বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় জয়পুরহাটে ছেলের হাতে খুন হয়েছেন তারই বাবা কৃষক আক্কাস আলী (৫৭)। সে সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্কাস আলীর স্ত্রী ও মেয়েও গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের বফলগাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ছেলে গোলাপ হোসেনকে (২৯) আটক করে পুলিশ।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জেলার সহকারী পুলিশ সুপার তুহিন রেজা শনিবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, জমির আলু বিক্রির পর গোলাপ হোসেন তার বাবা আক্কাস আলীকে ওই আলু বিক্রির টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য বায়না ধরে আসছিলেন। কিন্তু কিছুতেই তার বাবা তাকে মোটরসাইকেল কিনে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। এ নিয়ে গতকাল (শনিবার) ইফতারের আগে তাদের দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে গোলাপ ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাবাকে বাঁশ, চাকু ও দা দিয়ে পেটাতে ও কোপাতে শুরু করেন।
সে সময় তাকে বাধা দিতে গেলে সে তার মা ও বোনের ওপরও চড়াও হন তিনি। এতে তারাও গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে আক্কাস আলীর মৃত্যু হয়। আর তার স্ত্রী ও মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মা আবেদা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাবাকে হত্যার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে ছেলে গোলাপ হোসেনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’