চট্টগ্রাম
ফেনীতে পুলিশ পিটিয়ে হাতকড়াসহ পালাল আসামি
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পলাতক আসামি কবির আহম্মদ চৌধুরী প্রকাশ একটি নারী নির্যাতন মামলার আসামি। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফুলগাজীর আমজাদহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা ছাগলনাইয়া থানায় কর্মরত। এ ঘটনায় হামলাকারী ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— ফুলগাজী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাফিদ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দিদার ও কনস্টেবল সুমন।
পুলিশ জানায়, পলাতক আসামি কবির আমজাদহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ছাগলনাইয়া থানায় করা একটি নারী নির্যাতন মামলার আসামি।
আরও পড়ুন: আদালত থেকে পালালেন হত্যা মামলার আসামি
মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের একটি দল। এ সময় তারা কবিরকে গ্রেপ্তার করলেও তিনি পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে তার সহযোগী ও স্বজনদের হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।
ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আসামির স্বজনদের হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুল আলম জানান, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে গত বছরের ৬ অক্টোবর কবিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল। তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তখন তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়।
৩২৪ দিন আগে
বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে চায় শিশু হোসাইন
সাত মাস আগে মায়ের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে হারিয়ে যাওয়া চার বছরের শিশু হোসাইনের জায়গা হয়েছে কুমিল্লার দেবীদ্বারে সরকারি শিশু পরিবারে। তবে শিশুটি এখন ফিরতে চায় তার পরিবারের কাছে।
যে বয়সে বাবা-মায়ের আদর, স্নেহ আর ভালোবাসায় থাকার কথা, সে বয়সে মা-বাবাকে হারিয়ে তার আশ্রয় হয়েছে সরকারি শিশু পরিবারে। ছোট বাচ্চাটি তাই যেকোনোভাবে ফিরে যেতে চায় তার বাবা-মায়ের কাছে।
জানা গেছে, সাত মাস আগে তার মায়ের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে হারিয়ে যায় হোসাইন। মাকে খুঁজতে খুঁজতে ট্রেনে চড়ে চলে আসে কুমিল্লার লাকসাম স্টেশনে। সেখান থেকে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও শিশুটির পরিবারের কোনো খোঁজ না পেয়ে লাকসাম সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে তাকে দেবীদ্বার সরকারি শিশু পরিবারে পৌঁছে দেয় পুলিশ।
হোসাইন জানিয়েছে, তার বাবার নাম আলমগীর হোসেন, মায়ের নাম জরিনা ও গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর নামাত।
শিশুটি আরও জানিয়েছে, তার বাবা নোয়াখালির একটি দোকানে কাজ করেন। হাসান নামে তার একটি ছোট ভাই রয়েছে। এ ছাড়া আর কিছুই সে বলতে পারে না।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সেফটিক ট্যাংক থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার
দেবীদ্বার শিশু পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, হোসাইনের দেওয়া গ্রামের নাম সঠিক না হওয়ায় তাকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তারা জানায়, হোসাইন সাত মাস ধরে শিশু পরিবারের অন্য এতিম শিশুদের সঙ্গে ভালো থাকলেও প্রায় সময়ই তার বাবা-মায়ের কাছে যেতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে এবং কান্নাকাটি করে।
হোসাইনের বাবা-মাকে ফিরে পেতে সবার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন দেবীদ্বার সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক বরুণ চন্দ্র দে।
৩২৪ দিন আগে
বান্দরবানে বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনজনের মৃত্যু
বান্দরবানে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার কারণে বিদ্যুতায়িত হয়ে একই পরিবারের দুইজনসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে জেলার চিম্বুক সড়কের রাংলাই হেডম্যানপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—তুমলে ম্রো (১৭), তার মা উরকান ম্রো (৭১) এবং মেনরাও ম্রোর স্ত্রী রওলেং ম্রো (৩৬)। রাংলাই পাড়ার হেডম্যান রাংলাই ম্রো জানান, গতকাল (রবিবার) রাত ২টার দিকে পাড়াসংলগ্ন বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে গোলযোগ দেখা দিয়ে সেটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর ঘরের সঞ্চালন লাইনে আগুন ধরে গেলে তা নিভাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান রওলেং ম্রো।
রাংলাই ম্রো আরও জানান, কয়েকদিন ধরেই ওই ট্রান্সফরমারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন এবং ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য প্রকৌশলীদের একটি দল পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, ঘটনাস্থলে পুলিশও রওনা দিয়েছে।
৩২৬ দিন আগে
এসএসসি: মেয়ের ভালো ফলেও মুখে হাসি নেই রিকশাচালক বাবার
বাবা পেশায় রিকশাচালক, নাম আবদুল কাদের। আর তার মেয়ে কোহিনুর আক্তার—এবার এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তবুও মেয়ের এই অসাধারণ সাফল্যে আনন্দ নেই বাবার চোখে-মুখে। কারণ, মেয়েকে আর লেখা পড়া করাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। এ অবস্থায় বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন বাবা আবদুল কাদের।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, লাকসাম উপজেলার গ্রামের একটি স্কুল উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয়। তার থেকে দুই কিলোমিটার দূরে খিলপাড়া গ্রাম। সেই গ্রামের আবদুল কাদের ও রেহানা বেগম দম্পতির ২ মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে কোহিনুর মেজ। সে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে। ৭ম থেকে তার ক্লাস রোল এক।
কোহিনুর আক্তার বলেন, ‘বাবার তেমন সামর্থ্য নেই। দুপুরে খাবারের জন্য কিছু টাকা পেতাম। তা দুই মাস না খেয়ে জমিয়েছি। সেই টাকা দিয়ে এক মাস প্রাইভেট পড়েছি। পরে টাকা না থাকায় আর প্রাইভেটে যাইনি। এদিকে কতদিন দুপুরে কিছু না খেয়ে থাকা যায়? পরে প্রাইভেটে না যাওয়ায় স্যাররা কারণ জানতে চান। টাকা না থাকার কথা বলায় তারা বিনামূল্যে পড়িয়েছেন। আল্লাহর রহমত,বাবার মা‘র দোয়া আর স্যারদের সহযোগিতা এ রেজাল্ট পেয়েছি। ভবিষ্যতে চিকিৎসত হতে চাই। কারণ আমার গ্রামে একটি মাত্র ফার্মেসি আছে। কেউ অসুস্থ হলে দূরে লাকসাম নিতে হয়। চিকিৎসক হয়ে গ্রামের মানুষের সেবা করতে চাই।’
আবদুল কাদের বলেন, ‘আমার যে আয় তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন, সেখানে কিভাবে মেয়েকে আরও পড়ালেখা করাবো তা নিয়ে টেনশনে রয়েছি। সহযোগিতা পেলে মেয়েটিকে আরও পড়াতে পারবো।’
উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. মাসুদুল হক বলেন, ‘কোহিনুর মেধাবী শিক্ষার্থী। সে মোট ১১৯৩ নম্বর পেয়ে এসএসসি পাশ করেছে। তার বাবার পক্ষে মেয়ের লেখাপড়ায় যোগান দেওয়া দুষ্কর। সে সহযোগিতা পেলে দেশের গৌরব বৃদ্ধি করবে।’
৩২৬ দিন আগে
বন্যার পর ফেনীতে সাপ আতঙ্ক, গৃহবধূর মৃত্যু
ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন এক আতঙ্ক। বন্যার কবল থেকে রক্ষা পেতে মানুষের বাড়িঘরে আশ্রয় নিয়েছিল নানা প্রজাতির সাপ। এখন ঘরে ফিরলেও সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। এরই মধ্যে পরশুরামে বিষধর সাপের কামড়ে রোকেয়া আক্তার রিনা (৫০) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে ফেনীর পরশুরামের পৌর এলাকার সলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিনা পৌর এলাকার সলিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম শহীদের স্ত্রী। তার এক ছেলে দুই মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বন্যার পানি শুকিয়ে গেলে রান্না করার জন্য রান্নাঘরে গেলে সেখানে একটি অজ্ঞাত বিষধর সাপ রিনাকে কামড় দেয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যু
নিহতের স্বামী শফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে রিনা রান্না ঘরে যায়। এ সময় রান্নাঘরের একটি গর্ত থেকে বিষধর একটি সাপ বের হয়ে তার পায়ে কামড় দেয়। তার চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার কোনো চিকিৎসা না হওয়ায় ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার রেদোয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছিল।
৩২৮ দিন আগে
হত্যার পর স্ত্রীকে ১১ টুকরো: ‘ঘাতক’ স্বামী গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ রৌফাবাদ এলাকায় স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ ১১ টুকরো করে গুম করার চেষ্টার মামলায় প্রধান আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
শুক্রবার (১১ জুলাই) মধ্যরাতে ইউএনবিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাবের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক এম আর এম মোজাফ্ফর হোসেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিক্তিতে র্যাব-৭ এর একটি দল চট্টগ্রাম থেকে স্ত্রীর খুনি এবং হত্যার পর ঠান্ডা মাথায় লাশ ১১ টুকরো করে নিজ ঘরে ফেলে পালিয়ে যাওয়া ঘাতক স্বামীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ ব্যাপারে (শনিবার) সকালে সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে এসএসসি ফলপ্রত্যাশীকে হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার
এর আগে বুধবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অক্সিজেন এলাকার পাহাড়িকা হাউজিং সোসাইটির এফজেড টাওয়ারের ১০ তলার বাসা থেকে ওই নারীর টুকরো করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়রা নিহত গৃহবধূর স্বামীকে আটকে রাখলেও গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সমর্থ হন সুমন। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের।
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় দেড় মাস আগে এফজেড টাওয়ারের দশম তলায় বাসা ভাড়া নেন সুমন ও ফাতেমা। তাদের সিফাত নামে আট বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
৩২৮ দিন আগে
বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে জালে জড়িয়ে প্রাণ হারালেন বৃদ্ধ
ফেনীর ফুলগাজীতে বন্যার পানিতে মাছ ধরতে পাতানো কারেন্ট জাল তুলতে গিয়ে নুরুল আলম (৬২) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকালে উপজেলার বন্দুয়া দৌলতপুর এলাকা থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আলম দৌলতপুর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক কমান্ডারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ফজরের নামাজ শেষে বাড়ির পাশে বন্যার পানিতে পাতানো কারেন্ট জাল তুলতে যান নুরুল আলম। এ সময় অসাবধানতাবশত তার পা জালে আটকে যায়। সেখানেই আটকে ছটফট করে তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৭ স্থানে ভাঙন, ৩৫ গ্রাম প্লাবিত
নিহতের প্রতিবেশী ফখরুল আলম স্বপন জানান, নুরুল আলম কয়েক দিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন এবং কিছুদিন আগে স্ট্রোকও করেছিলেন। সারা দিন নিখোঁজ থাকার পর বিকালে স্বজনরা বাড়ির পাশ থেকে তার লাশটি উদ্ধার করেন।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, রাতে এ ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি। এমন মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়।
৩২৯ দিন আগে
চট্টগ্রামে গৃহবধূর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানার রৌফাবাদ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফাতেমা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর ওই গৃহবধূর স্বামীকে স্থানীয়রা আটক করলেও তিনি কৌশলে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকালে পাহাড়িকা হাউজিংয়ের এফজেড টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১১ খণ্ডে বিভক্ত লাশটি উদ্ধার করে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ।
নিহত ফাতেমা আক্তার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মো. কামাল উদ্দিনের মেয়ে। তিনি সুমন (২৫) নামে এক গাড়িচালকের স্ত্রী। তাদের ঘরে সিফাত নামে একটি ছোট্ট সন্তান রয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, গতকাল (বুধবার) রাত দেড়টার দিকে প্রতিবেশীরা ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ ও অস্বাভাবিক শব্দ শুনে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ফাতেমা আক্তারের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফাতেমাকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ একাধিক টুকরো করে ঘরের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
বায়েজিদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন জানান, পাহাড়িকা আবাসিক এফজেড টাওয়ারের দশম তলায় বসবাস করতেন স্বামী সুমন ও ফাতেমা আক্তার। ঘটনাস্থল থেকে একটি বটি ও একটি চাপাতি জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা গতকাল রাতে নিহত গৃহবধূর স্বামীকে ধরে একটি বাড়িতে আটকে রাখেন। কিন্তু সেই ঘরের জানালার গ্রিল কেটে তিনি পালিয়ে যান।
৩২৯ দিন আগে
ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৪ স্থানে ভাঙন, ৩০ গ্রাম প্লাবিত
ফেনীতে টানা ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি পানিতে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৫টি স্থান ভেঙে গেছে। এতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার ৩০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে পানি কমতে শুরু করেছে ফেনী শহরের।
ফেনী বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, প্লাবিত এলাকার অনেক বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটার ও সাব-স্টেশন ডুবে যাওয়ায় নিরাপত্তার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হতে পারে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, পরশুরামের মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাত ১২টায় নদীর পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ১৩.৯২ মিটার, যা বিপদসীমার চেয়ে ১.৫৭ মিটার বেশি। মাত্র ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পানি বেড়েছে ৬.৯২ মিটার (২২ ফুট ১০ ইঞ্চি)।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ফেনীতে ৪৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবারও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুহুরী নদীর বাঁধের পরশুরামের জঙ্গলঘোনায় দুটি, অলকায় তিনটি, শালধরে একটি এবং ফুলগাজীর উত্তর শ্রীপুরে একটি স্থানের বাঁধ ভেঙেছে। সিলোনিয়া নদীর পরশুরামের গদানগরে একটি ও ফুলগাজীর দেড়পড়ায় দুটি স্থানে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কহুয়া নদীর পরশুরামের সাতকুচিয়ায় দুটি, বেড়াবাড়িয়ায় একটি এবং ফুলগাজীর দৌলতপুরে একটি স্থানে বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার।
৩৩১ দিন আগে
ফেনীতে ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, বেড়িবাঁধে ভাঙন
টানা দুই দিনের বর্ষণে ফেনী জেলার বিভিন্ন স্থানের রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও দোকানপাট পানিতে ডুবে গেছে। ফুলগাজীর শ্রীনগর, পরশুরামের রাধানগর, জঙ্গলঘোনা ও মির্জানগর এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়ার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুলগাজী ও পরশুরামের নিম্নাঞ্চলের মানুষদের নিরাপদ স্থানে নিতে মাইকিং করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ফেনী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মজিবুর রহমান জানান, ফেনীতে গত সোমবার (৭ জুলাই) বেলা ৩টা থেকে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বেলা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৪৪০ মিলিমিটার, যা চলতি মৌসুমে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত। এতে শহরজুড়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
টানা বৃষ্টিতে ফুলগাজী বাজারের শ্রীপুর রোডে মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে কয়েকটি দোকান ধসে গেছে।
জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সিলোনিয়া নদীর পানি ও পরশুরামে বৃষ্টির পানি বিপৎসীমায় পৌঁছেছে।
বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে শহরের এসএসকে রোড, একাডেমি রোড, পাঠানবাড়ি রোড, নাজির রোড, মিজান রোড, কলেজ রোড, শান্তি কোম্পানি রোড, কদলগাজী রোড, পেট্রোবাংলোসহ বিভিন্ন এলাকা।
শহরে রিকশা, ভ্যান ছাড়া তেমন কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও আবার কোমর পানি জমে আছে। অধিকাংশ বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি উঠে গেছে।
স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করেও কোমরপানির কারণে যেতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিভিন্ন গ্রুপে স্কুলগুলো ছুটি ঘোষণা করেছে। যারা পরীক্ষার্থী ছিলেন তারা বিশেষভাবে পানির মধ্যে হেঁটে বা রিকশা-ভ্যানে করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
মার্কেট ও দোকানগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে যানবাহনের ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে গেছে অনেক গাড়ি। সকাল থেকে সড়কে আটকেপড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় কোমর পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। ফুলগাজী বাজারের শ্রীপুর রোডে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে কয়েকটি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ফেনী পৌর হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী তারেক জানান, সকাল থেকে দোকানে পানি ঢুকে সব মালপত্র ভিজে গেছে। গেল বছরের ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।
পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সিলোনিয়া নদীর মেলাঘর, গদানগর ও মনিপুর গ্রামে বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল মান্নান বলেন, মঙ্গলবার দুপুর থেকে সিলোনিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি গড়িয়ে সুবার বাজারের দক্ষিণাংশ তলিয়ে গেছে।
ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, পরশুরামের মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা ১২.৯৬ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে বিকেল ৩টায় ১২.২৬ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল। বিকেল চারটার পর থেকে মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফেনী উজানে ভারতের ত্রিপুরা ও ফেনীতে এখনও ভারী বর্ষণ হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার নেপাল সাহা বলেন, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) চারটার পর থেকে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফেনী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মজিবুর রহমান জানান, আগামী ২-৩ দিন জেলাজুড়ে বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পানি নামছে ধীরগতিতে।
ফেনী পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মো. বাতেন বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে।
ইতোমধ্যে পৌরসভার সাতটি টিম মাঠে কাজ করছে। চলমান বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে কহুয়া নদীর বাঁধের উপর দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। তবে এখনো তা বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে সীমান্তবর্তী মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি বাড়ছে।
৩৩১ দিন আগে