চট্টগ্রাম
ফেনীতে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী ছাগলনাইয়ায় ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে গুলিয়াখালী বিচে ঘুরতে গিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ছাগলনাইয়া থানার ঘোপাল ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জের চৌধুরী পাড়া রাস্তার মুখে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইকবাল হোসেন জিসান (২৩) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের সমপুর গ্রামের ডাক্তার বাড়ীর বাসিন্দা আবু তৈয়বের ছেলে ছিলেন। জিহানুল ইসলাম শাওন (২০) ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পাটোয়ারী বাড়ীর কামরুল ইসলাম রসুলের একমাত্র ছেলে। তিনি ফেনী হোমপ্লাস সুপার সপের হিসাব বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
শাওনের আত্মীয় সাংবাদিক এম এমরান পাটোয়ারী জানান, শাওনসহ তাদের কয়েকজন বন্ধু গতকাল (বুধবার) রাতে গুলিয়াখালী সৈকতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে রাত্রিযাপন শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তার বন্ধুরা মিলে ফেনীর উদ্দেশে রওনা দেন।
তিনি বলেন, ‘শাওন ও জিসান একই মোটরসাইকেল ছিলেন। মোটরসাইকেলটিকে একটি ড্রাম্প ট্রাক চাপা দিলে জিসান ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আর আমার মামাতো ভাই শাওন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।’
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে দুই বন্ধু চট্টগ্রাম থেকে ফেনীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি দ্রুতগতির ডাম্প ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জিসান নিহত হন। গুরুতর আহত আবস্থায় শাওনকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেল ও ডাম্প ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৬ ঘণ্টা আগে
ভাগ্নিকে মোটরসাইকেল চালানো শেখাতে গিয়ে প্রাণ গেল মামার
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে আপন ভাগ্নি ইশাতকে (১৫) মোটরসাইকেল চালানো শেখাতে গিয়ে সড়ক বিভাগের থামানো ট্রাকের সঙ্গে হঠাৎ ধাক্কা লেগে ফজলে রাব্বি (২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে ওই কিশোরী।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে মতলব ব্রিজের দক্ষিণ অংশের সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বি মতলব দক্ষিণ পৌর এলাকার বাইশপুর বেপারী বাড়ির মো. মিজানুর রহমানের ছেলে এবং মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানান কলেজের শিক্ষক কায়সার মামুন।
আহত ইশাত তার আপন ভাগ্নি। সে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. জুয়েল। সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বসবাস করে। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার কালাইয়াতে। ঈদ উপলক্ষে মায়ের সঙ্গে সে মতলবে নানা বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালে আসা নিহত রাব্বির চাচি মরিয়ম বেগম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
চাঁদপুরের অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. জসিম জানান, সেই সময় তিনি ঘটনাস্থল দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে সড়ক বিভাগের ট্রাকচালক মিজানুর রহমান তার অ্যাম্বুলেন্স থামান। এরপর তিনি হতাহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখেন।
তিনি বলেন, বাইক চালানো শেখাতে গিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে মতলব ব্রিজের দক্ষিণ অংশে সড়ক বিভাগের মেরামত কাজে ব্যবহৃত ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এরপর সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার এনামুল হক বলেন, রাব্বি নামের ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। আহত মেয়েটিকে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, এ ব্যাপারে এখনও কোনো মামলা হয়নি।
১ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে দুই দোকান পুড়ে ছাই: ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি
খাগড়াছড়ির একটি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে একটি খাবার হোটেল ও তেলের দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও একটি ঔষধের দোকানসহ বসতবাড়ি।
বুধবার (৩ জুন) রাত পৌনে ৪ টার দিকে গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এই ঘটনায় আনোয়ার হোসেন নামক এক দোকানির তেলের দোকান ও নাঈম নামক এক ব্যবসায়ীর খাবার হোটেল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
আগুনের খবর পেয়ে মাটিরাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস আধাঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেন সিন্দুকছড়ি জোনের সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস।
১ দিন আগে
চট্টগ্রামে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী বাবা-ছেলে নিহত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর নতুন ব্রিজ এলাকায় পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে কর্ণফুলী নতুন ব্রিজের প্রথম সিঁড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ বাকের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন— কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বিধান মল্লিক (৪৭) এবং তার বাবা দুর্গাপদ মল্লিক (৭৫)। তাদের গ্রামের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ব্রিজ থেকে মোটরসাইকেলযোগে বিধান মল্লিক এবং তার বাবা গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নতুন ব্রিজের প্রথম সিঁড়ি এলাকায় পৌঁছালে একটি পিকআপ তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুর্গাপদ মল্লিক নিহত হন। পরে বিধান মল্লিককে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
এদিকে, দুঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হলেও ঘটনার পরপরই পিকআপচালক পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে কর্ণফুলী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২ দিন আগে
চট্টগ্রামের হালিশহরে বস্তিতে আগুন, পুড়ল ৪ সেমিপাকা ঘর
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর আই-ব্লকের একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি সেমিপাকা ঘর পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় আধাঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা।
এই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক কক্ষবিশিষ্ট চারটি সেমিপাকা ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। আগুনের উৎপত্তি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি তারা। দমকলকর্মীদের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, ‘আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টার দিকে আগুন লাগে। আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।’
আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
চাঁদপুরে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে আয়েশা আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সকালে উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের উত্তর আলগী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আয়েশা চাঁদপুর জেলা শহরের বাসিন্দা শফিক মাঝির ছোট মেয়ে। সে শহরের একটি মাদ্রাসার শিশুশ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিক মাঝি পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে বসবাস করেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে তার স্ত্রী ও সন্তানরা হাইমচরের দক্ষিণ আলগী গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে।
সকালে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে আয়েশা দক্ষিণ আলগী হাইমচর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন ওজি বাড়ির একটি পুকুরে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পুকুরে ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সওগাত হোসেন বলেন, শিশুটিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, হাসপাতালে আনার আগেই পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।
৫ দিন আগে
ঝড়ে চাঁদপুরের শতাধিক গ্রামে দুই দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, গাছচাপায় আহত ১০
ঝড়ের প্রভাবে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর, হানাচর, চান্দ্রা ও বালিয়া ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় দুই দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এই দুর্যোগে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
গত বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পর্যন্ত এসব গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। এতে ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে আসা মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েন।
ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এ খবর জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক স্থানে ঝড়ে বড় বড় গাছ ভেঙে রাস্তায় এবং বসতঘরের ওপর পড়ে আছে।
সদরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের দেলোয়ার শেখ বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়। দুই দিন পরে বৃহস্পতিবার ঈদের দিবাগত রাত ২টার দিকে বিদ্যুৎ আসে, আবার শুক্রবার সকালে চলে যায়। গ্রামের প্রতিটি ঘরে এখন ফ্রিজ আছে। অনেকেই কোরবানির মাংস নিজের এবং স্বজনদের জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করে। সে কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন।
বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন গাজী, আনিসুর রহমান, মোরশেদ ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে খবর দিলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা এসে গাছ কেটে লাইন স্বাভাবিক করেন।
চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেন খান, ইউসুফ খান ও নাজমুল হোসেন বলেন, ঝড়ে ঘর, সড়ক ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর বহু গাছ ভেঙে পড়ে। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। নিজ গ্রামে ঈদ উৎসব করতে এসে অনেকে এবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান তারা।
একই গ্রামের বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম ও সোহেল আহম্মেদ বলেন, আমাদের ইউনিয়নের মদনা, দক্ষিণ বালিয়া, হরিপুর, বাখরপুর ও জব্বর ঢালী এলাকায় বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মদিনা মার্কেট এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে আঞ্চলিক সড়কে পড়ে ছিল।
তারা জানান, গত বুধবার সকালের আকস্মিক ঝড়ে পশ্চিম বালিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিজ তালুকদারের ঘরের ওপর দুটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে তার পরিবারের তিন সদস্য আহত হন।
আহতরা হলেন— আজিজ তালুকদারের ছেলে মো. আরাফাত (১৮), মেয়ে আবিদা সুলতানা (১২) ও স্ত্রী নাছিমা আজিজ (৪২)।
প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আমরা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আইনজীবী মো. শাহজাহান খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঝড়ের পর আমাদের লোকজন কাজ করেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করে বিদ্যুৎ লাইন আবার চালু করা হয়েছে। এরপরও যদি কোনো গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকে, আমাদের জানালে সেখানে আমাদের লোকজন কাজ করবেন।
৫ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কেনাবেচা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাদক কেনাবেচায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রায়হান (১৫) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।
শুক্রবার (৩০ মে ) গভীর রাতে উপজেলার সৈয়দটুলা উত্তরপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত রায়হান উত্তরপাড়া এলাকার ছুটুন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উত্তরপাড়া এলাকার সজীব মিয়া স্থানীয় এক যুবককে ইয়াবা কিনে আনার জন্য ৩০০ টাকা দেন। তবে ওই যুবক ইয়াবা না কিনে সেই টাকা দিয়ে বিস্কুট কিনে খেয়ে ফেলেন। এ নিয়ে সজীব মিয়া ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করা স্থানীয় যুবক কামাল, জসিম, দেওয়ান উদ্দিনসহ কয়েকজন সজীব মিয়ার কাছে মাদক কেনাবেচার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় সজীব মিয়ার পক্ষ থাকা এলাকার শাহীন ও রতন মিয়া নামে আরও দুই যুবক ক্ষিপ্ত হন । এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা আরও জানান, রাতের আঁধারে গ্রামে টর্চলাইট জ্বালিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন রায়হান। পরে তাকে উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভুঁইয়া বলেন, ‘মাদক সংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। সংঘর্ষে রায়হান নামে একজন মারা যান। তার মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
৫ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রে বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়
ঈদুল আজহার ছুটিতে ধীরে ধীরে বাড়ছে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড়। জেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক ও রিছাং ঝর্ণায় ঈদের দিন পর্যটক উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ঈদের পরের দিন থেকে বাড়তে শুরু করেছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।
তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় পর্যটকদের উপস্থিতিই বেশি দেখা গেছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশা, টানা ছুটির বাকি দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে।
ঘুরতে আসা অনেক পর্যটক খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সৌন্দর্য, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ও রহস্যময় গুহা দেখে মুগ্ধতার কথা জানান।
বিশেষ করে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া গুহার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে ছিল ভিন্নরকম রোমাঞ্চকর। অনেক পর্যটকের ভাষ্য, বিদেশে না গিয়ে দেশের ভেতরেই এমন মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।
এদিকে, প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক না আসায় কিছুটা হতাশ হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ ছুটি হলেও এখনো আশানুরূপ বুকিং হয়নি। তবে সামনে পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশাবাদী তারা।
হোটেল অরণ্য বিলাসের সহকারী ম্যানেজার রাজিব দে বলেন, ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটক বাড়লে ব্যবসাও চাঙা হবে বলে তারা আশা করছেন।
ঈদে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি মোবাইল টিমও কাজ করছে।
কোনো পর্যটক সমস্যায় পড়লে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ।
টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ পরিদর্শক নয়ন বড়ুয়া বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রহস্যময় গুহা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, ঝুলন্ত সেতু, নয়নাভিরাম লেক, মায়াবিনী লেক, হাতিমাথা পাহাড়, দেবতা পুকুর ও তৈদু ছড়া ঝর্ণা।
৬ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের এমপি দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক আলহাজ্জ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
রাজনীতিবিদ দবিরুল ইসলামের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৩টায় শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দবিরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হবে।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে। পরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল রেকর্ড রয়েছে তার। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘসময় কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
৬ দিন আগে