ঢাকা
সাভারে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের কৃত্রিম সংকট, নির্দেশনা না মানার অভিযোগ
সাভারে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে সরকারি নির্দেশনা না মানারও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগিরা।
রবিবার (৮ মার্চ) সাভারের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আনন্দপুর এলাকায় এস আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশনকে ১০০ টাকা সমমূল্যের অকটেন বিক্রি করতে দেখা গেছে। অপরদিকে, সাভারের পাকিজার মোড় এলাকার আফজাল ফিলিং স্টেশনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার অকটেন বিক্রি করছে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। এর বেশি কাউকে দেওয়া হচ্ছে না।
এছাড়া সাভারের রেড়িও কলোনি এলাকায় সাহারা পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ হওয়ার পর গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) তা পুনরায় চালু করেছে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। এ সময় সাভারের হেমায়েতপুর, যাদুর চর ও বাইপাইলে অবস্থিত ৫টি পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির একই চিত্র দেখা যায়।
এস আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে অকটেন কিনতে আসেন এমারত আলী তালুকদার নামে এক ব্যক্তি। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দিনে একবার ২ লিটার অকটেন নিতে পারব, কিন্তু এই পেট্রোল পাম্প ১০০ টাকার বেশি অকটেন বিক্রি করছে না। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশনা না মেনে তাদের ইচ্ছেমতো অকটেন বিক্রি করছে। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চাইলে তারা খারাপ ব্যবহার করছে। এত অল্প তেল দিয়ে তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পৌর এলাকার পাকিজার নিকট আফজাল পেট্রোল পাম্পে অকটেন কিনতে এসে নেয়ামত উল্লাহ জানান, পেট্রোল পাম্পের লোকজনের কাছে আমরা এখন জিম্মি হয়ে পড়েছি। তারা সরকারি নির্দেশনা না মেনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের নিজেদের ইচ্ছামতো তেল বিক্রি করছে। এতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি এই পাম্পে বাইকের জন্য অকটেন নিতে এসেছি। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ২০০ টাকার বেশি অকটেন দিচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে এস আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি।
এ বিষয় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৮৮ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গণপিটুনিতে ছিনতাইকারী নিহত
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইয়ের সময় গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি কড়ইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনজন ছিনতাইকারী একটি মোটরসাইকেলে চড়ে এক পথচারীকে আটকিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া দেন। এতে দুই ছিনতাইকারী দৌড়ে পালিয়ে গেলেও একজন জনতার হাতে ধরা পড়েন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে জনতা ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জনতার পিটুনিতে ওই ছিনতাইকারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
৮৮ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ট্রাকের চাপায় মো. আরাফাত (১৯) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে যাত্রাবাড়ীর মোল্লা কলেজের ইউটার্নের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরাফাতের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদরের মুন্সীকান্দি গ্রামে। তার বাবার নাম রুহুল আমিন। তিনি পরিবারের সঙ্গে কোনাপাড়া বাসের পুল এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতের বাবা রুহুল আমিন জানান, ‘আমার ছেলে গত বছর মুন্সিগঞ্জ সদর স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছিল। এরপর সে যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি মোবাইলের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। গতরাতে এক বন্ধুর সঙ্গে সে মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ঘুরতে বেরিয়েছিল। পরে আমরা জানতে পারি, মোল্লা কলেজের সামনে ইউটার্নে একটি ট্রাকের চাপায় সে গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান আমার ছেলে আর বেঁচে নেই।’
তিনি আরও জানান, ট্রাকের চালক পালিয়ে গেলেও ট্রাকটি থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৮৮ দিন আগে
ঘন কুয়াশায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক
ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে সকাল ৭টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় মাঝ নদীতেও আটকা পড়ে দুটি ফেরি। আকস্মিক কুয়াশায় ফেরি বন্ধ থাকায় বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন যাবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা সেক্টরের ডিজিএম আবদুস সালাম জানান, রবিবার (৮ মার্চ) ভোর থেকে পদ্মা অববাহিকায় হঠাৎই ঘন কুয়াশার প্রকোপ বাড়তে থাকে। সকাল ৭টার দিকে ঘন কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে পুরো নৌপথ ঢেকে যায়। কুয়াশা ভেদ করে নৌপথ দেখা যাচ্ছিল না। এতে নৌ দূর্ঘটনা এড়াতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় মাঝ নদীতে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে আটকে পড়ে শাহ পরান ও বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামে দুইটি ফেরি। এছাড়া অপর ১১টি ফেরি ঘাটগুলোতে আটকিয়ে রাখা হয়।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দুই শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। এর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক রয়েছে শতাধিক। যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন।
সকাল ৯টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে পুনরায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান বিআইডব্লিউটিসির ওই কর্মকর্তা।
৮৮ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরছিন্না গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতের ভেতর থেকে হাফিজুর রহমান (৩৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি ওই এলাকার কুমারীপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ এনায়েতুর রহমান জানান, হাফিজুর দীর্ঘদিন ধরে চুল কাটার কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে যমুনায় মাছ ধরে বিক্রি করতেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। গতকাল গ্রামের ভুট্টা ক্ষেতের ভেতরে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
পরে তাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তিনি কীভাবে খুন হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এ ঘটনার কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই ওসি।
৮৯ দিন আগে
হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে হতাশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
ডাক্তারদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পলাশ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
এ সময় তিনি হাসপাতালে কর্তব্যরত ২১ জন ডাক্তারের মধ্যে ৫ জন ছুটিতে থাকায় বাকি ১৬ জনের মধ্যে ৮ জনের উপস্থিতি দেখতে পান। এর মধ্যে ২ জন ডাক্তার আবার নির্ধারিত সময়ের পরে আসেন। পরে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, রোগীদের ওয়ার্ড, ডাক্তারদের চেম্বারগুলো পরিদর্শনসহ সার্বিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৫ মার্চ সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই, সেখানে উল্লেখ ছিল—হাসপাতালে ডাক্তাররা সময়মত উপস্থিত হন না। এর বিপরীতে ডাক্তারগণ বক্তব্য দিয়েছিলেন, ডাক্তাররা হাসপাতালের উপরতলায় ছিলেন, আর সংবাদকর্মীরা নিচতলায় ছিলেন। সংবাদটি প্রকাশের পর ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আজকের এই আকস্মিক পরিদর্শন।
তিনি বলেন, ‘আসলে পরিস্থিতিটি কী, সেটি দেখার জন্যই আসা। যা আমরা শুনি, তাই কি সত্য, না এর বাইরেও কিছু আছে; আসলেই মানুষ সেবা পাচ্ছে কি না। তবে এখানে এসে আমি নিজেই হতাশ। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়, তারপরও তারা সংশোধন না হয়ে নিজেদের মতোই চলছেন। আমি ভেবেছিলাম, এবার অন্তত সকল ডাক্তার যার যার কর্মস্থলে সঠিক সময়ে উপস্থিত হবেন, কিন্তু পরিদর্শনে এসে সেটা দেখতে পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ হাসপাতালে মোট ২৭টি পোস্ট রয়েছে। কর্মরত পোস্টে ডাক্তার আছেন ২১ জন। তার মধ্যে আমরা উপস্থিত পেয়েছি মাত্র ৮ জন ডাক্তার। কিন্তু এ ৮ জনের মধ্যেও ২ জন নির্ধারিত সময়ের পরে এসেছেন। এছাড়া ৫ জন ডাক্তার ছুটিতে রয়েছেন।
‘ডাক্তাররা মানবিক সেবায় নিয়োজিত। আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই এবং তা ডাক্তারদের মাধ্যমেই পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু তারাই সময়মতো উপস্থিত হন না। যারা উপস্থিত হননি তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় রেবিক্স টিকার বিষয়ে এ প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘আমরা নগদ টাকা দিয়ে রেবিক্স টিকা কিনছি। প্রতি উপজেলায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দেশে রেবিক্স টিকার আর সমস্যা হবে না।’
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, পলাশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবুল আলম প্রমুখ।
৮৯ দিন আগে
রাতে রাজধানীর সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ
গতরাতে রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুইজন।
শুক্রবার (৬ মার্চৃ) সাড়ে রাত ১০টা ও ১১টার দিকে যথাক্রমে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এবং সায়েন্স ল্যাবে এই দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আলিম (৪৮) ও যাত্রী হারুনুর রহমান (৩২)। তারা দুজন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় নিহত হন। অন্যদিকে, সায়েন্স ল্যাব এলাকায় প্রাণ হারান সাজু আহমেদ সুমন (৪৫) ও তার মেয়ে সুমাইয়া আহমেদ তৃষা (২০)।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে অটোরিকশার চালক ও তিন যাত্রী আহত হন।
পরে রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালক আলিম এবং যাত্রী হারুনুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া হ্যাপি আক্তার (২২) ও নিহত হারুনের স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার (২৫) আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঢামেক থেকে হারুনের আত্মীয় নাবিল জানান, রাত সাড়ে দশটার দিকে সিএনজিতে করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা দিয়ে মহাখালী তাদের বাসায় যাওয়ার সময় ইউটার্ন নিতে গিয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে অটোরিকশাটির ধাক্কা লাগে। এতে অটোরিকশায় থাকা তিন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে চালক আলিম ও যাত্রী হারুন নিহত হন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বৃষ্টি আক্তার ও হ্যাপি আক্তার দুজনেই গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের দুজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানার দশ কানিয়া গ্রামে বলে জানান নাবিল।
এ দুর্ঘটনার বিষয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদের মধ্যে সিএনজিচালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত দুই নারীর জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে।
অপরদিকে, নিউমার্কেট থানার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেছে নিউমার্কেট থানা পুলিশ।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাজু আহমেদ সুমন নিহত হন। পরে গুরুতর অবস্থায় তৃষাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুল। তিনি জানান, সায়েন্স ল্যাব এলাকা দিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন সুজন ও তার মেয়ে তৃষা। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, নিহত সাজু আহমেদ সুজন সেগুনবাগিচায় গণপূর্ত বিভাগে চাকরি করতেন। তার মেয়ে একজন শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে। তারা বর্তমানে রাজধানীর দক্ষিণ শাহজাহানপুর এলাকায় বসবাস করতেন।
৮৯ দিন আগে
কুয়াশার দাপটে আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক
আবারও পদ্মা নদীর অববাহিকায় ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় মাঝ নদীতেও আটকা পড়ে দুটি ফেরি। আকস্মিক কুয়াশায় ফেরি বন্ধ থাকায় বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন যাবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, শনিবার সকাল থেকে নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশা পড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়লে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য দূরেও কিছুই দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকাল ৭টার পর উভয় ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া রো রো (বড়) ফেরি খান জাহান আলী ও কে-টাইপ (মাঝারি) ফেরি বাইগার মাঝ নদীতে গিয়ে দিক হারিয়ে ফেলে। মাঝ নদীতে ফেরি আটকে পড়ার খবর পেয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে দুই ঘাট থেকে ফেরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ সময় পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ৩ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি শাহ পরাণ, ভাষা শহীদ বরকত, কে-টাইপ ফেরি ফরিদপুর, ৪ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, কেরামত আলী এবং ৫ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা নামক ফেরিগুলো নোঙর করে থাকে। দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩ নম্বর ঘাটে ইউটিলিটি ফেরি হাসনা হেনা, ৪ নম্বর ঘাটে কে-টাইপ ফেরি ঢাকা, রো রো ফেরি শাহ মখদুম ও ইউটিলিটি ফেরি বনলতা নোঙর করে থাকে।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার পরপরই কুয়াশা কমতে থাকলে প্রথমে মাঝ নদীতে থাকা ফেরিগুলো নির্দিষ্ট ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এরপর ১০টার দিকে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট থেকে নোঙর করে থাকা ফেরিগুলো যানবাহন বোঝাই করে ছাড়তে শুরু করে।
এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে কুয়াশার দাপটে দুই দিন কয়েক ঘণ্টা ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটল।
৮৯ দিন আগে
গাজীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত
গাজীপুরের পূবাইলে ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ২ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গাজীপুর মহানগরের পূবাইল মৃধাবাড়ি এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে সজিব মিয়া (৪০) এবং সাতানিপাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে শেখ হাবিব বাপ্পী (৩৫)।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, টঙ্গী ঘোড়াশাল সড়কের পূবাইল রেলক্রসিং এলাকায় ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যুবক নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের স্বজনরা তাদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৯০ দিন আগে
রাজধানীতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দগ্ধ একই পরিবারের ১০
রাজধানীর উত্তরার কামারপাড়ায় একটি বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন— মো. রুবেল (২৮), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (০৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই মো. এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী মোছা. দুলারা খাতুন (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১৩), এনায়েতের ভাই মো. হাবিব (৩০), ভাগনি আয়েশা, (১৯) মো. হাবিব (৩৫) ও আবু কালাম রুবেল (৩৫)।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা সাজেদ মাতব্বর জানান, উত্তরার কামারপাড়া ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডের মেম্বার বাড়ির পাশে আবুল কালামের বাসায় দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন রুবেল। ওই বাসায় ভোরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।
তিনি জানান, রুবেল মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার করেন। রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত দুবাই প্রবাসী। কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারি অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তিদের মধ্যে শিশু রোজার শরীরের ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সোনিয়া আক্তার দগ্ধ ১০০ শতাংশ, রুবেলের ৩২ শতাংশ, জুনায়েদ ২৪ শতাংশ, এনায়েত আলী ৪৫ শতাংশ, দিলেরা খাতুন ১৪ শতাংশ, আবু কালাম রুবেলের ৭ শতাংশ, হাবিবের ১৯ শতাংশ, আয়েশা আক্তার ১২ শতাংশ ও রিয়া আক্তারের শরীরের ৩২ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে।
যাদের শরীরের দগ্ধের পরিমাণ বেশি, তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অন্যদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান এ চিকিৎসক।
৯০ দিন আগে