুদ্ধে এই মামলার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। জরিপ অনুসারে, ভারতেই চ্যাটজিপিটির সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যবহারকারী।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কন্টেন্ট চুরির দায়ে ওপেন এআইকে বিচারের মুখোমুখি করতে চাচ্ছে ভারতের সবচেয়ে পুরোনো দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য হিন্দু, দ্য ইন্ডিয়ান টুডে গ্রুপ, ধনকুবের গৌতম আদানির মালিকানাধীন এনডিটিভিসহ আরও এক ডজনের বেশি সংবাদমাধ্যম।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওপেন এআই দাবি করছে, সর্বত্র গ্রহণযোগ্য আইনগত দৃষ্টান্ত মেনে ইন্টারনেটে সচরাচর পাওয়া যায় এমন উপাত্তই কেবল তারা ব্যবহার করছেন।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ছিলেন ওপেন এআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অ্যাল্টম্যান। সেখানে তিনি স্বল্প-খরচের এআই বাস্তুসংস্থান তৈরিতে ভারতীয় পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন দেশটির আইটিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে।
স্যাম অ্যাল্টম্যান বলেন, ভারতের উচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া দেশের একটি হওয়া। কারণ দেশটি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার একটি বড় বাজার।
ইন্টারনেট চষে উপত্ত সংগ্রহের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় চ্যাটজিপিটির মতো চ্যাটবটকে। সেক্ষেত্রে ভারতের সাড়ে ৪০০ সংবাদভিত্তিক চ্যানেল ও খবরের কাগজ যেসব লেখা ও কন্টেন্ট প্রকাশ করে, সেগুলো চ্যাটজিপিটির উপাত্ত সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বলতে গেলে, চ্যাটবটের জন্য একটি উর্বর ভূমি হচ্ছে ভারত।
কিন্তু কী কী তথ্য চ্যাটজিপি সংগ্রহ করে বৈধভাবে ব্যবহার করতে পারবে, সে সম্পর্কে কোনো পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত এক ডজন মামলা রয়েছে চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে। বিভিন্ন প্রকাশক, শিল্পী ও সংবাদসংস্থা এসব মামলা করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মতো তাদের অভিযোগও একই।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে মামলা করে মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস। ওপেন এআই ও মাইক্রোসফটের কাছে তারা কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
৩৯৩ দিন আগে
ডিপসিক: এআইয়ের দুনিয়ায় চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির লড়াকু প্রতিপক্ষ
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আছে চ্যাটজিপিটি। এছাড়া গুগলের জেমিনি ও অ্যানথ্রপিক ক্লডের মত কয়েকটি নামও বেশ পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু তাদের কেউই ওপেন এআইয়ের এই সেবাটির সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি। তবে এবার এআই যুদ্ধে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভাব ঘটেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ডিপসিকের। কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও বাজারে যুগান্তকারী প্রভাবের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীকে নতুন বাস্তবতার সম্মুখীন করেছে এই পরিষেবাটি। চলুন, চ্যাটজিপিটিসহ সমসাময়িক প্রতিযোগীদের মাঝে ডিপসিকের অবস্থানটি পর্যালোচনা করে দেখা যাক।
ডিপসিক কি
এই উন্নত এআই মডেলটির নামকরণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের নামেই। চীনের জেজিয়াং প্রদেশের রাজধানী শহর হ্যাংজোর একটি গবেষণাগারে চলে এর উন্নয়নের কাজ। ২০২৩ সালের মে থেকে কাজটি শুরু করেন প্রকৌশলী লিয়াং ওয়েনফেং। গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য বিশ্বব্যাপি সুপরিচিত মার্কিন প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া থেকে বিপুল সংখ্যক চিপ জমা করছিলেন ওয়েনফেং। বিশ্লেষকদের দাবি, সংগ্রহে থাকা এই চিপগুলো কাজে লাগিয়েই তিনি ডিপসিক বানিয়েছেন। চিপগুলো যথেষ্ট কম দামি হওয়ায় অনেক কম খরচেই মডেলটি চূড়ান্তভাবে ব্যবহারযোগ্য একটি সেবায় রূপ লাভ করে।
ডিপসিকের মডেলটি ওপেন-সোর্সভিত্তিক। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি অ্যাপল ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ হিসেবে ছাড়া হয় ডিপসিকের প্রথম সংস্করণ আর ১। ২৭ জানুয়ারি নাগাদ এটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে বিনামূল্যে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড করা অ্যাপ হিসেবে চ্যাটজিপিটিকে ছাড়িয়ে যায়। শুধু তাই নয়, চীনসহ যুক্তরাজ্যের কয়েকটি দেশেও এই চ্যাটবট অ্যাপটি চ্যাটজিপিটির তুলনায় বেশিবার ডাউনলোড করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: স্মার্টফোনে ভূমিকম্প সতর্কতা চালু করবেন যেভাবে
তাই সিলিকন ভ্যালিসহ গোটা এআই দুনিয়াকে এটি নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছে বলে দাবি করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সমসাময়িক প্রতিষ্ঠিত এআই পরিষেবাগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডিপসিককে এখন উদীয়মান এআই হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এতদিন ধরে চ্যাটজিপিটির একচেটিয়া কর্তৃত্বকে হুমকির মুখে ফেলে ডিপসিক এআই প্রতিদ্বন্দিতার এক নতুন যুগের সূচনা ঘটিয়েছে।
সমসাময়িক এআই মডেলগুলোর সঙ্গে ডিপসিকের তুলনা
.
উন্নয়ন খরচ
ডিপসিকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রধান কৃতিত্ব হচ্ছে এর বাজেট-বান্ধব প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া। ১০ হাজার এনভিডিআ জিপিইউয়ের ওপর আর ১ মডেলটির বিকাশ ঘটাতে প্রয়োজন হয়েছিলো মাত্র ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।
এটি ওপেনএআই, মেটা (সাবেক ফেসবুক) ও গুগলের উন্নয়ন খরচ থেকে অনেক কম। সঙ্গত কারণেই এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিক ব্যবহৃত এআই অ্যাপে পরিণত হয়। এতে করে রাতারাতি মোড় ঘুরে যায় এআই নির্ভর ইন্ডাস্ট্রির। এই ধাক্কার শিকার হয়েছে মেটা ও মাইক্রোসফ্টসহ অনেকগুলো এআই প্রতিষ্ঠানের। এই তালিকায় রয়েছে- স্বয়ং এনভিডিআও, যেখানে স্টকের দাম পড়ে গেছে প্রায় ১৭ শতাংশ।
আরও পড়ুন: কীভাবে জানবেন ঢাকার যানজটের সর্বশেষ অবস্থা?
পারফর্মেন্সের দিক থেকে বিশ্বখ্যাতি থাকলেও চ্যাটজিপিটি ও জেমিনি প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যথেষ্ট বেশি। অন্যদিকে ডিপসিক কম খরচে প্রায় সমপরিমাণ সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। এটি বদলে দিচ্ছে যে পদ্ধতিতে এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তার ন্যায্যতার হিসাব।
পারদর্শিতা
কোনও প্রশ্ন করা হলে ডিপসিক আর ১ প্রথমে তার উত্তর তৈরি করার প্রক্রিয়াটি ব্যবহারকারির সঙ্গে শেয়ার করে। এখানে থাকে উত্তর প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় যুক্তি ও সামঞ্জস্যপূর্ণতা। এখানে কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারি তার নির্দেশনা দিয়ে দেন। তারপর চূড়ান্ত নিদের্শনার ওপর নির্ভর উত্তরটি সরবরাহ করা হয়। এতে করে উত্তরের নির্ভুলতা ও প্রাসঙ্গিকতা বজায় থাকে। সহজ ভাষায় ডিপসিক কাজ দেখানোর পূর্বে সে কিভাবে কাজটি করবে তার একটা খসড়া নিয়োগকর্তাকে দেখিয়ে নেয়। অন্যদিকে, চ্যাটজিপিটি নিজে থেকেই পুরো কাজটি সম্পন্ন করে। সর্বশেষ হালনাগাদকৃত সংস্করণে এটি আরও পরিণত হয়েছে। তাছাড়া প্রিমিয়াম ক্যাটাগরিগুলো আরও ভালো পারফর্মেন্স দেয়।
কিন্তু এক্ষেত্রে শুরুর দিকে চ্যাটজিপিটির অবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে ডিপসিক অনেকটা এগিয়ে থাকবে।
আরো পড়ুন: নারীর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষায় মোবাইল অ্যাপ
গ্রহণযোগ্যতা
প্রতি মুহুর্তে ডিপসিকের ক্রমবর্ধমান ডাউনলোড সংখ্যার ক্রমাগত গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে প্রকাশ করছে। মুক্তির মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এর মোবাইল অ্যাপটির ২৬ লাখ ডাউনলোড হয়। এখন পর্যন্ত এটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপের তালিকার শীর্ষে ও বিশ্ব জুড়ে ১১১টি দেশে শীর্ষ ১০ অ্যাপে মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপি একটি বিশ্বস্ত নাম হয়ে ওঠায় প্রতি মাসেই চ্যাটজিপিটির ডাউনলোড সংখ্যা থাকে কয়েক মিলিয়ন
এর পেছনে অবশ্য মুক্তির সময় অভূতপূর্ব সেবা হওয়া ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরিষেবাগুলোর সঙ্গে এর সমন্বয়ও দায়ী।
বিচার-বিবেচনা
তৈরিকৃত লিখিত কন্টেন্টের ধরণ কেমন হবে তা নিয়ে প্রতিটি এআই মডেলেরই কিছু স্বতন্ত্র বিবেচনা পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত পক্ষপাতিত্বের কোনো অভিযোগ মেলেনি।
শুরু থেকেই এগুলো স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিতর্কিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণতা বজায় রেখেছে। এই নৈতিক অবস্থান বিশ্ব বাজারে তাদের বস্তুনিষ্ঠ কন্টেন্ট ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
আরো পড়ুন: আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
কিন্তু ডিপসিককে নিয়ে এই সূচনালগ্নেই একটি সমালোচনার অবতারণা ঘটেছে। আর তা হচ্ছে- চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনানমেন স্কয়ার বিক্ষোভ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে আর ১ তা এড়িয়ে যায়। এমন পক্ষপাতমূলক বৈশিষ্ট্য নিয়েই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে ডিপসিক।
এরই রেশ ধরে নিকট ভবিষ্যতে এআই সেবা প্রদানে সীমিত অনুশীলনের আশঙ্কা থাকছে, যা উন্মুক্ত তথ্য প্রবাহের অন্তরায়।
প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা
মুক্তির পরপরই ডিপসিকে বড় আকারের কিছু সাইবার আক্রমণ চীনের বাইরের ব্যবহারে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অ্যাপটির ব্যবসার ক্ষেত্রে সমূহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও নিয়মিত হালনাগাদকরণ এই বাধা অতিক্রমে কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির পাশাপাশি অন্য এআই মডেলগুলোও নিজেদের আপগ্রেড করবে।
আরো পড়ুন: ভিডিও গেম খেলে অর্থ উপার্জনের উপায়
ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সাশ্রয়ী খরচে এআইয়ের উন্নয়ন সাধনের জন্য চীনের সঙ্গে সমন্বয় করতে সহমত পোষণ করেছে।
সর্বপরি, উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহক উভয়ের জন্যই ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে এমন প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হওয়ার এক সুদূরপ্রসারি প্রভাব রয়েছে।
ইতিবাচক ও গঠনমূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌলতে তৈরি হয় সমস্যা সমাধানের প্রেক্ষাপট। এতে করে একদিকে যেমন ব্যবসাগুলোর প্রান্তিক লাভ বাড়ে, অপরদিকে তেমন সাধারণ মানুষের জীবনধারণ পদ্ধতিও উন্নত হয়।
আরও পড়ুন: ২০২৫ সালে যে প্রযুক্তিগত দক্ষতাগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকবে
সারবস্তু
চ্যাটজিপিটির একচেটিয়া রাজত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবার এআই কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার মঞ্চ তৈরি করলো ডিপসিক। উন্নয়ন খরচ সাশ্রয়ী হওয়ায় ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যারটি নিয়ে গবেষণার বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ডাউনলোড করে নিজস্ব ডিভাইসে সংরক্ষণের সুবিধা। ফলে সহজলভ্যতা নন-টেক শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় বিরাট এক পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি বাজার।
আরো পড়ুন: কীভাবে বুঝবেন ছবিটি এআই দিয়ে বানানো কিনা
৩৯৯ দিন আগে