ঢাকা
রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত
রাজধানীর গাবতলী এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় নুসরাত (১৪) নামের ব্যাটারিচালিত রিকশার এক আরোহী নিহত হয়েছে। মেয়েটি মোহাম্মাদপুর হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্রী ছিল বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী বেড়িবাঁধ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ওই কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নুসরাতের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগের খেজুরিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. সোহাগ মিয়া। বর্তমানে সে পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদপুরের ফিউচার হাউজিং রোড এলাকায় বসবাস করত।
নিহতের চাচা আবু হানিফ জানান, আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১টার দিকে গাবতলী বেড়িবাঁধ দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে বাসায় ফিরছিল আমার ভাতিজি। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক ওই রিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে আমার ভাতিজি গুরুতর আহত হয়। পরে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলেও আর বাঁচাতে পারিনি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৬৫ দিন আগে
শরীয়তপুরে হামের প্রাদুর্ভাব, ৯ দিনে ৩ শিশুর মৃত্যু
শরীয়তপুরে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ৯ দিনে হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ সোমবার (৩০ মার্চ) হামে আক্রান্ত হয়ে জাজিরা উপজেলা থেকে ঢাকায় পাঠানো ৮ মাস বয়সী শিশু মালিহার মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৯ মার্চ) অসুস্থ হয়ে পড়লে মালিহাকে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার শরীরে হামের লক্ষণ শনাক্ত করেন এবং নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত মালিহা জাজিরা উপজেলার নগর মাদবরকান্দি গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে।
এদিকে, গতকাল (সোমবার) সকালে হামের লক্ষণ নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইমন মুন্সী (১৯) ও শাহীন কাজী (১৮) নামে দুই তরুণ। হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি পৃথক কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাদের।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোগীদের শরীরে জ্বর ও র্যাশ দেখা যাওয়ায় হামের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে গেছে।
গত দুই সপ্তাহে শরীয়তপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যারা ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিল।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিতু আক্তার জানান, রোগীদের আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব বিষয়ে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। হামের লক্ষণ দেখা গেলেই দ্রুত নমুনা সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৬৫ দিন আগে
ফরিদপুরে বসতবাড়িতে আগুনে পুড়ে কিশোর নিহত
ফরিদপুর সদর উপজেলায় বসতবাড়িতে আগুন লেগে তামিম মিয়া (১৬) নামে এক কিশোর দগ্ধ হয়ে মারা গেছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়া গ্রামে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিহত তামিম ওই গ্রামের দুবাই প্রবাসী রাফিক মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবারের দাবি, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমিজমা-সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে ঘরে আগুন দিলে এই ঘটনা ঘটেছে। আগুনের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে হঠাৎ করে রাফিকের বসতঘরে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঘরে থাকা রাফিকের ছেলে তামিম দগ্ধ হয়। এ সময় বাড়ির অন্য সদস্যরা একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অন্য বাড়িতে ছিলেন।
স্থানীয় লোকজন দগ্ধ তামিমকে দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে এলাকাবাসী আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট রাত সোয়া ১১টা থেকে দিবাগত রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত তামিমের চাচা শওকত মিয়া বলেন, ‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এ নিয়ে তারা শত্রুতা করে আগুন দিয়ে থাকতে পারে। কয়েকদিন আগেও তারা আমাদের হত্যার হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় আমরা থানায় জিডিও করেছি।’
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। আগুনে দুটি টিনের ঘর, একটি মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজ, নগদ টাকাসহ বাড়ির যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৬৬ দিন আগে
রাজধানীতে মোটরসাইকেল ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত
রাজধানীর ডেমরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. সুরুজ আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৯ মার্চ) রাত ৮টার দিকে ডেমরার বাঁশপট্টি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রায় সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সুরুজ আলীর বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সাগরদী এলাকার কৃষ্ণপট্টি গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত হজ আলী। ডেমরার কোনাপাড়ায় নিজ পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি।
নিহতের ছেলে মো. আলমাছ বলেন, ‘আমার বাবা রাত সাড়ে ৭টার দিকে ডেমরার বাঁশেরপুল এলাকার প্রধান সড়ক পায়ে হেঁটে পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল বাবাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন তিনি। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে তৎক্ষণাৎ ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান আমার বাবা আর বেঁচে নেই।’
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ডেমরা থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৬৬ দিন আগে
ফরিদপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাশেদ মোল্লাকে (৩০) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক ধারায় ওই ব্যক্তিকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, আসামি উভয় ধারার সাজা এক সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদহ বাজার এলাকার বাসিন্দা। নিহত জোসনা বেগম (২১) একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের মেয়ে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পারিবারিকভাবে রাশেদ ও জোসনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রাশেদ যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার দাবির মুখে তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জোসনার স্বর্ণের হার ও কানের দুল বিক্রি করে আরও টাকা দেওয়া হয় যা রাশেদ মাদক সেবনে ব্যয় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে তারপরও থেমে থাকেনি নির্যাতন। ২০২০ সালের ১৬ জুলাই পুনরায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন রাশেদ। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ঘরের ভেতর জোসনা বেগমের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১৭ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় রাশেদ মোল্লার পাশাপাশি তার বড় ভাই হাসিব মোল্লাকেও আসামি করা হয়। পরে মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী রতন জানান, মামলার শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রধান আসামি রাশেদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার ভাই হাসিব মোল্লাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট এবং এটি সমাজে যৌতুকের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেবে।
৬৬ দিন আগে
তিন ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু
আকস্মিক কুয়াশায় প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চালু হয়েছে। এর আগে, ভোর ৪টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি ফেরি মাঝ পদ্মায় ঘন কুয়াশার কবলে আটকা পড়ে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে পদ্মা নদী অববাহিকা আকস্মিক কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় নৌযান চলাচলে ঝুঁকি দেখা দেয়। এরপর মাঝ নদীতে দুটি ফেরি আটকে পড়ার খবরে সাড়ে ৪টা থেকে ফেরিসহ সকল নৌযান বন্ধ রাখা হয়।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয় জানায়, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাতের পর থেকে পদ্মা অববাহিকায় কুয়াশা পড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে, ভোর ৪টার দিকে চারদিকে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দেখা যায়।
এ সময় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া এনায়েতপুরী নামক একটি রো রো এবং বাইগার নামক একটি কে-টাইপ ফেরি মাঝ নদীতে কুয়াশার কবলে পড়ে। চারদিকে কিছুই দেখতে না পেয়ে ফেরি দুটি মাঝ নদীতেই নোঙর করে থাকে বলে জানায় বিআইডব্লিউটিসি।
ফেরি নোঙর করে থাকার খবর পেয়ে উপায় না পেয়ে কর্তৃপক্ষ ভোর সাড়ে ৪টা থেকে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে ফেরিসহ নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এ সময় পাটুরিয়া প্রান্তে ৩ নম্বর ঘাটে রো রো (বড়) ফেরি খানজাহান আলী, কেরামত আলী ও ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি বনলতা নোঙর করে থাকে। একইভাবে, ৪ নম্বর ঘাটে ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা ও শাহ পরান নামক দুটি রো রো ফেরি এবং ৫ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি শাহ মখদুম ও ইউটিলিটি পেরি হাসনাহেনা নোঙর করে থাকে।
অন্যদিকে, দৌলতদিয়া প্রান্তে ৪ নম্বর ঘাটে কেটাইপ (মাঝারি) ফেরি ঢাকা এবং ৭ নম্বর ঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামক একটি রো রো ফেরি নোঙর করে থাকে।
এদিকে, নদী অববাহিকার পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়কেও কুয়াশার কবলে পড়ে যানবাহন। যানবাহনগুলো লাইট জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে চলতে থাকে। মাঝে মধ্যে অতিমাত্রায় ঘন কুয়াশায় কিছুই দেখতে না পেয়ে যানবাহনগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
সরেজমিন ভোর পাঁচটার দিকে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় দূরপাল্লার যানবাহনগুলো সতর্কতার সঙ্গে ধীরে গতিতে চলছে।
মোটরসাইকেল নিয়ে তেল আনতে পাম্পের দিকে যাওয়া রাকিবুল হক নামের এক ব্যক্তি বলেন, দিনের বেলায় অনেক লম্বা লাইন হয় বলে ভোরে রওনা করেছি। কিন্তু কুয়াশার কারণে গাড়ি চালাতে খুব ভয় করছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, কুয়াশায় নদীপথ অন্ধকার হয়ে আসায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ভোর চারটার দিকে ঘাট ছেড়ে যাওয়া দুটি ফেরি মাঝ নদীতে কুয়াশার কবলে আটকা পড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সাড়ে ৪টার দিকে ফেরি বন্ধ করা হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধের পর সকাল পৌনে ৭টার দিকে কুয়াশা কম দেখে মাঝ নদীতে থাকা ফেরিগুলো ঘাটের দিকে আসে। ঘাটে নোঙরে থাকা ফেরিগুলো একে একে ঘাট ছেড়ে যায় বলে জানান মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।
৬৬ দিন আগে
ভাটারায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, পাশে পড়েছিল একাধিক মদের বোতল
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ষষ্ঠ তলার একটি ফ্লাটের কক্ষ থেকে আনিপা নিন্দিয়া (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকালের দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত আনিপা চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার একলাসপুর গ্রামের আশফাক ভূঁইয়ার মেয়ে। বর্তমানে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি লালমাটিয়া মহিলা কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
আনিপার ছোট ভাই আকিল ভূঁইয়া বলেন, গতরাতে বাসায় ফিরে আমার আপুর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা জোরে ধাক্কা দিয়ে দেখি, ও অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে। পরে আমি বিষয়টি থানা পুলিশকে জানাই।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হানুল ইসলাম জানান, গতরাতে খবর পেয়ে ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি। এ সময় ওই নারীর আশপাশে বেশ কয়েকটি খালি মদের বোতল পাই। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবুও মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ সকালে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
৬৭ দিন আগে
রাজবাড়ীর পদ্মায় বাসডুবির পঞ্চম দিনেও চলছে উদ্ধার অভিযান
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের সামনে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চলছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অন্যান্য দিনের মতো সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাদের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চালান তারা। এ সময় দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটের পন্টুনটি সরিয়ে ফেলা হয়। সেসব স্থানেও শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে অনুসন্ধান চালানো হয়। সন্ধ্যার পর সাময়িক সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে পৌছে। ঘাটে থাকা অপর একটি বড় ফেরি যানবাহন বোঝাই করে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় অপর ফেরির অপেক্ষা করতে থাকে বাসটি। কয়েক মিনিট পর ঘাটে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি হাসনাহেনা ভেড়ে। ফেরি থেকে দুই-তিনটি যানবাহন আনলোড চলাকালীন অপেক্ষায় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পন্টুনের দিকে এসে পদ্মায় পড়ে যায়। সেদিন মধ্যরাতে প্রায় ৭ ঘণ্টার চেষ্টার পর নদী থেকে বাসটি টেনে তোলা হয়।
এ সময় বাস থেকে ১৮টি মরদেহ এবং পরদিন আরও ৬ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল। তার আগে, দুর্ঘটনার পরপর চার যাত্রীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬ জনের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা জানান, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীরা সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযান কখন বা কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিশ্চিতভাবে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিখোঁজের সন্ধান পাননি। তারপরও কারো মনে যাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন দেখা না দেয়, তার আলোকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অভিযান চলবে। অভিযান কার্যক্রম শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
৬৭ দিন আগে
রাজধানীতে তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবক নিহত
রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর।
রবিবার (২৯ মার্চ) ভোরে কলাবাগান থানাধীন ভূতের গলি এলাকার গার্ডেন হাউস নামের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। সকাল ৮টার দিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন জানান, ভোরে ওই যুবক বাসাটিতে বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বাসার মালিক জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান যুবকটি আর বেঁচে নেই।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। প্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআই ইকবাল হোসেন।
৬৭ দিন আগে
রাজধানীতে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর রামপুরা থানার বনশ্রী এলাকায় লাইকা মিলিন (১৭) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল পৌনে ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরির বাবা শাহাদাত হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমাদের ভাড়া বাসার চার তলায় জানালার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আমার মেয়ে ঝুলে ছিল। পরে আমরা দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। তবে কী কারণে সে গলায় ফাঁস দিয়েছে সে বিষয়টি বলতে পারছি না।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি রামপুরা থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
৬৭ দিন আগে