বরিশাল
শেরপুরে শাপলা তুলতে গিয়ে বিলে ডুবে দুই শিশু নিহত
শেরপুর সদর উপজেলায় শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে বিলের পানিতে ডুবে ফাহিমা আক্তার নুন (৯) ও জেমি (৮) নামে দুই শিশু নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গাজিরখামার ইউনিয়নের চকপাড়া এলাকার বলেশ্বর বিল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফাহিমা আক্তার নুন চকপাড়া এলাকার মাসেক আলীর মেয়ে এবং জেমি একই এলাকার জয়নুদ্দিনের মেয়ে।
আরও পড়ুন: ভোলায় পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
নিহতের স্বজনরা জানান, গতকাল (শুক্রবার) সকাল ১০টার দিকে ফাহিমা ও জেমি বাড়ির পাশের বলেশ্বর বিলে শাপলা তুলতে যায়। এরপর তারা আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির পর একপর্যায়ে বিকেলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, শাপলা তুলতে তুলতে তারা বিলের মাঝখানের গর্তে পড়ে যায়। সেখানে পানি বেশি থাকায় ডুবে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবায়দুল আলম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১৮৮ দিন আগে
ভোলার দৌলতখানে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় পানিতে ডুবে ফাতেমা ও জোবায়দা নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সম্পর্কে তারা খালাতো বোন।
বুধবার (২৭ আগস্ট) চরখলিফা ইউনিয়নের দিদারউল্লাহ গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের হজু পাটোয়ারী বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিন বিকেলে তারা নিখোঁজ হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পুকুর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফাতেমা (৬) দিদারউল্লাহ গ্রামের মো. শাকিলের মেয়ে এবং জোবায়দা (৪) মো. হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে শিশু দুটি বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করছিল। সবার অগোচরে তারা বাড়ির পাশে পুকুরে ডুবে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান করলেও খোঁজ পায়নি পরিবার। এরপর গ্রামে মাইকে প্রচারও করা হয়।
অবশেষে দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর রাত ১০ টার দিকে জোবায়দাকে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এরপর সাড়ে ১০টার দিকে ফাতেমাকেও পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদের দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২ বোনকেই মৃত ঘোষণা করেন।ে
আরও পড়ুন: রাণীশংকৈলে নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান , এ ঘটনায় দৌলতখান থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৯০ দিন আগে
পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই চোখ তুলে নিলেন ভাইয়েরা, ভিডিও ভাইরাল
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আপন দুই ভাই মিলে আরেক ভাইয়ের চোখ তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ মর্মান্তিক ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম রিপন ব্যাপারী। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় গত ২৫ আগস্ট রিপনের স্ত্রী নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে স্বপন ব্যাপারী, রোকন ব্যাপারী, আর্শেদ ব্যাপারীসহ ৮ জনকে আসামি করে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন।
মামলাটি গ্রহণ করে মুলাদী থানাকে প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) দেওয়ার জমা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলি নাজিম উদ্দিন পান্না।
এর আগে শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে রিপনের মেজো ভাই রোকন ব্যাপারী ও ছোটভাই স্বপন ব্যাপারী লোকজন নিয়ে তার দুই চোখ তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন: সিরাজদিখানে মুখোশধারী দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন আঙুল দিয়ে রিপন ব্যাপারীর বাম চোখ তোলার চেষ্টা করছে। এ সময় আরও দুজন রিপনের পা ও শরীর চেপে ধরে আছে। ঘটনার সময় এক নারীর হাতে একটি উৎপাটিত চোখ দেখা যায়। একই সময় আরেক নারীকে রিপনের মুখমণ্ডলে মারধর করতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে রিপনের বাবা উপস্থিত ছিলেন, এবং উৎপাটিত চোখ তার হাতে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত রিপন ব্যাপারীর ছেলে শাহিন ব্যাপারী বলেন, তার মেজো চাচা রোকন ব্যাপারীর কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার গচ্ছিত রেখেছিলেন তার বাবা (রিপন)। এ ছাড়া জায়গা-জমি নিয়েও কিছু বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ মেটাতে চাচারা তার বাবাকে সংবাদ দিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে ডেকে নেন।
তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার বিকেলে তার বাবা ভাইদের সঙ্গে কথা বলতে বাড়িতে পৌঁছলে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিরোধ মেটাতে শনিবার সকালে এলাকায় সালিশ বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু রাতে তার দুই চাচা লোকজন নিয়ে রিপন ব্যাপারীর চোখ তুলে নিয়েছেন।
শাহিন আরও বলেন, ভিডিওতে রিপনের বুকে চেপে যাকে আঙুল দিয়ে বাম চোখ উৎপাটন করতে দেখা গেছে, তিনি রোকন ব্যাপারী। রিপনের পা চেপে ধরা ব্যক্তি স্বপন ব্যাপারী। যার হাতে উৎপাটিত একটি চোখ ছিল তিনি রোকন ব্যাপারীর স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম এবং তার মেয়ে সুবর্ণা আক্তার মারধর করেছেন।
শাহিন জানান, চোখ তুলে নেওয়ার পরে স্থানীয় লোকজন তার বাবাকে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে তাকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, বরিশাল আদালত থেকে বাদীর লিখিত আবেদনের অনুলিপি ও বিচারকের আদেশ থানায় পৌঁছানোর পরে বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে মামলা করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের দুটি দল নাজিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
১৯০ দিন আগে
তিন শিক্ষককে বহিষ্কার দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো উত্তাল বরিশাল নার্সিং কলেজ
সহপাঠীদের ওপর হামলার অভিযোগে জড়িত তিন শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা কালো কাপড়ে চোখ-মুখ ঢেকে বিক্ষোভ করেন।
এ সময় অভিযুক্ত তিন শিক্ষক— আলী আজগর, সাইদ হোসাইন রনি ও ফরিদা বেগমকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে; পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন ক্লাস রুটিন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান প্রহসনমূলক রুটিন বাতিলের দাবি জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলনের অংশ হিসেবে চার দিন ধরে তারা ক্লিনিক্যাল ও ল্যাব প্র্যাকটিসসহ সব ধরনের ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
আরও পড়ুন: শাহবাগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ১০
আন্দোলনকারীদের ভাষ্যমতে, নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিতে আমরা আন্দোলন শুরু করেছিলাম। গত ৬ মে আমাদের আন্দোলনে বহিরাগতদের এনে হামলা চালানো হয়। আমরা হামলাকারী ও তাদের মদদদাতা কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছিলাম।
তারা বলেন, ঘটনার পর দীর্ঘ চার মাস হয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শিক্ষক আলী আজগর, সাইদ হোসাইন রনি ও ফরিদা বেগম এখনো স্বপদে বহাল আছেন। আমাদের লাঞ্ছিত করেও যারা ক্যাম্পাসে আছেন তাদের অনতিবিলম্বে বদলি বা অপসারণ করতে হবে।
স্টুডেন্ট নার্সেস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন বরিশাল নার্সিং কলেজ শাখার দপ্তর সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ধারাবাহিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আমাদের দাবি না মানলে এই আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে।’
১৯১ দিন আগে
তিন দফা দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ
অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ক্যাম্পাসের আয়তন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবিতে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে দক্ষিণাঞ্চল অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের দাবি, একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রায় ২৫ দিন ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কোনো প্রতিনিধি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। যার ফলে তারা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
১৯৪ দিন আগে
বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের নেতা গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে থানা ঘেরাও
বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হোসাইন আল সুহানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে সুহানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এতে বিপাকে পড়েন থানার সেবাগ্রহীতারা।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনানুযায়ী সুহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ছাত্রলীগ নেতা। তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।
আরও পড়ুন: টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে
এর আগে, সুহানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে সামনের সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর সন্ধ্যা ৭টা থেকে কোতয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করে মূল দরজা আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। তার আগে স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর দাবিসহ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
এদিকে, সুহানের গ্রেপ্তারের খবরে রোববার দুপুর থেকে ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে কাজে ফিরেছেন শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা জানান, আন্দোলনের নামে হাসপাতালের ডাক্তারকে মারধরের প্রতিবাদে তারা ধর্মঘট করছিলেন।
বরিশালের পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলার মামলাসহ জুলাই অভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া আরও একটি মামলায় সুহানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সদস্য তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান বলেন, ‘মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ছিল আমাদের। তাই আমরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিই। সেখান থেকে পুলিশ আমাদের সমন্বয়ক সুহানকে ধরে নিয়ে গেছে। তার মুক্তির দাবিতে আমরা এখন থানায় অবস্থান নিয়েছি।’
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের ক্যাডার সুহান বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও পলাতক শেখ হাসিনার মামাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী। তাকে গ্রেপ্তারের সময় স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য জোর করে টহল পিকআপে উঠেছিল। তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুহানকে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী মামলার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হবে।’
আরও পড়ুন: বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, আমরণ অনশন
এর আগে, রোববার আন্দোলনের নামে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে হামলা চালিয়ে চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের আহত করার অভিযোগে শেবাচিমের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাহাদুর শিকদার বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮০ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অমান্য করে জনতার ওপর হামলা, হত্যা করতে আঘাতসহ মারধর-জখম করাসহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর, রোগীদের হয়রানি ও স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে গত ২৩ দিন ধরে চলমান এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কয়েকজন নেতা।
১৯৮ দিন আগে
বাবুগঞ্জের ফরিদগঞ্জ মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হলেন আনোয়ার বিশ্বাস
বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জের ফরিদগঞ্জ বহমুখী ফাজিল মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হয়েছেন আনোয়ার হোসেন বিশ্বাস।
সম্প্রতি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আনোয়ার বিশ্বাস বর্তমানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিএডব্লিউডি) উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও নিজ এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী। আনোয়ার বিশ্বাস পশ্চিম ভুতেরদিয়ার রুহুল আমিন বিশ্বাসের বড় ছেলে।
গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন দক্ষিণ ভুতেরদিয়ার মুহাম্মদ রুহুল আমিন সিদ্দিকী।
প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আইউব হোসেন।
২০০ দিন আগে
বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, আমরণ অনশন
বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালসহ দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের তিন দফা দাবিতে নগরের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালসংলগ্ন মহাসড়ক ও সদর রোড অবরোধ এবং আমরণ অনশন কর্মসূচি চলছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রজনতা পৃথক দুটি স্থানে অবরোধ শুরু করে। এতে দুই সড়কে যানবাহন আটকে যাত্রীদের ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশি সহায়তায় বিকল্প পথ ব্যবহার করে অধিকাংশ যানবাহন গন্তব্যে পৌঁছানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, শেবাচিম হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের দাবিতে সাত দফা দাবিতে সোমবার বেলা ১১টা থেকে হাসপাতালের প্রধান ফটকে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন: বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
এর আগে, টানা আন্দোলনের ১৮তম দিনে সাড়ে চার ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল ব্লকেড কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দেন সংগঠক মহিউদ্দিন রনি।
তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা, রোগীদের হয়রানি এবং স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভাঙার তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।’
মহিউদ্দিন রনি জানান, রবিবার ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে সরাসরি আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তের পর তিন দফা দাবির প্রতি সুস্পষ্ট আশ্বাস চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময় শেষ হলেও তিনি বরিশালে আসেননি। তাই দাবির পক্ষে তারা বরিশাল ব্লকেড কর্মসূচি চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বরিশালবাসীর আর্তনাদ এখনও মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পৌঁছায়নি, সংশ্লিষ্টদের টনক নড়েনি। শেবাচিম হাসপাতালে রোগীদের ওপর দুর্নীতি, ভোগান্তি ও অবহেলা চলতে থাকলে আন্দোলন কঠোর হবে।’
অবরোধ চলাকালে কুয়াকাটা থেকে আসা যানবাহনগুলো নগরের সি অ্যান্ড বি রোডের চৌমাথা থেকে নবগ্রাম রোড হয়ে কাশিপুর চৌমাথা দিয়ে বিকল্প পথে পাঠানো হয়। এতে যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে না থেকে বিকল্প পথ ব্যবহার করে মহাসড়কে যুক্ত হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। একই পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটাগামী গাড়িগুলোও চলাচল করেছে।
অতিরিক্ত ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেও যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছে। তবে সময় বেশি লাগায় ভোগান্তি ছিল।
অবরোধ চলাকালে আন্দোলনকারীরা অ্যাম্বুল্যান্সসহ জরুরি যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ইমার্জেন্সি লেন তৈরি করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
আরও পড়ুন: টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে
বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার জানান, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা আজও মহাসড়ক ও সদর রোড অবরোধ করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
গত ১৯ দিন ধরে তিন দফা দাবিতে ছাত্রজনতা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
২০৫ দিন আগে
টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে
স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া ও বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) চিকিৎসা সেবা আধুনিকায়নসহ ৩ দফা দাবীতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
সোমবার (১১ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে এই অবরোধ শুরু হয়। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
টানা ১৬ দিন ধরে চলা এই আন্দোলন কর্মসূচির আওতায় আজ পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করা হল। এর আগের চার দিনও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, ৬ জেলায় যান চলাচল বন্ধ
সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্র জনতার ব্যানারে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছেলেন আন্দোলনকারীরা। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ থাকলেও তাদের কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সড়ক বন্ধ থাকায় অবরোধস্থলের দু’দিকে যাত্রীবাহী বাসসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালের কিছু অংশসহ পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সবরকম যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বরিশাল বিমান বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম সিকদার জানান, সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে। আশাকরি দ্রুত অবরোধ উঠে যাবে। এদিকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহার হবেনা বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
২০৭ দিন আগে
বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মহিউদ্দিন রনিসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
রবিবার (১০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর পাঁচজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান, রাফি, সিফাত ও সুহানের নাম জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় চলমান স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের ১৪তম দিনে বিকালে দুই গ্রুপের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব ও ধূমপান নিয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে মহিউদ্দিন রনিও রয়েছেন। সংঘর্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নারী নেত্রীরাও জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনার পর দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেনা সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এ নিয়ে ক্ষোভ রয়ে যায়।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, জনভোগান্তি
শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলনের ক্ষতি ঠেকাতে রাতেই বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সমঝোতা বৈঠকেই হাতাহাতি থেকে ফের সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এতে মহিউদ্দিন রনিসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
মহিউদ্দিন রনির অভিযোগ, স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন ভেঙে দিতে তাদের ওপর একটি পক্ষ হামলা করেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন বলেন, ‘নথুল্লাবাদের মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএম কলেজে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। মূলত সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত। গুরুতর আহত পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক কেউ নেই।
আরও পড়ুন: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, ৬ জেলায় যান চলাচল বন্ধ
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে ঘটেছে। পুলিশ সেখানে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় ভেতরে ঢোকেনি। তবে হাসপাতাল ও ক্যাম্পাস এলাকায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে বলেও তিনি জানান।
২০৭ দিন আগে