শিল্প-ও-সংস্কৃতি
‘নাট্যশালার উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে জনতার মুখোমুখি দাঁড়ায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’
সম্প্রতি জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে একটি নাটক মঞ্চায়নের সময় উদ্ভুত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনতার মুখোমুখি দাঁড় করা হয়নি।
সোমবার (৪ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায় জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি।
এতে বলা হয়, গত শনিবার (২ নভেম্বর ) ‘দেশ নাটক’ প্রযোজিত নাটক ‘নিত্যপুরাণ’ মঞ্চায়নের সময় এক দল লোক বিক্ষোভ করে তা বন্ধ করে দিতে জড়ো হয়। এসময় আলোচনার মাধ্যমে এটি সমাধানের জন্য শিল্পকলা একাডেমি একাধিকবার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। বরং তাদের সংখ্যা বেড়ে গেলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার উপক্রম হয়। তখন অভিনয়শিল্পী ও দর্শকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ‘দেশ’ নাটকের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দর্শকের নিকট দুঃখপ্রকাশ করে প্রদর্শনী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, ৩ নভেম্বর দেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় ‘শিল্পকলায় নাটকের প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনা সমর্থন করে না সরকার’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের মূল বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে এটি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি বিক্ষুব্ধকারীদের নাটক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে অর্থাৎ শিল্পচর্চার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সরকার সমর্থন করে না মর্মে বুঝিয়েছেন। তিনি মনে করেন , বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
তাছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বাবস্থায় জনগণের, শিল্পচর্চার ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্বাস করে। এজন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চায় না শিল্পকলার কণ্ঠ কেউ রোধ করুক। কেননা, বাংলাদেশের হাজার বছরের নাটকের ইতিহাস আছে। নাটকের মাধ্যমেই সমাজের ত্রুটি বিচ্যুতি ও বিকল্প ধারণা তুলে ধরা সম্ভব। তাই যারা নাটক করতে চায় তাদের নাটক করতে দিতে হবে। নাটক দেখেই দর্শক বিবেচনা করবে তাদের নাটক তারা গ্রহণ করবে কিনা। মতাদর্শ ও শিল্পকলার হাজার মালভূমির এই বাংলাদেশে সকল দলের নাটক করার বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে।
শিল্পকলা একাডেমি মনে করে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তির কারণে নাটকের দল যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে প্রচেষ্টা সাংস্কৃতিক সংগঠন বা নাটকের দলের থাকা উচিত। কোনো দলের ভেতরে বিতর্কিত কেউ যদি থাকে, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে এবং স্বৈরাচারীর দোসর হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের কার্যক্রমকে এখনো সমর্থন করে তাহলে দলের পক্ষ থেকেই তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এসব গণহত্যার দোসর বা সমর্থনকারীদের তিরস্কার করে, নিন্দা জানায়।
সুস্থ, উৎসবমুখর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব শিল্পচর্চায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পাশে থেকে দেশের শিল্প সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে দেশের সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবীসহ দেশের জনসাধারণ এগিয়ে আসবে এটাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৪ -এর ঢাকা সংস্করণ শুরু
৪৮৭ দিন আগে
ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৪ -এর ঢাকা সংস্করণ শুরু
ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ও দৃক পিকচার লাইব্রেরির আয়োজনে ঢাকার দৃক গ্যালারীতে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৪ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) দৃক গ্যালারিতে এটির উদ্বোধন করা হয়।
বিশ্বব্যাপী সফররত এই প্রদর্শনীতে ফাউন্ডেশনের বার্ষিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার ফলাফলের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন বিচারকমন্ডলী দ্বারা নির্বাচিত বিগত বছরে তোলা সমগ্র বিশ্বের সেরা আলোকচিত্র সাংবাদিকতা এবং ডকুমেন্টারি আলোকচিত্রসমূহ প্রদর্শিত হচ্ছে।
দৃকপাঠ ভবনে আযোজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদর্শনীর ঢাকা সংস্করণের প্রেক্ষাপটের উপর আলোকপাত করেন বাংলাদেশস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ইরমা ভ্যান ডুরেন, জাতিসংঘের মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিকাশ ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান এবং দৃক পিকচার লাইব্রেরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতার প্রাক্তন জ্যুরি বোর্ড সভাপতি শহিদুল আলম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতার এশিয়া অঞ্চলের কোর্ডিনেটর এএসএম রেজাউর রহমান।
এর আগে পূর্বে এশিয়া অঞ্চলের সহযোগি হিসাবে ২০২২ সালের নভেম্বরে দৃক ২০২২ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। এছাড়াও দৃক এশিয়া অঞ্চলের ২০২৩ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতার বিচারপ্রক্রিয়ার আয়োজন করে ঢাকায় এবং ২০২৪ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতার বিচারপ্রক্রিয়ার আয়োজন করে অনলাইনে।
আরও পড়ুন: বন্যার্তদের সহায়তায় গ্যালারি কসমসে 'আর্ট ফর এইড: রিবিল্ডিং লাইভস' প্রদর্শনী শুরু
২০২৪ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতাটি বিশ্বব্যাপী মোট ছয়টি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়েছে- আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর এবং মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়া। প্রতিযোগিতার এবারের ৬৭তম আসরে ১৩০টি দেশের ৩ হাজার ৮৫১ জন আলোকচিত্রীর কাছ থেকে ৬১ হাজার ৬২টি আলোকচিত্র ও ওপেন ফরম্যাট এন্ট্রি পাওয়া যায়। ৬১ হাজারেরও বেশি এন্ট্রি থেকে নির্বাচিত বিজয়ী কাজগুলোর মধ্য দিয়ে ধ্বংসাত্মক সংঘাত এবং রাজনৈতিক উত্থান থেকে শুরু করে জলবায়ু সংকট এবং অভিবাসীদের নিরাপদ উত্তরণ সম্ভ্রান্ত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এধরনের গুরুত্বপূর্ণ গল্পগুলোকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে, নির্বাচিত কাজগুলো সমসাময়িক ঘটনাগুলো সম্পর্কে বৃহত্তর বোঝাপড়া এবং সচেতনতাকে উৎসাহিত করে। সেইসঙ্গে বিশ্বের সমস্ত কোণে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তাকেও মনে করিয়ে দেয়।
এবছর বিশ্বব্যাপী সফর শুরু করার পূর্বে, গত এপ্রিলের ১৯ তারিখে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৪ আযোজিত হয় নেদারল্যান্ডের অ্যামস্ট্যারডাম শহরে। বর্তমানে প্রদর্শনীটি ৬০টির বেশি দেশে সফর করছে।
প্রদর্শনীটি আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন: কুমার নদে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে মানুষের ঢল
৪৯৬ দিন আগে
কুমার নদে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে মানুষের ঢল
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার তেলজুড়ী এলাকায় কুমার নদে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বছরের এই উৎসবের অপেক্ষায় থাকে ওই এলাকাসহ আশপাশের কয়েক উপজেলার নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। নৌকা বাইচ দেখতে নদের দুই পাড়ে অর্ধলক্ষাধিক নারী-পুরুষের ঢল নামে।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ব্যবসায়ী আরডিডি গ্রুপের কর্নধার আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদার।
ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে তিন দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বাইচে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোটবড় ১০টি নৌকা অংশ নেয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলার বোয়ালমারী উপজেলার তেলজুড়ি বাজারসংলগ্ন এলাকায় কুমার নদের দুই পাড়ে অর্ধলক্ষাধিক নারী-পুরুষ বিভিন্ন সাজে দাঁড়িয়ে নৌকা বাইচ উপভোগ করছেন। অনেকেই নৌকা ও ট্রলার ভাড়া করে এই উৎসব দেখছেন। নৌকা বাইচ উপলক্ষে মেলায় মিষ্টির দোকান, ইলিশের দোকান, খেলনা ও বিভিন্ন খাবার দোকানের পসরা সাজিয়েছে দোকানিরা। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অঞ্চলের জামাইয়েরা বউ নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এসেছেন। আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন নিয়ে মেতে ওঠেন আনন্দে।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা তেলজুড়ি গ্রামের ও পাংশা উপজেলার গৃহবধূ শাহিদা বেগম বলেন, প্রতি বছরের এইদিনে কুমার নদে নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা স্বামীর বাড়ি থেকে ছুটে আসি। মেয়েরা জামাই নিয়ে বাবার বাডিতে আসেন। প্রতিবারের মতো স্বামী সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। মেলা থেকে অনেক কিছু কেনাকাটা করেছি।
মেলা দেখতে আসা শিক্ষার্থী নুর নাহার জানান, বান্ধবীদের নিয়ে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। মেলায় ঘুরে উপভোগ করছি। খুব আনন্দ লাগছে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামের ধরলায় নৌকা বাইচে ব্যতীক্রমী পুরস্কার
৫২৬ দিন আগে
বন্যার্তদের সহায়তায় গ্যালারি কসমসে 'আর্ট ফর এইড: রিবিল্ডিং লাইভস' প্রদর্শনী শুরু
বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের ১১টি জেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় গ্যালারি কসমসে 'আর্ট ফর এইড: রিবিল্ডিং লাইভস' শীর্ষক একটি বিশেষ গ্রুপ আর্ট প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।
বন্যার্তদের জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর গ্যালারি কসমসে মাসব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এই প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত অর্থ বন্যার্তদের সহায়তায় দেওয়া হবে।
ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার জেলার ৫৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত ৬০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এরপর থেকে বন্যার্তদের আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান।
৫৪৭ দিন আগে
মাইলসের শাফিন আহমেদ: পপসংগীতের আকাশে চির উজ্জ্বল নক্ষত্র
সংগীতের পথে জীবনের প্রথম পদক্ষেপ, আবার সেই পথেই শেষ। কথাটি যেন অবিকল মিলে গেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড সংগীত শিল্পী শাফিন আহমেদের সঙ্গে। গত ২০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি কনসার্টে অংশ নিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৪ জুলাই ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন শাফিন আহমেদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও কিডনিসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চলুন, দেশ বরেণ্য এই পপ-তারকার বর্ণাঢ্য জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ব্যক্তি জীবনে শাফিন আহমেদ
শাফিন আহমেদ ১৯৬১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মা দেশের স্বনামধন্য সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম এবং বাবা সুরকার ও সঙ্গীতজ্ঞ কমল দাশগুপ্ত। স্বভাবতই শাফিনের বেড়ে ওঠাটা হয়েছে গানের মাঝেই। পারিবারিক গন্ডিতে তার ডাক নাম ‘মুনা’। এ ছাড়া সংগীতাঙ্গনের যারা তাকে ছোটবেলা থেকে চেনে তারা দেখা হলে প্রথমেই ‘মুনা’ নামেই ডাকতেন।
শাফিন আহমেদের গানের হাতেখড়ি হয় তারা বাবা-মায়ের কাছেই। বাবার কাছে তালিম নিয়েছেন উচ্চাঙ্গ সংগীতের, আর মা শিখিয়েছেন নজরুলগীতি। তার আনুষ্ঠানিক গানের শুরুটা হয়েছিল মাত্র ৯ বছর বয়সে। পরে বড়ভাই হামিন আহমেদসহ দুই ভাই পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। সে সময় তার সামনে উন্মোচিত হয়েছিল পাশ্চাত্য সংগীতের বিস্তৃত পরিসর। আর এই অঙ্কুরেই শুরু হয় তার ব্যান্ড সংগীতের যাত্রা।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ বিরতির পর ‘নীল জোছনা’ নিয়ে বড় পর্দায় ফিরছেন শাওন
সংগীতাঙ্গনে শাফিন আহমেদ
১৯৭৯ সালে মাইল্স ব্যান্ড প্রতিষ্ঠার পর হামিন ও শাফিন দুজনেই যুক্ত হন ব্যান্ড দলের সঙ্গে। বেজ গিটার বাজানোর পাশাপাশি দলের প্রধান গায়ক ছিলেন শাফিন।
শুরুর দিকে তারা ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে (বর্তমান ঢাকা শেরাটন) নিয়মিত গান করতেন। তখন তাদের মনোনিবেশ ছিল শুধুমাত্র ইংরেজি গানের প্রতি। ব্যান্ড প্রতিষ্ঠার পর মাইলসের প্রথম অ্যালবামটির সবগুলো গানই ছিল ইংরেজিতে।
১৯৮২ সালে ত্রিশ মিনিটের একটা ইন্সট্রুমেন্টাল শো’র জন্য বিটিভির পক্ষ থেকে ডাক আসে। তখন মাইলসের সেরা ছয়টি সুর রেকর্ড করে পাঠানো হয় বিটিভিতে। এই রেকর্ডগুলো টানা দুই বছর ভোর ৬টা থকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছিল বিটিভির সিগনেচার মিউজিক হিসেবে।
১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয় মাইলসের প্রথম বাংলা গানের অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’। সেই থেকে একের পর এক সৃষ্টি হতে থাকে কালজয়ী সব গান। এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় গানগুলো হলো- ‘ফিরিয়ে দাও আমারি প্রেম’, ‘আজ জন্মদিন তোমার’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘চাঁদ তাঁরা সূর্য’, ‘নীলা’, ‘পিয়াসী মন’, ‘পাথুরে নদীর জলে’, ‘ধিকি ধিকি’, এবং ‘সে কোন দরদিয়া’। চার যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে এখনও এই গানগুলো দেশ জুড়ে সমান জনপ্রিয়। এগুলোসহ মাইল্সের প্রায় ৯০ শতাংশ গানের ভোকাল ছিলেন শাফিন।
আরও পড়ুন: আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সক্ষমতার চিত্র
৫৮৭ দিন আগে
দৃকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৪
বাংলাদেশের সম্মুখ সারিতে কর্মরত আলোকচিত্র সাংবাদিকদের অর্জনকে উদযাপন এবং সম্মান জানাতে দৃক পিকচার লাইব্রেরি কর্তৃক আয়োজিত বাংলাদেশ প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৪ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকাস্থ দৃক গ্যালারিতে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করা হয়।
এবারের প্রদর্শনীতে ২০২২ সাল থেকে দৃকের ধারাবাহিক আয়োজন বাংলাদেশ প্রেস ফটো কনটেস্টের (বিপিপিসি) ৩য় সংস্করণে নির্বাচিত ৩০টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে।
এ বছর ১৬ এপ্রিল ছবি আহ্বানের মধ্যে দিয়ে প্রতিযোগিতাটি উন্মুক্ত করা হয়। এতে আলোকচিত্র সাংবাদিকরা ২০২৩ সালে তোলা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রায় ১ হাজারের বেশি ছবি জমা দেন।
আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিপিপিসি ২০২৪ এর অন্যতম বিচারক এবং দৃক পিকচার লাইব্রেরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম। তিনি বলেন, ‘দুনিয়ার কোনো প্রেস ফটো প্রতিযোগিতায় আমার জানামতে গণমুখী সাংবাদিকতার ক্যাটাগরি নেই। মিডিয়ার মালিকানাসহ নানা কারণে তারকা বা প্রধানমন্ত্রীর ছবিসহ দলীয় প্রচারেই মিডিয়ার কাজ সীমাবদ্ধ থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের প্রদর্শিত ছবিগুলোর আলোকচিত্রীরা নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকেই এই কাজগুলো করেছে। তাদের কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করে বাংলাদেশের আলোকচিত্র আজ অনেক দূর পৌঁছে গিয়েছে।’
প্রতিযোগিতার অন্য বিচারক ছিলেন- অমল আকাশ, শিল্পী, গায়ক, আন্দোলনকর্মী, সমগীত; মনিরুল আলম, আলোকচিত্র সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, ইপিএ; শোয়েব ফারুকী, আলোকচিত্রী, শিক্ষাবিদ, ফটোব্যাংক গ্যালারি এবং তাসমিমা হোসেন, সম্পাদক, দৈনিক ইত্তেফাক।
আরও পড়ুন: ‘রেজ অ্যান্ড হোপ’: দৃকে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপিত
এবারে বর্ষসেরা আলোকচিত্র ২০২৩ বিজয়ী হয়েছেন ফোকাস বাংলার কুদ্দুস আলম এবং তিনি পুরস্কার পেয়েছেন ১ লাখ টাকা।
একই সঙ্গে ৩টি বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন আরও ৬ আলোকচিত্রী। বিভাগ বিজয়ীরা হচ্ছেন-
শিল্প, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া: কাজী গোলাম কুদ্দুস হেলাল, এফআইএপি এবং বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন পিয়াস বিশ্বাস, নিউজবাংলা২৪.কম।
রাজনীতি: নায়েম আলী, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এবং বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন মো. সাজিদ হোসাইন, দৈনিক প্রথম আলো।
জনমুখী সাংবাদিকতা: আবদুল গনি, দৈনিক ইত্তেফাক এবং বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন সৈয়দ মাহমুদুর রহমান, দৈনিক বাংলা।
প্রতিটি বিভাগ থেকে একজন বিজয়ী ও একজন বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার বিজয়ী পেয়েছেন যথাক্রমে ৫০ হাজার টাকা ও ১০ হাজার টাকা। পাশাপাশি তারা প্রত্যেকে পেয়েছেন সম্মাননা স্মারক ও সনদ।
দৃক ২০২৩ সাল থেকে আলোকচিত্র সাংবাদিকতায় প্রান্তিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার জন্য 'আদিবাসী জনগোষ্ঠী গ্র্যান্ট' প্রবর্তন করেছে। এ বছর এই গ্র্যান্টটি জিতেছেন আদিবাসী আলোকচিত্রী ডেনিম চাকমা, যার মূল্যমান ৫০ হাজার টাকা।
এবারের প্রদর্শনীতে ২০২৩ সালের প্রথম অনুদান বিজয়ী পদ্মিনী চাকমার কিছু বাছাইকৃত ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে।
প্রদর্শনীটি ২৬ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন: ‘রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি’ নিয়ে দৃক গ্যালারিতে চলছে প্রদর্শনী
৬০৮ দিন আগে
‘আর্কা ফ্যাশন উইক’র দ্বিতীয় দিনের সেমিনার অনুষ্ঠিত
‘টাঙ্গাইল তাঁত ভবিষ্যতের বুনন: সমসাময়িক ফ্যাশনে ঐতিহ্যের ভূমিকা’শিরোনামে আর্কা ফ্যাশন উইকের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ জুন) রাজধানীতে বেলা সাড়ে ৩টায় সেমিনারটি শুরু হয়।
সেমিনারের শুরুতে শেখ সাইফুর রহমান টাঙ্গাইল শাড়ির ইতিহাস, এর নিজস্বতা, বৈশিষ্ট্য ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। ঐতিহ্যবাহী এই টেক্সটাইলের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
পরে জিশান কিংসক হকের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনা শুরু হয়।
ইউনেস্কোর সংস্কৃতি বিষয়ক প্রোগ্রাম অফিসার কিজি তাহনিন, বাংলাদেশ তাঁতশিল্প বোর্ডের প্রকল্প প্রধান মো. আইয়ুব আলী, টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক, ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি), বিজিএমইএ-এর ফ্যাশন স্টাডিজ বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক শর্মিলি সরকার এবং আর্কা ফ্যাশন উইকের বিশেষ প্রদর্শনী বয়নকাব্যের কিউরেটর জুয়েল এ রব আলোচনায় অংশ নেন।
আরও পড়ুন: ৫ তরুণ আলোকচিত্রীর 'বোধ'
রঘুনাথ বসাক বসাক পরিবারগুলোর বিভিন্ন সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরে জানান, তন্তুবায় সম্পদায়ের লোক বসাকরা। ২৫০ বছর আগে টাঙ্গাইলে এই কাপড় বোনা শুরু হয় তাই নাম হয় টাঙ্গাইল শাড়ি। আবহাওয়ার খোঁজে তাঁতী পরিবারগুলো চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিভিন্ন এলাকা হয়ে টাঙ্গাইল আসে। এখানে লৌহজং নদীর পাড় সবচেয়ে বেশি উপযোগী মনে হয়েছিল তাদের কাছে।
কিজি তাহনিন জানান ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বলেন, তাঁতশিল্পীরা চাইলেই কেবল টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পকে ইন্টেলিজিবল কালচারাল হেরিটেজ করার জন্য আবেদন করা যাবে।
বস্ত্র সম্পর্কীয় হেরিটেজগুলো জিআই পেতে কী কী করছেন তা তুলে ধরেন আইয়ুব আলী।
টাঙ্গাইল শাড়ির মোটিফগুলো সংরক্ষণ করতে গবেষণার গুরুত্ব ও একাডেমিকদের আগ্রহ প্রয়োজন বলে তুলে ধরেন শর্মিলি সরকার।
জুয়েল এ রব তার বক্তব্যে আর্কায় ‘টাঙ্গাইল বয়নকাব্য নামে’ যে প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করেন। শাড়ির পাড় ও নদীর পাড় তার কাছে একই। আর তাঁতীদের বর্তমান জীবন ও তাদের বিভিন্ন সমস্যাগুলো তুলে ধরতেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সক্ষমতার চিত্র
৬৩০ দিন আগে
আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সক্ষমতার চিত্র
বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৪ উপলক্ষে বুধবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে শুরু হয়েছে 'রেজিলিয়েন্স-সক্ষমতা' শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সক্ষমতার বিষয়বস্তু প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী আলোকচিত্রী ও মানবিক সহায়তা সংস্থার কর্মীদের তোলা ছবি এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কক্সবাজার আর্ট ক্লাবের সহযোগিতায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সাড়াদানে কর্মরত মানবিক সহযোগিতা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আইএনজিও ও এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী অকল্পনীয় কষ্টের মধ্যেও যে অবিশ্বাস্য সক্ষমতা প্রতিনিয়ত দেখাচ্ছে তারই প্রমাণস্বরূপ এই ছবিগুলো।
এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলবে ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: ৫ তরুণ আলোকচিত্রীর 'বোধ'
৬৩১ দিন আগে
রমনা বটমূলে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ছায়ানটের জমকালো পহেলা বৈশাখ উদযাপন
ঈদ উৎসবের মাঝে রাজধানীর রমনা পার্কের রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রবিবার(১৪ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৬টায় দেশের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট পরিবেশন করে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। মর্তুজা কবির মুরাদের 'রাগ আহীর ভৈরব' গানের মন্ত্রমুগ্ধকর বাঁশি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই সাংস্কৃতিক উৎসবের। দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনা, গান, আবৃত্তি ও অন্যান্য পরিবেশনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
আরও পড়ুন:ঢাকার জনপ্রিয় ১০টি বুক ও স্টাডি ক্যাফে: বইপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ১১টি কোরাস গান ও ১৫টি এককসহ ৩১টি একক পরিবেশনা পরিবেশন করা হয়। এরমধ্যে সত্যম কুমার দেবনাথ, খায়রুল আনাম শাকিল, চন্দনা মজুমদার, তানিয়া মান্নান, রামেন্দু মজুমদার, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়সহ প্রখ্যাত শিল্পীরা প্রকৃতি, মানবপ্রেম, আত্মশুদ্ধি ও দেশপ্রেমের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি ১৪৩১ সনকে স্বাগত জানাতে রাজধানীর প্রতিটি প্রান্ত থেকে দর্শকরা জড়ো হয়ে নাচ-গানে মেতে উঠেছিল।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নতুন বছরের ভাষণ পাঠ করেন ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ড. সারওয়ার আলী। দলগত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে অনুষ্ঠানের।
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় এবং ছায়ানট তাদের ইউটিউব চ্যানেলে https://www.youtube.com/@ChhayanautDigitalPlatform অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে।
সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং ১৩তম হুসার্স ওপেন রোভার স্কাউট গ্রুপের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি ছায়ানটের স্বেচ্ছাসেবকরা অনুষ্ঠানস্থলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: পবিত্র শবে কদরের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও করণীয়
৬৯১ দিন আগে
মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু
পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদ থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়।
ঐক্য, সাংস্কৃতিক গর্ব ও স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক শোভাযাত্রাটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পীসত্তা ও চেতনার মন্ত্রমুগ্ধকর প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়ে সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে আরম্ভ হয়।
উৎসাহী অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রা শাহবাগ, ঢাকা ক্লাব এবং শিশু পার্কের মতো ঐতিহাসিক স্থান হয়ে ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা অতিক্রম করে। বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত ও প্রতীকী নিদর্শন সম্বলিত শোভাযাত্রাটি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিধ্বনি করে এবং আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
আরও পড়ুন: পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ডিএমপির
সৃজনশীলতা ও শৈল্পিক প্রকাশের লালনের জন্য পরিচিত চারুকলা অনুষদ সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের সূচনা স্থান। অনুষদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আয়োজিত এই আয়োজনে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যের প্রচার ও সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গীকারের দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে।
শোভাযাত্রাটি টিএসসিতে সমাপ্তির পথে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার বাতাস হর্ষধ্বনি, সংগীত এবং অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের সম্মিলিত উল্লাসে অনুরণিত হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা শুধু বাংলা নববর্ষের আগমনই উদযাপন করে না, প্রতিকূলতার মধ্যেও বাঙালি মানুষের সহনশীলতা ও চেতনার সাক্ষ্য বহন করে।
আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে এই জাতীয় আয়োজন ঐক্য, স্থিতিস্থাপকতা ও একাত্মতার বোধকে লালন করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্ব নিশ্চিত করে।
আরও পড়ুন: পহেলা বৈশাখ উদযাপনে প্রস্তুত ঢাবি
পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে যেকোনো জঙ্গি হামলা প্রতিহত করতে প্রস্তুত র্যাব: ডিজি
৬৯১ দিন আগে