ঢাকা
রাজধানীতে শপিং কমপ্লেক্সে শর্ট সার্কিটের স্পার্কিংয়ে দগ্ধ ৪
রাজধানীর শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস শপিং কমপ্লেক্সে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট স্পার্কিংয়ে চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
দগ্ধরা হলেন— সোহরাব (২০), শামীম (১৮), সুজিত দাস (২৮) ও মোনায়েম হোসেন (৩৩)।
আজ (বুধবার) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বিদ্যুতের স্পার্কিংয়ে দগ্ধ অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সবারই ইনহেলেশন বার্ন (শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়া) রয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপর দুজনকে জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী রনি জানান, আহতরা সবাই ওই শপিং কমপ্লেক্সের কর্মচারী।
তিনি বলেন, গতকাল রাতে মার্কেটের বেসমেন্ট-১-এ বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে তারা দগ্ধ হন। পরে দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে ভর্তি দেন এবং বাকি দুজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
১৫ দিন আগে
রাজধানীতে ৬ তলার ছাদ থেকে পড়ে নিরাপত্তাকর্মী নিহত
রাজধানীর খিলগাঁও থানার একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে মো. হাবিবুর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন।
সোমবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল থেকে বাসার মালিক আবু তাহের জানান, নিহত হাবিবুরের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার বীর আহমদপুরে। সে ওই এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে ছিলেন। বর্তমানে খিলগাঁও ৬৭১/৬-এ বাসায় নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে কাজ করতেন।
তিনি আরও জানান, রাত ১০টার দিকে আমার বাসার ৬ তালার ছাদে ওঠেন তিনি। কিছুক্ষণ পরেই আমরা শব্দ পেলে নিচে তাকিয়ে দেখেন হাবিবুর রহমান পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কী কারণে তিনি উপর থেকে নিচে পড়ে গেলেন, এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
ঢামেক হাসপাতালে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
১৬ দিন আগে
গেন্ডারিয়ায় বাসা থেকে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার কে বি রোড লোহারপুল এলাকার একটি বাসায় ছুরিকাঘাতে মো. সিয়াম (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
মঙ্গলবার (১৯ মে ) সকাল ৬টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিয়ামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
নিহত সিয়াম পল্টনের একটি ট্রাভেল কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
সিয়ামকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তার বড় ভাই অটোরিকশাচালক পিন্টু বলেন, রাত ৩টার দিকে বাসায় ফিরে দেখি, আমার ছোট ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে আমরা তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কে বা কারা আমার ভাইকে ছুরিকাঘাত করেছে, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।
তিনি আরও জানান, তারা গেন্ডারিয়ার কে বি রোড লোহারপুলের ৯৭ নম্বর বাসায় থাকেন। ওই বাসার মন্টু মিয়ার তিন ছেলের মধ্যে সিয়াম ছিল সবার ছোট।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে সিয়ামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবগত করা হয়েছে।
১৬ দিন আগে
মিরপুরে অজ্ঞাত দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় যুবক নিহত
রাজধানীর মিরপুরে অজ্ঞাত দ্রুতগামী এক গাড়ির ধাক্কায় সজীব (২৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পল্লবী থানার সাগুপ্তা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালেরর জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তানভীর জানান, নিহত সজীব বিভিন্ন জায়গায় কন্ট্রাকে গ্রিলের কাজ করতেন। তার ওয়ার্কসপ মোহাম্মদপুরে। আজ (সোমবার) সকালের দিকে পল্লবীর সাগুপ্তা মোড় এলাকায় রাস্তা পারাপার সময় অজ্ঞাত দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে আমরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসেকে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, নিহত সজীব ঢাকার কেরানীগঞ্জের মহিউদ্দিনের ছেলে ছিলেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। অল্প কিছুদিন আগে তিনি বিয়ে করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১৭ দিন আগে
ফরিদপুরের চলন্ত ট্রাকের পেছনে আরেক ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত একটি ট্রাকের পেছনে আরেক ট্রাকের ধাক্কায় ২ জন নিহত হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের আতাদি ফ্লাইওভার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল খান জানান, ভোর পাঁচটার দিকে আতাতি ফ্লাইওভার-সংলগ্ন এলাকায় ঢাকাগামী গাছের চারাবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে আরেকটি মাছবাহী ট্রাক দ্রুত গতিতে ধাক্কা দেয়। এতে মাছবাহী ট্রাকের দুইজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা দুজন মাছবাহী ট্রাকের চালক ও সহকারী।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১৭ দিন আগে
শনির আখড়ায় অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার শনির আখড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মোহাম্মদ সাজিদ হাসান (৩০) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সাজিদ হাসানের বাড়ি যাত্রাবাড়ীর কদমতলী এলাকার মেরাজনগরে। তার বাবার নাম মো. সোলাইমান। তিনি একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
হাসপাতালে নিহতের বাবা সোলাইমান জানান, আমার ছেলে আল মদিনা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডে কর্মরত ছিল। প্রতিদিনের মতো আজও সে অফিসের কাজে মোটরসাইকেলে নিয়ে বের হয়েছিল। এ সময় শনির আখড়ার মোড়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা ও তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হয় আমার ছেলে। পরে আমরা বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আমার ছেলে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
১৮ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ঘাটে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আমির (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ জনে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত বুধবার (১৩ মে) দুপুর পৌনে ২টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় ১২ জনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার শংকর নামের একজনের মৃত্যু হয়েছিল। আজ (শনিবার) সকাল ১০টার দিকে আইসিইউতে আমির নামের চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। তার শরীরে ৮০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।
তিনি জানান, দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় ৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখনও ৪ জন জাতীয় বার্নে ভর্তি রয়েছেন বলে জানা তিনি।
১৯ দিন আগে
শরীয়তপুরে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর, চিকিৎসকসহ আহত ৫
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক, আনসার সদস্যসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) রাত সোয়া ১টার দিকে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ হামলা ও ভাঙচুর চালান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদরের উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) বুকে ব্যথা নিয়ে গতকাল (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। এরপর রাত সোয়া ১টার দিকে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
হামলায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলাম, কর্তব্যরত আনসার সদস্য সোহেল সরদার, কামরুল, আজিজুল হক ও কাউসার গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই আল আমিন নামে একজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
হামলায় গুরুতর আহত চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা আকস্মিকভাবে জরুরি বিভাগে হামলা চালান। এতে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, হাসপাতালে হামলা ও চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আহত চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারীদের পরিচয় যাই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে, জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
১৯ দিন আগে
মৃত্যুর সঙ্গে পাঁচ দিন লড়াই করে হার মানলেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ মনিরা
রাজবাড়ীতে ছুটি শেষে কার্যালয়ের পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হওয়া অফিস সহায়ক সেই মনিরা খাতুন (২৮) মারা গেছেন।
টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার (১৫ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মনিরা খাতুন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের কোলারহাট গ্রামের মেহেদী হাসানের স্ত্রী এবং একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। তার স্বামী মেহেদী হাসানও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন।
মেহেদী হাসান জানান, মনিরা খাতুনের শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই কারণে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাদের সংসারে মাত্র ১০ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মা ছাড়া এই শিশু নিয়ে তিনি অনেক অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
জানা যায়, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক-সংলগ্ন রাজবাড়ী শহরের দক্ষিণ ভবানীপুর পশু হাসপাতাল এলাকায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রাজবাড়ী জেলা কার্যালয় অবস্থিত। গত রবিবার (১০ মে) বিকেলে ছুটি শেষে কার্যালয়ে উত্তোলনকৃত জাতীয় পতাকা নামাতে যান মনিরা। কার্যালয়ে একপাশে স্থাপিত পাইপ থেকে জাতীয় পতাকা নামাতে গেলে অসাবধানতাবশত পতাকাবাহী ইস্পাতের পাইপটি বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের হাইভোল্টেজ তারের ওপর পড়ে। এই অবস্থায় পাইপটি বিদ্যুতায়িত হলে মনিরার পরনের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। সে সময় অফিসে কেউ না থাকায় তাকে উদ্ধার করতে দেরি হয় এবং আগুন ছড়িয়ে শরীরে বেশিরভাগ অংশ দগ্ধ হয়। পথচারীরা টের পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মনিরাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, মনিরা খাতুনের শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঝলসে যায়। তাকে সদর হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে পরিবারের লোকজন ফরিদপুর না নিয়ে ওই দিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
রাজবাড়ী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে মনিরা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই দিন জরুরি মিটিংয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় বিকেল সোয়া ৪টার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত এসে তিনি শোনেন মনিরাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়।
গতকাল (শুক্রবার) রাতে গ্রামের বাড়িতে মনিরার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বামী মেহেদী হাসান। তার অকাল মৃত্যুতে কর্মস্থলসহ গোটা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯ দিন আগে
স্বামীকে খুন করে মরদেহ টুকরো করে লুকানোর চেষ্টা, স্ত্রী আটক
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আসমা বেগম (আসমা আক্তার) নামে এক নারীকে আটক করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ।
ঘটনাটি গত বুধবারের (১৩ মে)। ওই দিন দিবাগত রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে চন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে আজ (শুক্রবার) বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার স্বামী জিয়া সরদারের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আসমা বেগমের তীব্র ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি লোহার রড দিয়ে স্বামীকে একাধিক আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা বেগম মরদেহ চাকু দিয়ে টুকরো টুকরো করেন। মরদেহের দুই হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। দেহের অন্যান্য অংশ শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ে রেখে আসা হয়। এমনকি মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখারও চেষ্টা করা হয়।
বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া এবং অভিযুক্ত নারীর অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমা আক্তারকে আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১৯ দিন আগে