খুলনা
কোস্টগার্ডের কাছে সুন্দরবনের ৭ ডাকাত সদস্যের আত্মসমর্পণ
সুন্দরবনের ডাকাত সুমন বাহিনী প্রধানসহ সাত ডাকাত সদস্য বাংলাদেশ উপকুল রক্ষাকারী বাহিনী—কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় ডাকাত সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি জমা দিয়েছেন।
রবিবার (১৭ মে) রাত ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল-সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীসহ সাতজন ডাকাত আত্মসমর্পণ করেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বাগেরহাটের মোংলা কোস্টগার্ড বেইজে ডাকাত সদস্যদের আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন— ডাকাত বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) এবং মাহফুজ মল্লিক (৩৪) । এদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোংলা এবং রামপাল উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায়।
এরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
ডাকাত সদস্যদের জমা দেওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপ গান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ ডাকাত দলের সাত সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল-সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
তিনি আরও জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি, মৌওয়াল ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
কোস্টগার্ডের তথ্য মতে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত কোস্টগার্ড সুন্দরবনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৬ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ার গান গোলা ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করে এবং ২১ জন বনদস্যুকে আটক করে। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ২০ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সুন্দরবনের সক্রিয় ডাকাতদের দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে, অন্যথায় আরও কঠোর অবস্থানে যাবে কোস্টগার্ড।
১৪ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গার কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হুমকির মামলায় গ্রেপ্তার ৩
চুয়াডাঙ্গার কুন্দিপুর গ্রামে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ভুট্টাখেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে হুমকির ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন। এরপর ৩ আসামি গ্রেপ্তার হলেও প্রধান আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহারে যায়, গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ছাগল আনতে মাঠে যায় ওই কিশোরী। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা মিরাজ তাকে জোরপূর্বক ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় পলাশ আলী (২০) মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে এবং জনি হোসেন (২১) বাইরে পাহারা দেয়।
ধর্ষণের পর তারা তিনজন মিলে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে বলে, মুখ খুললে ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেবেন তারা। এ কারণে ভুক্তভোগী কিশোরী বিষয়টি দীর্ঘদিন পরিবারকেও জানাতে পারেনি।
ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পর, ২০ মে হঠাৎ করেই ধর্ষণের সেই ভিডিও এলাকায় বিভিন্ন মানুষের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পরিবার আবারও হুমকির শিকার হয়।
এজাহারে ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেছেন, পলাশ আলী ভিডিও মুছে ফেলার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। এছাড়া ওই গ্রামের আব্দুল আলী (৪৫) সামাজিকভাবে মীমাংসার নামে ভিডিও মুছে ফেলার জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি করেন।
তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার খবর এবং মামলা হওয়ার পর তৎপর হয় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। এরই ধারাবহিকতায় গতকাল (বুধবার) গভীর রাতে কুন্দিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— আব্দুল আলী (৪৫), জনি হোসেন (২১), ও পলাশ আলী (২০)।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালাই। এ ঘটনায় ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রধান আসামি মিরাজকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
১৪ দিন আগে
খুলনায় টানা তৃতীয় দিন মহাসড়ক অবরোধ
শর্তহীনভাবে কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রপ্তানি বন্ধ থাকায় কাজ হারানো শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন দৌলতপুর জুটপ্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা।
আন্দোলনের সমর্থনে আজ বিপুলসংখ্যক নারীও রাজপথে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টা থেকে খুলনা-যশোর মহাসড়কের রেলিগেট থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের অবরোধ কর্মসূচি শেষ হয়।
এ সময় সড়কে কাঠের গুঁড়ি ও বাঁশ ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ে এবং চালক ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর থেকে বিদেশে পাট রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের লক্ষাধিক প্রেস ও বেলিং শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
তারা বলেন, কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থসংকটে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবি, খুলনার দৌলতপুর পাট রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং এ এলাকায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের বসবাস। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় ১৭ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনে কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি সম্ভব নয় বলে জানায়। এর প্রতিবাদে দৌলতপুর জুটপ্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
১৪ দিন আগে
কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ
অনতিবিলম্বে কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
বুধবার (২০ মে) সকল সোয়া ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকরা নগরীর রেলিগেট থেকে দৌলতপুর মুহসিন মোড় পর্যন্ত সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে।
একই দাবিতে গতকাল (মঙ্গলবার) দৌলতপুর বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনের সামনে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের (১১৫৫)'র শ্রমিকেরা।
রেলিগেটে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন শ্রমিক নেতা মো. উজ্জল, সুজ্জল, ডালিম কাজী, মো. জামাল উদ্দিন, আনোয়ার হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হাওলাদার, কালাম হাওলাদার, দেলোয়ার মাস্টার, কালাম সরদার, আলমগীর মোল্লা, বাবুল সিকদার, মো. বাবুল হোসেন, আব্দুল আজিজসহ দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ।
গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে দেশের ৪০ টি জুটপ্রেস হাউজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে খুলনাঞ্চলের জুট প্রেসের ২০ হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে যায়। ৯ মাস কোনো কাজ না পেয়ে তারা অর্ধাহারে, অনাহারে মানবেতার জীবনযাপন করছেন।
১৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় চালের কার্ড বিতরণ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে হামলার অভিযোগ
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির (ভিজিএফ) চালের কার্ড বণ্টনকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং ইউপি সচিবকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়।
ফুটেজে ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতি এবং রামদা হাতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায় কয়েকজনকে।
ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজ এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, ভিজিএফ চালের কার্ডের একটি অংশ জামায়াত নেতাদের দিতে বলায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভিজিএফ চাল বিতরণের কার্ড ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। কয়েক দফা বসেও সমাধান না হলে গতকাল (মঙ্গলবার) ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সে সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতির পর স্থানীয় বিএনপি নেতারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিষদ কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিষদের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজসহ বেশ কয়েকজন রামদা হাতে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকীর দিকে তেড়ে যান। তাকে মারধরও করেন তারা।
এর আগের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বৈঠক চলাকালীন কয়েকজন চেয়ার থেকে উঠে চেয়ারম্যানকে মারতে তেড়ে যান। সে সময়ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ঘটনার বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ইউনিয়ন পরিষদে ৬০০ ভিজিএফ চালের কার্ড পেয়েছি। স্থানীয় বিএনপি নেতারা চান, তারাই সব কার্ড ভাগবাটোয়ারা করে নেবেন। যেহেতু স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা, এছাড়া এমপির প্রতিনিধি রয়েছেন, তাই তাদের ১০০ কার্ড দিতে বলেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার সময় তারা আমার দিকে তেড়ে আসেন। পরে আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চলে যাওয়ার পর বিএনপি নেতা আনিস মণ্ডল, কনিজ, যুবদল নেতা নজরুল ইসলামসহ ১০ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে পরিষদে হামলা চালান। তারা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছেন। এ সময় তারা রামদা নিয়ে সচিবের দিকেও তেড়ে যান। সচিবকে মারধর করেন তারা।’
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসন থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। তাই মামলার বিষয়ে আপাতত ভাবছি না।’
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘ভিজিএফের কার্ড এসেছে ৬১৬টি। এর মধ্যে বিএনপি ৪৫০টি কার্ড দাবি করেছিল। তাদের ১৫০টি কার্ড নিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু বিএনপি নেতারা জামায়াতকে কোনো কার্ড দিতে দেবে না। আমার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রেখেছিল। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।’
এ বিষয়ে কথা বলতে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আনিসুজ্জামানের মোবাইল ফোন নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
তবে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এতদিন পলাতক ছিলেন। গ্রামের একজন যুবককে বিদেশে পাঠানোর নাম করে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন, ফেরত দিচ্ছেন না। সেই টাকার বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম।’
ফুটেজে রামদা হাতে সচিবের দিকে তেড়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আনিস বলেন, ‘ঠেকানোর জন্য আমি অন্য একজনের হাত থেকে রামদা কেড়ে নিয়েছিলাম। তাই আমার হাতে দেখতে পেয়েছেন।’
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার উপপরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তাৎক্ষণিক ইউএনওকে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১৫ দিন আগে
খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত
বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন।
মহাসড়কের চুলকাঠি এলাকার ভট্ট বালিঘাটায় বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে আব্দুল কাদের নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি বাগেরহাটের ফকিরহাট থানার জাড়িয়া ভবনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। অন্য দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, মোংলা থেকে মোটরসাইকেলে তিন আরোহী খুলনার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। আহত দুজনকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এজাজুল ইসলাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রাশিদ বলেন, আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
১৫ দিন আগে
খুমেক হাসপাতালে আগুন, আতঙ্কে হুড়োহুড়িতে আহত বেশ কয়েকজন
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুন ও ধোঁয়ায় মুহূর্তেই হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয় ও হুড়োহুড়িতে নামতে গিয়ে হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মী আহত হয়েছেন।
বুধবার (২০ মে) সকাল ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিসকর্মী তৌহিদ।
হাসপাতালে কর্মরত ওয়ার্ডবয় রেজাউল জানান, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধোঁয়ায় ওটি (অপরেশন থিয়েটার) ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড থেকে মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে বের করা হয়। আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) থেকেও কয়েকজন রোগীকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, আগুন লাগার পর দুইজন নার্স অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। আরেকজন নার্স তিনতলা থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। তবে এ ঘটনায় কোনো রোগী আহত হননি বলে জানান রেজাউল।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ বলেন, সকাল ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে বয়রা ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও সাতটি ইউনিট যোগ দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি জানান, চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোররুমে আগুন লাগে। তবে ভবনের সব গেটে তালা থাকায় সেগুলো ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। প্রথমেই বারান্দা থেকে চার-পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণের পর আর কাউকে হতাহত অবস্থায় পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ রোগী ও স্বজন ঘুমিয়ে ছিলেন। স্টোররুমে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে গেলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে হাসপাতালের মাঠে অবস্থান নেন। অনেকে রোগীদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা অপারেশন কার্যক্রম চললেও সেখানে এভাবে আগুন লাগার ঘটনা রহস্যজনক। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী আনসার কমান্ডার (এসিপি) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে গ্রিল ভেঙে পড়ে দুইজন স্টাফ নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স দিপালী ও শারমিনকে ভবন থেকে উদ্ধার করে নিচে নামানোর সময় ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ আহত হন। পরে দিপালী ও শারমিনকেও চিকিৎসার জন্য খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
১৫ দিন আগে
মৃগী রোগে অচেতন চালক, ভ্যান নিয়ে পালাল দুর্বৃত্তরা
ঝিনাইদহ শহরের কালীচরণপুর এলাকায় মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়া এক ভ্যানচালকের ভ্যান চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৮ মে) সকালে ভ্যানচালক কলম সর্দারের (৪০) সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ভ্যানচালক বর্তমানে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো সকাল ৮টার দিকে জীবিকার তাগিদে ভ্যান নিয়ে বের হন কলম সর্দার। শহরে যাওয়ার পথে হঠাৎ তার তীব্র মৃগী রোগের কাঁপুনি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়েন। এ সুযোগে আশপাশে থাকা কিছু দুর্বৃত্ত তার ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, সকাল ১০টার দিকে আরেকজন ভ্যানচালক কলম সর্দারকে অচেতন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় এনে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করান।
কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের বেডে নিজের অবস্থান বুঝতে পারেন কলম সর্দার। পরে তিনি জানতে পারেন, যে ভ্যান চালিয়ে তিনি স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ করতেন, সেটি চুরি হয়ে গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কলম সর্দার বলেন, আমি গরিব মানুষ। মৃগী রোগের কারণে প্রায়ই শরীর কাঁপতে থাকে। আজও ভ্যান চালানোর সময় হঠাৎ রোগটা বেড়ে যায়, তারপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরে শুনছি আমার ভ্যানটা কারা যেন নিয়ে গেছে। এখন আমি কীভাবে বাঁচব, পরিবারকে কী খাওয়াব?
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহীন ঢালি জানান, আজ (সোমবার) সকালে কলম সর্দারকে হাসপাতালে আনার সময় তার স্বাভাবিক জ্ঞান ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, তাকে হয়তো অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কোনো চেতনানাশক খাইয়েছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রোগীর ইতিহাস জেনে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাকে কোনো চেতনানাশক দেওয়া হয়নি। মূলত তিনি তীব্র মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। সেই অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে কোনো চক্র তার ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে গেছে।
বর্তমানে কলম সর্দার আশঙ্কামুক্ত এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানান এই চিকিৎসক।
১৭ দিন আগে
ধান ওড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষক দম্পতির মৃত্যু
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ধান ওড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন মজিবর খাঁ (৬০) ও মোমেনা খাতুন (৫৫) নামে এক দম্পতি।
সোমবার (১৮ মে) সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের গাগান্না গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
প্রতিবেশী খায়রুল ইসলাম জানান, ভোরে মজিবর খাঁ নিজ বাড়ির আঙিনায় বৈদ্যুতিক ফ্যান চালু করে ধান ওড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ফ্যানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পরপরই তার পুরো শরীর বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে এবং তিনি বৈদ্যুতিক তারে আটকে যান। চোখের সামনে স্বামীকে ছটফট করতে দেখে এক মুহূর্তও ভাবেননি স্ত্রী মোমেনা খাতুন। জীবনসঙ্গীকে বাঁচানোর আকুলতা নিয়ে তিনি দ্রুত মজিবরকে টেনে ছাড়াতে যান। কিন্তু কোনো সেফটি বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় তিনিও মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এই দম্পতি।
খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। ধানের ওপরেই পড়ে ছিল এই দম্পতির মরদেহ।
গ্রামীণ জনপদে ধান কাটার এই মৌসুমে যেখানে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, সেখানে গাগান্না গ্রামে এখন শুধুই কান্নার রোল। প্রতিবেশীরা এই ভালোবাসার করুণ পরিণতি দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক ফ্যানের ছেঁড়া তার থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।
১৭ দিন আগে
খুলনায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা, স্বামী নিহত
খুলনার কয়রায় গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ভবতোষ মৃধা (৩৭) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৭ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মধ্য মহেশ্বরীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ভবতোষ মৃধা স্থানীয় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। একই ইউনিয়নের গিলাবাড়ি বাজারে তার একটি ওষুধের দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ভবতোষ মৃধার মাটির ঘরে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। শব্দ পেয়ে ভবতোষ জেগে উঠে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভবতোষ মৃধাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্ত্রী বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, কয়রায় গত কয়েক মাস ধরে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা বেড়ে চলেছে। সংঘবদ্ধ চক্র ঘরে চেতনানাশক জাতীয় পদার্থ স্প্রে করে অচেতন করে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। ফলে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসনের কাছে রাতের নিরাপত্তা জোরদার ও টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।
১৭ দিন আগে