খুলনা
খুলনায় নিখোঁজের ৩ দিন পর রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার
খুলনায় নিখোঁজের ৩ দিন পর নদীতে ভাসমান অবস্থায় হানিফ শেখ নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে নগরীর জেলখানা খেয়াঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হানিফ শেখ নগরীর ৪ নম্বর ঘাট এলাকার বাসিন্দা আজিজ শেখের ছেলে। পেশায় তিনি রিকশাচালক ছিলেন।
প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে সারা রাত রিকশা চালিয়ে ভোরে ভৈরব নদে গোসল করে বাড়ি ফিরতেন হানিফ। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোরে নদীতে নেমে তিনি নিখোঁজ হন। পরে তার পরিবারের সদস্যরা নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের খবর দেন। ওই দিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল ও স্থানীয় ডুবরিরা ভৈরব নদের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তাকে না পেয়ে সন্ধ্যায় অভিযান শেষ করেন। তার ৩ দিন পর আজ (শনিবার) সকাল ৬টার দিকে জেলখানা খেয়াঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘাট এলাকার স্থানীয়রা জানান, আজ সেহরির কিছুক্ষণ পর নদীতে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ দেখতে পান তারা। এরপর স্থানীয় থানায় খবর দিলে থানা থেকে নৌপুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নৌপুলিশ খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আক্তার বলেন, ভোর ৫টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে হানিফ শেখের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিবারকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ময়নাতদন্তের জন্য সেটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
৮২ দিন আগে
রাতের ঝড়ে মাগুরায় প্রাণ গেল দুজনের
মাগুরায় ঝড়ে গাছের মরা ডাল ভেঙে চলন্ত মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাত ৮টার দিকে শ্রীপুর-মাগুরা সড়কের সদর উপজেলার কেষ্টপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামের সাহাপাড়ার ভজন দত্তের ছেলে প্রান্ত দত্ত (২৫) এবং একই উপজেলার ঘাসিয়াড়া গ্রামের খালদিয়ের পাড়ার দিপুলের ছেলে মাহাফুজ (২৭)।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, মাগুরা শহর থেকে মোটরসাইকেলে করে রাত ৮দিকে বাড়ি ফিরছিলেন ওই দুই যুবক। পথে শ্রীপুর-মাগুরা সড়কের কেষ্টপুর এলাকায় পৌঁছালে ঝড়ো বাতাসে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে তাদের ওপর। এতে ঘটনাস্থলেই প্রান্ত দত্ত প্রাণ হারান।
আর গুরুতর আহত মাহাফুজকে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে মধুখালী পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়। মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৮২ দিন আগে
পাশাপাশি কবরে শায়িত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৯ জন
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই সেতু-সংলগ্ন এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বাগেরহাট জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
আজ (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পোর্ট পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ও রামপাল হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো এনে গোসল শেষে সকাল থেকে একে একে তাদের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। আর কনে পক্ষের বাড়ি কয়রায় ও রামপালের চালকসহ ৫ জনকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রদের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই সেতু এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। মোংলা থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকিরা মারা যান। সব মিলিয়ে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য।
নিহতরা হলেন— আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, এক মেয়ে ঐশী, ৪ নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ। এছাড়া তার এক পুত্রবধু পুতুল বেগম নিহত হন। কয়রা উপজেলার কনের দাদি, নানী, বোন ও কনে এবং রামপাল উপজেলার মাইক্রোবাস চালক এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
মোংলায় বর সাব্বির ও তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের ৯ জনের মরদেহ শুক্রবার ভোরে মোংলার শেহালাবুনিয়ায় শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আজ জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজায় অংশ নেন মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোক জানাজায় অংশ নেয়।
মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে এটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এখন থেকে কঠোরভাবে কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে বিআরটিএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে তাদের সকল কাগজ পত্র জমা দিয়ে এ টাকা গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে কনে মিতু, তার বোন, নানী ও দাদির মরদেহ খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাইক্রোবাস চালককে দাফন করা হয় রামপালের তার নিজ বাড়িতে।
৮৩ দিন আগে
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৪ জনের দাফন সম্পন্ন
বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলার একই পরিবারের চার জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে মিতু, লামিয়া ও রাশিদা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এছাড়া দাকোপে মিতুর নানী আনোয়ারা বেগমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতরা হলেন— কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের সালাম মোড়লের মেয়ে নববধু মার্জিয়া মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া (১০), তাদের দাদী মৃত শামছুউদ্দিন মোড়লের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৭৫) ও নানী আনোয়ারা বেগম মারা গেছেন। মিতু নাকশা আলিম মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বোলাই সেতু এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১১ মার্চ) রাতে নাকশা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বরযাত্রী নববধু মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া, বৃদ্ধা দাদি রাশিদা ও নানী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে মাইক্রোবাসে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি রামপাল বেলাই সেতু এলাকায় পৌঁছালে মোংলা থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা নববধু, বর ও তাদের স্বজনসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের গ্রাম নাকশাসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়িতে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
৮৩ দিন আগে
নড়াইলে সেহরি খাওয়ার সময় গলায় ভাত আটকে কৃষকের মৃত্যু
নড়াইলের লোহাগড়ায় সেহরি খাওয়ার সময় গলায় ভাত আটকে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের এগারোনলী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
কোবাদ হোসেন কাবুল (৫৭) এগারোনলী গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মৃত শেখ তসির উদ্দিনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রতিদিনের মতো কাবুল রোজা থাকার উদ্দেশ্যে ভোরে সেহরি (ভাত) খাচ্ছিলেন। খাওয়ার একপর্যায়ে হঠাৎ করে তার খাদ্যনালীতে ভাত আটকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জোহরের নামাজের পর লাহুড়িয়ার তৈলক্ষণপাড়া গোরস্থান মাঠে তার জানাজার নামাজ শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৮৪ দিন আগে
খুলনা-বাগেরহাটে মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১২
খুলনা, ১২ মার্চ (ইউএনবি)— বাগেরহাটের খুলনা- বাগেরহাট মহাসড়কে নৌবাহিনীর বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের গোনাইব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাটাখালি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান বলেন, নিহত ১২ জনের মধ্যে ২ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া নিহতদের ১০ জন একই পরিবারের সদস্য।
রামপাল রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ৮টি মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে এবং বাকি মরদেহগুলো বাগেরহাট জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
আহত কয়েকজনকে খুমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
৮৪ দিন আগে
যশোরে কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত সেই ব্যবসায়ী উদ্ধার
যশোরে এক কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত হওয়া ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে (৪৫) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র্যাব-৬-এর সদস্যরা। নিখোঁজের ৯ দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের খলশি গ্রামে এক অভিযানে একটি নির্জন ইটভাটা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন র্যাব সদস্যরা। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই অভিযান চলে ।
জাহাঙ্গীর আলম ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপার সাতগাছি গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক লুৎফর রহমানের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাহাঙ্গীরকে আনা হয় যশোর র্যাব কাম্পে। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স।
র্যাব সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২ মার্চ রাতে। শহরের শংকরপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের আর আর মেডিকেল ও জে আর এগ্রোভেট নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো ওই দিন রাত ৯টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলা সুজলপুর এলাকায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে জোরপূর্বক তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। অপহরণের পর রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীরের মোবাইল থেকে তার মা ও স্ত্রীর কাছে ফোন করা হয়। এ সময় তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং বিষয়টি পুলিশকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয়।
অপহরণের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ফলাফল না পেয়ে গত ৪ মার্চ (বুধবার) বিকেলে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, আমার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন মেয়েকে নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি তার স্বামীকে জীবিত ফিরে পেতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬-এর সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্সের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গতকাল (বুধবার) গভীর রাতে হাত-পা বাঁধা ও বিধ্বস্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে র্যাব হেফাজতে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। অপহরণের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
৮৪ দিন আগে
ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতা রিমান্ডে
ঝিনাইদহে বাস পোড়ানো মামলায় বৈষম্যবিরোধী দুই ছাত্রনেতার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বাকি ৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ জেষ্ঠ্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোখলেছুর রহমান এ আদেশ দেন।
রিমান্ড পাওয়া দুই ছাত্রনেতা হলেন— ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির এবং ‘দ্য রেড জুলাই’-এর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাইম।
ঝিনাইদহ আদালত পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বলেন, হুমায়ন কবির ও তানাইমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন।
গত ৭ মার্চ দিবাগত রাতে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বাস মালিকপক্ষ থেকে মামলা করা হয়। ওই মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতাদের আসামি করা হয়।
একই দিন আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদের সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ নেতার জামিন নামঞ্জুর করে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঝিনাইদাহ আদালতের পরিদর্শক মোক্তার হোসেন জানান, ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের মামলায় আটক আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তবে আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আওয়ামী লীগ নেতা হারুণ অর রশিদের তাজ ফিলিং স্টেশনে পাম্পকর্মীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ফারদিন আহমেদ নিরব। পাম্পে তেল নিতে গিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে বৈষম্যবিরোধী ওই নেতাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করেন পাম্পের কর্মীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনার পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা রাতে আওয়ামী লীগ নেতার একটি ফিলিং স্টেশনের ভাঙচুর চালান। একই দিন মধ্যরাতে ঝিনাইদহ টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরদিন ৮ মার্চ অগ্নিসংযোগ ও ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়। মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়।
এরপর ওইদিন মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের আটক করে। পরে তাদের ওই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
৮৪ দিন আগে
মাগুরায় দেশি পোশাকে ‘পাকিস্তানি’ ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি, জরিমানা
ঢাকা থেকে কেনা পোশাকে ‘পাকিস্তানি’ ট্যাগ লাগিয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রির অভিযোগে মাগুরার ‘মেসার্স দেশি ভিনদেশি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শহরের সৈয়দ আতর আলী সড়কের বকসী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন শার্ট, টি-শার্ট ও মেয়েদের পোশাক পাকিস্তানি ও অন্যান্য বিদেশি পণ্য বলে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি পাকিস্তানি পোশাকের কোনো বৈধ প্রমাণ দেখাতে পারেনি। ভাউচার যাচাই করে দেখা যায়, পোশাকগুলো ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড ও ইসলামপুরের বিভিন্ন দোকান থেকে কেনা। অথচ সেগুলো পাকিস্তানি ড্রেস হিসেবে প্রতিটি ৮ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল, যা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে আমদানিকারকের ট্যাগবিহীন বিভিন্ন বিদেশি প্রসাধনীও পাওয়া যায়। এসব পণ্যে নিজেদের ইচ্ছামতো উচ্চমূল্যের প্রাইস ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল।
এ ধরনের অপরাধের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আইনবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ। এ অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. রবিউল ইসলাম এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।
৮৪ দিন আগে
কু্ষ্টিয়ায় ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি, গুলিবিদ্ধ ৩
কুষ্টিয়ায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য চঞ্চলসহ (২৯) তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় ভেড়ামারা উপজেলার দক্ষিণ রেলগেট-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য চঞ্চল, কাচারীপাড়া এলাকার যুবদল সদস্য ফরিদ হোসেনের ছেলে জীবন হোসেন এবং একই এলাকার গোলাম কিবরিয়ার ছেলে ও ছাত্রদলের সদস্য কাইছার আহমেদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে চঞ্চলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন।
চঞ্চল জানান, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় ইফতার শেষে বাড়ি থেকে মসজিদে যাওয়ার পথে পূর্ব শত্রুতার জেরে জাসদ নেতা ছাদু, ওসামা, মাটি ও নিতুলসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. হোসেন ইমাম জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে চঞ্চল নামে এক যুবক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। তার মাথার পেছনে গুলি চামড়া ছুঁয়ে বেরিয়ে গেছে। তবে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, দক্ষিণ রেলগেট এলাকায় মোটরসাইকেলকে পাশ দেওয়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গুলিবর্ষণের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৮৪ দিন আগে