নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমাইয়া বেগম (১৮) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। মেয়েটির বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বামী ইয়ামিন শেখের দাবি, তার স্ত্রী শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা গেছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শুলটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুলটিয়া গ্রামের ফসিয়ার শেখের ছেলে ইয়ামিন শেখের সঙ্গে ওই উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই ধানাইড় গ্রামের মো. ফরিদ ভূঁইয়ার মেয়ে সুমাইয়ার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই মাসের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবা অভিযোগ করে বলেন, গতকাল (শনিবার) রাতে আমার মেয়ে সুমাইয়াকে তার স্বামী ও স্বামীর পরিবার পিটিয়ে হত্যা করে। তারা আমাদের কোনো খবর দেয়নি। অন্য মানুষের কাছ থেকে আমরা খবর পেয়ে সেখানে গেলে তারা আমাকে বলে—শ্বাসকষ্টের সময় ওষুধ খাওয়াতে গেলে ওষুধ গলায় আটকে সে মারা যায়।
তিনি বলেন, সুমাইয়ার কখনও শ্বাসকষ্ট ছিল না। আমার মেয়েকে ওরা মেরে ফেলেছে। তার পা এবং গলায় দাগ রয়েছে। ওকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
অন্যদিকে, হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন স্বামী ইয়ামিন। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। গতকাল রাতে তার হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে প্রাথমিকভাবে ওষুধ খাওয়াইছিলাম। পরে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার সময় পথেই সে মারা যায়।’
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।