রাজশাহী
ন্যায্য মূল্যের দাবিতে সড়কে আলু ফেলে কৃষকদের মানববন্ধন
ধান-গমের মতো আলুর মূল্যও সরকারকে নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবিতে সড়কে আলু ফেলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন নওগাঁর আলু চাষিরা।
বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। নওগাঁ, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার কৃষক পরিবার ও আলু ব্যবসায়ী পরিবারের ব্যানারে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কৃষকরা জানান, বাজারে আলুর দাম উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও নিচে। প্রতি কেজিতে ১৭-১৮ টাকা লোকসান হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করায় বাজারে দাম না পেয়ে সেই টাকা পরিশোধও করতে পারছেন না তারা। এ পরিস্থিতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছেন চাষিরা।
নওগাঁ সদর উপজেলার কিত্তিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘সার-ফসফেটের দাম অনেক বেশি। সেই হিসেবে শুরু থেকেই এবার আলুর দাম নেই। খরচের টাকাও উঠছে না।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ধান-চালের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হলে আলুর কেন নয়? সরকারের কাছে দ্রুত আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ওএমএসের মাধ্যমে আলু বিক্রির চিন্তা করছে সরকার: কৃষি উপদেষ্টা
সদর উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের আরেক কৃষক বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে ধানের দাম বেশি, চালের দামও বেশি। কিন্তু আলুর কোনো দাম নেই। হিমাগারেও অতিরিক্ত খরচ নেওয়া হচ্ছে। এক মণ আলু চাষ করতেই ১২০০-১৩০০ টাকা খরচ হয়েছে। বাজারে এখন আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা মণ। তাহলে আমরা যাব কোথায়? সরকার যদি কোনো উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আমরা শেষ হয়ে যাব।’
হাপানিয়া এলাকার আলু চাষি সাইফুল আলম বলেন, ‘গরু বিক্রি করে, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে লাভের আশায় আলু চাষ করেছিলাম। কিন্তু বাজারে এখন আলু বিক্রি হচ্ছে না। হিমাগারে প্রতি কেজি আলুতে আগের তুলনায় ৪ টাকা করে বেশি খরচ পড়ছে। এক কেজি আলু উৎপাদন ও হিমাগারে রাখতে ২৫-২৬ টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ বাজারে পাইকারি দরে ১১-১২ টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে না। ঋণের টাকা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, খরচের টাকাই উঠছে না।’
এ বিষয়ে নওগাঁ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বিপণন কর্মকর্তা সোহাগ সরকার বলেন, ‘এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় আলুর উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। বছরের এই সময়টাতে অন্যান্য সবজি বাজারে বেশি থাকায় মানুষ আলু কম কিনছে। সরকারের পক্ষ থেকে ওএমএস অথবা টিসিবির মাধ্যমে আলু বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’
২১৯ দিন আগে
নওগাঁয় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আস সামস জগলুল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মোস্তাফিজুর রহমান আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালে নওগাঁর মান্দায় শ্রীরামপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে রাণী বেগমের সঙ্গে নিয়ামতপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মোস্তাফিজুরকে যৌতুক হিসেবে নগদ ৪০ হাজার টাকা, একটি ভ্যানগাড়ি ও একটি সেলাই মেশিন টাকা দেওয়া হয়। বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই মোস্তাফিজুর তার স্ত্রী রাণী বেগমকে তার বাবার বাড়ি আরও যৌতুক হিসেবে ৫০ হাজার টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনতে না পারায় রাণী বেগমকে নির্যাতন করতেন মোস্তাফিজুর রহমান।
যৌতুকের দাবিতে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে ২০১৫ সালের ১০ আগস্ট রাতে মোস্তাফিজুর তার স্ত্রী রাণী বেগমকে কাঠের হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। এ ঘটনার পর দিন রাণী বেগমের বাবা বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলা তদন্ত করে নিয়ামতপুর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার নথি, ১৬ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে আসামি মোস্তাফিজুরের বিরদ্ধে স্ত্রী রাণী বেগমকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় বিয়ের প্রলোভনে গণধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ইকবাল জামিন চৌধুরী এবং আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী আতিকুর রহমান।
এ রায়ের বিষয়ে সরকারি কৌসুলি ইকবাল জামিল চৌধুরী বলেন, ‘আদালতের এ রায় যুগান্তকারী। এর ফলে সমাজে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা ও নির্যাতনে প্রবণতা কমে যাবে। এ রায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক হবে।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী আতিকুর রহমান এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
২২০ দিন আগে
আজও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী রুটে বাস চলাচল বন্ধ
এক বাস চালককে মারধরের জের ধরে আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ রুটে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা।
বাস বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সিএনজি, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিরহন শ্রমিক নেতা আনারুল ইসলাম জানান, গত শনিবার রাজশাহীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক বাসচালককে মারধর করে রাজশাহীর পরিবহন শ্রমিকরা। এর জের ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাজশাহীর একটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল (সোমবার) সকাল থেকে দুই জেলার মধ্যে সরাসরি যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: নওগাঁ-বগুড়া-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ
তিনি আরও জানান, সমস্যা সমাধানের লক্ষে আজ সকাল ১১টায় রাজশাহী বাস মালিক সমিতি ভবনে উভয় জেলার বাস মালিক-শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা আছে। দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
২২০ দিন আগে
নাটোরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, হেলপার নিহত
নাটোরের গুরুদাসপুরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে আরেকটি ট্রাকের ধাক্কায় আবু সাঈদ (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ট্রাকের হেলপার ছিলেন। এ সময় ট্রাকচালকসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা টোল প্লাজা এলাকার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবু সাঈদ রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার এনামুল হকের ছেলে।
আরও পড়ুন: নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনা: কুষ্টিয়ায় পাশাপাশি দাফন একই পরিবারের চারজনকে
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসের জানান, ভোর ৫ টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে ঢাকা থেকে রডবোঝাই একটি ট্রাককে পেছন থেকে আরেকটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে পেছনের ট্রাকের হেলপার আবু সাঈদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তিনি আরও জানান, আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
২২১ দিন আগে
বগুড়ায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুজন নিহত, আহত ৩
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশার চালক ও এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
রবিবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের কুন্দারহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নন্দীগ্রাম উপজেলার কাথম দক্ষিণপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে ও অটোরিকশা চালক আরাফাত হোসেন (২২) এবং বিশা গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী হাওয়া বেগম (৪৫)। আহতদের তাৎক্ষণিক নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটবল খেলার মাঠে ঢুকে পড়ল বাস, নিহত ১
কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্মল চন্দ্র মহন্ত জানান, একটি সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে নন্দীগ্রাম থেকে বগুড়ার দিকে যাচ্ছিল। পথে কুন্দারহাট বাজার এলাকায় পৌঁছালে সড়কের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোভ্যানকে পাশ কাটাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা নাটোরগামী একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক আরাফাত হোসেন ও যাত্রী হাওয়া বেগমের মৃত্যু হয়।
আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান ওসি। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের লাশ শজিমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতরা চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি নির্মল চন্দ্র মহন্ত।
২২২ দিন আগে
রেলপথ হবে পরিকল্পিত ও লাভজনক, রেশনালাইজেশন হবে গবেষণার ভিত্তিতে: শেখ মইনউদ্দিন
রেলপথ রেশনালাইজেশন করা হবে এবং ব্যবসা ও যাত্রী পরিবহনের বিষয় মাথায় রেখে পরিকল্পিতভাবে রেলকে সাজানো হবে বলে জানিয়েছেন রেল ও সড়ক পথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন।
শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে নাটোর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ মইনউদ্দিন বলেন, ‘কারো ইচ্ছায় রেলপথ যেন কোনো দিকে না যায় তা নিশ্চিত করাসহ কোন লাইন লাভজনক নয়, একেবারে লসে যাচ্ছে—এগুলো দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লসে থাকা রেলপথ তুলে অন্যস্থানে বসানো হবে।
এ বিষয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে গবেষণা শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘শুধু যাত্রী পরিহন নয়, সড়কপথের সঙ্গে সমন্বয় করে রেলপথে পণ্য পরিবহনের বিষয়গুলো সংযুক্ত করা হবে যাতে ব্যবসাটাকে জেলায় জেলায় পৌঁছে দেওয়া যায়। এবার কোনো অপরিকল্পিত কাজ করা হবে না, যা হবে পরিকল্পিতভাবে করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেলকে ঘিরে একটি ট্রান্সপোর্টেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যেও গবেষণা শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে গবেষণা শেষ হলে তারপর কাজ শুরু হবে।’
এ সময় পশ্চিমাঞ্চলের কমার্শিয়াল ম্যানেজার সজিত কুমার বিশ্বাসসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নাটোরের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২২৩ দিন আগে
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনা: কুষ্টিয়ায় পাশাপাশি দাফন একই পরিবারের চারজনকে
নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। নিহত আটজনের মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ধর্মদহ গ্রামের একই পরিবারের পাঁচজন ও গাড়িচালক। নিহত অপর দুইজন তাদের স্বজন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুর দুইটার দিকে দৌলতপুরের ধর্মদহ ফরাজীপাড়া গোরস্থানে একই পরিবারের চারজনের একসঙ্গে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় গ্রামের হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।
দুর্ঘটনায় নিহত জাহিদুল ইসলামের দুই ছেলে সোহান ও সাগর সিঙ্গাপুর থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বেলা ১০টার দিকে গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছানোর পর দুপুর ২টার দিকে একসঙ্গে পরিবারের চারজনের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেপ্তার
নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৫৫), তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৫০), তার ভাই শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন আন্না (৫৫),তার ভাই মিজানুর রহমানের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন আনু (৫০), নিহত জাহিদুলের বোন প্রাগপুর গ্রামের রফেজ চৌধুরীর স্ত্রী ইতি খাতুন (৪০), একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাহাব হোসেন (৩৫), মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আঞ্জুমানারা (৭৫) এবং মেয়ে সীমা খাতুন (৩৫)।
নিহতরা মাইক্রোবাসে করে বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জে অসুস্থ রোগীকে দেখতে যাচ্ছিলেন।
নিহত জাহিদুল, তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন, ভাইয়ের স্ত্রী আন্না ও আনুর লাশ বুধবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের তৈরি হয়। পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের শোক আর কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
একই গ্রামের বাসিন্দা ও নিহত গাড়িচালক সাহাবের লাশও বুধবার রাতে ধর্মদহ গ্রামে পৌঁছায়। এরপর স্থানীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে জাহিদুল ইসলামের বোন ও পার্শ্ববর্তী প্রাগপুর গ্রামের রফেজ চৌধুরীর স্ত্রী ইতি খাতুন (৪০), জাহিদুলের শ্বাশুড়ি ও শ্যালিকা অর্থাৎ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আঞ্জুমানারা (৭৫) এবং মেয়ে সীমা খাতুনের(৩৫) লাশ তাদের নিজ নিজ গ্রামে আনা হয় বুধবার রাতে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
নিহত জাহিদুলের চাচাতো ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জানারুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকাল ৭টার দিকে মাইক্রোবাসে করে সিরাজগঞ্জে রোগী দেখতে যাচ্ছিলেন সবাই। জাহিদুলের ছেলে সোহানের অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে যাচ্ছিলেন তারা। এ সময় ট্রাকের ধাক্কায় আটজন মারা গেছেন। ধর্মদহ গ্রামের পাঁচজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজন মাইক্রোবাসের চালক। বাকি চারজন একই পরিবারের সদস্য। এছাড়াও নিহত জাহিদুলের বোন প্রাগপুর গ্রামের ইতি, গাংনীর বসতবাড়িয়া গ্রামের জাহিদুলের শাশুড়ি ও শ্যালিকা মারা গেছেন।
আরও পড়ুন: নাটোরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮
জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তরমুজ পাম্প এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। বাকি দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ওই দুজনেরও মৃত্যু হয়।
২২৫ দিন আগে
নাটোরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮
নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে। তাদের সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন এবং পাঁচজনই নারী।
বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সিরামপুর আইড়মারি ব্রিজ এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— জাহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী শেলি বেগম, শ্যালিকা ইতি বেগম, আত্মীয় সীমা খাতুন, আনোয়ারা বেগম আনু, আঞ্জুমান আরা, তার বোন আন্না খাতুন এবং মাইক্রোবাসচালক সাহাব উদ্দিন। তাদের সবার বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামে।
আরও পড়ুন: নাটোরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে পাঁচ নারীসহ নিহত ৬
নাটোরের বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে যাচ্ছিলেন নিহতরা। পথে সিরামপুর এলাকার তরমুজ পাম্পের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন।
পরে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও একজন নারী মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক সাহাব উদ্দিন ও সীমা খাতুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
২২৬ দিন আগে
নাটোরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে পাঁচ নারীসহ নিহত ৬
নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সকলেই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন, তাদের মধ্যে পাঁচজনই নারী।
বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সিরামপুর আইড়মারী ব্রিজ এলাকায় বনপাড়া- হাটিকুমরুল মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ৫ জন নারী এবং একজন পুরুষ। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
আরও পড়ুন: সমাবেশে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, ফরিদপুরে দুই জামায়াত নেতা নিহত
এ বিষয়ে বরাইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, নাটোর থেকে ঢাকাগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি একেবারে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত হন।
এ ছাড়া চালকসহ আহত ২ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহত চালকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ওসি গোলাম সারোয়ার।
২২৬ দিন আগে
রাজশাহীতে পাইলট তৌকিরের দাফন সম্পন্ন
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রাণ হারানো বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার তৌকির ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার(২২ জুলাই) বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্টেডিয়ামে জানাযা শেষে পাশেই সপুরা কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে ঢাকায় তার জানাযা সম্পন্ন হয়। বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলট ছিলেন তিনি।
নিহত তৌকিরের মামা রফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার মৃত্যুর খবর শোনার পর তৌকিরের পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় নেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে তার লাশ রাজশাহীতে নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দফায় রাজশাহী উপশহর ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা হয়। এরপর বিকালে সপুরা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তিনি আরও জানান, তৌকিরের মৃত্যুতে শোকের আবহ পুরো রাজশাহী নগরীজুড়ে। সকাল থেকেই ভাড়া বাসায় ভিড় জমাতে শুরু করেছেন স্বজনরা। তৌকিরের বন্ধু-বান্ধবসহ পরিচিতরা তার রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
জেলা প্রশাসন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দোয়ার আয়োজন করেছে।
২২৭ দিন আগে