খুলনা
আমদানির বর্ধিত সময়ে বেনাপোল দিয়ে এসেছে ১২৫৯ টন চাল
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সরকারঘোষিত বর্ধিত মেয়াদের ৪০ দিনের মধ্যে তিন কার্যদিবসে ৬টি চালানে মোট ১ হাজার ২৫৯ টন মোটা চাল আমদানি করা হয়েছে। সরকারঘোষিত বর্ধিত সময় শেষ হওয়ার পর আমদানি করা এসব চালের চালান বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইর্য়াডে প্রবেশ করে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
গত ১১ মার্চ থেকে সোমবার (২০ এপ্রিল) পর্যন্ত ৪০ দিনের মধ্যে মাত্র ৩ কার্য দিবসে এ চাল ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।
এসব চালের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজ ও লাইবা ওভারসিস। আমদানি করা চাল বন্দর থেকে ছাড়করণের জন্য কাজ করেছে মেসার্স রাতুল ইন্টারন্যাশনাল।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, চাল আমদানির পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ায় এবং দেশের বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার পুনরায় চাল আমদানির সময় বাড়ায়। গত ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪০ দিন এই মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এর মধ্যে মাত্র ৩ দিনে ৬টি চালানের মাধ্যমে ১ হাজার ২৫৯ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ এই তিন মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল ৫ হাজার ৫ টন।
ওই সময়ে গত ১৮ জানুয়ারি ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার, যার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ১০ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে চাল আমদানি ফলপ্রসূ না হওয়ায় পুনরায় ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল ৪০ দিন সময় বৃদ্ধি করে। এবারও চাল আমদানিতে বিপর্যয় দেখা দেয়। তবে সোমবার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সময় বৃদ্ধির আর কোনো পরিপত্র জারি করা হয়নি।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লিটন এন্টারপ্রাইজের মালিক লিটন হোসেন বলেন, বর্ধিত ৪০ দিনের মধ্যে মাত্র তিন দিনে ভারত থেকে ৩৪ ট্রাকে ১ হাজার ২৫৯ টন মোটা চাল আমদানি করেছি। আমদানিকৃত চালের প্রতি কেজি বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত আনতে খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। খোলা বাজারে এই চাল প্রতি কেজি ৫১ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।
বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন জানান, আমদানিকৃত চালের চালানগুলো বন্দর থেকে ইতোমধ্যে খালাস নেওয়া হয়েছে।
৪৩ দিন আগে
যশোরে বস্তাবন্দি অবস্থায় বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বেজপাড়া এলাকায় এক বৃদ্ধার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম সকিনা বেগম (৬০)।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার বাসার সামনের একটি বস্তা থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সকিনা লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী এবং বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে দোকানে যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়মের কাছে মায়ের খোঁজ করলে তিনি বাইরে তালিমে গেছেন বলে জানান তার স্ত্রী। রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরে শহিদুল তার মাকে না পেয়ে পুনরায় খোঁজ নেন। তখনও তার স্ত্রী জানান, সকিনা বেগম বাসায় ফেরেননি।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসার সামনের একটি বস্তার মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন শহিদুল। পরবর্তীতে তিনি ও তার বোন শাহিদা বেগম মরদেহটি তাদের মায়ের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
৪৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ গুলিবিদ্ধ ১০
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— রবিউল ইসলাম (৩৬), তার পিতা হাফেজ প্রামাণিক (৭০), সোহেল রানা (৪৫), তার স্ত্রী তমা খাতুন (২৬), কামরুল ইসলাম (৩৭), মুন্নি খাতুন (২৪), রুনা খাতুন (২৭), মিতা খাতুন (৩০), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী মেরিনন খাতুন (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় মরিচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম (৩৬) নিজ বাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় রবিউলের চিৎকারে তার বাবা-মা ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারী-পুরুষসহ তার পরিবারের সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হন। পরে হামলাকারীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতাল থেকে আজ রবিউল ইসলামের মামা লিয়াকত মেম্বার জানান, হামলার কারণ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। কারা এই হামলা চালিয়েছে, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার ভাগ্নের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। রাতে হঠাৎ করেই ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এসে হামলা চালায়। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সবাইকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন।’
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, রাতে মরিচা ইউনিয়নে কয়েক রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪৪ দিন আগে
সুন্দরবনে ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অস্ত্রসহ আটক
সুন্দরবনের ডাকাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মো. আব্দুস সামাদ মোল্লাকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্টগার্ড।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কোস্টগার্ড মোংলা জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
আটক মো. আব্দুস সামাদ মোল্লা (৩৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে ডাকাতি করে আসছিলেন।
সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতার অংশ হিসেবে তৃতীয়বারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আব্দুস সামাদ মোল্লা পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সুন্দরবন থেকে বাগেরহাটের রামপাল থানাধীন শুকদারা বাজার-সংলগ্ন এলাকায় আসবেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) রাত ১১টার দিকে কোস্টগার্ড বেইস মোংলা ওই এলাকায় বিশেষ একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আটক সামাদ মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে ১টি একনলা বন্দুক, ১টি এয়ারগান ও ২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কোস্টগার্ড কর্মকর্তা ।
৪৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাড়াদী গ্রামের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদ আলী (৩৫) ওই এলাকার রবিউল শেখের ছেলে। তিনি ফেরি করে পণ্য বিক্রি করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গতকাল (সোমবার) রাশেদ কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ঝগড় চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রাত ৩টার দিকে ছোট ভাই জহুরুল তার বড় ভাই রাশেদকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর থেকেই জহুরুল পরিবারসহ পলাতক রয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, রাশেদকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৪৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ২৮ জন
কুষ্টিয়া জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় নতুন করে ২৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার হাম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫১ জনে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে ৩ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৫৪ জন। আর ৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ১১ জন, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় যে ২৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তারা সবারই হামের উপসর্গ রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২২ জন। এছাড়া বর্তমানে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
তবে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ রোগীর মৃত্যু হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, হঠাৎ করে এই অঞ্চলে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পেছনে টিকাদানে অনীহা এবং আবহাওয়া পরিবর্তন বড় কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
৪৪ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. সালাম (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ আপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, আসামি মো. সালামকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক দুটি ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলায় আইনের ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভাগ করতে হবে।
আদালত উল্লেখ করেছেন, উভয় সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। তবে আসামি ইতোপূর্বে হাজতে থাকার সময়কাল মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে।
মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা থানার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করেন আসামি মো. সালাম। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং কাল্পনিক কাবিননামা তৈরি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামি সালাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মেডিকেল প্রতিবেদনে ধস্তাধস্তির চিহ্ন না থাকলেও ভুক্তভোগীর বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র।
তদন্ত প্রতিবেদনে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও প্রমাণের অভাবে মামলার অন্যান্য আসামি—বজলুর রশীদ মজু, মোছা. মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি মো. আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা প্রমাণের অভাবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বিবেচনা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এম এম শাহজাহান মুকুল। এই রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের যে প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই রায় তা রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশা করি এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারও এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
৪৫ দিন আগে
নড়াইলে তীব্র গরমে নারীর মৃত্যু
নড়াইলে সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে লাভলী বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত লাভলী বেগম নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামের দাউদ মোল্যার স্ত্রী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ (সোমবার) সকালে লাভলী বেগম নড়াইল শহরের মাছিমদিয়ার সরদার ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নিয়ে ফেরার পথে সেলিম নামক এক দোকানির দোকানে আটা কিনতে যান। আটা কিনে ফেরার পথে তীব্র গরমে মাছিমদিয়া মসজিদের সামনে হঠাৎ তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ওসমান শেখ ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।
চিকিৎসকদের ধারণা, প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে হিটস্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে নিহতের মরদেহ সদর হাসপাতালে রয়েছে।
এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৪৫ দিন আগে
ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ঝিনাইদহসহ দেশের ৭টি জেলায় বিচারিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ই-বেইলবন্ড’ সিস্টেমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই ডিজিটাল সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তারা জানান, ই-বেইলবন্ড সিস্টেম চালুর ফলে জামিন-সংক্রান্ত আদেশ দ্রুততম সময়ে কারাগারে পৌঁছাবে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। এতে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন। বিচার বিভাগে তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ই-বেইলবন্ড সিস্টেম একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এখন থেকে জামিননামা যাচাই-বাছাই এবং কারামুক্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা কমবে। ফলে আইনি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় আরও সহজলভ্য হবে।
ঝিনাইদহে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ মো. এমরান হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম নবী, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুবীর কুমার, জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম মশিউর রহমান, জিপি মোকাররম হোসেন টুলু, ঝিনাইদহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী একরামুল হক আলম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিউল আলমসহ আইন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা।
৪৫ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তদের হামলায় এক পরিবারের ৩ জন আহত, আটক ১
খুলনায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সুমন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রিনল্যান্ড আবাসিক এলাকার একটি বস্তিতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ঝুমুর আক্তার (২৬), হাসিব শেখ (২০) ও আসলাম গাজী (৩৫)। তারা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, খুলনার জোড়াগেট গ্রিনল্যান্ড আবাসিক এলাকার সূর্যগাছের বাড়িতে সকাল ৭টার দিকে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত অস্ত্রসহ প্রবেশ করে। এ সময় তারা ওই বাড়ির তিনজনকে প্রথমে মারধর করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। এর আগে অবশ্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমনকে আটক করে।
স্থানীয়দের দাবি, হামলার ঘটনায় ফারুখ শিকদার ও জিম সাদী নামে আরও দুই জন জড়িত রয়েছেন। তারা একাধিক মামলার আসামি। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাদের নেতৃত্বে এলাকায় প্রায়ই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এর আগে এসব ঘটনা পুলিশকে জানানো হলেও তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
খুলনার সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাত্তার জানান, এ হামলার ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হামলার সঙ্গে যারা জড়িত আছেন তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
৪৫ দিন আগে