খুলনা
নড়াইলে নিজের ট্রলির চাপায় চালক নিহত
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় একটি ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার নিচে চাপা পড়ে ইরান শেখ (২১) নামে ওই ট্রলির চালক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকার চাপাইল-কালিয়া সড়কের মূলখানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইরান শেখ কালিয়া উপজেলার জোকা গ্রামের মো. জুয়েল শেখের ছেলে। নড়াগাতী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে জোকা গ্রাম থেকে ট্রলিটি চালিয়ে কালিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন ইরান। একপর্যায়ে মুলখানা এলাকায় পৌঁছালে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রলির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইরান। খবর পেয়ে নড়াগাতী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি হেফাজতে নেয়।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
৮৫ দিন আগে
সাতক্ষীরায় মন্দিরে চুরি, ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
সাতক্ষীরা শহরের কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে মন্দিরের একাধিক কক্ষের তালা কেটে প্রতিমার স্বর্ণালংকার, রুপা ও দানবাক্সের নগদ অর্থ নিয়ে গেছে চোরের দল।
মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মন্দিরে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) মধ্যরাতে শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় অবস্থিত ওই মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, চোরেরা মায়ের বাড়ি মন্দিরের কালীমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির ও জগন্নাথ মন্দিরের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে প্রতিমার বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও দানবাক্সের অর্থ চুরি করে নিয়ে গেছে।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—চার ভরি ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের বালা, এক ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা, চার আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, আট আনা ওজনের একটি ‘মায়ের জিভ’, আট আনা ওজনের একটি হার, দশ আনা ওজনের একটি নথ, চার আনা ওজনের দুই জোড়া পেটি, প্রায় পাঁচ ভরি রুপা, দানবাক্সের নগদ সাত হাজার টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।
মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য শিক্ষক দীপাসিন্ধু তরফদার বলেন, ‘দুই দিন আগে শহরের কাটিয়া মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। বার বার মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাই।’
সাতক্ষীরা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্দিরের কর্মকর্তা অসীম দাশ সোনা বলেন, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
৮৫ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির হামলায় সেই জামায়াতকর্মীর পর তার ছোট ভাইয়ের মুত্যু
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াতে ইসলামীর নেতা মফিজুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। একই সংঘর্ষে ১০ দিন আগে তার বড় ভাই জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুরের মৃত্যু হয়। জীবননগর পৌর জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে পূর্ববিরোধের জেরে বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান এবং তার বড় ভাই জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমান মারা যান। অপরদিকে গুরুতর আহত মফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা ১০ দিন লড়াই করে আজ দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, জামায়াতকর্মী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান হত্যার ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮/৯ জনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
মামলা পর জীবননগর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথ অভিযানে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান, তার বাবা বিএনপি কর্মী জসিম উদ্দিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে মফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তার বড় ভাইয়ের হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৮৬ দিন আগে
ঝিনাইদহে পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুর: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবনসহ ৭ জনকে আটকের পর পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও ৩টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে বাস মালিকদের পক্ষে সাইফ নোমান ও পেট্রোল পাম্প সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন ঝিনাইদহ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল সাক্ষরিত এক প্রেসনোটে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল।
জেলা পুলিশের প্রেসনোটে বলা হয়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্মচারীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব।
এ ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত পাম্পের ৩ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে। নীরব হত্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুরের চেষ্টা চালান, কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় তারা একই মালিকের আরাপপুর সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। ঘটনার দিন দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা রয়েল পরিবহনের দুটি ও জে লাইন পরিবহনের একটি বাসে তারা আগুন ধরিয়ে দেন বলে প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও মোবাইল ট্রাকিং করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা জানান, প্রতিটি অপরাধই আইনের দৃষ্টিতে খারাপ। আমরাও চাই প্রকৃত অপরাধীর বিচার হোক।
তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকেই নিরাপরাধ রয়েছেন। ফলে আইনের প্রয়োগ যেন সঠিক হয়।
হত্যার চেয়ে যদি ভাঙচুরের ঘটনা বড় করে দেখানো হয়, তবে সেটা দুঃখজনক ঘটনা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৮৭ দিন আগে
নড়াইলে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমাইয়া বেগম (১৮) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। মেয়েটির বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বামী ইয়ামিন শেখের দাবি, তার স্ত্রী শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা গেছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শুলটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুলটিয়া গ্রামের ফসিয়ার শেখের ছেলে ইয়ামিন শেখের সঙ্গে ওই উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই ধানাইড় গ্রামের মো. ফরিদ ভূঁইয়ার মেয়ে সুমাইয়ার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই মাসের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবা অভিযোগ করে বলেন, গতকাল (শনিবার) রাতে আমার মেয়ে সুমাইয়াকে তার স্বামী ও স্বামীর পরিবার পিটিয়ে হত্যা করে। তারা আমাদের কোনো খবর দেয়নি। অন্য মানুষের কাছ থেকে আমরা খবর পেয়ে সেখানে গেলে তারা আমাকে বলে—শ্বাসকষ্টের সময় ওষুধ খাওয়াতে গেলে ওষুধ গলায় আটকে সে মারা যায়।
তিনি বলেন, সুমাইয়ার কখনও শ্বাসকষ্ট ছিল না। আমার মেয়েকে ওরা মেরে ফেলেছে। তার পা এবং গলায় দাগ রয়েছে। ওকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
অন্যদিকে, হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন স্বামী ইয়ামিন। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। গতকাল রাতে তার হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে প্রাথমিকভাবে ওষুধ খাওয়াইছিলাম। পরে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার সময় পথেই সে মারা যায়।’
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৮৮ দিন আগে
কারাভোগ শেষে ভারতে ফিরলেন অনুপ্রবেশকারী নারী
অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের দায়ে আটকের পর ৮ মাস কারাভোগ শেষে ফাল্গুনী রায় (২৯) নামের এক ভারতীয় নারীকে দেশটির অভিবাসন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় বিজিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা ক্যাম্পের সুবেদার মো. এনামুল হক। বিএসএফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গেদে ক্যাম্পের সহকারী কমান্ডার রাজেশ কুমার।
ফাল্গুনী রায় ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ থানার শিংড়ি টেংরা কলোনি গ্রামের মৃত বিশ্বনাথ রায়ের মেয়ে।
দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক তুহিন জানান, গত ৩০ জুন কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দালালের মাধ্যমে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন ফাল্গুনী রায়। পরে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের ৫৮ বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করেন।
দুটি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে আট মাস সাজাভোগ শেষে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে তাকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন উপপরিদর্শক তুহিন।
৮৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে জুলাই যোদ্ধাকে হত্যার জেরে বাসে আগুন, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর
ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে গতকাল শনিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারির যোদ্ধা নিরব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সহিংস হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ শহর। এ হত্যাকাণ্ডের পর বাসে আগুন দেওয়াসহ সৃজনী ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর করে একদল ব্যক্তি।
শনিবার (৭ মার্চ) মধ্যরাতে শহরের আরাপপুর এলাকায় ও ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বারোইখালি গ্রামের নাসিম, আড়ূয়াকান্দি গ্রামের রমিজুল ও কাস্টসাগরা গ্রামের আবু দাউদকে আটক করেছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরবকে হত্যা করার জেরে শহরের আরাপপুর এলাকায় সৃজনী ফিলিং স্টেশনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পুলিশের উপস্থিতিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এর আগে, সৃজনী এনজিওর মালিক আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বাড়ি এবং ইউনিলিভার ডিপোতে হামলা চালানো হয়।
সৃজনী পেট্রোল পাম্পের কোষাধ্যক্ষ আলামিন শেখ জানান, গতকাল (শনিবার) মধ্যরাতে অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জনের একটি দল তাদের পাম্পে আকস্মিক হামলা চালিয়ে পাম্পের মেশিন ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে পাম্পের তিনটি মেশিন গুঁড়িয়ে দেয়।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, নিরব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব হামলার যোগসূত্র থাকতে পারে।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা তানভীর হাসান জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ঝিনাইদাহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে থাকা তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মীর রাকিব জানিয়েছেন, আজ (রবিবার) জোহরের পর নিহত নিরবের জানাজার নামাজ শেষে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা হবে। শহরে অব্যাহত ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের শহরের বেপারীপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে নিরব খুন হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত তাজ ফিলিং স্টেশনে গতকাল রাত ৮টার দিকে জ্বালানি তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র নেতা ফারদিন আহমেদ নিরবকে পিটিয়ে জখম করে পাম্পের কর্মচারীরা। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৮৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় বিএনপির কার্যালয়ে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ, গুলিবিদ্ধ ১
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলুর কার্যালয় লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্থানীয় চায়ের দোকানদার শুকুর আলী গুলিবিদ্ধ হন।
শনিবার (৭মার্চ) রাত পৌনে ৯টার দিকে ভেড়ামারায় দক্ষিণ রেলগেট-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) রাতে ৪-৫ জন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেল নিয়ে ভেড়ামারা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাবলুর অফিসের নিচে এসে তাকে গালিগালাজ করে। এ সময় তারা উপজেলা যুবদল নেতা ও বালু ব্যবসায়ী উজ্জল স্বর্ণকারকে খুঁজতে থাকে। এরপর ডাবলুর অফিস লক্ষ্য করে ৬-৭ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে ও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে অফিসের পাশের চায়ের দোকানদার শুকুর আলী গুলিবিদ্ধ হন। অফিসের অন্য পাশের দোকানের বেশ কয়েকটি অ্যাকুরিয়াম ভেঙে যায়। ঘটনার সময় পৌর ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীরা অফিসেই ছিলেন।
ভেড়ামারার ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, গতকাল সারাদিনই বালু ঘাটের পরিস্থিতি নিয়ে ভেড়ামারার অবস্থা উত্তপ্ত ছিল। সকালে উপজেলার বাহাদুরপুরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। দুপুরের পর বাহিরচর ইউনিয়নের টিকটিকি পাড়ার বালুঘাটে বিএনপির একটি পক্ষ অন্য পক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর করে। এ সময় একটি পেলুটারসহ বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। মূলত আগের ঘটনার জেরেই পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে রাতে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
গুলিবিদ্ধ চা দোকানি শুকুর আলী বলেন, হঠাৎ করে ছোট একটি গুলি এসে আমার গলায় লাগে। বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ করে স্থান ত্যাগ করে।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাবলু বলেন, আমার অফিসে দুর্বৃত্তরা গুলি ও ককটেল ছুঁড়েছে। চা দোকানি শুকুর আলী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা আমার অফিস গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। আমি রাজনীতির পাশাপাশি প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। শত্রুতার জেরে কেউ এমন কাজ করেছে।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে। পুলিশ দুর্বৃত্তদের আটক করার জন্য কাজ করছে।
৮৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহ শহরের সৃজনী পেট্রোল পাম্পে তেল দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নিরব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাম্পকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর রহমানের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় পালক পিতা আবুল কাশেমের সঙ্গে বসবাস করতেন। ঝিনাইদহ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি ফাস্টফুডের দোকান ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নিরব ও তার এক সঙ্গী মোটরসাইকেলে তেল নিতে তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। সে সময় পাম্পকর্মীরা তাদের মোটরসাইকেলে তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তারা ফিরে আসার সময় দেখেন, অন্য একজনকে পাঁচ লিটারের বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে পাম্পকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সে সময় পাম্পকর্মীর লাঠির আঘাতে নিরব গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরবের পালক পিতা আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, তাদের মোটরসাইকেলে তেল না দিয়ে অন্যদের বোতলে তেল দেওয়ার প্রতিবাদ করায় পাম্পকর্মীরা তার ওপর হামলা চালান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ‘দ্য রেড জুলাই’ সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব আবু হাসনাত তানাইম বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের এক সহযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন বলেন, তেল নেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে নিরবের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৮৮ দিন আগে
নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউপি মেম্বারসহ আহত ১৫
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লক্ষীপাশা ইউপি মেম্বার জিরু কাজীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাঁকা গ্রামে জিরু কাজী ও আক্তার মোল্যা গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন— জিরু কাজী, লুৎফুন্নাহার, রেখা বেগম, সেলিম বিশ্বাস, হেমায়েত হোসেন, আনোয়ার, আক্তার মোল্যা, লিটন, ফিরোজ, শরিফুল, হাসান মোল্যা, কাদের, মিরাজ মোল্যা। এর মধ্যে জিরু কাজীর লোকজন বেশি আহত হয়েছেন।
এছাড়া বাঁকা গ্রামের রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে যাওয়ার সময় আমাদা গ্রামের তবিবর মৃধাকে আক্তার মোল্যার লোকজন কোনো কারণ ছাড়াই মারধর করেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে আক্তার মোল্যার লোকজন মসজিদের ভেতরে গিয়ে জিরু কাজীর লোকজনকে মারধর করেন।
আহতদের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাঁকা গ্রামের জিরু কাজী গ্রুপের সঙ্গে একই গ্রামের আক্তার হোসেন গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বিরোধ চলে আসছিল। এরপর গতকাল দুপুরে একটি স্যালোমেশিনের পাম্প চুরির ঘটনা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিকেলে মসজিদের ভেতরে গিয়ে আক্তারের গ্রুপের লোকেরা জিরু কাজীর লোকজনকে মারধর করেন। এর জের ধরেই আজ (শনিবার) সকালে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে আহতদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
৮৯ দিন আগে