খুলনা
ভারতে পালানোর সময় হত্যা মামলার আসামি দুই ভাই বেনাপোলে গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জ জেলার হত্যা মামলার আসামি আপন দুই ভাই সাদিকুর রহমান শামিম (৩৬) ও সাজিদুর রহমানকে (৩২) ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাদিকুর রহমান শামিম ও সাজিদুর হালুরগাঁন এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে।
শামিম হোসেন বলেন, তারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পারিবারিক মারামারির একটি মামলা রয়েছে তাদের নামে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, গ্রেপ্তার দুই ভাই বেনাপোল ইমিগ্রেশন ডেস্কে তাদের পাসপোর্ট জমা দিলে যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাদের নামে হত্যা মামলা পাওয়া যায়। এছাড়া কালো তালিকায় তাদের দুই ভাইয়েরই নাম রয়েছে। পরে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম জানান, সুনামগঞ্জ জেলা থেকে আসা দুই ভাইকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তারা দুই ভাই হত্যা মামলার আসামি। সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে আসামিদের তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
১৭ দিন আগে
দেশে ফিরল ভারতে পাচার হওয়া ২৮ শিশু-কিশোর
ভারতে পাচার হওয়া ২৮ বাংলাদেশি শিশু-কিশোরকে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। এদের মধ্যে ১৭ জন শিশু ও ১১ জন কিশোর।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভারত-ফেরত ২৮ শিশু-কিশোর বিভিন্ন সীমান্তপথে বাবামায়ের সঙ্গে, কেউ আবার দালালের মাধ্যমে ভারতে যায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি বেসরকারি এনজিও তাদের নিজস্ব আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে। এরপর আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফিরেছে।
তিনি বলেন, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে রাইটস, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এবং মহিলা আইনজীবী সমিতি নামে তিনটি এনজিও তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারে কাছে হস্তান্তর করবে।
১৭ দিন আগে
নড়াইলে বিএনপি সভাপতির বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ূন মোল্যার বাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে প্রতিপক্ষের লোকজন অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হুমায়ুন মোল্যা হবখালী ইউনিয়নের বিলডুমুরতলা এলাকার বাসিন্দা।
বিএনপি নেতা হুমায়ূন মোল্যার পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাত ১টার দিকে বিকট শব্দ পেয়ে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় তারা ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। আগুনে ধান, রবিশস্যসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে ঘরে কোনো লোক ছিলেন না।
তারা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনে তারা নড়াইল-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করায় বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের ঘরে পেট্রোল বোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ধানের শীষের সমর্থক হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম টিংকু বলেন, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা ষড়যন্ত্র করে আগুন দিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, আগুনের বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৭ দিন আগে
মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১০
মাগুরার জেলার শ্রীপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত ২০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের চাকদাহ গ্রামের নতুন পাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গয়েশপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি পাঞ্জাব আলী ও একই ওয়ার্ড বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওহাব মন্ডলের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পাঞ্জাব আলীর সমর্থক রকি স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওহাব মন্ডলের সমর্থকরা তার ওপর হামলা করে। ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পাশাপাশি দুটি লাটা গাড়িও (পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত গাড়ি) ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে উভয় পক্ষের ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সকালে গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানায় কর্মরত পরিদর্শক আতোয়ার রহমান।
১৭ দিন আগে
রমজানে অতিরিক্ত মুনাফার প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা: চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক
পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও ধর্মীয় পরিবেশের পবিত্রতা বজায় রাখতে চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অতিরিক্ত মুনাফা, পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা প্রশাসক।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী।
সভায় মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কোনোভাবেই দ্রব্যমূল্য বাড়ানো যাবে না। সারা বছর যে দাম ছিল, রমজানেও তা বহাল রাখতে হবে। রোজাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, একজন দোকানি ক্রয়মূল্যের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করতে পারবেন। এর বেশি নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদকে সামনে রেখে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোক্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে একসঙ্গে পুরো মাসের বাজার না করে সচেতনভাবে কেনাকাটা করতে হবে। অতিরিক্ত ক্রয় ও মজুদের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়।’
এছাড়া রমজানে মসজিদে মাইক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, সেহরি ও ইফতারের সময় যেসব মসজিদে সাইরেন রয়েছে, তারা ১-২ মিনিট সাইরেন বাজাতে পারবেন। তবে সেহরির আগে দীর্ঘ সময় মাইক ব্যবহার করে বয়ান, গজল বা ওয়াজ করা যাবে না। অন্য ধর্মাবলম্বীদের কথা বিবেচনা করেও এ বিষয়ে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। সভায় ইসলামী ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তারাবি নামাজ আদায়ের বিষয়েও দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, রমজান উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় দুটি এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ন্যায্যমূল্যের বিক্রয়কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কেন্দ্রে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ডিম, দুধ, মাংস, মুরগি ও ফলমূল ন্যায্যমূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, মাসুদুর রহমান সরকার, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, দীপক কুমার পাল, অহীদ্র কুমার মণ্ডল, জেসমিন আক্তার, শিল্পী মণ্ডল, মোহাম্মদ সুজাত কাজী, নরেশ চন্দ্র পাল, সেলিম রেজাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা।
১৮ দিন আগে
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় চাকরিজীবী নিহত
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম (৪০) নামের একজন চাকরিজীবী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা রুপসা সেতুর ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর বাগেরহাটের সরুয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (সোমবার) সকালে খুলনা থেকে বাগেরহাটে যাওয়ার পথে রুপসা সেতুর পূর্ব পাশে বিপরীত দিক থেকে আসা একটা ট্রাকের চাপায় জাহাঙ্গীর নিহত হন।
হরিণটানা থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক ইমরান হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
১৮ দিন আগে
খুলনায় আ.লীগ কার্যালয়ে বিকেলে মাল্যদান, রাতে আগুন
খুলনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমাল্যদান ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা আ.লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নগরীর শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিন বিকেলের দিকে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন নিষিদ্ধঘোষিত দলটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় কার্যালয়ে তারা জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করেন। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
এদিকে, আ.লীগের নেতা-কর্মীদের তৎপরতার প্রতিবাদে রবিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র খুলনার ওই কার্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর করেন। এছাড়া কার্যালয়ের কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন তারা। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নেভান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আ.লীগের এক কর্মী বলেন, দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই রবিবার বিকেল ৪টার দিকে আমরা কার্যালয়ে গিয়েছি। আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছবিতে পুষ্পমালা দেওয়া হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা দিয়েছি। কার্যালয় তালা মারা ছিল, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে কার্যালয়ে নতুন একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ আমাদের বাধা দেয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রবিবার বিকেলে আ.লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমালা দিয়ে অফিস ত্যাগ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন ছাত্র ওই কার্যালয়ে গিয়ে অগ্নিসংযোগ করে।
খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বিকেলের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি খুলেছিল। এটি আমরা জানতে পেরে আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছি। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিকেলের ওই ঘটনার পর রাতে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র কার্যালয়ে এসে আগ্নিসংযোগ করে। টাঙানো দুটি ছবি ভেঙে ফেলে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১৯ দিন আগে
জীবননগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত, আহত অন্তত ১৫
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্ধ্যা রানী (৬০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
উপজেলার উথলী মালোপাড়ার কাছে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সন্ধ্যা রানী দর্শনার রামনগর গ্রামের বাগদি সম্প্রদায়ের দুলাল ওরফে ঘইটের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা রামনগর এলাকার বাগদি সম্প্রদায়ের অনেকেই মাঠে পড়ে থাকা ধান, গম, হলুদসহ বিভিন্ন ফসল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার ভোরে ১৫ জনের একটি দল আলমসাধু (মোটর ভ্যান) খালিশপুর এলাকায় ফসল কুড়াতে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে উথলী মোল্লাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পারাপার হওয়া একটি শেয়ালকে ধাক্কা দেয়। এতে আলমসাধুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় যাত্রীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সন্ধ্যা রানী নিহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— বাদলি রানী (৩০), বিকাশ মণ্ডল, রিকা রানী (৪০), শেফালী (৪৫), সন্ধ্যা (৫০), জোসনা (৫০), চায়না ও টুকুল (৩০), অশোক (৪০) এবং আলমসাধুচালক মিলনসহ (৩০) আরও কয়েকজন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের পরিবারের দাবি, তারা অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
নিহত সন্ধ্যা রানীর মরদেহ রাতেই বাড়িতে নেওয়া হয়। আজ (সোমবার) পরিবারের সদস্যদের তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
১৯ দিন আগে
গাইবান্ধা কারাগারে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির মৃত্যু
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীকুল ইসলাম লিপন জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে তিনি মারা যান।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গাইবান্ধার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান কারা কর্তৃপক্ষ। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন সেখানকার ডাক্তাররা। সেখান থেকে রমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি একটি মামলায় আসামি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধা সদর থানার হাজতি ছিলেন। এর আগেও কারাগার থেকে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরি হরিণ মারী গ্রামের মরহুম জোব্বার সরকারের সেজ ছেলে। পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন তিনি।
শামিকুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে পলাশবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০১৮ সাল থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
১৯ দিন আগে
খালে ভাসছিল নিখোঁজ যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় শিমুল (৪০) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কালা গ্রামের একটি খালে স্থানীয়রা কচুরিপানার ভেতরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তারা বিষয়টি দ্রুত জীবননগর থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত শিমুল মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ১ সপ্তাহ পর খালে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, শিমুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে খালে ফেলে রাখা হয়েছে।
জীবননগর থানা পুলিশের ওসি সোলায়মান শেখ জানান, নিখোঁজ থাকার পর অর্ধগলিত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২০ দিন আগে